Jump to ratings and reviews
Rate this book

গোধূলিয়া

Rate this book

Hardcover

Published January 1, 1994

16 people are currently reading
161 people want to read

About the author

Nimai Bhattacharya

132 books68 followers
বাংলা সাহিত্যের এই খ্যাতিমান ঔপন্যাসিক নিমাই ভট্টাচার্য ১৯৩১ সালের ১০ এপ্রিল কলকাতায় জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর আদি নিবাস তৎকালীন যশোর জেলার মাগুরা মহকুমার (বর্তমান জেলা) শালিখা থানার অন্তর্গত শরশুনা গ্রামে। তাঁর পিতার নাম সুরেন্দ্রনাথ ভট্টাচার্য।

নিমাই ভট্টাচার্য বাংলাদেশের বগুড়া জেলার কালীতলার বিশিষ্ট ব্যবসায়ীর কন্যা দীপ্তি ভট্টাচার্যকে বিবাহ করেন। কলকাতার টালিগঞ্জের শাশমল রোডের বাসায় বসবাস করতেন তিনি।

জীবনের টানে, জীবিকার গরজে কক্ষচ্যুত উল্কার মত এশিয়া-আফ্রিকা ইউরোপ- আমেরিকা, গ্রাম-গঞ্জ, শহর -নগর ঘুরে বেড়িয়েছেন নিমাই ভট্টাচার্য। যারা তাঁকে ভালবেসে কাছে নিয়েছেন, তাঁদের সংগে লেনদেন হয়েছে হাসি-কান্না, স্নেহ-প্রেম ভালবাসার। হঠাৎ করেই একদিন তাঁদের কথায় লিখতে শুরু করলেন গল্প-উপন্যাস।

নিমাই ভট্টাচার্যের সাহিত্য চিন্তা তাঁর জীবনচর্চার একান্ত অনুগামী হয়ে দেখা দিয়েছে। ১৯৬৩ সালে তাঁর লেখা একটি উপন্যাস কলকাতার সাপ্তাহিক ‘অমৃতবাজার’ পত্রিকায় প্রথম প্রকাশিত হয় এবং সাহিত্যামোদীদের নিকট ব্যাপক প্রশংসা অর্জন করে। পরবর্তীকালে ‘রাজধানী নৈপথ্য’ রিপোর্টার. ভি. আই. পি এবং পার্লামেন্ট স্টীট নামক চারখানি উপন্যাস ঐ একই পত্রিকায় প্রকাশিত হয়। এরপর থেকে সাংবাদিকতার পাশাপাশি নিমাই ভট্টাচার্য পূর্ণোদ্যমে আরো আরো উপন্যাস লেখা শুরু করেন।

‘মেমসাহেব’, ‘ডিপেস্নাম্যাট’, ‘মিনিবাস’, ‘মাতাল’, ‘ইনকিলাব’, ‘ব্যাচেলার’, ‘ইমনক্যলাণ’, ‘ডিফেন্স’, ‘কলোনী’, ‘প্রবেশ নিষেধ’, ‘কেরানী’, ‘ভায়া ডালহৌসী’, ‘হকার্স কর্নার’, ‘রাজধানী এক্সপ্রেস’, ‘নিমন্ত্রণ’, ‘নাচনী’, ‘অ্যাংলো ইন্ডিয়ান’, ‘ডার্লিং’, ‘ম্যাডাম’, ‘ওয়ান আপ-টু-ডাউন’, ‘গোধুলিয়া’, ‘প্রিয়বরেষু’, ‘আকাশ ভরা সূর্য তারা’, ‘মোগল সরাই জংশন’, ‘ইওর অনার’, ‘ককটেল’, ‘অনুরোধের আসর’, ‘যৌবন নিকুঞ্জে’, ‘শেষ পরানির কড়ি’, ‘হরেকৃষ্ণ জুয়েলার্স’, ‘পথের শেষে’ প্রভৃতি প্রকাশিত উপন্যাসগুলি উল্লেখযোগ্য।

নিমাই ভট্টাচার্যের লেখা উপন্যাসগুলোতে বিষয়গত বৈচিত্র্যতার ছাপ প্রস্ফূটিত হয়ে উঠেছে। কোন কোন উপন্যাসে তিনি রাজধানীর অন্দর মহলের অন্ধকারে লুকিয়ে থাকা অভিজাত সমাজের কুৎসিত রূপের চিত্র তুলে ধরেছেন। কোথাও নীচু তলার মানুষের সুখ-দুঃখের জীবনকাহিনী চিত্রিত হয়েছে। তাঁর লেখায় কোথাও কোথাও অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার প্রতিবাদও লক্ষ্য করা যায়। আবার অনেক উপন্যাসে সোনালী আনন্দ দিনের বিলাপ লক্ষ্যণীয়। তাঁর লিখিত উপন্যাসগুলো সাহিত্যরস সমৃদ্ধ ও সুখপাঠ্য।

Ratings & Reviews

What do you think?
Rate this book

Friends & Following

Create a free account to discover what your friends think of this book!

Community Reviews

5 stars
28 (28%)
4 stars
42 (43%)
3 stars
20 (20%)
2 stars
3 (3%)
1 star
4 (4%)
Displaying 1 - 19 of 19 reviews
Profile Image for Sheikh Marzia Amin.
45 reviews1 follower
June 2, 2021
এতো বেশি সুন্দর বই আমি কখনো পরি নি মনে হয়। প্রদীপের মতো কতো গুলো মানুষ আমাদের মাঝেই বাস করে কিন্তু আমরা কেউ তাদের কষ্ট বুঝতে চেষ্টা করি না। তাদের মতো মা-বাবা ছাড়া জীবনে শুধু মানুষের দয়াই তারা শুধুমাত্র দেখে। কেও তাদেরকে আপন করে না পিসি, দিদির মতো। বেনারসের বিশ্বনাথে বিশ্বাস করা দিদি পিসি প্রদীপকে মায়া মমতায় জড়িয়ে রাখে কাশির বাঙালিটোলার গলির বিধবা পিসি থেকে এরপর দিদি এরপর দেবী তার জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মানুষের ভূমিকা পালন করে। তাদের তিনজনের জীবনের পরিনীতি এক হলেও তাদের স্নেহ- আদর ভালোবাসা তার কাছে ছিল সবচেয়ে মূল্যবান ।পিসির আদর দিদির বকুনি এবং দেবীর সঙ্গে কাটানো সময় সবচেয়ে ভালো সময় থাকে তার জীবনের। কখন যে কলকাতা থেকে বেনারসের কাশি তার কাছে বেশি আপন হয়ে যায় সে নিজেই জানতে পারে না। দেবীর সাথে দশাম্বমেধ ঘাট , গোধূলিয়ার মোর হরিসুন্দরী ধর্মশালায় কাটানো সময়গুলো কখন যে তার প্রিয় হয়ে যায় সে নিজেও বুঝতে পারে না। যদি ও তাদের গল্পটা অন্যরকম সবার থেকে ভিন্ন থাকে তবুও খুব সুন্দর থাকে। প্রদীপ-এর জীবনে শেষ পর্যন্ত থাকতে পারে না সেই তিনজন প্রিয় মানুষের মধ্যে একজনও তবুও অল্প সময়ে তৈরি করা তাদের শেষ চিহ্নটুকু তার মনে রয়ে যায় আজীবন । তখন থেকে ঠিক ১৫ বছর পরেও কাশি গিয়ে সে তার সবগুলো পরিচিত জায়গায় যায় এবং প্রতিনিয়ত তাদের স্মৃতিগুলো খুঁজে বেড়ায়।
Profile Image for Chandreyee Momo.
222 reviews30 followers
October 13, 2022
বইটার প্লট আমার বেশ ভাল লেগেছে। সহজ, সুন্দর। তবে একটু সমস্যা আছে। বেশ অনেক জায়গায় মনে হচ্ছিলো একই জিনিস পড়ছি। ঘুরেফিরে বারবার। ঘটনাক্রম গুলো তেমনই করে লিখেছেন লেখক। আর কিছু কথাবার্তা কেমন যেন। বাস্তবে এভাবে আমরা হয়তো আলাপ করিনা অপর দিকের মানুষের সাথে।
Profile Image for Dipayon Dev.
10 reviews1 follower
April 29, 2022
-গোধূলিয়া

"এই পৃথিবীতে এসে ঘুম ভাঙার প্রায় পরপরই দেখলাম মা নেই৷ আরো একটু বেলা হলে দেখলাম ঘর খালি। চড়ুই পাখির মতো কখনো এখানে, কখনো ওখানে, কখনো মাসী, কখনো বা দূরসম্পর্কের অন্য কোন উদার আত্মীয়ের কৃপায় নানা জায়গায় উড়ে উড়ে ঘুরে বেড়াবার পর একদিন হঠাত আবিষ্কার করলাম, আমি নাকি শিক্ষিত। এবার আমাকে নিজের পাখনায় ভর করে অপরিচিত সংসারের মহাকাশে ঘুরে বেড়াতে হবে। আমি থমকে দাঁড়ালাম। আপনজন কাছে না পেলেও কোনো দিনই একা ছিলামনাহ। এবার সত্যি সত্যি অনুভব করলাম, আমি একা। নিঃসঙ্গ।"

পৃথিবীতে অনেকে খুব ছোট বয়স থেকেই একপ্রকার ভালোবাসা বঞ্চিত হয়ে বেড়ে উঠে। জীবনের শুরুর সময়ে ভালোবাসার ছোঁয়া না পাওয়ার ফলসরুপ এ মানুষগুলো বড্ড ভালোবাসার কাঙাল হয়ে থাকে। যে মানুষ তাদের একবার ভালোবাসা দিয়ে দেখেছে সে ই জানে এরা দরদ পেলে কতগুণ দরদ ফেরত দেয়ার ক্ষমতা রাখে। এদের লয়ালিটি কুকুরের চে বেশি না হলেও তুলনায় যে খুব কম পড়ে যাবে তাও বলা যায়নাহ। আর এই ভালোবাসা বঞ্চিতদের মধ্যে একজন আমাদের 'প্রদীপ'।

কাশীরাজের স্নেহের পাত্র হবার কারণে খুব ছোটবেলাতেই প্রদীপের বাবা-মা'র কাশীতে মৃত্যু হয়। ফলশ্রুতিতে তাকে বেড়ে উঠতে হয় তার দূরসম্পর্কের কাকার বাড়িতে আশ্রিত হয়ে। কিন্তু যৌবনের পরশ পেতে না পেতেই আমাদের বাঙালি যুবকদের গায়ে একটা শিক্ষিতের ট্যাগ লেগে যায়। তাই যৌবনকে বুঝে উঠার আগেই প্রদীপকে বাবু হয়ে কলকাতার রাস্তায় নেমে যেতে হয় চাকরির খোঁজে। কিন্তু তাকে অবাক করে দিয়ে চাকরির পরিবর্তে বিশ্বনাথ তাকে পাইয়ে দেন এক সমুদ্র ভালোবাসা।

বেনারস স্টেশনের হট্টগোল, মোগলসরাই ফেলে কাশীর বিখ্যাত গোধূলিয়ার মোড় থেকে দক্ষিণে কিছুক্ষণ যেতেই বাঙালিটোলা। আর সেই বাঙালিটোলার নানান ঘিঞ্জি অলিগলি ঘুরে সেই কোনো এক গলির ধারে আমাদের দেবযানীর ঘরের দেখা নিশ্চয় আপনি পেয়ে যাবেন। দেবযানী কে সবাই দেবী বলে ডাকে। আর এইযে দেবীকেই কালচক্রের কোনো এক উষ্ণ বিকেলে আবিষ্কার করে বসে কলকাতার চাকরী সন্ধানেষু প্রদীপ। অতপর ভালোবাসা।

দেবী আমাদের কাশীর অন্যন্য বিধবাদের মতো বৃদ্ধা নয়। তার এখন ফুরফুরে যৌবন বলতে যা বোঝায় ঠিক তাই ই। কিন্তু দেবী যে বিধবা। সেই ১৯৬০-৭০ এর দশককে ঘিরে যে গল্পের সুচনা সেখানে একজন বিধবার যা কিছু কুসংস্কার, সমাজের চাপিয়ে দেয়া অহেতুক গোড়া নীতি তা ভেঙ্গেত দেবী ভালোবাসার মতো একটা পাপ করতে পারেনাহ। না পারবেনাহ সে প্রদীপের সাথে এক ছাদের নিচে ঠাই খুঁজে নিতে, না পারবে নিজেকে উজাড় করে দিয়ে ভালোবাসতে। তবে?

ঠিক এ জায়গাটাতেই এসে আমার বারবার রুদ্রের দুইটা লাইন মনে পড়ছে খুব-
"মেঘের মেয়ে, খুব কাছে এসোনা কোনোদিন
যতটা কাছে এলে লোকে কাছে আসা বলে।"

প্রথমে আমি যে লেখাগুলো কোট করে দিয়েছি তা গোধূলিয়ার প্রথম পাতা থেকে নেয়া। খুবই সুন্দর নাহ? হ্যা, প্রচন্ড সুন্দর, বিশুদ্ধ, স্বচ্ছ এবং গোছালো। এ কারণে প্রথম কয়েক পাতাতে গোধূলিয়া নিয়ে আমার আশা-আকাঙখা আকাশ ফুঁড়ে বেরিয়ে যায়। কিন্তু দেখা গেল আমি যতই পাতা উলটাচ্ছি ততই আমি আস্তে আস্তে মাটিতে নেমে আসছি। নামতে নামতে বই শেষ করে ধুম করে একটা আছাড় খেলাম। বুঝতে পারলেননা?

নাহ, কাহিনীর ধারাবাহীকতা অতীব সুন্দর। গোছালো। কিন্তু যা কিছু মুশকিল তা ভেতরের চরিত্রদের নিয়ে। তাদের সংলাপ কিংবা কার্যকলাপ কোনোটাই আমার ঠিক লাগেনিহ। বারবার প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে। কিছুবার মনে হয়েছে এ বড্ড আদিখ্যেতা, আবার মনে হয় এও কি হয় নাকি। এতো অবাস্তব? এভাবেই কি তখনকার মানুষ চলত? আমার ধারণা হয়ত তাই ই।

আমি বুঝলাম এটা প্রেমের উপন্যাস। কিন্তু সব যায়গায় কি প্রেম ঢুকিয়ে দেয়া জরুরী? যেমন একটা অংশে যেখানে উপন্যাসের প্রধান একটা চরিত্র মারা গেছেন এটা শুনার পরে শুধু 'সেকি' বলেই আবার প্রেমের সংলাপে চলে গেলেন লেখক। এ কেমন ব্যাপার? তাছাড়া প্রেমের যে একটা স্বাভাবিক মান, অভিমান, অভিযোগের খেলা আছে তাই ই যেন বারবার বাঁধছাড়া হয়ে পড়ছিল।

আমার মতামত হচ্ছে- 'গোধূলিয়া' কে যদি আমি তিন ভাগ করি। তবে বলব প্রথম দিককার দু-তিন পাতা। মাঝখান ভাগের অংশের বর্ণনা বেশ ভালো লেগেছে। আর শেষের দু-তিন পাতা।

এই হচ্ছে কথা। এখন আপনার মন চাইলে পড়ে দেখতে পারেন। খুব একটা বেশি বিরক্তি আসবেনাহ হয়ত।
Profile Image for AR Dipu.
37 reviews1 follower
September 22, 2020
কিছু কিছু ব্যাপারে মনে হয়েছে যেন বড্ড বেশি আদ্যিখেতা। তবে ভেবে দেখতে হবে এই উপন্যাসটা যে সময়ের কথা বলছে সে সময়ে হয়ত আবেগের বহিঃপ্রকাশ এভাবেই হত। গোধূলিয়া আমার পড়া নিমাই ভট্টাচার্যের প্রথম উপন্যাস। অভিজ্ঞতা ভাল। সব মিলিয়ে অবশ্যই একটি সুন্দর এবং পড়ার মত উপন্যাস।
Profile Image for Muniea Akter.
50 reviews
July 6, 2023
খারাপ না মোটামুটি আর কি
৩.৫/৫
Profile Image for Auvijit Paul.
4 reviews9 followers
Read
February 25, 2019
প্রেমের উপন্যাস নয়, বিরহেরও নয়, আবার দুটোরই। গোধূলিয়া শুধু নামে নয়, মলাটের রঙ্গে নয়, ভাষার ব্যবহারে, বাক্যের সজ্জায় সাবলীল। নিমাই ভট্টাচার্য্যের মেমসাহেবের পর আরো একজন মেমসাহেবকে দেখে আসার ইচ্ছে হলে গোধূলিয়া নির্দ্বিধায় পড়তে পারেন।
Profile Image for Raei Akhouri.
6 reviews
May 14, 2020
I generally don't like reading love stories, but this novel is an exception. Loved the story ❤️.
Profile Image for Avijit Biswas.
9 reviews2 followers
June 27, 2021
কিছু বই পড়ার পর কেমন একটা হাহাকার বোধ হয়। এটা তেমনই। অসাধারণ লেখনী।
Profile Image for Ruman.
5 reviews
July 25, 2025
নিমাই ভট্টাচার্য্যের লেখা এর আগেও পড়েছিলাম। উনার লেখার ধরণ আমার কাছে দারুণ লেগেছে। একদম সহজ ভাষায় এবং সুন্দরভাবে উনি গল্প তুলে ধরেন। গোধূলিয়া বইটির ক্ষেত্রেও তার এই লেখার ধরণ আমি পাইছি।

গল্পের প্লট অত্যন্ত সহজ, প্রথম পড়ায় যে কেউ বুঝে ফেলবে। এমন এক সময়ের অদ্ভুদ ভালোবাসার কাহিনী নিয়ে লেখা যখন বিধবাদের অনেক সংস্কার মেনে চলা লাগতো। ধর্মের নামে বিধবাদের অত্যাচার করা হতো। বিশেষ করে অল্প বয়সে যেসব মেয়েরা বিধবা হয়, তাদের সারাজীবন শুধু কষ্টই সহ্য করতে হয়। তেমনি একজন বিধবার অদ্ভুদ ভালোবাসার গল্প তুলে ধরেছেন। দেবীযান কাশীতে বাস করে; কাশীতে মূলত বিধবাদের জন্য আলাদা স্থান আছে। দেবীযান অনেক কষ্ট নিয়ে বাস করে। সেও একটু ভালোবাসার জন্য পাগল থাকে।

গল্পের অন্যতম এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র হচ্ছে প্রদীপ। প্রদীপ জন্মের পরেই তার মা'কে হারায় এবং বাবা'কেও সে দ্রুত হারায়। তার ইহ জগতে কেউ নাই। ছোটবেলা থেকেই মানুষের ঘরে ঘুরে ঘুরে বেঁচে থাকে। কলকাতায় তার বাবার এক বন্ধুর কল্যাণে সে সেখানে থাকার সুযোগ পায়। বি.এ পাশ করার পর প্রদীপ নিজের উপার্জনের জন্য কিছু ছাত্রছাত্রী পড়ানো শুরু করে। এর কিছুদিনের মধ্যেই তার এক পিসীকে কাশী পৌঁছে দিতে যাওয়ার দরকার পড়ে। প্রদীপের এই জগতে কেউ নেই, তাই স্নেহের কাঙাল থাকে। পিসীর সাথে ট্রেনে যেতে যেতে অনেক গল্প এবং তার মায়ের পুরানো কথা জানতে পারে। তার এই সুধা পিসী একজন বিধবা। শুরুতে প্রদীপের ভালো না লাগলেও, পিসী তাকে যেভাবে নিজের ছেলের মতো কাছে টেনে নেয়; স্নেহ এবং মায়া-মমতা দেখায় তাতে পিসীকে তার ভালো লাগে। বুড়া পিসীর সাথে কাশীতে যাওয়ার পরেই সে দেখতে পায় এক অন্য বাস্তবতা। অসংখ্য বিধবা পিসীর সাথেও পরিচয় হয়।

কাশীতেই প্রদীপের সাথে পরিচয় দেবীযানের। সবাই দেবীযানকে দেবী বলে ডাকে। এরপর দেবীযান,ভানুদা এবং দেবীর দিদির সাথে পরিচয় হওয়ার পর প্রদীপের অত্যন্ত ভালো লাগে। বিশেষ করে দেবীযানের সহজভাবে মেশা এবং তার ব্যক্তিত্ব প্রদীপের কাছে ভালো লাগে। ছোটবেলা থেকেই স্নেহের অভাবে বড় হওয়া প্রদীপ এই পর্যায়ে এসে এতো স্নেহ এবং আদর যত্ন পেয়ে প্রচন্ড খুশি হয়।

প্রদীপ আবার কলকাতা ফিরে আসলেও তার মন পড়ে থাকে কাশীতেই। লেখক পুরা উপন্যাসেই কাশী সম্পর্কে অনেক ভালো ব্যাখ্যা দিয়েছেন। তৎকালীন কাশী কিরকম ছিলো সে সম্পর্কে ভালো একটা ধারণা লেখক দিতে পেরেছেন। এছাড়াও লেখক কলকাতা নিয়েও অল্প ধারণা দিয়েছেন।

গল্পের আরো কিছু চরিত্র আমার কাছে ভালো লেগেছে—ভানুদা, আল্পনা, কল্পনা। এই তিন চরিত্র অল্প সময়ের জন্য গল্পে থাকলেও এদের ইমপ্যাক্ট অনেক বেশি ছিলো। বিশেষ করে আল্পনার সাথে যেভাবে উপন্যাসের শেষ হয় সেটা খুবই অদ্ভুদ ছিলো। কিন্তু, গল্পের শেষে অত্যন্ত দুঃখ লাগবে দেবীযানের জন্য এবং ভালো লাগবে প্রদীপের জন্য।
Profile Image for Mubtasim  Fuad.
350 reviews45 followers
November 14, 2024
এতদিন যাবৎ আমি ভাবতাম, হুমায়ুন আহমেদের মতন ঘরোয়া পরিবেশ কেন্দ্রিক উপন্যাস হয়ত অন্য কেউ লেখে না। কিন্তু এখন বুঝলাম, আমি আসলে ডোবার সেই ব্যাঙ হয়ে ছিলাম যে কখনো সমুদ্র দেখে নাই তাই ডোবাকেই সমুদ্র ভাবত৷

আনিসুল হকের লেখা এই প্রথম একটা বই পড়লাম। লাইব্রেরি থেকে রেজিস্ট্রি করে আনা আমার জীবনের প্রথম বই এটা। বইটার নাম আমার কাছে দারুণ লাগছিল, গোধূলি। সূর্যের অস্ত যাওয়ার করুণ মুহুর্তটা কে লেখক তার উপন্যাসের নাম হিসাবে ব্যবহার করেছেন৷
বইটার জনরা নিয়ে আমি খানিকটা দ্বিধাবোধে ছিলাম, ভেবেছিলাম হয়ত কোন অপূর্ণ ভালোবাসার গল্পের বই হবে। মজার বিষয়, আসলেই তাই! তবে এখানে প্রেমিক-প্রেমিকার ভালোবাসাকে মূল আকর্ষণে রাখা হয় নাই। বরং এক বয়স্ক মা এবং তার সন্তানদের মাঝে ভালোবাসার অপরিণতাটাকে দেখানো হয়েছে।
বইটা পড়ার সময় সত্যিকার অর্থে খারাপ লাগছিল অনেক। "মা" সেই ছোট থেকে কত স্নেহে বড় করে তোলেন আমাদের, কিন্তু তাদের বৃদ্ধ বয়সে যখন তারা সন্তানদের প্রতি নির্ভর হয়ে পড়ে তখন সন্তান, নিজের নিজস্ব জীবনকে অধিক প্রাধান্য দেয়, অবজ্ঞার শিকার হয়, বয়স্ক বাবা মা! কতটা মানসিক হীনমন্যতা তাদের আকড়ে ধরে তা বইটা পড়ার সময় টের পাচ্ছিলাম।

আনিসুল হক দারুণ লেখক! ওনার আরো বই পড়ব ভবিষ্যতে ইনশাআল্লাহ।
Profile Image for Mahedi.
20 reviews
November 7, 2022
I like Nimai Bhattacharya's writings even though my friends think otherwise. I really liked his book, Bachelor.
Thought this book would be the same. It was not.
In this book, most of the characters are forgettable except of course the main protagonist boy and the girl. It's not like the writer did not write about other characters, it's just that those characters were really not important. The story is so boring half of the time. The other half of the time it gets more interesting but later falls in its face again. Hence, had to stop reading halfway through.
Profile Image for Aprotim  Saha.
14 reviews3 followers
May 28, 2024
বিরহ প্রেমিদের আমি বই রিকমেন্ড করলে নিমাই ভট্টাচার্যের "গোধূলিয়া" রিকমেন্ড করি।

দ্রবিভূত হওয়া পর্যন্ত টেনে ধরে রাখার ব্যাপারটা সহজে সয়ে যায়। প্রেমেও পড়া হয়, সাথে হৃদয় মন্থন দুটোই পাশাপাশি ঘটে। শেষ যাকে বইটা পড়তে বলেছিলাম সেও পড়ার পরে আলাপ জুড়ে দিয়েছিলো। অথৈ সময়ের পরিক্রমায় আজ আর একসাথে আলাপ হয়না যদিও, তবুও আমার এখনও গঙ্গা নদীর তীরে বসে সেই নদী ঘেঁষা ঘাঁটের আলাপচারিতা মনে পড়ে খুব। আলো আঁধার ফুরায়ে এখন প্রেমে পড়া দারুন ব্যাপার যদিও। এই হিম শীতল শয্যা ছেড়ে প্রেমধন্য মানুষ তার অবয়ব খুঁজে পায় এই অবেলার সাধনায়।
Profile Image for আতিফ  ইমরান.
2 reviews
February 21, 2023
আমার পড়া বেস্ট রোমান্টিক উপন্যাস। মেম সাহেব এর থেকেও বেশি ভালো লাগা কাজ করছে বইটি পড়ে।
Profile Image for Mousumi Maya.
89 reviews
May 28, 2023
একটি বেদনাদায়ক বই,
তবে পড়ে বেশ মজা পেয়েছি
কারণ, বর্ণনা এবং লেখার ধরণ বেশ আরামের ;
কিঞ্চিৎ কাশি থেকে ঘুরে এলুম যেন!
Profile Image for Fariha Sultana.
7 reviews
September 29, 2023
রূপকথার কাল্পনিক গল্পের চেয়েও বেশি অবাস্তব প্রেম দেখিয়েছেন লেখক, ঘুরেফিরে এ যেন আরেকটি "মেমসাহেব" (লেখকের জনপ্রিয় একটি বই) বই পড়লাম।
Profile Image for Tahsin.
109 reviews6 followers
November 21, 2022
বইটাতে ভাল লাগার কিছু জিনিস যেমন ছিল, কিছু কিছু ঘটনা আবার ঠিক মনঃপুত হয় নাই।

বইয়ের শুরুটা সুন্দর। কলকাতাবাসী এম.এ পাশ প্রদীপ একদিন বিপদে পড়েই দূর সম্পর্কের এক পিসিকে কাশী পৌঁছে দেওয়ার ভার পায়। কাশী যাবার পথে মাতৃহারা পিসির দুঃখভরা কাহিনী আর আদর ভালবাসা পেয়ে কাশীর প্রতি আলাদা এক টান চলে আসে। সেই কাশীতেই আরও বহু বিধবার জরাগ্রস্ত জীবনের গল্প বেরিয়ে আসে। আর দেখা মেলে দেবযানী নামের বলিষ্ঠ চরিত্রের একটি মেয়ের। একাকী বেড়ে উঠা প্রদীপ তখন দেবীর মধ্যে এক আত্মীয়তার বন্ধন খুঁজে পায়।

হঠাৎ একদিন প্রদীপের কলকাতার এক ছাত্রী, কল্পনার বাবা মারা যাওয়ার খবর আসে, এবং প্রদীপের কাকাবাবু তাকে কল্পনাদের বাড়িতেই উঠতে বলেন। আর নিজ দৈন্যর ভার চুকানোর জন্য কল্পনার বড় বোন আল্পনার সাথে প্রদীপের বিয়ের জন্য কথা দিয়ে ফেলেন।

কিন্তু প্রদীপ এতে বাঁধা দেয়, পাটনায় চাকরি পাওয়ায় কলকাতা ছেড়ে যাবার সিদ্ধান্ত নেয়। তবু কাশির টানে একবার গোধূলিয়ার প্রান্তে ঘুরে আসতে গিয়ে অনেকগুলো দুঃসংবাদ এসে ভীড় করে। শেষ পর্যন্ত প্রদীপ যে নির্জন দ্বীপের বাসিন্দা ছিল, সেই দ্বীপকুলেই আটকা পড়ল।

বইটায় অনেকগুলো সুন্দর ভাবনা ছিল, এমন কিছু বিষয় ছিল যা আমরা বেশিরভাগ মানুষই জানি না, বা জানার আগ্রহ দেখাই না। কাশীবাসী সেই সকল বিধবাদের কথা, কিংবা সমাজ-সংস্কৃতির বেড়াজালে আবদ্ধ হয়ে দেবীর মত অকৃত্তিম ও আন্তরিক একটা মেয়ের জীবনের সকল শখের মৃত্যু, পুরোটাই মনে আঘাত করে।

তবে বইটায় মাঝে মধ্যে সংলাপের কিছু বাহুল্য চোখে পড়েছে। কিংবা হয়ত তখন এমন ভাষাই প্রযোজ্য ছিল।
গল্পের শেষটা সুন্দর না,
Profile Image for Nafisa Anjum.
226 reviews13 followers
October 25, 2024
Love stories don't fascinate me but this novel is an exception.
কিছু কিছু ব্যাপারে মনে হয়েছে যেন বড্ড বেশি আদ্যিখেতা। তবে ভেবে দেখতে হবে এই উপন্যাসটা যে সময়ের কথা বলছে সে সময়ে হয়ত আবেগের বহিঃপ্রকাশ এভাবেই হত। মেমসাহেব পড়ার পর লেখকের পড়া দ্বিতীয় বই এইটা। কোনরকম আশা ছাড়াই পড়তে শুরু করেছিলাম। বইটার প্লট আমার বেশ ভাল লেগেছে। সহজ, সুন্দর।

বইটায় অনেকগুলো সুন্দর ভাবনা ছিল, এমন কিছু বিষয় ছিল যা আমরা বেশিরভাগ মানুষই জানি না বা জানার আগ্রহ দেখাই না।
Profile Image for Ummea Salma.
126 reviews124 followers
January 18, 2019
দেবী চরিত্রটাকে ভালো না বেসে পারা যায় না। দেবীর মারা যাওয়াটা কি খুব প্রয়োজন ছিলো?

জানিনা সবার এটা মনে হবে কিনা কিন্তু পড়ে শেষ করার পর মনে হয়েছে কিছুটা হলেও শরৎচন্দ্রের শ্রীকান্ত এর ছায়া অবলম্বনে লেখা।
This entire review has been hidden because of spoilers.
Displaying 1 - 19 of 19 reviews

Can't find what you're looking for?

Get help and learn more about the design.