ঝিল আর বোধিসত্ত্ব ছোটবেলায় ঠিক করেছিল কোনোদিন জীবনে বড় কোনো বিপদে পড়লে, আর কোত্থাও যাওয়ার না থাকলে, সব লড়াইতে হেরে গেলে ওরা সব ছেড়েছুড়ে ঘুমঘাটে পালিয়ে যাবে...
কিন্তু ঘুমঘাট কোথায়? আদৌ পাহাড়ের কোলে এমন কোনো জায়গা কি আছে? নাকি গল্পকথা?
দুই ঘর পালানো বন্ধু আর একটা বিশ্রী মুখের বিড়াল পাহাড় জঙ্গলের ফাঁকে খুঁজে চলে এমন এক রহস্যময় জায়গা, যেখানে গেলে সব ঠিক হয়ে যাবে...
সায়ক আমানের জন্ম ১৯৯২ সালে। কলকাতায় কারিগরি বিদ্যা নিয়ে পড়াশোনা শেষ করলেও, সাহিত্যচর্চাকেই তিনি নিজের পেশা হিসেবে গ্রহণ করেছেন। লেখালেখি এবং অডিও জগতে সমলয়ে বিচরণ তাঁর। বাংলার অন্যতম জনপ্রিয় অডিও স্টোরি সিরিজ, মিডনাইট হরর স্টেশনের সহ-প্রতিষ্ঠাতা তিনি। Midnight Horror Station Spotify podcast-এর সঞ্চালক। বর্তমানে নিজের ইউটিউব চ্যানেল ছাড়াও কাজ করছেন জনপ্রিয় রেডিও- শো সানডে সাসপেন্স-এর সঙ্গে।
সায়ক আমানের লেখায এই গল্পের রহস্যের পাশাপাশি একটা কোমলতা আছে, যেটা গল্পটা শেষ করার পরেও বেশ কিছুক্ষণ মনে থেকে যায়। বিশেষ করে ঝিল-বোধিসত্ত্বের সম্পর্ক আর তাদের সেই অজানা জায়গার খোঁজ গল্পটার ইমোশনাল কোর হিসেবে দারুণ লেগেছে। পড়ার পর মনে হয়েছে আমাদের সবার জীবনে এমন একটা ঘুমঘাট প্রয়োজন।
কিছু বইয়ের একটা ক্ষমতা থাকে আপনাকে একটা ট্রান্সের মধ্যে, একটা আবেশের মধ্যে নিয়ে যাওয়ার। এই বই সেরকমই একটা। একটা দেওয়ালে পিঠ ঠেকে যাওয়া ছেলে আর একটা সেরকমই মেয়ে, দুজন মিলে বেরিয়ে পড়েছে এক কাল্পনিক দুনিয়ার খোঁজে। তার চার পাশে গড়ে ওঠে অনেক রহস্য। খুন, পুলিশ, তদন্ত, অতীতের কেচ্ছা সবই আছে গল্পে।
কিছু সুন্দর সুন্দর "তুলনা" আছে গল্পে (আসলে অমুক অনেকতা তমুকের মত, তমুক হলে অমুক হয়ে যায় etc) যা জীবনের অনেক phase কে বর্ণনা করে (বইটা না পড়লে এটা বোঝানো সম্ভব না, ভাট বকছি মনে হবে) , ওগুলো বেশ সুন্দর লেগেছে। রাস্তা ঘাটের বর্ণনা তেমন নেই, বেশিটাই দৈনন্দিন জীবনের আলোচনা। সাধারণ দুঃখ, কষ্ট, আনন্দ এইসব।
প্রত্যেক অধ্যায়ের শেষেই একটা তুখর cliffhanger, একদম hooked করে রেখেছিল। রোমান্স নভেল হিসাবে নাও যদি পড়েন ফ্যান্টাসি থ্রিলার বলেও চালানো যায় বইটাকে। জাস্ট তুখর। শেষে বলি - লেখককে ধন্যবাদ একটা হ্যাপি এন্ডিং দিয়ে পাঠকদের উদ্ধার করার জন্য। আপনার বইয়ে rare হয়ে গেছিল।
এককথায় বইটার সারমর্ম, " মানুষের মধ্যেই খুঁজে পাওয়া যায় সেই শান্তি, যা পৃথিবীর কোনো স্থান দিতে পারে না। " ব্যাস। এইটুকুই। এর জন্য গোটা ৩০৪ পাতার একটা বই নামিয়েছেন লেখক। যেই বইয়ের গোটাটাই আসলে অটোটাইপিং গুগল কীবোর্ডের শব্দের খেলা বলে মনে হয়েছে। লোকটার ভালো ক্ষমতা, সে স্ক্রীপ্ট রাইটার হতে পারে। একটা আজগুবি গপ্পো এগিয়ে নিয়ে যেতে তার জুড়ি মেলা ভার। সিনেমার মতো মাল মশলা জুড়েছে। কি নেই সেখানে, হয় ভোল্টেজ ড্রামা, ধর্ষণ, খুন, ক্যান্সার, প্যারাডক্স, শ্রী কৃষ্ণ, গীতা, সাউথ ইন্ডিয়ান গ্রাম্য ইতিহাস। ভাই, একটা বই তে কিছু বাদ রাখেনি। নিজের পোটেনশিয়াল, কেন এই উপন্যাস লিখে নষ্ট করছে ভগবান ও জানেন না। আমিও না। উইকেন্ড নষ্ট করলাম বলে, বড্ড ফ্রাষ্ট্রেটেড। হাতে গুনে, ২০-৩০ টা লাইন আছে। যেগুলো হয়তো বা একটু পদের। সেটাও ভালো করে, কাট ছাট করলে, হয়তো ১০-১৫ লাইনে নেমে যাবে। বইয়ের প্রথম ১০ পাতা এবং শেষ ১০ পাতা পড়লেই, এ যাত্রায় পাঠকের সময় বেঁচে যাবে বলেই বিশ্বাস।
এত কষ্ট করে লেখা টেনে নিয়ে যাওয়ার জন্য , অবশ্যই পাঁচটির মধ্যে দুটি তারা প্রাপ্য।
"Without your love It's a honky-tonk parade Without your love It's a melody played on a penny arcade It's a Barnum and Bailey world Just as phony as it can be But it wouldn't be make believe If you believe in me"
অবশেষে পড়লাম, ভালো লেগেছে। কিছু জায়গা আরেকটু অন্যরকম হলে ভালো লাগতো! Overwhelmed হয়ে যাইনি, তবে সায়ক আমানের লেখায় একটা মায়া থাকে, সেটা এখানেও কাজ করেছে! (আমার কাকতাড়ুয়ার জন্য ভালোবাসা একটু বেশি)
"ঘুমঘাট" পড়তে পড়তে মাথায় "Paper Moon" বাজছিল, তাই গানের কথাই রেখে গেলাম! ব্যস, এইটুকুই!
Too good, man! could empathise with Jhil so much! it's concerning, alarming yet so magical! also, I'm so glad that something like the magic realism is happening in bengali fiction now! wohooo!
সায়ক আমানের ‘ঘুমঘাট’ পড়ে সত্যি বলতে বেশ অন্যরকম একটা অনুভূতি হলো।
ঝিল আর বোধিসত্ত্ব ছোটবেলা থেকেই ঠিক করে রেখেছিল, জীবনে যদি কখনও সবকিছু ছেড়ে পালিয়ে যেতে হয়, তাহলে তারা ঘুমঘাটে চলে যাবে। কিন্তু ঘুমঘাট আসলে কোথায়? সত্যিই কি পাহাড়ের কোলে এমন কোনো জায়গা আছে, নাকি সেটা শুধুই একটা গল্প?
আর যখন সত্যিই তাদের জীবনে এমন একটা সময় আসে, তখন দুজন একটা অদ্ভুত চেহারার বিড়ালকে সঙ্গে নিয়ে ঘুমঘাটের খোঁজে বেরিয়ে পড়ে। পাহাড়, জঙ্গল আর একের পর এক অদ্ভুত অভিজ্ঞতার মধ্যে দিয়ে তাদের journey এগোতে থাকে।
আমার সবচেয়ে ভালো লেগেছে, বইটা শুধু একটা adventure story হয়ে থাকেনি। এর মধ্যে friendship, love, হারিয়ে যাওয়া আর নিজের জন্য একটা safe place খুঁজে পাওয়ার একটা সুন্দর অনুভূতি আছে।
আর ঘুমঘাট জায়গাটা আসলে কী, সেটা নিয়ে পুরো গল্পজুড়েই একটা curiosity কাজ করে। পড়তে পড়তে আমারও মনে হচ্ছিল, সত্যিই কি এমন একটা জায়গা আছে যেখানে গেলে সবকিছু ঠিক হয়ে যাবে?
সায়ক আমানের লেখায় পাহাড় আর জঙ্গলের যে atmosphere তৈরি হয়েছে, সেটা বেশ ভালো লেগেছে। মনে হচ্ছিল আমিও যেন ঝিল আর বোধিসত্ত্বের সঙ্গে সেই journey-তে আছি।
গল্পটা নিয়ে বেশি কিছু বলছি না, কারণ ঘুমঘাটের আসল মজাটা হলো ধীরে ধীরে সেই জায়গাটাকে discover করা।
একটা সুন্দর, একটু magical, একটু emotional আর খুব comforting একটা গল্প। কিছু বই পড়ে মনে হয়, আমরাও যদি এমন একটা জায়গায় পালিয়ে যেতে পারতাম! ‘ঘুমঘাট’ আমার ঠিক সেই feeling-টাই দিয়েছে। 🤎
দুটো সন্ধেয় বইটা শেষ হল। অদ্ভুত এই সময়ে দাঁড়িয়ে অনেক বই-ই আমাদের বিশ্বাস রাখার, হাত না ছাড়ার গল্প বলে। এই লেখাটাকে ঠিক সেই গোত্রে ফেললে চলে না। কোনও রকম আশা না রেখে শুধু চোখের জল মুখিয়ে দেওয়ার মানুষ আজকের পৃথিবীতে হয় কিনা সত্যি জানি না। ঝিল আর বোধি এই দুনিয়ার হাজার অসুখের ভিড়েও খুব সুখী দুটো মানুষ হয়ে রয়ে গেল। খুব করে ভাবলে হয়তো মনে হবে ওরা পালিয়ে গেল। পরিস্থিতি থেকে পালিয়ে যাওয়া বিষয়টা ঠিক নাকি ভুল সে আলোচনায় গেলে আমার এখনকার যুক্তিবাদী মন বলবে হয়তো ঠিক নয়। কিন্তু সবসময় এই সব যুক্তি তো সত্যি খাটে না। সব ছেড়ে দিয়ে ঘুমঘাটে তো আমরা সবাই যেতে চাই। ঝিল আর বোধি আবার মনে করিয়ে দিল শুধু, ঘুমঘাট কোনও জায়গা নয়, আমাদের সেই ভরসার হাতটাই ব্যস্ত, বিশ্রী শহরের বুকে থেকেও আমাদের ঘুমঘাটে নিয়ে যায়।
শুধু শুধু বাজে কথা বলব না , তবে প্রায় এক মাস চেষ্টা করেও বইটা শেষ করতে পারলাম না। বইটার প্লটটা বেশ ইন্টারেস্টিং মনে হলেও লেখার ধরণ খুবই রেপিটেটিভ আর একঘেয়ে । এই বইটার সারাংশ পরে বইটা পড়তে ইচ্ছে করেছিল তবে এইভাবে ডিসাপইন্ট হবো বুঝি নি । কিছু লাইন লেখক লেখার সময় কি চিন্তা করছিলেন জানার খুব ইচ্ছা হয় যেমন : “পুলিশের ভয় হাইমেন লেয়ারের মতো। একবার ফেঁসে গেলে বারবার ফাঁসতে আর অসুবিধা হয় না ।” লাইনটা অত্যন্ত কুরুচিকর মনে হয়েছে আমার পার্সোনালি । বইতে গল্প যেন শুরু হয়েও শুরু হয় না ।