সে কেবল ইংরেজি সাহিত্যের কৃতী ছাত্রী নয়, চোখ আর চুলের সংকেতেও মেধাবিনী। সাহিত্য, কবিতা, সিনেমা, থিয়েটার আর সমুদ্র তার প্যাশন। আসক্তি ইণ্টারনেটেও। আবার কখনও একলা ঘরে লেডি ম্যাকবেথ সেজে অভিনয় করে। বাংলাব্যান্ড ‘সামগান’-এর লিড গায়ক আর কলকাতার অন্যধারার ফিল্ম ও থিয়েটারের প্রতিভাবান অভিনেতা রাজশংকর তার হার্টথ্রব। কিন্তু রাজ ভালোবাসে টিভি সিরিয়ালের উঠতি অভিনেতা রিমি সান্যালকে। রাগে, ঈর্ষায় সে পাগল হয়। অনন্যা হয়ে ওঠে বিষকন্যা! পরিচিত একজনের খুনের সূত্রে তদন্তে নেমে ডিকে শুরুতে নাজেহাল হয়। কে এই রহস্যময়ী? ডিকে আশ্রয় নেয় কবিতার। শেষপর্যন্ত কি সে খুঁজে পেল বিষকন্যাকে? কবিতা, প্রেম, সমুদ্র আর সিনেমা নিয়ে রুদ্ধশ্বাস প্রাপ্তমনস্ক ক্রাইম থ্রিলার। ‘
দেবতোষ দাশ-এর জন্ম ১১ জানুয়ারি ১৯৭২। মা-বাবা-স্ত্রী-কন্যাসহ থাকেন দক্ষিণ শহরতলি সুভাষগ্রামে। যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তুলনামূলক সাহিত্যে স্নাতকোত্তর। রাজ্য সরকারের ভূমি ও ভূমি-সংস্কার দফতরে কর্মরত। প্রথম গল্প প্রকাশ ১৯৯৫ সালে ‘অপর’ পত্রিকায়। গল্প প্রকাশিত হয়েছে দেশ, রবিবাসরীয় আনন্দবাজার পত্রিকা, শারদীয়া প্রতিদিন, শিলাদিত্য, কিশোরভারতী পত্রিকায়। লেখেন নাটকও। নান্দীকার তাঁর নাটক ‘বিপন্নতা’ মঞ্চস্থ করে ২০১৪ সালে। নাটক ‘ওচাঁদ’ লিখে পেয়েছেন সুন্দরম পুরস্কার। প্রকাশিত উপন্যাস: ‘বিষকন্যা’, ‘বিন্দুবিসর্গ’ এবং ‘সন্ধ্যাকর নন্দী ও সমকালীন বঙ্গসমাজ’। সিনেমা, সংগীত আর খেলাধুলোয় আগ্রহী।
'বিষকন্যা' পড়ে অস্ট্রেলিয়ার কুখ্যাত ফাস্ট বোলার শন টেটের কথা মনে পড়ে গেল!
অসম্ভব গতিময় এই বোলার সেই অর্থে কোনোদিনই সর্বকালের সেরাদের দলে নাম লেখাতে পারেননি। কিন্তু, ওনার বিষাক্ত স্পিড এখনো ক্রিকেট প্রেমীদের মানসপটে সুখস্মৃতির মতো ঘুরেফিরে বেড়ায়। মোরাল অফ দি স্টোরি? স্রেফ গতি থাকলেই হয় না। সাফল্যের খাতিরে নিয়ন্ত্রণ লাগে। লাগে, লাইন, লেন্থ অ্যান্ড কন্ট্রোলের দখল। ভারতেই দেখুন না। হালফিলের কাশ্মীরি তরুণ, উমরান মালিক? বা সেই পুরোনো উমেশ যাদব? কত পোটেনশিয়াল। কত কি। শেষমেশ, যেই কে সেই।
এই উপন্যাসটিও কতকটা উপরোক্ত বোলারদের মত। এক্সপ্রেস গতির গদ্য। বাস্তবসম্মত বুনন। চোরকাঁটা সংলাপ। টানটান উত্তেজনা। শেষ কবে, এত দ্রুতগামী কিছু পড়েছি ঠিক মনে পড়ে না। গল্পকথনের অভিঘাতে একটা আস্ত নভেল, স্রেফ ছোটগল্প মাফিক পড়ে ফেললাম যেন। দেড়শো কিমি প্রতি ঘণ্টায় পাশ কাটিয়ে বেড়িয়ে গেলো এক সুপাঠ্য সাইকো-থ্রিলার! তবে, যদ্দুর বুঝলাম, এ জিনিস লেখকের কোনো সিরিজের অংশ। মূল গোয়েন্দা ধরণী কয়াল, ওরফে 'ডিকে'র প্রথম রোডিও এটা নয়।
তবে ওতে গল্পপাঠে কোনো ব্যাঘাত ঘটে না। কারণ, বইয়ের মূল আকর্ষণ, আমাদের 'বিষকন্যা' মধুজা। ডিকে নন।
এই বিষকন্যা নামটি নিয়ে অবশ্য আমার সামান্য আপত্তি আছে। সাইকোটিক হলেও গপ্পের আসল ক্রিমিনালের সাথে ঐতিহাসিক গুপ্তঘাতকদের কোনো প্যারালাল টানা মুশকিল। টানলেও, গল্পটির আমুদে কাব্যিক হৃদয়ের প্রতি কেজো কাঁচকলা দাগা হয়। তাই খটকা লাগে। সবটাই কেমন আরোপিত যেন। লেখক নিজেও যেন নামকরণটিকে নিয়ে খুব একটা স্বাচ্ছন্দ্যে নেই। নইলে, পত্র ভারতী থেকে বইটিকে তুলে নেওয়াকালীন, 'বিষকন্যা'কে হটিয়ে আবার পুরোনো নামে ফিরে যেতেন না উনি।
তাই আপনি যদি আগ্রহের বশে এ জিনিস পড়তে চান, তাহলে বইমেলায় গিয়ে ভূমিপ্রকাশের স্টলে দাঁড়িয়ে 'জলের প্রতিভা' নামক কোনো বই চাইতে হবে। 'বিষকন্যা' নামে কিছু আজ আর চাইলেও খুঁজে পাবেন না। উপন্যাসটির আদিনাম, 'জলের প্রতিভা'। যেই নামে, আজ থেকে প্রায় বছর দশেক আগে লেখাটি সংবাদ প্রতিদিনের 'ছুটি' ক্রোড়পত্রে ধারাবাহিক রূপে প্রকাশ পেত। যেই নামটি, আমার মতে অনেক বেশি ইন্টিমেট, মানানসই ও একদা মার্কেট ডিমান্ডের তাড়নায় জবরদস্তি বনবাসী।
সে যাই-হোক, জল্পনা থাক। কাজে ফিরি। শন টেটের উদাহরণ দিয়ে লেখা শুরু করেছিলাম। কারণ, যতই সুপাঠ্য হোক, উপন্যাসটি শেষ পর্যায়ে ব্যালেন্স হারায়। লেখকের গদ্য যথেষ্ট স্মার্ট। কিছু ক্ষেত্রে ওভারস্মার্টই বটে। তবে মধুজার মানসিক ম্যানিয়া ও অপরিণত অবসেশনের হিট-ম্যাপ, অগোছালো ইনার মনোলগ ও বিভ্রান্তিকর সংলাপ দ্বারা এঁকেছেন দারুন। আক্ষেপ, অমন বিশ্রী মার্গে হেঁটে, তাড়াহুড়ো সহিত সবটা গুটিয়ে নেওয়ার প্রবণতা। যা করতে লেখক সাহায্য নিয়েছেন কালান্তক সব ক্লিশের।
এছাড়াও, মধুজার চরিত্রায়ন দিব্যি ওভার দা টপ। যা উপন্যাসের খাতিরে মানতে কষ্ট হয় না। কিন্তু চোখে লাগে, মেয়েটির শারীরিক বর্ণনা, ড্রেসিং সেন্স ও প্রসাধনের প্রতি লেখকের দৃষ্টিকটু আগ্রহ। সেক্স অ্যাপিলের সূক্ষ্ম বিবরণে অতি উদগ্রীবতার প্রকোপ। কে জানে। হয়তো বা এক নিউ-এজ নারী চরিত্রের গ্ল্যামারাস ত্রিমাত্রিকতা উজিয়ে তুলতেই লেখকের এহেন প্রচেষ্টা। তবুও, কোথায় গিয়ে মনে হয়, এ যেন এক ক্ল্যাসিক কেস অফ মেন রাইটিং উইমেন। অহেতুক সেক্স্যুয়ালাইজেশন অফ এ ফেম্-ফেটাল।
এই আরকি। তাও একবার পড়ে দেখতেই পারেন। একখানা লঘু ক্যাট-অ্যান্ড-মাউস থ্রিলার হিসেবে এক বসাতে নামিয়ে দিলেন নাহয়? অসম্ভব খারাপ লাগবে না, এটা আমার গ্যারান্টি।
গত কয়েকদিন ধরেই ক্লাসিক জনরা পড়ছিলাম আর ভাবছিলাম এর মাঝে একটা থ্রিলার হলে মন্দ হতো না। কিন্তু কোনটা পড়বো তা ঠিক করতে পারছিলাম না। হঠাৎ করে "বিষকন্যা"র খোঁজ পেলাম গতকাল, এই গুডরিডসের সুবাদেই। বই সম্পর্কে এন্ট্রি করা কথা আর একটা রিভিউ দেখে আগ্রহী হলাম।
এক নারী চরিত্রকে কেন্দ্র করে পুরো কাহিনী আবর্তন, সেটা অবশ্য বইয়ের নাম আর প্রচ্ছদ দেখেই বোঝা যায়। কাহিনীর শুরু হয় অরিন্দম নামের এক ছেলেকে দিয়ে। সমুদ্রে ডুবে তার মৃত্যু হয়, মৃত্যুর সময়ে তার পাশে ছিল এক রহস্যময়ী সুন্দরী নারী। যদিও পুলিশ এটাকে একটা দুর্ঘটনা বলে মনে করে কিন্তু অরিন্দমের এক আত্নীয় পায় রহস্যের গন্ধ। এরপর থেকেই বিষকন্যার কাহিনীর শুরু।
এই বইয়ের শুরুটা কেমন যেন ছিল, লেখার মধ্যে কেমন যেন একটা ছাড়া ছাড়া ভাব! তাছাড়া মাঝে মাঝেই কিছু ইংরেজীর ব্যবহার ভালো লাগে নি। কারণ পড়তে পড়তে থেমে যেতে হচ্ছিল। সাধারণ প্রচলিত ইংরেজী শব্দগুলোর বাংলায় লিখিত উচ্চারণ পড়তে সমস্যা হয় না, কিন্তু যে গুলো একটু অপ্রচলিত সেগুলো পড়তে বেগ পেতে হয়। এই বইটা পড়তে গিয়ে অপেক্ষা করতে হয়নি যে এখন কি হবে, পরের পাতায় কি! সবকিছু সামনেই ছিল থ্রিলিং এর ব্যাপারটাকে বোধহয় তেমন গুরুত্ব দেয়া হয় নি, তবে বিষকন্যার কার্যকলাপ আর অপরাধ সংঘটনের প্রক্রিয়ার বেশ ভালো বিশ্লেষণাত্নক বর্ণনা ছিল।
মূল চরিত্রের চরিত্রায়ণে লেখককে সফল বলতেই হবে। নিঃসঙ্গতা,অন্তর্মুখিতা, হতাশা, প্রতিশোধপরায়ণ মনোভাব, সাহিত্য- বিশেষ করে কবিতা আর লেডি ম্যাকবেথের প্রতি অনুরাগ সব মিলিয়ে এই এন্টাগোনিস্ট নারী চরিত্রটি ছিল একদম জীবন্ত। তবে অন্যান্য চরিত্রের ক্ষেত্রে লেখক হয়তো একটু কম গুরুত্ব দিয়েছেন বলেই মনে হলো।
আর উপসংহারটা একদম ভাবনার সাথে খাপে খাপ মিলে গেছে :D এ ধরনের চরিত্ররা বেশিরভাগ এমনটাই করে; সিনেমাগুলোতে এমন উপসংহার হামেশাই দেখা যায়।
রুদ্ধশ্বাস থ্রিলার।ভীষণ থ্রিলিং ছিল পুরোটাই। মোটামুটি ৩০ পাতা পর্যন্ত পড়লেই কাহিনীর অন্দরে প্রবেশ করে যাবেন। শেষ না করা পর্যন্ত ওঠা যাবে না। মধুজা চরিত্রটিকে বেশ গ্ল্যামারাস লেগেছে,কি ব্যক্তিত্ব। মেয়েটি কি ধুরন্ধর,কিছুটা নাজিম উদ্দিনের "মুসকান জুবেরী"র মতো। এই লেখকের লেখা প্রথম পড়লাম, বেশ দ্রুত গতির ছিল, ভীষণ ভালো লেগেছে। শেষের দিকে তো আমার তর সইছিল না...কি হয় হয় ব্যাপার। By the way "www.jolerprotiva.com" সার্চ করে দেখতে পারেন।
কাহিনী সংক্ষেপ : কর্মসূত্রে কাঁথি যায় অরিন্দম।পথে আলাপ হয় সুন্দরী শ্রুতকীর্তির। একান্তে সময় কাটায় দুজনে দীঘায়। এককথায় অরিন্দম শ্রুতকীর্তির রূপে মুগ্ধ।পরদিন দীঘার সমুদ্রসৈকতে পাওয়া যায় অরিন্দমের মৃতদেহ। অরিন্দমের কাকা অভিজিৎ ভাইপোর মৃত্যুকে স্রেফ দুর্ঘটনা মানতে নারাজ।শরণাপন্ন হয় তারই এক কলিগ ধরণী কোয়াল, শর্টৈ DK. টুকরো কিছু সূত্র ধরে শুরু হয় তদন্ত। অন্যদিকে কলকাতার একটি হোটেলে সুইমিংপুলে ওই একই ভাবে ডুবে মারা যায় আরও একজন।এরসাথে ফেঁসে যায় উঠতি নায়িকা রিমি সান্যাল। সত্যিই কি রিমি জড়িত এই খুনের সাথে ? দুটি মৃত্যু কি একই সূত্রে গাঁথা ? খুনের মোটিভ কি ? সেই ধুরন্ধর খুনি কি শেষপর্যন্ত ধরা দেবে?
ওপার বাংলার রহস্য-রোমাঞ্চ/গোয়েন্দা কাহিনীর ভাণ্ডার বেশ সমৃদ্ধ। ব্যোমকেশ, কিরীটি রায়,ফেলুদা, কাকাবাবু, অর্জুন, অশোক ঠাকুর, জয়ন্ত-মানিক, বিমল-কুমার, কেদার-বদ্রি, ভাদুড়ী মুখার্জী, কর্ণেল, মিতিনমাসি, দময়ন্তী, কৃষ্ণা, গার্গী, দীপক চ্যাটার্জি, দীপক রায়, পরাশর, কিকিরা, শবর, বাসব, রহস্যভেদী মেঘনাদ, ইন্দ্রনাথ রুদ্র, জগুমামা, একেনবাবু, অশোকচন্দ্র গুপ্ত - আরো কত যে বিখ্যাত গোয়েন্দা চরিত্র আছে তার সঠিক হিসাব জানা নেই।
তবে পশ্চিমবঙ্গের থ্রিলার সাহিত্য নিয়ে কিছুটা আক্ষেপ থেকেই যায়। অতি সম্প্রতি ঈশ্বর যখন বন্দি, বিন্দু বিসর্গ, মরণবিভা, কর্কটক্রান্তি, মৃত্যুর নিপুণ শিল্পসহ আরও কিছু বইপত্র পড়ে ভাল লাগল। আর তারপর বেশ আয়োজন করেই কলকাতার থ্রিলার বই পড়া শুরু করেছি। তারই ধারাবাহিকতায় পড়ে ফেললাম দেবতোষ দাশের 'বিষকন্যা।"
আগেই বলেছি, বিন্দুবিসর্গ এবারের কলকাতা বইমেলায় প্রকাশিত বহুল আলোচিত বই। লেখকের অন্য বই খুঁজতে গিয়ে ২০১৩ সালে প্রকাশিত "বিষকন্যা" বইটা চোখে পড়ল।
# যা ভালো লেগেছেঃ
ভালো লেগেছে ব্যতিক্রমধর্মী লেখার ধরণ। জীবনানন্দ দাশের কবিতা থেকে শুরু করে শেক্সপিয়ার, থিয়েটার প্রেম - দারুণভাবে প্রতিফলন ঘটিয়েছে মূল চরিত্রের জীবনে। ইন্টারনেটের অলীক জগতে দু' দন্ড শান্তি খুজে বেড়ানো আম্রপালি অথবা বাস্তব জীবনের একাকী মনোজা - ভীষণ বাস্তব এক চরিত্র। ডিপ্রেশন,প্যাশন, রিভেঞ্জ, সেলফ সেন্টারড এটিচিউড- চমৎকারভাবে ফূটে উঠেছে চরিত্র বিন্যাসে।
গন গার্ল/দ্য গার্ল অন দ্য ট্রেইন অথবা সিডনি শেলডনের বইয়ের নারীচরিত্ররা পাঠককে বিস্মিত করে, শিহরিত করে। বিষকন্যা যেন তেমনই জটিল এক চরিত্র। ফোনকল থেকে শুরু করে সূক্ষ্ম পরিকল্পনার মাধ্যমে শিকারকে ফাঁদে ফেলার ক্ষেত্রে লেখক যথেষ্ট মাথা খাটিয়েছেন।
থ্রিল অথবা সাসপেন্স- থ্রিলারের যা মূল উপাদান, পুরো বই জুড়ে তার অভাব পরিলক্ষিত হয়েছে। কিছু কিছু জায়গায় বর্ণণাভঙ্গি এত বেশি ঝুলে গিয়েছে, যে মনে হচ্ছিল থ্রিলার নয়, নব্বইয়ের দশকের বাংলা রোমান্টিক সিনেমা!
উপন্যাসের ভূমিকাতেই লেখা এটা প্রাপ্তমনষ্কদের জন্য। আমার মনে হয় প্রাপ্তবয়ষ্কদের জন্য কথাটাও উল্লেখ করা দরকার ছিল। কারন নায়িকা আপাদমস্তক কিংবা আপাদমগজে শরীরসর্বস্ব বিকৃতরূচির মেয়ে। গোটা উপন্যাসের পরতে পরতে তার শরীরপ্রীতির বর্ণনা কিংবা বন্দনা। কী কারনে সে নায়কের প্রতি এত দিওয়ানা তারও কোন বিশদ বিবরণ নেই। যেন নায়ক একজন রাখতেই হবে, তাই রাখা। মাঝখানে ম্যাকবেথ আর জীবনানন্দ দাস এনে কিছু আঁতলামির চেষ্টা। বিরক্তিকর।
শুধু ডিকের রহস্যভেদের কায়দা ভালো লেগেছে বলে দুই তারা দিলাম। অনেকেই ভূয়সী প্রশংসা করেছেন, আমি করতে পারলাম না বলে (ছদ্ম)দুঃখিত ☹️😃
বাই দ্য ওয়ে, শ্রুতকীর্তি নামটা দারুন লেগেছে। এই উপন্যাস থেকে যদি ভালো কিছু পেয়ে থাকি তা কেবল এই শ্রুতকীর্তি।
গল্পটা ঠিক ভালো না খারাপ বলতে পারবো না। তবে বলতে পারি থ্রিলার হিসাবে একদম সফল। thrilled তো হয়েইছি!! লেখকের বিন্দুবিসর্গ আগে পড়েছিলাম। অনেক টা সেরকম অনুভূতি হয়েছে এটা পড়তে গিয়ে। DK is back.😍😍
গল্পের antagonist একদম ক্ষুরধার। কিন্তু পুলিশ তথা গোয়েন্দাও তাদের সর্ব সমর্থ দিয়ে চেষ্টা করে চলেছে। প্ল্যানের উপর প্ল্যান। তার চুলচেরা বিশ্লেষণ করে তবেই তদন্ত। কে শেষমেষ জেতে এই নিয়েই গল্প।
Antagonist এর মনের অবস্থা (বা তার বিকৃতি) বোঝানোর ভাষা খুবই প্রাণ পূর্ন। প্রতি মুহূর্তে তদন্তের সাথে পাঠক up-to-date থাকবে এমন ভাবে লেখাকে সত্যিই কুর্নিশ। 🤩🤩
অভিযোগ একটাই, কেন জানিনা মনে হয়েছে বইয়ের শেষ ২ পাতা যেন অন্য কেউ লিখে দিয়েছে। গোটা বইটা যা সুন্দর লিখেছেন তার কাছ থেকে এরকম একটা খাপছাড়া শেষ ঠিক মানতে পারলাম না। 😏😏
**মোটের ওপর বলি বইটি ৯০% সফল। তাই অবশ্যই পড়া উচিত। 🤗🤗
বিষকন্যা। ডিপ্রেশন, প্যাশন আর সেল্ফ-সেন্টারড এক চরিত্র। গল্পের অ্যান্টাগনিস্ট।
প্রথমেই মোটিভলেস ভাবে ঠান্ডা মাথায় দিঘাতে খুন করা হয় অরিন্দমকে। যদিও পুলিশ এটাকে দূর্ঘটনা ভেবে বাতিলের খাতায় ফেলে দিয়েছিল। কিন্তু অরিন্দমের চাচার কলিগ ডিকে তা মেনে নিতে পারে না। শুরু হয় শূন্য থেকে তদন্ত করা। বাড়তে থাকে নানা অসঙ্গতি।
একটানা পড়ে শেষ করলাম বইটি। প্রথম দিকে বর্ণনা বাড়াবাড়ি মনে হলেও এরপর আর লেখক গল্প ঝুলতে দেননি। যদিও শেষ দিকে তাড়াহুড়োর ছাপ পেয়েছি। কিছু জায়গায় বাংলা ইংরেজির মিশেল বিরক্তির উদ্রেক ঘটিয়েছে।
এধরণের বইগুলোতে যেমন হয়, একটা সূক্ষ্ম ছাপ রেখে যায়। শ্রুতকীর্তির জন্যও আমার মনোভাব ঠিক তেমন। জীবনানন্দের কবিতা, শেক্সপীয়ারের ট্র্যাজেডি সবটাই এই সাইকোলজিক্যাল থৃলারকে অন্য এক মাত্রা দিয়েছে।
কবিতা , প্রেম , সমুদ্র আর সিনেমা নিয়ে রুদ্ধশ্বাস প্রাপ্তমনস্ক ক্রাইম থ্রিলার সে কেবল ইংরেজি সাহিত্যের কৃতী ছাত্রী নয় , চোখ আর চুলের সংকেতেও মেধাবিনী । সাহিত্য , কবিতা , সিনেমা , থিয়েটার আর সমুদ্র তার প্যাশন । আসক্তি ইন্টারনেটেও । আবার কখনও একলা ঘরে লেডি ম্যাকবেথ সেজে অভিনয় করে । বাংলাব্যান্ড ' সামগান ' - এর লিড গায়ক আর কলকাতার অন্যধারার ফিল্ম ও থিয়েটারের প্রতিভাবান অভিনেতা রাজশংকর তার হার্টথ্রব । কিন্তু রাজ ভালোবাসে টিভি সিরিয়ালের উঠতি অভিনেতা রিমি সান্যালকে । রাগে , ঈর্ষায় সে পাগল হয় । অনন্যা হয়ে ওঠে বিষকন্যা ! পরিচিত একজনের খুনের সূত্রে তদন্তে নেমে ডিকে শুরুতে নাজেহাল হয় । কে এই রহস্যময়ী ? ডিকে আশ্রয় নেয় কবিতার । শেষপর্যন্ত কি সে খুঁজে পেল বিষকন্যাকে ? কবিতা , প্রেম , সমুদ্র আর সিনেমা নিয়ে রুদ্ধশ্বাস প্রাপ্তমনস্ক ক্রাইম থ্রিলার ।
রিভিউ-এর জন্যে এই বক্সটা খুলে বসে আছি পাঁচ মিনিট হল, কিন্তু কী লিখব তা ভেবে পাচ্ছি না। তারাবাজি সোজা কাজ, সেটা সারতে এক সেকেন্ড লাগল; কিন্তু তারপর? কী লিখব ��ই উপন্যাসটি সম্বন্ধে যা বাংলায় রহস্য কাহিনির ক্ষেত্রে একটা নতুন প্যারাডাইম তৈরি করেছে? কীভাবে সংক্ষিপ্ত এবং কেজো আকারে সীমাবদ্ধ করব এই রহস্যময় উপাখ্যানকে, যা একইসঙ্গে জীবনানন্দের কবিতার মতো সুন্দর, শেক্সপিয়রের ট্র্যাজেডির মতো মর্মান্তিক, আর বন্দুক থেকে ছুটে বেরোনো মৃত্যুবাহী বুলেটের মতো দ্রুতগামী? আমার দ্বারা সেটি হবেনা। তাই আমি শুধু পাঠকদের অনুরোধ করব বইটি পড়তে। এতো ভালো এবং সাহিত্যগুণসম্পন্ন রহস্য কাহিনি আপনি বহুদিন পড়েননি, এ ব্যাপারে আমি নিশ্চিত। রহস্য নির্মাণে কি ত্রুটি নেই? তা নয়, এই বইতেও আছে কিছু অসঙ্গতি, কিছু তাড়াহুড়ো। কিন্তু যে সর্বনাশিনীর কীর্তি ছড়িয়ে আছে এই কাহিনির সর্বত্র, তার ফাঁদে একবার ঢুকে পড়লে আপনি আর কিচ্ছু ভাবতে চাইবেন না।
আর হ্যাঁ, বইটা রাতে পড়বেন। মৃত্যু, বিষাদ, একাকিত্ব, আর রাত, এদের সবারই রঙ নীল। বিষকন্যাকে আমন্ত্রণ জানানোর জন্যে তাই রাত-ই সেরা সময়।
🔸গল্প-সংক্ষেপ : সে কেবল ইংরেজি সাহিত্যের কৃতী ছাত্রী নয়, চোখ আর চুলের সংকেতেও মেধাবিনী । সাহিত্য, কবিতা, সিনেমা, থিয়েটার আর সমুদ্র তার প্যাশন । আসক্তি আছে ইন্টারনেটেও । আবার কখনও একলা ঘরে লেডি ম্যাকবেথ সেজে অভিনয় করে । বাংলা ব্যান্ড ‘সামগান'-এর লিড গায়ক আর কলকাতার অন্যধারার ফিল্ম ও থিয়েটারের প্রতিভাবান অভিনেতা রাজশংকর তার হার্টথ্রব । কিন্তু রাজ ভালােবাসে টিভি সিরিয়ালের উঠতি অভিনেতা রিমি সান্যালকে । রাগে, ঈর্ষায় সে পাগল হয়, হয়ে ওঠে বিষকন্যা !
পরিচিত একজনের খুনের সূত্রে তদন্তে নেমে ডিকে শুরুতে নাজেহাল হয়, কে এই রহস্যময়ী ? ডিকে আশ্রয় নেয় কবিতার । শেষপর্যন্ত কি সে খুঁজে পেল বিষকন্যাকে?
🔸প্রতিক্রিয়া : এই উপন্যাসের দ্বারা বাংলায় রহস্য কাহিনীর একটা নতুন দিকের সন্ধান দিয়েছেন লেখক ৷ প্লট কিছুটা চেনা, কিন্তু 'Whodunnit' 'Whydunnit' গােছের গল্প এটা নয় । কারণ লেখক প্রথমেই জানিয়ে দিয়েছেন খুন কে করেছে, এবং কেন করেছে ।
এবার প্রশ্ন... বহুল চর্চিত এই উপন্যাসটির আকর্ষণ তবে কোনখানে?
এর উত্তর হচ্ছে, মূলত যাকে কেন্দ্র করে এই উপন্যাস, সেই "বিষকন্যা"... যে কখনও শ্রুতকীর্তি কখনও আম্রপালি কখনও বা মধুজা । তার শিল্প, সাহিত্যপ্রেম এর সাথে হতাশাকে লেখক যেভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন তা এককথায় অসাধারণ ।ইন্টারনেটের অলীক জগতে দু' দন্ড শান্তি খুজে বেড়ানাে আম্রপালি অথবা বাস্তব জীবনের একাকী মধুজা - ভীষণ বাস্তব, কাছের এক চরিত্র । এছাড়া, সূক্ষ্ম পরিকল্পনার মাধ্যমে শিকারকে ফাঁদে ফেলার ক্ষেত্রে লেখক যে পন্থা দেখিয়েছেন, সত্যিই তা প্রশংসার দাবিদার । বিষকন্যা চরিত্রটি আদতে একটি জটিল এবং ধূসর চরিত্র হওয়া সত্ত্বেও অন্যান্য চরিত্রদের তার সামনে বড্ড ফিকে মনে হয় ।
রহস্য নির্মাণে লেখক এ গল্পে এতটাই নিপুণ ভাবে শেক্সপিয়ারের ‘ম্যাকবেথ’ এর অংশ এবং ম্যাথু আর্নল্ড ও জীবনানন্দের কবিতা কে ব্যবহার করেছেন তা এককথায় অনবদ্য । সবমিলিয়ে বলা যায়, এই গল্পের বিশেষত্বটা লুকিয়ে আছে মূল চরিত্রের মাঝে, যার অমােঘ আকর্ষণে অসহায় বোধ করবেন পাঠক।
🔸গল্প-সংক্ষেপ : সে কেবল ইংরেজি সাহিত্যের কৃতী ছাত্রী নয়, চোখ আর চুলের সংকেতেও মেধাবিনী । সাহিত্য, কবিতা, সিনেমা, থিয়েটার আর সমুদ্র তার প্যাশন । আসক্তি আছে ইন্টারনেটেও । আবার কখনও একলা ঘরে লেডি ম্যাকবেথ সেজে অভিনয় করে । বাংলা ব্যান্ড ‘সামগান'-এর লিড গায়ক আর কলকাতার অন্যধারার ফিল্ম ও থিয়েটারের প্রতিভাবান অভিনেতা রাজশংকর তার হার্টথ্রব । কিন্তু রাজ ভালােবাসে টিভি সিরিয়ালের উঠতি অভিনেতা রিমি সান্যালকে । রাগে, ঈর্ষায় সে পাগল হয়, হয়ে ওঠে বিষকন্যা !
পরিচিত একজনের খুনের সূত্রে তদন্তে নেমে ডিকে শুরুতে নাজেহাল হয়, কে এই রহস্যময়ী ? ডিকে আশ্রয় নেয় কবিতার । শেষপর্যন্ত কি সে খুঁজে পেল বিষকন্যাকে?
🔸প্রতিক্রিয়া : এই উপন্যাসের দ্বারা বাংলায় রহস্য কাহিনীর একটা নতুন দিকের সন্ধান দিয়েছেন লেখক ৷ প্লট কিছুটা চেনা, কিন্তু 'Whodunnit' 'Whydunnit' গােছের গল্প এটা নয় । কারণ লেখক প্রথমেই জানিয়ে দিয়েছেন খুন কে করেছে, এবং কেন করেছে ।
এবার প্রশ্ন... বহুল চর্চিত এই উপন্যাসটির আকর্ষণ তবে কোনখানে?
এর উত্তর হচ্ছে, মূলত যাকে কেন্দ্র করে এই উপন্যাস, সেই "বিষকন্যা"... যে কখনও শ্রুতকীর্তি কখনও আম্রপালি কখনও বা মধুজা । তার শিল্প, সাহিত্যপ্রেম এর সাথে হতাশাকে লেখক যেভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন তা এককথায় অসাধারণ ।ইন্টারনেটের অলীক জগতে দু' দন্ড শান্তি খুজে বেড়ানাে আম্রপালি অথবা বাস্তব জীবনের একাকী মধুজা - ভীষণ বাস্তব, কাছের এক চরিত্র । এছাড়া, সূক্ষ্ম পরিকল্পনার মাধ্যমে শিকারকে ফাঁদে ফেলার ক্ষেত্রে লেখক যে পন্থা দেখিয়েছেন, সত্যিই তা প্রশংসার দাবিদার । বিষকন্যা চরিত্রটি আদতে একটি জটিল এবং ধূসর চরিত্র হওয়া সত্ত্বেও অন্যান্য চরিত্রদের তার সামনে বড্ড ফিকে মনে হয় ।
রহস্য নির্মাণে লেখক এ গল্পে এতটাই নিপুণ ভাবে শেক্সপিয়ারের ‘ম্যাকবেথ’ এর অংশ এবং ম্যাথু আর্নল্ড ও জীবনানন্দের কবিতা কে ব্যবহার করেছেন তা এককথায় অনবদ্য । সবমিলিয়ে বলা যায়, এই গল্পের বিশেষত্বটা লুকিয়ে আছে মূল চরিত্রের মাঝে, যার অমােঘ আকর্ষণে অসহায় বোধ করবেন পাঠক।
পুস্তক পরিচয় : বিষকন্যা লেখক : দেবতোষ দাস প্রকাশনা : পত্র ভারতী 💦 সম্প্রতি "বিষকন্যা" বইটি পড়া শেষ করলাম। সংক্ষেপে পাঠ অনুভূতি ব্যক্ত করছি। 💦 সমুদ্র আমরা প্রত্যেকেই ভালোবাসি। কিন্তু এই সমুদ্র যে কারোর জীবনে কতটা ভয়ঙ্কর হয়ে উঠতে পারে তাই নিয়ে গল্পটি লেখা হয়েছে। মধুজা সেন নামের একটি মেয়ে সমুদ্র ভালোবাসে। এছাড়া সে সাহিত্য, নাটক, গান, কবিতার একনিষ্ঠ অনুরাগিণী। এই মধুজা ভালোবাসে রাজশঙ্কর নামের একজন গায়ক এবং অভিনেতাকে। 💦 চ্যাটের মাধ্যমে রাজশঙ্কর এবং মধুজার মধ্যে আলাপ হয়। এই আলাপ ধীরে ধীরে গভীর হতে থাকে। এখন রাজশঙ্কর মধুজার সাথে বারবার দেখা করতে চাইলেও মধুজা সেটা সন্তর্পণে এড়িয়ে যায়। এর পরে রাজশঙ্কর, মিলি সান্যাল নামে একজন নারীর প্রেমে পরে। এই মিলি সান্যাল ছিল টিভি সিরিয়ালের একজন অভিনেত্রী। 💦 রাজশঙ্কর এই প্রেমের কথা মধুজাকে জানায়, কিন্তু মধুজা এর ফলে মনে খুব আঘাত পায়। আঘাত পেয়েই মধুজার মনে প্রতিশোধস্পৃহা জেগে ওঠে। প্রচন্ড ক্রোধ এবং ঈর্ষার বশবর্তী হয়ে সে সবকিছু শেষ করে দিতে চায়। রাগে, দুঃখে মধুজা হয়ে ওঠে বিষকন্যা। 💦 এর পরে একের পর এক ভয়ঙ্কর খুনের ঘটনা ঘটতে থাকে। খুনের তদন্ত করার জন্য ডিকে নামের একজনকে ডাকা হয়। তদন্তের শুরুতে ডিকে প্রথমে দিশাহারা হয়ে গেলেও কিভাবে কবিতার সূত্র ধরে আসল অপরাধীকে খুঁজে পায় সেই নিয়েই গল্পটি লেখা হয়েছে। 💦 এই বইতে উইলিয়াম শেক্সপিয়ারের বিখ্যাত নাটক ম্যাকবেথ এবং জীবনানন্দ দাসের কবিতাগুচ্ছকে বারবার আনা হয়েছে। উপন্যাসের প্রসঙ্গক্রমে ম্যাকবেথ নাটক এবং কবিতাগুলিকে ব্যবহার করা হলেও এগুলির অতিরিক্ত প্রয়োগ মাঝে মাঝে ক্লান্তিকর লাগে। তবে সব মিলিয়ে উপন্যাসটি পড়তে খুবই ভালোলেগেছে। প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত টানটান উত্তেজনাপূর্ণ একটি উপন্যাস হল এই "বিষকন্যা"। এছাড়া বইটির পাতার গুণমান, মুদ্রণের গুণমান খুবই ভালো। পাঠকগণকে বিষকন্যা উপন্যাসটি পড়ার অনুরোধ জানালাম।
The fun part is we all know the protagonist and crimes but still the thriller is absolutely inveterate. The ending is the sad one kind of bollywood style. The poetry of Jibonanondo and Shakespere contents related to the murder was exquisite. Bishkonya cant leave. Go for a spin off of this thriller.
বইটির কভারে যা লেখা আছে সেটাকে মন থেকে মুছে ফেলে গল্প টা পড়তে শুরু করেছিলাম। একটা মিষ্টি প্রেমের উপন্যাসের শুরু যেমন ভাবে হতে পারে ঠিক তেমন ভাবেই এই উপন্যাসটিও নিজের যাত্রা শুরু করে। বাসে করে কলকাতা থেকে কাঁথি যাবার পথে অরিন্দমের সাথে আলাপ হয় শ্রুতকীর্তির। এরপর দিঘার সমুদ্রের বুনো গর্জন, আকাশে নিটোল চাঁদ, থইথই জ্যোৎস্নায় শরতের গন্ধ তাদের কে একে ওপরের অনেকটা কাছে নিয়ে আসে। এরপরই দিঘার সমুদ্রে ডুবে অরিন্দমের মৃত্যু... গল্পের প্রোটাগোনিস্ট ডিকে মানে ধরণী কয়ালের আবির্ভাব... তদন্ত করতে নেমে হাতে আসা কিছু সূত্র-- সমুদ্র, কবিতা ও www.Jolerprotiva.com নামের একটি ভুয়ো ওয়েবসাইট...দুলকি চালে চলতে থাকা গল্পকে ঝর্নার মতো গতিময় করে তোলে। ইতিমধ্যেই শহরে ঘটে যায় আরেকটি অস্বাভাবিক মৃত্যু। ততক্ষণে আমিও গল্পের পাশ্বচরিত্রদের চিনতে শুরু করেছি। তবে বুঝতে পারছিলাম রহস্যের জাল সরানোর কাজটি লেখক ডিকে কে দিয়ে করালেও 'Whodunnit' 'Whydunnit' গোছের গল্প এটি নয়। কে করছে? কেনই বা করছে তা অনেক আগেই লেখক পরিস্কার করে দিয়েছেন। এবার প্রশ্ন....বহুল চর্চিত এই উপন্যাসটির আকর্ষণ তবে কোনখানে? সত্যি বলতে এর উত্তর দেওয়ার ক্ষমতা আমার নেই। শুধু এটুকু বলতে পারি..এই উপন্যাসের দ্বারা বাংলায় রহস্য কাহিনীর একটা নতুন দিকের সন্ধান দিয়েছেন লেখক। প্লট কিছুটা চেনা হলেও এই উপন্যাসটি মূলত যাকে কেন্দ্র করে..হ্যা ঠিক.."বিষকন্যা"..যে কখনও শ্রুতকীর্তি কখনও আম্রপালি কখনও বা মধুজা, তার শিল্প সাহিত্য থিয়েটার প্রেমের সাথে সাথে তার একাকীত্ব, ক্রোধ, হতাশা কে লেখক যেভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন তা এককথায় অসাধারণ। ধূসর চরিত্র হওয়া সত্ত্বেও অন্যান্য চরিত্রদের এমনকি ডিকে কেও তার সামনে বড্ড ফিকে মনে হয়। রহস্য নির্মাণে কিছু অসঙ্গতি থাকলেও তার অমোঘ আকর্ষণ পাঠরত অবস্থায় সেইসব ভাববার সুযোগ আপনাকে মোটেও দেবে না। এছাড়াও লেখক এ গল্পে এতটাই নিপুণ ভাবে শেক্সপিয়ারের ম্যাকবেথ এর অংশ এবং ম্যাথু আর্নল্ড ও জীবনানন্দের কবিতা কে ব্যবহার করেছেন যে গোটা উপন্যাস জুড়ে তাদের নিঃশব্দ উপস্থিতি পাঠকরা পুরোমাত্রায় অনুভব করতে পারবেন। আর তাই হয়তো গল্পের শেষে এসেও পাঠকদের কাছে রহস্য উন্মোচনের আনন্দ ও ডিকের সাফল্য কে ও ছাপিয়ে যাবে বিষকন্যার অভিব্যক্তি। আর বাতাসে ঘুরতে থাকবে জীবনানন্দের "দুজন" কবিতার দুটি লাইন "পৃথিবীর পুরনো পথের রেখা হয়ে যায় ক্ষয়, প্রেম ধীরে মুছে যায়, নক্ষত্রেরও একদিন ......."
ভেবেছিলা নাটকেপনা আর আহ্লাদী মার্কা লাইন দিয়ে অর্ধেক ভরা থাকবে। কিন্তু তেমনটা না। যদিও ছিল না যে তাও না তবে গল্পের প্রয়োজনেই। অনায়াসে একটা পূর্ণদৈর্ঘ ছবি বানানো যাবে। তবে প্রধান চরিত্রটা ফুটিয়ে তুলাটা কঠিন হয়ে যাবে। আর সকল নারী প্রধান বইতে যেমন একটা প্যাঁচালো ভাব থাকে, কাহিনির জট আর মনস্তাত্বিক দিক আরকি, এটাতেই তেমনই ছিল। বরং একটু বেশিই ছিল বলে মনে হয়েছে। ফ্ল্যাপে লেখাই আছে কবিতা সাহিত্য আর থিয়েটারের প্যাশন প্রসঙ্গ। আর সেটা যে জীবনানন্দ থেকে শেক্সপিয়র পর্যন্ত পৌঁছুবে ভাবিনি। মোটামোটি একটা ঘোর লাগানো পরিবেশ ছিল বলা যায়, কিছু জায়গায় তো খুবই মন কারা লেগেছে। মোট কথা খুবই লেখাপড়া করেছে লেখক সেটা বই পড়েই বুঝছি। তারপরেও কিছু ফারাক যেন ছিলই। কাহিনির মাঝে কিসের যেন একটা অভাব বোধ করছিলাম হঠাৎ হঠাৎ, সেটা থ্রিলারেরই হোক আর সাসপেন্সই হোক। কিছু একটা খাপ ছাড়া লাগছিল। যাইহোক, হয়তো আমার বুঝার ভুল বা ওপারের লেখা থ্রিলার বেশি একটা পড়ে অভ্যাস নেই বলেই হয়তো। রেটিং- ৩.৫/৫ ধন্যবাদ রাফি ভাই।
ভালো লাগছে। অন্যরকম গল্প।প্রথমেই খুনিকে তা বলা হইছে।তারপর খুনি কর্তৃক পুলিশকে ধোকা দেয়া এবং সেই সাথে আরও খুন করা।খুনি এবং পুলিশের ইদুর বিড়াল খেলাটা দারুন ছিলো।