Jump to ratings and reviews
Rate this book

ঋভু

Rate this book
ঢাকায় পা রাখা মাত্রই অর্জুনের উপর আক্রমণ, কেন? অর্জুন ঢাকায় এসেছেই বা কী উদ্দেশ্যে! বান্দরবানের সীমান্তে সাকিব আর অয়নের সাথে দেখা হলো এক অদ্ভুত মানুষের, নাম শাহরিয়ার সুলতান, বিশ্বখ্যাত অ্যাডভেঞ্চারার। দিনের পর দিন ক্যাম্প করে কিছু একটা খুঁজে চলেছে মানুষটা, কী সেটা? দু’জন বিশ্বখ্যাত বিজ্ঞানী পাহাড়ের তলার ল্যাবে গবেষণা করছেন কিছু একটা নিয়ে, যার পেছনে আছে গোপন এক সংগঠন, পুরো পৃথিবীকে নিয়ন্ত্রণ করতে চান তারা। তেইশ’শ বছর আগে সম্রাট অশোক শুরু করেছিলেন অতিমানবীয় এক গবেষণা, তার ফল কি পাবে আজকের পৃথিবী?

240 pages, Hardcover

First published February 18, 2015

9 people are currently reading
292 people want to read

About the author

Shariful Hasan

42 books1,006 followers
Shariful Hasan hails from Mymensingh, Bangladesh. He has spent his childhood by the banks of Brahmaputra river. He completed his Masters in Sociology from University of Dhaka and is currently working in a renowned private organization.

Shariful's first novel was published on 2012 titled Sambhala. With two other books, this captivating fantasy trilogy has received widespread acclimation both within and beyond the borders of Bangladesh. The Sambhala Trilogy was translated in English and published from India.

Although his inception consisted of fantasy and thriller, he has later worked on a variety of other genres. These works have been received fondly by the Bangladeshi reader community. Lot of his works have also been published from different publications in West Bengal.

Award- Kali O Kalam Puroshkar 2016 for 'অদ্ভুতুড়ে বইঘর'

Ratings & Reviews

What do you think?
Rate this book

Friends & Following

Create a free account to discover what your friends think of this book!

Community Reviews

5 stars
87 (21%)
4 stars
157 (38%)
3 stars
128 (31%)
2 stars
24 (5%)
1 star
10 (2%)
Displaying 1 - 30 of 58 reviews
Profile Image for Muhammad .
152 reviews12 followers
September 18, 2017
পৃথিবীর কোনায় কোনায় ছড়িয়ে থাকা বিস্তৃত গুপ্ত সঙ্ঘ, হুমকির সম্মুখে থাকা মানব সভ্যতার গতিপথ, কুংফু-কারাতে থেকে জিন প্রকৌশল-মা সরস্বতী’র বিদ্যার হাঁড়ি গলায় সবটুকু উপুড় করে ঢেলে নেয়া নায়ক, নায়কের অব্যর্থ নিশানা, সুবিধেমতো জায়গায় ভিলেনের বোকামী, নায়কের উদ্দেশ্যে ভিলেনের বারবার ফসকে যাওয়া গুলি, অসংখ্য কাকতাল… আধুনিক থ্রিলার গল্পের এই তো রেসিপি। ১৯৮০ সালে উমবার্তো একো’র হাত দিয়ে এলো ‘দি নেইম অফ দি রোজ’; ধর্ম, ইতিহাস, শব্দতত্ত্ব আর রহস্যের এক দারুণ মিশেল এই উপন্যাস দিয়েই বিশ্বসাহিত্যের আঙিনায় পা রাখেন একো। বিশ্বের অন্যতম শ্রেষ্ঠ দুই বিশ্ববিদ্যালয় কলাম্বিয়া ও হার্ভার্ডে অধ্যাপনা করা একো ছিলেন বিদগ্ধ পণ্ডিত। তাঁর বই পড়া, সে এক কঠিন বৈতরণী পার হবার সামিলই বটে। প্রথম উপন্যাস দিয়েই দুনিয়া মাত করে দেয়া একো রাতারাতি থ্রিলার গল্পের ঢংই পাল্টে দেন। প্রায় দু’দশক পর ২০০০ সালে এসে ধর্ম, ইতিহাস আর রহস্যের মিশ্রণে ড্যান ব্রাউন লিখলেন তাঁর রবার্ট ল্যাংডন সিরিজ, সাহিত্যরসিকদের মতে যা একো’র সস্তা সংস্করণ। কঠিনপাচ্য একো সবার জন্য নয়, বাঙ্গালীর (বৃত্ত ছোট করে বরং বাংলাদেশীই বলা যাক) জন্য তো আরো নয়। মাসুদ রানার পেপারব্যাক গুলো পড়ে পড়ে সোহানাকে বাহুডোরে ধরে রাখার ঘর্মাক্ত কল্পনায় মশগুল বাংলাদেশী পাঠক একো বুঝবেন বা আদৌ পড়তে চাইবেন এ নেহাৎ কষ্টকল্পনা। তবে বাংলাদেশ একাই তো নয়। সত্যিকার পাণ্ডিত্যপূর্ণ কাজের ব্যাপারে সম্পূর্ণ অজ্ঞ থেকে বাজারে বিক্রীর দৌড়ে এগিয়ে থাকা রদ্দিমালের পেছনে ছোটা একটি বৈশ্বিক ধারা। সে কারণেই ড্যান ব্রাউন বা জেমস রোলিন্সদের মতো লেখকরা পৌঁছে যান মানুষের দুয়ারে দুয়ারে, যদিচ এঁদের ইংরেজী লেখবার ভঙ্গিমা অনেক ক্ষেত্রেই ভুরু কুঁচকাবার মতো। ইংরেজী ব্যাকরণকে বৃদ্ধাঙ্গুল (নাকি মধ্যমা?) দেখিয়ে অহেতুক জটিল বাক্যে ঘুরেফিরে একই কথা লিখে যাওয়া ব্রাউন অনেক সমালোচকের হাসির পাত্র হয়েছেন। দি টেলিগ্রাফ ২০০৯ সালে ব্রাউনের জঘন্যতম বিশটি বাক্য নিয়ে একটি প্রতিবেদন বের করেছিলো, সেখান থেকেই একটি এখানে তুলে দেই,

Although not overly handsome in a classical sense, the forty-year-old Langdon had what his female colleagues referred to as an ‘erudite’ appeal — wisp of gray in his thick brown hair, probing blue eyes, an arrestingly deep voice, and the strong, carefree smile of a collegiate athlete.’


এই বাক্যটির বিরুদ্ধে অভিযোগ হলো ব্রাউন ফিকশন লেখবার যে ‘রুল অফ থাম্ব’ সেই ‘show, don’t tell’ নিয়মটি লঙ্ঘন করেছেন। অর্থাৎ, তাঁর সৃষ্ট নায়কটি যে স্বর্গের দেবতাদের সকল গুণ ধারণ করেন তার পরিচয় তিনি পদে পদে না দিয়ে একবাক্যেই সেরেছেন। চলচ্চিত্রে পরিচালক নায়কের গুণগুলো একে একে প্রকাশ করেন তাশের কার্ডের মতো। কখনো আমরা দেখি নায়ক গীটার হাতে দারুণ গেয়ে চলেছেন, পরমুহুর্তেই ব্রেক ড্যান্স দিচ্ছেন, এরপরই নানচাকু নিয়ে ভিলেনের দলকে তাড়া করে বেড়াচ্ছেন। পেঁয়াজের খোসা ছাড়াবার মতো আমরা নায়কের এক একটি রূপের পরিচয় একটু একটু করে পাই আর আমাদের মুগ্ধতা বাড়ে। ভাবুন তো একবার, চলচ্চিত্রের শুরুতেই পরিচালক নেপথ্যে কন্ঠে ঘোষণা করে দিচ্ছেন “আমাদের নায়ক মারামারিতে দারুণ; তাঁর এক একটি ঘুষি যেন থরের হাতুড়ির বাড়ি। তাঁর গলায় অর্ফিয়ুস এর মতো সুর, আর গীটার বাদনে তিনি হেন্ড্রিক্স এর সমকক্ষ’... কেমন লাগতো আপনার? এই সমস্যাটি জেমস রোলিন্স এরও আছে, তাঁর উপন্যাস পড়তে বসলে মনে হয় হলিউডের ‘বি’ ঘরানার চলচ্চিত্রের চিত্রনাট্য পড়ছি। সে যাক, মূল বিষয়টি হলো জনপ্রিয় ঘরানার এ সকল pretentious plot নির্ভর থ্রিলার কাহিনীগুলো বেশীরভাগ ক্ষেত্রেই ভীষণ হতাশাদায়ক। নৃতত্ত্ববিদ্যা কি ইতিহাসের আর দশটা বই ঢুঁড়ে মালমশলা সংগ্রহ করে লেখেন বলেই বোধহয় লেখালেখিটাও যে একটা শিল্প তা এ ঘরানার অনেক লেখকই ভুলে যান। ফলে তাঁদের বইগুলো বহু গবেষণার ফল হয় বটে, ‘ভালো বই’ হিসেবে আর উতরাতে পারেনা। হালের বাংলাদেশী থ্রিলার লেখকদের একটি বড় অংশই বিদেশী এই লেখকদের কাছে ‘বাইয়্যাত’ নিয়েছেন। এ ধারায় বাংলায় এখন কম বই বেরোচ্ছেনা, শরীফুল হাসানের ‘ঋভু’ বইটি সে মিছিলে শামিল হওয়া আরেকটি গতানুগতিক বাজে বই।

‘ঋভু’র পাতায় পাতায় রয়েছে লেখকের অপরিপক্কতার ছাপ। অর্থাৎ, লেখক ছাপার অক্ষরে প্রকাশিত লেখক হয়ে উঠবার আগে যথেষ্ট অনুশীলন করে মাঠে নামেন নি, যা কার্যত একজন লেখকের জন্য সবচেয়ে বড় অপরাধ। ‘show, don’t tell’ নিয়মভঙ্গের অন্যতম প্রকৃষ্ট উদাহরণও বটে এই বইটি। থ্রিলার গল্পকে মূল ধারার সাহিত্যের কাতারে অনেকেই আনতে চান না, সেটা এ গল্পগুলো লেখার দুর্বল ভঙ্গিমার জন্যই। এর অর্থ দাঁড়ায় এ লেখকেরা নিজেরাই তাঁদের লেখার প্রতি সৎ নন। এ বই সে বই ঘেঁটে হরেক রকম তথ্য দিয়ে পাঠককে চমকে দেয়াতেই তাঁরা দায়িত্ব শেষ হয়েছে মনে করেন (যেটি মূলত এই মহাযজ্ঞের সবচেয়ে সহজ কাজ), থ্রিলার লিখতে গেলেও যে ভাষার ওপর দক্ষতা থাকা চাই, সে ব্যাপারটিতে তাঁদের নিজেদের মোটে বিশ্বাস নেই। এঁরা নিজেরাই নিজেদের genre টিকে কলঙ্কিত করে আসছেন। লিখতে পারাটা শিক্ষিত মানুষের সহজাত ক্ষমতা। প্রকাশভঙ্গির সৌন্দর্য্যবোধটিই লেখককে সাধারণ থেকে আলাদা করে দেয়। বুদ্ধদেব বসু তাঁর সাহিত্য সমালোচনার বই ‘কালের পুতুল’-এ যে কথাটি বলেছেন, সেটিই বলি আবার, লেখালেখি শেখার কোন ইশকুল নেই। একমাত্র যে উপায়টিতে লেখালেখি শেখা যায় তা হলো পড়া। পেটে বিদ্যে না থাকলে কলমের কালি আটকে থাকবে এ অতি সাধারণ কথা। একো নিজে ভীষণ রকম পড়ুয়া ছিলেন বলেই নেইম অফ দি রোজ এর মতো মাস্টারপিস লিখতে পেরেছেন। সুদূর ইতালী পর্যন্ত গিয়ে একোকে খুঁজে ফিরতে হয় না, বনফুলের জীবনী ‘পশ্চাৎপট’ পড়লেও বোঝা যায় লেখালেখিটা যতটা না লেখা তার চেয়ে ঢের অনেকগুণ বেশী পড়া। বারবার বনফুল স্বীকার করেছেন তাঁর পড়ার অভ্যাসটিই তাঁকে বনফুল বানিয়ে তুলেছে। শরীফুল হাসানের ‘ঋভু’তে কোথাও সেই পড়ালেখা করবার নূন্যতম ছাপটিও পড়েনি। বালখিল্য প্লটের গতিময় উপন্যাসটি সাক্ষ্য দেয় লেখক তাঁর থ্রিলারের চেনা জগতের বাইরে পা ফেলেন নি বড় একটা।

পৃথিবীর ইতিহাস পাল্টে দেবার চক্রান্তয় রত গুপ্ত সঙ্ঘের গল্প সমৃদ্ধ থ্রিলারগুলো প্রায়ই প্রাচীন ইতিহাসের শরণাপন্ন হয়। কয়েকশ কি কয়েক হাজার বছর আগে শুরু হওয়া নিদারুণ এক চক্রান্তের জাল গুটিয়ে বর্তমানে নিয়ে আসেন লেখক। একোর নেম অফ দি রোজ-এর ষড়যন্ত্রের শুরু ১৩২৭ সালের ইওরোপে, ব্রাউনের ভিঞ্চি কোডের সূচনা যীশু খ্রিষ্টের সময় থেকে, জেমস রোলিন্স এর সিগমা ফোর্স সিরিজও প্রায়শয়ই কয়েক হাজার বছর পেছনে ফিরে যায় গল্পের খাতিরে। চেনা ছকে বাঁধা গল্প ‘ঋভু’তেও এসেছে তা। তেইশশ বছর আগের প্রাচীন ভারতে সম্রাট অশোকের ছেলেবেলা ও তাঁর শাসনামলে প্রায়শয়ই উঁকি দিয়েছেন লেখক। সম্রাট অশোকের সময়কালীন ভারতের যে চিত্র আঁকলেন তিনি, তার মালমশলা যোগাড় করতে কোন বই পড়া লাগেনা, উইকিপিডিয়ার গোটা তিন নিবন্ধে চোখ বোলালেই হয়। রোলিন্স, ব্রাউনরা উঁচু মানের লেখক এমন দাবী কেউ করেননা, কিন্ত তাঁদের বইগুলোর পেছনে দেয়া তাঁদের শ্রম অতো সস্তা নয়। ‘ঋভু’ লেখকের পরিশ্রম বিমুখতা ও সত্যিকার অর্থে পড়াশোনা করবার প্রতি অনীহা পাঠক হিসেবে ব্যক্তিগতভাবে আমাকে আহত করেছে। এত অল্পে লেখক হওয়া চলেনা, সেটি লেখালেখির মহান ব্রতটির প্রতি ভীষণ অন্যায় হয়ে যায়।

‘ঋভু’ বইটির প্রকাশের পেছনে এর প্রকাশক ‘বাতিঘর’ এরও যথেষ্টই দায় আছে। যে চরিত্রগুলো লেখকের কলমে সম্মানিত হয়েছেন, অর্থাৎ, যাঁরা ‘গিয়েছেন’, ‘করেছেন’, ‘খেয়েছেন’, তাঁদেরই আ��ার প্রায়শয় পদাবনতি ঘটেছে। মর্যাদা হারিয়ে এ চরিত্রগুলো তখন স্রেফ ‘গিয়েছে’, ‘করেছে’, ‘খেয়েছে’...। লেখনীর এমন অসংলগ্নতা ও ভঙ্গিমার দুর��বলতা মনে প্রশ্ন দাঁড় করিয়ে দেয়, প্রকাশনী সংস্থাটির ‘প্রুফ রিডার’ পদটিতে কেউ আছেন কিনা, কিংবা প্রকাশনীটি ‘প্রুফ রিডার’-এর প্রয়োজনীয়তা আদৌ অনুভব করে কিনা। আদর্শিকভাবে, একটি প্রকাশনী সংস্থার রুচিশীল কর্ণধার বইটি প্রকাশ করতে যথেষ্টই বিব্রত বোধ করতেন, তবে দেশটি যেহেতু স্বজনপ্রীতির, তাই বুঝে নেই, লেখক মহাশয় সংস্থাটির ওপরের দিকের চাঁই হয়ে থাকলে (পূর্বে একই প্রকাশনী কর্তৃক ছাপানো লেখকের বাণিজ্যিকভাবে ভীষণ সফল বইগুলোর অর্থকরী সাফল্যের দায়ে উদ্ভূত 'স্বজনপ্রীতি', আক্ষরিক অর্থে নয়!) এটি না ছাপানোই অধিকতর বিব্রতবোধের কারণ হয়ে দাঁড়াতো।

বই ছাপানো সংক্রান্ত ব্যাপারে যথেষ্ট রুচিবোধের পরিচয় না দেয়া ছাড়াও আরো একটি ব্যাপারে ‘বাতিঘর’কে কাঠগড়ায় দাঁড় করানো যায়। দু’শ সাঁইত্রিশ পৃষ্ঠার উপন্যাস ‘ঋভু’র মূল্য ‘বাতিঘর’ নির্ধারণ করেছে দু’শ বিশ টাকা। কালাপানি পেরিয়ে বহির্বিশ্বের অন্য দু’চারটে বইয়ের দোকানে ঢুঁ মারার সৌভাগ্য হয়েছে বলেই বলতে পারি, তুলনামূলকভাবে বাংলাদেশে বইয়ের দামটা বড্ড বেশী, যা এখানের মানুষের আয় ব্যায়ের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। ‘ঋভু’ যে ভাষায়, যে ভঙ্গিতে লেখা, এ ধাঁচের থ্রিলার গল্প সেবা/ প্রজাপতি প্রকাশনী আমাদের অবিশ্বাস্য কম দামে দিয়েছে; ছাত্রাবস্থাতে নানা ফিকির করে রিকশা ভাড়া বাঁচিয়ে কেনা বইগুলো আমাদের শৈশব রাঙ্গিয়েছে; এ সুখস্মৃতি স্রেফ গল্পের মারপ্যাঁচের জন্যই নয়, অর্থনৈতিক একটি সুখও এর সাথে জড়িয়ে আছে। ত্রিশ টাকা দামের সে গল্পের চেয়ে কোনমতেই মানে উন্নত না হওয়া ‘ঋভু’র দাম দেড় দশক পর কেন আজ দু’শ বিশ টাকা? দেড় দশকে আমাদের ক্রয়ক্ষমতা ঢের বেড়েছে সন্দেহ নেই, কিন্তু মূল্যস্ফীতিটা চোখে লাগবার মতোই। হয়তো এর উত্তর লুকিয়ে আছে উন্নত ছাপা, মোটা কাগজ আর রংবেরঙ ঝাঁ চকচকে প্রচ্ছদে। মলাটের উজ্জ্বলতা দিয়ে বইয়ের উপকরণের বিবর্ণতা ঢাকার এ অভ্যেস চালিয়ে গেলে ব্যবসা হয়তো দাঁড়াবে, ভুঁইফোড় অপরিপক্ক লেখকদের রাহুগ্রাসে পড়ে যাবে গোটা জাতি; সত্তর থেকে ষোল, মনের বয়েস সবার আটকে থাকবে বারোতে।

পুনশ্চ: পৃথিবীর চেহারা পাল্টে দেবার ষড়যন্ত্রে রত আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসী চক্রের নাম ‘আম্ব্রেলা কর্পোরেশন’, এ ব্যাপারটি নিতান্ত হাস্যকর। অন্তত ২০১৭ সালের প্রেক্ষিতে এ নামটি ভীষণ ‘ক্ষ্যাত’। ছাতা বাহিনীর কার্যকলাপ নব্বই এর দশকের বাংলা চলচ্চিত্রের আহমদ শরীফের ভিলেন বাহিনীর চেয়ে কোন অংশে উন্নত নয়। রাক্ষস তৈরী করে পৃথিবী দখল করে নেবার তেইশশ বছর আগের বুদ্ধির ওপর ভরসা করে বর্তমান সময়ে যাঁরা ক্রিয়াকলাপ চালান, তাঁদের প্রকৃতই মাথার ওপর ছাতা খুলে ঘোরাফেরা করা দরকার, নির্বুদ্ধতার চেহারাটা ঢাকা থাকবে অন্তত।
Profile Image for সালমান হক.
Author 66 books1,971 followers
April 27, 2015
অসাধারণ!! চমৎকার !! নাহ, শুধু এটুকু বললেও কেমন জানি অপূর্ণ থেকে যায় প্রশংসাটা । কোন ফাক ফোকর নেই, এইবার একদম ছক্কা মেরে দিয়েছেন শরীফুল হাসান ভাইয়া । একদম শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত এনজয় করেছি বইটা । এরকম বই যে আগে পড়িনি তা না, কিন্ত অন্য রকম একটা অনুভূতি কাজ করছিল কারণ এই বই এর লেখক বাংলাদেশী, আর গল্পের প্রয়োজনে যে সকল মিথ ব্যাবহার করা হয়েছে তা ও এই উপমহাদেশীয় । আমাদের নিজেদের দেশ এর গল্প ব্যাবহার করেই যে এত সুন্দর থ্রিলার লেখা যায় তার উদাহরণ আরেকবার দিয়ে দিলেন শরীফ ভাইয়া ।  আসলে এটাকে শুধু থ্রিলার বললে ভুল হবে । একই সাথে ফ্যান্টাসী, ঐতিহাসিক ও আডভেঞ্চার এর মিশ্রন । আর অনেক সময়ই একটা বই এ এতগুলা জনরা এর মিশ্রণ করতে গেলে কেমন জানি তালগোল পাকিয়ে যায়, তবে এই বই এর ক্ষেত্রে লেখক তা একদম দক্ষ হাতে সামলেছেন । সাম্ভালা ট্রিলোজীর তুলনায় এই বই এর ক্ষেত্রে সংলাপ এর ভঙ্গী অন্নেক সাবলীল লেগেছে আমার কাছে । একটানা পড়ে যেতে সমস্যা হয় নি একটু ও ।

দুটো টাইমলাইনে তিনটা আলাদা আলাদা গল্প সামনে এগিয়ে গিয়েছে সমান্তরালভাবে । এর সাথেও একটু পর পর বিভিন্ন ঘটনার ফ্লাশব্যাক তোহ ছিলই । বাংলাদেশ বারমা সীমান্তের কাছে একটা গোপন ল্যাব । পাহাড়ের তলে সেই ল্যাব এ চলছে এমন একটা পরীক্ষা যা সফল হলে বদলে যাবে পুরো পৃথিবীর নকশা । এই পরীক্ষার পেছনে আছে একটা ভয়ঙ্কর সংগঠন । আরেকটা গল্পে দেখা যায় একজন ভারতীয় তরূণ পা রেখেছে বাংলাদেশে । তার ও আছে একটা মিশন । কিন্তু ঢাকায় নামার পর থেকেই তার পেছনে লোক লেগে যায় । শুরু হয় পালানো । গল্পের আরেক টাইমলাইনে দেখা যায় দুই ঐতিহাসিক চরিত্র চাণক্য এবং স্বয়ং সম্রাট অশোককে। বই এর অনেকটা অংশ জুড়েই আছে সম্রাট আশোকের ছোট থেকে বড় হয়ে রাজ্য জয়ের কাহিনী । এই যে অশোক মৌর্য সম্রাজ্যকে এতটা বিস্তার করতে পেরেছিলেন, এর পিছনে কি ছিল শুধুই তার বিচক্ষণতা, নাকি তাকে সাহায্য করেছিল অন্য কোন রহস্য । এর পুরোটা জানতে হলে বইটা পড়তে হবে ।

অনেকগুলো গল্প একসাথে এগিয়ে নিয়ে শেষে একই সুতায় মেশানো হয়েছে। তবে কোন প্রকার অসঙ্গতিই চোখে পড়েনি এবার। আর ফিনিশিং নিয়েও কোন আক্ষেপ নেই । বরং তা দেখে মনে হয়েছে যে সামনে হয়ত আরো বাড়তে পারে এই গল্প । শরীফুল হাসান ভাইয়া কে ধন্যবাদ এত সুন্দর একটা বই উপহা দেয়ার জন্যে। অপেক্ষা স্বার্থক। 

এই বছর বাতিঘর থেকে যে বই গুলো বের হয়েছে তার প্রতিটাই কোন না কোন দিক থেকে মুগ্ধ করেছে আমাকে । মৌলিক থ্রিলার গুলো হাটি হাটি পা পা করে এখন অনেকটাই পরিণত ।  অথচ কিছুদিন আগেও এটা চিন্তা করা যেতনা । বাতিঘরকেও ধন্যবাদ ।
Profile Image for Nu Jahat Jabin.
149 reviews241 followers
October 25, 2016
আমি মোটামুটি বই যাই পড়ি সব কিছুতে মুগ্ধ হয়ে যাই। আর মুগ্ধ হবই না কেন?!!যেখানে আমি এক লাইন লিখতে গেলে ১০বার কলম চিবাই ২টা কলম ভাংগি সেখানে একজন লেখক কি সুন্দর করে বিশাল বিশাল বই লিখে ফেলেন।
একটু আকটু বই পড়ার পর দেখলাম আমার প্রিয় জনেরা হল ফ্যান্টাসি আরা থ্রীলার, ভাল করে বললে ফ্যান্টাসি থ্রীলার। এক সময় আক্ষেপ লাগত দূর আমাদের দেশে ড্যান ব্রাউন, জেমস রোলিন্সের মত টানটান উত্তেজনার বই কেউ লেখে না কেন? ? আমাদের না হল মন্তগ্লেইন সার্ভিস নাই, নাই বা থাকল প্রাচীন ম্যানুস্কিপ্ট কিংবা ইলুউমিনিটির মত কোন সংগঠন। তাই বলে কি লেখকরা কিছু বানায় লিখতে পারছেন না। হাজার হলেও ভারতবর্ষ এর ইতিহাস তো আর কম দিনের না কত জ্ঞানী গুনী মানুষ আসল কত রাজা বাদশারা শাসন করে গেল।
গত বছর সাম্ভালা পড়ে সেই আক্ষেপ অনেকটুকুই কেটে গেছে আরে এই তো একদম দেশি প্রেক্ষাপটে লেখা মিস্ট্রি থ্রীলার।
সেই থেকে লেখকের এই বইটার জন্য আগ্রহ নিয়ে অপেক্ষা করছিলাম। আমার মত অনুগত পাঠক খুব কম আছে সহজে বিরক্ত হই না, একবার পড়া শুরু করলে যত বোরিং বই হোক শেষ না করে উঠি না। কিন্তু ঋভু পুরাই আলাদা এক কথায় লেখক এইবইতে পাঠককে দৌড়ের উপরে রাখছেন একবার বইটা ধরছেন তো শেষ না করে উঠতে পারবেন না। লেখকের লেখার স্টাইল, কাহিনী প্রেক্ষাপট, আর দূর্দন্ত গতি ।
এই জিনিস গুলাও যদি আপনার কাছে কম মনে হয় তাহলে বলি এই বইতে আছে ২৩০০বছর আগের লুকিয়ে থাকা এক কঠিন ইতিহাস। আছেন চানক্যের মত কুটিল বুদ্ধিমান অর্থশাস্ত্র বিদ যিনি নিজেই ঠিক জানেন না তার পরবর্তী প্রজন্ম তাকে হন্তাকারন কুটিল মানুষ হিসাবে মনে রাখবে নাকি শাস্ত্রবিদ হিসাবে। আবার আছে মৌয্য সম্রায্যের ৩ অধিপতি যাদের ভিতর শুধু সম্রাট অশো���ই পেয়েছিলেন চান্যকের ভয়াবহ গবেষনার পরিনতি দেখার সুযোগ।
সেই ভয়াবহ জ্ঞান যদি লোভি মানুষের হাতে পড়ে তাহলে কি হবে সেটা তো বুঝাই যাচ্ছে হাজার হলেও মানব সভ্যতা ২৩০০ বছর পাড়ি দিলেও মানুষ এর ক্ষমতার লোভ কমে নি উল্টা বেড়েছে।
২৩০০ বছরের ইতিহাস আর বর্তমান একই সাথে মিলে যায় যখন ২ বিজ্ঞানী এক ক্ষমতালোভী সংগঠনের হয়ে লুকিয়ে গবেষনা শুধু করেন।
এর সাথে এসে মিলে অ্যাডভেঞ্চার প্রিয় শাহরিয়ার সুলতান আর অর্জুন নামের এক তরুন। ।
বইয়ে বর্নিত সম্রাট অশোকের নিষ্ঠুরতা আপনাকে যেমন অবাক করবে তেমন সম্রাটের শুভবুদ্ধি এর উদয়ও আপনাকে মুগ্ধ করবে।
ইতিহাস আমার খুব অপ্রিয় সাবজেক্ট হলেও বৌদ্ধ ধর্মের প্রতি আগ্রহ থাকাত কারনে সম্রাট অশোককে নিয়ে আগ্রহ অনেক আগে থেকেই ছিল। সম্রাট অশোকের সাথে যে এইভাবে মিথ জুড়ে দেওয়া যায় সেটা কল্পনাও করি নি এই জায়গায় এসে এক কথায় মুগ্ধ হয়েছি।
২য় মুগ্ধতাটা একটু হাস্যকর। শুরুতে যখন কাহিনীতে এসেছে একজন বিজ্ঞানী প্রখ্যাত জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ার এন্ড বায়োটেকনোলজিস্ট তখন ধরে নিছিলাম আমার সাধের সাবজেক্ট এর নেগেটিভ দিক তুলে ধরা হবে কোন এক অদ্ভুত কারনে লেখকেরা এই সাবজেক্ট এর খারাপ দিক গুলা নিয়ে লিখতে পছন্দ করেন (বেজি, ইনফারনো) বিজ্ঞানী যাই কারুক সাবজেক্টটাকে পচানো হয় নি এতেই আমি খুশি।

এইবারের বেশ কিছু বইতে দেখলাম কাহিনী মোটামুটি বেশ কিছু ধারা অতীত সময়, বর্তমান সময় আবার বর্তমান এর ভিতরে অনেক চরিত্রের আনাগোনা। এই জিনিসটা এখন কিছুটা বিরক্ত লাগছে এই টুকু বাদ দিলে সেই সেই সেই রকমের বই ।
পরিশিষ্ট পড়ে মনে হল এই বইটা নিয়ে সিরিজ হবে আশা করি সাম্ভালার মত আরেকটা অসাধারন সিরিজ পাব।
ইতিহাস, বিজ্ঞান,কুটিলতা লোভ লালসা, বন্ধুত্ব, অ্যাডভেঞ্চার,অ্যাকশন একটা বইতে আর কি লাগে? !!পারফেক্ট থ্রীলার
Profile Image for Pranta Dastider.
Author 18 books328 followers
February 19, 2015
পাঠককে দৌড়ের উপর রাখতে পারা লেখকের কৃতিত্ব, নিজে কখনও গল্প লিখতে বসলে এই বিষয়টাতে পুরোপুরি হিমশিম খাই আমি। প্রথমেই বলতে হবে এই দিক দিয়ে লেখক পুরোমাত্রায় সফল, ঋভু পড়তে বসলে পাঠক পুরো সময়টা দৌড়ের উপর থাকতে বাধ্য। কেননা ঘটনা একমুখী হলেও বহুধারায় ধাবমান।

কাহিনীর সুচনায় এই বহুধারা লক্ষণীয়, ভিন্ন ভিন্ন চরিত্রকে কেন্দ্র করে এগিয়ে যাবে ঘটনা, যাদের সবাই এক সূত্রে গাঁথা সেটা বুঝতে হয়তো পাঠকের বইয়ের শেষ পর্যন্ত যেতে হবেনা, কিন্তু শেষমেশ যখন সবাই একত্রিত হয়ে সামনে আসবে তখন ছিন্ন ভিন্ন মুক্তোর মালাটা আবার সুন্দরভাবে জোড়া লেগে যাবে অনায়াসেই।

শরীফুল হাসান ভাইয়ের সাম্ভালা ভালো লেগেছিল তার অন্যতম কারণ ছিল গল্পে ইতিহাসের অন্তর্ভুক্তি, আর দেখে ভালো লেগেছে এই গল্পেও লেখক সেই ধারা থেকে বেরিয়ে আসেননি। স্বয়ং সম্রাট অশোকের গল্পের মিশ্রণ ঘটেছে আধুনিক প্রেক্ষাপটের ফাঁকে ফাঁকে। এবং এই অন্তর্ভুক্তি সামান্য বাড়তি হলেও অসঙ্গতিপূর্ণ নয়। বরং গল্পের ফাঁকে ফাঁকে সম্রাট অশোকের গল্পের উপস্থাপনা, উপক্রমণ এবং সঙ্গতিপূর্ণ সমাপ্তি দারুণ লেগেছে আমার।

তবে গল্পের কিছু জায়গায় সবার দৌড়াদৌড়ির বিষয়টি কিছুটা কমাতে পারলে হয়তো আরও ভালো লাগতে পারতো। চরিত্রের সবাই আক্ষরিক অর্থেই বিভিন্ন পথে দৌড়ের উপর, হেঁটে চলেছে কোথাও না কোথাও। তবে তা অযৌক্তিক নয় কোনও ক্ষেত্রেই। হয়তো এই বিষয়টাও অন্যদের মধ্যে অন্যভাবে আবেদন সৃষ্টি করবে।

গল্পে কিছু একশন সিকোয়েন্স রয়েছে, যেগুলো বেশ উপভোগ্য লেগেছে, বিশেষ করে সম্রাট অশোকের সময়কার যুদ্ধক্ষেত্রের একশন। মনে হচ্ছিলো আমি নিজেই ঢাল তলোয়ার হাতে চলে যাই মারামারি করতে। হাহাহা।

এক কথায়, বইটি উপভোগ্য।
Profile Image for Riju Ganguly.
Author 37 books1,867 followers
May 11, 2020
বাংলা সাহিত্যে 'ব্রাউনিয়ান মোশন'-এর প্রভাবে একাধিক পরিবর্তন এসেছে। পৌরাণিক কিংবদন্তি ও ইতিহাস থ্রিলারের উপাদান হয়ে উঠেছে মূলত এর ফলশ্রুতি হিসেবেই। সেই ধারাতেই একটি উৎকৃষ্ট লেখা হল আলোচ্য উপন্যাসটি।
ভালো রোমাঞ্চ কাহিনির মতো এতে চারটি সমান্তরাল সূত্র আছে, যারা কাহিনির শেষে গিয়ে একটিই বিন্দুতে মিশে ক্লাইম্যাক্স তৈরি করেছে। একটি সূত্র তেইশশো বছর আগের ভারতবর্ষের, একটি এই সময়ে ভারত-বাংলাদেশ-মায়ানমার সীমান্তে একটি গোপন ল্যাবের, একটি উপমহাদেশের বাইরে থেকে চালিত, আর একটি ভারতে— যেখানে ইনটেলিজেন্স নেটওয়ার্ক প্রাণপণ চেষ্টা করছে এক ঘরভেদীকে ট্র‍্যাপ করতে। এরা কখনও ঢাকায় দুর্ধর্ষ অ্যাকশন সিকুয়েন্সের আশ্রয় নিয়ে, কখনও জঙ্গলের গভীরে বিপজ্জনক অ্যাডভেঞ্চারের মাধ্যমে কাহিনিকে গতিময় রেখেছে।
ভালো কাহিনির মতো এর শেষেও প্রশ্নটা সম্ভাবনা বা সম্ভাব্যতার বদলে ঔচিত্যকেই গুরুত্ব দিয়েছে। আর পাঁচটা থ্রিলারের তুলনায় ওই নীতির প্রশ্নেই হয়তো আলাদা হয়ে গেছে ঋভু।
ভালো লাগল।
Profile Image for Maruf Hossain.
Author 37 books258 followers
September 18, 2017
চমৎকার! ফ্যান্টাসিতে লেখকের হাত খোলে ভালো। দুইটা টাইমলাইনে এগিয়েছে গল্প। বর্তমান প্রেক্ষাপটে আর ২৩০০ বছর আগে চাণক্য ও সম্রাট অশোকের সময়ের প্রেক্ষাপটে। প্রাচীন প্রেক্ষাপটের গল্পটা ফুটিয়ে তুলতে লেখক বেশি দক্ষতার পরিচয় দিয়েছেন। এন্ডিং নিয়ে ব্যক্তিগতভাবে আমার একটু অতৃপ্তি থেকে গেল।
Profile Image for Avishek Bhattacharjee.
370 reviews78 followers
September 24, 2021
বইটা পড়ব বলে অনেকদিন ধরে ফেলে রেখেছিলাম। অবশেষে ধরে শেষ করে ফেললাম। লেখক শরীফুল হাসানের লেখা সাম্ভালা সিরিজটা আগেই পড়েছি। বাংলা সাহিত্যে এমন লেখা আগে পড়িনি, আর লেখার প্লট ছিল চমৎকার। সে আশা নিয়েই এটা শুরু করেছিলাম।

বইটার নাম সুন্দর। ঋভু। এর অর্থ হল সুপিরিয়র, আক্ষরিক অর্থ ধরতে গেলে দেবতাই বোঝায়। প্রাচীন ভারতের বিদ্যান ব্যক্তিদের মধ্যে অন্যতম হলেন চাণক্য। উনার হাত ধরেই মৌর্য সাম্রাজ্যের স্থাপন করেন চন্দ্রগুপ্ত। চাণক্য অর্থশাস্ত্র লিখে গিয়েছেন, যাকিনা জগৎবিখ্যাত। এবার আসি ঋভুর গল্পে। এ গল্পের চাণক্য শুধু অর্থশাস্ত্র লিখে যাননি। উনি যুদ্ধশাস্ত্রের উপরও গুরুত্বপূর্ণ একটা রচনা করে গিয়েছেন। এ শাস্ত্র মানুষকে নিয়ে যাবে ঋভুর কাতারে। কিন্তু মানুষজাতের উপরে ভরসা কম থাকার ফলে এ শাস্ত্রটি উনি লুকিয়ে যান। গোপন স্থানের সন্ধান দিয়ে যান পরবর্তী সম্রাট আশোককে। কিন্তু মানবজাত যে দেবতা বানাতে গিয়ে দানব বানাবে এ মনে হয় চাণক্য ঠিকই বুঝেছিলেন। আর সম্রাট অশোক কলিঙ্গ যুদ্ধে সেটার ব্যাবহার করে শিউরে উঠেছিলেন। তাই তিনি এই বিদ্যাকে গোপন করে যান মানবজাতের কাছে। কিন্তু অনেকদিন পরে এই বিদ্যা হস্তগত হয় এক আন্তর্জাতিক অর্গানাইজেশনের কাছে। তারা এই বিপদজনক বিদ্যাকে পরীক্ষা করার কাজে নেমে যায়।

বইটার পটভূমি অনেক বিরাট। দুইটা আলাদা সময় নিয়ে গল্প এগিয়ে গিয়েছে। আর গল্পে অনেক চরিত্র হলেও তাদের ব্যাপ্তি খুবই কম। মানে চরিত্রগুলার বিকাশটা ঠিকমত হয় নাই বলে মনে হয়েছে। আর প্লটটা খুব বেশী প্রেডিকটেবল। আগেই বুঝে যাচ্ছিলাম কি হবে। এ উপন্যাসের চরিত্রের মধ্যে যাকে সবচেয়ে প্রমিসিং মনে হচ্ছিল সেটাই হুট করে শেষ হয়ে গেল। সব মিলায় আগের উপন্যাসের হিসাব করলে আমি হতাশ।

তবে লেখককে ধন্যবাদ দেব অন্যকারণে। বইটার নামটা আমার খুব পছন্দ হয়েছে।
Profile Image for Ishraque Aornob.
Author 29 books404 followers
June 9, 2019
লেখক শরীফুল হাসান সাহেব একজন অলরাউন্ডার। বর্তমান সময়ের অন্যতম সেরা লেখক তিনি। সামাজিক, ক্রাইম থ্রিলার, এডভেঞ্চার, ফ্যান্টাসি যেকোনো উপন্যাসে উনার লেখনি অসাধারণ। এরকমই একটা অসাধারণ উপন্যাস হচ্ছে ঋভু। ঋভু হচ্ছে, একাধারে একশন, ক্রাইম, সায়েন্স, এডভেঞ্চার, ফ্যান্টাসি, এসপিওনাজ, মিথ ও ইতিহাসের মিশ্রণ। হ্যাঁ, এই এক ২৩৯ পৃষ্টার বইয়ে পাঠক একত্রে এতকিছু পাবেন। সম্রা��� অশোকের একটা তত্ত্বকে ঘিরে গড়ে উঠেছে উপন্যাসের প্লট। মেজর কোনো টুইস্ট না থাকার পরেও বেশ গ্রিপিং একটা বই। অসাধারণ ঝরঝরে কাহিনী। এমনিতেই পড়তে মন চাইবে। সাম্ভালা ফ্যানদের পছন্দ হবে। সত্যি বলতে ঋভু বেশ কিছু দিক দিয়ে সাম্ভালার থেকেও এগিয়ে থাকবে হয়তো।
Profile Image for Zakaria Minhaz.
261 reviews23 followers
January 19, 2022
#Book_Mortem 35

#ঋভু

লেখকঃ শরীফুল হাসান
প্রচ্ছদঃ ডিলান
প্রকাশনীঃ বাতিঘর
মূদ্রিত মূল্যঃ ২২০ টাকা

একটি গুপ্ত সংগঠন, ক্ষ্যাপাটে বিজ্ঞানী, গোয়েন্দা সংস্থা, ভয়ানক আবিষ্কার, সাথে ২৩০০ বছরের পুরোনো হারিয়ে যাওয়া বিদ্যা। এসব কিছু মিলে একেবারে জমে ক্ষীর হয়ে যাওয়ার মতো বই হওয়ার কথা "ঋভু"। কিন্তু কতোটা পেরেছে বইটা সেই এক্সপেক্টেশন পূরণ করতে!!?

#পর্যালোচনাঃ ৬ মাস আগে যখন থ্রিলার বই পড়া শুরু করি, তখন মাশুদুল হকের ভেন্ট্রিলোকুইস্ট আর মিনিমালিস্ট আমাকে এই জনরাটার সাথে স্রেফ আঠার মতো আঁকড়ে ধরে। সেই তালিকায় লেখক শরীফুল হাসানের "সাম্ভালা" ট্রিলোজিও বেশ বড় একটা ভূমিকা পালন করেছিলো। এমনকি গত বছরে আমার পড়া বইগুলোর মধ্যে সেরা ৭ বইয়ের একটা ছিলো সাম্ভালা। আর তাই অনেক আশা নিয়েই বসেছিলাম একই লেখকের "ঋভু" পড়ার জন্য।

আমাকে বলতেই হচ্ছে আমি এই বইটা পড়ে চরম মাত্রায় হতাশ হয়েছি। বইটা শুরু থেকে নন লিনিয়ার ভাবে ৩টা ভিন্ন ভিন্ন টাইমলাইন ধরে এগিয়েছে। এই ধরণের বইগুলো এক সময়ে গিয়ে চরম উত্তেজনার কিছু মুহুর্তের জন্ম দেয়। সব সুতা জোড়া লাগার যে আনন্দ সেটা এই বইতে পুরোপুরি মিসিং ছিলো। একে তো আলাদা আলাদা টাইমলাইনের ঘটনাবলী, তার উপর আবার প্রতিটা টাইমলাইনের ভিন্ন ভিন্ন চরিত্রের বয়ানে ভিন্ন ভিন্ন সিকুয়েন্সের অবতারনা করেছেন লেখক। আমি এই ধরণের বই পড়ে অভ্যস্থ। কিন্তু আমার মনে হয়েছে লেখক এই বইটাকে একটু অতিরিক্তই পেঁচিয়ে ফেলেছেন। কখনো গল্প এগিয়েছে ২৩০০ বছর পূর্বের মহা পন্ডিত চানক্য কিংবা সম্রাট অশোকের ভিউ থেকে, আবার সেটা এগিয়েছে করমজিৎ সিং, সাইদ পারভেজ, ডাঃ রামকৃষ্ণ কিংবা ডাঃ লুৎফরের ভিউ থেকে। শুধু এটুকুই নয় বর্তমান টাইমলাইনে এসে অয়ন, শাহরিয়ার সুলতান, অর্জুন কিংবা ঢাকা কিলার, এমনকি ল্যাবের গিনিপিগ পলের ভিউ থেকেও ছোটো একটা প্যারা আছে। এতো এতো সিকুয়েন্স চেঞ্জের কারনেই কিনা গল্পের উত্তেজনাটুকু কখনোই উপভোগ করার সুযোগ হয়নি আমার। এছাড়া লেখকের লেখনশৈলী দেখেও বেশ অবাকই হয়েছি বলা যায়। কোথায় সাম্ভালা আর কোথায় ঋভু!! সাম্ভালার মতো গুছালো কিংবা মন ভরানো লেখনীর অভাব ছিলো বইয়ে।

আক্ষেপ শুধু এতোটুকুই নয়, আক্ষেপ আরো আছে। সাইদ পারভেজ কিংবা ঢাকা কিলারকে শুরুর দিকে উপস্থাপনা করা হয়েছিলো ভয়ংকর সন্ত্রাসী হিসাবে। অথচ এরপরের অংশগুলোতে এদের কিম্ভুতকিমাকার ভুল করতে দেখে স্রেফ জোকার মনে হয়েছে তাদেরকে। একজন জাত শুটার নাকী তার টার্গেটকে ফাঁকায় পেয়েও গুলি লাগাতে ব্যার্থ হচ্ছে তাও আবার যেখানে সেই টার্গেট তাকে চিনেও না!! যে লোক নিজ হাতে পাহাড়ের গহীনে মাটির নিচে আস্ত একটা আধুনিক সুবিধা সম্বলিত ল্যাব স্থাপন করেছে, বেশ অনেকবার আসা যাওয়া করেছে। সে নাকী এখনো সেই ল্যাব নিজে চিনে না!! তাকে চেনানোর জন্য লোক পাঠানো লাগে। এই লোক আবার যেনোতেনো লোক নয়। বিশ্ব কন্ট্রোল করে যাচ্ছে এমন একটা সংগঠনের এজেন্ট 🙂!! মানে সিরিয়াসলি!! সেই সংগঠনের নামটাও "আমব্রেলা কর্পোরেশন", বহুল জনপ্রিয় গেম সিরিজ "রেসিডেন্ট ইভিল" থেকে এই নামটা ধার না করলে হতো না 🙃!!

আমি চাইলে এমন করে অসংখ্য প্লট হোল, চারিত্রিক দূর্বলতা কিংবা অস্বাভাবিক সিকুয়েন্সের বর্ণনা করে যেতে পারবো। একচুয়েলি পুরো বইটাই এগুলো দিয়ে ভরপুর। লেখক বেশ ভালো কিছু বিষয় নিয়ে ভালো একটা প্লট হয়তো ভেবেছিলেন। কিন্তু দূর্ভাগ্যবশতঃ সেটাকে সঠিকভাবে ফুটিয়ে তুলতে ব্যার্থ হয়েছেন। দিনশেষে এসব কিছুই ফিকে হয়ে যেতো যদি বইটা সুখপাঠ্য হতো। আফসোস সেটাও হয়নি।

#চরিত্রায়নঃ চরিত্রায়ন নিয়ে আর কি বলবো। উপরেই ২টা চরিত্রের অবস্থা বুঝিয়েছি। ধরে নেন আগে-পরে বাকী সব চরিত্রের অবস্থাই এই রকম তথৈবচ 🙂।

#প্রোডাকশনঃ বাতিঘরের পুরোনো প্রোডাকশন নিয়ে ভালো কিছু বলার উপায় নাই। প্রচুর বানান ভুল আর বোনাস হিসাবে নাম বিভ্রাট তো ছিলোই। আর এই বইটার প্রচ্ছদ সম্ভবত আমার কালেকশনে থাকা ২০০+ বইয়ের মধ্যে সবচেয়ে বাজে প্রচ্ছদ। কি থেকে কেনো এই রকম একটা প্রচ্ছদে বই পাবলিশ হলো তা আমার বোধগম্য নয়। ৫/৬ বছর আগের তুলনায় বর্তমান প্রচ্ছদশিল্পীরা কতোটা এগিয়ে আছেন এবং এই খাতকে কি পরিমাণ সুন্দর করে তুলেছেন তার প্রমান পাওয়া যায় এমন সব প্রচ্ছদ দেখলে।

#রেটিংঃ ৫/১০ (২৩০০ বছর আগের ওই সামান্য মিথোলজিক্যাল অংশটুকু বেশ ভালো লেগেছে। তা না হলে রেটিং আরো কমে যেতো 🤐)

#পরিশিষ্টঃ বইটা অনেক পুরোনো। এই বই দিয়ে কখনোই লেখক শরীফুল হাসানকে বিচার করা যাবে না। উনি এরপরেও বেশ অনেক ভালো কাজ উপহার দিয়েছেন। এই রকম একটা নেগেটিভ রিভিউ এর জন্য আমি লেখকের কাছে ক্ষমাপ্রার্থী। আমি সহজে মৌলিক লেখকদের এতো বেশী সমালোচনা করি না। এই বই পড়ার আগে থেকেই লেখকের ক্যাপাবিলিটিস সম্পর্কে আমার ধারণা ছিলো। সাম্ভালা ট্রিলোজির জন্য আমি উনাকে আজীবন সম্মান করে যাবো। কিন্তু এই বইটা স্রেফ উনার লেভেলের না। উনার লেভেলের অনেক নিচের মনে হয়েছে আমার কাছে।
Profile Image for Fahad Ahammed.
387 reviews44 followers
July 22, 2019
২৪০ পৃষ্ঠার বই, পড়তে গিয়ে কোনো ক্লান্তি নেই। অসাধারণ লেগেছে, পাশাপাশি লেখক বইটা শেষও করেছেন দারুণ একটা পরিশিষ্ট লিখে।
Profile Image for Mahatab Rashid.
107 reviews118 followers
March 21, 2016
সাম্ভালা ট্রিলোজির চেয়েও প্রিয় এই বইটা।
একদম শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত উপভোগ করেছি, বিশেষ করে ঐতিহাসিক চরিত্র চাণক্য ও স্বয়ং সম্রাট অশোকের অংশগুলো খুবই দারুণ লেগেছে।
দুইটা টাইমলাইনে গল্প এগিয়েছে, আর আলটিমেটলি সবটা একসাথে মিলে খুব সুন্দর একটা ফিনিশিং, দারুণ!
Profile Image for Peal R.  Partha.
211 reviews13 followers
June 8, 2021
⚈ স্পয়লার-ফ্রি রিভিউ— ❛ঋভু❜

❝নিজের সাফল্যকে যে তুলে ধরতে পারে না, সে যতই মেধাবী হোক না কেন, মানুষের চোখে সে একজন বোকা ছাড়া আর কিছুই না।❞

বোকা-মেধাবী দ্বন্দ্বে সাফাল্য যে সবসময় সঠিক পথে পরিচালিত হয় সেটা অজানা নয়। শুধুমাত্র ‘সাফল্য’ পাওয়ার জন্য মানুষ কতকিছু না করে বসে। ভালো-মন্দের হিতাহিতজ্ঞান হারিয়ে করে ফেলে এমন অকল্পনীয় কিছু কাজ যা সচারাচর সুফলের চেয়েও কুফল বেশি ডেকে আনে। ইতিহাস এমন কাজের সাক্ষী অনেক। নিজের আত্মমর্যাদা বিসর্জন দিয়ে যে খ্যাতি অর্জন করা যায় সেটা আদতে কতটুকু কাজে লাগে? দিনশেষে এইরকম কাজের কোনো মূল্য থাকে? ভবিষ্যতে বা এই কাজ কতটা ভূমিকা রাখে? পৃথিবীতে প্রতিটা আবিষ্কার গুরুত্বপূর্ণ কিন্তু সেটা যদি মানব কল্যানের বিরোধিতা করে তাহলে এই আবিষ্কারের তাৎপর্য কী?

কূটকৌশল আর ক্ষমতার ওপর ভিত্তি করে দাঁড়ানো ❛ঋভু❜ উপন্যাস পড়লে বোঝা যায় ইতিহাসের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত কতশত প্রতারণা বিশেষ মাথাওয়ালা মানুষরা করে এসেছে। আর এই প্রতারণার ভুক্তভোগী হয়েছে সাধারণ মানুষ। কেউ ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হতে চেয়ে হারিয়েছে পরিবার, আপনজন। কেউ হয়েছে গিনিপিগ আবার কেউ বরণ করে নিয়েছে দাসত্ব। সত্য-মিথ্যা খুঁজতে গিয়ে ভবলীলা সাঙ্গ হয়েছে এইরকম মানুষেরও অভাব নেই। ❛ঋভু❜ উপন্যাসে লেখক টেনে এনেছেন পৃথিবীর অন্ধকারাচ্ছন্ন বিষয়গুলো। কারা পুরো দুনিয়াকে নিজেদের কবজা করতে চায়? কেন করতে চায়? লাভ বা ক্ষতি কী সেটা জানার জন্য হলেও পড়তে পারেন এই উপন্যাসটি।

লেখক ইতিহাস নির্ভর যে-কোনো ঘটনা দক্ষতার মাধ্যমে সাজাতে বেশ ভালোভাবে পারেন৷ তেমনই এই উপন্যাসে জড়িয়ে আছে মৌর্য্য সাম্রাজ্যের তৃতীয় শাসক, সম্রাট আশোকের জীবনকাল। তবে সেটা খুবই সংক্ষিপ্ত। খ্রিষ্টপূর্ব ২৬৮ থেকে ২৩২ সাল পর্যন্ত ছিল তার শাসনকাল। তিনি ছিলেন ইতিহাসের এক আদর্শ শাসক। কিন্তু এই শাসকের নৃশংসতা ছিল উদাহরণ দেওয়ার মতো। কতটা ভয়ানক ছিলেন তিনি, লেখক সেটা স্বল্পতার মধ্যে বুঝিয়ে দিয়েছেন। সম্রাট অশোক সিংহাসনে উপবিষ্ট হওয়ার প্রায় আট বছর পর খ্রিষ্টপূর্বাব্দ ২৬১তে আসে ইতিহাসের মোড় ঘুরিয়ে দেওয়া সে-ই যুদ্ধ, কলিঙ্গের যুদ্ধ। এই হলো সে-ই কলিঙ্গ সাম্রাজ্য, যা চন্দ্রগুপ্তও জয় করতে পারেননি। কিন্তু তার পৌত্র অশোক, নৃশংসতার চরমে আরোহণ করে কলিঙ্গকে ঠিকই জয় করে নিয়েছিলেন।

এইখানে লেখক ঢুকিয়েছেন অভিনব একটি মিথ! যে মিথ নির্ভর করে ‘ঋভু’ উপন্যাস লেখা হয়েছে। অর্থাৎ ইতিহাসে এই কলিঙ্গ যুদ্ধের ভয়াবহতা কতটুকু সেটা সবারই জানা কিন্তু কীভাবে এই যুদ্ধ ইতিহাসের অন্যতম নৃশংস ও রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ ছিল সেটার পেছনের কাহিনি উপন্যাসে রয়েছে। এই মিথ সম্পূর্ণ কাল্পনিক তাই কেউ সত্যতা যাচাই না করা ভালো। সম্রাট আশোকের সাথে উপন্যাস ঠাঁই পেয়েছে ইতিহাসের অন্যতম সেরা দার্শনিক, রাজনীতিবিদ, অর্থনীতিবিদ মহামতি চাণক্য!

❝শ্রেষ্ঠ গুরুমন্ত্র হচ্ছে নিজের গোপনীয়তা কারও কাছে প্রকাশ না করা।❞ — চাণক্য।

ব্যাপ্তি কম হলেও উপন্যাসে মূল নায়ক কিন্তু এই মহামতি চাণক্য। কেন সেটা পড়লে বুঝতে পারবেন৷ ইতিহাসের সাথে বর্তমান প্লট তৈরিতে লেখক বেশ ভালোই কাজ করেছেন। ইতিহাসে এখনও এমন অনেককিছু রয়েছে যেটার কোনো ব্যাখ্যা নেই, চাণক্যর মৃত্যু ছিল তেমনই একটি দিক। লেখক তাও উপন্যাসে সে দিকটি নিজের মতো খোলাসা করেছেন।

❝কারও কাছে গোপন কথা বলতে যাওয়া মানে আত্মসমর্পণ করা।❞

বিজ্ঞানী কিছু চরিত্র উঠে এসেছে ❛ঋভু❜ উপন্যাসে। বিজ্ঞানীরা যথাসম্ভব তাদের গবেষণা গোপন রাখার চেষ্টা করেন। শুধুমাত্র বিজ্ঞানীরা এইরকম কাজ করেন তাও না। সাধারণ মানুষদের উচিত এই গোপনীয়তা বজায় রাখা। অপরিচিত কারও কাছে নিজের গোপনীয়তা ফাঁস করার অর্থ কিন্তু আত্মসমর্পণ করা।

এইবার আসা যাক ঋভু অর্থ কী? ঋভু হচ্ছে দেবত্বপ্রাপ্ত মানুষ। বিজ্ঞানীরা হরদম নিত্য নতুন আবিষ্কারের নেশায় মত্ত থাকেন। সেটা করতে গিয়ে আবিষ্কার করে ফেলেন এমন কিছু যেটা কল্পনারও বাইরে। আর তাদের সব আবিষ্কার যে সমাজে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে সেটা ভাবা ভুল। এই ❛ঋভু❜ উপন্যাসের সাথে ❛সাম্ভালা❜ উপন্যাসের বেশ সাদৃশ্য রয়েছে। লেখক একই কনসেপ্ট ব্যবহার করেছেন। তাই যারা সাম্ভালা পছন্দ করেন এই বইটি তাদের লুফে নেওয়ার মতো।

➲ আখ্যান—

ঢাকায় পা রাখা মাত্রই অর্জুনের উপর আক্রমন, কেন? অর্জুন ঢাকায় এসেছেই বা কী উদ্দেশ্যে! বান্দরবানের সীমান্তে সাকিব আর অয়নের সাথে দেখা হলো এক অদ্ভুত মানুষের, নাম শাহরিয়ার সুলতান, বিশ্বখ্যাত অ্যাডভেঞ্চারার। দিনের পর দিন ক্যাম্প করে কিছু একটা খুঁজে চলেছে মানুষটা, কী সেটা? দু’জন বিশ্বখ্যাত বিজ্ঞানী পাহাড়ের তলার ল্যাবে গবেষনা করছেন কিছু একটা নিয়ে, যার পেছনে আছে গোপন এক সংগঠন, পুরো পৃথিবীকে নিয়ন্ত্রন করতে চায় তারা। তেইশ’শ বছর আগে সম্রাট অশোক শুরু করেছিলেন অতিমানবীয় এক গবেষনা, তার ফল কি পাবে আজকের পৃথিবী?


➤ পাঠ প্রতিক্রিয়া ও পর্যালোচনা—

ইতিহাস, লেখকের নিজস্ব মিথ, বৈজ্ঞানিক আবিষ্কার, প্রভাব বিস্তার, কূটনীতি ইত্যাদির মিশ্রণে এই উপন্যাসের আনাচে-কানাচে ভর্তি। আরও একটি বিশেষ দিক রয়েছে সেটা হচ্ছে গুপ্ত সংঘ! ইম্প্রেস করার জন্য লেখক কোনোকিছুর কমতি রাখেনি উপন্যাসে। তাই বলে আবার জগাখিচুড়ি বানিয়ে ফেলেননি। সবকিছুর কারণ দেখিয়েছেন। আবার কিছু কারণ ছিল উহ্য। যেগুলো বেশি ব্যাখা করার প্রয়োজন নেই। দিন শেষে এই বই ফিকশন ক্যাটাগরির হলেও বাস্তবে খুঁজতে গেলে এইরকম অনেক কিছুর অস্তিত্ব অবশ্যই রয়েছে। সবমিলিয়ে উপভোগ্য।

● প্রারম্ভ—

গল্পের শুরুটা কিছুটা কমপ্লেক্স মনে হবে৷ কারণ বর্তমান টাইমলাইন হলেও সেখানে তিনটি কাহিনি সমান্তরালে চলবে। তা-ই শুরুটা মনোযোগ দিয়ে পড়া উচিত। গল্পের শুরুটা হয় ফ্ল্যাশব্যাকে বার্মা সীমান্তের কোনো এক এলাকায়। ধীরে ধীরে কাহিনি ফিরে আসতে থাকে বর্তমানে। প্রায় ৪১ পৃষ্ঠা পর্যন্ত কাহিনি বিল্ডাপে ব্যয় হয়। এরপরে তেইশ শ বছর পূর্বের মৌর্য বংশের কাহিনি উঠে আসবে৷ পুরো কাহিনি বুঝতে এতটুকু অপেক্ষা করতে হবে। বাকিটা বেশ সাবলীলভাবে চলতে থাকে।

● গল্প বুনন—

লেখকের গল্প বুননে আলাদা দক্ষতা বিদ্যমান। কোন সিকুয়েন্স কখন টানবেন, কখন কোথায় পর্ব শেষ করে পাঠকদের থ্রিলের ছোঁয়া দিবেন সে-ই বিষয়ে জ্ঞান নখদর্পনে। কোনো পর্ব দীর্ঘসময় ধরে টেনে নিয়ে যাওয়ার কাজটা থেকে বিরত থাকেন। এক্ষেত্রে বিভিন্ন ঘটনার ফ্লেভার অল্প সময়ের মধ্যে পাওয়া যায়। বেশিক্ষণ ধৈর্য ধরে থাকতে হয় না নির্দিষ্ট কাহিনি শেষ হওয়ার জন্য। গল্পের প্রেক্ষাপট বিশাল হলেও সেটাকে সহজভাবে ব্যাখা করে ছোটো করে বুঝিয়ে দেওয়ার ক্ষমতা অসাধারণ। ❛ঋভু❜ উপন্যাস বিশাল কলেবরের উপন্যাস নির্দ্বিধায় করা যেত কিন্তু লেখক সেটা মেদহীন করেছেন দেখে ভালো লাগল।

● লেখনশৈলী—

ঝরঝরে লেখনশৈলী পাশাপাশি শব্দচয়নে সাবলীলতা প্রশংসনীয়। কোনো ঘটনা বোঝার জন্য দুইবার পড়তে হয়নি। গল্পের শুরুতে সিকুয়েন্স বুঝতে কিছুটা বেগ পেতে হলেও লেখনশৈলী সে-ই যাত্রায় বাঁচিয়ে দিয়েছে। পুরো বইটি দারুণভাবে উপভোগ করলেও বানান, নামের মাত্রাতিরিক্ত ভুল ব্যাঘাত সৃষ্টি করেছে।

● বর্ণনাভঙ্গি—

তেইশ শ বছর পূর্বের ইতিহাস নির্ভর প্লট সাথে আবার বর্তমান। তাও তিন টাইমলাইনে সমান্তরালে এগিয়ে নিয়ে চলার জন্য যেইরকম বর্ণনাভঙ্গি থাকা উচিত সেইরকমটা রয়েছে। কোথাও থামার দরকার হয়নি, পারিপার্শ্বিক প্রাঞ্জল বর্ণনার পাশাপাশি চরিত্র বিল্ডাপ ও তাদের কাণ্ডকারখানা যথেষ্ট উপভোগ্য লেগেছে। তবে তেইশ শ বছর পূর্বের কাহিনি যে টোন থাকার কথা সেটা মিসিং। বর্তমান কাহিনি যেভাবে বর্ণনা করা হয়েছে একইভাবে মৌর্য বংশের কাহিনি তুলে ধরেছে। সেক্ষেত্রে আলাদা কোনো সমস্যা হয়নি। গল্পের মূল আর্কষণ হচ্ছে বর্তমান প্লট, শুধুমাত্র প্রাসঙ্গিক কারণে টেনেছে তেইশ শ বছর পূর্বের কাহিনি।

বাদবাকি অ্যাকশন সিকুয়েন্স, অ্যাডভেঞ্চার জার্নি বেশ দারুণভাবে বর্ণনা করেছেন লেখক। পরিপূর্ণ প্যাকেজ বলা যায়।

● চরিত্রায়ন—

❛ঋভু❜ উপন্যাসের সবচেয়ে স্ট্রং দিক। তবে লেখক সাম্ভালা উপন্যাস থেকে অনেক চরিত্র ধার করে এনেছেন বলে মনে হলো। চরিত্র বিল্ডাপে অনেকক���ছুর মি��� খুঁজে পেয়েছি। অসন্তুষ্ট নয় আবার পুরোপুরি সন্তুষ্ট বলা যাবে না।

তবে প্রত্যকটি চরিত্রের ব্যাকগ্রাউন্ড ভালোই শক্তপোক্ত রয়েছে। কোনোটা হেলা করার মতো না। চরিত্র নিয়ে টুইস্টও রয়েছে।
‘ঢাকা কিলার’ চরিত্রটির নাম বেশ লেগেছে। টিনএজ অয়ন ও সাকিবের সাথে বিশ্বখ্যাত অ্যাডভেঞ্চারার শাহরিয়ার সুলতানের মেলবন্ধনের সময়টুকু অন্যমাত্রা দিয়েছে। অন্যদিকে অর্জুন আর ড্রাইভার ইকবালের সাথে ভিলেনের দ্বৈরথ উপভোগ করার মতো। প্রোটাগনিস্ট এই উপন্যাসে অনেক ছিল। ভিলেন, বিজ্ঞানী তো আছেই।

● সমাপ্তি—

সমাপ্তি দেখে মনে হলো সিক্যুয়েল টানবে! তবে ইতিহাস নির্ভর কাহিনির মতো একটা পরিমিত সমাপ্তির দরকার ছিল। যদিও লেখক পাঠকদের রহস্যে আটকে রাখতে চেয়েছিলেন, সেদিক থেকে প্রায় সফল। কিছু ধারণা মনে থেকে যাওয়া আর লেখকের রেখে যাওয়া ভালো। উত্তেজনা কাজ করে এতে।

সৃষ্ট হওয়া প্রত্যক ঘটনার সমাপ্তি ভালোভাবে টেনেছেন। নাটকীয়তা অবশ্যই রয়েছে, তবে সেটা সামঞ্জস্যপূর্ণ। তবে কিছু ঘটনার আরও বিস্তারিত ব্যাখা দেওয়ার প্রয়োজন ছিল। বিশেষ করে যে প্রজেক্ট নিয়ে পুরো কাহিনি আবর্তিত হয়েছে।

● খুচরা আলাপ—

❛ঋভু❜ উপন্যাসে লেখক দেখাতে চেয়েছেন বৈজ্ঞানিক আবিষ্কার আর এর পেছনে লুকিয়ে থাকা রহস্য কতটা ভয়াবহ৷ এই আবিষ্কারের পেছনে রয়েছে বহুকাল পূর্বের অনেক জ্ঞানী মানুষের লুকানো সাফল্য। যুগ যুগ ধরে সেগুলো রূপান্তরিত হয়ে এসেছে। এখনও সেইসব নিয়ে কাজ চলছে। এছাড়া যে গুপ্তসংঘের বিষয় উঠে সেটা বেশ ভীতিকর। বর্তমান বিশ্বে কন্সপিরেসি অনেককিছু হচ্ছে যার পেছনে দায় করা হচ্ছে কিছু গুপ্ত সংগঠনকে। সেদিকটা লেখক স্বচ্ছ ভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন। স্বকীয়তা বজায় ছিল বলে ভালো লেগেছে। তবে বিস্তারিত ছিল না, আশা করি সেটা নিয়ে কোনো এক বইতে লেখালেখি হবে। আর ইতোমধ্যে হয়ে গেলে তো ভালোই।

এই উপন্যাসের সিক্যুয়েল আসলে অনেক প্রশ্নের উত্তর খোলাসা হবে আর না এলে পাঠক নিজ চিন্তাতে সমাপ্তি টেনে নিবে৷ কারণ, ব্যাখা টানলে বইটি আরামসে ৩২০+ পৃষ্ঠা ক্রস হয়ে যেত।

➢ লেখক নিয়ে কিছু কথা—

লেখক শরীফুল হাসান পছন্দের একজন লেখক। অন্ধ জাদুকর বইয়ের মধ্যে দিয়ে ওনার পাঠক হওয়া। ইতিহাস, মিথ, ফ্যান্টাসি, অ্যাডভেঞ্চার নিয়ে ক্রিয়েট করা প্লটগুলো পছন্দের৷ অবশ্যই এক বইয়ের সাথে আরেক বইয়ের যোগসূত্র রয়েছে। সাম্ভালার সাথে ঋভু’র যেরকম মিল পাবেন আবার অন্ধ জাদুকর উপন্যাসে সেইরকম মিল রয়েছে। ওনার বর্ণনাভঙ্গি বেশ প্রাঞ্জল ও লেখনশৈলী স্মুথ থাকার দরুন বইগুলো হয়ে উঠে সুখপাঠ্য। মুহূর্তে হারিয়ে যাওয়া যায় বইয়ে সৃষ্ট কল্পনার দুনিয়ায়। সবমিলিয়ে দারুণ।

● সম্পাদনা ও বানান—

সম্পাদনা দিকটা উহ্য থাকলেও প্রুফিং বরাবরই হতাশাজনক।
প্রিন্ট, ড্রাইভার হয়েছে যথাক্রমে প্রেন্ট, ভ্রাইভার সাথে পিস্তল/রিভলবার বিভ্রাট। উ-কার (ু), ঊ-কার (ূ) উলটপালট ব্যবহার। ভক্তকে ভক্তি, শেভ-কে সেভ এবং ন ও ণ ব্যবহারে ভুল পরিলক্ষিত। রামকৃষ্ণ হয়েছে রামকৃষ, সূর্য হয়ে গেছে ঝড়, তুফান। করমজিত হয়েছে পরমজিত, নাগাদ হয়েছে নাগাল। এইরকম অসংখ্য ভুল আর টাইপোর ছড়াছড়ি পুরো বই জুড়ে।

● প্রচ্ছদ, অলংকরণ—

প্রচ্ছদ করেছেন ডিলান। ফ্রন্ট কাভারে মেটামরফোসিস চিত্র দেখানো হয়েছে। বইয়ের কনটেন্টের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ।৷

● মলাট, বাঁধাই, পৃষ্ঠা—

বইয়ের মলাট ও বাঁধাই শক্তপোক্ত। তবে নতুন বই হিসেবে ঘ্রাণ ছিল একেবারে বিদঘুটে। বেশ অসুবিধে হয়েছে। বর্তমানে বাতিঘর প্রকাশনীর ক্রিম কালারের কাগজ ব্যবহার করছে সেদিক থেকে বিষয়টি ভালো লেগেছে। অবশ্যই নতুন মুদ্রণ হওয়া বইগুলোতে এই সুবিধা ভোগ করা যায়।

➠ বই : ঋভু | শরীফুল হাসান
➠ জনরা : মিথলজিক্যাল সায়েন্স-ফ্যান্টাসি থ্রিলার
➠ প্রথম প্রকাশ : ফেব্রুয়ারি ২০১৫
➠ প্রচ্ছদ : ডিলান
➠ প্রকাশনা : বাতিঘর প্রকাশনী
➠ মুদ্রিত মূল্য : ২২০ টাকা মাত্র
➠ পৃষ্ঠা : ২৪২
Profile Image for Syeda Banu.
99 reviews51 followers
August 22, 2019
'অর্থশাস্ত্র' কে লিখেছিলেন? মৌর্য যুগের পন্ডিত চাণক্য।

না, বিসিএসের ক্লাস নিচ্ছি না, এ উত্তর তো সকলেরই জানা। তবে যা জানা নেই, তা হলো - এছাড়াও চাণক্য আরেকটি গ্রন্থ লিখেছিলেন। সেটা ছিল যুদ্ধ জয়ের জ্ঞান - যুদ্ধশাস্ত্র। এই গ্রন্থ যার তার হাতে তুলে দিলে ফলাফল ভয়ঙ্কর হতে পারে, জানতেন তিনি। তাই রাজা বিন্দুসারের চাওয়া সত্বেও যুদ্ধশাস্ত্র লুকিয়ে রেখেছিলেন চাণক্য, উত্তরাধিকার মনোনীত করলেন বিন্দুসারের শত পুত্রের এক পুত্র অশোক'কে। বয়সকালে রাজা অশোক যুদ্ধশাস্ত্রকে কাজে লাগিয়ে কলিঙ্গের যুদ্ধ তো জিতলেন, কিন্তু সেই যুদ্ধে লাশের মিছিল দেখে চাণক্যের দেওয়া জ্ঞানের ভয়াবহতাও টের পেলেন৷ বিচক্ষণ অশোক যুদ্ধশাস্ত্রকে লুকিয়ে ফেললেন লোকচক্ষুর অন্তরালে। কিন্তু দুর্ভাগ্য মানবজাতির, আড়াই হাজার বছর পর সেই গ্রন্থ আবারো মানুষের লোভী ছোঁয়া পেল।

পাটনায় প্রত্নতাত্ত্বিক খননের সময় পাওয়া গেল পুরনো এক সিন্দুক। ভেতরে থাকা প্রাচীন লিপি পাঠোদ্ধার করে হাত পা ঘামতে শুরু করলো অমিত কুমারের। এই লিপিতে যা বলা আছে, তা কেউ হাতেকলমে কাজে লাগালে পুরো পৃথিবীর ভবিষ্যত বদলে দিতে পারে। সিন্দুকের বিষয়ে ভারতীয় ইন্টেলিজেন্সের সাথে কথা বলার আগেই, মূল দায়িত্বে থাকা ডক্টর রমেশ ভেঙ্কটেশ মারা গেলেন। মৃত্যুটা আপাতদৃষ্টিতে স্বাভাবিক মনে হলেও তা নয়, জানে অমিত। সিন্দুকটা নির্দিষ্ট মানুষের হাতে তুলে না দিলে একই পরিণতি হবে তারও। কোটি টাকার লোভে কাজটা করলো অমিত, দেশের সাথে বিশ্বাসঘাতকতার পুরস্কার পেল হাতেনাতে। যাদের কাছে সিন্দুকটা বিক্রি করলো, তারাই কপালে এঁকে দিলো বুলেটের ছাপ।

বিজ্ঞানী ডক্টর লুতফর রহিম গোপনে একটি গবেষনা চালিয়ে যাচ্ছিলেন অনেকদিন ধরেই। কিন্তু এধরণের জটিল গবেষনা একা করা আসলে প্রায় অসম্ভব। ভারতীয় বিজ্ঞানী ডক্টর রামকৃষ্ণ ত্রিবেদীও প্রায় একই রকম গবেষণা চালাচ্ছিলেন নিভৃতে। এদের এক করলো সাঈদ পারভেজ, আন্তর্জাতিক এক সংস্থার হয়ে। তারাই প্রজেক্টের সমস্ত খরচ যোগাবে, ল্যাব - সরঞ্জাম সব পাবেন। বিজ্ঞানী হিসেবে পৃথিবীর খাতায় ছাপ রাখার লোভে রাজি হয়ে গেলেন ডক্টর রহিম। বাংলাদেশের সীমান্তে শুরু হলো নিষিদ্ধ গবেষণা। তার ফলাফল কী হতে পারে? চিন্তাও করেননি ডক্টর লুতফর রহিম।

ইন্ডিয়ান টাইমসের প্রতিনিধি পরিচয়ে অর্জুন বিশেষ মিশনে এসেছে বাংলাদেশে। ঢাকায় পা রাখার পর থেকেই তার পিছু নিলো মৃত্যু পরোয়ানা জারি করা ভাড়াটে জল্লাদ। কে যে তাকে তাড়া করছে, কাকে বিশ্বাস করবে - কিছুই বুঝতে পারছে না অর্জুন, মৃত্যুকে বারবার ফাঁকি দিয়ে লক্ষ্যের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে।

বান্দরবানের দুর্গম পাহাড়ী এলাকায় ঘুরতে গিয়ে ঝামেলা ফেঁসে গেলো দুই বন্ধু - অয়ন আর সাকিব। কিছু লোক অস্ত্র নিয়ে তাড়া করলো ওদের। পালাতে গিয়ে আবিষ্কার করলো ওরা এক লোকের লাশ, সাথে ব্যাগে অনেক টাকা আর অদ্ভুত তিনটি ডিভাইস। সেই পাহাড়ে ক্যাম্প করেছে বিখ্যাত এডভেঞ্চারার শাহরিয়ার সুলতান, কী যেন খুঁজে বেড়াচ্ছে সে। মাঝে মাঝেই পাহাড় কাঁপিয়ে শোনা যায় গা হিম করা জান্তব চিৎকার। অশুভ কিছু ঘটছে এখানে!

আমি সাধারণত ব্যক্তিগত ব্যস্ততার সময় বড় ধরনের রিডার্স ব্লকে পড়ি। তবে এবারই প্রথম, প্রচন্ড ঝামেলার মধ্যেও, এমনকি হাসপাতালের বেডেও পড়া চালিয়ে গেছি। কারণ বইয়ের কাহিনী পুরো সময় প্রচন্ড টানছিল। ইতিহাস, বিজ্ঞান, ফ্যান্টাসি আর এডভেঞ্চারের এমনই দারুণ এক সমন্বয় শরীফুল হাসানের 'ঋভু'।

'ঋভু' অর্থ দেবতা বা দেব স্থানীয়। মানবজাতি প্রাণীকুলে বুদ্ধিতে সেরা, কিন্তু ক্ষুধা আর জরা তার প্রধান দুর্বলতা। এদেরকে জয় করে দেবতাসম হয়ে ওঠার ইচ্ছে তার চিরকালের। তাই বুদ্ধিমান মানুষ যুগে যুগে খুঁজে চলেছে শক্তিমান হয়ে ওঠার সেই চাবিকাঠির। বিজ্ঞান হয়তো এক পর্যায়ে মানুষকে সেই সুযোগও করে দেবে, কিন্তু তাতে কী মানুষ দেবতা হবে না দানব? লোভী মানুষের হাতে পরে বিজ্ঞানের ফলাফল হয়তো এমন ভয়াবহ হয়ে দাঁড়াবে যা কোনো কল্যাণেই আসবে না।

এই লেখকের 'সাম্ভালা' পড়েই জানা ছিলো তার দুর্দান্ত প্লট আর লেখনীর কথা। ঋভু-ও হতাশ করেনি। আগের মতোই, এবারও লেখক বেশ কিছু চরিত্র, ভিন্ন ভিন্ন টাইমলাইন আর দৃশ্যপট দিয়ে গল্প শুরু করেছেন। প্রথমে একটু এলোমেলো লাগলেও, একটু পরেই এক এক করে চরিত্রগুলোর মধ্যে যোগাযোগ স্পষ্ট হতে থাকে।

উপমহাদেশের নিজস্ব ইতিহাসকে কাজে লাগিয়ে থ্রিলার এখন বাংলাদেশে অনেক লেখকই লিখছেন। তবে ঋভু, সাম্ভালা এই উপন্যাসগুলো সম্পূর্ণ দেশী পটভূমিতে ইতিহাস নির্ভর মৌলিক থ্রিলারের পথিকৃৎ। ইতিহাসের সাথে বিজ্ঞান আর কল্পনাকে চমৎকার খাপ খাইয়েছেন লেখক। চাণক্য, সম্রাট অশোক আর কলিঙ্গের যুদ্ধের ফলাফলের সাথে লেখক তার গল্পের প্লটকে দক্ষতার সাথে ��িলিয়েছেন। গল্পের গতি চমৎকার, পাঠককে চৌম্বকশক্তিতে আটকে রাখবে। অনেক চরিত্রের আগাগোনা ছিলো বইয়ে, শেষ অবধি লেখক সব ঠিকমতোই গুছিয়ে এনেছেন। সবকিছু ছাপিয়ে অশোকের চরিত্রায়নটা আলাদা ভাবে ভালো লেগেছে।

অর্জুনের একশনের অংশগুলো পুরোই সিনেমার মতো লাগছিলো। কাহিনীর কিছু কিছু অংশ স্বাভাবিক যুক্তিতে একটু খাপছাড়া মনে হয়েছে। পরিশিষ্টে গল্পের শেষটা লেখক যদি জিইয়ে না রাখতেন ভালো হতো। সব শেষ হওয়ার পর ক্লিশে হলিউড সিনেমার মতো সিক্যুয়েলের আশা রেখে দেওয়াটা পছন্দ হয়নি।

বাতিঘরের বই মানেই প্রুফরিডিং এ অনীহা, এটা মোটামুটি মেনেই নিয়েছি। এই বইয়ে বানান ভুলের পাশাপাশি, কয়েক জায়গায় চরিত্রের নামেও গোলমাল হয়ে গেছে। বাঁধাইয়ের অবস্থাও তেমন ভালো নয়। হতাশ করেছে বইয়ের প্রচ্ছদ, একেবারেই খাপছাড়া।

বইঃ ঋভু
লেখকঃ শরীফুল হাসান
প্রকাশনায়ঃ বাতিঘর প্রকাশনী
প্রকাশকালঃ ২০১৫
প্রচ্ছদঃ ডিলান
পৃষ্ঠাসংখ্যাঃ ২৪০
মুদ্রিত মূল্যঃ ২২০ টাকা
Profile Image for Shahidul Nahid.
Author 5 books142 followers
Read
March 21, 2024
* পাঠককে ধরে রাখার ক্ষমতা ছিল বইটাতে।

* ২৩০০ বছর আগের মৌর্য সামাজ্র্যের ঘটনা আর বর্তমান সময়ের কিছু ঘটনা, সমান্তরালে চলেছে। দুইজন বিজ্ঞানী ২৩০০বছর আগে প্রাপ্ত জ্ঞান নিয়ে নতুন এক আবিষ্কারে মত্ত, পারবে কী তারা সফল হতে ? জানতে হলে পড়তে হবে বইটা !

* প্রথমদিকে অসাধারণ লাগলেও, মাঝখানে, একটু তালগোল পাকিয়ে ফেলতেছিলাম... আবার শেষের দিকে শুরুর থ্রিলিং ভাবটা পেয়েছি। ওভারঅল মৌলিক থ্রিলার হিসেবে ভালোই...
Profile Image for Ajwad Bari.
76 reviews31 followers
December 18, 2020
রাত্রি শেষের গান , অদ্ভুতুড়ে বইঘর ও রুপকুমারী ও স্বপ্নকুহক এই তিনটি বই পড়েই সুলেখক শরীফুল হাসানের লিখনশৈলীর ভক্ত বনে গিয়েছিলাম।রাত্রি শেষের গান বইটি পড়লেই বোঝা যায় যে সাদামাটা কোন গল্পকেও তিনি লেখনীর জোরে উপভোগ্য করে তুলতে পারেন। রাত্রি শেষের গান ও অদ্ভুতুড়ে বইঘর পড়ে উনার লেখনীর প্রতি যেই ভালোলাগাটা তৈরি হয়েছিল তা এবছরে প্রকাশিত রুপকুমারী পড়ে মুগ্ধতায় পরিণত হয়েছে। লেখক যে প্রতিনিয়ত উন্নতি করছেন এই ব্যাপারটা স্পষ্ট। ২০১৫ সালে প্রকাশিত হওয়া ঋভুতেও উনার বর্ণনাভঙ্গি সবসময়ের মতোই সাবলীল ও প্রাঞ্জল লেগেছে। তবে পুরো বইজুড়ে এই ব্যাপারটা বজায় থাকেনি। কিছু সংলাপ ও বর্ণনা হালকা খাপছাড়া লেগেছে আমার কাছে।

ঋভু'র প্লট আমার কাছে দারুণ লেগেছে। সাইন্স ফ্যান্টাসি ও এডভেঞ্চার ঘরানার বই হিসেবে খুবই চমৎকার একটা প্লট। বিজ্ঞান আর ইতিহাস ব্লেন্ড করে সুন্দর একটি কাহিনী গড়েছেন লেখক। তবে কাহিনী সংক্ষেপে বিজ্ঞানিদের গোপন ল্যাবে গবেষণা করা , তার পেছনে গোপন কোন সংগঠনের হাত থাকা যারা পুরো পৃথিবীকে নিয়ন্ত্রণ করতে চায় এবং এগুলোর সাথে তেইশ’শ বছর আগের কোন ঘটনার সম্পর্ক থাকা - এসব ব্যাপার দেখে মনে হয়েছিল এই ধরণের প্লটের বই পড়া , মুভি দেখা আগেও হয়েছে। হ্যাঁ , কথাটি ভুল না, এই ধরণের বই পড়া ও মুভি আগে দেখেছি ঠিকই। তবে আমার জন্য প্লটে নতুনত্বও ছিল। বাংলাদেশের পটভূমিতে এরকম সাইন্স ফ্যান্টাসি আসলেই প্রশংসনীয়। এক্সিকিউশনও বেশ ভালো লেগেছে ।
মূলত দুইটা ভিন্ন টাইমলাইনে কাহিনী এগিয়েছে, একটা বর্তমান সময়ের আরেকটি তেইশ'শ বছর আগের। বর্তমানের টাইমলাইনের সাথে অতীতের টাইমলাইনটাকে সুন্দরভাবে এগিয়ে নিয়ে গেছেন লেখক। যদিও বর্তমান সময়ের গল্পই বেশি ছিল এবং তার কারণ হলো তিনটা আলাদা গল্প সমান্তরালভাবে চলছিল বর্তমানের টাইমলাইনে ( যা শেষমেশ একই সুতোয় এসেই মিশেছে)। প্রথম থেকেই এক গল্প থেকে আরেক গল্পে বারবার শিফট করলেও খেই হারানোর সুযোগ ছিল না। বেশ ভালো গতিতে কাহিনী এগিয়েছে। বইয়ে বেশ কয়েকটা উপভোগ্য একশন সিকুয়েন্স ছিল। ঢাকার রাস্তার একশন সিকুয়েন্সগুলোর পাশাপাশি তেইশ'শ বছর আগে সম্রাট আশোকের যুদ্ধের বর্ণনাটাও অনেক উপভোগ্য ছিল। লেখক কখনো পুরোদস্তুর হিস্ট্রিকাল থ্রিলার লেখলে দারুণ হবে।

ঋভু বইতে স্বাভাবিকভাবেই অনেকগুলো চরিত্র ছিল। দুইটা ভিন্ন টাইমলাইন এবং একটা টাইমলাইনে অনেকগুলো গল্পের একসাথে এগিয়ে যাওয়ায় অনেকগুলো চরিত্রের আবির্ভাব ঘটেছে। এতগুলো চরিত্র থাকার পরও যতক্ষণ বইটি পড়ছিলাম সবার কথাই মাথায় ছিল। প্রত্যেকটি চরিত্রের পরিণাম জানার জন্য সমান আগ্রহ কাজ করেছে। সম্রাট আশোকের চরিত্রটা দারুণ ছিল। কম সময়েই সুন্দরভাবে তার চরিত্রটাকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন লেখক। অর্জুনকেও বেশ ভালো লেগেছে। বাদ বাকি সব চরিত্রকেও ঠিকঠাক মনে হয়েছে। আমার মতে প্রতিটি চরিত্রই প্রয়োজনমতো ফোকাস পেয়েছে ।

ঋভু'র সমাপ্তিটাও সন্তোষজনক ছিল। বড় কোন টুইস্ট নেই বইয়ে এবং প্রয়োজনও ছিল না। এন্ডিংয়ে এরকম কিছুই যে হবে এক পর্যায়ে এসে তা ধারণা করতে আর অসুবিধা হয়নি । তবুও ভালোই লেগেছে । সবগুলো ঘটনা সুন্দর করে এসে এক সুতোয় মিশেছে এবং কোন ফাঁকফোকরও পাইনি আমি। তবে পরিশিষ্ট অংশটা ব্যাক্তিগতভাবে ভালো লাগেলো না। সিকুয়েলের স্পষ্ট আভাস আছে বলব না এবং যতদুর জানি সিকুয়েল সম্ভবত আসবেও না।তাই শেষটায় পুরোপুরিভাবে শেষ করে দিলেই বেশি ভালো লাগতো ।

'বইটই' অ্যাপ থেকে মাত্র ৫৯ টাকা দিয়ে কিনেছি বইটা। আগে বইটই ল্যাগ দিলেও এখন আরামসে পড়া যায় এবং প্রতিনিয়ত তারা তাদের কালেশনও বড় করছে। ইবুক পড়ায় প্রচ্ছদ নিয়ে মন্তব্য করছি না। তবে ছবিতে দেখে ঠিক ভালো লাগলো না। টুকটাক বানান ভুল ও প্রিন্টিং মিস্টেক ছিলো। দুয়েক জায়গায় চরিত্রের নামও অদল বদল হয়ে গিয়েছিলো।

সর্বোপরি , দেশীয় ��টভূমিতে বেশ ভা���ো মানের সাইন্স-ফ্যান্টাসি, এডভেঞ্চার উপন্যাস ঋভু। এই জনরা ভালো লাগলে রেকমেন্ড করবো।
Profile Image for Heisenberg.
151 reviews8 followers
January 24, 2022
ভয়ানক রিডার'স ব্লকে ছিলাম...আশা করি কেটে যাবে এই বইয়ের মাধ্যমেই...বেশ ভাল লাগলো...সিক্যুয়েলের জন্যে অপেক্ষা করা উচিত হবে বলে মনে হয় না...তারপর ও করি..দেখি কি হয়...
Profile Image for Sumaiya Snigdha.
24 reviews25 followers
March 19, 2024
অসাধারণ **চমৎকার 🫶
অঅনেকদিন পর এরকম একটা বই পড়লাম, অ্যাডভেঞ্চার, টানটান উত্তেজনা, একশন সবই আছে 😁😁
Profile Image for Mohammad Kamrul Hasan.
353 reviews15 followers
January 27, 2021
📚 বই নিয়ে আলোচনা

"ঋভু - মানে দেবতা, দেবতা - মানে ক্ষমতা, আর ক্ষমতা মানেই শক্তি,
দুনিয়ার ফালতু জিনিস এই ক্ষমতা। তার অনেক দৃষ্টান্ত আমরা আগের দিনের রাজা বাদশা থেকে শুরু করে বর্তমানেও দেখে যাচ্ছি, এবং সামনে আরো দেখবো।

হাজারো মানুষ মেরে গৌতম বুদ্ধের অহিংস বাণী প্রচার করলেই কি আর সব কিছু ঠিক হয়ে যায়? হবেনা। প্রকৃতি অবিচার সহ্য করে না।

আজ থেকে আড়াই হাজার বছর পূর্বে কথা। তখন ভারতবর্ষে মৌর্য্য শাসনামলে চলছে। সেই সময়তে এক গুনী মানুষের দেখা মেলে। তাঁর সমকক্ষ কেউ ছিলেন না তখন পর্যন্ত। তাঁর মাধ্যমেই রচিত হয় অর্থশাস্ত্র, নীতিশাস্ত্র, এবং যুদ্ধশাস্ত্র। দুইটা বিষয় সকলের সামনে আনলেও, আনলেন না "যুদ্ধশাস্ত্র" টা।
কারন তিনি জানতেন, মানুষের ক্ষমতার লোভ অনেক। এবং সেই ক্ষমতা নামক অাগুনে যদি একবার ঘী পড়ে তবে কি অবস্থা হবে তা তিনি জানতেন। তাই তো তিনি রাজা চন্দ্রগুপ্ত মৌর্য্যের পুত্র বিন্দুসার মৌর্য্যের কাছ থেকে লুকিয়ে রাখলেন সেই গুপ্তবিদ্যা।

জী বলছি জ্ঞানী 'চাণক্যর' কথা। মহামতি চাণক্য, রাজা চন্দ্রগুপ্তের বন্ধু মানুষ ছিলেন। তিনি রাজা হয়েও চাণক্যর বুদ্ধিমত রাজ্য পরিচালনা করতেন।
কিন্তু চন্দ্রগুপ্তর মৃত্যুর পর পরবর্তী রাজা এবং চন্দ্রগুপ্তের পুত্র বিন্দুসার 'চাণক্যকে' আর তেমন গুরুত্ব দিতেন না। বরং কারো কারো কানপড়ায় পড়ে চাণক্যকে হত্যা করতে উদ্ধত্ত হয়ে পড়েন। সেই সাথে চাণক্যর গুপ্তজ্ঞানও হাতিয়ে নেয়ার পায়তারা করেন।

কিন্তু চাণক্যতো এত সহজে কাবু হওয়ার পাত্র নন। তিনি গুপ্তজ্ঞান গোপন করে রাখেন। এবং মৃত্যুর আগে এই গুপজ্ঞানের কথা বলে যান বিন্দুসারেরই পুত্র 'অশোকের' নিকট!!!

বিন্দুসারের অনেক পুত্র, তার কারন তিনি অল্প বয়সে পেঁকে গেছেন, মানে অনেক গুলো বিয়ে করেছেন। তারই ফলে তিনি জগৎ সংসারে ঝগড়া বিবাদ করার জন্য বিষয় জন্ম দিয়ে যান।
তবে এত এত পুত্রের মধ্যেও ব্যাতিক্রম ছিলেন 'অশোক'। মজার ব্যাপার কি জানেন? পিতা বিন্দুসার পর্যন্ত ঠিক মনে রাখতে পারতেন না কোন স্ত্রীর সন্তান এই অশোক। এমনকি নামটা পর্যন্ত জানতেন না।

কিন্তু অশোককে চিনতে বিন্দুমাত্র ভুল করেননি বিজ্ঞ চাণক্য।

ছোটবেলা থেকেই অশোক ছিলেন আগ্রহী মানুষ। এবং সাহসী। অল্পতেই তিনি যেকোনো কিছু রপ্ত করতে পারেন। তিনি বিদ্যা থেকে অস্ত্রচালনা, এবং পরে আস্তে আস্তে যুদ্ধবিদ্যা শেখেন।
তাঁর এই কর্মের সুফলও তিনি পেলেন।
কিন্তু তাকি সত্যিই সুফল ছিলো? তিনিওতো 'চাণক্যর ঋভু' তৈরী করতে চান!!!

লেখক "শরীফুল হাসান" ভাইকে জানাই অনেক ধন্যবাদ। এত সুন্দর করে ইতিহাসের ছায়ায় একটি গল্প লেখার জন্য।

যাইহোক, বর্তমানে আসি আমরা।
ড. রমেশ ভেঙ্কটেশের নেতৃত্বে তার একটি দল পাটনার একটি প্রত্নতত্ত্ব সাইটে অনুসন্ধান চালায়। সেখানে খনন কাজ করার সময় মাটির গভিরে একটি সিন্ধুক পায় ড.ভেঙ্কটেশ। ভেঙ্কটেশ সাহেব কিছুটা আঁচ করতে পেরে সিন্ধুকটাকে গায়েব করে দেন।

এই সিন্ধুকের খবর আবার একটা সংগঠন জানতে পারে। সংগঠনটির বাহ্যিক নাম হচ্ছে 'আমব্রেলা করপোরেশন'
অতি উচ্চমানের গোপন সংস্থা এটি। এমন কোনো কাজ নেই যেখানে তারা ইনভেস্ট করেন না। স্মাগলিং থেকে শুরু করে ওষুধ তৈরী পর্যন্ত সবখানে তাদের সরব উপস্থিতি।
আর এখনতো তারা হাতে সাতরাজার ধন পেয়েছে। যে করেই হোক তাদের এটা চাই চাই। তাদের এবারের মিশন অশোকের "ঋভু"

ড.ভেঙ্কটেশের সহকারী অমিত চক্রবর্তীকে হাত করে বিপুল অর্থের প্রলোভন দেখিয়ে শেষে তারা সিন্ধুকের ভেতরের সেই গুপ্তধন হাতিয়ে নিতে সক্ষম হয়।
এবার তারা এটার বাস্তব রূপ ঘটাতে চান। এবং তারা কাজ শুরু করে দিয়েছেন... এভাবে কেঁটে যায় সাতটি বছর।

এদিকে তখন বিজ্ঞানী ডঃ রামকৃষ্ণ ত্রিবেদীও গবেষণা করে যাচ্ছেন অদ্ভুত এক বিষয় নিয়ে। রামকৃষ্ণ ছিলেন চমৎকার একজন বিজ্ঞানী, তবে তিনি নিজ দেশে স্বীকৃতি বা সম্মান কিছুই পেলেন না। উল্টো ডিপার্টমেন্ট হেডের ষড়যন্ত্রের স্বীকার হয়ে প্রতিষ্ঠানচূত্য হন।
এতকিছুর পরও তিনি তার গবেষণা চালিয়ে যান। এবং একসময় সাক্ষাৎ পান 'আমব্রেলা করপোরেশন'এর এক প্রতিনিধির। সাইদ পারভেজ তার নাম। এবং সেই প্রতিনিধির অফারে চলে আসেন ভারত থেকে বাংলাদেশের এক গোপন জায়গায়।

ডঃ রামকৃষ্ণর সহকারী হিসেবে নিযুক্ত করান ঢাকার আরেক বিজ্ঞানী ডঃ লুতফর কে।
ড. লুতফরও রামকৃষ্ণের মত একই বিষয়ে গবেষনা করছেন। তবে বিষয়টার ঠিক উল্টো দিক নিয়ে।

তারা সকলেই কোনো এক "ঋভুর" সন্ধানে মেতেছে। আদৌও কি পাবে তার দেখা?

এসময় অয়ন আর সাকিব অ্যাডভেঞ্চারের আশায় ঘুরতে আসে পার্বত্য অঞ্চলে। তারা বান্দরবানের কোথায় যেন এক ঝর্ণা আছে, সেখানে যাবে। আর এসেই সাকিবের অ্যাডভেঞ্চারের স্বাদ পরিপূর্ণ ভাবে মিটে যায়। সাকিব কিছুটা ভিতু প্রকৃিতির।
কারন তারা ছিনতাইকারী বদৌলতে মোটামুটি সর্বস্ব হারিয়ে বনে বনে ঘুরতে থাকে। আর ঘুরতে ঘুরতেই তারা একসময় অদ্ভুত একজিনিস আবিষ্কার করে। তাদের সামনে পড়ে আছে একটা মানুষের মৃতদেহ! মৃতদেহের পাশেই পড়ে আছে কালো একটা ব্যাগ।

সাকিব, অয়ন লাশটাকে কোনরকম মাটিচাপা দিয়ে ব্যাগটা নিয়ে চলে আসে। একপাশে এসে তারা ব্যাগ খুলে। এবং দেখতে পায় ব্যাগটা টাকায় ভর্তি, এবং সাথে অদ্ভুত দর্শন তিনটা গোল গোল ডিভাইস।
কিছুক্ষন পরেই তারা একদল সশস্ত্র লোকের সামনে পড়ে যায়। কোনরকমে দৌড়ে তারা একটা ঝর্ণার ধারে চলে আসে, এবং ঝর্ণার আড়ালেই তারা আশ্রয় নিয়ে এখনকার মত তাদের জীবন বাঁচালো।

কাঁধে টাকার ব্যাগ নিয়ে ক্ষুদার্ত হয়ে হাঁটতে হাঁটতে একসময় তারা জ্ঞান হারায়। এবং তাদের সেখানে উদ্ধার করেন সত্যিকারের অ্যাডভেঞ্চারার 'শাহরিয়ার সুলতান'।
চমৎকার মানুষ তিনি। এবং খুব সাহসী। গত ছয়মাস তিনি একা এই জঙ্গলে বাস করছেন!!! কিন্তু কেন?
মাজরাতে হঠাৎ হঠাৎ অয়ন সাকিব জঙ্গলে এক বিভৎস চিৎকার শুনতে পায়। মনেহয় কোনো কিছু অমানুষিক ভাবে চিৎকার করছে। সাকিব অয়নের পিলে চমকে উঠে। কিন্তু শাহরিয়ার সুলতান নির্ভিকার। কেন? তিনি কি সত্যিই শুনতে পারছেন না শব্দটা, নাকি তিনি অন্য কিছু জানেন। আচ্ছা তিনি গত ছয়মাস এই জঙ্গলে কি করছেন? জানতে চান? তাহলে 'ঋভু' পড়তে হবে।
শুরু হলো তিনজনের আসল অ্যাডভেঞ্চার।

এদিকে ভারত থেকে পাঠানো হলো বিশেষ এক ��াজে অর্জুনকে। কিন্তু বেচারা ঢাকায় পা দিতে না দিতেই পড়ে বিপদে। তবে অর্জুন ব্যাটা একটু ঘাড় ত্যাড়া টাইপের। কোনো কাজে হাত দিলে সেটা সে করবেই।
কিন্তু তাঁর ঢাকায় আসার খবর জানে কেবল দুজনে। তার মধ্যে একজন হচ্ছে তাঁর হেড 'করমজিৎ সিং'
তাহলে এইখবর লিক করলো কে? আর ঢাকায় অর্জুনের কিসের এত বিশেষ কাজ?
...

অদ্ভুত, চমৎকার, অসাধারণ এক উপন্যাস শেষ করলাম। বইটা আমি পড়ি ২০১৬ সালে। বইটা প্রকাশের এক বছর পর। আজ আবার পড়লাম, শুধুমাত্র এই বইটার ভিতরের রহস্যর জন্য।

তখন থ্রিলার জগতে নতুন থাকায় এই বইটা তেমন ভাবে নিতে পারিনি। মানে অনেক টুস্ট, অনেক চরিত্র, পাশাপাশি দুইটা সময় চলা, এসব একত্রে নিতে পারিনি। তবে এবার পড়ার পর কেমন লাগলো তা আমার উপরের আলোচনা দেখেই বুঝতে পারছেন আশাকরি।

হ্যা, একদম ঠিক। আমি সত্যিই মুগ্ধ কোনো বাঙালির এরকম মৌলিক থ্রিলার পড়ে। এটাকে শুধু থ্রিলার বললে ভুল হবে। কেননা এটাতে আছে ফিকশন হিস্ট্রি, থ্রিলার, অ্যাডভেঞ্চার, ফ্যান্টাসি এবং সাইন্স ফিকশন।

বাতিঘর প্রকাশনী থেকে প্রকাশিত এই সুন্দর বইটি। মূল্য ২২০ টাকা। তবে পয়সা উসুল বই।

শরীফুল হাসানের কাজ দেখে আমি মুগ্ধ। অতি সুক্ষ বিষয়ও তিনি খুব সুন্দর করে ফুটিয়ে তুলতে সক্ষম হয়েছেন। একটা উদাহরণ দেই, তাহলেই বুঝবেন।

অর্জুনকে খুন করতে ঢাকা কিলারকে পাঠানো হয়েছে। অর্জুন সবে তার হোটেল থেকে বের হয়েছ, এমন সময় প্রকাশ্য দিবালোকে ঢাকা কিলার তাকে লক্ষ্য করে গুলি ছুঁড়ে। গুলি লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। অর্জুন আশ্রয়ের জন্য আবার হোটেলে ঢুকে যাওয়ার কথা। কিন্তু সে তা না করে পাশের ব্যাস্ত রাস্তায় নেমে পড়ে। কারন এত রিক্সার ভিরে সে দৌড়াতে পারলেও ঢাকা কিলার তার মোটরসাইকেল নিয়ে ছুটতে পারবে না বা গুলি করতে পারবে না।

তখন গোলাগুলির শব্দ শুনে পুলিশ সেখানে চলে আসে। অর্জুন লুকিয়ে ছিলো এক চা দোকানের পেছনে। কিলারও খুঁজতে খুঁজতে চলে যায় সেখানে। একসময় পুলিশও যায়। আর তখনি অর্জুন ভালো মানুষের মত বের হয়ে সেই কিলারের সামনে দিয়ে একটা চোখ টিপ মেরে চলে যায়।
কিলার কিছুই বলতে পারবে না, তার ধরতে গেলেই সে ফেঁসে যাবে।
কতটুকু চিন্তা করলে এভাবে লেখা যায়।

আবার, অশোক যখন তিন ঘোড়সোয়ার সৈন্যর হাত থেকে বাঁচতে জঙ্গলে চলে যায়। সেখানে তিনি গাছের আড়ালে থেকে ঐ কাঠুরিয়া ছেলের চোখের দিকে তাকিয়ে শত্রুর গতিবিধি বুঝেনেন। এবং তিন জনকেই খুন করেন। এই চিত্রটা আমার অসাধারণ লেগেছে।

এজন্যই বলেছি শরীফুল হাসান চমৎকার লেখেছেন।
যারা থ্রিলার প্রেমি তাদের জন্যেতো এটা এক কথায় মাষ্টরিড বই।
আর অন্যরাও পড়ে হতাশ হবেন না, গ্যারন্টি।

© মোঃ কামরুল হাসান
সময়ঃ ১৯/০৭/২০১৯ রাত ১.৫৫
📚 বই হোক আপনার, আপনি বইয়ের 📚
Profile Image for ফরহাদ নিলয়.
191 reviews61 followers
December 21, 2015
প্রায় সাড়ে তেইশ শো বছর আগে সম্রাট চন্দ্রগুপ্ত মৌর্য সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেন। এই কাজে তাকে সহায়তা করেন তার বন্ধু চাণক্য পন্ডিত। চাণক্য পন্ডিত শুধু সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠায় সহায়তা করেই ক্রান্ত হন নি, সেটি সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য অর্থশাস্ত্র, আইনশাস্ত্রের মত গুরুত্বপূর্ণ বিদ্যা লিখে গেছেন। তিনি যুদ্ধবিদ্যার উপরেও কিছু কাজ করেছিলেন। তবে এর ভয়াবহতা বুঝতে পেরে কোথাও তা প্রকাশ করেন নি।

ঘটনাক্রমে যুদ্ধবিদ্যা নিয়ে তার লেখাগুলো অশোকের হাতে এসে পড়ে। অশোক, সম্রাট মহামতি অশোক। সেই প্রাচীন গোপন বিদ্যা কাজে লাগিয়ে কলিঙ্গের যুদ্ধে তিনি রক্তবন্যা বইয়ে দেন। এই যুদ্ধের পরেই তিনি তার ভুল বুঝতে পেরে সহিংসতার পথ পরিহার করে বৌদ্ধধর্মে দিক্ষীত হন। আর সেই প্রাচীন গুপ্তবিদ্যাকে চিরতরে মাটি চাপা দেন।

কেটে যায় তেইশ শো বছর। একদল প্রত্নতত্ত্ববিদ মাটি খুঁড়তে গিয়ে আবিষ্কার করেন সেই গোপন পান্ডুলিপি। হাত ঘুরে সেটা চলে আসে বিশ্বব্যাপী জালের মত ছড়িয়ে থাকা গোপন সংঘটন 'আম্রেলা কর্পোরেশন' এর কাছে। সেই প্রাচীন বিদ্যাকে কাজে লাগিয়ে দানব তৈরিতে মনোনিবেশ করে আম্রেলা কর্পোরেশন। গোপনে বাংলাদেশের পার্বত্য অঞ্চলে গড়ে উঠে সর্বাধুনিক ল্যাবরেটরি।

সব আয়োজন গোপনে চললেও যারা জানার তারা কিন্তু ঠিকই সব জানে। ইন্ডিয়া থেকে ঘটনা তলিয়ে দেখার জন্য পাঠানো হয় প্রত্নতত্ত্ব এজেন্ট অর্জুনকে। কিন্তু ঢাকায় নামার পর থেকে অর্জুনের উপর একের পর এক আক্রমণ চলতে থাকে। তবে কি ভেতরের কেউ তার খবর ফাঁস করে দিয়েছে? ঠিক তখনই তার জীবন বাঁচাতে দেবদূতের মত হাজির হয় রহস্যময় চরিত্র ইয়াকুব আলী। কিন্তু ইয়াকুব আলীর তাকে স্বপ্রণোদিত হয়ে সাহায্য করার কারণ কি? তারও কি কোন স্বার্থ জড়িত আছে?

শাজরিয়ার সুলতান, একজন বিশ্বখ্যাত অ্যাডভেঞ্চেরার। তার দুই বন্ধু বাংলাদেশে বেড়াতে এসে পার্বত্য অঞ্চলে নিখোঁজ হয়। অনেক খুঁজে ও তাদের কোন হদিশ পাওয়া যায় নি। পুলিশ হাল ছেড়ে দিলেও শাজরিয়ার সুলতান হাল ছাড়তে নারাজ। অবশেষে সে নিজেই বেরিয়ে পড়ে বন্ধুদের খুঁজে বের করতে। ভাগ্যক্রমে তার সাথে জড়িয়ে যায় অয়ন ও সাকিব নামে দুই ভার্সিটি পড়ুয়া ছাত্র, যারা কিনা পাহাড়ি ঝর্ণা দেখতে বেরিয়েছিল। তারা কি খুঁজে পাবে শাজরিয়ার সুলতানের হারিয়ে যাওয়া দুই বন্ধু পল আর অরবিন্দকে? জানতে পারবে কি ঘটেছিল তাদের ভাগ্যে?

এইরকম অসংখ্য প্রশ্ন নিয়ে আবর্তিত হয়েছে ফ্যান্টাসি থ্রিলার ঋভুর কাহিনী। প্রায় আড়াইশো পৃষ্ঠার বিশাল উপন্যাস, পড়তে একটুও বিরক্তি আসে না। প্রতিটি পাতাই টান টান উত্তেজনায় ভরপুর। ইতিহাস, বিজ্ঞান, ফ্যান্টাসি আর অ্যাডভেঞ্চারের এক দুর্দান্ত উপাখ্যান হল ঋভু।
Profile Image for Ayon Bit.
147 reviews13 followers
June 23, 2015
থ্রিলার হিসেবে সার্থক কিন্তু ঐতিহাসিক থ্রিলার(Historical thriller ) যদি বলতে হয় তবে একটু কমতি থেকে যায় ।
কাহীনি সুপারস্নিক স্পিড এ এগিয়ে গেছে কিন্তু যতটা ঐতিহাসিক বা মিথ থাকবে বলে মনে করেছিলাম ততটা ছিল না । সাম্ভালা সিরিজটাই বেশি আকর্ষনীয় । সম্রাট অশোক এর ব্যাপারে এবং ঐ গুপ্ত থীওরি সর্ম্পকে আরো বেশি লেখা আশা করেছিলাম । তবে সব মিলিয়ে অসধারন।
ঐতিহাসিক থ্রিলার সাহিত্যের জয় হোক । শুভ কামনা
Profile Image for Taniya Islam.
5 reviews33 followers
December 16, 2020
এক কথায় অসাধারন !!! শরীফুল হক ভাইয়ার লেখার ভক্ত হয়েছিলাম সাম্ভালা পড়েই..
ঋভুও একটানা পড়ে যাবার মত একটা বই .. প্রতিটা অধ্যায় একদম যথাযথ মনে হয়েছে..একটুও বেশি না আবার কমও না ..
লেখকের লেখনী সত্যি প্রশংসনীয়.. প্রতিটা বর্ননা এমন ভাবে করেন যেন পাঠক নিজেকে সেই সময়ে উপলব্ধি করতে পারে..
গল্পের ভিতরের কাহিনী জানতে চাইলে বইটা পড়া শুরু করে দিন..নিরাশ হবেন না নিশ্চিত..
আচ্ছা ঋভুর কি কোন সিকোয়েল আসবে???কেন জানি মনে হচ্ছে কাহিনীর শেষ এখানেই নয়..চমক আরো বাকি আছে।
Profile Image for Md. Delowar.
31 reviews4 followers
April 4, 2015
ভালো লেখা। সমাপ্তি নিয়ে চিন্তিত ছিলাম কিন্তু বেশ ভালো হয়েছে। নামগুলো আর একটু আধুনিক হলে ভ��লো হোত।
169 reviews62 followers
June 2, 2018
এন্ডিং নিয়ে অতৃপ্তি থেকে গেল। রুদ্রের পরিণতি কি হবে। সিক্যুয়েল আসবে কি?
Profile Image for Md Abdul Kayem.
184 reviews3 followers
June 24, 2025
কিছু কিছু জ্ঞান আর ক্ষমতা ভুল মানুষের হাতে পড়লে, মানব জীবনও হুমকির মুখে পড়ে যায়। একটা কথা আছে না একজন অসৎ মেধাবী মানুষ একটা দেশের কিংবা মানবজাতির যতটুকু ক্ষতি করে দেয়, দশজন অসৎ মেধাবী নয় এমন মানুষ তার অর্ধেকও করতে পারে না।

মৌর্য সাম্রাজ্যের মহারাজ চন্দ্রগুপ্ত তখন মারা গেছেন, মহারাজের মারা যাওয়ার সাথে সাথে নিজের প্রভাবপ্রতিপত্তি যা ছিলো তাও ক্রমান্বয়ে হ্রাস পেয়েছে পন্ডিত চাণক্যের। তাকে নিয়ে বর্তমান রাজা বিন্দুসারের কানভারী করে তুলছে বর্তমান মন্ত্রী সভাসদের অনেকেই। অথচ এই রাজাই নীতিশাস্ত্র, অর্থশাস্ত্র এমনকি অস্ত্রচালনা বিষয়ে জ্ঞান নিয়েছে তার কাছ থেকেই। রাজা বিন্দুসার ইদানীং হন্য হয়ে উঠেছেন চার্ণক্যের কিছু গোপন গবেষণার কাগজের জন্য। চার্ণক্য রাজদরবারের কোণায় দাড়ানো এক কিশোর অশোকের দিকে তাকিয়ে ভাবেন এসব গবেষণা ভুল মানুষের হাতে পড়লে হুমকিতে পড়ে যাবে মানবসভ্যতা, এ জ্ঞান লুকিয়ে রাখতে হবে সভ্যতা থেকে কিংবা তুলে দিতে হবে সঠিক হাতে।

সেই হারিয়ে যাওয়া জ্ঞান কী হয়েছে তা আমরা না জানলেও এটা অন্তত জানি, মৌর্য সাম্রাজ্যের সম্রাট হয়েছিলেন আশোক, অথচ সিংহাসনের উত্তরাধিকার ছিলো না সে! সে গল্পের রহস্য উদঘাটন করতে হলে আপনাকে ঋভু হাতে তুলে নিতে হবে।

মৌর্য সাম্রাজ্যের দিনগুলো এখন অতীতে পতিত হয়েছে, মানব সভ্যতা এখন আধুনিকায়নে এগিয়ে গিয়েছে বহুদূর। সেই সময়ে এসেই দুই বিজ্ঞানী মাটির গভীরে এক ল্যাবে ড. রামকৃষ্ণ আর ড. লুতফর হাত দিয়েছেন দিয়েছেন এমন এক আবিষ্কারে, যে আবিষ্কার বদলে দিতে পারে পৃথিবীর ক্ষমতার ভারসাম্য। ভুল হাতে পড়লে হুমকিতেও ফেলে দিতে পারে মানবসভ্যতাকে। অতীত ফুঁড়ে উঠবে এক রক্তের খেলায় উন্মাদ হয়ে উঠা দানব।

এসবের সাথে কোনো সম্পর্ক নেই দুই কিশোর অয়ন আর সাকিবের। কিন্তু বান্দরবনের গহীনে ঝর্ণার সৌন্দর্য উপভোগ করতে এসে প্রাণ হাতে নিয়ে পালাতে গিয়ে তারা আটকে পড়লো বিখ্যাত ভ্রমণপিয়াসী শাহরিয়ার সুলতানের। লোকটা এই গহীন অরণ্যে ঘুরছে কিছু একটার খোঁজে।

এদিকে এক বিশেষ মিশন নিয়ে ঢাকায় পা দিতেই একের পর এক আক্রমণের শিকার হতে চললো অর্জুন। কেউ একজন বিশ্বাসঘাতকতা করেছে তার সাথে। ফাঁস হয়ে গেছে তার অবস্থান।

গহীন অরণ্যে গল্প জমে উঠেছে, যে গল্পের শিকড় পুঁতে আছে ২৩শ বছর আগের পাটালিপুত্রের এক পুকুরের ভিতর। সব ছেঁড়া সুতো এক হবে শান্ত স্নিগ্ধ সুন্দর অরণ্যে, যার ভয়ালদর্শনও হবে সবার।

লেখক শরীফুল হাসানের অনেকগুলো বই পড়া হয়েছে, তারপর এই ঋভু পড়ে মনে হয়েছে এটা লেখকের মোটামুটি মানের একটা বই। না, গল্প বর্ণনায় কোনো অসুবিধা নেই। কিন্তু তারপরও আমার মনে হয়েছে গল্পটা ঠিক পুরোপুরি ভাবে সবকিছু মানে গল্পটাকে বিকশিত করতে পারেনি।

তবে গল্পটির অনেক অংশ আমার বেশ ভালো লেগেছে। এই যেমন গল্পের মৌর্য সাম্রাজ্যের চাণক্য আর অশোককে নিয়ে লেখাগুলো বেশ পছন্দ হয়েছে। পছন্দ হয়েছে অয়ন সাকিব আর শাহরিয়ার সুলতানের দৃশ্যগুলো। কিন্তু ভারতের বুকে যে ষড়যন্ত্রের যে জালের গল্প বইয়ে উঠে এসেছে তার সুরটা ঠিক ভালো লাগনি। বিশেষ করে সাঈদ পারভেজকে মনে হয়েছে গল্প যতই এগিয়েছে ততই চরিত্রটার যে ব্যাকগ্রাউন্ড তাতে তার অবস্থানের দৃঢ়তা হ্রাস পেয়েছে।

গল্পের শেষ আঁচড়টা অবশ্য খুব বেশি নাটকীয় না হলেও ভালো লেগেছে। আর ভালো লেগেছে গল্পের থিমটা, প্রথমদিকে গল্পকে যেভাবে বিস্তৃত করেছিলেন লেখক তাতে মনে হয়েছিলো এত এত ছেঁড়া সুতো মিল হবে কি ভাবে। পড়ে অবশ্য লেখক তা বেশ চমৎকার ভাবেই ইতি টেনেছেন। সবমিলিয়ে একবার পড়ে ফেলার মতো বই ঋভু। তাছাড়া বইটার প্রোডাকশন কোয়ালিটিও চমৎকার হয়েছে। তবে একটা জায়গায় গর্তে কালো ব্যাগ ফেলে দেওয়ার পর পরে তা আবার অয়ন সাকিবের সঙ্গে থাকার ব্যাপারটা মনে হয়েছে একটা হোল রয়ে গেছে। সবমিলিয়ে বইটা ভালোই বলা যায়। তবে খুব বেশি ভালো বলতে পারছি না।

বই: ঋভু
লেখক: শরীফুল হাসান
প্রকাশক: চিরকুট প্রকাশনী
প্রচ্ছদ: পরাগ ওয়াহিদ
মূল্য: ৪৪০৳
পৃষ্ঠা: ২৫৬
Profile Image for Mesratul Jannat.
33 reviews
December 22, 2024
#বই_রিভিউ
#ঋভু
লেখক- শরীফুল হাসান
প্রকাশনী- বাতিঘর
পৃষ্ঠা- ২৪০
মুদ্রিত মূল্য- ২৪০
জনরা- থ্রিলার
রিভিউয়ার: জান্নাত

#ফ্ল্যাপ:
ঢাকায় পা রাখা মাত্রই অর্জুনের উপর আক্রমণ, কেন? অর্জুন ঢাকায় এসেছেই বা কী উদ্দেশ্যে! বান্দরবানের সীমান্তে সাকিব আর অয়নের সাথে দেখা হলো এক অদ্ভুত মানুষের, নাম শাহরিয়ার সুলতান, বিশ্বখ্যাত অ্যাডভেঞ্চারার। দিনের পর দিন ক্যাম্প করে কিছু একটা খুঁজে চলেছে মানুষটা, কী সেটা? দু’জন বিশ্বখ্যাত বিজ্ঞানী পাহাড়ের তলার ল্যাবে গবেষণা করছেন কিছু একটা নিয়ে, যার পেছনে আছে গোপন এক সংগঠন, পুরো পৃথিবীকে নিয়ন্ত্রণ করতে চায় তারা। তেইশ’শ বছর আগে সম্রাট অশোক শুরু করেছিলেন অতিমানবীয় এক গবেষনা, তার ফল কি পাবে আজকের পৃথিবী?

#কাহিনী_সংক্ষেপ:

প্রাচীন ভারতের বিদ্যান ব্যক্তিদের মধ্যে অন্যতম হলেন চাণক্য। ওনার হাত ধরেই চন্দ্রগুপ্ত মৌর্য সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠা করেন। জগৎখ্যাত অর্থশাস্ত্র রচিত হয়েছে তার হাতে। শরিফুল হাসানের ঋভু বইটার চাণক্য শুধুমাত্র অর্থশাস্ত্র লিখেন নি। তিনি যুদ্ধশাস্ত্র ও রচনা করেছেন। এই যুদ্ধশাস্ত্রের উপর ভিত্তি করেই শরীফুল হাসানের লেখা এই বই "ঋভু"।
ঋভু বইটা মূলত অতীত এবং বর্তমান সময় নিয়ে সামনে এগিয়েছে। অতীতে চাণক্য যুদ্ধ শাস্ত্র রচনা করে সেটা অতি গোপন জায়গায় সুরক্ষিত করে রেখেছিলেন। তিনি বোধহয় বুঝতে পেরেছিলেন ভবিষ্যৎ মানবজাতি তাদের আশীর্বাদের দেবতা তৈরি করতে গিয়ে, বিধ্বংসী দানব তৈরি করে ফেলবে। তবে তিনি এই যুদ্ধশাস্ত্রের হদিস দিয়ে যান বিন্দুসার পুত্র সম্রাট অশোক কে। অশোক সেই যুদ্ধশাস্ত্র পড়ে তৈরি করে নতুন এক জীবের। সেই জীব টি দেবতা নাকি দানব তার প্রকাশ পায় কলিঙ্গ যুদ্ধে। তিনি তার ভয়ঙ্কর আবিষ্কার দেখে শিউরে উঠেন এবং লুকিয়ে যান এই শাস্ত্রের কথা।
বর্তমানে এই শাস্ত্র হস্তগত হয় এক আন্তর্জাতিক সংস্থা আম্রেলা কর্পোরেশন এর কাছে। তারা নেমে পরে এই শাস্ত্র পরীক্ষার কাজে।

#পাঠ_প্রতিক্রিয়া:

সাম্ভালার সাথে এই বইয়ের লেখন শৈলী মিলাতে গেলে পাঠক হতাশ হয়ে আকাশ থেকে দুম করে মাটিতে আছড়ে পড়বেন। গোটা উপন্যাসে অনেক অনেক প্লট হোল আছে, চারিত্রিক দুর্বলতা সহ অবাস্তব কিছু ঘটনা ও আছে। জাত শ্যুটার নাকি ফাঁকা রাস্তায় টার্গেট পেয়েও মিস করে যায়🙂 যেখানে টার্গেট তাকে চিনেও না। তারপর বিশ্ব কন্ট্রোল করা সংস্থার এজেন্ট যে কিনা পাহাড় কেটে তার ভেতর অত্যাধুনিক ল্যাব তৈরি করেছে, সেখানে পরীক্ষা চালাচ্ছে একটা দুঃসাহসিক শাস্ত্রের সেখানে যাবার পথ ও চিনে না, তাকে আনার জন্য লোক পাঠাতে হয়। শেষটাও ভালো লাগে নি। যার জন্য গোটা একটা বই লেখা হলো সেই দানব ই রয়ে গেলো।
২৩০০ বছর আগের কাহিনী টুকু শুধু ভালো লেগেছে। বাকি অংশটুকুতে লেখক কি ভেবেছে, কি লিখেছে আর আমিই বা কি বুঝলাম তাতে বিরাট কনফিউজড্।

#রেটিং: ৩/৫ ⭐⭐⭐
Profile Image for Tanzil Saad.
95 reviews1 follower
May 23, 2020
বই : ঋভু
লেখক : শরীফুল হাসান
পৃষ্ঠা : ২৪০
প্রচ্ছদ : ডিলান
প্রকাশকাল : ফেব. ২০১৫
প্রকাশক : বাতিঘর প্রকাশনী
মুদ্রিত মূল্য : ২২০টাকা

গুডরিডস রেটিং : ৩.‌৭৯/৫


সারসংক্ষেপ :
২৩০০ বছর পূর্বে মহামতি চাণক্য লিখে গেছেন অভূতপূর্ব এক শাস্ত্র। যা দিয়ে চিরতরে বদলে যেতে পারে যেকোন যুদ্ধের পরিস্থিতি। মৌর্য্য সম্রাট চন্দ্রগুপ্ত কিংবা বিন্দুসার, কারো হাতেই আসেনি এই শাস্ত্র। এসেছিল সম্রাট অশোকের হাতে। শুরু হয়েছিল ভয়াবহ এক ঘটনার। যার ফলে সম্রাট অশোক বাধ্য হন এই শাস্ত্র লুকিয়ে ফেলতে।

কিন্তু ২৩০০ বছর পর আবার মাথা চাড়া দিয়ে উঠেছে প্রাচীন এই গুপ্তবিদ্যা। শুরু হয়েছে একের পর এক ষড়যন্ত্র।

ভারতীয় অর্জুন কী কারণে বাংলাদেশে এসেছে? ঢাকায় পৌছুতে না পৌছুতেই কারা তাকে নিঃশেষ করতে চায়? আর অর্জুন-ই বা কোন উদ্দেশ্য নিয়ে এসেছে বাংলাদেশে।

অয়ন আর সাকিবের স্বাভাবিক এক এ্যাডভেঞ্চার মুহুর্তে পরিণত হলো জীবন-মরণ খেলায়। বিশ্বখ্যাত এ্যাডভেঞ্চারার শাহরিয়ার সুলতানের হাতে বন্দী হতে হলো তাদের। মুক্তি মিলবে শাহরিয়ার সুলতানকে সাহায্য করলেই। কিন্তু উনি দুর্গম পার্বত্য এলাকায় কী করছেন গত ছ'মাস ধরে?

বাংলাদেশ-বার্মা সীমান্তবর্তী এলাকায় মাটির নিচে অত্যাধুনিক এক ল্যাবে নিরলস পরিশ্রম করে চলেছেন দুজন বিজ্ঞানী। তাদের পেছনে রয়েছে শক্তিশালী আন্তর্জাতিক এক গোষ্ঠি। শীঘ্রই বদলে যেতে চলেছে পৃথিবীর ইতিহাস।
______

প্লটের অভিনবত্ব সত্যিই ভালো ছিল। সেই সাথে চিরচেনা শরীফুল হাসান ভাইয়ের বর্ণনাভঙ্গি। প্রথমে বিচ্ছিন্ন কিছু গুচ্ছ ঘটনা। আপাত দৃষ্টিতে কারো সাথে কারো মিল নেই। তবে বইয়ের পাতা যত এগিয়েছে ততই একটার সাথে একটার মিল বোঝা যাচ্ছিল। আর সবচেয়ে ভালো লাগার জিনিসটা ছিল একটার উপর আরেকটা ষড়যন্ত্র! বেশ কয়েকটা টাইমলাইনে বইটা এগুলেও মূল টাইমলাইন ছিল দুটো। বর্তমান আর ২৩০০ বছর পূর্বে সম্রাট অশোকের কাহিনী। খুব সাবলীলভাবেই লেখক তা লিখে গেছেন। বিশেষ করে প্রাচীন ইতিহাসটুকু। কোথাও ঝুলে পড়েনি।

ইনিশিয়ালি বইটা ভালো লাগলেও কিছু জায়গায় সমস্যা ছিল আমার মতে। যেমন, বর্ণনাভঙ্গি লেখকের অন্য বই থেকে একটু খাপছাড়া লাগছিল। মূল জিনিসটার ব্যাপারে আরো বিস্তারিত লেখলে ভালো হত। প্লটটা অতটা শক্তিশালী মনে হয়নি যতটা হওয়া উচিত ছিল। অশোকের পার্টটুকু এভাবে শেষ হবে ভাবতে পারিনি। তাড়াহুড়ো মনে হয়েছে।

এতবড় একটা আন্তর্জাতিক সংগঠন, তারা এতো সহজে প্রোটাগনিস্টদের ছেড়ে দেবে বলে বিশ্বাস হয় না। যদিও বইয়ের শেষে সিকুয়্যালের আভাস আছে।

এছাড়া সূর্য্য কয়েক জায়গায় নাম বদলে ফেলেছিল। বানানও ভুল ছিল কিছু। এগুলা কোন ব্যাপার না।

Happy reading  📘
Profile Image for Sumaiya.
37 reviews3 followers
July 7, 2022
ঋভু
শরীফুল হাসান
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ২৩৯

" যেখানে রোদেরা ঘুমায় " " অন্ধ জাদুকর "
" জনারন্যে একা কয়েকজন " এই বইগুলো আমার সংগ্রহে,প্রথম পড়েছি যেখানে রোদেরা ঘুমায়। এত ভালো লেগেছিলো তা বলার বাইরে। চমৎকার লেখক শরীফুল হাসান। উনি একজন অলরাউন্ডার। আমি মুগ্ধ উনার লেখা পড়ে।
সামাজিক, ক্রাইম থ্রিলার, এডভেঞ্চার, ফ্যান্টাসি যেকোনো উপন্যাসে উনার লেখনি অসাধারণ। বইয়ের দোকানে ঘুরতে ঘুরতে এই বই হাতে নিয়ে শুধুমাত্র এই লেখা গুলো পড়েই বই কিনে আনি-
"ঢাকায় পা রাখা মাত্রই অর্জুনের উপর আক্রমণ ,কেন? অর্জুন ঢাকায় এসেছেই বা কী উদ্দেশ্যে! বান্দরবানের সীমান্তে সাকিব আর অয়নের সাথে দেখা হলো এক অদ্ভুত মানুষের ,নাম শাহরিয়ার সুলতান ,বিশ্বখ্যাত অ্যাডভেঞ্চারার। দিনের পর দিন ক্যাম্প করে কিছু একটা খুঁজে চলেছে মানুষটা, কী সেটা? দুজন বিখ্যাত বিজ্ঞানী পাহাড়ের তলার ল্যাবে গবেষণা করছেন কিছু একটা নিয়ে, যার পেছনে আছে গোপন একটা সংগঠন ,পুরো পৃথিবীকে নিয়ন্ত্রণ করতে চায় তারা। তেইশ'শ বছর আগের সম্রাট অশোক শুরু করেছিলেন অতিমানবীয় এক গবেষণা ,তার ফল কি পাবে আজকের পৃথিবী? "

ঋভু - এটি শুধু থ্রিলার না, ফ্যান্টাসী, ঐতিহাসিক ও আডভেঞ্চার এর মিশ্রন। এই বইয়ে পাঠক একই সাথে ক্রাইম, সায়েন্স, একশন, এডভেঞ্চার, ফ্যান্টাসি, এসপিওনাজ, মিথ ও ইতিহাসের মিশ্রণ পাবে।
এই উপন্যাসে তিনটা আলাদা আলাদা গল্প সামনে এগিয়ে গিয়েছে সমান্তরালভাবে । বাংলাদেশ বার্মা সীমান্তের কাছে একটা গোপন ল্যাব । পাহাড়ের তলে সেই ল্যাব এ চলছে এমন একটা পরীক্ষা যা সফল হলে বদলে যাবে পুরো পৃথিবীর নকশা । এই পরীক্ষার পেছনে আছে একটা ভয়ঙ্কর সংগঠন । এর মাঝেই আবার একজন ভারতীয় তরূণ পা রেখেছে বাংলাদেশে । তার ও আছে একটা মিশন । কিন্তু ঢাকায় নামার পর থেকেই তার পেছনে লোক লেগে যায় । শুরু হয় পালানো । গল্পের আরেক টাইমলাইনে দেখা যায় সম্রাট আশোকের ছোট থেকে বড় হয়ে রাজ্য জয়ের কাহিনী । এই বইতে অনেকগুলো চরিত্র ছিল। দুইটা ভিন্ন টাইমলাইন সাথে অনেকগুলো গল্পের একসাথে এগিয়ে যাওয়ায় অনেকগুলো চরিত্রের আবির্ভাব ঘটেছে। চরিত্রগুলো লেখক ঠিকঠাক ভাবে সাজিয়েছে সেই সাথে সবগুলো চরিত্রই ফুটে উঠেছে।

দুই বসা তেই বইটি পড়ে শেষ করেছি। ঝরঝরে একটি বই, বইটি পড়ার সময় অনেক উপভোগ করেছি।

Displaying 1 - 30 of 58 reviews

Can't find what you're looking for?

Get help and learn more about the design.