পঞ্চরহস্য নবকুমার বসুর লেখা পাঁচটি রহস্যকাহিনির সংকলন। পাঁচটি কাহিনিতেই রহস্যভেদীর ভূমিকায় অবতীর্ণ সত্যান্বেষী চিকিৎসক ডা. সোমদেব গুহ। অভিন্নহৃদয় বন্ধু সাংবাদিক মানিক ব্যানার্জি তাঁর সহকারী। বুড়ো গোয়েন্দা, মানিক অ্যাসিস্ট্যান্ট-এই নামেই তাঁরা ক্রমশ অপ্রতিরোধ্য হয়ে উঠছেন।
সংকলনের প্রথম নভেলা নিশীথে সংহার।
অভিশপ্ত এক দুর্ঘটনায় বন্ধু সুজনের আকস্মিক মৃত্যুসংবাদে মানিক ছুটে যায়। কিন্তু অকুস্থলে পৌঁছে মানিকের মনে প্রশ্ন জাগে, সুজনের মৃত্যু কি আদৌ দুর্ঘটনা? না কি খুন? মৃত্যুরহস্য ভেদ করতে অতঃপর ডাক্তার সোমদেবের আবির্ভাব।
দ্বিতীয় কাহিনি মন জানে পাপ কলকাতার প্রান্তসীমায় অবস্থিত সুদক্ষিণা নার্সিংহোমকে কেন্দ্র করে। রুদ্ধশ্বাস রহস্য উন্মোচনের পাশাপাশি এই উপন্যাসে পাঠককে এক গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়ে দেন লেখক।
আড়ালে আততায়ী সংকলনের তৃতীয় নভেলা। শান্তশিষ্ট, কৃতী, প্রবাসী এক চিকিৎসক তাঁর দিদির মফস্সলের বাড়ি থেকে হঠাৎ বেপাত্তা হয়ে গেলেন! প্রবল উৎকণ্ঠায় চিকিৎসকের দিদি দ্বারস্থ হলেন মানিকের। কিন্তু শেষরক্ষা হল না। চারদিন পরেই আকস্মিক হৃদরোগে ওই চিকিৎসকের মৃত্যু হলেও, ময়নাতদন্তের রিপোর্টে বিষ পাওয়া গেল তাঁর শরীরে। স্বতঃস্ফূর্ত আগ্রহেই অনুসন্ধানে জড়িয়ে পড়লেন ডা. সোমদেব গুহ। উন্মোচিত হতে থাকল জীবন ও সম্পর্কের এক বিচিত্র ধারাপ্রবাহ, যার তীব্র গতিতে বেগবান হয়ে ওঠে এই অদ্ভুত কাহিনি।
শহর কলকাতার এক বর্ধিষ্ণু পরিবারের নিবিড় টানাপোড়েনের কাহিনি নিয়ে সংকলনের চতুর্থ উপন্যাস- পুনরায় চিত্তে গমন। সংস্কৃত এই অভিধার বাংলা প্রতিশব্দ প্রায়শ্চিত্ত। গৃহকর্ত্রীর রহস্যাবৃত মৃত্যুর গভীরে প্রকৃত যে সামাজিক, অর্থনৈতিক ও পারিবারিক দোলাচল, তার উৎস সন্ধান করেছেন সত্যান্বেষী ডাক্তার সোমদেব গুহ।
অন্তিম উপন্যাস দুইয়ে পক্ষ-র পটভূমি বিদেশ।
একটি কুকুরের অস্বস্তিকর ডাকের সূত্র ধরে এই কাহিনির রহস্য ঘনীভূত হয়। পাকেচক্রে ইংল্যান্ডে সপরিবারে হলিডে উপভোগ করতে গিয়ে বুড়োও শেষপর্যন্ত জড়িয়ে পড়েন সেই অদ্ভুত জটিল আর হৃদয়বিদারক ঘটনার সঙ্গে।
নবকুমার বসু-র জন্ম ১০ ডিসেম্বর ১৯৪৯। উত্তর চব্বিশ পরগনার শিল্পাঞ্চলে চূড়ান্ত অভাব ও দারিদ্র্যের মধ্যে শৈশব, বাল্যকাল কেটেছে। স্কুলে ফ্রি অথবা হাফ-ফ্রি হিসেবে পড়াশুনা। পূর্ব এবং পশ্চিমবঙ্গীয় মিশ্র সাংস্কৃতিক ধারায় বড় হয়ে ওঠা। পণ্ডিত এবং শিক্ষাব্রতী দাদামশাই যোগেন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায়ের সাহচর্যে এবং সান্নিধ্যে প্রাথমিক অধ্যয়ন। লেখাপড়া। উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার পরে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে চিকিৎসাশাস্ত্র অধ্যয়ন। এমএস পাশ করার পরে শল্যচিকিৎসক হিসেবে প্রতিষ্ঠা। ’৯৩ সাল থেকে ইংল্যান্ড প্রবাসী, সরকারি চিকিৎসা বিভাগে কর্মরত।স্কুলজীবন থেকে সাহিত্যচর্চা, হাতে লেখা পত্রিকা প্রকাশনা। স্কুল-কলেজ ম্যাগাজিনের পরে দেশ-পত্রিকায় প্রথম গল্প ১৯৭৭ সালে। লিটল ম্যাগাজিন আন্দোলনে যুক্ত, অজস্র ছোটগল্প লেখা চলেছে একই সঙ্গে লিটিলম্যাগ্ এবং প্রতিষ্ঠিত পত্র-পত্রিকায়। ছোটদের গল্প, রহস্য কাহিনী, ধারাবাহিক উপন্যাস লিখেছেন। এছাড়াও রয়েছে গল্পগ্রন্থ ও ভ্রমণ উপন্যাস। বাংলা সাহিত্যের একনিষ্ঠ পাঠক। প্রবাসেও বাংলাভাষার প্রসার ও চর্চার ব্যাপারে উৎসাহী। ‘চিরসখা’ প্রথম দীর্ঘতম উপন্যাস।