কমপক্ষে তিরিশ লক্ষ মানুষ সেদিন প্রাণ হারিয়েছিলেন বাংলার গাঁয়ে গঞ্জে শহরে। না খেয়ে, এবং মহামারীতে। 'গ্রাম উঠে গিয়েছে শহরে—/ শূন্য ঘর, শূন্য গোলা,/ ধানবোনা জমি আছে পড়ে।' শহরের পথে পথে গাঁয়ের নিরন্ন মানুষের ভিড়। কঙ্কালের মিছিল। বাঙালির বিদ্ধ হৃদয় সেদিন অশ্রুপাত করেছিল একদিকে যদি গল্পে উপন্যাসে কবিতায়, অন্যদিকে তবে চিত্রকলায়। এর আগে কখনো বাংলার শিল্পীদের এভাবে একসঙ্গে সামাজিক দায় গ্রহণ করতে দেখা যায়নি। তেরোশো পঞ্চাশের আগে তো নয়ই, পরেও বোধহয় নয়। সেই হাহাকার মথিত দিনগুলোর কথা স্মরণ করিয়ে দিতেই এই চিত্র সঙ্কলন। শব সাধনা নয়, স্বতঃস্ফূর্তভাবে আঁকা এই সব ছবি এক অর্থে জীবনেরই সাধনা। বুভুক্ষু নারী পুরুষ শিশু অবহেলা অনাদর আর বঞ্চনার বিরুদ্ধে জীবনের দাবী নিয়েই শিল্পীদের সামনে হাজির সেদিন। সমাজের সামনেও।
শ্রীপান্থের জন্ম ১৯৩২ সালে, ময়মনসিংহের গৌরীপুরে | লেখাপড়া ময়মনসিংহ এবং কলকাতায় | শ্রীপান্থ তরুণ বয়স থেকেই পেশায় সাংবাদিক | আনন্দবাজার পত্রিকার সম্পাদকীয় বিভাগের সঙ্গে যুক্ত | সাংবাদিকতার পাশাপাশি দীর্ঘদিন ধরেই গবেষণামূলক রচনাদি লিখে যাচ্ছেন তিনি | তাঁর চর্চার বিষয় সামাজিক ইতিহাস | বিশেষত কলকাতার সমাজ ও সংকৃতি | তিনি সতীদাহ,দেবদাসী,ঠগী,হারেম-ইত্যাদি বিষয় নিয়ে যেমন লিখেছেন, তেমনিই কলকাতার পটভূমিতে লিখেছেন একাধিক রচনা | তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য: আজব নগরী, শ্রীপান্থেরকলকতা, যখন ছাপাখানা এল, এলোকেশী মোহন্ত সম্বাদ, কেয়াবাৎ মেয়ে, মেটিয়াবুরুজের নবাব, দায় ইত্যাদি | বটতলা তাঁর সর্বশেষ বই | কলকাতার শিল্পী সংস্কৃতি বিষয়ে তাঁর বেশি কিছু প্রবন্ধ ইংরেজিতেও প্রকাশিত হয়েছে | বাংলা মুলুকে প্রথম ধাতব হরফে ছাপা বই হালেদের 'আ গ্রামার অব দ্য বেঙ্গল ল্যাঙ্গোয়েজ'-এর দীর্ঘ ভূমিকা তার মধ্যে অন্যতম | পঞ্চাশের মন্বন্তরের দিনগুলোতে বাংলার শিল্পী সাহিত্যিক কবিদের মধ্যে নব সৃষ্টির যে অভুতপূর্ব বিস্ফোরণ ঘটে তা নিয়ে লেখা তাঁর 'দায়'বইটির ইংরেজিতে অনুবাদ প্রকাশিত হতে চলেছে |