লেখক কি ভাববেন কি ভাববেন না জানি না কিন্তু আমি নির্দ্বিধায় বলতে পারি ' ম্যাও ' এর চেয়েও তার লেখার মুন্সিয়ানা এখানে বেশি প্রকাশ পেয়েছে।
অত্যন্ত সাহসী লেখা। অত্যন্ত প্রয়োজনীয় লেখা আজকের দিনে দাঁড়িয়ে। যেই চরিত্র রা আগে ছিল তাদের চরিত্রের বিকাশ খুবই সুন্দর আর নতুন চরিত্র দের চরিত্রায়ন ও খুবই সুন্দর। লেখক এর আগের উপন্যাস ও এই উপন্যাস দুটোই পড়ার সময় আমি খুব একটা break নিয়ে পড়তে পারিনি কারণ গল্পের বুনট এতই সুন্দর। রহস্য উদঘাটন করতে গিয়ে যেই ভাবে আমাদের গোয়েন্দা আবার নতুন জট এ জড়িয়ে যান সেই প্রতিটা পদক্ষেপ এর লেখা য় ভাষার ব্যবহার অতুলনীয়। এবং আগের উপন্যাস শেষ এ রহস্য উদঘাটনে এর সময়ে লেখাটা আমার একটু খটকা লেগেছিল কিন্তু এটা ই আমি তা একটুও অনুভব করিনি। খুব সুন্দর সময় কাটালাম এই বই এর সাথে এবং আবার ও স্বয়ম্ভু সেন এর পরবর্তী adventure এর অপেক্ষায় রইলাম।
পুনশ্চ: এখনও নতুন লেখক দের লেখা পড়তে ভয় ই লাগে কারণ সময়ের বড় অভাব খারাপ কিছু পড়লে বা দেখলে মনে হয় refund চাই:) কিন্তু এই ভাবে নতুন লেখক রা যদি অসাধারণ কাজ করতে থাকে আশা করছি ভয় টা শীঘ্রই কাটিয়ে উঠতে পারব ।
দাপুটে বিধায়কের মেয়ে কথাকলি উধাও হয়েছে। চারদিকে খোঁজাখুঁজি, এমনকি এই সুযোগে বিরোধীদের কিঞ্চিৎ দোষারোপ— এমনটাই হবে বলে ভেবেছিল সবাই। কিন্তু গোলমাল হয়ে গেল কেসটা স্বয়ম্ভু আর তার টিম, বিশেষত শিবাঙ্গীর কাছে যেতেই। স্বয়ম্ভু কোনো সুপারকপ নয়। তবে তার মধ্যে একটা মারাত্মক লেগে থাকার ব্যাপার আছে। আর সেই বাংলা 'রোগ'-টাই তাকে ওপরতলার বিধি-নিষেধ, হুমকি, তার ওপর আরোপিত বদনাম, শিবাঙ্গীকে ধর্ষণের চেষ্টা সবকিছু ছাপিয়ে ইংরেজি 'রোগ' করে তুলল। অতঃপর চলল খোঁড়াখুঁড়ি। ক্রমে কেঁচো তো দূরের কথা, কেউটে ছাড়িয়ে সাক্ষাৎ অজগর দেখা দিতে লাগল। কিন্তু রাজনীতি আর দুর্নীতির এই ভয়াবহ চক্রব্যূহে ঢুকে পড়া স্বয়ম্ভু, শিবাঙ্গী আর অন্যরা কি সত্যিকারের অপরাধীকে ধরতে পারবে? সন্ধান কি পাওয়া যাবে কথাকলির? হে অভিষেক চট্টোপাধ্যায়, মুখ বুঝে প্রতিদিন অন্যায় দেখে চলা প্রতিটি বাঙালি, বিশেষত প্রতিটি মেয়ের বাপের পক্ষ থেকে আপনি আমার আভূমি প্রণাম গ্রহণ করুন। এই রুদ্ধশ্বাস রহস্যকাহিনিটি যে কখন "তারপর কী হল" প্রশ্ন থেকে "অন্তত এই একবার ন্যায়ের দণ্ড নেমে আসুক এই অনুসন্ধানের মধ্য দিয়ে" আকুতি হয়ে উঠেছিল, তা টেরই পাইনি। বিষয়, চরিত্রচিত্রণ, তাতে প্রদর্শিত গভীর ও ঘনকৃষ্ণ অন্ধকার, সংলাপের পাল্পি ধরন, ঘটনার গতি, শুদ্ধ ও ঝকঝকে মুদ্রণ, ভেতরে একগুচ্ছ গতিময় অলংকরণ— সব মিলিয়ে এই বইটিকে পাঁচ তারার থেকে কোনোমতেই কম কিছু দেওয়া যাচ্ছে না। স্বয়ম্ভু সেনের পরবর্তী কাহিনির লাগি একেবারে উৎকণ্ঠ অপেক্ষিয়া রহিলাম। লেখক ও প্রকাশকের জন্যও রইল টন-টন শুভেচ্ছা।
স্থানীয় নেতার মেয়ে কথাকলি বন্ধুর জন্মদিনের পার্টিতে গিয়ে উধাও হয়ে গেছে - এই মর্মে পুলিশে নিখোঁজ ডায়রি করা হয়। পুলিশের গোয়েন্দা স্বয়ম্ভু সেন ও তাঁর সহযোগিনী শিবাঙ্গী বসু তদন্ত শুরু করেন এবং কেঁচো খুঁড়তে কেউটের মত অপরাধের এক বিশাল চক্রের জালে জড়িয়ে পড়েন। পেঁয়াজের খোসা ছড়ানোর মত এরপর ঘটনার ঘনঘটা চলতে থাকে। শেষে কি কথাকলিকে খুঁজে পাওয়া যায়? অপরাধ চক্রের সাথে তার নিরুদ্দেশের কি যোগাযোগ ছিল? এই সমস্ত কিছু নিয়েই এই রহস্য উপন্যাস।
লেখক অভিষেক চট্টোপাধ্যায়ের সৃষ্ট চরিত্র স্বয়ম্ভু সেনের " ম্যাও" - তেও যথেষ্ট জটিল রহস্যের জল বোনা ছিল। সেই তুলনায় এই গল্প অনেকটা সরল। কিন্তু তাও গল্পের বুনোট, সাবলীল ভাষা, পরিমিত ও যথাযোগ্য বর্ণনার সাথে আনুষঙ্গিক ও প্রয়োজন মাফিক চরিত্রদের ব্যক্তিগত জীবন গল্পের গতি ধরে রাখে। লেখকের মুন্সিয়ানা যে বই পড়তে কোথাও একঘেয়েমি আসেনা। পাঠককে বোকা ভেবে বা বইয়ের দৈর্ঘ্য বৃদ্ধির জন্য অকারণে কোনো অতিরিক্ত তথ্য যোগ না করার জন্য লেখককে পৃথকভাবে সাধুবাদ দিতে হয়। রহস্য বজায় থেকেছে শেষ অবধি। যাবতীয় সংলাপও অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক ও নিজ ছন্দে এগিয়েছে। প্রচ্ছদ ও বইয়ের অলংকরণও যথাযোগ্য। খুব সামান্য প্রিন্টিং ভুল ছাড়া অন্য সেরকম কিছু নজরে পড়েনি। এর জন্য প্রকাশনার অবশ্য প্রশংসা প্রাপ্য। আশা রাখি আগামী দিনে স্বয়ম্ভু সেন তাঁর দলবল নিয়ে আরও জটিল রহস্যের সমাধান করবেন। পরবর্তী বইয়ের জন্য রইল শুভেচ্ছা ।
In your house, I long to be Room by room, patiently I'll wait for you there Like a stone I'll wait for you there Alone (Chris Cornell) ✌️ for কস্তুরী
ঠিক রাত ৯.৪৫ এ চা আর চিরেভাজা নিয়ে বইটা নিয়ে বসি, তারপর রাত ১১.৩০ এ ভাত খেলাম তারপর আবার বসলাম , এখন সকাল ৭.৩২ বাজে পুরো বই শেষ করে এই নিজের পাঠ অনুভূতি লিখতে বসলাম ।। কি লিখব সেটা লিখতে লিখতে ভাববো তার আগে যেটা মাথায় আসছে সেটা সবার আগে লিখি ।।
১) *বাড়াবাড়ি রকমের ভালো লেখা* ২)চালের মধ্যে চিনি ,গম , মিশিয়ে কেউ যদি অন্ধকার ঘরে বাঁচতে বলে কি রকম লাগবে বুঝতেই পারছেন।। ৩)কে মাথার দিব্যি দিয়েছিল "ম্যাও" কেউ ছাপিয়ে যেতে ?? ৪) কি সিনেমাটাই না দেখালে "গুরু" 🤘🙏 ৫) জন্টি রোডস ভালো ফিল্ডিং করতেন ও তার সাথে পাল্লা দিয়ে সেই রকম অব্যর্থ লক্ষ্যভেদে রান আউট করতেন দুটো বিষয় একসাথে ভাবলে কিন্তু ভুল ।। প্রথমটা ভালো বডি কন্ডিশনিং আর দ্বিতীয়টা ভালো হ্যান্ড আই কো-অর্ডিংশনের চূড়ান্ত লেভেলের উধাহরন ।। (যারা বইটি পড়েছেন বা আগামী দিনে পড়বে তারা আশা করি বুঝতে পারবেন কেন এটা লিখলাম )
আসল কথায় আসি -----
✴️এ.ম.লের একমাত্র মেয়ে কথাকলি হঠাৎ নিখোঁজ হওয়ায় নিজের ক্ষমতা স্টেটাস আর রাজনৈতিক মাইলেজ নিতেই , এক প্রকার নিজে থেকেই তিনি ওপর মহলে যোগাযোগ করে এই নিখোঁজ তদন্তের জন্য লাল বাজার থেকে নিয়োগ করালেন "ম্যাও" কেসে সারা ফেলে দেওয়া গোয়েন্দা স্বয়ম্ভু সেন ও তার সহযোগী " শিবাঙ্গীকে।। এদিকে তদন্তে নেমেই উঠে আসতে থাকে পুরোনো কিছু গোপন রহস্যের ধূলীকৃত মাকড়শার জাল ,যা চোখে দেখা গেলেও রাজনৈতিক বেরাজলের কবলে পড়ে তা পরিষ্কার করা প্রায় কঠিন।। নিখোঁজ রহস্যের কিনারা করতে গিয়ে প্রতি পদে তদন্তের দিক এমন একটি দিকে ঘুরে যাচ্ছে যা আদতে সারা কলকাতা জুড়ে আলোড়ন ফেলে দেবে। যার ফলে সরকার পক্ষ হোক কি প্রশাসনিক ভবনের উচ্চপদস্থ অফিসার সবারই প্রণবায়ুতে ঘাটতি এনে দিতে পারে। কথাকলির নিখোঁজ হয়ে যাওয়াটা কি সেরফ একটি ভিন্ন ঘটনা ! নাকি বিরোধী পক্ষের কোনো চক্রান্ত ? নাকি এর পেছনে আছে এমন অনেক কাহিনী যার কুল কিনারা করা আদতে সম্ভব হলেও এতটাই কঠিন যেখানে স্বয়ং গোয়েন্দার ব্যক্তিগত জীবন ও ঘেঁটে যেতে পারে।।
✴️পাঠ প্রতিক্রিয়া - "ম্যাও" বইটি যখন বের হয় যদি ভুল না করি আমি হয়তো প্রথম ৫০ জনের মধ্যে একজন ছিলাম যে কিনা বইটি কিনেছিলাম , বইটির নাম এত অদ্ভুত ছিল বলেই কিনেছিলাম ,কিন্তু একবারের জন্যেও ভাবিনি যে এরকম অদ্ভুত ঘটনার সাক্ষী হব ।। প্রত্যেক থ্রি��ার বা রহস্য গল্পের একটা নিজস্বতা থাকে যেখানে ভালো পাঠক আগে থেকেই কিছুটা বুঝতে পারে , স্টোরিতে থ্রিলিং এলিমেন্ট গুলো কখন আসতে চলেছে বা শেষে গিয়ে ক্রাইম সংক্রান্ত কতটা বীভৎসতা সে দেখতে পারবে বা ধরা যাক ক্লাইম্যাক্স এ সে কি চমক পাবে ।। আমি হলপ করে বলতে পারি যারা "ম্যাও" পড়েছেন তাদের কাছে বিষয়টা ছিল অনেকটা কমপ্লিট রোলারকোস্টার রাইডের মত।। যেখানে লেখক নিজের পারদর্শিতার একটা থ্রিলিং টাচ দিয়েও হালকা চালে এড়িয়ে গিয়ে পড়ে আরও তীব্র ভাবে খোঁচা দিয়ে ঘাড়ের রোয়া দাড় করিয়ে হাসতে হাসতে দেখিয়েছেন "ওরে এতো সবে শুরু" আগে আগে দেখিয়ে হোতা হ্যাঁ কিয়া ! সেই আশা নিয়েই বই মেলা থেকে একবারে লুফে নিয়েছিলাম স্বয়ম্ভু সেনের দ্বিতীয় রহস্য কাহিনী "কথাকলি কোথায়"? বইটি পড়ে এইটুকু বলতে পারি "ম্যাও" কেও ছাপিয়ে গেছে , কি কাহিনীতে হোক কি তদন্তে কি কি চরিত্রগত সংলাপে,,, ক্লাইম্যাক্স নিয়ে জাস্ট কিছু বলব না যারা পড়বেন তাদের জন্যে "awww" ফ্যাক্টরটা তোলা থাক ।। আমার মত অনেকেরই মনে হতে পারে আরে রহস্য উদ্ঘাটনের সব কিছুই চোখে সামনে অথচ এত কেন ঘোরপ্যাচ বাবু "সাত কাণ্ড রামায়ন পরে সীতা কার মাসী" কিন্তু এটাই আসল বিষয় লেখক রহস্যের মোড়কে থ্রিলের বাতাসা ছড়িয়েছেন "নে এবার লুটে খা তোরা"
আর একটা সব থেকে বড় বিষয় যেটা চোখে পড়ে সব থেকে বেশি খুশি হয়েছে
*** বইয়ের ভূমিকায় লেখক যা লিখেছেন তার জন্যে স্যালুট *** *কত কিছুই তো ঘটে সবার মরমে লাগলেও সবাই পারে না নিজের মতো করে নিজের বইতে লিখে পাঠকদের বাস্তব পরিস্থিতি আর মানষিকতার পরিচয় দিতে।। যাদের মানদণ্ড বানিয়ে এই ঘোড়ার দৌড় তারা আদতে সেই মানদণ্ডের মান রাখছেন কি বাস্তবের পৃথিবীতে এই সন্দেহ প্রকাশ টুকু করছেন দেখে ভালো লাগলো।।
এরকম কাহিনী পড়ার পর একটু সময় লাগবে আবার বইতে ফিরতে , Its a complete package of holesome meal ...
লেখককে ধন্যবাদ এরকম একটা সুন্দর কাহিনী আবার পাঠকদের উপহার দেওয়ার জন্যে , আমি ব্যক্তিগত ভাবে অনেককেই চিনি যারা আগের বইটি এখনো পড়ে শেষ করতে পারে নি অনেকে এখনো কিনছে আশা তারা পরবর্তী কালে "কথাকলিকেও" সাদরে ঘরে তুলবে ।।।
রেটিং - ডিসকাউন্ট + অরিজিন্যাল প্রাইস। 🙏⭐ If you know you know 🤘
🔹 নাম – কথাকলি কোথায় 🔹 লেখক – Avishek Chattopadhyay 🔹 দাম – ৪৫০ টাকা 🔹 প্রকাশক – Book Look
পড়ে শেষ করলাম এই বইটা। সংক্ষেপে বললে— স্বয়ম্ভু সেনের প্রত্যাবর্তন, আর সেটাকে ঘিরে একটা দুর্দান্ত গোয়েন্দা গল্প। 🕵️♂️📖 এই বইটা আমাদের সত্যিই দারুণ লেগেছে!! কেন লেগেছে, সেটাই এবার একটু বিস্তারিতভাবে বলছি।
গত বছর বইমেলা থেকে কিনে প্রায় সঙ্গে সঙ্গেই পড়ে ফেলা বই এটা। কারণ একটাই—এর আগে পড়েছিলাম স্বয়ম্ভু সেনের আগের কাহিনি ‘ম্যাও’, যেটা অসম্ভব ভালো লেগেছিল। তাই স্বাভাবিকভাবেই এই বইটা নিয়ে প্রত্যাশা ছিল অনেক। আর নিঃসন্দেহে বলা যায়, স্বয়ম্ভু সেন ফিরেছেন আরও একটা শক্তপোক্ত গল্প নিয়েই।
যাঁরা গোয়েন্দা গল্প পড়তে ভালোবাসেন, আর গল্পের সঙ্গে সঙ্গে নিজেও ভাবতে পছন্দ করেন—তাঁদের জন্য এই বইটা ভীষণ উপভোগ্য।
এবার বলি, বইটার কোন কোন দিক ভালো লেগেছে, আর কোথায় মনে হয়েছে আর একটু ভালো করা যেত 👇
📌 ১. গল্প 🧩 আগের গল্পের মতোই এখানে একসাথে বেশ কয়েকটা ঘটনাপ্রবাহ চলতে থাকে। এবার স্বয়ম্ভু সেন আর তার সহযোগী শিবাঙ্গীর মুখোমুখি হতে হয় এক রাজনৈতিক দলের নেতার।
যেটা খুব ভালো লেগেছে, তা হলো—লেখক রাজনৈতিক ক্ষমতার কদর্য দিকটা একদম স্পষ্টভাবে তুলে ধরেছেন। আমাদের দেশের কিছু নেতা নিজের স্বার্থ রক্ষার জন্য কতটা নিচে নামতে পারেন, আর তার প্রভাব তদন্তকারী অফিসারদের ব্যক্তিগত ও পেশাগত জীবনে কীভাবে চূড়ান্ত বিপর্যয় ডেকে আনে—সেটা খুব বাস্তবভাবে দেখানো হয়েছে।
রহস্য ধীরে ধীরে খুলতে থাকে, ঠিক আগের বইটার মতোই। ফলে পাঠক নিজেও মাথা খাটানোর সুযোগ পান। কী হলো, কেন হলো, কিভাবে হলো, আর কে করলো—এই ভাবতে ভাবতেই বইটা হাতে নিয়ে আর ছাড়া যায় না।
এই জায়গাটাই এই ধরনের লেখার সবচেয়ে বড় শক্তি—পাঠক নিজেই গল্পের একজন গোয়েন্দা হয়ে ওঠেন।
📌 ২. পাতার কোয়ালিটি ও ছাপা 📄 আমার কাছে বইয়ের পাতার মান আর ছাপার কোয়ালিটি খুব গুরুত্বপূর্ণ। বই কিনে যখন দীর্ঘদিন নিজের কাছে রাখবো, তখন পাতলা কাগজ বা খারাপ ছাপা একদমই চলেনা।
এই দিক থেকে নিশ্চিন্তে বলা যায়—এই বইটা খুব ভালো মানের মোটা পাতায় সুন্দরভাবে ছাপা হয়েছে।
সংগ্রহে রাখার মতো বই। যারা আগের বইটা পড়েছেন, তাঁদের কাছেও পাতার মান ও ছাপার দিক থেকে এই বইটা একইরকম ভালো লাগবে।
📌 ৩. মেকিং ও ইলাস্ট্রেশন 🎨 এই জায়গায় সত্যিই Book Look বাজিমাত করেছে। কেন, সেটা পয়েন্ট করে বলছি—
1️⃣ প্রচ্ছদ – চোখে পড়ার মতো সুন্দর ও আকর্ষণীয়। সবুজ, কালো আর লাল রঙের ব্যবহারটা অসাধারণ। এত সুন্দর রঙের কম্বিনেশন খুব কম বইতেই দেখা যায়।
2️⃣ ইলাস্ট্রেশন – মানসম্মত হলেও সংখ্যা কম। তবে এটা আমি ইগনোর করেছি। কারণ লেখার শুরুতেই লেখক বলেছেন, এই বই লিখতে তাঁর দেরি হয়েছিল বঙ্গ রাজনীতির উত্তাল পরিস্থিতির জন্য, বিশেষ করে অভয়ার বিচার না পাওয়ার প্রেক্ষিতে।
3️⃣ Exclusive Bookmark – বইটার সঙ্গে একটা এক্সক্লুসিভ বুকমার্ক পাওয়া গেছে। হয়তো খুব ছোট ব্যাপার, বাড়িতে অনেক বুকমার্ক থাকেই—তবুও পাঠকদের এভাবে ছোট ছোট জিনিস দিয়ে pamper করার বিষয়টা সত্যিই ভালো লাগে। ❤️
📝 শেষ কথা সব মিলিয়ে, এটা আমার পড়া সেরা গোয়েন্দা গল্পগুলোর মধ্যে একটা, ঠিক আগের বইটার মতোই। পরপর দুটো ভালো বই পড়তে পারার জন্য এই সিরিজের পরের গল্প নিয়ে আমরা এখন ভীষণ excited। আর সেটা কিনছি—এই বইমেলাতেই!! 📚✨
🔹গতবছর যখন ম্যাও পড়েছিলাম তখন থেকেই স্বয়ম্ভু সেন এর ফ্যান হয়ে গিয়েছিলাম। অপেক্ষায় ছিলাম স্বয়ম্ভু-শিবাঙ্গী জুটির পরবর্তী অভিযান এর । এই বইমেলা থেকে সংগ্রহ করে অবশেষে পড়ে শেষ করলাম অভিষেক চট্টোপাধ্যায় এর লেখা স্বয়ম্ভু সেন এর দ্বিতীয় রহস্য কাহিনী “কথাকলি কোথায়?“
🔹MLA সোমেন সরকার এর মেয়ে কথাকলি নিখোঁজ, সেই নিয়েই এই তদন্ত কাহিনী । কথাকলি কে খুঁজে বার করার দায়িত্ব আসে গোয়েন্দা স্বয়ম্ভু সেন এর কাছে । সেই তদন্ত করতে গিয়ে কেঁচো খুড়তে গিয়ে একেবারে কালসাপ বেরিয়ে আসে । যে MLA কিনা নিজে নারীপাচার এ যুক্ত ছিল তারই মেয়ে নিখোঁজ! এই কথাকলি কে খোঁজা ও পিঁয়াজের খোলার মতো এক একটা রহস্যের উন্মোচন নিয়ে এই তদন্ত কাহিনী। এই গল্পে লেখক রহস্যের জাল অনেক ভালো বুনেছেন আগের গল্প ম্যাও এর থেকেও । রহস্যের বুনন পাঠককে ধরে রাখবে একদম শেষ পাতা অবধি ।
🔹একটা রহস্য কাহিনী পড়তে গিয়ে যদি বিনা দ্বিধায় শেষ অবধি এক টানে পড়ে যেতে পারি তাহলে এর থেকে ভালো কিছুই হয় না । গল্পের মাঝে একটা রহস্য থেকে অন্য রহস্যের জট দারুণ ভাবে পাকিয়েছেন লেখক, এবার আসল কথা হলো শেষে এসে সেই জট গুলো খোলা । এখানে দারুণ ভাবে সফল লেখক । আমার নিজের ওপর একটা গর্ব আছে বরাবর যে আমি যে কোনও থ্রিলার এর ক্লাইম্যাক্স অনেক আগেই আন্দাজ করতে পারি । ইভেন ম্যাও এর সময় ও আমি অনেকটাই আন্দাজ করেছিলাম । কিন্তু এক্ষেত্রে শেষ পাতা না পড়া অব্দি আমি কিচ্ছু টি বুঝতে পারিনি । Salute 🫡 to the author.
🔹আর একটা মোস্ট ইম্পরটেন্ট দিক হলো মূল চরিত্রের চরিত্রায়ণ । স্বয়ম্ভু- শিবাঙ্গী পুরো রক্ত মাংসের মানুষ, আমার আপনার মতো, কোনও সুপার হিউমান এক্টিভিটিওদের নেই । তদন্ত করতে গিয়ে স্বয়ম্ভু- শিবাঙ্গী কে নানা জটিলতার মধ্যেও পড়তে হয়, নানাবিধ হেনস্থার ও শিকার হতে হয় । কিন্তু ওরা সৎ ভাবে, আইনের আঁওতায় তদন্ত করে, অনেক সময় ফেল হয় । বাড়িতে এসে কাঁদে । গল্পে স্বয়ম্ভু- শিবাঙ্গী এর হালকা রোমান্টিক ভাইবস গুলোও দারুণ লাগে । স্বয়ম্ভু- শিবাঙ্গী ছাড়া রাজারাম চরিত্রটাও আমার দারুণ লেগেছে ।
🔹যারা টানটান রহস্য গল্প ভালোবাসে তারা অবশ্যই পরে দেখুন, দারুণ লাগবে । বাংলায় এরম আরও রহস্য কাহিনীর দরকার । স্বয়ম্ভু এবং লেখকের কলমের ফ্যান তো ছিলাম ই, আরও বেশি করে হয়ে গেলাম । এভাবেই কলম চলুক, আমরা যেন আরও সয়ম্ভু সেন এর গল্প পাই ।
উপন্যাসটির সূচনা হয়, প্রভাবশালী এম এল সোমেন সরকারের একমাত্র মেয়ে কথাকলি নিখোঁজ হবার ঘটনাকে কেন্দ্র করে। লোকমুখে প্রচলিত আছে এই সোমেন সরকার এককালে শিশু পাচার চক্রের সঙ্গে জড়িত ছিলেন এবং বর্তমানে রাজনীতি করার পাশাপাশি তিনি মেয়ে পাচার করে থাকেন, কিন্তু আজ তিনি ক্ষমতায় বসে প্রায় সবকিছু আড়ালে। এমন অবস্থায় তার একমাত্র কন্যা নিখোঁজ হয়ে পড়ে এবং তার কন্যাকে খুঁজে বের করার দায় গিয়ে পড়ে স্বয়ভু সেন ও শিবাঙ্গির উপর। তদন্ত চলাকালীন কথাকলি উশৃংখল জীবনযাত্রা এবং অতীতের ঘটনা যা এত কাল চাপা পড়েছিল সে সব আস্তে বার হতে থাকলেও স্বয়ভু কোনোভাবেই কথাকলিকে খুঁজে পাচ্ছিল না বারবার সে ঘুরে ফিরে সোমেন সরকারের কোন না কোন কৃতকর্ম বারবার তাদের চোখের সামনে চলে আসছিল। এক কথায় বলতে গেলে কেঁচো খুঁড়তে ঘুরতে ঘুরতে প্রায় কেউটে বের করেছিল তারা।এমন অবস্থায় শিবঙ্গির ও স্বয়ভুর উপর শ্লীলতাহানি হয়, কিন্তু আর সবকিছু বার করতে পারলেও কোনোভাবেই তারা কথাকলিকে খুঁজতে বিফল হয়, কোথায় গেল কথাকলি? মেয়ে পাচারকারীর মেয়ে কি নিজেই পাচার হয়ে গেল? নাকি তারই কোন পুরুষ সঙ্গী তাকে খুন করে ফেলেন? পুরোটা জানতে হলে উপন্যাসটি পড়তে হবে।
এই গেল উপন্যাসের কথা এবার আসা যাক উপন্যাসটি পড়ে আমার কেমন লাগলো, উপন্যাসটি পড়তে পড়তে প্রথমে ভীষণ অগোছালো লাগছিল আমার এবং আমার মনে হয়েছিল এত চরিত্রের সমাগম হয়তো দরকার নেই কিন্তু কিন্তু রহস্যের জাল যত গুটিয়েছে, ততো বুঝতে পেরেছি যে প্রত্যেকটা ঘটনাই কতটা গুরুত্বপূর্ণ বইটির জন্য। এক কথায় এবারও আমার মতন বোকা পাঠকের কাছে স্বয়ম্ভু সেন এবারও জিতেই গেল।
সদ্য পড়ে শেষ করলাম অভিষেক চট্টোপাধ্যায়ের সৃষ্ট “স্বায়াম্ভু–শিবাঙ্গী” জুটির দ্বিতীয় বই কথাকলি কোথায়। প্রথম বই ম্যাও-তে এই জুটি যে কিস্তিমাত করেছিল, তার পর স্বাভাবিকভাবেই নতুন বইটি নিয়ে প্রত্যাশা ছিল অনেক—এবং বলতে দ্বিধা নেই, লেখক একটুও আশাহত করেননি। অফিসের কাজের চাপ সত্ত্বেও শেষের ১০০–১৫০ পাতা প্রায় গোগ্রাসে গিলেছি।
যারা ম্যাও পড়েছেন, তারা নিশ্চয়ই একমত হবেন যে অভিষেকবাবুর গোয়েন্দা গল্পগুলো তথাকথিত বাংলা গোয়েন্দা সাহিত্যের ধারা থেকে অনেকটাই আলাদা—এখানে গল্প বড়ো হয়ে ওঠে গোয়েন্দার চেয়ে। এই উপন্যাসও তার ব্যতিক্রম নয়। স্বায়াম্ভু সেন তাঁর বুদ্ধিমত্তার পরিচয় দিলেও, লেখক যে দক্ষতায় সমাজের বিভিন্ন দিকগুলো তুলে ধরেছেন, তা সত্যিই অনবদ্য।
লেখকের লেখা চিরচেনা সাবলীলতায় ভরপুর, ফলে গল্প এগোয় টানা গতিতে এবং পাঠককে প্রতিটি পাতায় ধরে রাখে এক বিশেষ টান।
বুকলুক প্রকাশনার বইটির পেজ-কোয়ালিটি ভালো, প্রচ্ছদ ও অলংকরণও যথেষ্ট আকর্ষণীয়। চোখে পড়ার মতো কোনো মুদ্রণপ্রমাদ নেই; ফ্রন্ট মোটের উপর ঠিকঠাক।
“স্বায়াম্ভু–শিবাঙ্গী” জুটিকে আবার ফিরে পাওয়ার অপেক্ষায় রইলাম।
আরেকটা টানটান থ্রিলার। নায়ক স্বয়ম্ভু সেনের মধ্যে খানিকটা জেমস বন্ড বাসা বেঁধেছিল এই গল্পে। অনেক দৃশ্য এখানে অতিমানবীয় মনে হয়েছে আমার। কিন্তু তা স্বত্তেও এটা পড়ে আমার বেশ ভালো লাগলো।
IT HAS TOPPED MYAO , GOES TO THE NITTY GRITTY OF OUR SOCIETY SHIVANGI AND SWAYAMBHU SEN ARE SUPERB. WRITING BY AVISHEK SIR IS VERY GOOD. EVERY CHARACTER IS PROPERLY FLESHED OUT EXCELLENT WRITING.