১৭৯৯ সালে নায়েব নাজিম নুসরাত জঙের আমন্ত্রণে এক বিলেতি চিত্রকর এসেছিলেন ঢাকা শহরে, কেমন ছিল তাঁর সে সফর? নারিন্দা কবরস্থানে বহুদিন ধরে সমাহিত এক দুর্ভাগা তরুণ ইংরেজ, তাঁর জীবনের কাহিনির সঙ্গে ঢাকা কীভাবে জড়িয়ে? ঢাকার পিলখানার হাতি কীভাবে সাগর পাড়ি দিয়ে চলে গিয়েছিল সুদূর অস্ট্রেলিয়ায়? ১৮৫৭ সালে সিপাহি বিদ্রোহের উত্তাল সময়ের মাঝেই গড়ে উঠেছিল এ শহরের প্রথম জাদুঘর, কেন সেই জাদুঘর কালের আঘাতে বিলুপ্ত হলো? আঠারো শতক থেকে বিশ শতকের মাঝামাঝি অব্দি শুকনো মৌসুমে ঢাকা শহরে আগুন লাগাটা ছিল নিত্যকার ঘটনা, সেই সব ভয়াবহ অগ্নিদুর্ঘটনার বিবরণ কোথায় মিলবে? পাটুয়াটুলির এক ধাত্রী এমনই এক অগ্নিকাণ্ডে জনৈক নবজাতকের প্রাণ বাঁচিয়ে পরিণত হয়েছিলেন ‘লোকাল হিরো’-তে, যিনি আবার বিক্রি করতেন বইও-কে তিনি? সেকালের ঢাকায় নিয়মিত বিরতিতে ভোজবাজি দেখিয়ে স্থানীয়দের মুগ্ধ করতেন দেশীয় জাদুকররা, আসতেন ভিনদেশি বিখ্যাত ম্যাজিশিয়ানরাও-অবিশ্বাস্য মনে হয়? বলধার জমিদার নরেন্দ্রনারায়ণ নিজের ওয়ারীর বাগানে ফোটাতে চেয়েছিলেন দুর্লভ নীলপদ্ম, তিনি কি সফল হয়েছিলেন? ঢাকার দুই বিখ্যাত সিনেমাহল ‘ব্রিটানিয়া’ ও ‘লায়ন’-এর ছিল এক বর্ণাঢ্য অতীত, একালের চলচ্চিত্রপ্রেমীরা কি তা জানেন? এ বইয়ে ইতিহাস গবেষক তারেক আজিজ অতীত ঢাকার এমনই কৌতূহলোদ্দীপক এক ডজন অজানা আখ্যান নিয়ে হাজির হয়েছেন, আবারও।
অতীত ঢাকার আশ্চর্য ইতিহাস বইয়ের পরবর্তী খন্ড যেন এ বই। ঢাকা মহানগরীর অতীত ইতিহাস দারুণভাবে উঠে এসেছে এ বইয়ে।
নায়েব নুসরাত জং এর আমন্ত্রণে আসা ব্রিটিশ চিত্রকর, বিশপ হেবারের বন্ধুর বিষাদময় মৃত্যু, এ বাংলা থেকে অস্ট্রেলিয়ায় যাওয়া দুটি হাতির বিস্ময়কর যাত্রা থেকে শুরু করে ঢাকায় প্রথম সিনেমা হলের যাত্রা - দারুণ সব কাহিনি লিপিবদ্ধ করা হয়েছে এ বইটায়।
বিশেষত ঢাকা মহানগরীর অগ্নিকাণ্ড নিয়ে বেশ কিছু নতুন তথ্য অবগত হলাম। ভেবে খারাপ লাগে যে আজও ঢাকায় অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল।
এ অগ্নিকাণ্ডের সময়ে গর্ভবতী নারী ও তাঁর সদ্যজাত শিশুর জীবন রক্ষায় ঝুঁকি নিয়ে রীতিমতো হিরো হিসেবে পরিগণিত হয়েছিলেন একজন ধাত্রী। তিনি আবার ঢাকায় রীতিমতো বইয়ের ব্যবসা করে গিয়েছেন!
আসলেই কতো বিচিত্র সব কাহিনি লুকিয়ে আছে এ ঢাকা নগরীর অলিতে-গলিতে!