দালানবাড়ির ওপর অনেকেরই চোখ রয়েছে, আমি জানতাম না। ফলে, যখন ও বাড়ির একমাত্র উত্তরাধিকারী শাহরুখকে বিয়ে করলাম, প্রাণের শত্রু হয়ে গেলাম অনেকের। সম্পত্তির লোভ মানুষকে কতটা নিচে টেনে নামাতে পারে সে ব্যাপারে কোন ধারণাই ছিল না আমার। শুরু হয়ে গেল ভয়ঙ্কর নিষ্ঠুর চক্রান্ত। এ যেন রহস্য উপন্যাসকেও হার মানায়। একা আমি কি পারব সামাল দিতে?
সেবা প্রকাশনীতে অনুবাদ করেছেন দীর্ঘকাল; নিবাস, নওগাঁ।
খসরু চৌধুরী ছোটবেলা থেকেই দক্ষিণ বাংলার প্রত্যন্ত অঞ্চল ঘুরে জীবজন্তুর সঙ্গে পরিচিত হবার সুযোগ পান। ১৯৭১ সালের মহান মক্তিযুদ্ধে যোগদান করেন কলেজ-ছাত্র অবস্থায়। বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থাপত্য অনুষদের ছাত্র অবস্থায় ১৯৭৪ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে মামা শিকারি আকতারুজ্জামানের হাত ধরে সুন্দরবন গিয়ে ভালোবেসে ফেলেন জল-জঙ্গলার বাঘ। ১৯৮৫ সালে অধুনালুপ্ত সাপ্তাহিক রোববার পত্রিকায় সুন্দরবন সংক্রান্ত লেখা দিয়ে তার লেখার জগতে প্ৰবেশ। তারপর দেশের উল্লেখযোগ্য প্রায় সব কটি পত্রিকায় বাঘ বা সুন্দরবন নিয়ে লিখেছেন। ছাত্র রাজনীতি করেছেন, সাংস্কৃতিক আন্দোলন, চলচ্চিত্র আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। সাংবাদিকতা করেছেন। দেশের অগ্রগণ্য বাঘ বিশেষজ্ঞ হিসেবে বাঘ বাঘ রক্ষায় নিতয় চেষ্টা করে চলেছেন।
বইতে লেখা রয়েছে শ্বাসরুদ্ধকর উপন্যাস। তেমন কিছুই মনে হয়নি যদিও! গল্পের প্রথম অর্ধেকটা যথেষ্ট বোরিং, বাকিটা চলনসই। গল্পের অপরাধীর মূল স্বার্থ প্রকাশিত হবার আগে পর্যন্ত তাকে অনুমান করা সম্ভব নয়। তবে গোঁড়ার থেকেই সন্দেহ ছিল, সে-ই নাটের গুরু। আনুসাঙ্গিক কিছু রহস্য মন্দ লাগেনি। যদিও মোটামুটি অনেককিছুই ধারণা করা সম্ভব, চোখ কান খোলা রেখে পড়লেই।
যাই হোক। মোটামুটি লেগেছে এই বই। তেমন আহামরি কিছুই নয়।