Jump to ratings and reviews
Rate this book

শেখ মুজিব আমার পিতা

Rate this book
বিভিন্ন সময়ে লিখিত দশটি প্রবন্ধ এতে সন্নিবেশিত হয়েছে। গ্রন্থটি মূলত শেখ হাসিনা লিখিত স্মৃতিকথামূলক আত্মজৈবনিক রচনা। যাতে স্থান পেয়েছে বঙ্গবন্ধুর জীবন এবং বঙ্গবন্ধু পরিবারের অনেক অজানা তথ্য। এছাড়াও রয়েছে জননেত্রী শেখ হাসিনার লড়াই সংগ্রামের ইতিহাস।

সূচিপত্র
১. শেখ মুজিব আমার পিতা
২. বঙ্গবন্ধু ও তাঁর সেনা বাহিনী
৩. ইতিহাসের জঘন্যতম হত্যাকান্ড
৪. স্মৃতির দখিন দুয়ার
৫. স্মৃতি বড় মধুর, স্মৃতি বড় বেদনার
৬. ড. আবদুল মতিন চৌধুরীঃ আমার স্মৃতিতে ভাস্বর যে নাম
৭. বেগম জাহানারা ইমাম
৮. নূর হোসেন
১০. একানব্বইয়ের ডায়েরি

111 pages, Hardcover

First published January 1, 1999

20 people are currently reading
245 people want to read

About the author

Sheikh Hasina

63 books40 followers
Sheikh Hasina is the current Prime Minister of Bangladesh, in office since January 2009. She previously served as Prime Minister from 1996 to 2001, and she has led the Bangladesh Awami League since 1981. She is the eldest of five children of Sheikh Mujibur Rahman, the founding father and first President of Bangladesh, and widow of the nuclear scientist M. A. Wazed Miah. She is also sometimes referred-to as Sheikh Hasina Wazed, her married name.Hasina is a member of the Council of Women World Leaders, an International network of current and former women presidents and prime ministers.

Ratings & Reviews

What do you think?
Rate this book

Friends & Following

Create a free account to discover what your friends think of this book!

Community Reviews

5 stars
32 (32%)
4 stars
33 (33%)
3 stars
24 (24%)
2 stars
5 (5%)
1 star
4 (4%)
Displaying 1 - 19 of 19 reviews
Profile Image for Emtiaj.
237 reviews86 followers
September 24, 2015
আগামী প্রকাশনীর ওসমান গনির লেখা পড়েই হতাশ হয়ে পড়েছিলাম। আমার ধারণা ছিল পুরো বইটাই শেখ মুজিবকে নিয়ে তাঁর কন্যার স্মৃতিচারণ। কিন্তু মোটেই তা নয়। বিভিন্ন সময়ে লেখা প্রবন্ধ নিয়ে ১৯৯৯ সালে কলকাতা বইমেলায় প্রকাশিত বইটাই পুনরায় প্রকাশিত হয়েছে যার মধ্যে কয়েকটা আগেই ওরা টোকাই কেন বইয়ে পড়ে ফেলেছি।

স্মৃতির দখিন দুয়ার, এটার প্রথম খন্ডটা বঙ্গবন্ধু পরিবারের '৭১ এর বন্দীজীবন নিয়ে। কয়েকদিন আগে পড়লাম বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ দলিলপত্র : অষ্টম খন্ড। লেখাটা যদি অনেক আগে লেখা হত তবে অবশ্যই দলিলে ইনক্লুড হতো। বিজয় অর্জিত হওয়ার পরও যে শুধুমাত্র বঙ্গবন্ধু পরিবারকে দেখতে আসার অপরাধে অনেক নিহত আর আহত হয়েছে তা কে জানতো? (দলিলে শুধু ডাঃ আয়েশার কথা বলা আছে। অবশ্য এজন্য সম্পাদকদের দোষও দেয়া যায় না। তারা এত সীমাবদ্ধতার মধ্যেও যা করেছেন ...)

স্মৃতি বড় মধুর, স্মৃতি বড় বেদনার। এটা অসাধারণ একটা লেখা। এরকম মায়াময় এক লেখার শেষটায় যে কি কষ্ট! একটা বিষয় দেখলাম, শেখ হাসিনা স্মৃতিচারণমূলক লেখা বেশ ভালো লিখে। কেন যে সে তাঁর পারিবারিক, রাজনৈতিক জীবন নিয়ে আরো বেশি করে লিখলো না?
এই লেখাটা হাইলি রেকমেন্ডেড।

চার মাসের জয়কে নিয়ে হয়েছে অসুবিধা। বিছানায় শোয়ানো যায় না, গুলির আওয়াজে কেঁপে ওঠে। রাসেল পকেটে তুলো রাখে। ওর কানে তুলো গুঁজে দেয়, যাতে গুলির আওয়াজে কানের পর্দা ফেটে না যায়।
রাসেলকে নিয়ে হয়েছে আরও মুশকিল। বিমান আক্রমণ শুরু হলেই সে ছুটে বারান্দায় চলে যেতে চায়, অথবা সোজা মাঠে বিমান দেখতে। অনেক কষ্টে ওকে ধরে রাখতে হয়। কিছুতেই বোঝানো যায় না। মা, রেহানা, আমি যে যখন পারি ওকে আটকে রাখার চেষ্টা করি। ঘরের ভিতরে মাদুর পেতে মাটিতে সকলকে নিয়ে বসে জানালা দিয়ে বিমান যুদ্ধ দেখি। আর প্রতিক্ষায় থাকি কখন শত্রুমুক্ত হবে দেশ।

ভাই না বোন! ভাইদের চিন্তা আরেকটা ভাই হলে তাদের খেলার সাথী বাড়বে, বোন হলে আমাদের লাভ। আমার কথা শুনবে, সুন্দর সুন্দর ফ্রক পরানো যাবে, চুল বাঁধা যাবে, সাজাব, ফোটো তুলব, অনেক রকম করে ফোটো তুলব। অনেক কল্পনা, মাঝে মাঝে তর্ক, সেই সঙ্গে গভীর উদ্বেগ নিয়ে আমরা প্রতি মুহূর্ত কাটাচ্ছি।

সব ঘরই আমি পূর্বের মত করে সাজাতে আপ্রাণ চেষ্টা করেছি। আম্মা যেটা যেভাবে যেখানে রাখতেন ঐ ভাঙাচোরা সব আবার সেভাবে রাখতে চেষ্টা করেছি, আমার মায়ের মত করে। যখনই কোন জিনিসে হাত দিয়েছি, বিশেষ করে মায়ের আলমিরা খুলে গোছাতে গিয়েছি - মনে হয়েছে, এইমাত্র মা বুঝি পাশে এসে দাঁড়াবেন, বকবেন, 'ঘাঁটাঘাঁটি করিস নে, গোছান জিনিস নষ্ট হবে', বলে সাবধান করবেন।
Profile Image for Yeasin Reza.
519 reviews90 followers
November 28, 2023
শেখ হাসিনা যে বাংলা সাহিত্যের ছাত্রী তা বইটির স্মৃতিকথনমূলক গদ্যগুলো পড়লে বোঝা যায়। উনার লেখার হাত খুব মিষ্টি। প্রকৃতি বর্ণনা তো দুর্দান্ত! আত্মজীবনী টাইপ লেখা আরো লেখা উচিত উনার। এছাড়া বাকি লেখা গুলো পড়ে ফার্স্ট ইয়ারে মুখস্ত করা Dramatic Irony'র সংজ্ঞা মনে পড়ে গেলো :p
Profile Image for HASAN.
37 reviews2 followers
April 10, 2021
খুব একজন বইবোদ্ধা নই আমি। তেমন বইপোকাও নই। লেখা বিশ্লেষণ করার মতো ক্ষমতা আমার নেই, আর বিশ্লেষিত লেখা থেকে গুণ-দোষ নিরূপণের যোগ্যতাও নেই।

এইজন্য আমার অনেক ভালো লেগেছে বইটি। ছোট বই, মুহুর্তেই পড়ে ফেলার মত। শ্রদ্ধাবোধ জাগলো। এটুকুই বলতে পারি।
Profile Image for Nahar Trina.
Author 13 books61 followers
June 6, 2019
ছোট্ট বই(১০৯ পৃষ্ঠা)। সাবলীল লেখা তরতরিয়ে পড়ে ফেলা গেছে। তবে যে আহ্লাদে বইটা পড়তে বসেছিলেম তার সবটা পূরণ হয়নি। যে কন্যা তাঁর পিতা কে নিয়ে বইটা লিখছেন সেই পিতার নাম শেখ মুজিবুর রহমান। কন্যা হিসেবে সেই মানুষটাকে খুব কাছ থেকে দেখার অভিজ্ঞতার আদ্যপ্রান্ত জানার নিদারুণ লোভে তড়বড়িয়ে বইটা পড়তে বসা। এক কন্যার বয়ানে পিতা শেখ মুজিবুর রহমানকে সেভাবে না পেয়ে হতাশ লেগেছে। খুব সামান্যই এসেছে, বাবা শেখ মুজিবুর রহমানের কথা। অবশ্য যে মানুষটা তাঁর ৫৭ বছর বয়সী জীবনের একটা দীর্ঘ অংশ(প্রায় ২৫ বছর)ই জেলের অন্তরালেই কাটিয়ে দিয়েছেন তাঁর সন্তান হিসেবে বাবাকে কাছে পাওয়াটা আর দশজন সন্তানের মতো হয় না...এই নিদারুণ বাস্তবতা মেনে নিয়ে একজন শেখ মুজিবুর রহমানের সন্তানেরা তাঁদের মায়ের তত্বাবধানে লালিত পালিত হয়েছেন...

বাবা কে নিয়ে একটা গোটা বই লেখা উচিত শেখ হাসিনার। তিনি লিখবেনও বলেছেন প্রবন্ধে। বইটায় যে প্রবন্ধগুলো এসেছে সেগুলো '৭৫ থেকে ১৯৯৫ সালে লেখিত। তারপর তো কতবার পাশার দান উল্টে গেছে.... সেসব নিয়েও লিখবেন তিনি আশা করি। যে তিনজন মানুষকে নিয়ে আলাদা করে লিখেছেন তাঁদের মধ্যে জাহানারা ইমাম আর নূর হোসেনের পর্বটা সত্যিই মর্মান্তিক। শেখ হাসিনা মানুষ হিসেবে আন্তরিক- সংবেদনশীল, লেখাগুলোতে সেসব খুব স্পষ্ট...

এ রকম একটা বইয়ের সম্পাদনায় আরেকটু যত্নশীল হওয়া প্রয়োজন ছিল। তাড়াহুড়োর ছাপ স্পষ্ট।
Profile Image for Md Shariful Islam.
258 reviews86 followers
August 14, 2021
শেখ হাসিনাকে তো আমরা সবাই চিনি। তিনি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কন্যা ও আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী। অর্থাৎ আমাদের বেশিরভাগের কাছে শেখ হাসিনার পরিচয় তিনি বঙ্গবন্ধুকন্যা এবং তিনি এক তুখোড় রাজনীতিবিদ। কিন্তু এটা তাঁর অসম্পূর্ণ পরিচয়। তাঁর আরেকটা গুরুত্বপূর্ণ পরিচয় হলো তিনি একজন সুলেখিকা। পঁচাত্তরের নারকীয় হত্যাকাণ্ডের পর নির্বাসনে থাকার সময় তাঁর রাজনৈতিক বিকাশ ঘটে এবং একাশিতে দেশে ফিরে এসেই তিনি দেশ নিয়ে গভীরভাবে ভাবতে শুরু করেন। ভাবনাগুলোকে শুধু মাথায় সীমাবদ্ধ না রেখে সেগুলোকে তিনি ছড়িয়ে দেন কাগজের পাতায়। ওরা টোকাই কেন (১৯৮৮), বাংলাদেশে স্বৈরতন্ত্রের জন্ম (১৯৯৩), সামরিকতন্ত্র বনাম গণতন্ত্র (১৯৯৪) সহ পাঁচটি স্বরচিত গ্রন্থ এবং বেবী মওদুদের সাথে দুইটি সংকলন প্রকাশ করেন তিনি। আলোচ্য বইটা তিনি রচনা করেন ১৯৮৪ থেকে ১৯৯৩ সালের মধ্যে।

এবার আসা যাক বইটার সংক্ষিপ্ত পরিচয়ে। বইটার নাম দেখে যদিও ভেবেছিলাম বইটা এক বাবাকে নিয়ে তাঁর কন্যার স্মৃতিচারণমূলক একটা বই হবে কিন্তু শুরুতেই হতাশ হতে হয়েছে। বইটা মূলত শেখ হাসিনার স্মৃতিকথামূলক আত্মজৈবনিক রচনা করতে যেখানে তিনি তাঁর শৈশব, মুক্তিযুদ্ধের দিনগুলো, বাবার সাথে স্মৃতি, বাবার হত্যাকাণ্ডের দিনগুলোর কথা এবং তাঁর জীবনে প্রভাব বিস্তারকারী তিনজন ব্যক্তি সম্পর্কে স্মৃতিচারণ করেছেন। অর্থাৎ বইটা বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে শেখ হাসিনার স্মৃতিকথামূলক একটা একক বই নয় বরং বিভিন্ন সময়ে লেখা দশটি প্রবন্ধের সংকলন। আর বইটা সামরিকতন্ত্রের সেই টালমাটাল সময়ে লেখা বলে প্রতিটা প���রবন্ধেই ঢুকে পড়েছে সেই সময়ের কথা, লেখিকার সংগ্রাম, আন্দোলনের কথা। লেখিকার লেখা এই দশটি প্রবন্ধকে সম্পাদক সাহেব বিষয়বস্তু অনুসারে আবার চারটি পর্যায়ে ভাগ করেছেন। বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে স্মৃতি, মুক্তিযুদ্ধ ও পারিবারিক কথা, স্মরণ-শ্রদ্ধার্ঘ্য এবং ছেঁড়া ছেঁড়া ছবি – এই চারটি পর্যায়ে বিভক্ত হয়েছে প্রবন্ধগুলো।

প্রথম পর্যায়ের প্রবন্ধগুলো বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে লেখা। শেখ মুজিব আমার পিতা, বঙ্গবন্ধু ও তাঁর সেনাবাহিনী এবং ইতিহাসের জঘন্যতম হত্যাকাণ্ড – এই তিনটা প্রবন্ধ স্থান পেয়েছে এই পর্যায়ে। প্রবন্ধগুলোতে লেখিকা বঙ্গবন্ধুর বঙ্গবন্ধু হয়ে ওঠা এবং এক কন্যা হিসেবে তাঁর সান্নিধ্য, সেনাবাহিনী প্রতিষ্ঠায় বঙ্গবন্ধুর ভূমিকা এবং সেই একই সেনাবাহিনী কর্তৃক তাঁর পরিবারের সদস্যদের হত্যার কথা আলোচনা করেছেন। একই সাথে উঠে এসেছে সেনাশাসনের প্রতি তাঁর ঘৃণা এবং মুজিব হত্যার বিচারের শপথের কথা। এই তিনটা প্রবন্ধ যদি মূল্যায়ন করি তাহলে বলব তেমন কোনো নতুনত্ব নেই এখানে। গরীবদের সাহায্য করা, শেরেবাংলার নিকট দাবি উত্থাপন করে আলোচিত হওয়া বা কামাল কর্তৃক বঙ্গবন্ধুকে বাবা ডাকার অনুমতি প্রার্থনা – এসব প্রতিটা ঘটনায় আমরা জেনেছি ‘ অসমাপ্ত আত্মজীবন ‘ থেকে। আবার পরের দুইটা প্রবন্ধে লেখিকা শুধু এটাই দেখাতে চেয়েছেন যে বঙ্গবন্ধু সেনাবাহিনী প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন এবং একাত্তরে পরাজিত শক্তি ক্ষমতায় যেতে সেনাবাহিনীকে ব্যবহার করে পঁচাত্তরের ঘটনা ঘটিয়েছে। কিন্তু এই আলোচনায় সেনাবাহিনী-রক্ষীবাহিনী দ্বন্দ্ব, মুক্তিযোদ্ধা-অমুক্তিযোদ্ধা অফিসারদের দ্বন্দ্ব, পদায়নের সিনিয়রিটি ভাঙ্গা বা ডালিমদের ব্যক্তিগত শত্রুতার কোনো উল্লেখ নেই যা প্রবন্ধগুলো তেমন গুরুত্বপূর্ণ হতে দেয় নি।

দ্বিতীয় পর্যায়ের প্রবন্ধগুলোতে এসেছে মুক্তিযুদ্ধ ও পারিবারিক কথা। স্মৃতির দখিন দুয়ার ১ ও ২ এবং স্মৃতি বড় মধুর, স্মৃতি বড় বেদনার – এই তিনটা প্রবন্ধে লেখিকা গোপালগঞ্জে তাঁর শৈশবের কথা, ১৯৭১ সালের ১৬ ও ১৭ ডিসেম্বর ধানমন্ডির বাড়িতে অবরুদ্ধদের কথা এবং জাদুঘর হিসেবে বাড়িটা দানের পূর্বে বাড়িটা নিয়ে সার্বিক স্মৃতিচারণ করেছেন। এই প্রবন্ধগুলো থেকে বেশ কিছু নতুন বিষয় জানতে পেরেছি। এদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো লেখিকার গ্রামের প্রতি মুগ্ধতা ও শেষ বয়সে সেখানে বসবাসের ইচ্ছা, বেগম মুজিবের মানসিক দৃঢ়তা ও পাকিস্তানি পতাকা পা দিয়ে মাড়াইয়ের কথা এবং বিজয়ের পরেও ধানমন্ডির বাড়ির ঐ রোডে গোলাগুলিতে অসংখ্য মানুষের মৃত্যুর কথা। এই পর্যায়েই প্রথম লেখিকার দারুণ কিছু চিত্রকল্পের বর্ণনার প্রমাণ পেয়েছি।

তৃতীয় পর্যায়ে লেখিকা ড. আব্দুল মতিন, জাহানারা ইমাম এবং নুর হোসেনকে নিয়ে স্মৃতিচারণ করেছেন। এঁদের মধ্যে প্রথমজন লেখিকার সরাসরি শিক্ষক ছিলেন যিনি তাঁকে ১৫ আগস্টের পূর্বের জার্মানি গমন স্থগিত করতে বলেন যা তাঁর জীবনাবসান ঘটাতে পারতো। কিন্তু তার পরবর্তী জীবনে তাঁর স্নেহ ও ভালোবাসা লেখিকাকে বাঁচার অনুপ্রেরণা দিয়েছে। আর জাহানারা ইমাম ও নুর হোসেন লেখিকাকে দিয়েছেন স্বাধীনতাবিরোধী ও সামরিক শাসকদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের অনুপ্রেরণা। এই অংশে লেখিকার আবেগপ্রবণতা ও সংবেদনশীলতার পরিচয় পাওয়া গিয়েছে। চতুর্থ পর্যায়ে লেখিকা ১৯৯১ সালের ভয়াবহ ঘূর্ণিঝড় নিয়ে কথা বলেছেন। এখানে তিনি বাবার সাথে নিজেকে মিলিয়ে সত্তর ও একানব্বইয়ের দুর্যোগ দুটিকে একসাথে দেখাতে চেয়েছেন। এই অংশেও লেখিকার সংবেদনশীলতা এবং মানুষের প্রতি ভালোবাসার প্রমাণ মেলে। তাছাড়া লেখিকার লেখনীর চমৎকার দুটি দিক চিত্রকল্প নির্মাণ ও রূপকের ব্যবহার চোখে পড়ে এখানে।

লেখনী নিয়ে কিছু একটা বলা যাক। গ্রামের বর্ণনা, সাগরের প্রতি মুগ্ধতা, জাহানারা ইমাম বা নুর হোসেনকে নিয়ে স্মৃতিচারণ ইত্যাদি বেশ কয়েক জায়গায় লেখিকা দারুণ মুন্সিয়ানার পরিচয় দিয়েছেন। পুরো বইটাই বেশ সহজ-সরল ভাষায় লেখা। সামরিকতন্ত্রের প্রতি ঘৃণা বা বঙ্গবন্ধুর প্রতি আবেগ বা ভবিষ্যৎ নিয়ে স্বপ্ন ইত্যাদি যে ভাষায় বলেছেন তা মনোমুগ্ধকর। প্রিয় পাঠক সম্বোধন করে বলা কথাগুলো পাঠককে বইয়ের সাথে চমৎকারভাবে কানেক্ট করিয়েছে। তবুও কিছুটা খামতি রয়ে গিয়েছে। বিশেষত বাক্য গঠনে সমস্যা লক্ষ্যণীয়। বিরামচিহ্নের ভুল ব্যবহার বা বানান ভুলও আছে প্রচুর পরিমাণে। আরেকটা বিষয় হলো যেহেতু বইটা একক বই হিসেবে লেখা হয়নি সেহেতু প্রচুর পরিমাণে পুনরাবৃত্তি আছে। একই কথা বা ঘটনা এসেছে বারবার।

এবার আসি লেখিকার স্বপ্নের কথা নিয়ে। ঘুরেফিরে পুরো বইয়ে লেখিকার তিনটা স্বপ্নের কথা উচ্চারিত হয়েছে। প্রথমত স্বৈরতন্ত্র হটিয়ে কার্যকর সংসদীয় গণতন্ত্র আনা ও মানুষের ভাত ও ভোটের অধিকার নিশ্চিত করা। দ্বিতীয়ত বঙ্গবন্ধুর খুনীদের শাস্তি কার্যকর করা। আর তৃতীয়ত শেষ বয়সটা গোপালগঞ্জের গ্রামে কাটানো। তৃতীয় স্বপ্নের বিষয়ে এখনও বলার সময় আসেনি তবে প্রথম দুইটা নিয়ে মন্তব্য করা যেতেই পারে। সফলতার গল্পই আগে বলি। লেখিকা প্রথমবার প্রধানমন্ত্রিত্ব পেয়েই তাঁর বাবা ও পরিবারের হত্যা মামলা আদালতে তুলেছেন এবং পরবর্তীতে রায়ও কার্যকর করেছেন। কিন্তু প্রথম স্বপ্নটা কি পূরণ হয়েছে? একটা কার্যকর সংসদ কি আমরা পেয়েছি? স্বৈরশাসক এরশাদের সাথেই কি তাঁর জোট গঠন করতে হয় নি? ভাতের অভাব কিছুটা দূর করেছেন সত্য কিন্তু ভোটের রাজনীতি কতটুকু করতে পেরেছেন? এই প্রশ্নগুলো থেকেই যায়।

সার্বিকভাবে বলতে গেলে, প্রাথমিক আশা পূরণ না হওয়া, পুনরাবৃত্তি, তেমন উল্লেখযোগ্য কিছু না পাওয়া প্রভৃতি কারণে আশাহত হলেও রাজনীতিবিদদের লেখালেখি, দারুণ কিছু চিত্রকল্প ও রূপকের ব্যবহার ও নতুন কিছু ঘটনা জেনে আনন্দিতও হয়েছি।
Profile Image for Ashek Shaahid.
18 reviews2 followers
October 20, 2016
অসাধারণ একটি লেখা।পড়ে অভিভূত হলাম। ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতা পরবর্তী নানান অজানা ঘটনা স্মৃতিচারণায় উঠে এসেছে। বইটিতে বঙ্গবন্ধুর উদার ও মহৎ সত্বার পরিচয়টি ফুটে উঠেছে স্পষ্টভাবে যা "অসমাপ্ত আত্মজীবনী"তে অনুপস্থিত।কোনো লেখকই তাঁর মহৎ গুনাবলীর কথা নিজ থেকে লিখবেন না। * স্মৃতি বড় মধুর স্মৃতি বড় বেদনার* অংশে উল্লেখ আছে..'ছাত্রলীগ ও ছাত্র ইউনিয়নের অনেক নেতা কর্মী এ বাড়িতে গোপনে আসতো বঙ্গবন্ধুর সাথে পরামর্শ করতে ও নির্দেশ নিতে। এখন অনেকেই ভিন্ন প্লাটফর্মে আছে বলে নাম নিতে চাইনা' একটু আফসোস থেকে গেলো এখানে। লক্ষ্য ও নীতি ভ্রষ্ট নেতাদের পরিচয়টা স্পষ্ট হলেই ভাল হতো। অসমাপ্ত আাত্মজীবনীতে বঙ্গবন্ধু বলেছেন "নীতিবিহীন নেতা নিয়ে অগ্রসর হলে সাময়িকভাবে কিছু ফল পাওয়া যায়,কিন্তু সংগ্রামের সময় তাদের খুঁজে পাওয়া যায় না। দেড় ডজন মন্ত্রীর মধ্যে আমিই একমাত্র কারাগারে বন্দি " এখনো এসব নীতি ছাড়া নেতা কী শাসক গোষ্ঠীতে নেই? দুঃসময়ে যারা রং বদলাতে দেরি করেনা? 1/11 এর পরেইতো দেখা গেছে নড়বড়ে নেতাদের দীর্ঘ সারি। চমৎকার এ বইটির জন্যে ধন্যবাদ।রাজনৈতিক নানান ঘটনা ছাড়াও গ্রামীণ জীবন ও প্রকৃতির যে বর্ণনা বইটিতে রয়েছে তা সত্যিই অসাধারণ!
Profile Image for Shahriar Kabir.
107 reviews42 followers
December 31, 2017
বাংলাদেশের মত দেশের সরকারপ্রধান বই লিখেন— এ কথাটা জানতেই তো কত ভাল লাগে। কেননা এ যেন বিশ্বাসের অতীত, বিদেশী চামড়ার নেতাদের আমরা ও আমাদের নেতারা মাথায় তুলে নাচেন। আমাদের নেতাদের আমরা আড়ালে আস্তাকুঁড়ে ফেলি, কারণ আমরা তাদের ব্যাক্তিত্ব খুঁজে পাই না। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই নেই, থাকার জো-ও নেই।
এই অতিদীর্ঘকালের দর্শনে চামড়াচোখ সয়ে গেছে, অন্ধ হয়ে গেছে নেতাদের গুণ গুণতে। আমাদের সরকারপ্রধানদের হাজারটা দোষ, থাক দোষ। কিন্তু আমি তো জানতাম না তারা বইও লিখেন।
শেখ হাসিনার এটা ছাড়াও আরো বই রয়েছে। লেখা অত্যন্ত ঝুরঝুরে ও সাবলীল। বাংলার ছাত্রী বাংলাকে ধারণ করেছেন ভাষা ও চর্চায়ও। আরো বিশ্লেষণ বলতে গেলে মনে হতে পারে প্রধানমন্ত্রীর শক্তির পূজায় তার বইয়েও আমি মুগ্ধ হয়ে বসে আছি। কখনো কখনো সাধারণ নির্মাতার সাধারণ নাটক, ছায়াছবি অভিনেতার শক্তিতে দারুণ হয়ে ওঠে। আমি বলব এ বইয়ে শেখ হাসিনার নেতৃত্বের শক্তি বইটার বাহন নয়। একজন লেখিকা হিসেবেই তিনি দারুণ লিখেন।
শেখ মুজিবও যে কত একজন পড়ুয়া লোক ছিলেন আগে জানতাম না।
জেলে তো আগেও যেতেন রাজনীতিকেরা এখনও যান। ন্যায়সঙ্গত কি অন্যায়গত যাই হোক, সে বিচারে গিয়ে নিজে বিচার্য হতে চাই না। তবে কখনো কারো বাক্স পেটরায় নজরুল, রবীন্দ্রনাথ প্রমুখের বই থাকার কথা শুনি নি। মুজিবের শুনেছি, মুজিবের স্ত্রীকে বই ফেরত আনার তাগাদার গল্প শুনেছি, এখানে ফুটে ওঠে বই ছিল মুজিবের পরিবারের চর্চার।
Profile Image for Nasrin Shila.
268 reviews89 followers
February 19, 2020
ভেবেছিলাম সবগুলো লেখাই বোধহয় বাবাকে নিয়ে স্মৃতিচারণ, কিন্তু তা না, বিভিন্ন বিষয়ের উপর লেখার সংকলন আসলে৷ এত ঝরঝরে সুন্দর লেখা যে মনে হয়েছে, পূর্ণাঙ্গ স্মৃতিচারণমূলক উপন্যাস লিখলে খুব ভালো হত!
Profile Image for Karishma Anika.
48 reviews52 followers
September 26, 2020
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রাজনীতিবিদ হিসেবে কেমন সেটা বিশ্লেষণ করার ক্ষমতা আমার নেই। রাজনীতির "র" ও আমি বুঝিনা। কিন্ত নিঃসন্দেহে তিনি একজন অসাধারণ লেখক। বই পড়ার সময় বারবার মনে হচ্ছিল আমি যেন টুংগীপাড়া নামের সেই সবুজ গ্রামে সকাল বেলা শিশির ভেজা ঘাসের গন্ধের মধ্যে ডুবে যাচ্ছি। ভেবেছিলাম বইটাতে একজন মেয়ের চোখে তার বাবাকে দেখব। কিন্ত শেখ হাসিনা বারবারই এই জিনিসটা খুব পরিষ্কার ভাবে বলে গেছেন যে আব্বা যতটুকু আমার ছিলেন তার থেকেও অনেকাংশে বেশি ছিলেন এ দেশের আর দেশের মানুষের। এ ব্যাপারটাতে একটু হতাশ হলেও যে মানুষটা তার ৫৭ বছরের জীবনের প্রায় ২৫ বছরই জেলের অন্তরালেই কাটিয়ে দিয়েছেন তাঁর সন্তান হিসেবে বাবাকে কাছে পাওয়াটা আর দশজন সন্তানের মতো হয় না সেটা মেনে নেয়াটাই সমীচীন। পুরোটা বই শেখ হাসিনার জীবনের আর পরবরতীতে বিভিন্ন রাজনীতিক ঘটনার খণ্ড খণ্ড স্মৃতিচারণ এর সংকলন।
Profile Image for Mosharaf Hossain.
128 reviews100 followers
August 14, 2017
শেখ হাসিনার স্মৃতিকথামূলক দশটি প্রবন্ধ এই বইতে স্থান পেয়েছে চারটি ভাগে। প্রতিটি প্রবন্ধই লেখা হয়েছে ১৯৮৩ থেকে ১৯৯৪ সালের মধ্যে। যে বছরগুলোতে বারেবারে পরিবর্তনের ঢেউ অশান্ত করে তুলেছে বাংলাদেশকে। সেই সাথে অশান্ত হয়েছিল শেখা হাসিনার জীবনও।

'শেখ মুজিব আমার পিতা' প্রবন্ধে শেখ হাসিনা তুলে ধরেছেন বঙ্গবন্ধু সম্পর্কে তার ঘনিষ্ঠতার নানা গল্প। যেখানে হাসিনার দাদি একদিন দেখেন- 'তাঁর খোকা চাদর জড়িয়ে হেঁটে হাসছে। পরনে পায়জামা পাঞ্জাবি নেই। কি ব্যাপার? এক গরীব ছেলেকে তার শতচ্ছিন্ন কাপড়ে দেখে সব দিয়ে এসেছে শেখ মুজিব।'

শেখ মুজিব সম্পর্কে হাসিনার অন্য আরেকটা বিবরণ বেশ মর্মান্তিক। অনেক দিনে জেলে থাকার পর নিজ বাবাকে ভুলে যাওয়া পিতাকে দেখে ভাই শেখ কামাল অনুমতি চেয়ে বলে,- "হাসুপা, তোমার আব্বাকে আমি একটু আব্বা বলি।"

'স্মৃতির দখিন দুয়ায়', 'স্মৃতি বড় মধুর, স্মৃতি বড় বেদনার'- প্রবন্ধ গুলোতে উঠে আসে শেখ হাসিনার স্মৃতিতে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সময়ে তাদের পরিবার অবস্থার কথা। ১৬ই ডিসেম্বরে পুরো বাংলাদেশ স্বাধীন হলেও ধানমন্ডির ১৮ নম্বর রোডে বন্দি থাকা শেখ পরিবার মুক্তি পায় ১৭ তারিখ। পুরো একদিন ঐ বাড়ি ঘিরে চলছিল টানটান উত্তেজনা আর এক ঠান্ডা যুদ্ধ।

শেখ হাসিনা লিখেছেন, "আন্দোলনের সময় বাঁ আব্বা বন্দি থাকা অবস্থায় পার্টির কাজকর্মে বা আন্দোলনে খরচের টাকাও মা যোগাতেন। অনেক সময় বাজার হাট বন্ধ করে অথাব নিজের গায়ে গহনা বিক্রি করেও মাকে দেখেছি সংগঠনের জন্য অর্থের যোগান দিতে।"

শেখা হাসিন এই প্রবন্ধে ইচ্ছে প্রকাশ করে বলেছেন, "আমার জীবনের শেষ দিনগুলো আমি টুংগিপাড়ায় স্থায়ীভাবে কাটাতে চাই। খুব ইচ্ছে আছে নদীর ধারে একটা ঘর তৈরি করার।"

৮৭ এর গন আন্দোলোনে শেখ হাসিনার ছিলেন মাঠে। তার সামনেই গুলি করা হয় নুর হোসেনকে। শেষ কথায় তিনি নুর হোসেনকে বলেছিলেন, "জামাটা গায়ে দাও, একি সর্বনাশ করেছো, ওরা যে তোমাকে গুলি করে মারবে।" জবাবে নুর হোসেন হাসিনার দিকে মাথাটা এগিয়ে দিয়ে বলে, "জান দিয়া দিমু আপা, শুধু মাথায় হাত বুলাইয়া দ্যান।" পুরো বইয়ের এই প্রবন্ধ রীতিমত শরীরের কাঁপন ধরিয়ে দিয়েছিল।

শেখ হাসিনার লেখায় উঠে আসে ৩২ নাম্বারের বাড়ির স্মৃতি। শেখ হাসিন খুব পছন্দ করত দোতালার সিঁড়িতে বসে পড়তে। এর পর এরশাদ সরকার তাকে এই বাড়িতেই গৃহবন্দি করে রাখে।

এরশাদ শাসনমাল সম্পর্কে শেখ হাসিনা বলেন, "ক্ষমতা বদলের মাধ্যম হল বুলেট, অর্থাৎ অস্ত্র। ব্যালট, অর্থাৎ জনতার মৌলিক ভোটাধিকার পদদলিত করা হলো। অন্যায় অবিচার, শোষণ দুর্নীতি চরম আকারে ধারণ করে চলল। এর প্রতিবাদ করতে গেলেই প্রতি উত্তরে আসে বুলেট, নূর হোসেনের সংখ্যা দিনের পর দিন বেড়েই চলেছে।"

শেখ হাসিনা অঙ্গীকার করে লেখেন, গনতন্ত্রের মুক্তি জন্য তিনি কাজ করে যাবেন। তিনি ফিরিয়ে দিবেন মানুষের কথা বলার অধিকার।
Profile Image for Priyanto.
26 reviews25 followers
October 11, 2024
প্রথমে বঙ্গবন্ধু নিয়ে তিনটে লেখা, স্মরণ-স্মৃতিমূলক তিনটে, আর পারিবারিক বিষয়ে তিনটি আর্টিকেলসমেত লেখা বই। কয়েকটি স্টোরি আলাদা করে পড়া হলো—আসলে বেশিরভাগই চিরপরিচিত আদিম কথামালার সমষ্টি, যেগুলো তিনি বলেন স্পিচে, রাজনৈতিক মঞ্চে আর সাক্ষাৎকারে; তারপরও কিছু বিষয়ে নষ্টালজিক ফ্লেভার আর দুঃখময় লাগবে হয়তো অনেকের। (বিশেষত: "স্মৃতি বড়ো মধুর, স্মৃতি বড়ো বেদনার" লেখাটা খুব পছন্দসই হয়েছে।)
দুঃখজনকভাবে উনার রাইটিং স্কিল নিয়ে আমার সন্দেহ আছে, এরচাইতে পার্থ ঘোষের প্রস্তাবনা পার্টটা বেশি উপভোগ্য। খুবই সরলটাইপ লেখা এবং আকর্ষণহীন টেনে টেনে অনেকটা।

( প্রচ্ছদ আর পেইজ কোয়ালিটি নিসন্দেহে ভালো।)
Profile Image for Kaniz Bente Zaman.
29 reviews1 follower
December 4, 2022
একজন পিতা। পৃথিবীর প্রায় সব গুরুদায়িত্ব তার উপর অর্পিত। জীবন সংসারের ঘানি টানতে তাকে কর্মজীবনে ঘাম ফেলতে হয়। সে পিতা যদি হন রাজনীতিবিদ তাহলে তার কাজের চাকাটা অসীম টর্কে ঘুরতেই থাকে। একজন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বকে (সাধারণ মানুষ) আমরা বিশ্লেষণ করি তার বাহ্যিক কার্যকলাপ দেখে। একজন রাজনীতিবিদ স্বামী/পিতা/ভাই/মানুষ হিসেবে কেমন তা একমাত্র তার পরিবারই সঠিক বলতে পারবে। “শেখ মুজিব আমার পিতা” এই গ্রন্থে তাঁর কন্যা শেখ হাসিনা কলম ধরেছেন পিতা শেখ মুজিবের অজানা বিষয়গুলোকে জানাতে। যদিও ৫৫ বছরের জীবনে প্রায় ২৫ বছরই শেখ মুজিবকে কারাবরণ করতে হয়েছে, এতে তাঁর পরিবার খুব কম সময়ই তাঁকে কাছে পেয়েছে। সেই স্বল্প সময়েই বাবাকে কাছে পাওয়ার ও তাঁর উপর বাবার প্রভাবের স্মৃতিরোমন্থন করেছেন কন্যা শেখ হাসিনা।

স্বৈরাচারী সামরিক সরকারের শাসনের সেই অন্ধকার সময়ে শেখ হাসিনার লেখা দশটি প্রবন্ধ নিয়ে রচিত হয়েছে স্মৃতিকথামূলক আত্মজৈবনিক গ্রন্থ “শেখ মুজিব আমার পিতা”। কলকাতা আন্তর্জাতিক বইমেলা ১৯‌‌‌৯৯-তে সর্বপ্রথম প্রকাশিত হয় গ্রন্থটি। পরবর্তীকালে বাংলা একাডেমির গ্রন্থমেলা-২০১৫ উপলক্ষে ‘আগামী প্রকাশনী’ বইটির বাংলাদেশ সংস্করণ প্রকাশ করে। ২০১৮ সালে অমর একুশে গ্রন্থমেলায় বইটির ইংরেজি সংস্করণ প্রকাশিত হয়। বইয়ের প্রবন্ধগুলো সবই ১৯৮৩ থেকে ১‌৯৯৪ সালের মধ্যে লেখা। বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের পরিক্রমায় যে বছরগুলো ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, যে বছরগুলোতে বার বার পরিবর্তনের ঢেউ অশান্ত করে তুলেছে বাংলাদেশকে- তা বইটিতে ফুটে উঠেছে। প্রবন্ধগুলোতে শেখ হাসিনার হৃদয়ের রক্তক্ষরণ, তাঁর পিতার জীবন, নির্মম মৃত্যু, তদানীন্তন সমাজ-রাজনীতির ছবি এবং দিন বদলের আহবান দৃঢ়ভাবে উঠে এসেছে। প্রথম পর্যায়ের তিনটি প্রবন্ধ ‘শেখ মুজিব আমার পিতা’, ‘বঙ্গবন্ধু ও তার সেনাবাহিনী’ এবং ‘ইতিহাসের জঘন্যতম হত্যাকাণ্ড’—এর মূল উপজীব্য বঙ্গবন্ধু স্বয়ং। শুধু মেয়ে হিসেবেই নন, পিতার রাজনৈতিক জীবনের ঘনিষ্ঠ সঙ্গী হিসেবে পিতার জীবনের নানা ঘটনার বর্ণনা দিয়েছে এতে। বঙ্গবন্ধুর নির্মম হত্যাকাণ্ডের পর ওঠা বিতর্ক নিয়ে শেখ হাসিনার এ পর্যায়ের শেষ দুটি প্রবন্ধ সচেতন পাঠকদের মনে আলোড়ন তুলবে। দ্বিতীয় পর্যায়ের তিনটি প্রবন্ধ— ‘স্মৃতির দখিন দুয়ার (১ এবং ২)’ ‘স্মৃতি বড় মধুর’, ‘স্মৃতি বড় বেদনার’—এ ধরা পড়েছে লেখিকার স্মৃতিতে মুক্তিযুদ্ধ ও পারিবারিক কথা। প্রাণ হাতের মুঠোয় নিয়ে মুক্তিযুদ্ধের দিনগুলো কাটাতে হয়েছিল মুজিব পরিবারকে। সেই রুদ্ধশ্বাস অভিজ্ঞতার এক দীর্ঘ বর্ণনা আছে ‘স্মৃতির দখিন দুয়ার’ এ। বঙ্গবন্ধুর রাজনৈতিক দর্শনসহ রাজনৈতিক জীবনের টুকরো ঘটনার উল্লেখও আছে এখানে।
 
উপকূলে ১৯৯১ এর ভয়াবহ সাইক্লোনের তাণ্ডবে যখন জানমালের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে, বহু মানুষের (প্রায় ৩ লক্ষ) প্রাণহানি হয়েছে- বিরোধী দলীয় নেত্রী হিসেবে শেখ হাসিনা তখন ছুটে গেছেন সে ধ্বংসস্তূপে। পিতার আদর্শ যে তাঁকে কতখানি প্রভাবিত করে তার অসাধারণ উপলব্ধি পাঠক পাবেন এই প্রবন্ধে।

বইটির অত্যন্ত প্রাঞ্জল ভঙ্গিতে উচ্চারিত প্রতিটি হৃদয়স্পর্শী বয়ান পাঠককে ইতিহাসের ধারাগুলোর প্রতি আকর্ষিত করবে। নিঃসন্দেহে রাজনীতি ও সমাজ সচেতন জ্ঞানপিপাসু পাঠককে জ্ঞানসমৃদ্ধ করবে এবং ইতিহাস নিয়ে সুচিন্তার খোরাক যোগাবে বইটি।
#শেখ_মুজিব_আমার_পিতা
#শেখ_হাসিনা


This entire review has been hidden because of spoilers.
Profile Image for Nurul Huda.
193 reviews4 followers
May 22, 2023
#bookreview
বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে স্মৃতি, প্রধানমন্ত্রীর লড়াই সংগ্রাম, চট্টগ্রামের ঘূর্ণিঝড়, নূর হোসেন, জাহানারা ইমাম, ড. আবদুল মতিন চৌধুরী ইত্যাদি আরও বিষয় নিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যে প্রবন্ধগুলি লিখেছিলেন৷ সেগুলোর সংকলন করা হয়েছে বইটিতে। মোট ১০ টি প্রবন্ধ। নিরপেক্ষ ভাবে বিচার করলে, বলতেই হয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভালো লিখেন।

__

শেখ মুজিব আমার পিতা
শেখ হাসিনা
আগামী প্রকাশনী
মূল্য - ৩০০৳
পেজ - ১১১
Profile Image for Shahab Mosharraf.
84 reviews6 followers
September 28, 2020
শিরোনামে বইটিকে আত্মজীবনী বলে মনে হলেও এটি নিছকই শেখ হাসিনার রাজনৈতিক জীবনের প্রথম দিককার কিছু প্রবন্ধ সংকলন। অবশ্য-প্রথম দিকের দু-একটি খটমটে রাজনৈতিক প্রবন্ধ ছাড়া পরেরগুলোতে তার ব্যক্তিজীবন বেশি প্রতিফলিত হওয়ায় তা অনেকাংশেই সুখপাঠ্য।
আজ ২৮শে সেপ্টেম্বর সকালে বইটি পড়া শুরু করার পরেই জানতে পারি তার জন্মদিনেই তার প্রথম বইটি হাতে নিয়েছি! :D :p
Profile Image for Afia Jahin Mow.
164 reviews47 followers
December 23, 2020
Can't say that I went into it with much expectations but it did turn out to be pretty good. Though..I was hoping to read about a father from his daughter's perspective, it was more about like political stuffs with personal touch, liked the writing style overall.
3.5
Profile Image for Imdadul Haque Chanchal .
1 review6 followers
September 18, 2020
শেখ হাসিনার লেখার হাত অসাধারণ। মুগ্ধ হয়েছি।
Profile Image for Monowarul ইসলাম).
Author 32 books181 followers
April 30, 2021
আপনি লীগের হোন, দলের হোন, জামাত থেকে বামাত যেই হোন না কেন, বইটা পড়া উচিৎ। চমৎকার লেখনী। জাতির জনককে নিয়ে আমি যতগুলো বই পড়েছি তার মধ্যে এই বইটা উপরের দিকে থাকবে।
Profile Image for Jacob Ginger.
1 review
August 21, 2024
Erm why does the author page say Sheikh Hasina is the current prime minister of Bangladesh?! No she ain’t! Also rest in caca Sheikh Mujibur Rahman
Profile Image for Rifat Sharna.
32 reviews4 followers
December 26, 2018
বাংলার ছাত্রী শেখ হাসিনার সাহিত্য প্রতিভার প্রকাশ ঘটেছে বইটিতে, তার প্রত্যক্ষ জবানবন্দিতে জানতে পেরেছি আন্দোলন-সংগ্রামের সেই ঝঞ্ঝামুখর দিনগুলোর কথা, পরিবার হারানোর ক্ষত বয়ে বেড়ানোর মর্মস্পর্শী অভিজ্ঞতার কথা। কিন্তু সেই ঘৃণ্য স্বৈরশাসক এরশাদ, সময়ের নির্মম পরিহাসে তার সাথে হাত মিলিয়ে কেন রাজনীতি করতে হলো, কেন অাজ মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের সেই দলটির বিরুদ্ধেই ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ? দলান্ধতা অার দুর্নীতি নিপাত যাক, গণতন্ত্র মুক্তি পাক, তাহলে লাখো শহীদের মতো নূর হোসেনের আত্মাও শান্তি পাবে, তাদের স্বপ্নের বাংলাদেশ গড়ে উঠবে, এই স্মৃতিচারণ বইটিও ঐতিহাসিক দলিলের মর্যাদা পাবে!
Displaying 1 - 19 of 19 reviews

Can't find what you're looking for?

Get help and learn more about the design.