▪️পাহাড়ি রহস্য ▪️মহালবাড়ির রহস্য ▪️তাসমিম হত্যা রহস্য ▪️ডুমড়িপুরার ঘটনা
ভদ্রলোকের নাম ইন্দ্রমোহন খাসনবিশ। বয়স আন্দাজ ৫৬-৫৭। চূড়ান্ত রকমের বইপোকা। আগে কাস্টমসে চাকরি করতেন, কিন্তু শুধুমাত্র নিরুপদ্রবে বই পড়বে বলেই, তিনি অবসরের আগেই অবসর নিয়েছেন। ইন্দ্রমোহন থাকেন উত্তর কলকাতার ২/১এ, রাজেন্দ্র ঘোষাল লেনের নিজস্ব পৈত্রিক বাড়িতে। স্ত্রী-বিয়োগ ঘটেছে অনেকদিন আগেই। ইন্দ্রমোহন নিজের হাতে বাজার করতে পছন্দ করেন। নিয়মিত ব্যায়াম করেন। নিতান্তই মাছে-ভাতে বাঙালি। মিষ্টি খেতেও ভারি পছন্দ করেন। বর্তমানে এই বাড়িতে থাকে তার একমাত্র পুত্র সন্মোহ। ও বেসরকারি ব্যাঙ্ককর্মী। পিতা-পুত্রের সম্পর্ক একেবারে বন্ধুর মতই। আর থাকে আরেকজন। প্রায়-বৃদ্ধ নিশীথ ষড়ঙ্গী। এই মানুষটি ইন্দ্রমোহনের বিয়ের সময়কাল থেকেই এই বাড়িতে আছেন। বলতে গেলে মূলত ইনিই সংসার সামলান।
মুশকিল হচ্ছে, ইন্দ্রমোহন মোটেই গোয়েন্দাগিরি করতে চান না। নিজেকে গোয়েন্দা বলতেও তার ভারি আপত্তি। পাকেচক্রে কী ভাবে যেন একের পর এক কেসে তিনি জড়িয়ে যান অথবা তাকে জড়িয়ে দেওয়া হয়। বাইরে বেড়াতে গিয়েও রক্ষে নেই। ছেলে মজা করে তাকে ডাকে ‘ইমোখা’। যে উদ্দেশ্য নিয়ে তিনি অবসর নিয়েছিলেন, তাতেই বারে বারে বিঘ্ন ঘটায়, ভারি বিরক্ত তিনি। পুলিশ-দপ্তরের উপরে তার অগাধ ভরসা। তাই প্রতিটি কেস সমাধান করবার পরে তার সবটুকু কৃতিত্ব তিনি তুলে দেন ভারপ্রাপ্ত পুলিশ-অফিসারটির উপরে। ইন্দ্রমোহন মোবাইল এবং আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করেন না। নিজস্ব অস্ত্র বলতে ডিটেকশন আর অবজারভেশন। আর একটা ব্রহ্মাস্ত্র— অকল্পনীয় স্মৃতিশক্তি। আর এই সব অস্ত্র নিয়েই মাঠে নেমে পড়েন গোয়েন্দা ইন্দ্রমোহন।
জনান্তিকে জানাই, এখনও অবধি তিনি কোনও রহস্য-সমাধানেই ব্যর্থ হননি।
অজিতেশ নাগের জন্ম উত্তরবঙ্গের জলপাইগুড়িতে। কর্মসূত্রে কলকাতায়। লেখালেখির জীবন সাড়ে তিন দশকের। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাম্মানিক স্নাতক। ছাপার অক্ষরে প্রথম আত্মপ্রকাশ ১৯৮৬ সালে। লেখকের এখনও অবধি নয়টি উপন্যাস, সাতটি গল্পগ্রন্থ, একটি প্রবন্ধের বই আর চোদ্দোটি কবিতার বই প্রকাশিত। দেশ, শারদীয়া আনন্দবাজার, শারদীয়া আনন্দলোক, সানন্দা, আনন্দবাজার পত্রিকা সহ বহু পত্রপত্রিকায় লিখেছেন। আনন্দবাজার রবিবাসরীয়তে লিখেছেন ধারাবাহিক উপন্যাস। সোপান সাহিত্য সম্মান, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ন্যাশনাল ফেলোশিপ অ্যাওয়ার্ড, অন্বেষা লাইফটাইম অ্যাচিভমেন্ট, বিশ্ববাংলা সাহিত্য গৌরব সম্মাননাসহ প্রচুর সম্মাননা পেয়েছেন আজ অবধি। ইন্টারন্যাশনাল সিনেম্যাটিক স্টোরি হান্ট কম্পিটিশনে প্রথম পুরস্কারস্বরূপ পেয়েছেন সুবর্ণপদক।
ইন্দ্রমোহন খাসনবিশ। একজন অবসরপ্রাপ্ত কাস্টমস কর্মকর্তা। স্ত্রী বিয়োগের পরে ছেলে সম্মোহ আর চাকর নিশীথকে নিয়ে নির্বিবাদী জীবন তাঁর। কলকাতার পৈত্রিক বাড়িতেই তাঁর বসবাস। ভীষণ বইপোকা ইন্দ্রমোহন অসাধারণ ফটোগ্রাফিক মেমোরির অধিকারী। যদিও এর পেছনে তিনি পূর্ব পুরুষের জিনগত বৈশিষ্ট্যের কথা বলেন।
ইন্দ্রমোহন খাসনবিশ কখনোই নিজেকে গোয়েন্দা হিসেবে জাহির করতে আগ্রহী নন। তাসত্ত্বেও তিনি একের পর এক কেসে জড়িয়ে পড়েন। তাঁর ছেলে সম্মোহ মজা করে কখনো বলে "ইমোখা" বা "এরকুল পোয়ারো জুনিয়র"!
তিনি অন্য গোয়েন্দাদের মতো আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করেন না। তীব্র পর্যবেক্ষণ ক্ষমতার সাথে দুর্দান্ত স্মৃতিশক্তিকে ব্যবহার করে তিনি একের পর এক রহস্য সমাধান করেন। যদিও তিনি কখনোই নিজের নাম প্রচার করতে চান না। কাজ শেষে সবটুকু কৃতিত্ব দিয়ে দেন তদন্তকারী কর্মকর্তাকে।
বেশ ভিন্ন ধাঁচের গোয়েন্দা কাহিনি। অন্য গোয়েন্দা চরিত্রের তুলনায় ইন্দ্রমোহন খাসনবিশ যথেষ্ট মানবীয়। তিনি যেকোনো সিদ্ধান্তে উপনীত হতে বেশ সময় নেন, মাঝেমধ্যে ভুলও হয়। তবে কখনোই হাল ছাড়েন না। বিশেষ করে শেষ কাহিনিতে এটা ভালো মতোই বোঝা যায়। কাহিনিগুলো বেশ সুগঠিত বলতে হবে। ব্যক্তিগতভাবে শেষের কাহিনিটা দারুণ লেগেছে।