Written anonymously, the book was first published in English in 1869 with a print order for only 200 copies. It shows up an authentic picture of the contemporary police- administration-society. The avid reader will get enough food for thought, amusement and astonishment. Narrator Miajan is so candid because he had little education.
সম্পাদক অরিন্দম দাশগুপ্তের শিক্ষা বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়, যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় ও সেন্টার ফর স্টাডিজ ইন সোশাল সায়েন্সেস, ক্যালকাটা থেকে ইতিহাসের পাঠ। ইংরেজি থেকে বাংলায় ভাষান্তর করে সম্পাদনা করেছেন মিয়াজান দারোগার একরারনামা। এছাড়াও অনেক দুর্লভ গ্রন্থের সম্পাদক ও অনুবাদক।
এই বইটা পড়া শেষ করার পরে কিছুক্ষণ স্তব্ধ হয়ে বসে থাকতে হয় আর মাথার ভেতর সারাক্ষণ একটা কথাই ঘুরপাক খেতে থাকে--"কিছুই বদলায়নি"।
কি বদলায়নি? বদলায়নি আমাদের রাষ্ট্রীয় সংস্থাগুলোর অনিয়ম, দুর্নীতি, আইনের দুঃশাসন, ঘুষ, অর্থলোলুপতা, অবিচার, অত্যাচার। মিয়াজান নামের এক স্বল্পশিক্ষিত দারোগা তার জবানীতে অকপটে এবং বেশ গর্বের সাথে ব্রিটিশ আমলের পুলিশ ও বিচার ব্যবস্থা এবং সেগুলোতে কর্মরত দেশি ও ইংরেজ, বিশেষ করে এদেশি লোকজনের যে চরিত্র তুলে ধরেছে, সেটা পড়লে পাঠকমাত্রেই মনে হবে, এ তো আমাদের সময়ের ঘটনাই পড়ছি! ব্যাপারটা মোটামুটি সেরকমই। হয়তো চরিত্র বদলেছে, পোশাকে-যানবাহনে-প্রযুক্তিতে পরিবর্তন এসেছে, কিন্তু আমাদের চরিত্র রয়ে গেছে সেরকমই। এ অঞ্চলে যে যত বড় বদমাশ-বাটপার-প্যাঁচালো-দুর্নীতিবাজ, এখানকার মানুষের কাছে তার কদর তত বেশি।
বইটি প্রকাশিত হয় ১৮৫৯ সালে, বেনামে। মিয়াজান দারোগা জানাচ্ছে, তার বোন ছিল তখনকার কালেক্টর সাহেবের রক্ষিতা, যাকে আবার কালেক্টর সাহেবের কাছে পৌঁছে দিয়েছিল তার নিজের স্বামীই, যে কিনা ছিল কালেক্টর সাহেবের খাস চাপরাশি। তা বোনেরও ব্যাপারটায় আপত্তি ছিল না। বরং এ সুযোগে নিজের ভাইকেও আর্দালির পদে ঢুকিয়ে ফেলা গেল। সে সময়ও চাকরি হতো সুপারিশে, এবং সে সুপারিশও বিনামূল্যে ছিল না। রিশবত, মানে ঘুষ ছাড়া কালেক্টরেট আর থানার বিড়ালটাও নড়তো না। তো, আর্দালি হবার পর মিয়াজানের বোনজামাই-ই তাকে সুযোগ বুঝে কালেক্টর সাহেবের সুপারিশ নিয়ে ম্যাজিস্ট্রেট সাহেবের খাস বেয়ারাকে উপযুক্ত 'রিশবত' দিয়ে মিয়াজানকে তেজপুরের দারোগার পদখানা পাইয়ে দেয়। সেখানে গিয়ে তার প্রথম কাজ হলো তার অধীন ১২০০ গ্রামের প্রতিটার চৌকিদারদের কাছ থেকে ১ টাকা করে 'নজরানা' আদায় করা। সব মিলে সেটা দাঁড়ালো ১২০০ টাকা। বলে রাখা ভাল, ১৮৩৫ সালে ভারতে ১ রূপিতে কমবেশি ৪৮ সের বা ৪৫ কেজি গম পাওয়া যেত। বর্তমান গমের দাম ধরলে, সেই ১২০০ টাকার এখনকার দাম ১০ লাখ টাকার বেশি বৈ কম হবে না। এজন্যই দারোগার চাকরির যে মাসিক বেতন, মানে মাত্র ৮ টাকা, সেটা উঠিয়ে নিজের পকেটে ভরার 'কপিরাইট' ম্যাজিস্ট্রেট সাহেবের বেয়ারাকেই দিয়ে এসেছিল মিয়াজান। যার প্রথমদিনের রোজগারই ১২০০ টাকা, তার আবার বেতন তোলা লাগে নাকি? কথাটা এখনকার জন্য কতটা সত্যি, সে নিয়ে কোন মন্তব্য হবে না, জানের ভয় আর সবার মত আমারও আছে।
মিয়াজানের পরবর্তী কাজ হলো ডাকাতির মামলার তদন্ত করা। যার বাড়িতে ডাকাতি হয়েছে, শুরুতেই দলবল নিয়ে সেখানে গিয়ে তার কাছ থেকে দারোগার জন্য ১০০ টাকা (ধরে নিন, এখনকার হিসেবে লাখ খানেক) আর তার চ্যালাদের জন্য ১০ টাকা, ৫টাকা করে কিছু 'নজরানা' আদায় হলো। এরপর খেয়েদেয়ে ডাকাতির ভিক্টিমকেই বেঁধে নিয়ে যাওয়া হলো থানায়। এরপর 'অমুক তোর বাড়িতে ডাকাতি করেছে বলে স্বীকারোক্তি দে' দাবীতে চললো ব্যাপক মারধোর। মতলব, তাহলে সে ব্যাটাকে 'আসামী' করে তার কাছ থেকে কমপক্ষে ৩০০ টাকা আর তার বিরোধীপক্ষের কাছ থেকে ''পুরস্কার' হিসেবে কমপক্ষে আরো ২০০ টাকা আদায় করা যাবে। কিন্তু ভিক্টিম বেচারার দুর্বল হার্ট, মার খেয়ে মরেই গেল! কোন সমস্যা নেই, তাকে 'হার্ট অ্যাটাকে মৃত্যু' দেখিয়ে সদরে চালান করা হলো; সেখানে খানিক দারোগার ভয়ে আর খানিক তার কাছ থেকে পাওয়া 'রিশবত'-এর জোরে সদরের ডাক্তারও লিখে দিলেন--'হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হইয়া মৃত্যু'। ম্যাজিস্ট্রেট সাহেব শুনে বললেন, তা ভিক্টিমই যখন মরে গেছে, ডাকাত আর কোথায় পাওয়া যাবে? মামলা খতম। মিল পাওয়া যাচ্ছে নাকি?
তারপর মিয়াজান বেশ বিস্তারিত বর্ণনা দিয়েছেন কিভাবে এলাকার জমিদার আর নীলকররা বছরশেষে তার নজরানা পাঠিয়ে দিত আর বিনিময়ে জমিদার-নীলকরদের নিজস্ব মারামারিই হোক আর তাদের লাঠিয়ালদের খুনোখুনিই হোক, থানার লোকজন মোটেই মাথা ঘামাতো না। আর মিয়াজানের মতে, জমিদার-নীলকরের মারামারি লাগলে সেটা থামানো আমাদের কাজ না। আমাদের কাজ দু'পক্ষের কাছ থেকেই যতটা পারা যায় কামিয়ে নেয়া। কাজেই ঘটনা ঘটলেই আগে দু'পক্ষের কাছ থেকে সর্বোচ্চ 'রিশবত' আদায় করা হতো, এরপর রিপোর্ট এমনভাবেই লেখা হতো যে, দোষ কার সেটা বুঝা ছিল অসম্ভব। ম্যাজিস্ট্রেট সবই জানতেন, ভাগজোখ তার কাছেও পৌঁছাতো, কাজেই এসব মামলা হালে পানি পেত না। মাঝে মাঝে অবশ্য কেউ 'পাওনা' দিতে গড়িমসি করলে তাকে থানায় এনে যথাযথ 'মেরামত' করা হতো, আর নেহাৎ বেকুব না হলে সে সাইজ হয়েই যেত। দৈবাৎ দারোগার নামে 'ঘুষ' খাওয়ার অভিযোগ যদি যেতই ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে, তাহলে মাস মাইনে তোলা খাস বেয়ারা তো আছেই সাহেবকে 'ম্যানেজ' করার জন্য।
আর বলবো না, লিখবো না, দেখবোও না। আমরা বুদ্ধের তিন বুদ্ধু বানর, না শোনা, না বলা, না চিন্তা করাই আমাদের জন্য নিরাপদ। যার বেশি গরজ, তিনি বইখানা পড়ে নিন। পড়ে বুঝুন, ব্রিটিশরা নতুন করে আমাদের উপর কোন কিছু চাপায়নি। আমরা এমনই ছিলাম, আছি, থাকবো। ওরা শুধু আমাদের প্রকৃতি বুঝে সেটার সর্বোচ্চ ফায়দা নিয়ে সরে পড়েছে, আর আমরা তাদের বানানো যন্ত্রে শান দিয়ে নির্লজ্জতা আর দুর্নীতির প্রদর্শনী চালিয়ে যাচ্ছি। লর্ড ক্লাইভের প্রেতাত্মা নিশ্চয়ই পরকালে বসেও নিজের দূরদৃষ্টিকে নিজেই বাহবা দিচ্ছে!
পুনশ্চঃ গুডরিডসের বাঙালি পাঠককুল দুনিয়ার যতসব গাঁজাখুরি বইয়ে হাইপ তোলা রেটিং দিয়ে এমন বইকে কেন এত আন্ডাররেটেড করে রেখেছে, সেটা বুঝতে এই অধম অপারগ। রেটিং না দিন, ভয়ে রিভিউও না দিন, নিজের জ্ঞানচক্ষু উন্মীলনের জন্য অবশ্যপাঠ্য হিসেবে বইটা যত তাড়াতাড়ি পারেন পড়ে ফেলুন। তবে, বাস্তব জ্ঞানের ধাক্কা খেয়ে ডিপ্রেশনে চলে গেলে অধম কোন দায় নেবে না।
পুনশ্চ ২ঃ মিয়াজান দারোগা এ-ও জানাচ্ছেন যে, 'থানেদার'-কে যে পক্ষ বেশি নজরানা দিতে পারতো, তাদের হয়ে আদালতের মুহুরি-পেশকার-আর্দালি-চাপরাশি-হাকিম সবাইকে 'খুশি' করার ব্যাপারটা দারোগা সাহেবই দেখভাল করতেন। কাজেই ম্যাজিস্ট্রেটের আদালতে ওঠার আগেই মামলার ফলাফল ঠিক হয়ে যেত। দারোগা সাহেব হলফ করে বলছেন, তার সময়কালে মাত্র ১ জন হাকিম বাদে সবাই 'রিশবত' নিতেন, এমনকি এক মৌলভী বিচারককে তিনি হাজার টাকা পর্যন্তও 'রিশবত' দিয়েছিলেন।
Miajan Darogar Ekrarnama (The Confessions of Miajan Daroga) was first published in 1869. It came with a print order of just 200 copies and the name of the author is unknown till date. According to the author the story was told to him by a fakir three decades before the book was published, pinning the events roughly in the 1830s. The story is pretty straight forward. Our hero (!) Miajan was born into a poor family in Faridpur (the district name is never explicitly mentioned) district of present Bangladesh. Miajan didn’t have much education but he was smart and could sign his own name.
Miajan knew the right people and without any prior experience he was promoted as a police officer. The main reason behind his sudden promotion was the fact that his sister was mistress to the district magistrate (despite being already married) and his brother-in-law was a close aide to the magistrate. Miajan soon sets up a good business, accepting bribes freely from any and every man who comes in contact with police. He takes full advantage of the on-going feud between an Indian landlord and British Indigo Farmers, profiting from both parties. Eventually, he is betrayed by one of his close aides and loses his job because of corruption charges. The story ends with Miajan, then a fakir, exacting revenge on his aide.
This is a highly unusual book and it has nothing to do with the story or the writing style. Bengali literature was entering a period of renaissance in the period starting from late 1850s. A number of books came out, focusing and often, lampooning the existing “Babu” culture. The most notable among them are Kaliprasanna Singha’s “Hutum Pechar Noksha” (published in 1859, never out of print since then) and Peary Chand Mitra’s “Alaler Ghorer Dulal” (which in 1857 laid down the basics of modern Bengali prose). The fundamental premise of these two novels is similar to this book but while the other two relied on third person narrative and was mostly a sarcastic look at the society, Miajan.. is a no holds barred account through the eyes of a completely jaded character.
Miajan daroga is corrupt, has no regard for human life (he freely narrates how he killed some of his prisoners because of torture) and is utterly unrepentant. It will be a struggle to find a more gritty account of the police and law enforcement infrastructure of 1830s. Miajan concedes that all except one judge in his district took bribes and there was not a single honest policeman. Miajan has no remorse for his actions and seems more depressed that in some events he failed to make enough profit from the accused. There is also a detailed description of “third degree” torture methods used by police in that era. I’ve read a few books which came out in the same period and there isn’t another instance of such a villainous character being the focus of an entire book. While most of the contemporary authors focused on Kolkata and outskirts, this book is completely based in villages and smaller districts. The accounts about conflicts between local landlords and indigo farmers are interesting and give a unique insight into rural Bengal of 1830s.
আমি নিশ্চিত কোন পুলিশ কর্মকর্তা প্রচুর অনিয়ম ইত্যাদি দেইখা এইটা লিখছে। সার্ভিসে সে ছিল এতে সন্দেহ নাই কারণ না থাকলে, সামনে থেকে না দেখলে এসব লেখা যায় না। তবে সে নিজের যেসব কুকীর্তির কথা লিখছে, আসলেও সেসব স্বেচ্ছায় করছে কিনা সন্দেহ আছে। আবার বটতলা যুগের যদি ছাপানো হয় সেখানেও কিছু এক্সট্রা রস মেশার সম্ভাবনা থাকে তবে এখানে আদিরসের অনুপস্থিতি দেখে মনে হয় না পুস্তক বিকানোর চিন্তা লেখকের মাথায় ছিল। বরং যে ভাষায় লেখা, সে ভাষার 'ভাব' (tone) বলে প্রান্তিক দুর্নীতি অসহ্য বোধ হওয়া থেকেই এই সত্য গল্প প্রচারের প্রয়াস পাইছেন।
এই বইটি পড়েছি রিভিউ পড়ে। পড়ে ঠকিনি। আমার উপলব্ধি,কিছুই বদলায় না। ফ্রেঞ্চ প্রবাদই সত্য plus ça change, plus c’est la même chose। ১৮৩০ থেকে ২০৩০ দুই শত বছরে এই দেশের অনেক পরিবর্তন এসেছে কিন্তু আসলে কোন পরিবর্তন আসেনি এসেছে শুধু দালান কোঠায় - পুলিশী হেফাজতে মৃত্যু বা আইনের সাথে জড়িত ব্যাক্তিদের অসততা আগের মতই আছে। বাংলা সিনেমার সবকিছু শেষ হওয়ার পর পুলিশের আগমন কেন ঘটে তার ব্যাখ্যাও পাওয়া যাবে আর পাওয়া যাবে লালসালুর মজিদদের পূর্ব ইতিহাস। A little gem of a book