পুলিশ অফিসার অভিরাজ সেনের ন'টি রহস্যভেদের কাহিনি আছে এই বইয়ে। তারা হল~ ১. শিকার; ২. বিশ্বাসভংগ; ৩. সম্পর্ক; ৪. মোবাইল চার্জার; ৫. দ্য ট্রুথ; ৬. গেম ইজ ওভার; ৭. ক্লাচ অফ ডেথ; ৮. শেষ ভালো যার, সব ভালো তার; ৯. দ্বন্দ্ব। গল্পগুলোর ভালো দিক হল~ প্রথমত, ঘটনাগুলো বাস্তব অপরাধ ও অনুসন্ধানের ভিত্তিতেই বানানো। তাতে দেখানো বিভিন্ন পদ্ধতি ও ফরেন্সিক প্রক্রিয়াও বাস্তবানুগ। ফলে এতে নাটকীয় ঘটনার ঘনঘটা না থাকলেও বাস্তবের নিবিড় সম্পর্ক আছে— যা মুক্তকণ্ঠে প্রশংসনীয়। দ্বিতীয়ত, লেখার ভাষা সহজ এবং রীতিমতো পুলিশ-সুলভ। লেখক নিজে পুলিশ অফিসার বলেই হয়তো ব্যাপারটা এত বিশ্বাসযোগ্য হয়েছে। কিন্তু এ-ও সত্যি যে কাল্পনিক সুপারকপদের গাঁজাখুরি কীর্তিকলাপের বদলে সহজ ভাষায় সরাসরি এই অনুসন্ধানগুলো পরিবেশন করা, অন্তত আমার মতে, একেবারে যথোচিত হয়েছে। গল্পগুলোর সঙ্গে ছবি থাকা অত্যাবশ্যক ছিল, যা এখানে পাইনি। এটা ভালো লাগেনি। বইয়ের ছাপা পরিষ্কার, বানান শুদ্ধ, বাঁধাই ভালো। বাস্তবানুগ অপরাধ ও অনুসন্ধানের কাহিনি পড়তে চাইলে এই বইটি অবশ্যই রেকমেন্ড করব।
ইন্সপেক্টর অভিরাজ সেন, কলকাতা পুলিশে ক্রাইম ব্রাঞ্চ এর হোমিসাইট বিভাগের দাপুটে অফিসার। অভিরাজ সেনের নয়টি রহস্য কাহিনী নিয়ে তৈরি এই বই। এর আগে লেখকের বিবেক সিরিজের দুটি বই পড়ে একটু মনক্ষুন্ন হয়ে পড়েছিলাম। অতিরিক্ত পরিমাণে অকারণ তথ্য গুঁজে দেওয়ার প্রবণতা বেশি খানিকটা বিরক্তি তৈরি করেছিল। তাই "ক্লাচ অফ ডেথ" কেনার পরেও বেশ কয়েকমাস বইটা ফেলে রেখেছিলাম। পড়ে দেখার আগ্রহই হারিয়ে ফেলেছিলাম। তারপর হঠাৎই এক ভ্রমণকালে বইটাকে সঙ্গী বানিয়ে পড়তে শুরু করলাম। প্রথমেই যেটা লক্ষ্য করলাম, এই সিরিজের গল্প বলার ধরণ অন্য বইগুলোর থেকে সম্পূর্ণ পৃথক। পরপর গল্প পড়ে যেতে লাগলাম। অভিরাজ সেনের গোয়েন্দা কাহিনী তুলনামূলকভাবে অনেক বেশি ঝরঝরে ও আকর্ষণীয় লাগল। সম্ভবত একটি উপন্যাসে একটি বই তৈরির জন্য পাতা ভরানোর দায়মুক্ত হওয়ায় লেখক নিজস্ব স্বস্তিতে ও স্বাধীনতায় লিখে গেছেন। ফলত গল্পের মাধুর্য নষ্ট হয়নি। প্রায় প্রতি গল্পের কাহিনী বিন্যাস ও লেখনীর স্টাইল যথেষ্ট আকর্ষণীয়। ছোট কিন্তু কম্প্যাক্ট ফর্মে গল্প লেখা হয়েছে, ফলে পাঠকের ধৈর্যচ্যুতি ঘটেনা কখনোই। কিছু গল্পের শেষ বেশ চমকপ্রদ লেগেছে। বিশেষত এই গল্পগুলো যথেষ্ট পরিমাণে বাস্তব ঘেঁষা হওয়ায় এবং কাল্পনিক গাঁজাখুরি ঘটনার বাহুল্য না থাকায়, বই পড়ার আগ্রহ তৈরি হয়। বইয়ের বাঁধাই ও পেপার কোয়ালিটি অত্যন্ত সুন্দর হওয়ায় বই পড়তে খুব ভালো লাগে। বানান ভুল বা ভাষাগত ভুল প্রায় নেই বললেই চলে। প্রচ্ছদ অত্যন্ত সাধারণ ও চলনসই। আলাদাভাবে দৃষ্টি আকর্ষণ করেনা। গল্পের সাথে কোনো অলঙ্করণ না থাকায় একটু ফাঁকা লাগল। বিশেষ করে সত্য ঘটনা নির্ভর গল্পের ক্ষেত্রে ছবির গুরুত্ব অসীম। বইয়ের ভূমিকা অনুযায়ী ২০০৯ সালের পরে কলকাতায় ঘটে যাওয়া কিছু সত্য ঘটনাকে ভিত্তি করে এই কাহিনী। কিন্তু ঘটনাগুলোর কোনো প্রামান্য দলিল পেলাম না। কিছু জায়গায় কিছু তথ্যমূলক ভুল নজরে এল, যা একজন অভিজ্ঞ পুলিশ লেখকের থেকে আশা করা যায়না। বারবার খোঁচা মারা একটা ছোট্ট প্রশ্ন মাথায় ঘুরপাক খায়। বাংলায় লেখা গল্পের নামকরণ ইংরাজিতে কেন? যেখানে অতি সাধারণ বা কাব্যিক ভাবেও বাংলাতেই নামকরণ করা যায়। বাংলায় নামকরণ যুক্ত রহস্য বই কম আকর্ষণীয় এরকম কথা অন্তত আমার অজানা। দেখলাম লেখকের বেশ কিছু বইয়ের নামকরণই ইংরাজিতে। এর সঠিক কারণ জানার অপেক্ষায় রইলাম। আশা করব পরবর্তী বইয়ের নামকরণ বাংলায় করতে লেখক দ্বিধা বোধ করবেন না। সব মিলিয়ে এই বইটি যথেষ্ট পড়ার উপাদেয় একটি বই। অবশ্যই পড়ার মত বই।
প্রচুর প্রশংসা শুনে, অনেক আশা নিয়ে বইটি কিনেছিলাম, কিন্তু শেষমেশ হতাশ হতে হলো। বইটির কোনো গল্পই সেভাবে মনে দাগ কাটতে পারেনি। বিশেষ করে লেখকের লেখনী আমার কাছে খুব একটা সাবলীল মনে হয়নি।
বইটিতে তথ্যের সমাহার ভালো, কিন্তু সেই তথ্যগুলোকে গল্পের সাথে সুন্দরভাবে মিশিয়ে পাঠকদের সামনে উপস্থাপন করাটাই লেখকের আসল সার্থকতা। এক্ষেত্রে মনে হয়েছে তথ্যের ভারে গল্প হারিয়ে গেছে (Info dump)। এছাড়া কিছু জায়গায় গল্পের টাইমলাইনেও অসংগতি চোখে পড়েছে। লেখকের আরও কিছু বই সংগ্রহে ছিল, কিন্তু এই অভিজ্ঞতার পর সেগুলো পড়ার আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছি। তবে তার 'বিভাষিকা ১৪৩২'-এ প্রকাশিত গল্পটি ভালো লেগেছে।
Firstly the events are based on real crimes and investigations. The various methods and forensic processes shown in it are also realistic. As a result, it is a bratg of fresh air because the events has a close connection to reality .The writer has done a commendable Job. Every story has its edge and good and it's protagonist Aviraj is very well constructed A unique and refreshing read.