জলের অন্ধকার গভীর থেকে উঠে আসে আলো। জীবনের মতোই তার উদ্ভাস। এই বইয়ে প্রতিদিনের বেঁচে থাকার কথাই লেখা আছে কখনও ছন্দ-অন্ত্যমিলে, কখনও বা গদ্যের ভঙ্গিমায়। অন্ধকার, একাকিত্ব, মনখারাপের নীচে যে বেঁচে থাকার ইচ্ছে রয়ে যায়, যে ভালবাসার স্রোত বইতে থাকে তাই ধরা আছে আটপৌরে কথায়, ইঙ্গিতে। ধরা আছে দুপুরের নির্জনতা, শূন্য পথের অপেক্ষা, ফুল ঝরে পড়ার শব্দ। নাগরিক জীবনের ছায়াচ্ছন্ন জলের মধ্যে যেসব মানুষ শালুকের মতো ফুটে থেকে ভেসে থাকে, তাদের আশা-আকাঙ্ক্ষার কথাও বোনা আছে এর পাতায়।
‘শালুক’ একটি সহজিয়া প্রাণের বই। ভালবাসার কথা যা অনেক চেষ্টা করেও প্রিয়জনকে বলা হয়ে ওঠে না, সেসবই এই বইটি বলার চেষ্টা করেছে। চেষ্টা করেছে মানুষকে একে অন্যের কাছে এনে দিতে। শালুকের মতো ভাসিয়ে রাখতে এই ছায়াময় জলাশয়ের মতো জীবনে।
স্মরণজিৎ চক্রবর্তীর জন্ম ১৯ জুন ১৯৭৬, কলকাতায়। বর্তমানে দক্ষিণ কলকাতার বাসিন্দা। পৈতৃক ব্যবসায় যুক্ত। প্রথম ছোটগল্প ‘উনিশ কুড়ি’-র প্রথম সংখ্যায় প্রকাশিত। প্রথম ধারাবাহিক ‘দেশ’ পত্রিকায় প্রকাশিত। শৈলজানন্দ স্মৃতি পুরস্কার ২০১৪, এবিপি এবেলা অজেয় সম্মান ২০১৭, বর্ষালিপি সম্মান ২০১৮, এবিপি আনন্দ সেরা বাঙালি (সাহিত্য) ২০১৯, সানডে টাইমস লিটেরারি অ্যাওয়ার্ড ২০২২, সেন্ট জেভিয়ার্স দশভুজা বাঙালি ২০২৩, কবি কৃত্তিবাস সাহিত্য পুরস্কার ২০২৩, উৎসব পুরস্কার ২০২৪, সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় মেমোরিয়াল অ্যাওয়ার্ড ২০২৪, আনন্দ পুরস্কার (উপন্যাস: '‘শূন্য পথের মল্লিকা') ২০২৫ ইত্যাদি পুরস্কারে সম্মানিত ।