'কাকচক্ষু' শুধুমাত্র একটি ভয়ের গল্পের সংকলন নয়। এ হল মানুষের মনে জমে থাকা অন্ধকারের গল্প। পুরোনো ঘরের আলমারি খুললে যেমন উড়ে যায় ধুলোর পরত, তেমনই মানুষের জীবনের গোপন কোনায় আঙুলের ছোঁয়া রাখলেই বেরিয়ে আসে চেপে রাখা স্মৃতি, পাপ, আর না-বলা কথা।
নিবারণ সেই আলমারির দরজাটা খুলে দেন-কিন্তু বিচার করেন না। কারণ বিচার করার অধিকার তাঁর নেই। তিনি কেবল সেই ভেতরের অন্ধকারকে আলোয় নিয়ে আসেন। আর আলো পড়লেই জাগে ভয়। কাকচক্ষু সেই বাহুল্যহীন, তীক্ষ্ণ এবং শ্বাসরুদ্ধকর ভয়ের গল্পই বলে।
অভীক সরকারের জন্ম পয়লা জুন, উনিশশো উনআশি সালে। বেড়ে ওঠা প্রাচীন শহর হাওড়ার অলিগলিতে। বাবা ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ছিলেন, মা স্কুল শিক্ষিকা। রয়েছে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি। পেশায় সেলসম্যান, কর্মসূত্রে ঘুরেছেন পূর্ব-ভারতের প্রায় সব শহর ও গ্রাম। জীবনের বিভিন্ন পর্যায়ে বাসা বেঁধেছেন হায়দ্রাবাদ, পাটনা, মুম্বাই ইত্যাদি বিভিন্ন শহরে। শখের বই ব্যবসায়ী ও প্রকাশক। লেখালেখির শুরু আন্তর্জালে ও বিভিন্ন ব্লগে। প্রকাশিত বইগুলো হল মার্কেট ভিজিট, তিতিরপাখি ও প্রিন্সেস (সহলেখক অনুষ্টুপ শেঠ), এবং ইনকুইজিশন, খোঁড়া ভৈরবীর মাঠ, চক্রসম্বরের পুঁথি, ইত্যাদি। বিবাহিত। কন্যা সন্তানের পিতা। ভালোবাসেন ইলিশ, ইস্টবেঙ্গল, ইয়ারবন্ধু এবং ইতিহাস।
kakchokkhu by Avik Sarkar has 2 stories in it one Kaak chokkhu and Debalrajar garh.
kaakchokkhu আমাদের প্রধান চরিত্র নিবারণ চক্রবর্তীর এটি প্রথম গল্প। এতে তার গুরু ও শুভাকাঙ্ক্ষী মোনা মাঝির সঙ্গে তার সম্পর্কের কথা বলা হয়েছে। খুব ভালো গল্প, মোনা মাঝির পেছনের কাহিনীটি চমৎকার এবং সমাপ্তিটিও সন্তোষজনক ছিল। 4/5 Debalrajar garh দ্বিতীয় গল্প ‘দেবলরাজার গড়’ ইতিহাস ও ভয়ের মিশ্রণে চমৎকারভাবে শুরু হয় the myth of Bok rakkhosh the mixing of pala dynasty and kaibarta rebellion. কিন্তু সমাপ্তিটা ছিল অযৌক্তিক, বিষয়গুলো ঠিকমতো ব্যাখ্যা করা হয়নি, নিবারণের উপস্থিতি কোনো কিছুরই সমাধান করে না। পার্শ্বচরিত্রগুলো, বিশেষ করে জয়ন্ত, শেষে ভীষণ বোকার মতো আচরণ করে। গল্পটা চমৎকারভাবে শুরু হয়েও শেষটা পুরোটাকে লাইনচ্যুত করে দেওয়ায় এটি খুবই হতাশাজনক। 2.5/5
শুরুর দিকে অসাধারণ গতিতেই চলতে ছিল। মধ্যে ভাগও মোটামুটি গল্পটা আগাচ্ছিল। কিন্তু শেষটা এত বাজে হয়েছে কি আর বলবো। অহেতুক জটিল করে কোনো যুক্তি ছাড়া গল্পের শেষটা এভাবে করলে কে জানে। আর একটা কথা, এই গল্পের মধ্যে মনা মাঝি নিবারণকে ভয় পেতে বলে, তার নিজের উপর বিপদ আসছে দেখে। কিন্তু নিবারনের কিসের ভয়? কাকচক্ষু বিদ্যারই বা প্রয়োগ করেই বা কি হলো? প্রতিটি চরিত্র এসে তাদের নিজেদের গল্প বলে দিলো। গল্পটা যেভাবে শেষ হলো, তাতে মনে হচ্ছিল নিবারনের উপস্থিতি বা সেখানের কি দরকার ছিল। যা হবার তাতো সে, সেখানে না থাকলেও ঘটতো। সব কিছুর মধ্যে দশম মহাবিদ্যা ব্যাপারটা একটু একঘেয়ে কিছু সময় হয়ে যাচ্ছে। যাইহোক, অভিক সরকারের লেখা আমার ভালো লাগে। এটা খুবই হতাশ করেছে।
আমার মনে হয় লেখকের সেরা তিনি নিজের প্রথমের দিকের বই গুলিতেই দিয়ে দিয়েছেন, আর নতুন করে হয়তো ওনার দেওয়ার কিছু নেই। ভেবে অবাক লাগে ইনিই খোরা ভৈরবীর মাঠ, ভোগ, শোধ এর মত এত ভালো গল্প এক কালে সৃষ্টি করে গেছেন।