What do you think?


পাতায় পাতায় পায়চারি
Collection of Essays
144 pages, Hardcover
First published January 23, 2026
Ratings & Reviews
Friends & Following
Create a free account to discover what your friends think of this book!
Community Reviews
Displaying 1 - 1 of 1 review
February 7, 2026
রৌম্যজিৎ হাজরার করা দুর্দান্ত প্রচ্ছদটা এনলার্জ করে দেখুন একবার। বুকশেলফে কী-কী, বা কাদের দেখা যাচ্ছে?
ওয়াজেদ আলি শাহ! বেশ-বেশ। একটা পোস্ট-কলোনিয়াল ডিসকোর্স নিশ্চয় পাওয়া যাবে বিদগ্ধ অধ্যাপক মশাইয়ের কাছ থেকে। কিন্তু তাঁর নীচে... জটায়ু! আর তাঁর পাশে... এ তো একটা দানবাকৃতি হাউন্ডের স্ট্যাচু— সে-ও আবার সত্যজিৎ রায়ের লেখাপত্তরের ওপর! এর মানে কী?
তার নীচে নেপোলিয়ন। যাক, আবার একটা সাহিত্যের অধ্যাপকোচিত টপিক আছে। আগের ছবিগুলো বোধহয় জায়গা ভরাট করতে দেওয়া। কিন্তু তার নীচে ওই মড়ার মাথার খুলিটা কী করছে? পেপারওয়েট নাকি ওটা?
তার নীচে শরদিন্দু! আচ্ছা, নিশ্চয় তাঁর ঐতিহাসিক লেখাপত্র আর সামাজিক গল্প-উপন্যাসের উত্তর-আধুনিকতা নিয়ে আলোচনা করেছেন প্রাবন্ধিক। কিন্তু তাঁর পাশে... ড্রাকুলা?!
এ কী ধরনের প্রবন্ধ-গ্রন্থ?
রাজর্ষি গুপ্ত হলেন অ্যাকাডেমিয়ার প্রচলিত চলনের একেবারে বাইরে থাকা এক মানুষ। স্পেকুলেটিভ ফিকশনের অলি-গলিতে ঘুরে বেড়ানো চরিত্র আর তাদের ওপর ছায়াপাত করা বাস্তবকে নিয়ে উন্নাসিক মানসিকতা পোষণ করেন না তিনি। বরং তাদের গড়ে ওঠার কারণ এবং পরবর্তীকালে জনমানসে তাদের প্রভাবের ওপর নানা দিক থেকে আলোকপাত করতেই ভালোবাসেন তিনি। সেই ভালোবাসার একগুচ্ছ সংকলনকে নিজের মধ্যে ধরে রেখেছে এই বই।
কৌশিক মজুমদারের অসাধারণ একটি 'ভূমিকা' এবং লেখকের ঝোড়ো 'একটু দাঁড়ান... কয়েকটা কথা আছে'-র পর এই বইয়ে এসেছে নিম্নলিখিত লেখারা~
(ক) রহস্যদুনিয়ার অলিগলি: -
১. বাঙালি গোয়েন্দা, বিলিতি ছায়া;
২. বাস্কারভিলের কুকুর: কোনান ডয়েল থেকে কুলদারঞ্জন;
৩. আগাথা ক্রিস্টির ভিয়েনঘর;
৪. পোয়ারো থেকে ফেলুদা: ছাঁচ বদলের সত্যজিৎ;
৫. জটায়ুর যাতায়াত: বাংলার সিরিজ সাহিত্য থেকে আগাথা ক্রিস্টির দুনিয়া;
(খ) পর্দাপারের বৃত্তান্ত: -
৬. ভয়যাপনের পর্বগুলী: পাশাচত্য হরর সাহিত্যের সফরনামা;
৭. ভিক্টোরিয়ান রক্তচোষার ভূত-ভবিষ্যৎ, ছায়ার পর্দার পরতের পর পরত;
৮. একের পিঠে দুই: সত্যজিৎ রায়ের সাহিত্যে 'ডপেলগ্যাঙ্গার';
৯. ভূতান্বেষীর অন্বেষণ: শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়ের বরদা;
১০. ভয়-অলৌকিকের বিভূতিভূষণ: রোমান্টিসিজমের অন্য পিঠ ও পাঠ;
(গ) ইতিহাসের আতসকাচ: -
১১. নেপোলিয়ন: লৌকিক থেকে অলৌকিক;
১২. টমাস আলেক্সান্দার দুমা: এক উন্নতশির ফরাসি 'কালাপাহাড়'-এর কথা;
১৩. লক্ষ্ণৌ নবাবির শেষপাদ: এক আওয়াধি-ভিক্টোরীয় সংঘাতের কাহিনি।
কেমন লাগল এগুলো পড়ে? সংক্ষেপে বললে ব্যাপারটা হবে এ-রকম~
(ক) অংশভুক্ত লেখাগুলো আমাকে মুগ্ধ করেছে চেনাজানা জিনিসের শিকড়গুলো দেখিয়ে।
(খ) অংশভুক্ত প্রবন্ধেরা আমাকে ভাবিয়েছে, বেশ কিছু ক্ষেত্রে অসন্তুষ্ট করেছে।
(গ) অংশভুক্ত লেখারা আমাকে মোহিত করেছে তার বাস্তব ও অবাস্তবের মিশ্রণে, কিন্তু শেষে গিয়ে হাই তুলিয়েছে।
বিশদে লিখি।
(ক) রহস্যদুনিয়ার অলিগলি-তে দেখা হয়ে যাওয়া এইসব চরিত্ররা ও তাদের কীর্তিকলাপ আমার সুপরিচিত। কিন্তু তাদের মধ্যে সিক্স ডিগ্রিজ অফ সেপারেশন স্টাইলে সূক্ষ্ম যোগসূত্রগুলো এমন সরস ও সজীব ভঙ্গিতে তুলে ধরা... কুর্নিশ!
(খ) পর্দাপারের বৃত্তান্ত-তে গিয়ে, বিশেষত ষষ্ঠ, সপ্তম এবং দশম লেখা নিয়েই আমার সমস্যা হল। সেগুলো কী-রকম?
প্রথমত, পাশ্চাত্য ভয়যাপন এত ভিন্ন ধরনে ও কারণে বিকশিত হয়েছে যে তার পুরোটা একুশ-বাইশটি ডিমাই সাইজের পাতায় আঁটানো অসম্ভব। করতে গিয়ে লেখাটা যা হয়েছে তা বলতে গিয়ে একটি রসিকতা মনে পড়ল।
লাইব্রেরি থেকে একজন রোজ একটা করে বই নেয়, পরদিন ফেরত দেয়। লাইব্রেরিয়ানের সন্দেহ হল, লোকটা কি আদৌ বইগুলো পড়ে? একদিন তিনি টেলিফোন ডাইরেক্টরিটাই মলাটে মুড়ে লোকটিকে দিয়ে দিলেন। পরদিন লোকটি তা ফেরত আনলে তিনি জিজ্ঞেস করলেন, বইটা কেমন লাগল। লোকটি গম্ভীরভাবে উত্তর দিল, "ভালোই; তবে প্লট নেই, শুধু ক্যারেক্টার।"
এই লেখাটিতেও তাই হয়েছে। সম্পূর্ণ ভিন্নধর্মী লেখক ও লেখা একই অনুচ্ছেদে বন্দি হয়েছে। বিশাল-বিশাল এক-একটা প্যারাগ্রাফ একসঙ্গে প্রায় পঞ্চাশ বছরের ভয় পাওয়া ও পাওয়ানোর উপকরণদের নাম দিয়ে দিয়েছে স্তূপাকারে। এইরকম লেখা তো আমরা রাজর্ষি গুপ্তের কাছ থেকে প্রত্যাশা করি না। শব্দ ও স্থানের সীমাবদ্ধতার কথা মাথায় রেখে তিনি যদি শুধু প্রতিনিধি-স্থানীয় ক'জন লেখক ও তাঁদের কয়েকটি লেখা নিয়ে লিখতেন, তাহলে সম্ভবত কাজটা অনেক বেশি অর্থবহ ও সুখপাঠ্য হত।
দ্বিতীয়ত, ভিক্টোরীয় রক্তচোষাদের নিয়ে লেখাটি আদতে স্টোকারের কাজের একটি মূল্যায়ন হয়ে উঠেছে। লেখার শীর্ষকের সঙ্গে মেলালে ব্যাপারটা ভ্রমাত্মক। তাছাড়া স্টোকারের নোটবুক স্পষ্টভাবেই দেখিয়ে দেয় যে তিনি ভ্লাদ দ্য ইম্পেলারের কীর্তিকাহিনি পড়েননি। হাংগেরিয়ান স্কলার আর্মেনিয়াস ভ্যামবেরি স্টোকারকে ভ্লাদকে নিয়ে বিস্তর তথ্য জুগিয়েছিলেন— এটা স্রেফ মিথ, যার জন্য দায়ী রাদু ফ্লোরেস্কু এবং ফ্লোরেন্স ম্যাকনালির বইটি।
তৃতীয়ত, বিভূতিভূষণের অলৌকিক লেখাগুলোর মধ্যে যে তাঁর আত্মজৈবনিক কত উপাদান মিশেছে, সে-বিষয়ে কোনো উল্লেখ না দেখে হতাশ হলাম। রুশতী সেনের লেখা অধুনা অপ্রাপনীয় অথচ অদ্বিতীয় জীবনীতে এর উল্লেখ ছিল। তবে প্রকৃতির বিশালত্বের সামনে মানুষের ক্ষুদ্রত্বের ভাবটি যে বিভূতিভূষণের গল্পগুলোকে একেবারে অন্যরকম করে তুলেছে— সেটি ভারি সুন্দরভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন লেখক।
আর হ্যাঁ, ডপলগ্যাঙ্গার নিয়ে লেখাটির সামনে আমি আবার নতমস্তক হলাম। জাস্ট ফাটাফাটি লেখা!
(গ) ইতিহাসের আতসকাচ অংশের প্রথম দুটি লেখা (একাদশ ও দ্বাদশ প্রবন্ধ) পড়তে পাওয়াই সৌভাগ্যের— তারা এমনই সুখপাঠ্য অথচ চিন্তা-জাগানিয়া। তবে বইয়ের শেষ লেখাটি, হয়তো ইতিহাসের একেবারে ভিতরে ঢুকে লেখা বলেই, বড্ড বেশি তাত্ত্বিক হয়ে গেছে।
বইটির মুদ্রণ শুদ্ধ ও নয়নসুখকর। তবে কিছু অলংকরণ এতে অত্যাবশ্যক ছিল।
এত গজগজ করেও বইটাকে আমি শেষ অবধি পাঁচ তারাই দেব। তার কারণ, এই বিষয়গুলো নিয়ে পাঠকের জন্য এমন সহজ ভঙ্গিতে তথ্যনিষ্ঠ আলোচনা মোটে পড়তে পাই না। সেই আকালে এমন একটি বই উদ্বাহু হয়ে স্বাগত জানানোর মতোই।
রহস্য-রোমাঞ্চ সাহিত্যে অনুরাগী পাঠকদের অনুরোধ করব, তাঁরা যেন বইটিকে আপন করে নেন। ব্যস্ত অধ্যাপক মশাই তাহলে হয়তো উৎসাহী হয়ে 'বাস্কারভিলের হাউন্ড কি কোনান ডয়েলেরই লেখা', 'ভ্যাম্পায়াররা কি রৌদ্রস্নান করতে পারে', 'আগাথা ক্রিস্টি কোথায় হারিয়ে গেছিলেন', 'লকড রুম মিস্ট্রির ইতিহাস' ইত্যাদি বিষয় নিয়ে পরের বইটা লিখে ফেলবেন।
ভরসা থাকুক।
ওয়াজেদ আলি শাহ! বেশ-বেশ। একটা পোস্ট-কলোনিয়াল ডিসকোর্স নিশ্চয় পাওয়া যাবে বিদগ্ধ অধ্যাপক মশাইয়ের কাছ থেকে। কিন্তু তাঁর নীচে... জটায়ু! আর তাঁর পাশে... এ তো একটা দানবাকৃতি হাউন্ডের স্ট্যাচু— সে-ও আবার সত্যজিৎ রায়ের লেখাপত্তরের ওপর! এর মানে কী?
তার নীচে নেপোলিয়ন। যাক, আবার একটা সাহিত্যের অধ্যাপকোচিত টপিক আছে। আগের ছবিগুলো বোধহয় জায়গা ভরাট করতে দেওয়া। কিন্তু তার নীচে ওই মড়ার মাথার খুলিটা কী করছে? পেপারওয়েট নাকি ওটা?
তার নীচে শরদিন্দু! আচ্ছা, নিশ্চয় তাঁর ঐতিহাসিক লেখাপত্র আর সামাজিক গল্প-উপন্যাসের উত্তর-আধুনিকতা নিয়ে আলোচনা করেছেন প্রাবন্ধিক। কিন্তু তাঁর পাশে... ড্রাকুলা?!
এ কী ধরনের প্রবন্ধ-গ্রন্থ?
রাজর্ষি গুপ্ত হলেন অ্যাকাডেমিয়ার প্রচলিত চলনের একেবারে বাইরে থাকা এক মানুষ। স্পেকুলেটিভ ফিকশনের অলি-গলিতে ঘুরে বেড়ানো চরিত্র আর তাদের ওপর ছায়াপাত করা বাস্তবকে নিয়ে উন্নাসিক মানসিকতা পোষণ করেন না তিনি। বরং তাদের গড়ে ওঠার কারণ এবং পরবর্তীকালে জনমানসে তাদের প্রভাবের ওপর নানা দিক থেকে আলোকপাত করতেই ভালোবাসেন তিনি। সেই ভালোবাসার একগুচ্ছ সংকলনকে নিজের মধ্যে ধরে রেখেছে এই বই।
কৌশিক মজুমদারের অসাধারণ একটি 'ভূমিকা' এবং লেখকের ঝোড়ো 'একটু দাঁড়ান... কয়েকটা কথা আছে'-র পর এই বইয়ে এসেছে নিম্নলিখিত লেখারা~
(ক) রহস্যদুনিয়ার অলিগলি: -
১. বাঙালি গোয়েন্দা, বিলিতি ছায়া;
২. বাস্কারভিলের কুকুর: কোনান ডয়েল থেকে কুলদারঞ্জন;
৩. আগাথা ক্রিস্টির ভিয়েনঘর;
৪. পোয়ারো থেকে ফেলুদা: ছাঁচ বদলের সত্যজিৎ;
৫. জটায়ুর যাতায়াত: বাংলার সিরিজ সাহিত্য থেকে আগাথা ক্রিস্টির দুনিয়া;
(খ) পর্দাপারের বৃত্তান্ত: -
৬. ভয়যাপনের পর্বগুলী: পাশাচত্য হরর সাহিত্যের সফরনামা;
৭. ভিক্টোরিয়ান রক্তচোষার ভূত-ভবিষ্যৎ, ছায়ার পর্দার পরতের পর পরত;
৮. একের পিঠে দুই: সত্যজিৎ রায়ের সাহিত্যে 'ডপেলগ্যাঙ্গার';
৯. ভূতান্বেষীর অন্বেষণ: শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়ের বরদা;
১০. ভয়-অলৌকিকের বিভূতিভূষণ: রোমান্টিসিজমের অন্য পিঠ ও পাঠ;
(গ) ইতিহাসের আতসকাচ: -
১১. নেপোলিয়ন: লৌকিক থেকে অলৌকিক;
১২. টমাস আলেক্সান্দার দুমা: এক উন্নতশির ফরাসি 'কালাপাহাড়'-এর কথা;
১৩. লক্ষ্ণৌ নবাবির শেষপাদ: এক আওয়াধি-ভিক্টোরীয় সংঘাতের কাহিনি।
কেমন লাগল এগুলো পড়ে? সংক্ষেপে বললে ব্যাপারটা হবে এ-রকম~
(ক) অংশভুক্ত লেখাগুলো আমাকে মুগ্ধ করেছে চেনাজানা জিনিসের শিকড়গুলো দেখিয়ে।
(খ) অংশভুক্ত প্রবন্ধেরা আমাকে ভাবিয়েছে, বেশ কিছু ক্ষেত্রে অসন্তুষ্ট করেছে।
(গ) অংশভুক্ত লেখারা আমাকে মোহিত করেছে তার বাস্তব ও অবাস্তবের মিশ্রণে, কিন্তু শেষে গিয়ে হাই তুলিয়েছে।
বিশদে লিখি।
(ক) রহস্যদুনিয়ার অলিগলি-তে দেখা হয়ে যাওয়া এইসব চরিত্ররা ও তাদের কীর্তিকলাপ আমার সুপরিচিত। কিন্তু তাদের মধ্যে সিক্স ডিগ্রিজ অফ সেপারেশন স্টাইলে সূক্ষ্ম যোগসূত্রগুলো এমন সরস ও সজীব ভঙ্গিতে তুলে ধরা... কুর্নিশ!
(খ) পর্দাপারের বৃত্তান্ত-তে গিয়ে, বিশেষত ষষ্ঠ, সপ্তম এবং দশম লেখা নিয়েই আমার সমস্যা হল। সেগুলো কী-রকম?
প্রথমত, পাশ্চাত্য ভয়যাপন এত ভিন্ন ধরনে ও কারণে বিকশিত হয়েছে যে তার পুরোটা একুশ-বাইশটি ডিমাই সাইজের পাতায় আঁটানো অসম্ভব। করতে গিয়ে লেখাটা যা হয়েছে তা বলতে গিয়ে একটি রসিকতা মনে পড়ল।
লাইব্রেরি থেকে একজন রোজ একটা করে বই নেয়, পরদিন ফেরত দেয়। লাইব্রেরিয়ানের সন্দেহ হল, লোকটা কি আদৌ বইগুলো পড়ে? একদিন তিনি টেলিফোন ডাইরেক্টরিটাই মলাটে মুড়ে লোকটিকে দিয়ে দিলেন। পরদিন লোকটি তা ফেরত আনলে তিনি জিজ্ঞেস করলেন, বইটা কেমন লাগল। লোকটি গম্ভীরভাবে উত্তর দিল, "ভালোই; তবে প্লট নেই, শুধু ক্যারেক্টার।"
এই লেখাটিতেও তাই হয়েছে। সম্পূর্ণ ভিন্নধর্মী লেখক ও লেখা একই অনুচ্ছেদে বন্দি হয়েছে। বিশাল-বিশাল এক-একটা প্যারাগ্রাফ একসঙ্গে প্রায় পঞ্চাশ বছরের ভয় পাওয়া ও পাওয়ানোর উপকরণদের নাম দিয়ে দিয়েছে স্তূপাকারে। এইরকম লেখা তো আমরা রাজর্ষি গুপ্তের কাছ থেকে প্রত্যাশা করি না। শব্দ ও স্থানের সীমাবদ্ধতার কথা মাথায় রেখে তিনি যদি শুধু প্রতিনিধি-স্থানীয় ক'জন লেখক ও তাঁদের কয়েকটি লেখা নিয়ে লিখতেন, তাহলে সম্ভবত কাজটা অনেক বেশি অর্থবহ ও সুখপাঠ্য হত।
দ্বিতীয়ত, ভিক্টোরীয় রক্তচোষাদের নিয়ে লেখাটি আদতে স্টোকারের কাজের একটি মূল্যায়ন হয়ে উঠেছে। লেখার শীর্ষকের সঙ্গে মেলালে ব্যাপারটা ভ্রমাত্মক। তাছাড়া স্টোকারের নোটবুক স্পষ্টভাবেই দেখিয়ে দেয় যে তিনি ভ্লাদ দ্য ইম্পেলারের কীর্তিকাহিনি পড়েননি। হাংগেরিয়ান স্কলার আর্মেনিয়াস ভ্যামবেরি স্টোকারকে ভ্লাদকে নিয়ে বিস্তর তথ্য জুগিয়েছিলেন— এটা স্রেফ মিথ, যার জন্য দায়ী রাদু ফ্লোরেস্কু এবং ফ্লোরেন্স ম্যাকনালির বইটি।
তৃতীয়ত, বিভূতিভূষণের অলৌকিক লেখাগুলোর মধ্যে যে তাঁর আত্মজৈবনিক কত উপাদান মিশেছে, সে-বিষয়ে কোনো উল্লেখ না দেখে হতাশ হলাম। রুশতী সেনের লেখা অধুনা অপ্রাপনীয় অথচ অদ্বিতীয় জীবনীতে এর উল্লেখ ছিল। তবে প্রকৃতির বিশালত্বের সামনে মানুষের ক্ষুদ্রত্বের ভাবটি যে বিভূতিভূষণের গল্পগুলোকে একেবারে অন্যরকম করে তুলেছে— সেটি ভারি সুন্দরভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন লেখক।
আর হ্যাঁ, ডপলগ্যাঙ্গার নিয়ে লেখাটির সামনে আমি আবার নতমস্তক হলাম। জাস্ট ফাটাফাটি লেখা!
(গ) ইতিহাসের আতসকাচ অংশের প্রথম দুটি লেখা (একাদশ ও দ্বাদশ প্রবন্ধ) পড়তে পাওয়াই সৌভাগ্যের— তারা এমনই সুখপাঠ্য অথচ চিন্তা-জাগানিয়া। তবে বইয়ের শেষ লেখাটি, হয়তো ইতিহাসের একেবারে ভিতরে ঢুকে লেখা বলেই, বড্ড বেশি তাত্ত্বিক হয়ে গেছে।
বইটির মুদ্রণ শুদ্ধ ও নয়নসুখকর। তবে কিছু অলংকরণ এতে অত্যাবশ্যক ছিল।
এত গজগজ করেও বইটাকে আমি শেষ অবধি পাঁচ তারাই দেব। তার কারণ, এই বিষয়গুলো নিয়ে পাঠকের জন্য এমন সহজ ভঙ্গিতে তথ্যনিষ্ঠ আলোচনা মোটে পড়তে পাই না। সেই আকালে এমন একটি বই উদ্বাহু হয়ে স্বাগত জানানোর মতোই।
রহস্য-রোমাঞ্চ সাহিত্যে অনুরাগী পাঠকদের অনুরোধ করব, তাঁরা যেন বইটিকে আপন করে নেন। ব্যস্ত অধ্যাপক মশাই তাহলে হয়তো উৎসাহী হয়ে 'বাস্কারভিলের হাউন্ড কি কোনান ডয়েলেরই লেখা', 'ভ্যাম্পায়াররা কি রৌদ্রস্নান করতে পারে', 'আগাথা ক্রিস্টি কোথায় হারিয়ে গেছিলেন', 'লকড রুম মিস্ট্রির ইতিহাস' ইত্যাদি বিষয় নিয়ে পরের বইটা লিখে ফেলবেন।
ভরসা থাকুক।
Displaying 1 - 1 of 1 review


