Jump to ratings and reviews
Rate this book

চিক্কোর কাবুক

Rate this book
টুপু ছেলেটি একটু ভিন্ন ধাতের, কল্পনাপ্রবণ, চোখে দেখতে পায় শব্দের রঙ। বিদঘুটে শখের ছোটো মামার সঙ্গে বেরিয়ে পড়েছে পাহাড়ঘেরা অরণ্যভূমির উদ্দেশ্যে। তারপর জড়িয়ে পড়ে একের পর এক রুদ্ধশ্বাস নানা ঘটনায় - একদিকে লুটেরা স্ট্যানলির দল, আর দিকে রয়েছে বুদ্ধিদীপ্ত বালক চিক্কো ও কুশল। এই অ্যাডভেঞ্চার কাহিনীর পরতে পরতে ছড়িয়ে আছে পাহাড়, অরণ্য ও প্রকৃতির কথা। সব মিলিয়ে ঝলমলে ভাষায় অসাধারণ এক কাহিনী শুনিয়েছেন মাহমুদুল হক, আমাদের কালের শক্তিমান লেখক।

84 pages, Hardcover

First published May 1, 1979

1 person is currently reading
71 people want to read

About the author

Mahmudul Haque

20 books112 followers
Mahmudul Haque (Bangla: মাহমুদুল হক) was a contemporary novelist in Bangla literature. He was born in Barasat in West Bengal. His family moved to Dhaka after the partition in 1947. His novels deal with this pain of leaving one's home.

Mahmud gave up writing in 1982 after a number of acclaimed novels. Affectionately known as Botu Bhai and always seen as a lively figure in social gatherings, the rest of the time he was said to lead a solitary life.

Ratings & Reviews

What do you think?
Rate this book

Friends & Following

Create a free account to discover what your friends think of this book!

Community Reviews

5 stars
7 (12%)
4 stars
35 (64%)
3 stars
11 (20%)
2 stars
0 (0%)
1 star
1 (1%)
Displaying 1 - 12 of 12 reviews
Profile Image for Rizwan Khalil.
377 reviews600 followers
April 18, 2021
শব্দের রঙ দেখতে পায় এমন এক পাগলাটে কিশোর আর কিম্ভুতদর্শন সব গাছের শিকড় সংগ্রহের বাতিক তারচেয়েও পাগলাটে তার ছোটমামা। দুইজনে একদিন বেড়িয়ে পড়ে খাগড়াছড়ির পাহাড়ে-জঙ্গলে ঘুরে ঘুরে প্রকৃতির শোভা দেখতে। এই বইয়ের প্রকাশকাল ১৯৭৯ সালে, অর্থাৎ গল্পের প্রেক্ষাপট প্রায় পঞ্চাশ বছর আগের যথার্থই দুর্গম জনমানবহীন বুনো পার্বত্য অঞ্চলে। মাহমুদুল হকের অদ্ভুত জীবন্ত ঝলমলে বর্ণনায় সেই রঙিন পাহাড়ি বন্যতা যেন এক অন্যরকম অপরূপে মানসপটে ছবির মতো ফুটে ওঠেছে বার বার...
যাকে বলে চোখ জুড়ানোর হাজারো এলোমেলোমি। পাহাড়ের গায়ে ধস নেমেছে কোথাও। খিলখিলে হাসির মতো রোদে ভাঁজ খেলানো নানা রঙের মাটির স্তর সেখানে কতো রকমেরই না নকশা টাঙিয়ে রেখেছে। হাতে রঙপেন্সিল পেলে নতুন ইল্টু-বিল্টুরা ঘরের দেয়ালে মনের আনন্দে যেমন দাগকাটা ছবি আঁকে। ধরো, মাথা থেকে রেললাইনের পাটির মতো দুটো পা, কানের ওপর থেকে দুটো হাত, যা মনে আসে তাই।

পাহাড়ের গায়ে ঝামরে উঠেছে কতকটা সেইরকম ঘাস। মাটির ধস নামায় কোথাও ঝুলছে কালো কুচকুচে রাশি রাশি ঘাসের শেকড়। পাহাড়গুলো রোদে এভাবে তাদের চুল শুকোয়।

আমার সবচেয়ে যেটা ভালো লাগে সেটা হচ্ছে প্রকৃতির ভেতরের স্বাধীনতা। এখানে দ্যাখো শতেক জাতের গাছ-গাছড়া হাত ধরাধরি করে কেমন কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে একজোট পাকিয়ে বেড়ে উঠেছে। বলা নেই কওয়া নেই হঠাৎ তারই মাঝখানে উঁকি দিচ্ছে একটা ভোঁতা নাকের ভুঁইফোঁড় আজগুবি ধরনের পাহাড়। ওর ইচ্ছে হয়েছে ও ঠেলে উঠেছে মাঝখানে, কারো কিছু বলার নেই। জঙ্গলভাই তুমিও থাকো আমিও থাকি, আমাদের কারো সঙ্গে কারো কোন বিরোধ নেই। এইভাবে আছে। সবাই এরা ঠিক এমনিভাবে গলা জড়াজড়ি করে যুগ যুগ ধরে আছে। ওদের কাউকে ছাড়া আর কারো চলে না, একে অপরের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে যাচ্ছে।

গাছের ফাঁক দিয়ে চেরা চেরা আলো এসে পড়েছে এখানে ওখানে। চারপাশে এলোপাতাড়ি বালিশের ধবধবে ওয়াড় শুকোতে দিয়েছে কেউ, এরকম মনে হয়। বনময় আলো-আঁধারির গা-জড়াজড়ি।

ঝোপঝাড় ডালপালা কেটে পথ করে নিতে হচ্ছে, যেভাবেই হোক এগোতে হবে। অরণ্যরাজ দুজন শহুরে ভূতকে একটু বিপাকে ফেলে রগড় দেখছে, ব্যাপারটা তো আর বেশি কিছু নয়। ... বড় বড় গাছপালাদের নিয়ে কোনো ঝক্কি নেই, ছুটকো ছাটকাগুলোকে নিয়েই যত ল্যাঠা। দু'পা অন্তর হাত বাড়িয়ে রেখেছে, না বাপু, তোমাকে যেতে দেওয়া হবে না, তুমি দাঁড়াও, তোমার বাড়ি কোথায়, কি চাও এখানে, এ রকম সব বায়নাক্কা।
আর কী দারুণ অনন্যসাধারণ সব উপমা!
সে এক রাত্রি বটে! কবি হয়ে জন্মালেও বেশ লাভ ছিল। কতো ভাবই না এলো মনে, অতোসব কি মনে রাখা যায়, না বোঝানো যায় সবটুকু পষ্ট করে। ভাবের মতো ভাব এক একটা, কোনোটা হাতির মতো শুঁড়অলা, কোনোটা বা চিতাবাঘের মতো গায়ে টিকে তোলা। ... খুব আপসোসের কথা, কেন যে ডায়েরি লেখার অভ্যাসটা করিনি। ওই অভ্যেস থাকলে ঠিকই লিখতাম, 'একটি স্মরণীয় রাত্রি', কি চমৎকার সব ভাবের যে আনাগোনা হচ্ছিলো। এক একটা ভাব চড়ুই পাখির মতো ফুড়ুৎ ফুড়ুৎ করে মগজের ভেন্টিলেটরে আসছিল আর খড়কুটো দিয়ে বাসা বাঁধছিল। কয়েকটা ভাব পালকের মতো হালকা, কিন্তু শিশির-বিন্দুর মতো স্বচ্ছ। এইসব ভাবের মেজাজগুলোও বড় অদ্ভুত।
অমন মায়াবী কাব্যিক কিন্তু ভারি মজাদার গল্পকথনে যেন মনে হচ্ছিল পুরো উপন্যাসটাই যদি টুপু ও মামার ট্রেকিং-অ্যাডভেঞ্চারে চলতো ভালো হতো... তবে যেহেতু এটা কিশোর রোমাঞ্চ অ্যাডভেঞ্চার কাহিনি তাই অবধারিত ভাবে একসময় এলো ভয়ানক দস্যু দল, বুদ্ধিমান সাহসী কিশোর চিক্কো ও কুশল, আর দস্যুদের সাথে সংঘাত। সত্যি বলতে প্রথমার্ধের অতুলনীয় স্বপ্নময় সেই খাগড়াছড়ির তৎকালীন মার্মা অঞ্চলে সভ্যতার সংস্পর্শবিহীন বনজঙ্গল-পাহাড়ে টুপুদের দুর্গম অভিযাত্রা-শিকার করা-বন্য পশুপাখির মোকাবেলা ইত্যাদি পড়ে যে মোহমুগ্ধতায় ডুবে গিয়েছিলাম, দ্বিতীয়ার্ধের ওই একইধরনের গৎবাঁধা দস্যুদের সাথে সংঘর্ষের অ্যাডভেঞ্চারে অতটা মজা পাইনি। বিশেষ করে শেষটা খুবই অকস্মাৎ হয়ে গেছে মনে হয়েছে, এত দুর্দান্ত একটি অভিযানের আরো অন্তত আট-দশ পাতায় গোছানো একটা সমাপ্তির প্রয়োজন ছিল।

যাইহোক, মাহমুদুল হকের এটাই আমার পড়া প্রথম বই, অন্যরকম রঙময় লেখনিতে তিনি খুব সহজেই মন জয় করে নিয়েছেন। এবারে তাঁর দু'খণ্ডের রচনাবলি কিনেছি, সকল কালজয়ী লেখাগুলোই দ্রুত পড়ে ফেলার ইচ্ছে থাকলো।
Profile Image for NaYeeM.
229 reviews66 followers
April 23, 2021
বরাবরই শব্দ নিয়ে, বাক্য নিয়ে যেভাবে খেলা করেন মাহমুদুল হক, এখানেও ঠিক তেমনি.....
উপমা, রূপক এসবে উনি দৃঢ়, অনবদ্য, অনন্য, তুলনার উর্ধ্বে!! আর উনার এক একটা উপন্যাস যেন শব্দের dictionary, কারণ উনার বইয়ে নতুন নতুন বাংলা শব্দের সাথে আপনার পরিচয় মিলবে
.....
........
উনার লেখা বেশি বেশি পড়ুন পাঠক, বেশি বেশি ছড়িয়ে দিন!! আমি তো বেশ গর্ব করেই বলি "আমাদের দেশে মাহমুদুল হকের মতো একজন লেখক ছিলেন"
Profile Image for Nabila Tabassum Chowdhury.
379 reviews279 followers
May 23, 2025
একটা অভিযানের গল্প কিভাবে এতটা মায়াময় হয়! সোজাসাপ্টা একটা অভিযানের গল্প, গল্পের কাঠামো সেই যুগ যুগ ধরে চলে আসা যেকোনো অভিযানের মতই। কিন্তু মাহমুদুল হকের কলমে তো শুধু কালি থাকে না, থাকে মমতাও। সেই মমতা কলম থেকে শব্দে আসে, শব্দ থেকে পাঠকের মনে। মায়ার একটা বুদ্বুদের মাঝে পাঠক আটকে পড়ে। নাই বা হলো অ্যাড্রেনালিন রাশ, তবুও পাঠকের লাভের দিকটা ভারিই কুশল ও চিক্কোর মারণ কাবুকে। কারণ এমন কথার যাদু তো আর সব বইয়ে থাকে না, তাই না? -

"এক একটা ভাব চড়ুই পাখির মত ফুড়ু ফুড়ুৎ করে মগজের ভেন্টিলেটরে আসছিল আর খড়কুটো দিয়ে বাসা বাঁধছিল। কয়েকটা ভাব পালকের মত হালকা, কিন্তু শিশির-বিন্ধুর মত স্বচ্ছ। এই সব ভাবের মেজাজগুলোও বড় অদ্ভুত। যেমন ধরো ফুল, সে তোমার গ্যালাডুলি হোক আর গোলাপই হোক, এরা তো জানোই কোনো শব্দ না করে সুগন্ধ ছড়ায়। ভাবের স্বভাব-ই ওই ধাঁচের।"
Profile Image for Arifur Rahman Nayeem.
209 reviews107 followers
October 22, 2024
অনেক খুঁজেপেতে মাসখানেক আগে পেয়েছিলাম ১৯৭৯ সালের মে মাসে বাংলাদেশ শিশু একাডেমী থেকে প্রকাশিত মাহমুদুল হকের একমাত্র কিশোর উপন্যাস ‘কুশল ও চিক্কোর মারণ কাবুক’-এর প্রথম সংস্করণ। ১৯৯৪ সালে নাম সংক্ষেপ করে, বিদঘুটে প্রচ্ছদে, রফিকুন নবীর দুর্দান্ত আর্টওয়ার্ক বাদ দিয়ে, ছোট সাইজে বইটি এনেছিল সাহিত্য প্রকাশ; যেটা বর্তমানে বাজারে আছে এবং কয়েক বছর আগে আমি এটাই পড়েছিলাম। সহজলভ্য হলে বলতাম সাহিত্য প্রকাশেরটা না পড়ে শিশু একাডেমীরটা পড়তে। কেননা, নিশ্চিত হয়েই বলা যায় শিশু একাডেমীর এই পুরাতন সংস্করণ পড়লে বই পড়ার আনন্দ কয়েকগুণ বেড়ে যাবে।
Profile Image for Shahed Zaman.
Author 28 books255 followers
August 26, 2017
ছোট্ট, কিন্তু অদ্ভুত মায়াময় একটা বই। সেই সব বইয়ের একটা, যেগুলো থেকে কৈশোরের গন্ধ আসে, ঘুঘু ডাকা নিঝুম দুপুরে যখন সবাই ভাতঘুমে মগ্ন তখন একটা বইয���ের মাঝে ডুব দিয়ে অজানায় হারিয়ে যাওয়ার যে উত্তেজনা তার গন্ধ আসে। প্রথম প্রকাশ ১৯৭৯ তে, অথচ এখনও কি দারুণ জড়িয়ে ধরেছে আমাকে!
বলছিলাম মাহমুদুল হকের অ্যাডভেঞ্চার উপন্যাসমালা সিরিজের বই “চিক্কোর কাবুক” এর কথা। নামটা শুনলেই কেমন যেন অদ্ভুত মনে হয়, তাই না? আমাকেও এই নামটাই টেনেছিল খুব, তাই আর কিছু না ভেবে কিনে ফেলেছিলাম। বইয়ের গল্পটাও তেমনি টানবে, যদি আপনি একবার জানতে পারেন। টুপু নামে এক কিশোরের গল্প এটা, যে কিনা শব্দের রঙ দেখতে পায়! কি অদ্ভুত কথা, লোকে শুনলে পাগল বলবে না? তা বলবে, কিন্তু একই রকম পাগলাটে ছোট মামা যখন আছে তখন আর ভয় কি? ভাগ্নেকে নানা রঙের শব্দ দেখানোর উদ্দেশ্যে তাই সে বেরিয়ে পড়ে খাগড়াছড়ির জঙ্গলে। নানা রকম ছোট বড় বিপদ আপদের সাথে মোলাকাত, সেই সাথে নতুন জীবনের আস্বাদ।
কিন্তু অ্যাডভেঞ্চার উপন্যাসমালা সিরিজের বই যখন, তখন অ্যাডভেঞ্চার না থেকে যায়ই না! তাই এসে হাজির হয় স্ট্যানলি আর তার ভয়ঙ্কর দলবল, পাহাড় জঙ্গলে লুকিয়ে থাকা ভয়ঙ্কর দস্যু তারা। আরও আছে সাহসী কিশোর চিক্কো আর কুশল। টুপু আর ছোটমামা কি করে বিপদে পড়ে, কি করে আবার ফাঁদ কেটে বেরিয়ে আসে সেই বিপদ থেকে, “চিক্কোর কাবুক” তারই মায়ামাখা বিবরণ।
মাহমুদুল হকের লেখায় খুব অদ্ভুত একটা মায়া লুকিয়ে থাকে, মনে হয় এক টুকরো ছোটবেলা যেন কলমের ডগায় মাখিয়ে লিখতে বসেছিলেন তিনি। বইয়ের মাঝে আদুরে সব শব্দের ব্যবহার, দারুণ দক্ষতায় লেখা বর্ণনা আর ভাষার বিনুনী, সব মিলিয়ে একবার পড়তে শুরু করলে আর ছাড়ার উপায় নেই। কিছুটা লেখা তুলে দেয়ার লোভ সামলাতে পারছি নাঃ
“ ...যাকে বলে চোখ জুড়ানোর হাজারো এলোমেলোমি। পাহাড়ের গায়ে ধস নেমেছে কোথাও। খিলখিলে হাসির মতো রোদে ভাঁজ খেলানো নানা রঙের মাটির স্তর সেখানে কতো রকমেরই না নকশা টানিয়ে রেখেছে। হাতে রঙ-পেন্সিল পেলে নতুন ইল্টু-বিল্টুরা ঘরের দেয়ালে মনের আনন্দে যেমন দাগকাটা ছবি আঁকে। ধরো, মাথা থেকে রেললাইনের পাটির মতো দুটো পা, কানের ওপর থেকে দুটো হাত, যা মনে আসে তাই।
...পাহাড়ের গায়ে ঝামরে উঠেছে কতকটা সেই রকম ঘাস। মাটির ধস নামায় কোথাও ঝুলছে কালো কুচকুচে রাশি রাশি ঘাসের শিকড়। পাহাড়গুলো রোদে এভাবে তাদের চুল শুকোয়।”
ছোট্ট, কিন্তু সুন্দর এই বইটি সব বয়সের পাঠকের জন্য অবশ্যপাঠ্য।
Profile Image for Mojaffor Hossain.
57 reviews19 followers
May 1, 2021
উপন্যাস ‘জীবন আমার বোন’ এবং ‘কালো বরফ’ তাঁর কালজয়ী সৃষ্টি। অসাধারণ কিছু ছোটোগল্প ও উপন্যাসের পাশাপাশি মাহমুদুল হকের একমাত্র শিশুসাহিত্য হলো অ্যাডভেঞ্চার উপন্যাস ‘চিক্কোর কাবুক’। সাহিত্য প্রকাশ থেকে ১৯৭৯ সালে প্রথম প্রকাশিত হয়। বাংলা সাহিত্যে প্রায় সকল সিরিয়াস লেখকই কম-বেশি শিশুসাহিত্য রচনা করেছেন। মাহমুদুল হক গদ্যভাষা ও বিষয়বস্তুতে সম্পূর্ণভাবেই বড়োদের লেখক। তার প্রমাণ মেলে তাঁর ‘কালো বরফ’ ও ‘অনুর পাঠশালা’ উপন্যাসে সেখানে শিশুচরিত্র থাকলেও উপন্যাস হিসেবে তা শিশুতোষ নয়। শিশুরা যাতে মাহমুদুল হকের সাহিত্যকর্ম থেকে একেবারে বঞ্চিত না হয় এজন্য বোধহয় তিনি শিশু-কিশোরদের জন্য একেবারে আলাদা করে রচনা করেছেন ‘চিক্কোর কাবুক’ উপন্যাসটি।

উপন্যাসটির শেষ কয়েক পৃষ্ঠা বাদ দিলে প্রধান চরিত্র মাত্র দুটি: মামা আর ভাগ্নে। শেষের দিকে ভাগ্নে টুপু অপহৃত হলে গল্পের নাম-নায়ক চিক্কোরের সঙ্গে পাঠকদের সাক্ষাৎ ঘটে; তার আগপর্যন্ত টুপুই কেন্দ্রীয় চরিত্র। টুপু সংসারের সাধারণ প্রাণী নয়। টুপুকে পরিচয় করে দেওয়ার জন্য উপন্যাসের প্রারম্ভিক প্যারাটিই যথেষ্ট: ‘টুকু ছেলেটি একটু ভিন্ন ধাতের; আর ছিটেফোঁটা ভিন্নধাতের হলেই সচরাচর সকলের ভাগ্যে যা ঘটে থাকে, ওর বেলাতেও তার হেরফের হয়নি। বাড়ির লোকজন তো বটেই, বন্ধুরাও খামোখা ওর পেছনে লেগে থাকে।’
টুপুর সম্পর্কে মামার ধারণা: ‘টুপু হাপ্পাগলা, বিলক্ষণ মাথায় ছিট আছে।’ টুপুর সঙ্গে মামার অতি সখ্য থাকার কারণে মামাকেও সকলে টিটকিরি মেরে বলে, ‘পাগলে পাগল চেনে’।
উপন্যাসের প্রতিটি অধ্যায়ের একটি করে শিরোনাম আছে। এবং সবগুলো অধ্যায়ের কথক হল গল্পের মামা। মামাদের মুখে শিশুরা গল্প শুনতে ভালোবাসে, আর মামা একটু মজার হলে তো কথায় নেই! এজন্যই হয়ত মাহমুদুল হক কৌশলে একজন মজার মামাকে গল্প বলিয়ের ভূমিকায় দাঁড় করিয়ে দিয়েছেন। গল্পে তার ভূমিকা এই পর্যন্তই। তবে গল্পবলিয়ের ভূমিকা যে কত শক্ত সেটি যারা জানেন তারা গল্পের মামাকে মোটেও খাটো করে দেখতে পারবে না। মামার সেন্স অব হিউমরের কারণে উপন্যাসটি পড়তে পড়তে কখনো ক্লান্তি আসে না। শব্দে শব্দে একটা ফুরফুরে আমেজ লেগেই থাকে। জঙ্গলে বিষাক্ত সাপ তেড়ে আসতে দেখেও মামা যখন আতঙ্কগ্রস্ত টুপুকে বলে, ‘আমরা হচ্ছি বনজঙ্গলের হঠাৎ-কুটুম, একটু খোঁজখবর তো নেবেই।’ তখন আর না হেসে পারা যায় না। এমনি করে মামা গল্পকথকের ভূমিকায় থেকে উত্তেজনাটা লাগাম দিয়ে টেনে রাখেন।
উপন্যাসটির প্রথম অধ্যায়ের নাম, ‘শব্দের রঙ’। শব্দের আবার রঙ থাকে নাকি? রঙ তো থাকে দেখিয়ে জিনিসের। অদেখা জিনিসের রঙ থাকতে বিজ্ঞানের মানা। থাকলেও দেখে কার সাধ্য! তবে টুপু যেহেতু কথিত হাপ্পাগলা, ওর দেখতে সমস্যা নেই! টুপু দিব্যি শব্দের রঙ দেখতে পায়। মামা যখন ‘বাংলাদেশ’ শব্দটি উচ্চারণ করে এর রঙ জানতে চায়, টুপু একটু ভেবে জানায়, ‘সবুজ’। মামা যখন দুবার বাংলাদেশ শব্দ উচ্চারণ করে, তখন টুপু বিজ্ঞের মতো মামাকে বলে, ‘বাংলাদেশ সবুজ। আর যদি একসঙ্গে পরপর দুবার উচ্চারণ করো তবে তার রঙ লাল।’ এভাবে আপন স্বভাবের মামাকে হাতের কাছে পেয়ে টুপু শব্দের রঙ নিয়ে রীতিমতো গবেষণায় মেতে ওঠে। সে এক আজব গবেষণা বটে!
এর পরের অধ্যায়ে প্রকৃতির পাঠশালায় জ্ঞানার্জনের জন্য বেরিয়ে পড়ে মামা-ভাগ্নে। এ যেনতেন প্রকৃতি নয়, খাগড়াছড়ির জনমানবশূন্য ভয়াল জঙ্গল। তারা সঙ্গে নিলো কম্বল, পলিথিনের চাদর, শিকারের ছুরি, দেশলাই, দুরবিন, টর্চসহ টুকিটাকি আরো অনেককিছু। নিরাপত্তার জন্য গুলতি আর ব্যুমেরাং। আর ইস্কুলের ছেলেদের মতো পানির বোতলও ঝুলিয়ে নিয়েছে কাঁধে। এর কারণ হিসেবে মামা স্বভাবসুলভ মজা করে বলে, ‘প্রকৃতির পাঠশালায় পড়তে যাচ্ছি যে!’ পাহাড়ঘেরা গহিন অরণ্যভূমির চড়াই-উতরাই ভেঙে ক্রমাগত এগিয়ে যায় দুজনে। সেই গা ছমছমে শিক্ষাসফরের বর্ণনা একটু না দিলেই না। মামার ভাষ্যে: ‘কখনো ধস নামা পাহাড়ের গা বেয়ে কখনো সরু ফিতের মতো এক একটি রাস্তা ধরে একটানা হেঁটে চলেছি। ভাঙা দুর্গের মতো এলোপাথাড়ি পাহাড়, নীরব অন্ধকার ঘেরা গভীর খাদ, সবকিছুই ঘন অরণ্য মোড়া। প্রকৃতি কতো রকমের খেয়ালই যে গোপনে গোপনে চারপাশে ছড়িয়ে রেখেছে, কার সাধ্যি তা বোঝে। দিনভর একধরনের গা ছমছমে নিস্তব্ধতা বাঁশবনের মাথায় আর পাহাড়ের অনড় দেয়ালে অবিরাম ঘূর্ণিস্রোতের মতো পাক খায়।’
এমন পিলে-চমকানো জঙ্গলের ভেতর দুজন শহুরে মানুষের মেহমানদারি যেমন হওয়ার তেমনই হয়েছে। একদিক থেকে এগিয়ে আসে বুনো ভাল্লুক, অন্যদিক থেকে বিষাক্ত সাপ। আর জঙ্গলের প্যাচপুচ তো আছেই। ভীষণ শীতরাতে গাছের ডালে পালা করে ঘুমানো, যেনতেন অ্যাডভেঞ্চার নয় এটি। আমাদের সময়ের শিশুরা জিওগ্রাফি চ্যানেলে বিয়ার গ্রিলসের জঙ্গলে নানান ধরনের অ্যাডভেঞ্চার দেখে শিহরিত হয়। আশির দশকে সে সুযোগ ছিল না। বইটি পড়লে তার দরকারও পড়ে না। পড়তে পড়তে দিব্যি মামাভাগ্নের অ্যাডভেঞ্চারদৃশ্য চোখের সামনে ভেসে ওঠে।
শুরুতে মামা-ভাগ্নের সফর বুদ্ধিবৃত���তিক আনন্দসফর মনে হলেও ক্রমেই সেই সফর প্রকৃত দুঃসাহসিক অভিযাত্রায় পরিণত হয়। হঠাৎ করেই জঙ্গলে গায়েব হয়ে যায় টুপু। মামার বুঝতে বাকি থাকে না, মারমাদের ত্রাস-জঙ্গলদস্যু স্টানলির কব্জায় পড়েছে টুপু। জঙ্গলে তাদের কদিন থেকেই অনুসরণ করা হচ্ছিল ওদের, টুপু সেটা মামাকে কয়েকবার জানিয়েছে। মামা তখন গা করেনি। যে পথ ধরে টুপুকে নিয়ে যাওয়া হয়েছে সেই পথে চিহ্নস্বরূপ টুপু পকেটে সংগ্রহ করা টিয়াপাখির পালক একটি নির্দিষ্ট ব্যবধানে ছড়াতে ছড়াতে গেছে। মামা চিহ্ন ধরে ধরে এগুতে থাকে। শুরু হয় মামার গোয়েন্দা অভিযান। মামা পৌঁছে যায় স্টানলির আঁকড়ায়। সেখানেই মামার সঙ্গে সাক্ষাৎ ঘটে গল্পের নাম-নায়ক চিক্কো ও তার সঙ্গী কুশলের। চিক্কো-কুশলকেও স্টানলির লোকজন টুপুর মতো তুলে এনেছে। মামা ও কুশলকে নিয়ে চিক্কো ফন্দি আঁটে টুপুকে ছাড়ানোর। চিক্কো আর কুশলও মুক্তি পাওয়ার জন্য মরিয়াপ্রায়। আসল অ্যাডভেঞ্চারের শুরু এখানেই। বন্দুকসহ ‘গাব্দাগোব্দা’ প্রকৃতির লোকজনের সঙ্গে যুদ্ধে নামে কিশোর চিক্কো ও কুশর। মামাকেও এ যুদ্ধে শামিল করাই তারা। বাহুশক্তি নয়, বুদ্ধিশক্তি দিয়ে স্টানলির ডান হাত ল্যাংসহ আরো দুজন প্রহরীকে কব্জা করে ফেলে। পরিস্থিতি সামাল দিতে মামা নিজেও বন্দুক তুলে নেই। সমস্ত ঘটনাটা ঘটে চিক্কোর পরিকল্পনা-মাফিক। মামা শুধু শিশুর মতো বলিহার চিক্কোর কর্মকা- দেখে আর নির্দেশের অপেক্ষায় থাকে। মামাকে যা করতে হয় তাতে সে নিজেও তাজ্জব বনে যায়। এতবড়ো একটা দুঃসাহসিক অভিযানে তাকে শুধু বসে বসে গাছের পাতা নড়াতে হয়। মামার ভাষায়: ‘একটা ধাড়ি-গোছের খোকা হাতে গুচ্ছের দড়িদড়া ধরে গর্তের ভেতর কোলকুঁজো হয়ে বসে আছে। কি তার কাজ? কাজ হলো ভয়ঙ্করের মুখে বসে কেবল লেজ নাড়া। লেজ নাড়া নয়তো কি! আস্তে আস্তেÍখুব যতœ করে বলতে গেলে বলতে হয়, মৃদু মৃদু, দড়ির গোড়া ধরে নাড়ছি, ডিউটির মতো ডিউটি একটা!’
শেষ পর্যন্ত ডালনাড়া দেওয়াটা যেন ঠিকমতো করা যায়, এই নিয়েই মামার যত চিন্তা তখন। ওদিকে কাজ যা করার সব করে চিক্কো আর তার সঙ্গী কুশর। শেষপর্যন্ত টুপুকে মুক্ত করে তারা, নিজেরাও মুক্তি পায় জমের বন্দিশালা থেকে। এমন সব সিরিয়াস ঘটনার ভেতর দিয়ে শেষ হয় মামা-ভাগ্নের সখের জঙ্গলযাত্রা।
গল্পের দুই অংশের দুই কেন্দ্রীয় চরিত্র, টুপু ও চিক্কো, স্বভাবে যেমন সাবধানী তেমন বুদ্ধিমান। দুজনের বুদ্ধিমতো চলে মামা। একদিকে, টুপুর অদ্ভুত অদ্ভুত সব কা-কারখানা আর বুদ্ধিবৃত্তিক কর্মকা-; অন্যদিকে, চিক্কোর দুঃসাহসিক গোয়েন্দাগিরি। এসব দেখে শিশুদের শিহরিত হওয়া খুবই স্বাভাবিক। টুপু আর চিক্কোর গুণের প্রশংসা করে মামা বলেছে, ‘পালকের নিশানা ধরে এগোতে থাকি।...তবুও ভালো বিপদের মুখে টুপু একেবারে হাল ছেড়ে না দিয়ে কিছুটা বুদ্ধি খরচ করেছে।’ এবং ‘চিক্কোর চোখেমুখে আমি যে উত্তেজনার চিহ্ন দেখেছি, তাতে আর যা কিছুর অভাব থাকুক দৃঢ়তার কোনো ঘাটতি ছিল না।’
শিশু-কিশোরদের উদ্দেশ্য করে এই রচনা হলেও মাহমুদুল হকের স্বভাবজাত ইঙ্গিতময় ভাষা এটিকে বড়োদের জন্যও সুখপাঠ্য করে তুলেছে। জঙ্গলের সৌন্দর্যে মামা তার কবিভাবের বর্ণনা তুলে ধরে এইভাবে: ‘ভাবের মতো ভাব এক একটা, কোনটা হাতির মতো শুঁড়অলা, কোনটা বা চিতাবাঘের মতো গায়ে টিকে তোলা।...এক একটা ভাব চড়ুই পাখির মতো ফুড়ুৎ ফুড়ুৎ করে মগজের ভেন্টিলেটরে আসছিল আর খড়কুটো দিয়ে বাসা বাঁধছিল। কয়েকটা ভাব পালকের মতো হালকা, কিন্তু শিশির-বিন্দুর মতো স্বচ্ছ।’ একইভাবে টিয়া দেখে টুপু বলে: ‘রঙের এমন শোভা আগে আর কখনো দেখিনি মামা। ওদের গায়ের রঙ আবছা খয়েরি, মাঝে মাঝে শাদা বুটি, বাতাসের ভেতর যেন হাজার হাজার হরিণ খেলছে!’
এমন সব উপমার এখানেই শেষ নয়। টুপুর টানা নিঃশ্বাস সম্পর্কে মামা বলে: ‘ওর নিশ্বাস যেন নবাবপুরের লম্বা রাস্তা, যার দু’পাশে সারি সারি ঝাঁপখোলা দোকান, নানান ধরনের পণ্য, কেনাবেচা।’ পাহাড়ের বর্ণনা শুরু করে মামা এই বলে: ‘পাহাড়গুলো কাঁটা খাড়া করা সজারুর মতো, সারাগায়ে ঠাসাঠাসি গাছ আর গাছ।’
মাহমুদুল হক বাংলাদেশের অন্যতম বলিষ্ঠ কথাসাহিত্যিক। যারা শুধু সাহিত্যপ্রেমীদের মনোরঞ্জনের জন্য লিখে গেছেন তাঁদের দলে তিনি নন। তাঁর সব লেখায় গভীর একটা খাদ থাকে বেদনা ও বোধ থেকে সেই খাদ খনন করা। শিশু-কিশোরদের জন্য ‘চিক্কোর কাবুক’ শীর্ষক অ্যাডভেঞ্চার উপন্যাসটি লিখলেও আনন্দদানের পাশাপাশি তাঁর অন্যতম উদ্দেশ্য ছিল শিশুদের ভাষা ও বোধ তৈরি করা। টুপুর শব্দের ছন্দ দিয়ে রঙ নির্ণয় করার কৌশল। মামার গাছের শিকড় সংগ্রহ করার আজব শখ। সেই সঙ্গে মাহমুদুল হকের শেষঅবধি স্বভাবজাত কাব্যিক ভাষা ও উপমার পা-িত্য দেখে তাই মনে হয়। পড়তে পড়তে মনে হয়, আমরা পাঠকরাও যেন বাচ্চাদের মতো কাঁধে পানির বোতল ঝুলিয়ে আস্তে আস্তে বইটির ভেতরে প্রবেশ করছি মাহমুদুল হকের পাঠশালায় পড়তে যাচ্ছি যে!
Profile Image for Emtiaj.
237 reviews86 followers
January 30, 2015
শব্দের রঙ ব্যাপারটা আমার দারুন লাগলো। সব শব্দের কি আলাদা আলাদা রঙ আছে? 'ভালোবাসা' এই শব্দটার রঙ কি? নিউরণে অনুরণন ঘটাতে হবে।
Profile Image for Sanowar Hossain.
282 reviews25 followers
April 25, 2023
নান্দনিক ভাষা ও শব্দের কারুকাজের মাধ্যমে মাহমুদুল হক আমাদের বেশ কিছু অসাধারণ উপন্যাস উপহার দিয়েছেন। 'চিক্কোর কাবুক' তাঁর লেখা কিশোর উপন্যাস।

বাড়ির বড় ছেলে টুপু। একা একা গুম মেরে থাকে সবসময়। কারো সাথে তেমন একটা মেশেনা। শব্দের রং নিয়ে খেলা করে সে। যেকোনো শব্দের রং নির্ণয় করতে পারে টুপু। তার এই অন্তর্মুখী আচরণের কারণে সবাই তার পেছনে লেগে থাকে। এই নিয়ে তেমন একটা রা কাড়েনা সে। একদিন টুপুর মামা গল্পকথক ওদের বাড়িতে বেড়াতে আসে। টুপুর এই একঘেয়েমি জীবন থেকে বিরতি নেওয়ার জন্য পাহাড়ি অঞ্চলে বেড়াতে যাওয়ার প্রস্তাব দেয় টুপুর মামা। সানন্দে রাজি হয় টুপু। বেড়িয়ে পড়ে এডভেঞ্চারের নেশায়।

পিঠের মধ্যে ব্যাগ ঝুলিয়ে খাগড়াছড়ি থেকে উত্তর-পূর্ব দিকে যাত্রা শুরু করে মামা-ভাগ্নে। উদ্দেশ্য দীঘিনালা হয়ে মধ্য ধানপাতা যাওয়া। পাহাড়ি বনের মধ্য দিয়ে পথ। মানুষজনের চলাচল তেমন একটা নেই। পথ চলতে চলতে তাদের সাথে দেখা হয় মারমা যুবক কোলাইঙ এর সাথে। যুবকটির সাথেই তার বাড়িতে রাত্রিযাপন করে তারা। সেখানেই জানতে পারে চিক্কোর কথা। চিক্কোকে পাহাড়ের সন্ত্রাসী দল ধরে নিয়ে গিয়েছে। কারণ সে সৈন্যদের পথ দেখিয়ে সন্ত্রাসীদের গোপন আস্তানার খোঁজ দিয়েছিল। সকাল হলে পুনরায় যাত্রা করে তারা এবং টুপুর মনে হয় কেউ তাদের পিছু নিয়েছে। তাহলে কি টুপুরাও পড়বে সন্ত্রাসীদের খপ্পরে? তাদের এত সাধের এডভেঞ্চারে কি আরো বেশি রোমাঞ্চ অপেক্ষা করছে?

এক বসায় পড়ার মতো বই। বইটির বিশেষত্ব হলো গুণী লেখক মাহমুদুল হকের প্রকৃতির বর্ননা। এত সুন্দর করে পাহাড়ে ভ্রমণের বর্ননা দেওয়া হয়েছে; যে কারো তখনই ঐ অঞ্চলে ঘুরতে যাওয়ার ইচ্ছা হবে। তবে বইটার কাহিনি অনেক দ্রুত এগিয়েছে, যার কারণে কিছুটা অসন্তুষ্টি রয়েছে। এমনিতে সব ঠিকঠাক। হ্যাপি রিডিং।
Profile Image for Daina Chakma.
440 reviews775 followers
August 17, 2023
'বাংলাদেশ, বল দেখি ছোকরা এর রং?'
ট��পু বললে, 'সবুজ!'
আমি বললাম, 'গুলতাপ্পি মারা হচ্ছে?'
ও দাঁত দিয়ে কুটকুট করে নখ কাটতে কাটতে বললে, 'আচ্ছা আবার বলো তো!'
বললাম, 'বাংলাদেশ বাংলাদেশ।'
ও বিজ্ঞের মতো হেঁড়ে মাথাটি নেড়ে বললে, 'বাংলাদেশ সবুজ। আর যদি একসঙ্গে পরপর দুবার উচ্চারণ করো তবে তার রং লাল।'


শব্দ শুনে রং দেখার ব্যাপারটা আর কই যেনো পড়েছিলাম মনে পড়ছে না। শব্দ শুনে রং দেখে টুপু। সবাই বলে ওর মাথায় ছিট আছে। মামার সাথে একদিন পিঠে ন্যাপস্যাক এঁটে পাহাড়ঘেরা অরণ্যভূমির উদ্দেশ্যে এডভেঞ্চারে বেরিয়ে পরে সে। মামার কথায় সেই রুদ্ধশ্বাসকর গপ্পো শুনিয়ে দিলেন মাহমুদুল হক। চমৎকার তার বর্ণনাভঙ্গি!
Profile Image for প্রিয়াক্ষী ঘোষ.
364 reviews34 followers
November 15, 2021
টুপু ছেলেটি কারো সাথেই মেশে না, একা একাই থাকে, সবার থেকে সে একটু আলাদা রকম। কেউ কেউ আবার তার মাথায় সিট আছে মনে করে। তবে সে একটু ভিন্ন ধাতের, কল্পনাপ্রবণ, চোখে দেখতে পায় শব্দের রঙ। তার মামার স্বভাবও কিছুটা তার মত তাই মামার সাথে টুপুর তাই কোন সংকোচ নাই।


একদিন হুট করে এক বিদঘুটে শখে মামার সঙ্গে বেরিয়ে পড়েছে পাহাড়ঘেরা অরণ্যভূমির উদ্দেশ্যে। কাঁধে ব্যাগ আর পানির বোতল ঝুলিয়ে তারা এগিয়ে চললো প্রকৃতির পাঠশালায়।

যাত্রার প্রথমটা ভালোই ছিলো কিন্তু পরে গিয়ে জড়িয়ে পড়লো শ্বাসরুদ্ধকর নান ঘটনায়। এই ঘটনার সাথে যুক্ত হলো চিক্কো ও কুশল।


চিক্কোর কাবুক লেখক মাহমুদুল হকের একটি অ্যাডভেঞ্চার কাহিনী, এর পরতে পরতে ছড়িয়ে আছে পাহাড়, অরণ্য ও প্রকৃতির কথা।এ সব কিছু মিলে মিশে কাহিনিকে একটা চমৎকার বিশেষত্ব দিয়েছে। গভীর কোন কাহিনি নয় তবে অসাধারণ এক গল্প শোনালেন লেখক।
Profile Image for Promi.
9 reviews11 followers
October 9, 2025
এইযে এই ছোট্ট বইটা শেষ করে এখন আরাম আরাম একটা অনুভূতি নিয়ে লিখতে বসলাম। "চিক্কোর কাবুক" যেটা আগে পরিচিত ছিল "চিক্কোর ও কুশলের মরণ কাবুক" নামে লেখকের একমাত্র শিশুসাহিত্য। লেখকের লেখার ভাষা বর্ণণাভঙ্গী, বিষয়বস্তু  আগাগোড়াই বড়দের জন্য। অনুর পাঠশালা বইয়েও যেমন শিশু চরিত্র থাকলেও উপন্যাস হিসেবে সেটা শিশুতোষ নয়। তবে "চিক্কোর কাবুক" লেখার মাধ্যমে লেখক শিশু-কিশোরদেরও তার লেখার স্বাদ থেকে বঞ্চিত করেননি। 

বইয়ের শেষ কয়েক পৃষ্ঠা বাদ দিলে প্রধান চরিত্র হলো টুপু ও তার মামা। সবাই ভাবে টুপু হাপ্পাগলা, মাথায় ছিট আছে। এ নিয়ে কম হেপা তার পোহাতে হয়নি। আর গল্পকথক মামা, সেও টুপুর মতই। তবে টুপু একটু ভিন্ন ধাতের, শব্দদের রং দেখতে পায়। গুগল মামাকে জিজ্ঞেস করে দেখলাম  কোনো শব্দ শুনে রঙ দেখতে পাওয়ার ঘটনাকে নিউরোসাইন্সের ভাষায় নাকি সিনেস্থেসিয়া বলে, যদিও এটা কোনো রোগ নয়। এই শব্দ শুনে রঙ দেখার জিনিসটা এত ভালো লাগল আমার। টুপুর মামাও তো কম না, তার আছে এক রেয়ার হবি। নানান গাছের শেকড় সংগ্রহ করার হবি। এরপর মামা-ভাগ্নে মিলে খাগড়াছড়ি বেড়াতে যাওয়ার পর আমরা গল্পের ২য় নায়ক চিক্কোকে দেখতে পাই। নামখানা বড়ই অদ্ভুত। সে যাই হোক, খাগড়াছড়ি গিয়ে দুই মানিক-রতন কি করে তা আপনারা পড়ে নিয়েন।

আমরা বই পড়ি গল্পের জন্য। তাই বইয়ের মধ্য গল্প কথকের এক বিরাট বড় ভূমিকা থাকে যেটাকে হেলাছেদ্দা করা যায় না। তো লেখক টুপুর মামাকে দিয়ে সেই গল্পকথকের দায়িত্বটা ঠিকভাবেই পালন করিয়েছেন। মামার সেন্স অভ হিউমার প্রশংসার দাবিদার। আমি বরাবরই কিশোর অ্যাডভেঞ্চার বইয়ের ভক্ত। আমার মাঝেমধ্য সন্দেহ হয় যে আশি বছরের থুরথুরে বুড়ি হয়ে গেলেও এই জনরা আমার অতিপ্রিয়ই থাকবে। তাই এই বইখানাও আমার ভালোই লেগেছে কিন্তু শেষটা অনেকটা তাড়াহুড়ো হয়ে গেছে বলে মনে হলো। তবে বইয়ের শুরুটা একদম জমজমাট। মাহমুদুল হকের বই নিয়ে লিখব আর তার শব্দের বুনন, লেখার বর্ণনাভঙ্গি নিয়ে কিছু বলব না? তা হবে না, তা হবে না। বরাবরের মত এই বইও রয়েছে শব্দের বুনন আর উপমার খেলা। তবে শিশু-কিশোর সাহিত্য তাই হয়ত অন্যান্য বইয়ের তুলনায় এই বইয়ে লেখা উপমা, বাচনভঙ্গী সহজ ছিল।
Displaying 1 - 12 of 12 reviews

Can't find what you're looking for?

Get help and learn more about the design.