Jump to ratings and reviews

নিহিত আগুনদিন

হতে পারত এটা আমার লেখা দ্বিতীয় উপন্যাস। কিন্তু হয়তো নিজগুণেই এটি প্রথম হয়ে গেল। উপন্যাসটি আমাকে এই আগুন সময়ই লিখিয়ে নিয়েছে। তাই হয়তো নামকরণে এতটুকু ভাবতে হয়নি আমার।
কী আছে এই উপন্যাসের আখ্যানে?
চেয়েছিলাম হিসাবের বাইরে গিয়ে দাঁড়াতে। চেয়েছিলাম সংখ্যাতত্ত্বের গণ্ডিকে ছুড়ে ফেলে দিতে। তাই যখন মুক্তিযুদ্ধে শহিদদের সংখ্যা কিংবা বীরাঙ্গনাদের সংখ্যা নিয়ে বিতর্ক হয়, তখন আমি লজ্জা পাই। আমার হৃদয় রক্তাক্ত হয়। আর আমি সবকিছুর বাইরে দাঁড়িয়ে লিখতে বসি তাদের কথা, যারা দেশ ছেড়ে কোন এক অচিনপুরে হারিয়ে গেছে, যারা খণ্ডবিখণ্ড হয়ে ছড়িয়ে পড়েছে দেশ থেকে দেশান্তরে।
তারাও মুক্তিযুদ্ধে শহিদ, তারাও আমার দেশের বীরাঙ্গনা। কিন্তু হিসাবের খাতায় তাদের নামগুলো কখনই আসেনি। সংখ্যাহীন হয়েও তাঁরা স্বাধীনতার মহাত্যাগের যজ্ঞে বিলিয়ে গেছেন সর্বস্ব।
তারা সাধারণ। তারা ঘরছাড়া। তারা দেশহারা। তবুও দেশকেই বুকের ভেতর নিয়ে মুক্তির জন্য লড়াই করে গেছেন আমৃত্যু।
"নিহিত আগুনদিন" উপন্যাস মুক্তিযুদ্ধের হাজারো অজানা আখ্যানের একটি ক্ষুদ্রাংশ তুলে ধরেছে মাত্র।

143 pages, Hardcover

Published December 1, 2025

Loading...
Loading...

About the author

Ratings & Reviews

What do you think?

Friends & Following

Create a free account to discover what your friends think of this book!

Community Reviews

5 stars
0 (0%)
4 stars
4 (80%)
3 stars
1 (20%)
2 stars
0 (0%)
1 star
0 (0%)
Displaying 1 - 2 of 2 reviews
Profile Image for Sehemi Akhi.
82 reviews4 followers
January 25, 2026
যুদ্ধের সময়টা কেমন ছিল তা শুধু তারাই জানে যারা ওই সময়টা সত্যিকারে পার করেছে। আমার সেজো দাদুকে মিলিটারিরা জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ধরে নিয়ে গিয়েছিল। দাদুকে প্রচুর মেরেছিল তারা। দাদু অনেকদিন পা নিয়ে বিছানায় পড়ে ছিলেন। একটা ঘটনা আমার দাদুর থেকে শুনেছিলাম। হিন্দু ঘরে উনুনে ভাত রান্না হচ্ছিল। মিলিটারিরা ওইদিন ঘরে ঘরে হিন্দু খুঁজে বেড়াচ্ছিল। এইটা শুনে কেউ ওই হিন্দু বাড়িতে খবর দেয় পালানোর জন্য। তাড়াতাড়ি করে পুরো পরিবার দৌড়ে ছুট দেয়। সম্বল বলতে পুটলি-পাটলি। অন্ন রেখেই বাড়ির ছেলেরা দৌড়ানো শুরু করে। কিন্তু বাড়ির গৃহিণী অন্ন ফেলতে পারেনা। ভাতের হাড়ি দুই হাত দিয়ে ধরে নিয়েই দৌড়ে যাচ্ছিল। আমাদের গ্রামের বাড়ি চাঁপাইনবাবগঞ্জে। আমাদের ফসলি জমি একদম বর্ডারের কাছে। ওইদিন ওই পরিবার বর্ডার পার করে ফেলেছিল। কিন্তু বহু পরিবার এমন ছিল যারা পার করতে পারেনি। যারা সময়মতো খবর পায়নি যে তাদের মিলিটারিররা খুঁজছে।
নিহিত আগুনদিন পড়ার সময় আমার দাদুর ওই গল্পের কথা মনে পড়ে যায়। গল্পের নায়িকা লক্ষ্মী নিজের গ্রাম ছেড়ে একের পর এক কত্ত গ্রাম পার করে বর্ডারের ওই পাশে যায় শরণার্থী শিবিরে। এই দিনগুলো যে কি সেটা তারাই জানে। এরই মাঝে বীরাঙ্গনারা কেন বীরাঙ্গনা সেসব সম্পর্কে বুঝতে পারা যায়। বইটা থেকে একটা জিনিস স্পষ্ট ,মেয়েদের স্বাধীনতার জন্য তাদের আসলে যুদ্ধ পার করেও লড়াই করতে হয়।
Profile Image for musarboijatra  .
310 reviews446 followers
March 10, 2026
পায়ের তলার মাটি যখন হুট করে সরে যায়, তখন আমাদের চেনা স্থিতাবস্থা বা সোশ্যাল সিকিউরিটি তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ে। আর কে না জানে, যেকোনো বড় সংকটে—সেটা মহামারি হোক, নির্বাচন হোক, বা যুদ্ধ—সবচেয়ে বেশি বিপর্যস্ত হয় নারীরা। স্মৃতি ভদ্র'র ‘নিহিত আগুনদিন’ পড়তে গিয়ে এই রূঢ় বাস্তবতাই আবার নতুন করে আঘাত করে।

আমরা সাধারণত মুক্তিযুদ্ধের গল্পকে একধরনের বীরত্ব বা গৌরবের জায়গা থেকে দেখি। কিন্তু সেই সময়ে যারা সবচেয়ে বেশি ‘ভালনারেবল’ ছিল, যারা অবস্থার বলি হয়েছিল, তাদের চুকাতে হয়েছে চরম মূল্য। গল্পটি শুরু হয় লক্ষ্মী নামের একটি মেয়েকে দিয়ে। যুদ্ধের আগুনে সব হারিয়ে প্রাণভয়ে পরিবারের সাথে শরণার্থী শিবিরের উদ্দেশ্যে তার যে যাত্রা, তা পড়তে গিয়ে ‘জয়যাত্রা’ বা ‘শ্যামল ছায়া’ সিনেমার সেই পালিয়ে বেড়ানোর দৃশ্যগুলো চোখে ভাসে। কিন্তু গল্পের আসল লড়াই শুরু হয় যুদ্ধের পর, টিকে থাকার পর্বে। লক্ষ্মী এক সময় শরণার্থী শিবিরের প্রতিকূল পরিবেশে হয়ে ওঠে ‘ঝুমরি রানী’। অখিল দাদার মাঝে লক্ষ্মী খুঁজতে চেয়েছিল কানু দাদার মতো অবলম্বন, অথচ অখিলের হাত দিয়েই তার প্রেম প্রত্যাশী অবুঝ মন বিকিয়ে যায় 'সেলাই দিদিমণি'র ডেরায়, জও গোস্বামীর কবিতা এক ঝলক মনে পড়ে যায় এইখানে।

ঘটনাচক্রে তার পরিচয় হয় কদম নামের আরেকজন মেয়ের সাথে, যে নিজেও যুদ্ধের নির্মম বলি। এই দুই নারীর টিকে থাকার লড়াই এই উপন্যাসের মূল উপজীব্য। লেখক খুব নিপুণভাবে দেখিয়েছেন, যখন বেঁচে থাকাটাই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়, তখন মানুষ অনেক সময় নিজের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে সবচেয়ে কাছের ভরসার মানুষটিকেও কম্প্রমাইজ করতে দ্বিধা করে না। আর লক্ষ্মী, বাস্তবতার সকল পাঠকে ভুলে সেখানে কদমকে আগলে রাখতে চায় সর্বস্ব দিয়ে।

লেখক স্মৃতি ভদ্রকে হয়তো অনেকে তার ‘রসুইঘরের রোয়াক’ বইটির জন্য চেনেন। তার লেখায় বাঙালি হিন্দু জীবনযাপনের যে সূক্ষ্ম ডিটেইলস—শৈশবের স্মৃতি, নির্দিষ্ট কোনো খাবার বা আচারের বর্ণনা থাকে—তা এই উপন্যাসেও এক চমৎকার বিশ্বাসযোগ্যতা তৈরি করেছে। স্মৃতি ভদ্রের শক্তি হলো সাধারণের মধ্যে অসাধারণকে খুঁজে পাওয়া। তাঁর পূর্বতন বইয়ে দেখেছি রান্নাঘর বা ঘরোয়া আচার-অনুষ্ঠান কেবল কোনো কাজ নয়, বরং তা বাঙালির মনস্তত্ত্ব আর সংস্কৃতির এক অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে ধরা দেয়। ‘নিহিত আগুনদিন’-এও আমরা দেখি, যুদ্ধের বিভীষিকার মাঝেও তিনি যখন ছোটখাটো জীবনযাপনের বর্ণনা দেন, তখন চরিত্রগুলো রক্ত-মাংসের হয়ে ওঠে। বড় বড় ঐতিহাসিক ঘটনার চেয়েও সেই সময়ে মানুষের দৈনন্দিন যাপনের যে সূক্ষ্ম আবেগগুলো হারিয়ে যাচ্ছিল, তা তুলে ধরাটাই সাহিত্যের সার্থকতা, যা স্মৃতি ভদ্র'র রচনায় বিদ্যমান।

সাম্প্রতিক অনেক লেখকের লেখায় যে ক্ল্যাসিক বাংলা সাহিত্যের স্বাদ পাওয়া যায় না, স্মৃতিভদ্রর লেখনী সেখানে একদম ব্যতিক্রম। তার ভাষার গাঁথুনি এবং বর্ণনার গভীরতা আপনাকে তৃপ্তি দেবে। এটি কেবল একটি মুক্তিযুদ্ধের উপন্যাস নয়, বরং চরম বিপন্নতার মধ্যে দুই নারীর টিকে থাকার এক শক্তিশালী জীবন-পাঠ।

যাঁরা ডিটেইলস সমৃদ্ধ এবং মনস্তাত্ত্বিক গভীরতা সম্পন্ন লিটারি ফিকশন পছন্দ করেন, তাঁদের জন্য বইটি অবশ্যই রেকমেন্ড করছি।
Displaying 1 - 2 of 2 reviews