বুম! কমিকসের অপেক্ষায় প্রতি সপ্তাহে থাকাটা এখন অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। The Business Standard এর প্রতি বৃহস্পতিবারের ফ্রি ৩২ পৃষ্ঠার বাংলা কমিক্স সাপ্লিমেন্টের অপেক্ষায় অনেকেই থাকেন মনে হয়। :)
প্রচ্ছদে নাতাশা জাহান এমন এক কাজ করেছেন যা সম্ভবত গত সংখ্যা থেকে শুরু হয়েছে। বুমের ভিতর বুম।
প্রতি সপ্তাহের ধারাবাহিক আয়োজনগুলি তো আছেই, সাথে যুক্ত হয়েছে ফাহিম রেজওয়ান রাবিদের 'রাজশাহীর দিনকাল'। আমের প্রতি আসক্তিকে কমিক রিলিফের মাধ্যমে দেখানোটা আরো ফানি হতে পারে।
'চন্দ্রাবতী' এখন পর্ব ৯ এ চলমান। ফাহিম আনজুম রুম্মানের আঁকা ও লেখা এবং প্রান্ত ঘোষ দস্তিদারের অনুবাদে পুতুলনাচের পুতুলের সাথে মিল রেখে অঙ্কনে চন্দ্রা, রহমত মিয়া, সেই বিপ্লবী এবং অন্যান্য প্রাণীদের ব্রিটিশবিরোধি আন্দোলন সময়কার ভোগান্তি ও রুখে দাড়ানোর পুরো ব্যাপারটার সাথে আছে অতিলৌকিক একটা ভাইব। আমার কাছে বুমের সবচেয়ে প্রিয় কমিক্স আয়োজন চন্দ্রাবতী হয়ে উঠছে দিনকে দিন আরো ইন্ট্যারেস্টিং।
প্রতি সপ্তাহের অন্যতম স্যাগমেন্ট যেখানে বিখ্যাত কমিক্স গল্পরেখার সাথে আমরা পরিচিত হই, এবার 'কিংডম কাম : কমিকের এক মহাকাব্য' শিরোনামে এসেছে। তাহসিন সালমান চৌধুরী ডিসি কমিক্সের এ মহাকাব্যিক অভিযাত্রার চমৎকার বর্ণনা দিয়েছেন।
'নারে"মামা এই মাঠে খেলা যাবে না'এ ক্রিকেট খেলতে গিয়ে ইশকুলপড়ুয়ারা কী কী মাঠঘটিত বিপত্তিতে পড়েন তা নিয়ে আমাদের অনেকের অভিজ্ঞতার সাথে মিলে যাওয়ার মতো প্রাসঙ্গিক বিষয়াদি পাওয়া যাবে মেহেরাব সিদ্দিকি সাবিতের আঁকা ও লেখায়। আমি স্মৃতি থেকে বলছি। আমার ভুল হতে পারে। কিন্তু এই কমিক্সটির আগের এক গল্পে ও এই গল্পে ডাবল মিনিং কথাবার্তা আছে। এটা কি খুব প্রয়োজনীয় ছিলো?
শেষ করছি অরিন্দম কুন্ডুকে দিয়ে যে শিল্পী কখনো হতাশ করেন না। 'বাস্তবে' আমরা আবার তা-ই দেখলাম।
বুম! কমিকস দীর্ঘায়ু হোক এই আশা করি। মিডিয়াম হিসেবে কমিক্সের গুরুত্ব আরো কীভাবে জনমানুষের মাঝে ছড়িয়ে দেয়া যায় সেটা নিয়ে ভাবার দরকার আছে লেখক-শিল্পী-প্রকাশক-পাঠক-ইনফ্লুয়েন্সার সবার।
বই রিভিউ
নাম : বুম! কমিকস ( সংখ্যা ০৯ ) সম্পাদনা : আলীম আজিজ, মাহাতাব রশীদ প্রচ্ছদ : নাতাশা জাহান প্রকাশনা : The Business Standard রিভিউয়ার : ওয়াসিম হাসান মাহমুদ।