আলামুত—যেখানে মৃত্যুর নাম ছিল ‘জান্নাত’ পারস্যের এলবুর্জ পর্বতমালার চূড়ায়, মেঘের আড়ালে লুকিয়ে ছিল এক অভিশপ্ত দুর্গ—আলামুত। আর সেই দুর্গের সিংহাসনে বসে ছিলেন ইতিহাসের অন্যতম চতুর এবং ভয়ংকর এক চরিত্র, হাসান-ই-সাব্বাহ। তিনি তলোয়ার দিয়ে নয়, যুদ্ধ করতেন বিশ্বাস দিয়ে। পৃথিবীর ইতিহাসে তিনি প্রথম তৈরি করেছিলেন এমন এক বাহিনী, যারা নেতার নির্দেশে হাসিমুখে মৃত্যুকে বরণ করে নিত। এদের বলা হতো ‘ফিদাঈন’। আজকের পৃথিবীতে যে সন্ত্রাসবাদ এবং ধর্মান্ধতার বিষবাষ্প আমরা দেখি, তার বীজ কি রোপিত হয়েছিল সেই হাজার বছর আগেই? কোরআনের আয়াতের ভুল ব্যাখ্যা দিয়ে কীভাবে তৈরি করা হতো নিবেদিতপ্রাণ গুপ্তহন্তারক বা Assassin-দের? ইতিহাস, রাজনীতি এবং মনস্তাত্ত্বিক দ্বন্দের এক অসামান্য দলিল। বাংলা ভাষায় প্রথমবারের মতো আলামুত অধ্যায় উন্মোচিত হতে যাচ্ছে।
📚 আলামুতের ঈগল 🖊️ লেখক : পি আর সেনগুপ্ত 💰 মুদ্রিত মূল্য : 220 টাকা 🌻 প্রকাশক : চর্যা
🪶 বছর শুরুর মাসে দীর্ঘ উপন্যাস পড়ার ধৈর্য কমে আসায় স্বল্প দৈর্ঘ্যের বইগুলোই বেশি মন টানছে। সেক্ষেত্রে গল্প সংকলন কিংবা 100-150 পাতার ছোট বই গুলো বিশেষত চর্যার বই গুলো এক্ষেত্রে আদর্শ। এবারে আসি বইয়ের প্রসঙ্গে....
🪶 সন্ত্রাসবাদ বর্তমানে রাষ্ট্রের তথা জনসাধারণ এর জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উদ্বেগের বিষয়। সন্ত্রাসবাদীদের নিষ্ঠুর কার্যকলাপে প্রতি বছরই নিরীহ মানুষ তথা বহু সংখ্যক সেনাদের প্রাণ নাশ ঘটে ভারত তথা পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তে। কিন্তু এই সন্ত্রাসবাদের উৎস কোথায়?...কবে শুরু হয়েছিল পৃথিবীতে এই ধ্বংসাত্মক কার্যকলাপ!?.. কে বা কারা ঠিক কোন কারণে শুরু করেছিল এই অবর্ণনীয় নিষ্ঠুরতার অধ্যায়!?..১২০ পাতার স্বল্প দৈর্ঘ্যের এই উপন্যাস তুলে ধরেছে এই উৎসের কথাই....
🪶 এলবুর্জ পর্বতের এই দুর্গম গিরি কন্দরে অবস্থান করছে আলামুতের দুর্গ। যেখানে সমকালীন সমাজ, রাজনীতি, রাষ্ট্রব্যবস্থার অন্যায় , অত্যাচার, বিশ্বাসঘাতকতার বিরুদ্ধে গড়ে উঠেছিল এক সমান্তরাল সাম্রাজ্য। সেই সাম্রাজ্যের অধিপতি ছিলেন হাসান - ই - সাব্বাহ। অত্যন্ত মেধাবী, জ্ঞানী গণিতবিদ এই হাসান - ই- সাব্বাহ মনে করতেন তলোয়ার দিয়ে যুদ্ধ হয়না। যুদ্ধের জন্য প্রয়োজন গভীর সংকল্প, আত্মবিশ্বাস এবং নিখুঁত হিসেব। যে হিসেবের ফলস্বরূপ নড়ে উঠেছিল তৎকালীন পারস্যের দুর্নীতিগ্রস্ত সেলজুক সাম্রাজ্যের ভিত্তি।
🪶 সেলজুক সাম্রাজ্যের এই বিরাট সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে তিনি ছিলেন one man army... যদিও তার এক ছায়াসঙ্গিনী ছিলেন, তার প্রেমিকা আমিনা। যিনি ছায়ার মতো বহু বছর ধরে রক্ষা করে গেছে তার ভালোবাসা হাসান - ই - সাব্বাহকে। কিন্তু আলামুতের সাম্রাজ্যের সৃষ্টির আগেই থমকে গেছিল তাদের একসাথে পথচলা। সেলজুক সাম্রাজ্যের সেনাদের সাথে সম্মুখ সমরে প্রাণ হারায় আমিনা। অব্যক্ত থেকে যায় তাদের ভালবাসা। কিন্তু আমিনাকে দেওয়া কথা রেখেছিলেন হাসান - ই - সাব্বাহ। তিনি সর্বস্বান্ত করেছিলেন সেল্জুক সাম্রাজ্যকে তাঁর কুটিল কৌশল, ক্ষুরধার বুদ্ধির দ্বারা। একের পর এক হত্যা করিয়েছিলেন সেল জুক সম্রাজ্যের স্তম্ভদের। এইভাবেই সন্ত্রাসবাদের বীজ বপন করে দিয়েছিলেন তিনি পৃথিবীর বুকে।
🪶 যদিও তাঁর এই সাফল্য একদিনে আসেনি। তার জন্য তাকে দুর্গম গিরি, কান্তার মরু পেরিয়ে পৌঁছাতে হয়েছিল সুদুর মিশরে। এরপর নানা বাধা বিপত্তির মধ্য দিয়ে গড়ে উঠেছিল অন্য এক হাসান - ই - সাব্বাহ। যে কোনো সাধারণ মানুষ ছিলেন না। তিনি ছিলেন ঈগল। আলামুতের ঈগল....
🪶 সব মিলিয়ে অসাধারণ এবং এক ব্যতিক্রমী ঐতিহাসিক এই অ্যাসাসিন সিরিজ। সমৃদ্ধ হয়েছি ভীষণ ভাবে। পড়তে পড়তে স্তম্ভিত হয়েছি সন্ত্রাসবাদী কার্যকলাপের নিষ্ঠুরতা, জটিলতা সম্পর্কে অবহিত হয়ে। এবং এই সন্ত্রাসবাদের উত্থানে যে রাষ্ট্রও সমানভাবে দায়ী ছিল। সেই কথাই বলে এই উপন্যাস। এই পরিচিত তবুও অপরিচিত এই বিষয় সম্পর্কে লেখকের অধ্যবসায়কে কুর্নিশ জানাই। সাথে ধন্যবাদ প্রকাশক চর্যা পাবলিশার্সকে এরকম ব্যতিক্রমী এবং অত্যন্ত স্পর্শকাতর বিষয়কে পাঠকের দরবারে হাজির করার জন্য। সাথে বইয়ের ইলাস্ট্রেশন, মেকিং, প্রচ্ছদ বইটিকে আলাদাই প্রাণ দিয়েছে যারা ঐতিহাসিক উপন্যাস পড়তে ভালবাসেন, তাদের অবশ্যই এই বইটা recommend করছি। কথা দিচ্ছি, হতাশ হবেন না। এই সিরিজ সম্পর্কে আমি আরও জানতে চাই। এরকম আরও লেখা পাঠকদের উপহার দেওয়ার অনুরোধ রইলো।
জানলাম অজানা ইতিহাস, আর এক ভয়ংকর গুপ্তঘাতক বাহিনীর জন্ম-রহস্য! এক প্রতিশোধের গল্প।
সেই ছোট্ট বেলার পারস্য, আরব্য রজনী। যা পড়লে আমাদের মন ভালো হয়ে যেতো তার সাথেও যে ভয়ংকর ইতিহাস জড়িয়ে, তা জানা যায় এই বই পড়লে।
সেলজুক সাম্রাজ্য, বন্ধুত্ব, বিশ্বাসঘাতকতা, প্রেম, বিরহ আর তার পরেই এক ভয়ংকর বাহিনীর জন্ম। যা আজও সমগ্র বিশ্ব কাঁপিয়ে বেড়াচ্ছে।
এই বইয়ের কাহিনী এগিয়েছে এক গণিতবিদ কে নিয়ে, যে হয়ে যায় এক পলাতক আসামী—শেষে হয়ে ওঠে এক ভয়ংকর সাম্রাজ্যের নেতা। নাম হাসান-ই-সাব্বাহ। হাসান যুদ্ধ করেছেন বিজ্ঞান, গণিত আর মানুষের মনস্তত্ত্ব দিয়ে। মগজধোলাই করে মানুষকে তৈরি করলেন Assassins-এ।
ইতিহাস ও ফিকশন এর মেলবন্ধন হয়েছে এখানে। বইয়ের শেষে আছে টীকা যা থেকে জানা যায় এখনকার আলামূতের বর্তমান অবস্থান।
একটা অন্যধরনের বই পড়লাম, যেটা informative আর জানলাম কিভাবে একজন ভালো মানুষ অপমানের আগুনে, বিশ্বাসঘাতকতা আর নিজের প্রিয়জন হারিয়ে এই পৃথিবীতে নতুন অস্ত্র তৈরি করে ফেললো।
নিজের কাজের ফাঁকেও বই শেষ হয়েছে ৩ দিনে, একফোঁটাও একঘেয়েমি লাগেনা। ভবিষ্যতে এরম আরও বই আশা করবো, যেগুলো informative আর টান-টান উত্তেজনায় ভরপুর।