Jump to ratings and reviews
Rate this book

চন্দ্রগ্রাসী

Rate this book
নভেম্বর, ১৯৯৫।

শহুরে যানজট থেকে বহু দূরে ঘন বিস্তারিত শালবনে নিহিত ছোটো মফসসল নভোনীল নগর। পরিবৃত্তি আর প্রগতির দিবাস্বপ্ন দেখতে দেখতে এগিয়ে চলে নিত্য নতুনের দিকে। দশমীর রাতে আকস্মিক উত্তরে হাওয়ার মৃদু ইঙ্গিত পেয়ে অনেকের মন কু ডেকেছিল। পরিযায়ী পাখির বদলে ছোটো ছোটো অভিমুখী ডানায় আগমন ঘটল একদল মথের। তারপর ঘটল দুটো নৃশংস খুন! বাদ গেল না একটি কিশোর বয়সি বালকও। কীভাবে যেন অগোচরে থাকা এই ছোট্ট মফস্সলের খোঁজ পেয়ে এক চরম বিপদ এসে ঘাঁটি গেড়ে বসল। ইন্সপেক্টর সুবীর দত্তের সঙ্গে প্রমাদ গুনতে লাগল মফসসলবাসী। হঠাৎ বেড়ে উঠল শেয়ালদের আনাগোনা। দুটি মৃতদেহের কাঁধে কীসের যেন দাগ দেখে শিউরে উঠলেন ডাঃ মীর আহমেদ। জঙ্গলের কিনারে উনিশ বছর ধরে দাঁড়িয়ে থাকা পরিত্যক্ত, ভগ্ন বাড়িটার পলাতক বাসিন্দার নাম উঠে এল আরও একবার। কৈশোর বয়সের ধাঁধার সমাধান খুঁজতে খুঁজতে এক ভয়ানক প্রহেলিকার সম্মুখীন হল সার্থক আর চব্বিশ বছর বয়সী জনি। রক্তের অনুপুরণ দিয়ে মথের ঝাঁক আড়াল করে রাখতে চাইল এক আঁধারসত্তাকে, সে... চন্দ্রগ্রাসী।

275 pages, Hardcover

Published January 22, 2026

Loading...
Loading...

About the author

Arka Chakraborty

2 books3 followers

Ratings & Reviews

What do you think?
Rate this book

Friends & Following

Create a free account to discover what your friends think of this book!

Community Reviews

5 stars
18 (42%)
4 stars
20 (47%)
3 stars
4 (9%)
2 stars
0 (0%)
1 star
0 (0%)
Displaying 1 - 13 of 13 reviews
Profile Image for Riju Ganguly.
Author 45 books1,941 followers
March 1, 2026
আজ থেকে তিন দশকের কিছু বেশি আগের এক আধা-পরিত্যক্ত শিল্প-শহর নভোনীল নগর। স্থানীয় থানার ইনস্পেক্টর সুবীর দত্তের ছেলে সার্থকের চোখ দিয়েই শহরটাকে আমরা দেখি। নয়ের দশকের তুলনামূলকভাবে মন্থর জীবন, কৈশোরের সংকট ও মানসিক টানাপোড়েন, ঈর্ষা ও প্রেম, দীর্ঘশ্বাস আর এগিয়ে চলা— এইসব দিয়েই ভরে থাকে তার দিনরাত্রি।
তারও প্রায় দু'দশক আগে এই শহরের ডি-ব্লক-এ ঘটেছিল কয়েকটি বীভৎস অপরাধ ও অন্তর্ধান। ততদিনে তার রেশ থিতিয়ে এসেছিল; কিন্তু হঠাৎই ঘটল এক নৃশংস হত্যাকাণ্ড। শুধু পুলিশ অফিসার সুবীর নন; সার্থকও ভীষণভাবে নাড়া খেল সেই ঘটনায়।
তারপর থেকেই শহরটাকে ঢেকে ফেলতে লাগল এক অদ্ভুত কুয়াশা। এল অদ্ভুতদর্শন মথের ঝাঁক। শালবনে এল অসংখ্য শিয়াল। আর হারিয়ে যেতে লাগল মানুষেরা। তারা ফিরেও এল; কিন্তু অনুভূতি বলতে তাদের মধ্যে রইল শুধুই হিংস্রতা...
আর রক্ততৃষ্ণা!
কেন? কী হয়েছে নভোনীল নগরের ওই ডি-ব্লক-এ?
কী হয়েছিল ওই ডি-ব্লকে সেই সাতের দশকে?

'চন্দ্রগ্রাসী' পড়তে-পড়তে এতরকম অনুভূতি জেগেছে যে পড়া শেষ করার পরেও তাদের সবগুলোকে গুছিয়ে লিখে উঠতে পারছি না। তবু যদি চেষ্টা করি, তাহলে মোটের ওপর চারটি কথা লেখা যায়। সেগুলো হল~
প্রথমত, বাংলা ভাষায় ভ্যাম্পায়ার নিয়ে প্রথম মৌলিক উপন্যাস এটিই।
আমি জানি এই অবধি পড়েই অনেকে হাঁ-হাঁ করে উঠতে চাইবেন। বিশ্বাস করুন, এই এলাকাটা নিয়ে আমি মোটামুটি খবর রাখি। হেমেন্দ্রকুমার রায়ের বেশ কিছু 'বিদেশি গল্পের ছায়া অবলম্বনে' লেখাকে আমি বাদই দিচ্ছি। বাণী রায়ের 'রাসমণির কাহিনি' দিয়ে বাংলায় এই বিশেষ অপজীবটির যথাযথ আবির্ভাব ঘটে। তার উত্তরসূরিদের মধ্যে শিশির বিশ্বাসের রাইমণি সিরিজের সব লেখাই পড়বে। এছাড়া আছে গৌরী দে'র বহু গল্প। 'পিশাচ' নামে, বা সরাসরি ভ্যাম্পায়ার হিসেবেই এই জীবেদের নিয়ে অনীশ দেবের সুললিত লেখনীর বহু রচনায় সমৃদ্ধ হয়েছে বাংলা সাহিত্য। শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায় 'ইটি' নাম দিয়ে একটি সিরিয়াসলি ভয়োৎপাদক উপন্যাস লিখেছিলেন 'ভূত পেত্নি রক্তচোষা' সংকলনে। এমন আরও বহু লেখা আছে চারদিকে। কিন্তু তাদের কোনোটিই মৌলিক নয়। সত্যি বলতে কি, বাণী রায়ের লেখার চরিত্র-ভাবনাটি আমদানিকৃত হলেও আমি সেটিকে তবু অনেকাংশে মৌলিক বলব। তার কারণ, বাংলার ঢিলেঢালা জীবন, সেই সময়ের সামাজিক অবস্থা, আর খুব হাল্কা একটা ইরোটিসিজম মিশিয়ে তিনিই একটা সলিড টেমপ্লেট দিয়েছিলেন আমাদের। বাকিরা... কিছু না বলাই ভালো। কিন্তু আলোচ্য উপন্যাসের কেন্দ্রীয় ভাবনা, বিশেষত এতে 'ভ্যাম্পায়ার' জিনিসটা ফ্যান্টাসি হলেও তাকে যেভাবে একটা জৈববৈজ্ঞানিক মোড়কে পরিবেশন করা হয়েছে, তা বাংলায় এযাবৎ দেখিনি।
দ্বিতীয়ত, হরর জগতের বেতাজ বাদশা স্টিফেন কিঙের উদ্দেশে এই লেখা এক অসাধারণ শ্রদ্ধার্ঘ্য। সুধীজন জানেন, কিং শুধুই ভয় পাওয়ান না। বরং ছোটো শহরের ছোটো-ছোটো মানুষের জীবন নিয়ে তিনি এক বিচিত্র নকশা গড়ে তোলেন, তার আঠালো আকর্ষণে আটকে পড়া মানুষদের ওপর ক্রমে, এক বিশাল মাকড়সার মতো করে নেমে আসে বিপদ— চেহারা-বদলানো মাকড়সা, ভিনগ্রহী, লোভ, শয়তান, ভ্যাম্পায়ার... সবকিছুই হতে পারে তা। আলোচ্য উপন্যাসটি মূলত 'সালেম'স লট', আর তারই সঙ্গে কিঙের অন্য একগুচ্ছ কিংবদন্তি হয়ে ওঠা লেখার প্রতি শ্রদ্ধার্ঘ্য। না; সে-সব উপন্যাস থেকে কিচ্ছু নেওয়া (সাদা বাংলায় ঝাড়া) হয়নি এতে। কিন্তু ছোট্ট শহরে নেমে আসা মারাত্মক বিপদ আর তাতে সাড়া দিয়ে সাধারণ মানুষের উত্তরণ বা অধোগমনের ছবি তুলির মৃদু আঁচড়ে ভারি সুন্দরভাবে এঁকেছেন লেখক।
তৃতীয়ত, পলড্যরির রচনা থেকে আজ অবধি ভ্যাম্পায়ার নিয়ে যা-কিছু লেখা হয়েছে, তার প্রায় সবেই প্রচ্ছন্ন (ক্ষেত্রবিশেষে প্রকট) হয়ে থেকে সাইকোসেক্সুয়াল ইরোটিসিজম। এই উপন্যাসে তা এসেছে সূক্ষ্ম অথচ সুন্দরভাবে। তবে তার অবশ্যম্ভাবী পরিণাম হিসেবে ঘৃণার দহনটি যত স্পষ্টভাবে ফুটেছে, অনুতাপ কিন্তু তেমনভাবে দেখা যায়নি। সবচেয়ে বড়ো কথা, উপন্যাসের পটভূমি হিসেবে স্মল-টাউন সেটিং তৈরি করতে, সেইসব চরিত্রদের কথা আর ব্যথায় যত পাতা ও শব্দ লেখক ব্যয় করেছেন, দু'দশক পুরোনো ঘটনাটি কিন্তু ধরা দিয়েছে তার তুলনায় প্রায় নগণ্য— কিছু আভাস, কিছু অনুমান, অনেক অপমান— হয়েই। তার পরের অভিঘাত এসেছে বিস্ফোরক আকারে। কিন্তু উপন্যাসের অন্ধকার কেন্দ্রের যুগ্ম নক্ষত্রটির সেই দ্বিতীয়জন দেখা দিয়েছে শুধু শেষ ক'টা পাতায় ডিউস এক্স মাখিনা হয়ে। এটা আমার বড্ড অসম মনে হয়েছে।
চতুর্থত, গল্পের শেষটা অনেকাংশে অ্যান্টি-ক্লাইমেটিক। অত শক্তিশালী এক ভ্যাম্পায়ার, যে প্রায় অন্ধকারের দেবীই হয়ে উঠতে পেরেছিল, সে এত সহজে ফুরিয়ে গেল? তার দ্বারা সৃষ্ট (অন্ধকার জীবনপ্রাপ্ত?) চরিত্রেরাও প্রাণহীন পুতুলের মতো রণে ভঙ্গ দিল এত দ্রুত? ব্যাপারটা ঠিক হজম হল না। তবে সুধীজন জানেন 'সালেম'স লট' পুড়ে গেলেও সুস্থ মস্তিষ্কের কেউ সেখানে ফিরে যায়নি। গেলে... তারা আর ফিরত না। এই উপন্যাসে আতঙ্কিত নগরবাসী একসময় পালিয়ে গেলেও পরে প্রশাসনের আশ্বাস পেয়ে নভোনীল নগরে প্রত্যাবর্তন করেছিল। সেই খবর ছেপেই এই বইয়ের সূচনা। তাহলে কি একটা 'ওয়ান ফর দ্য রোড' আমরা পেতে পারি ভবিষ্যতে? আশায় রইলাম, কারণ "দ্য ডেড ট্রাভেল ফাস্ট।"
গ্রন্থনির্মাণের ক্ষেত্রে জাস্ট কোনো কথা হবে না। অসাধারণ প্রচ্ছদ ও অলংকরণ (রণি বসু জিন্দাবাদ!), নয়নসুখকর বর্ণ-সংস্থাপন, শুদ্ধ মুদ্রণ, রঙিন বুকমার্ক— সব মিলিয়ে বইটা বিষয়ের মতো পরিবেশনের ক্ষেত্রেও দৃষ্টান্ত হয়ে রইল।
এইসব এতোল-বেতোল কথা অনেক হল। পুরো ব্যাপারটা সামারাইজ করে দিই এইবার।
১. হররপ্রেমী হলে বইটা পড়ুন। এইরকম ভালো হরর উপন্যাস বাংলায় খুব বেশি পড়ার সৌভাগ্য হয় না আমাদের।
২. পড়ার পর কী মনে হল, সেটা লিখুন। এই লেখক অত্যন্ত সম্ভাবনাময়। তালি ও গালির মিশ্রণ নামক সার-জল না পেলে ইনিও কিছুদিন পর গুষ্টির পিন্ডি লিখে পাতা ভরাবেন। তেমন কিছু হওয়ার বদলে তাঁকে লাইনে রাখুন। আর সেটা করার জন্য বইটা পড়ুন, কারণ এ আপনার সামাজিক কর্তব্য।
অলমিতি।
Profile Image for Aishu Rehman.
1,148 reviews1,206 followers
March 23, 2026
আজকাল হররের নামে যেসমস্ত ছাইপাশ বের হচ্ছে হরদমে তা পড়তে পড়তে হররের প্রতি একরকম বিতৃষ্ণা জন্মে গেছিল আমার। তবুও এই বইটা পড়তে বসলাম তাও আবার ঈদের দিনে তার কারণ দুইটা। কারণ (১) - সুন্দর প্রচ্ছদ। কেন জানিনা বইটা আমাকে তীব্রভাবে আকর্ষণ করছিল। কারণ (২) - ড্রাকুলা বা ভ্যাম্পায়ার। ড্রাকুলার প্রতি সেই ছোটবেলা থেকেই এক ধরনের দুর্বলতা আছে। ইনিয়ে বিনিয়ে যা ইচ্ছা তাই লেখুক লেখকসমাজ তাও আমার ভালো লেগে যায়। পড়ার পর মনে হচ্ছে, বইটা বিশেষ কিছু সত্যিই ছিল অন্তত যারা ভ্যাম্পায়ার ফিকশন পছন্দ করেন।

‘চন্দ্রগ্রাসী’ লেখকের প্রথম উপন্যাস। তবুও এই উপন্যাসে তার পরিবেশ নির্মাণের দক্ষতা প্রশ্নাতীত। ঘন অন্ধকারে মোড়া কুয়াশাচ্ছন্ন শালবন, শেয়ালের ডাক, পোড়ো বাড়ি, প্রচ্ছদের ঐ সুন্দর মথ/প্রজাপতির অদ্ভুত উপস্থিত সব কিছু মিলিয়ে নভোনীল নগরের ঐ অস্বাভাবিক পরিবেশে পাঠক হারিয়ে যাবেন খুব সহজেই। প্রত্যেকটা মুখ্য চরিত্রের ডিটেইলিং কিছুটা স্বস্তি দেবে গল্পে। সত্যি বলতে বড় উপন্যাস পড়ার এইটাই মজা। চরিত্রগুলো ঠিকঠাক নিজেকে প্রকাশ করতে পারে।

এটাকে বাংলায় লেখা প্রথম মৌলিক ভ্যাম্পায়ার উপন্যাস বলা যায় কিনা তা নিয়ে একটু দ্বিধাদ্বন্দ কাজ করছে। তবে এটা ঠিক ভ্যাম্পায়ার জিনিসটা ফ্যান্টাসি হলেও লেখক বিজ্ঞানের মোড়কে যেভাবে এইটাকে উপস্থাপন করেছেন সেটাই মৌলিকত্ব আছে। চাণক্য, চন্দ্রগুপ্ত কিংবা অশোকের মিথের সাথে পরিচিতি হয়েছিলাম শরিফুল হাসানের ‘ঋভু’ তে। তার অল্টারনেট দৃষ্টিভঙ্গি এই বইটাতে খারাপ লাগেনি।

বইটার কিছু কমতিও চোখে পড়েছে আমার। একান্ত ব্যক্তিগত বলতে পারেন। বিশেষ করে অতিপ্রাকৃত সত্তার ক্ষমতা বা সেখান থেকে উদ্ভূত অন্যান্য অতিপ্রাকৃত সত্তার ক্ষমতা, তাদের সিদ্ধান্ত নেওয়ার ধরণ বা নিষ্ক্রিয়তা এসবকিছুর আরেকটু ব্যাখ্যা পেলে আমার ভালো লাগতে। তাছাড়া গল্পের শেষ অংশে সবচেয়ে শক্তিশালী চরিত্রটির এতো সহজভাবে আত্মসমর্পণ বা পরাজয় বরণ এবং তার অন্যান্য সহচরদের পরিণতি ঠিক মনের মতো হলো না।

তবুও বইটি আমার কাছে এক বিশেষ অভিজ্ঞতা। বাংলা ভৌতিক সাহিত্যে এ এক ধরনের নতুন কিছুর শুরু। বলা যায় সাহসী পদক্ষেপ। সাধারণত যে ধরনের হরর আমরা পড়ে থাকি তার থেকে একটু আলাদা, পরিবেশ নির্ভর, ধীরগতির স্মল টাউন ভ্যাম্পায়ার ফিকশন যারা পড়তে চান তাদের জন্য এটা আদর্শ। তাই ভাবনা চিন্তা ছাড়াই শুরু করে ফেলতে পারেন। আশা করি মন্দ লাগবে না।
Profile Image for Utsab Guha.
43 reviews2 followers
March 19, 2026
ভাম্পায়ার প্রেমী আমি কোনদিনই না, তবে এরকম থ্রিলার আমি পড়ি নি বাংলাতে, কি দারুন লেখা, সত্যি গো গ্রাসে গিলেছি উপন্যাসটা আর কিছু বলার নিই অনবদ্য, সমকামিতা ভাম্পায়ার ভালোবাসার মেলবন্ধন এই বই, লেখক কে কুরনিশ
Profile Image for Xyst_.
21 reviews
February 28, 2026
দারুণ!!!😯🩷 এই পার্সপেক্টিভ টা আসবে ভাবতেই পারিনি✨ এন্ডিং টাও একদম পারফেক্ট (উপরন্তু বইমেলা থেকে পাওয়া প্রথম কোন বইয়ের signed copy 🥹) thank you!!
ভীষণ ভিন্ন স্বাদের একটি গল্প! এক দিনে পড়ে ফেলেছি!!
ps. "Carmilla" -র বাজে ভক্ত হওয়ায় বইটা উপরি পাওনা ছিল 🫢🧛🏻‍♀️
33 reviews
June 23, 2026
নস্টালজিয়ার কোমল আলো থেকে অন্ধকারের গভীর খাদে নামিয়ে আনে এই গল্প—এক নিঃশ্বাসে!

চন্দ্রগ্রাসী
অর্ক চক্রবর্তী
প্রকাশক: বুক লুক পাবলিশিং
মূল্য: ৩৪৯/-

অর্ক চক্রবর্তীর চন্দ্রগ্রাসী এমন এক উপন্যাস, যা পড়া মানে কেবল একটি ভয়ের গল্পের মধ্যে ঢুকে পড়া নয়—বরং এক ধীরে-ধীরে বিস্তৃত হওয়া অন্ধকারের অভিজ্ঞতার ভেতর দিয়ে যাত্রা করা। বোধহয় অর্ক চক্রবর্তী তাঁর লেখনীর একটি স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য হল এই ‘স্লো-বার্ন’ গতি, যা প্রথমে পাঠককে এক পরিচিত, প্রায় নিরীহ জগতে নিয়ে যায়, তারপর ধাপে ধাপে সেই পরিচিতির ভিতটাই ভেঙে দেয়। ‘চন্দ্রগ্রাসী’-তেও তার উদাহরণ পাওয়া যায়।

উপন্যাসের পটভূমি নব্বইয়ের দশকের একটি মফস্বল শহর—নভোনীল নগর। এই শহরটি যেন বাস্তবের কোনো শিল্পনগরীর প্রতিবিম্ব, যেখানে জীবন ধীরে চলে, মানুষজন একে অপরকে চেনে, আর সন্ধ্যা নামলেই অদ্ভুত এক নির্জনতা চারদিক গ্রাস করে। লেখক এই সময়কালটিকে শুধু পটভূমি হিসেবে ব্যবহার করেননি, বরং গল্পের এক জীবন্ত চরিত্রে পরিণত করেছেন। কেবল টিভির নতুন আগমন, বাজাজ চেতকের শব্দ, শারদীয়া পত্রিকার গন্ধ, কিংবা কৈশোরের নির্দোষ প্রেম—এসব উপাদান পাঠকের মনে নস্টালজিয়ার দরজা খুলে দেয়। বিশেষ করে যারা সেই সময়টাকে নিজের জীবনে অনুভব করেছেন, তাদের কাছে এই অংশগুলো একরকম ব্যক্তিগত স্মৃতির মতোই ফিরে আসে।

কিন্তু এই নস্টালজিয়ার আবরণ বেশিক্ষণ স্থায়ী হয় না। খুব সূক্ষ্মভাবে লেখক পাঠককে টেনে নিয়ে যান এক অস্বস্তিকর অঞ্চলে, যেখানে বাস্তব আর অবাস্তবের সীমারেখা ক্রমশ ঝাপসা হয়ে যায়। বিজয়া দশমীর রাতে মথের অস্বাভাবিক আগমন, তার পরপরই ঘটে যাওয়া নৃশংস খুন, মৃতদেহের অদ্ভুত দাগ—এসব মিলিয়ে গল্পে তৈরি হয় এক চাপা ভয়, যা কখনোই হঠাৎ করে ঝাঁপিয়ে পড়ে না, বরং ধীরে ধীরে শ্বাসরোধ করে।

গল্পের তদন্তের অংশটিও অত্যন্ত আকর্ষণীয়। ইন্সপেক্টর সুবীর দত্ত এবং ডাঃ মীর আহমেদের মতো চরিত্ররা প্রথমে ঘটনাগুলোকে যুক্তির আলোয় ব্যাখ্যা করার চেষ্টা করেন। কিন্তু যতই তারা গভীরে যেতে থাকেন, ততই পরিষ্কার হয় যে এই রহস্য কেবল মানবিক অপরাধের সীমায় আবদ্ধ নয়। এখানে এমন এক অজানা শক্তি কাজ করছে, যার উপস্থিতি অনুভব করা যায়, কিন্তু সহজে ব্যাখ্যা করা যায় না। এই বিজ্ঞান বনাম অজানার দ্বন্দ্ব গল্পটিকে আরও গভীর করে তোলে।

উপন্যাসের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হল এর দ্বৈত সময়রেখা—১৯৭৬ এবং ১৯৯৫। অতীত এবং বর্তমানের এই মেলবন্ধন অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে নির্মিত হয়েছে। ১৯৭৬ সালের অংশে যে সম্পর্ক, প্রেম, বিশ্বাসঘাতকতা এবং অন্ধকারের বীজ বোনা হয়, তার ফলই যেন ১৯৯৫ সালে এসে ভয়াবহ রূপ নেয়। বিশেষ করে ফ্ল্যাশব্যাক অংশটি আবেগের দিক থেকে অত্যন্ত শক্তিশালী, যা গল্পের ভয়ের মাত্রাকে আরও মানবিক করে তোলে। ফলে পাঠক শুধু আতঙ্কিত হন না, বরং চরিত্রগুলোর যন্ত্রণা এবং অসহায়তাও অনুভব করতে পারেন।

‘চন্দ্রগ্রাসী’-র সবচেয়ে বড় শক্তি নিঃসন্দেহে তার পরিবেশ নির্মাণ। শালবনের ঘন অন্ধকার, কুয়াশাচ্ছন্ন রাত, দূরে শেয়ালের ডাক, আর মথের অস্বাভাবিক উপস্থিতি—সব মিলিয়ে এমন এক ভিজ্যুয়াল তৈরি হয়, যা পড়তে পড়তে চোখের সামনে স্পষ্ট হয়ে ওঠে। অনেক জায়গায় মনে হয় যেন একটি সিনেমা দেখছি, যেখানে প্রতিটি দৃশ্য ধীরে ধীরে তৈরি হচ্ছে, আর তার মধ্যেই লুকিয়ে আছে অজানা আতঙ্ক।

তবে কিছু সীমাবদ্ধতাও চোখে পড়ে। গল্পের কিছু জায়গায় কিছু প্রশ্নের উত্তর পুরোপুরি পরিষ্কার হয় না, বিশেষ করে অতিপ্রাকৃত সত্তার ক্ষমতা বা কিছু চরিত্রের সিদ্ধান্ত নিয়ে। কিছু ক্ষেত্রে মনে হতে পারে যে আরও একটু ব্যাখ্যা দিলে গল্পটি আরও দৃঢ় হতো। এছাড়াও, প্রথমার্ধে দীর্ঘ সময় ধরে চরিত্র এবং পরিবেশ তৈরি করার পর হঠাৎ করে ফ্ল্যাশব্যাকের দীর্ঘ অংশ এসে পড়ায় গল্পের গতি খানিকটা বিচ্ছিন্ন মনে হতে পারে। ক্লাইম্যাক্সও অনেকের কাছে প্রত্যাশার তুলনায় একটু সংযত বা অ্যান্টি-ক্লাইম্যাকটিক লাগতে পারে, বিশেষ করে এত বড় বিল্ড-আপের পর।

তবুও, এই ছোটখাটো খামতিগুলো ‘চন্দ্রগ্রাসী’-র সামগ্রিক প্রভাবকে খুব একটা কমাতে পারে না। বরং বলা যায়, এই উপন্যাসটি বাংলা ভৌতিক সাহিত্যে একটি সাহসী এবং গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। এটি কেবল ভয় দেখানোর জন্য লেখা নয়, বরং একটি নির্দিষ্ট সময়, সমাজ এবং মানুষের মানসিকতার গভীরে পৌঁছানোর চেষ্টা।

সবশেষে বলা যায়, ‘চন্দ্রগ্রাসী’ এমন একটি বই যা পড়ে শেষ করার পরও অনেকদিন ধরে তার আবহ, তার চরিত্র, এবং তার অন্ধকার পাঠকের মনে থেকে যায়। যারা প্রথাগত হরর থেকে একটু আলাদা, পরিবেশনির্ভর, ধীরগতির কিন্তু গভীর প্রভাব ফেলা গল্প পছন্দ করেন, তাদের জন্য এই বইটি নিঃসন্দেহে একটি বিশেষ অভিজ্ঞতা হয়ে উঠবে।
Profile Image for Nayanshree.
44 reviews
August 24, 2026
চন্দ্রগ্রাসী পড়তে শুরু করার আগে আমি ভেবেছিলাম, হয়তো আর পাঁচটা murder mystery বা horror thriller-এর মতোই একটা গল্প পাব। কিন্তু বইটা যত এগিয়েছে, ততই বুঝেছি,এটা শুধু খুনের রহস্য নিয়ে লেখা গল্প নয়।

১৯৯৫-এর নভোনীল নগর। দশমীর রাত। অস্বাভাবিক সংখ্যক মথের আগমন, একের পর এক খুন, অদ্ভুত কিছু চিহ্ন, আর উনিশ বছর ধরে পরিত্যক্ত একটি বাড়ি, সবকিছু মিলিয়ে গল্পের শুরু থেকেই একটা অস্বস্তিকর রহস্য তৈরি হয়।

আমার সবচেয়ে ভালো লেগেছে বইটির atmosphere। ঘন শালবন, মফস্বলের পরিবেশ, পুরোনো বাড়ি, রাতের নিস্তব্ধতা, লেখক এমনভাবে setting তৈরি করেছেন যে অনেক সময় মনে হয়েছে, আমি শুধু গল্পটা পড়ছি না, বরং সেই শহরের মধ্যেই হাঁটছি।

গল্পটার pacing অবশ্যই slow-burn ধরনের। তাই যারা শুরু থেকেই rapid twists আর nonstop action চান, তাঁদের কাছে কিছু অংশ একটু ধীর মনে হতে পারে। কিন্তু আমার কাছে এই ধীর গতিটাই গল্পের রহস্যকে আরও effective করেছে। কারণ লেখক ধীরে ধীরে clues দিয়েছেন এবং গল্পের অন্ধকার দিকটা একেবারে হঠাৎ নয়, বরং আস্তে আস্তে সামনে এনেছেন।

আর চন্দ্রগ্রাসী-র একটা বিষয় বিশেষভাবে ভালো লেগেছে, এখানে horror শুধু ভয় দেখানোর জন্য ব্যবহার করা হয়নি। গল্পের অতীত, মানুষের মনস্তত্ত্ব এবং জমে থাকা অন্ধকারের সঙ্গে horror-কে বেশ ভালোভাবে মিশিয়ে দেওয়া হয়েছে।

তবে বইটি নিখুঁত নয়। কিছু জায়গায় pacing আরও tighter হতে পারত এবং কয়েকটি অংশ আমার কাছে একটু বেশি দীর্ঘ মনে হয়েছে। তারপরও overall reading experience বেশ satisfying ছিল।

সব মিলিয়ে, চন্দ্রগ্রাসী আমার কাছে এমন একটি atmospheric Bengali horror thriller, যেখানে mystery-এর সঙ্গে ধীরে ধীরে supernatural darkness মিশে যায়।

Rating: 4.5/5


Profile Image for DIPANJAN MUKHERJEE.
139 reviews5 followers
August 23, 2026
Chandragrasi BY Arka chakraborty

Plot -Chandragrasi" (চন্দ্রগ্রাসী) is a Bengali thriller and psychological novel written by Arka Chakraborty and published by Book Look. Set in a remote forested town in November 1995, the plot follows two brutal murders, a swarm of mysterious moths, and a dark secret tied to an abandoned house.

THE WRITER has done a commendable Job in invoking a spooky and eerie feeling by its setting in Navonil town which forms a important character in the story.

গল্পের পরতে পরতে রয়েছে চমক ও অপ্রত্যাশিত মোড়প্রতিটি চরিত্রের অন্তর্নিহিত দ্বন্দ্ব ও মানসিক টানাপোড়েন অত্যন্ত সাবলীল ভাষায় তুলে ধরা হয়েছে।, যা পাঠককে শেষ পৃষ্ঠা পর্যন্ত আটকে রাখবে।
কল্পনার আতিশয্য নয়, বরং রক্ত-মাংসের বাস্তব চরিত্রগুলো পাঠকের সাথে এক আত্মিক সংযোগ তৈরি করে।
হরর ঘরানার গল্প হলেও এখানে সম্পর্কের টানাপোড়েন খুব সুন্দরভাবে ফুটে উঠেছে। বিশেষ করে সমকামিতার মতো একটি বিষয়কে গল্পে যেভাবে পরিবেশন করেছেন তা লেখকের আধুনিক মননশীলতার পরিচয় দেয়।
Characters-
বিদিশা, মৃন্ময়ী, জনি, সুবীর বাবু, ডক্টর আহমেদ প্রতিটি চরিত্রই খুব ভালোভাবে ফুটে উঠেছে বিশেষ করে 'সার্থক' চরিত্রটি এককথায় অনবদ্য।
The relation between Jony and Sarthak is superbly established and the 90s vibes is properly captured and sarthaks emotional turmoil with his family that he have to be the best in studies , without acknowledging his other qualities like painting is very maturely handled.

Con- Just one According to me the ending lacked the punch that is required in this great novel.something was missing.

চন্দ্রগ্রাসী’ নিছক কোনো গল্প নয়; এটি মানবমনের জটিল গোলকধাঁধার এক প্রতিচ্ছবি। পূর্ণিমার চাঁদ যেমন ধীরে ধীরে রাহুর গ্রাসে হারিয়ে যায়, তেমনি জীবনের নানা বাঁকে লুকিয়ে থাকা অজানা রহস্য কীভাবে একজন মানুষের অস্তিত্বকে গ্রাস করে, তাই এই উপন্যাসের মূল উপজীব্য।
Profile Image for Dipankar Bhadra.
757 reviews70 followers
June 9, 2026
কিছু উপন্যাস পড়া শেষ হয়ে গেলেও তাদের আবহ সহজে শেষ হয় না। চন্দ্রগ্রাসী সেই ধরনেরই একটি বই। গল্প শেষ হলেও নভোনীল নগরের কুয়াশা, শালবনের অন্ধকার, আর মানুষের ভেতরে লুকিয়ে থাকা অচেনা ক্ষুধা দীর্ঘক্ষণ পাঠকের মনে থেকে যায়।

উপন্যাসের সবচেয়ে বড় শক্তি এর পরিবেশ নির্মাণ। নব্বই দশকের এক প্রান্তিক শিল্প-শহরকে লেখক এমনভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন যে সেটি শুধুমাত্র গল্পের পটভূমি হয়ে থাকে না, নিজেই যেন একটি জীবন্ত চরিত্রে পরিণত হয়। সার্থকের চোখ দিয়ে আমরা যেমন কৈশোরের অনিশ্চয়তা, বন্ধুত্ব, ঈর্ষা ও প্রথম অনুভূতির জগৎ দেখি, তেমনি ধীরে ধীরে প্রবেশ করি এক ক্রমবর্ধমান অন্ধকারের মধ্যে।

বইটির আরেকটি উল্লেখযোগ্য দিক হলো ভ্যাম্পায়ার-ধারণার ব্যবহার। প্রচলিত লোককথা বা পশ্চিমী হরর সাহিত্যের পরিচিত ছককে অনুসরণ না করে লেখক বিষয়টিকে এক ভিন্ন ব্যাখ্যার মধ্যে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছেন। ফলে অতিপ্রাকৃত আতঙ্কের পাশাপাশি গল্পে যুক্ত হয়েছে রহস্য, অনুসন্ধান এবং এক ধরনের বৈজ্ঞানিক কৌতূহল।

উপন্যাসে স্টিফেন কিং-প্রভাবের আভাস অবশ্যই পাওয়া যায়, বিশেষ করে ছোট শহরের সাধারণ মানুষদের জীবনকে কেন্দ্র করে ধীরে ধীরে ভয়কে বিস্তার করার পদ্ধতিতে। তবে সেটি নিছক অনুসরণ নয়; বরং পরিচিত এক সাহিত্যিক ধারাকে নিজের ভাষা ও অভিজ্ঞতায় রূপান্তর করার প্রচেষ্টা বলেই মনে হয়েছে।

তবে বইটি একেবারে ত্রুটিমুক্ত নয়। গল্পের কেন্দ্রে থাকা অতীতের ঘটনাগুলোর আরও বিস্তৃত অন্বেষণ থাকলে রহস্যের স্তরগুলি হয়তো আরও গভীর হতো। কিছু গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রের উপস্থিতিও তুলনামূলকভাবে দেরিতে এসেছে বলে মনে হয়েছে। এছাড়া শেষ পর্বে যে সংঘাতের প্রস্তুতি দীর্ঘ সময় ধরে তৈরি হয়, তার নিষ্পত্তি কিছু পাঠকের কাছে প্রত্যাশার তুলনায় দ্রুত বলে মনে হতে পারে।

তবুও সামগ্রিকভাবে চন্দ্রগ্রাসী সাম্প্রতিক বাংলা হরর সাহিত্যের অন্যতম উল্লেখযোগ্য সংযোজন। এটি শুধু ভয় দেখানোর চেষ্টা করে না; বরং স্মৃতি, আকাঙ্ক্ষা, হিংসা এবং মানুষের অন্ধকার দিকগুলোকেও অনুসন্ধান করে। যারা পরিবেশনির্ভর, ধীরে ধীরে গড়ে ওঠা হরর উপন্যাস পড়তে ভালোবাসেন, তাদের জন্য বইটি নিঃসন্দেহে পড়ার মতো।

4 reviews1 follower
March 1, 2026
সম্প্রতি একটা বই পড়ে শেষ করেছি। শুরুতে আর পাঁচটা সুন্দর টানটান লেখা গল্পের মতো মনে হলেও ধীরে ধীরে তা এক অন্য রূপ নিতে শুরু করে।

নভোনীল নগরের থানার ইনস্পেক্টর সুবীর দত্তের হাতে আসে এক মার্ডার কেস। কেউ বা কারা এই নৃশংসভাবে খুন করে চলেছে তার হদিশ পেতে তিনি মরিয়া ও তৎপর।

দিনের পর দিন তদন্তে ও জীবনযাত্রায় জটিলতা বাড়ার সাথে সাথে গল্পের মোড় ভয়ানক ও আকর্ষণীয় হতে শুরু করে। সেই ভয়ানক পরিবেশের পিছনের গভীর রহস্য জানতে গেলে পড়তে হবে *চন্দ্রগ্রাসী*।

এটি নিছক কোনো ভয়ের বা রহস্যের গল্প নয়, পড়লে মনে হতে পারে যদি সত্যিই এমনটা ঘটে তাহলে,,, , ,
আমার মধ্যে বেশ কিছু দিন এর রেশ ছিল। বারবার কিছু কিছু জায়গা ( গল্পের) চোখের সামনে ভেসে উঠছিল। এখন রিভিউ লিখতে বসেও সেই একই অনুভূতি।

পড়তে পড়তে, উত্তেজনায় মোড়া একটি এমন লেখা যা ভাবতে বাধ্য করে যদি সত্যিই এমন হয় তাহলে আমাদের জীবন কেমন হতে পারতো বা রোজকার দিনগুলো কতটা আতঙ্কের হতে পারতো।
আশি নব্বই দশকের প্রেক্ষাপটে লেখা এই কাহিনীর মধ্যে দিয়ে আরও একবার আমি অতীত চারণ করার সুযোগ পেয়েছি। লেখক সেই সময়ের এমন কিছু পরিবেশ, দৃষ্টিকোণ ও পার্থিব বস্তুর উল্লেখ করেছেন যা আমি খুব সহজেই নিজের চোখের সামনে এক স্পষ্ট চিত্র মেলে ধরতে পেরেছি।
এ লেখায় লেখকের গভীর অধ্যবসায়, মনোযোগী কর্মকাণ্ড ও অসীম যত্নের পরিচয় পাওয়া যায়। লেখার ধরন, সময়কাল নির্ধারণ ও গল্পের ধাপ সাজানোয় লেখক পটুতার পরিচয় দিয়েছেন। সব মিলিয়ে আমি সত্যিই খুশি হয়েছি এমন একটি বই পড়ে।

বইয়ের নাম : চন্দ্রগ্রাসী
লেখক : অর্ক চক্রবর্ত্তী

অসংখ্য ধন্যবাদ লেখককে এমন একটি মনোগ্রাহী লেখা পাঠকদের হাতে তুলে দেওয়ার জন্য। 🍁🍁

Johnny Ronin Liono thanks a lot.
Profile Image for Imon Sarkar.
15 reviews
April 24, 2026
Chandragrashi by Arka Chakraborty is a gripping horror-thriller that seizes your attention from the very first page and refuses to let go. What makes it particularly remarkable is how effortlessly it juggles multiple layers- a serial killer mystery, a police procedural, a coming-of-age narrative, and a richly textured blend of myth and folklore. In less capable hands, this ambitious mix could easily have descended into chaos. Instead, Arka successfully manages to weave the threads together into a cohesive and satisfying whole.

The novel vividly captures the texture of small-town Bengal in the 90s. Its integration of lore and history, especially the connections to the era of Chandragupta and Chanakya, adds a fascinating depth to the central narrative. The antagonist, too, has been handled with nuance; by the end, one is left not just horrified, but also unsettled by an unexpected sense of empathy.

What truly elevates the book is its approach to horror. Rather than relying on gratuitous violence, Arka leans into atmosphere- building a pervasive sense of dread that lingers long after the page is turned. The tension is sustained masterfully, culminating in moments where the line between hope and despair blurs so convincingly that the triumph of good feels genuinely uncertain.

Overall, Chandragrashi is a winner all the way! While Krishnasharbari hinted at Arka Chakraborty’s potential, this novel firmly establishes him as a formidable new voice in Bengali literature.
6 reviews1 follower
June 29, 2026
ভ্যাম্পায়ার হররের এক টানটান ও রোমাঞ্চকর আখ্যান নিয়ে হাজির উপন্যাস "চন্দ্রগ্রাসী"। ব্রাম স্টোকারের 'ড্রাকুলা' কিংবা স্টিফেন কিং-এর 'সালেম'স লট'-এর নির্যাস মিশে থাকা এই কাহিনীতে লেখক চমৎকারভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন এক ছোট শহরের অন্ধকার আবর্তে তলিয়ে যাওয়া কিছু মানুষের বিপন্নতা, আর সবশেষে আলোর জগতে ফিরে আসার এক মরিয়া চেষ্টা (যদিও সেই ফেরাটা আগের মতো হলো কিনা, তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যায়)।
উপন্যাসের মধ্যভাগ থেকে শেষ পর্যন্ত কাহিনীর গতি যতটা রোমাঞ্চকর ছিল, সমাপ্তিটা ঠিক ততটা সন্তোষজনক লাগেনি; ক্লাইম্যাক্সটা আরও একটু জোরালো ও পোক্ত হতে পারত। ভ্যাম্পায়ারের বিরুদ্ধে লড়াই করার জন্য প্রোটাগোনিস্টদের যেভাবে একটা দল হিসেবে গড়ে ওঠার দরকার ছিল—যারা বারবার ধাক্কা খেয়েও ফাইট ব্যাক করবে—তা যেন ঠিকঠাক দানা বাঁধেনি। পুরো উপন্যাসে ভাষার বুননও সব জায়গায় সমান নয়। এছাড়া গল্পে ভ্যাম্পায়ারের অতিপ্রাকৃতিক শক্তি ও তার দুর্বলতার জায়গাগুলো স্পষ্ট করা হয়নি; কিছু জায়গায় তাকে অতিরিক্ত মানবিক দেখানোর ফলে হররের যে সহজাত 'শক ভ্যালু', তা কিছুটা ধাক্কা খেয়েছে। লেখকের উচিত ছিল পটভূমি নির্মাণে এবং কাহিনীর বাঁধন ও গভীরতা বৃদ্ধিতে আরেকটু সময় দেওয়া।

পাশাপাশি, কাহিনীর কিছু জায়গা বেশ অস্পষ্ট রয়ে গেছে:

* পুরো গল্পে আদতে কী ধরণের রিচুয়াল সম্পন্ন করা হলো?
* শাশ্বতীর শেষমেশ ঠিক কী পরিণতি হলো?
* মথ কি কেবলই আলমোড়াতেই পাওয়া যায়?
* কাহিনীর খাতিরে সেই মথ নিয়ে আসার প্রয়োজনীয়তা ঠিক কী ছিল?

তবে এই খামতিগুলো বাদ দিলে, প্রথম উপন্যাস হিসেবে লেখকের এই প্রচেষ্টাটি যে যথেষ্ট আশাব্যঞ্জক এবং প্রশংসনীয়, তা অনস্বীকার্য।
Profile Image for Diptanu Chowdhury.
58 reviews
August 4, 2026
নভেম্বর ১৯৯৫। শালবনের ঘন ছায়ায় ঘেরা ছোট্ট মফস্বল শহর নভোনীল নগর। বাইরে থেকে দেখলে শান্ত, প্রগতির স্বপ্নে বিভোর এক জায়গা। কিন্তু দশমীর রাতে উত্তরের হাওয়া যখন বয়ে আনে অসংখ্য মথের ঝাঁক, তখনই শুরু হয় এক অন্ধকার অধ্যায়। দুটো নৃশংস খুন-একজন যুবকের মুণ্ডুবিহীন দেহ, আরেকটি কিশোরের লাশ গাছে ঝুলছে। শেয়ালের ডাক বেড়ে যায়, কুয়াশা ঘন হয়, আর অতীতের এক পরিত্যক্ত বাড়ি থেকে উঠে আসে পুরনো রহস্য। এই হলো চন্দ্রগ্রাসীর মূল সুর।

লেখকের সবচেয়ে বড় শক্তি পরিবেশ নির্মাণে। শালবনের অন্ধকার, কুয়াশা, মথের ঝাঁক, শেয়ালের ডাক-এসব এতটাই জীবন্ত যে পড়তে পড়তে চোখের সামনে ভেসে ওঠে। ছোট শহরের নস্টালজিয়া আর আতঙ্কের মিশ্রণ দারুণ।

থ্রিলার-হরর মিলিয়ে একটা অনন্য স্বাদ। ১৯৭৬ আর ১৯৯৫-দুই সময়কালের ফ্ল্যাশব্যাকের মাধ্যমে গল্প এগোয়।রহস্যের সুতো ধীরে ধীরে খোলে আর এতে চরিত্রগুলো গভীরতা পায়-ইন্সপেক্টর সুবীর দত্ত, তার ছেলে সার্থক, জনি, আর অতীতের মৃন্ময়ী-বিদিশা-অনন্ত ব্যানার্জীর মতো চরিত্ররা।

গল্প যত এগোয় তত টেনশন বাড়ে। প্রথমার্ধে তদন্ত আর চরিত্র পরিচয়, পরে অতীত উন্মোচন। শেষের দিকে পেস বেড়ে যায়, ক্লাইম্যাক্সে শ্বাসরুদ্ধকর। লেখক বাংলা সাহিত্যে একটা নতুন ধরনের অন্ধকার নিয়ে এসেছেন-যেখানে লোককথা, বিজ্ঞান আর অতিপ্রাকৃতের ছোঁয়া মিশে এক অদ্ভুত মিশ্রণ তৈরি হয়েছে।

সবমিলিয়ে ভীষণ ভালো একটি বই। যারা এখনো বইটি পড়েননি তারা অবশ্যই বইটি পড়ে দেখবেন। একবার পড়া শুরু করলে শেষ না হওয়া অব্দি শান্তি লাগবে না। আপনার মস্তিষ্কে এই বইয়ের রেশ থেকে যাবে অনেকদিন।
Displaying 1 - 13 of 13 reviews