একটা ছোট্ট ভুলের মাশুল দিতে গিয়ে উজ্জ্বল সায়েন্টিফিক কেরিয়ার প্রশ্নের মুখে পড়ে গেছে ডক্টর লীলা নাম্বিয়ারের। ওদিকে, প্যাসিফিক ওশ্যানের ইকোলজি নিয়ে গবেষণা করতে গিয়ে মৃত্যুর মুখোমুখি হতে হয়েছে তার বন্ধু পার্সিসকে। দুই বন্ধুর জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছে সমুদ্রের অতল থেকে উঠে আসা কিছু অস্বস্তিকর প্রশ্ন! সেই প্রশ্ন মনুষ্যজাতির অস্ত্বিত্বের। বায়োলুমিনিসেন্ট প্রাণীদের নীরব ভাষা, জলমগ্ন স্থাপত্য থেকে নির্গত আলোর সংকেত, ডিপ স্পেস থেকে রিসিভ করা এক অজানা রেডিও সিগন্যাল— সব মিলিয়ে খুলে যেতে থাকে এমন এক অভাবনীয় সত্য, যা পৃথিবীর জলবায়ু আর মানুষের ভঙ্গুর সভ্যতার ইতিহাস দুটোকেই নতুন করে ভাবতে বাধ্য করে। সায়েন্স ফিকশনের আদলে 'সাবলিমিনাল' স্পেসটাইমের ভিন্ন ভিন্ন বিন্দুতে ঘটে চলা আবহমান অভিবাসনের এক নীরব, বিষণ্ণ আখ্যান।
সাবলিমিনাল সুদীপ চট্টোপাধ্যায় অরণ্যমন প্রকাশন ৩০০ টাকা ________________________________________ ক্লাইফাই বা ক্লাইমেট ফিকশন নামটার সাথে সাইফাইপ্রিয় বাঙালি পরিচিত। মূলতঃ আমাদের পরিবেশের ক্রমবর্ধমান ক্ষতির বিভিন্ন দিক সম্বন্ধে সচেতন করার বার্তা পেশ করা হয় বাস্তব পৃথিবীর মাটিতে সামাজিক গল্প, সায়েন্স ফিকশন, রহস্য গল্প অথবা পাঠকপ্রিয় বিভিন্ন ঘরানার গল্পের মোড়কে, যার ভিত্তি পিওর সায়েন্স। সুদীপ চট্টোপাধ্যায় আগেও ক্লাইফাই লিখেছেন (অনলগর্ভা)। এবারের ক্লাইফাই আগেরটার থেকে প্লটবিচারে আলাদা এবং আরও পরিণত। কারা পড়বেন না? ১) যারা হার্ড সাইফাই দুচক্ষে দেখতে পারেন না। ২) সায়েন্টিফিক টার্মিনোলোজি দেখলেই পিত্তি চটে যায়। ৩) অচেনা ঘরানার গল্প যারা পছন্দ করেন না। কারা (পড়তে চাইলে) পড়তে পারেন? ১) যারা নতুন নতুন প্লটের বিজ্ঞানভিত্তিক গল্প ভালবাসেন। ২) যারা হার্ড সাইফাইয়ে গল্পের প্রয়োজনে ব্যবহৃত পিওর সায়েন্স রিলেটেড ইনফর্মেশন ডাইজেস্ট করার ব্যাপারে ওয়াকিবহাল। ৩) লেখকের লেখা আগে পড়েছেন এবং লেখকের ক্যালিবার সম্পর্কে শ্রদ্ধাশীল। কেন পড়ে দেখতে পারেন? ১) ক্লাইমেট ফিকশন নিয়ে বিশ্ব জুড়ে তুখোড় সব কাজ হচ্ছে, সেখানে বাঙালি লেখকদের কন্ট্রিবিউশন এবং তুলনামূলক অবস্থান ট্র্যাক করার জন্য। ২) লেখকের ইউনিক স্টোরি টেলিংয়ের আস্বাদ নেওয়ার জন্য। যা ভালো লাগলো — ১) গল্পের চরিত্র তৈয়ারিতে লেখক প্রকৃত অর্থেই বিশ্বনাগরিক। ২) সমুদ্র বিজ্ঞান, ফিজিক্সের সাথে জিওপলিটিক্স মিশিয়ে ক্লাইফাইয়ের হাইফাই ককটেল। ৩) গল্পের স্লো বার্ন টাইপের গতি এবং গল্পের প্রয়োজনে গতির হেরফের। ৪) নামকরণের সার্থকতা। ৫) বইয়ের শেষে প্রয়োজনীয় কিছু টীকা। উপন্যাসের স্পয়লারফ্রি অতি-সামারি — সমুদ্রের তলার ইকোসিস্টেম সংক্রান্ত গবেষণা এবং ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের কাজে বড়সড় মাপের দুর্নীতিতে যুক্ত হয়ে পড়েছে বিভিন্ন দেশের সরকার পোষিত সব ডিপ সি ড্রিলিং কোম্পানি। তারা কিছু একটা বড় জিনিস খুঁজে পেয়েছে এবং আরও খুঁজে চলেছে ডিপ সি ড্রিলিং করে। অদ্ভুত কিছু রেডিও সিগন্যাল পাওয়া যাচ্ছে তার ফলে এবং নির্দিষ্ট কিছু সামুদ্রিক প্রাণীও তাতে রিয়্যাক্ট করছে। সিগন্যালের সাথে আবার মিল আছে বহির্জগতের রেডিও ফ্রিকোয়েন্সির। এরই ফাঁকে পরিবেশের ভারসাম্য অলমোস্ট নষ্ট হওয়ার পথে বিভিন্ন কারণে। জিওপলিটিক্স এবং সাধারণ মানুষের সামাজিক মূল্যবোধের সাথে সাযুজ্য রেখে পরিবেশের ইন্তেকাল কি শেষ পর্যন্ত রক্ষা করা যাবে? ভুরু কোঁচকানোর মত কিছু পয়েন্ট — ১) (গল্পের প্রয়োজনে করা হলেও) ইনফোর ছড়াছড়ি ক্লান্ত করে দিতে পারে পাঠককে। ২) প্রুফ রিডিং বিলো অ্যাভারেজ।
বাংলায় এরকম সায়েন্স / ক্লাইমেট ফিকশন এই প্রথম পড়লাম । এবং - বেশ, বেশ, ভালো লাগলো। অযথা ইনফোডাম্পিং না করে, অহেতুক বাংলা প্রতিশব্দ ব্যবহার না করে, চরিত্রের চচ্চড়ি না বানিয়ে ভালোভাবে বলা গল্প।
সুদীপবাবুর লেখার ফ্যান সেই অপারেশন ব্ল্যাক অ্যারো পড়ার পর থেকেই, এবং এবারেও তার ব্যতিক্রম হলো না।
ভীষণ বাস্তব এবং জ্বলন্ত (নাকি ডুবো / submerged) সমস্যা নিয়ে এই কাহিনী। যারা সিরিয়াস লেখা পছন্দ করেন, তাদের জন্য রেকমেণ্ডেড। আর আপনি যদি সমুদ্রের নীচের জগত নিয়ে জানতে আগ্রহী হন তাহলে অবশ্যই ভালো লাগবে এই বই।
একটাই একটু খারাপ লাগা / চোখে পড়লো - এক একটি অধ্যায়ে প্রথম এবং তৃতীয় পুরুষের ব্যবহার একটু খাপছাড়া লাগলো ।