শহরের ভেতর খোলা ভ্যাটের মধ্যে পাওয়া গেল ভিনরাজ্যের এক রাজনৈতিক নেতার টুকরো করা মৃতদেহ। একদিকে সরকার পক্ষ অন্যদিকে মিডিয়ার মারাত্মক চাপে তদন্ত কমিটি তৈরি করলেন ডিসি ডিডি। সেই তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ ভার এসে পড়ল দিব্যর ওপরে। তদন্ত করতে গিয়ে উঠে এল নব্বইয়ের দশকের নায়িকার বাড়ির অগ্নিকাণ্ড প্রসঙ্গ। কে ছিল সেই অগ্নিকাণ্ডের পিছনে? ঘটনাচক্রে কলকাতার কাহিনী উড়ে গেল মালয়েশিয়ার সমুদ্র সৈকতে। ভিন্ন দেশের পাঁচ বান্ধবীর মধ্যে দিব্য কী যেন সূত্র খুঁজে বেড়ায়। পেনাং দ্বীপে ড্রাগন ডান্সের ভেতর কোন রহস্য লুকিয়ে রয়েছে কে জানে! জীবনের প্রথম কোভার্ট অপারেশনে গিয়ে দিব্য কীভাবে করবে এই জটিল রহস্যের সমাধান?
বইয়ের প্রচ্ছদ দেখে কি আপনার মনে হচ্ছে যে এটি কোনো এস্পিওনাজ থ্রিলার? হয়ে থাকলে আপনি ভুল ভেবেছেন। ফ্ল্যাপে 'কোভার্ট অপারেশন', 'ভিনরাজ্যের নেতা খুন'— এ-সব পড়লে কি আপনার মনে হতে পারে যে এটি কোনো পোলিস প্রোসিডিওরাল, যার জন্য এক পুলিশ অফিসারকে অন্য কোথাও যেতে হচ্ছে অনুসন্ধানের জন্য? হয়ে থাকলে আবারও ভুল করবেন। এটি আসলে মহুয়া রায়চৌধুরীর জীবন আর বর্তমান রাজনীতি ও দুর্নীতি নিয়ে কিছু যা-ইচ্ছে-তাই ভাবনার ঘ্যাঁট, যাতে রহস্য-টহস্য কিচ্ছু নেই। তাহলে এতে কী আছে? আছে পুলিশি অনুসন্ধানের এক প্যারডি। আছে মালয়েশিয়ার প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের বর্ণনা। আছে কিছু নারী ও পুরুষের অদ্ভুত অবুঝপনা ও ঠ্যাঁটামোকে প্রায়-রোমান্স হিসেবে পরিবেশন। এগুলোর কোনোটার জন্যই বইটা পড়াকে জাস্টিফাই করা যায় না। মহুয়ার জীবনকে ফিকশনলাইজড আকারে জানতে চাইলেও আগুনে ঢেকেছি মুখ-কেই সর্বান্তঃকরণে রেকমেন্ড করব। বাকিটা আপনার হাতে। অলমিতি।