What do you think?


হৃদয়ের পদ্মবনে
ডিসেম্বরের শেষ সপ্তাহে সোলো ট্রিপে বেরোয় ঋজু। গন্তব্য বেনারস। অচেনা শহরে গিয়েও দেখা হয়ে যায় কত চেনা মানুষের সঙ্গে।
হঠাৎই ঘটে যাওয়া একটি মর্মান্তিক ঘটনাকে কেন্দ্র করে বহু বছর পর ঋজু আবার মুখোমুখি হয় প্রাক্তন স্ত্রী আঁখির সঙ্গে। নতুন সংসার নিয়ে কেমন আছে আঁখি?
'যত বয়স হবে, তত বেশি ক্ষত বুকে বয়ে নিয়ে চলাই হল জীবন।'...
আপাতদৃষ্টিতে দেখলে আমাদের জীবনকে ঘিরে রয়েছে অজস্র মানুষের ভিড়
এই ভিড়ের মধ্যে হাঁটতে হাঁটতেও একা বেঁচে থাকার গল্প বলে এই মর্মস্পর্শী উপন্যাস।
হঠাৎই ঘটে যাওয়া একটি মর্মান্তিক ঘটনাকে কেন্দ্র করে বহু বছর পর ঋজু আবার মুখোমুখি হয় প্রাক্তন স্ত্রী আঁখির সঙ্গে। নতুন সংসার নিয়ে কেমন আছে আঁখি?
'যত বয়স হবে, তত বেশি ক্ষত বুকে বয়ে নিয়ে চলাই হল জীবন।'...
আপাতদৃষ্টিতে দেখলে আমাদের জীবনকে ঘিরে রয়েছে অজস্র মানুষের ভিড়
এই ভিড়ের মধ্যে হাঁটতে হাঁটতেও একা বেঁচে থাকার গল্প বলে এই মর্মস্পর্শী উপন্যাস।
152 pages, Hardcover
Published January 1, 2026
About the author
Abhik Dutta
80 books94 followersজন্ম ১০ই অক্টোবর ১৯৮৫।
মফস্বল শহর অশোকনগরে বেড়ে ওঠা। কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং পাশ করেন হেরিটেজ ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজি থেকে। ছোটবেলা থেকেই পড়ার বইয়ের পাশাপাশি গল্পের বইয়ের নেশা ছিল। লেখার নেশা জাঁকিয়ে বসে কলেজে পড়াকালীন৷ ওই সময়েই "আদরের নৌকা" লিটল ম্যাগ প্রকাশের মাধ্যমে সাহিত্য জগতে প্রবেশ। প্রথম বই ২০০৮ সালের বইমেলাতে প্রকাশিত হয় , "এক কুড়ি গল্প"। পরবর্তী কালে অফিস থেকে ফিরে ফেসবুকে লিখতে বসা এবং ধীরে ধীরে জনপ্রিয়তা পাওয়া।
গান গাইবার পাশাপাশি ঘুরতে, ফটোগ্রাফি করতে ভালবাসেন লেখক।
মফস্বল শহর অশোকনগরে বেড়ে ওঠা। কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং পাশ করেন হেরিটেজ ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজি থেকে। ছোটবেলা থেকেই পড়ার বইয়ের পাশাপাশি গল্পের বইয়ের নেশা ছিল। লেখার নেশা জাঁকিয়ে বসে কলেজে পড়াকালীন৷ ওই সময়েই "আদরের নৌকা" লিটল ম্যাগ প্রকাশের মাধ্যমে সাহিত্য জগতে প্রবেশ। প্রথম বই ২০০৮ সালের বইমেলাতে প্রকাশিত হয় , "এক কুড়ি গল্প"। পরবর্তী কালে অফিস থেকে ফিরে ফেসবুকে লিখতে বসা এবং ধীরে ধীরে জনপ্রিয়তা পাওয়া।
গান গাইবার পাশাপাশি ঘুরতে, ফটোগ্রাফি করতে ভালবাসেন লেখক।
Ratings & Reviews
Friends & Following
Create a free account to discover what your friends think of this book!
Community Reviews
Displaying 1 - 8 of 8 reviews
March 9, 2026
📕 বই~ হৃদয়ের পদ্মবনে
✒️ লেখক~ অভীক দত্ত
🖼️ প্রচ্ছদ~ কৃষ্ণেন্দু মন্ডল
🖨️ প্রকাশনা~ পত্রভারতী
💷 মুদ্রিত মূল্য~ ২৫০/-
📋 পৃষ্ঠা~ ১৫২
📝 পাঠ অনুভূতি
“চরম মুগ্ধ হয়ে যাওয়া” বোঝেন?এই বইটা পড়া শেষ করার পরে এটাই মনে হচ্ছে আমার। রিভিউ কিভাবে লিখব বুঝতে পারছি না। পড়ে শেষ করলাম অভীক দত্তের লেখা ❝হৃদয়ের পদ্মবনে❞, নিজের পাঠ অনুভূতি এবং আত্ম উপলব্ধি এখানে তুলে ধরলাম।
🌷কাহিনী সংক্ষেপ:-
উপন্যাসের মুখ্য চরিত্র ঋজু। অফিস থেকে ছুটি ম্যানেজ করে বেনারসে ঘুরতে চলে যায়, অথচ তার নাকি বেনারসে যাবার কোন পূর্ব পরিকল্পনাই ছিল না। অফিস কেরানী, ভবঘুরে , সংসারত্যাগী যুবক এই ঋজু। পূর্বে সে এক বিবাহ করলেও পরবর্তীতে তা স্থায়ী সম্পর্কে পৌঁছায়নি। সেখানেই একদিন হঠাৎ দেখা হয়ে যায়, আঁখির (ঋজুর প্রাক্তন স্ত্রী) মেসো,মাসি ও বোনের সঙ্গে। মাসির নিষেধ সত্ত্বেও মেসোর ঋজুপ্রীতি এবং আড়ালে আড়ালে ঋজুকে সবসময় স্নেহ করা একটা প্রবল ভালোলাগার বিষয় লেখক ফুটিয়ে তুলেছেন। ঋজুর কি আত্ম উপলব্ধি হলো? সেকি খুঁজে পেল অস্তিত্বের পরিভাষা? ব্যক্তিত্বের শব্দার্থ?
✨যা কিছু ব্যক্তিগত/থিম বর্ণনা:-
১.উপন্যাসের শুরুতে ঋজুর চালচুলোহীন, ভবঘুরে, আপনভোলা ব্যক্তিত্বকে দেখিয়েছেন ঠিকই, কিন্তু শব্দ সংখ্যার সাথে এগোনোর সাথে সাথে ঋজুকে এক পরিণত যুবকে পরিণত করেছেন লেখক।
২.উপন্যাসের তথাকথিত পাঠ প্রতিক্রিয়া হয়তো লিখতেই পারতাম না, কিন্তু উপন্যাসের পটভূমিকা এমনটাই আমার মনের মধ্যে কড়া নেড়েছে, যেন স্বয়ং অভীক স্যারই যেন "ঋজু" হয়ে আমাকে দিয়ে এই রিভিউ লিখে নিচ্ছেন।
৩.বইটির মধ্যে লেখক অহেতুক কোন জটিলতার সৃষ্টি করেননি, খুব স্নিগ্ধ একটি বিষয়, কিন্তু গভীর তার ভাবনা। এ যেন, "ঋজুর" একার কাহিনী নয়, এ আমার, আপনার, সবার জীবনে হয়তো ঘটেছে বা ঘটছে, কিংবা অদূর ভবিষ্যতে ঘটতে পারে।
৪.সত্যি কথা বলতে এতটা স্নিগ্ধ, শান্ত, মনোরম নিজেকে কোনদিন অনুভূত হয়নি। বইটা পড়ে সত্যিই এই অনুভূতি গুলো কাজ করছিল, এখন রিভিউ লিখতে বসেও যেন সেই রেশ কাটানো যাচ্ছে না। বইটি তাদের উদ্দেশ্যে অবশ্যই পড়ার জন্য অনুরোধ রইল, যারা রিটার্ন টিকিট না কেটে ঘুরতে এসেছেন।
৫.ঋজুর বাস্তব উপলব্ধি, জীবনের অর্থ খুঁজে পাওয়া, স্মৃতি স্মরণী দিয়ে হেঁটে যাওয়া, বেনারসের অলিগলি, সেখানকার প্রত্যেক রিকশাওয়ালা, পন্ডিত জি, মেসোমশাই, মাসীমা, সোমনাথ, অম্বালিকা, চন্দন প্রত্যেকটা ঘটনা এবং চরিত্র যেন মনের মধ্যে দাগ কেটে যায়। প্রত্যেক চরিত্রে নিজস্ব কিছু বক্তব্য রয়েছে, তাদের উপস্থিতির একটা যথার্থতা রয়েছে।
🌸 সবশেষে এটুকুই বলবো, অভীক স্যারের এই লেখাটা আমার মন,তন ,ক্ষণ কে গভীরভাবে বিদ্ধ করেছে। পাঠ সুখকর হলো।
✍🏻লেখায়~ রহিত
✒️ লেখক~ অভীক দত্ত
🖼️ প্রচ্ছদ~ কৃষ্ণেন্দু মন্ডল
🖨️ প্রকাশনা~ পত্রভারতী
💷 মুদ্রিত মূল্য~ ২৫০/-
📋 পৃষ্ঠা~ ১৫২
📝 পাঠ অনুভূতি
“চরম মুগ্ধ হয়ে যাওয়া” বোঝেন?এই বইটা পড়া শেষ করার পরে এটাই মনে হচ্ছে আমার। রিভিউ কিভাবে লিখব বুঝতে পারছি না। পড়ে শেষ করলাম অভীক দত্তের লেখা ❝হৃদয়ের পদ্মবনে❞, নিজের পাঠ অনুভূতি এবং আত্ম উপলব্ধি এখানে তুলে ধরলাম।
🌷কাহিনী সংক্ষেপ:-
উপন্যাসের মুখ্য চরিত্র ঋজু। অফিস থেকে ছুটি ম্যানেজ করে বেনারসে ঘুরতে চলে যায়, অথচ তার নাকি বেনারসে যাবার কোন পূর্ব পরিকল্পনাই ছিল না। অফিস কেরানী, ভবঘুরে , সংসারত্যাগী যুবক এই ঋজু। পূর্বে সে এক বিবাহ করলেও পরবর্তীতে তা স্থায়ী সম্পর্কে পৌঁছায়নি। সেখানেই একদিন হঠাৎ দেখা হয়ে যায়, আঁখির (ঋজুর প্রাক্তন স্ত্রী) মেসো,মাসি ও বোনের সঙ্গে। মাসির নিষেধ সত্ত্বেও মেসোর ঋজুপ্রীতি এবং আড়ালে আড়ালে ঋজুকে সবসময় স্নেহ করা একটা প্রবল ভালোলাগার বিষয় লেখক ফুটিয়ে তুলেছেন। ঋজুর কি আত্ম উপলব্ধি হলো? সেকি খুঁজে পেল অস্তিত্বের পরিভাষা? ব্যক্তিত্বের শব্দার্থ?
✨যা কিছু ব্যক্তিগত/থিম বর্ণনা:-
১.উপন্যাসের শুরুতে ঋজুর চালচুলোহীন, ভবঘুরে, আপনভোলা ব্যক্তিত্বকে দেখিয়েছেন ঠিকই, কিন্তু শব্দ সংখ্যার সাথে এগোনোর সাথে সাথে ঋজুকে এক পরিণত যুবকে পরিণত করেছেন লেখক।
২.উপন্যাসের তথাকথিত পাঠ প্রতিক্রিয়া হয়তো লিখতেই পারতাম না, কিন্তু উপন্যাসের পটভূমিকা এমনটাই আমার মনের মধ্যে কড়া নেড়েছে, যেন স্বয়ং অভীক স্যারই যেন "ঋজু" হয়ে আমাকে দিয়ে এই রিভিউ লিখে নিচ্ছেন।
৩.বইটির মধ্যে লেখক অহেতুক কোন জটিলতার সৃষ্টি করেননি, খুব স্নিগ্ধ একটি বিষয়, কিন্তু গভীর তার ভাবনা। এ যেন, "ঋজুর" একার কাহিনী নয়, এ আমার, আপনার, সবার জীবনে হয়তো ঘটেছে বা ঘটছে, কিংবা অদূর ভবিষ্যতে ঘটতে পারে।
৪.সত্যি কথা বলতে এতটা স্নিগ্ধ, শান্ত, মনোরম নিজেকে কোনদিন অনুভূত হয়নি। বইটা পড়ে সত্যিই এই অনুভূতি গুলো কাজ করছিল, এখন রিভিউ লিখতে বসেও যেন সেই রেশ কাটানো যাচ্ছে না। বইটি তাদের উদ্দেশ্যে অবশ্যই পড়ার জন্য অনুরোধ রইল, যারা রিটার্ন টিকিট না কেটে ঘুরতে এসেছেন।
৫.ঋজুর বাস্তব উপলব্ধি, জীবনের অর্থ খুঁজে পাওয়া, স্মৃতি স্মরণী দিয়ে হেঁটে যাওয়া, বেনারসের অলিগলি, সেখানকার প্রত্যেক রিকশাওয়ালা, পন্ডিত জি, মেসোমশাই, মাসীমা, সোমনাথ, অম্বালিকা, চন্দন প্রত্যেকটা ঘটনা এবং চরিত্র যেন মনের মধ্যে দাগ কেটে যায়। প্রত্যেক চরিত্রে নিজস্ব কিছু বক্তব্য রয়েছে, তাদের উপস্থিতির একটা যথার্থতা রয়েছে।
🌸 সবশেষে এটুকুই বলবো, অভীক স্যারের এই লেখাটা আমার মন,তন ,ক্ষণ কে গভীরভাবে বিদ্ধ করেছে। পাঠ সুখকর হলো।
✍🏻লেখায়~ রহিত
May 24, 2026
মানুষের হৃদয়ে দুটি গোপন ভূখণ্ড থাকে।একদিকে টলটলে স্বচ্ছ জল, যেখানে আলো পড়ে, জীবন সুন্দর দেখায়, সবকিছু সহজ ও পরিপাটি মনে হয়। আর অন্যদিকে থাকে কাদা আর পাঁক। অন্ধকার, দমবন্ধ করা গভীরতা, যেখানে জমে থাকে অভিমান, ট্রমা, হিংসা, রাগ, অহং আর ক্ষোভ।
কিন্তু প্রকৃতির এক অদ্ভুত সত্য হলো, পদ্ম কখনো স্বচ্ছ জলে জন্মায় না। তার জন্ম হয় পাঁকে। তাই মানুষের হৃদয়ের ক্ষেত্রেও হয়তো তাই। যে মানুষ নিজের ভিতরের অন্ধকারকে অস্বীকার না করে তার দিকে তাকাতে শেখে, নিজের ভাঙনকে বুঝতে শেখে, শেষ পর্যন্ত তার হৃদয়েই পদ্মবন জন্ম নেয়। তবে সেই উত্তরণের পথ নিঃসন্দেহে সহজ নয়। সেটা আত্ম-অন্বেষণের পথ, আত্ম-সমর্পণের পথ, আর ভিড়ের মাঝেও নিঃসঙ্গ হয়ে হাঁটার পথ।
সেই কঠিন পথেই হাঁটছে ঋজু।
বিবাহবিচ্ছেদের পর এক ছোট্ট সোলো ট্রিপ। ঋজুর গন্তব্য ছিল হরিদ্বার। কিন্তু কোনভাবেই ছুটি ম্যানেজ না হওয়ায় অনেক কাটখড় পুড়িয়ে তার বেনারস যাত্রা। বেশ ভালোই কাটছিল তার একাকী সফর। বেনারসকে আত্মস্থ করা আর নিজের সঙ্গে সময় কাটানোর ফাঁকে তার দেখা হয়ে যায় ছোটবেলার বন্ধু সোমনাথের সঙ্গে। আর সোমনাথ ও তার স্ত্রীর হাত থেকে মুক্ত হতেই খানিকটা অপ্রত্যাশিতভাবেই তার দেখা হয়ে যায় আঁখির মাসি, মেসো আর মাসতুতো বোন ঝিমলির সঙ্গে।
যে হোমস্টেতে ঋজু উঠেছে, তারাও সেখানেই উঠেছে। আঁখি ঋজুর প্রাক্তন স্ত্রী। তাই মাসি-মেসোকে দেখা মাত্রই যা যা সে ভুলে গেছে বলে ভেবেছিল, সেই অস্বস্তি, অপরাধবোধ আর অনুশোচনা আবারও তার সামনে এসে দাঁড়ায়। আর ঠিক তখনই ঘটে যায় এক মর্মান্তিক ঘটনা, যা ঋজু আর আঁখিকে টেনে আনে একই বিন্দুতে, বেনারসের ঘাটে।
পড়া শেষ করলাম অভীক দত্তের “হৃদয়ের পদ্মবনে”।
অভীক দত্তের লেখার ক্ষেত্রে যে জিনিসটা আমি বরাবরই লক্ষ্য করেছি, তা হলো ওনার cinematic flow। ওনার লেখা এতটাই visual যে পড়তে পড়তে মনে হয় সবকিছু চোখের সামনে ঘটছে। এই বইটিতেও বেনারস ভ্রমণ থেকে শুরু করে সমগ্র যাত্রাপথ এতটাই সাবলীল লেগেছে যে বারবার মনে হয়েছে, “তাই তো! আমি হলেও হয়তো এমনটাই করতাম।”
সবচেয়ে ভালো লেগেছে উপন্যাসের মধ্যে দিয়ে ঋজুর ছোট ছোট উপলব্ধিগুলোকে তুলে ধরার ধরন। বইটা শেষ করে মন খারাপের রেশ অবশ্যই থেকে যায়, কিন্তু একইসঙ্গে এটাও মনে হয়, জীবন তো এরকমই। কিছু মানুষ থেকে যায়, কিছু ক্ষতও থেকে যায়। আর মানুষ বোধহয় সেই ক্ষত নিয়েই ধীরে ধীরে উত্তরণের দিকে হাঁটে।
সব মিলিয়ে ছোট হলেও ভীষণ উপভোগ্য একটি উপন্যাস। 🌸
কিন্তু প্রকৃতির এক অদ্ভুত সত্য হলো, পদ্ম কখনো স্বচ্ছ জলে জন্মায় না। তার জন্ম হয় পাঁকে। তাই মানুষের হৃদয়ের ক্ষেত্রেও হয়তো তাই। যে মানুষ নিজের ভিতরের অন্ধকারকে অস্বীকার না করে তার দিকে তাকাতে শেখে, নিজের ভাঙনকে বুঝতে শেখে, শেষ পর্যন্ত তার হৃদয়েই পদ্মবন জন্ম নেয়। তবে সেই উত্তরণের পথ নিঃসন্দেহে সহজ নয়। সেটা আত্ম-অন্বেষণের পথ, আত্ম-সমর্পণের পথ, আর ভিড়ের মাঝেও নিঃসঙ্গ হয়ে হাঁটার পথ।
সেই কঠিন পথেই হাঁটছে ঋজু।
বিবাহবিচ্ছেদের পর এক ছোট্ট সোলো ট্রিপ। ঋজুর গন্তব্য ছিল হরিদ্বার। কিন্তু কোনভাবেই ছুটি ম্যানেজ না হওয়ায় অনেক কাটখড় পুড়িয়ে তার বেনারস যাত্রা। বেশ ভালোই কাটছিল তার একাকী সফর। বেনারসকে আত্মস্থ করা আর নিজের সঙ্গে সময় কাটানোর ফাঁকে তার দেখা হয়ে যায় ছোটবেলার বন্ধু সোমনাথের সঙ্গে। আর সোমনাথ ও তার স্ত্রীর হাত থেকে মুক্ত হতেই খানিকটা অপ্রত্যাশিতভাবেই তার দেখা হয়ে যায় আঁখির মাসি, মেসো আর মাসতুতো বোন ঝিমলির সঙ্গে।
যে হোমস্টেতে ঋজু উঠেছে, তারাও সেখানেই উঠেছে। আঁখি ঋজুর প্রাক্তন স্ত্রী। তাই মাসি-মেসোকে দেখা মাত্রই যা যা সে ভুলে গেছে বলে ভেবেছিল, সেই অস্বস্তি, অপরাধবোধ আর অনুশোচনা আবারও তার সামনে এসে দাঁড়ায়। আর ঠিক তখনই ঘটে যায় এক মর্মান্তিক ঘটনা, যা ঋজু আর আঁখিকে টেনে আনে একই বিন্দুতে, বেনারসের ঘাটে।
পড়া শেষ করলাম অভীক দত্তের “হৃদয়ের পদ্মবনে”।
অভীক দত্তের লেখার ক্ষেত্রে যে জিনিসটা আমি বরাবরই লক্ষ্য করেছি, তা হলো ওনার cinematic flow। ওনার লেখা এতটাই visual যে পড়তে পড়তে মনে হয় সবকিছু চোখের সামনে ঘটছে। এই বইটিতেও বেনারস ভ্রমণ থেকে শুরু করে সমগ্র যাত্রাপথ এতটাই সাবলীল লেগেছে যে বারবার মনে হয়েছে, “তাই তো! আমি হলেও হয়তো এমনটাই করতাম।”
সবচেয়ে ভালো লেগেছে উপন্যাসের মধ্যে দিয়ে ঋজুর ছোট ছোট উপলব্ধিগুলোকে তুলে ধরার ধরন। বইটা শেষ করে মন খারাপের রেশ অবশ্যই থেকে যায়, কিন্তু একইসঙ্গে এটাও মনে হয়, জীবন তো এরকমই। কিছু মানুষ থেকে যায়, কিছু ক্ষতও থেকে যায়। আর মানুষ বোধহয় সেই ক্ষত নিয়েই ধীরে ধীরে উত্তরণের দিকে হাঁটে।
সব মিলিয়ে ছোট হলেও ভীষণ উপভোগ্য একটি উপন্যাস। 🌸
April 16, 2026
জীবনকে আমরা অনেক সময় সরল রেখায় ভাবতে চাই, অথচ বাস্তবে তা বক্র, অনিশ্চিত আর স্মৃতির ভারে নুয়ে থাকা এক দীর্ঘ পথচলা... এই উপলব্ধিই নতুনভাবে ধরা দেয় হৃদয়ের পদ্মবনে উপন্যাসে। এই বইটি মূলত এক অন্তর্মুখী যাত্রার গল্প, যেখানে বাহ্যিক ভ্রমণের চেয়ে অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে আত্মার ভেতরের পথচলা।
কাহিনির কেন্দ্রে রয়েছে ঋজু, একজন ক্লান্ত, অতীতের ভুল আর ভাঙা সম্পর্কের ভারে জর্জরিত মানুষ। হঠাৎ করেই তার বেনারসে যাওয়ার সিদ্ধান্ত যেন একরকম পালিয়ে যাওয়া, কিন্তু সেই পালানোই ধীরে ধীরে তাকে নিজের মুখোমুখি দাঁড় করায়। বারাণসী এখানে শুধু একটি শহর নয়, বরং জীবনের প্রতীক, যেখানে প্রতিটি ঘাট, প্রতিটি গলি যেন স্মৃতি আর উপলব্ধির স্তর খুলে দেয়।
ঋজুর যাত্রাপথে যেসব মানুষের সঙ্গে তার দেখা হয়, তারা কেউই নিছক পার্শ্বচরিত্র নয়; বরং প্রত্যেকেই তার জীবনের আয়না। পুরনো সম্পর্ক, অপূর্ণতা, আক্ষেপ, সব মিলিয়ে এক অদ্ভুত জটিল আবহ তৈরি হয়, যেখানে পাঠক বুঝতে পারে যে অতীত কখনও পুরোপুরি পেছনে ফেলে আসা যায় না। বিশেষ করে প্রাক্তন স্ত্রীর স্মৃতি ও উপস্থিতি ঋজুর ভেতরের অস্থিরতাকে আরও গভীর করে তোলে।
উপন্যাসটির বড় শক্তি তার ভাবনায়। এখানে বড় কোনো নাটকীয় মোড়ের চেয়ে বেশি গুরুত্ব পেয়েছে ছোট ছোট উপলব্ধি—জীবনের ক্ষণস্থায়িত্ব, সম্পর্কের ভঙ্গুরতা এবং মেনে নেওয়ার প্রয়োজনীয়তা। কোথাও কোথাও মনখারাপের আবেশ থাকলেও তা ভারী হয়ে ওঠে না; বরং এক ধরনের নীরব শান্তি এনে দেয়।
সব মিলিয়ে, হৃদয়ের পদ্মবনে এমন একটি উপন্যাস যা পাঠককে শুধু গল্প শোনায় না, বরং তাকে নিজের জীবন নিয়ে ভাবতে বাধ্য করে। এটি তাদের জন্য বিশেষভাবে উপভোগ্য, যারা ধীর গতির, ভাবনাপ্রবণ এবং আত্মঅনুসন্ধানী সাহিত্য পছন্দ করেন।
কাহিনির কেন্দ্রে রয়েছে ঋজু, একজন ক্লান্ত, অতীতের ভুল আর ভাঙা সম্পর্কের ভারে জর্জরিত মানুষ। হঠাৎ করেই তার বেনারসে যাওয়ার সিদ্ধান্ত যেন একরকম পালিয়ে যাওয়া, কিন্তু সেই পালানোই ধীরে ধীরে তাকে নিজের মুখোমুখি দাঁড় করায়। বারাণসী এখানে শুধু একটি শহর নয়, বরং জীবনের প্রতীক, যেখানে প্রতিটি ঘাট, প্রতিটি গলি যেন স্মৃতি আর উপলব্ধির স্তর খুলে দেয়।
ঋজুর যাত্রাপথে যেসব মানুষের সঙ্গে তার দেখা হয়, তারা কেউই নিছক পার্শ্বচরিত্র নয়; বরং প্রত্যেকেই তার জীবনের আয়না। পুরনো সম্পর্ক, অপূর্ণতা, আক্ষেপ, সব মিলিয়ে এক অদ্ভুত জটিল আবহ তৈরি হয়, যেখানে পাঠক বুঝতে পারে যে অতীত কখনও পুরোপুরি পেছনে ফেলে আসা যায় না। বিশেষ করে প্রাক্তন স্ত্রীর স্মৃতি ও উপস্থিতি ঋজুর ভেতরের অস্থিরতাকে আরও গভীর করে তোলে।
উপন্যাসটির বড় শক্তি তার ভাবনায়। এখানে বড় কোনো নাটকীয় মোড়ের চেয়ে বেশি গুরুত্ব পেয়েছে ছোট ছোট উপলব্ধি—জীবনের ক্ষণস্থায়িত্ব, সম্পর্কের ভঙ্গুরতা এবং মেনে নেওয়ার প্রয়োজনীয়তা। কোথাও কোথাও মনখারাপের আবেশ থাকলেও তা ভারী হয়ে ওঠে না; বরং এক ধরনের নীরব শান্তি এনে দেয়।
সব মিলিয়ে, হৃদয়ের পদ্মবনে এমন একটি উপন্যাস যা পাঠককে শুধু গল্প শোনায় না, বরং তাকে নিজের জীবন নিয়ে ভাবতে বাধ্য করে। এটি তাদের জন্য বিশেষভাবে উপভোগ্য, যারা ধীর গতির, ভাবনাপ্রবণ এবং আত্মঅনুসন্ধানী সাহিত্য পছন্দ করেন।
August 26, 2026
" যত বয়স হবে, তত বেশি ক্ষত বুকে বয়ে
নিয়ে চলাই হল জীবন "
📕বই- হৃদয়ের পদ্মবনে
✍️লেখক - অভীক দত্ত
📚প্রকাশনী- পত্র ভারতী
💵 মূল্য- 250 টাকা
📖বিষয়বস্তু : বিয়ের বিচ্ছেদের পর ডিসেম্বরের শেষের দিকে ঋজু অফিস থেকে বেশ কয়েক দিনের ছুটি নিয়ে বেরিয়ে পরে সোলো ট্রিপের উদ্দেশ্যে বেনারস । অচেনা শহরে একা ঘুরতে এসে দেখা হয়ে যায় অনেক চেনা মানুষের সাথে। এর মধ্যে হঠাৎ এক মর্মান্তিক ঘটনাকে কেন্দ্র করে দেখা হয় তার প্রাক্তন স্ত্রী আঁখি সাথে। এরপর বর্তমানের পাশাপাশি ঋজুর জীবনে ফিরে আসে পুরোনো সম্পর্ক এবং নানা অনুভূতি। নতুন সংসার নিয়ে কেমন আছে আঁখি ভালো নাকি সেও জড়িয়ে পড়েছে এক অন্য অনুভূতিতে ?
✍️পাঠ-প্রতিক্রিয়া : শেষ করলাম হৃদয়ের পদ্মবনে উপন্যাসটা। পড়ার পর আমার কাছে সব থেকে ভালো লেগেছে গল্পের মধ্যে থাকা আবেগ আর সম্পর্কের টানাপোড়েন। গল্পের প্রত্যেকটি চরিত্র গুলোকে বেশ ভালো লেগেছে। বিশেষ করে ঋজু ও মেসোমশাই এর মিষ্টি সম্পর্কটা আমার মনে ধরেছে। এছাড়া সোমনাথ , ঝিমলি , চন্দনদা চরিত্র গুলো লেখক খুব নিখুঁত ভাবে গল্পে তুলে ধরেছেন।শুরুর দিকে ঋজু একান্ত ও নিজের মতো থাকলেও পরে বেনারস এসে একে একে চেনা মানুষের সাথে দেখা হয়ে যাওয়া গল্পের মধ্যে এক আলাদা পরিবেশ তৈরি করেছে।
এই উপন্যাসটির সাথে লেখক বেনারসের পরিবেশ খুব সুন্দর ভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন। যত পড়েছি মনে হয়েছে বেনারসের মনোরম পরিবেশ ও দৃশ্য আমি উপলব্ধি করছি। শেষের দিকে ঋজুর এই যাত্রার মাধ্যমে তার একটা পরিবর্তন আসা, একা মানুষ ধীরে ধীরে অন্যান্য মানুষ ও সম্পর্কের মধ্যে জড়িয়ে পরা সেটাই এই উপন্যাসের এক অন্য দিক মনে হয়েছে ।
সব মিলিয়ে ছোট্ট ওপরে কোনো জটিলতা ছাড়াই একটি সুন্দর উপন্যাস। আমি উপন্যাসটি পড়ে বুঝলাম যতই আমরা নিজেদের অতীতের স্মৃতিকে পিছনে ফেলে আসার চেষ্টা করি না কেনো, সেই স্মৃতি কখনো ভুলে যাওয়া সম্ভব না। যারা ইমোশনাল উপন্যাস পড়তে ভালবাসেন তারা এই উপন্যাস টি পড়তে পারেন। আমার ব্যাক্তিগত ভাবে বেশ ভালো লেগেছে।
✨️রেটিং - ৪.৯/৫
নিয়ে চলাই হল জীবন "
📕বই- হৃদয়ের পদ্মবনে
✍️লেখক - অভীক দত্ত
📚প্রকাশনী- পত্র ভারতী
💵 মূল্য- 250 টাকা
📖বিষয়বস্তু : বিয়ের বিচ্ছেদের পর ডিসেম্বরের শেষের দিকে ঋজু অফিস থেকে বেশ কয়েক দিনের ছুটি নিয়ে বেরিয়ে পরে সোলো ট্রিপের উদ্দেশ্যে বেনারস । অচেনা শহরে একা ঘুরতে এসে দেখা হয়ে যায় অনেক চেনা মানুষের সাথে। এর মধ্যে হঠাৎ এক মর্মান্তিক ঘটনাকে কেন্দ্র করে দেখা হয় তার প্রাক্তন স্ত্রী আঁখি সাথে। এরপর বর্তমানের পাশাপাশি ঋজুর জীবনে ফিরে আসে পুরোনো সম্পর্ক এবং নানা অনুভূতি। নতুন সংসার নিয়ে কেমন আছে আঁখি ভালো নাকি সেও জড়িয়ে পড়েছে এক অন্য অনুভূতিতে ?
✍️পাঠ-প্রতিক্রিয়া : শেষ করলাম হৃদয়ের পদ্মবনে উপন্যাসটা। পড়ার পর আমার কাছে সব থেকে ভালো লেগেছে গল্পের মধ্যে থাকা আবেগ আর সম্পর্কের টানাপোড়েন। গল্পের প্রত্যেকটি চরিত্র গুলোকে বেশ ভালো লেগেছে। বিশেষ করে ঋজু ও মেসোমশাই এর মিষ্টি সম্পর্কটা আমার মনে ধরেছে। এছাড়া সোমনাথ , ঝিমলি , চন্দনদা চরিত্র গুলো লেখক খুব নিখুঁত ভাবে গল্পে তুলে ধরেছেন।শুরুর দিকে ঋজু একান্ত ও নিজের মতো থাকলেও পরে বেনারস এসে একে একে চেনা মানুষের সাথে দেখা হয়ে যাওয়া গল্পের মধ্যে এক আলাদা পরিবেশ তৈরি করেছে।
এই উপন্যাসটির সাথে লেখক বেনারসের পরিবেশ খুব সুন্দর ভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন। যত পড়েছি মনে হয়েছে বেনারসের মনোরম পরিবেশ ও দৃশ্য আমি উপলব্ধি করছি। শেষের দিকে ঋজুর এই যাত্রার মাধ্যমে তার একটা পরিবর্তন আসা, একা মানুষ ধীরে ধীরে অন্যান্য মানুষ ও সম্পর্কের মধ্যে জড়িয়ে পরা সেটাই এই উপন্যাসের এক অন্য দিক মনে হয়েছে ।
সব মিলিয়ে ছোট্ট ওপরে কোনো জটিলতা ছাড়াই একটি সুন্দর উপন্যাস। আমি উপন্যাসটি পড়ে বুঝলাম যতই আমরা নিজেদের অতীতের স্মৃতিকে পিছনে ফেলে আসার চেষ্টা করি না কেনো, সেই স্মৃতি কখনো ভুলে যাওয়া সম্ভব না। যারা ইমোশনাল উপন্যাস পড়তে ভালবাসেন তারা এই উপন্যাস টি পড়তে পারেন। আমার ব্যাক্তিগত ভাবে বেশ ভালো লেগেছে।
✨️রেটিং - ৪.৯/৫
April 14, 2026
সোলো ট্রিপ জিনিসটা শুরুতে বোকা বোকা লাগলেও একটা সময় পড় বেশ উপভোগ্য হয়ে ওঠে। ট্রেনে চেপে বেনারস, সেখানকার পরিবেশ, ভৌগোলিক সৌন্দর্য, মানুষজন - এক কথায় ঋজু তথা লেখকের চোখ দিয়েই ফুটে ওঠে আস্ত বেনারস। তাই বইটার শুরুতেই ভ্রমণ কাহিনী মূলক একটা আবহ পাওয়া যায়।
উপন্যাস এগোতে এগোতে তুলে ধরে এক দিকে বৈবাহিক জীবনের অস্থিরতা, ক্লান্তি, অপরদিকে ডিভোর্স পরবর্তী জীবনের একাকিত্ব যেখানে ঋজু ডিভোর্স এর পড়েও আঁখিকে নিয়ে চিন্তিত কিংবা ভুলতে না পাড়ার যন্ত্রনা স্পষ্ট।
আর একদম শেষে ঋজুর যে আত্মপোলব্ধি তা এটাই বুঝিয়ে যায় যে জীবনের বহুমুখী স্রোতে নিজেকে ধরে রাখাটা জরুরি পাশাপাশি যে সম্পর্ক একবার শেষে হয়ে যায় সামান্য ইগোর লড়াইতে জিতবে বলে সে সম্পর্ক আর জোড়া লাগার নয়।
আর ঠিক তার পাশেই যে মর্মান্তিক দুর্ঘটনার উল্লেখ আছে তা পড়ে মন বিষণ্ণ হয়ই।
এই বই আপনার মনে সরু সুতর মতন একটা রেশ ধরে রাখবে কিছুদিন। একদম হালকা চালের বই, একবার বসেই পড়ে ফেলার মত। তাই ঋজুর চোখে বেনারস ঘুরতে কিংবা মনের আনাচে কানাচে লুকিয়ে থাকা অনুভূতিগুলোকে শান দিতে একবার পড়েই ফেলুন হৃদয়ের পদ্মবনে।
উপন্যাস এগোতে এগোতে তুলে ধরে এক দিকে বৈবাহিক জীবনের অস্থিরতা, ক্লান্তি, অপরদিকে ডিভোর্স পরবর্তী জীবনের একাকিত্ব যেখানে ঋজু ডিভোর্স এর পড়েও আঁখিকে নিয়ে চিন্তিত কিংবা ভুলতে না পাড়ার যন্ত্রনা স্পষ্ট।
আর একদম শেষে ঋজুর যে আত্মপোলব্ধি তা এটাই বুঝিয়ে যায় যে জীবনের বহুমুখী স্রোতে নিজেকে ধরে রাখাটা জরুরি পাশাপাশি যে সম্পর্ক একবার শেষে হয়ে যায় সামান্য ইগোর লড়াইতে জিতবে বলে সে সম্পর্ক আর জোড়া লাগার নয়।
আর ঠিক তার পাশেই যে মর্মান্তিক দুর্ঘটনার উল্লেখ আছে তা পড়ে মন বিষণ্ণ হয়ই।
এই বই আপনার মনে সরু সুতর মতন একটা রেশ ধরে রাখবে কিছুদিন। একদম হালকা চালের বই, একবার বসেই পড়ে ফেলার মত। তাই ঋজুর চোখে বেনারস ঘুরতে কিংবা মনের আনাচে কানাচে লুকিয়ে থাকা অনুভূতিগুলোকে শান দিতে একবার পড়েই ফেলুন হৃদয়ের পদ্মবনে।
June 26, 2026
📖বই- হৃদয়ের পদ্মবনে
✒️লেখক- অভীক দত্ত
💰মুদ্রিত মূল্য- ২৫০ টাকা
📃পৃষ্ঠা সংখ্যা- ১৫২
🔖রেটিং- ৪/৫
🖨প্রকাশনী- পত্রভারতী
গল্পের কেন্দ্রীয় চরিত্র ঋজু। ডিসেম্বরের শেষে ঋজু একা বেনারসে সোলো ট্রিপে যায়। অচেনা শহরে চেনা মুখের দেখা পায়, আর তারপর হঠাৎ একটা মর্মান্তিক ঘটনা তাকে বহু বছর পর মুখোমুখি করে তার প্রাক্তন স্ত্রী আঁখির সঙ্গে। বইটা মূলত ঋজুর একাকীত্ব, অতীতের ক্ষত, সম্পর্কের ভাঙা টুকরো আর বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বুকে জমে ওঠা নীরব ক্ষত নিয়ে। বেনারসের ঘাট, শীতের কুয়াশা, গঙ্গার ধার - এসব পটভূমিতে গল্প এগোয়।
বইয়ের সবচেয়ে শক্তিশালী দিক হলো একাকীত্বকে ফুটিয়ে তোলা। আপাতদৃষ্টিতে ভিড়ের মধ্যে থেকেও মানুষ কতটা একা হয়ে যায়, সেটা লেখক খুব সূক্ষ্মভাবে দেখিয়েছেন।
ঋজুর চরিত্রটা অসাধারণ। সে কোনো বীর না, কোনো আদর্শ পুরুষও না। সে সাধারণ একজন মানুষ, যার ভুল আছে, ক্ষত আছে, রাগ আছে, অনুশোচনা আছে। আঁখির সঙ্গে তার পুনর্মিলনের দৃশ্যগুলো পড়তে পড়তে বারবার মনে হয়েছে- প্রেম শেষ হয়ে গেলেও মানুষগুলো শেষ হয় না। তারা বয়ে বেড়ায় ক্ষত, স্মৃতি আর "কী হতে পারত" এর ভার।
✒️লেখক- অভীক দত্ত
💰মুদ্রিত মূল্য- ২৫০ টাকা
📃পৃষ্ঠা সংখ্যা- ১৫২
🔖রেটিং- ৪/৫
🖨প্রকাশনী- পত্রভারতী
গল্পের কেন্দ্রীয় চরিত্র ঋজু। ডিসেম্বরের শেষে ঋজু একা বেনারসে সোলো ট্রিপে যায়। অচেনা শহরে চেনা মুখের দেখা পায়, আর তারপর হঠাৎ একটা মর্মান্তিক ঘটনা তাকে বহু বছর পর মুখোমুখি করে তার প্রাক্তন স্ত্রী আঁখির সঙ্গে। বইটা মূলত ঋজুর একাকীত্ব, অতীতের ক্ষত, সম্পর্কের ভাঙা টুকরো আর বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বুকে জমে ওঠা নীরব ক্ষত নিয়ে। বেনারসের ঘাট, শীতের কুয়াশা, গঙ্গার ধার - এসব পটভূমিতে গল্প এগোয়।
বইয়ের সবচেয়ে শক্তিশালী দিক হলো একাকীত্বকে ফুটিয়ে তোলা। আপাতদৃষ্টিতে ভিড়ের মধ্যে থেকেও মানুষ কতটা একা হয়ে যায়, সেটা লেখক খুব সূক্ষ্মভাবে দেখিয়েছেন।
ঋজুর চরিত্রটা অসাধারণ। সে কোনো বীর না, কোনো আদর্শ পুরুষও না। সে সাধারণ একজন মানুষ, যার ভুল আছে, ক্ষত আছে, রাগ আছে, অনুশোচনা আছে। আঁখির সঙ্গে তার পুনর্মিলনের দৃশ্যগুলো পড়তে পড়তে বারবার মনে হয়েছে- প্রেম শেষ হয়ে গেলেও মানুষগুলো শেষ হয় না। তারা বয়ে বেড়ায় ক্ষত, স্মৃতি আর "কী হতে পারত" এর ভার।
May 8, 2026
The first book abhik dutta I have read. I like it very much. You should read it, I really like the character of Riju❤️🥀
July 12, 2026
অভীক দত্তের লেখার সবচেয়ে বড় শক্তি তাঁর সহজ অথচ আবেগঘন ভাষা।
Displaying 1 - 8 of 8 reviews









