Jump to ratings and reviews
Rate this book

raafkhata

Rate this book
রাসয়াত রহমান হচ্ছে ভাল নাম, ডাক নাম জিকো। জন্মস্থানর ঢাকা শহরে বেইলিরোডে। প্রথম স্কুল-বেইলি প্রিপারেটরী স্কুল । ক্লাস ওয়ান থেকে টেন পর্যন্ত গভর্নমেন্ট ল্যাবরেটরি হাই স্কুল । কলেজ ছিল ঢাকা কলেজ। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় পদার্থ বিজ্ঞান থেকে মাস্টার্স করে একই বিশ্ববিদ্যালয়ে ফিনান্স থেকে এমবিএ (ইভিনিং) করেছেন। ব্যাংক কর্মকর্তা হিসেবে চাকরী শুরু করেছেন ২০১২ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি। মা-বাবা দুজনেই গত হয়েছেন। স্ত্রী মাকসুদা আজীজ ও একমাত্র সন্তান অর্হ অপরাজিতা রাসয়াতকে নিয়েই তার পরিবার । মানুষ হিসেবে তিনি কখনো খুব গম্ভীর কখনো খুবই মজার

102 pages, Hardcover

First published February 1, 2015

Loading...
Loading...

About the author

Rashat Rahman

12 books24 followers

Ratings & Reviews

What do you think?
Rate this book

Friends & Following

Create a free account to discover what your friends think of this book!

Community Reviews

5 stars
17 (23%)
4 stars
22 (30%)
3 stars
18 (25%)
2 stars
11 (15%)
1 star
4 (5%)
Displaying 1 - 13 of 13 reviews
Profile Image for ফরহাদ নিলয়.
191 reviews61 followers
December 2, 2015
প্রথমে বইটির পজেটিভ দিকগুলোর কথা বলি। বইয়ে লেখক একটি বার্তা দিতে চেয়েছেন। বলতে চেয়েছেন- জীবনে যাই ঘটুক না কেন, কখনোই হার মানা যাবেনা। যদি একটা রাস্তা বন্ধ হয় তো অন্য একটা রাস্তা খুলে যাবে। শুধু ধৈর্য ধরে সাহসের সাথে লড়াই করে যেতে হবে।

বইয়ের প্রচ্ছদ ভাল হয়েছে। ছিমছামের ভেতর চমৎকার। মনে রাখার মত কিছু পাঞ্চ লাইন ছিল। বানান ভুলের হারও কম ছিল। বাঁধাইও যথেষ্ট ভাল। পজেটিভ দিক খুঁজতে গিয়ে এরবেশি আর কিছু পাইনি।

এবার একে একে বইটির নেগেটিভ দিকগুলোর কথা বলি। প্রথমত, বইয়ে লেখক যে বার্তা দিতে চেয়েছেন, সে বার্তা বহন করার মত চরিত্র সৃষ্টি করতে পারেন নি। তমাল নামের যে চরিত্রটি লেখক সৃষ্টি করেছেন, বুয়েটে চান্স না হওয়ার কারণে আর এক মেয়েকে প্রেমের প্রস্তাব দিয়ে প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণে যে নিজেকে ভাঙ্গা কুলা বলে দাবি করে, সে কখনোই একটা পুরো সমাজের প্রতিনিধিত্ব করতে পারে না। যে ছেলে মেয়ে পটানোর জন্য ফিজিক্স বাদ দিয়ে বায়োলজির কোচিং করতে যায়, বুয়েটে চান্স না হওয়া নিশ্চয় তার জন্য অস্বাভাবিক কোন ধাক্কা নয়।

দ্বিতীয়ত, বইয়ের শুরুতে দেখা যায় নায়ক তমালের ১৩ বছরের একটি মেয়ে আছে। তারপর মাঝামাঝি এসে দেখা যায়, তমাল যখন তার বউ অরণ্যাকে পটানোর চেষ্টা করছে, পটানোর চেষ্টা হিসেবে সে ফেসবুকে একটা ইভেন্ট খুলেছে 'চল দক্ষিণে যাই...' নামে। ক্যামনে কি ম্যান? প্রায় ১৫ বছর আগে ফেসবুক কোথায় পেল তমাল? এটা একটা উপন্যাস, ছাপানো বই। এসব গাঁজাখুরি হিসেব নিকেশ দেখালে চলে? সিনেমা হল বিষয়ক একটা গন্ডগোলও আছে বইয়ে।

তৃতীয়ত, বইয়ের ভাষা যথেষ্ট দূর্বল ছিল। একই কথা বারবার রিপিটেশান করেছেন লেখক, যেটা যথেষ্ট বিরক্তিকর লেগেছে। মনে হয়েছে, এক কথা বারংবার বলে লেখক রাবারের মত শুধু বইয়ের সাইজ বড় করেছেন। এটার কোন দরকার ছিল না।

'ফার্স্ট ইমপ্রেশন' বলে একটা ব্যাপার আছে। প্রথমেই আপনাকে ভাল কিছু করে দেখাতে হবে। তাহলে প্রথমটার জেরে এর পরের গুলোও উতরে যাবে। কিন্তু প্রথমেই যদি আউল ফাউল কিছু লিখে রাখেন, তাহলে তো পরে আর পাঠক পাবেন না।
Profile Image for Shahidul Nahid.
Author 5 books140 followers
February 8, 2016
শুনো, খুচরা আর পাইকারী এই দুই শব্দের মানে কি তুমি জানো ?
না তো।
আচ্ছা, যখন কোন কিছু একটা লাগে, সেটা খুচরা ; যখন অনেক লাগে সেটা পাইকারী। তুমি খুচরা কিছু হারিয়েছো, এখন পাইকারী কিছু করো। গার্লফ্রেণ্ড একটা গেছে ভালো হয়েছে, এখন দশটা জোগাড় করো।

রাফখাতা: Rashat Rahman Zico ভাইয়া

স্পয়ল না করে ছোট্ট করে রিভিউ দেইঃ

ভালোই লেগেছে সব মিলিয়ে , বইটাতে অনেকগুলা মেসেজ আছে, তবে মাঝখানে কেমন জানি তাল ধরে রাখতে পারতেছিলো না...সূতোয় টান লাগছিলো না ঠিকমতোন!
প্রথম উপন্যাস, সেই অর্থে মোটের উপর ভালোই smile emoticon আরো লিখুন, আমরা পাঠক আছিই তো smile emoticon angel emoticon

রেটিং ৩.৫/৫
Profile Image for অপু তানভীর.
117 reviews3 followers
February 3, 2015
"আমি তখন ক্লাস সেভেনে পড়ি । আমাদের বাসায় একজন টিচার রাখা হয়েছিল, সুবল স্যার ! তিনি প্রথমদিন বাসায় এসেই বলেন অংকের খাতা হবে দুইটা । কাঁচা খাতা আর পাকা খাতা । কাঁচা খাতা মানে খসড়া খাতা বা রাফ খাতা । আমি একটা খাতা তখন বানালাম । অনেক গুলি কাগজ নিয়ে সেলাই করা একটা খাতা । যার উপরে ইংরেজিতে লিখলাম রাফ খাতা । রাফ বানান লিখলাম আর ডাবল এ এফ"

জিকো ভাইয়ের রাফরাফ খাতা পড়ে শেষ করলাম ।
কেমন লাগলো জিজ্ঞাস করা হলে বলবো পুরো বইটাকে আমি দুইটা ভাগে ভাগ করবো ! প্রথম ৫৩ পেইজ পর্যন্ত মানে নিশি পর্ব এবং পরের পেইজ থেকে শেষ পর্যন্ত অর্থাৎ অরণ্যা পর্ব ।
টু বি স্ট্রেইট, প্রথম থেকে পড়তে গিয়ে খুব একটা ইন্টারস্টিং মনে হয় নি। টিনএজ প্রেমের কথা গুলো যেন একটু বেশী দীর্ঘ্যই মনে হচ্ছিল । এবং স্পষ্টই বোঝা যাচ্ছিলো যে আদর্শ বালকের সাথে নিশির নিশ্চই কিছু একটা হবে । এবং শেষ পর্যন্ত হলই তাই !

সত্যি তাই প্রথম দিকে পড়তে গিয়ে মজা পেয়েছি কিংবা ইন্টারেস্টিং মনে হয়েছে এমন টা বললে মিথ্যা বলা হবে ! আমার কাছে কেবল মনে হয়েছে আগের কাহিনীটা আরও একটু সংক্ষিপ্ত বর্ণনা দিলেই সম্ভবত ভাল হত !

কিন্তু পরের পর্ব থেকে পড়া শুরু হওয়ার থেকেই আগের অ-ভাল লাগা ভাবটা কেটে গেল দ্রুতই ! এবং খুব আগ্রহ সহকারে পড়তে শুরু করলাম । এর পর কি হবে এমন একটা উৎকন্ঠা ছিল । এরপর অরণ্যার কি হবে ? আবার দেখা হবে তো, সব বড় ধাক্কা ছিল পুনরায় আদর্শ বালকের আগমন ! তলামের বাবার কাছে কথোপকথোনের জায়গায় খানিকটা যেন নিজের চোখও সিক্ত হয়ে উঠেছিল ! তমালের দক্ষিনে যাওয়ার অর্বাচীন কাজেপ বেশ মজা পেয়েছি ! পুলিশ শ্বশুড়ের কথাতেও ! এবং সত্যিই বেশ তৃপ্তি নিয়ে শেষ করলাম । কথায় আছে সব ভাল তার শেষ ভাল যায় ! সব দিক দিয়ে চিন্তা করলে বইটা বেশ ভাল লেগেছে ।

পুরো বই জুড়ে কিছু লাইন মনে রাখার মতঃ
১. কে বোঝাবে একই ঝুলিতে আম আর শসা থাকলে কখনোই শসা আম হয়ে যায় না !

২. সবাই প্রতিভা নিয়ে জন্মায়, বেকুব সমাজ সবাইকে বেকুন বানায় !

৩. অর্বাচীনরাও মাঝে মাঝে গুরুত্বপূর্ন কিছু করে ফেলে !

৪. মানুষের অর্ধেক জীবন একা থাকার জন্য, বাকী অর্ধেক খারাপ থাকার জন্য !

৫. বাস্তবের ঘটনাও মাঝে মাঝে সিনেমার মতো হয়ে যায় !

৬. যখন কোন কিছু একটা লাগে সেটা খুচরা, যখন অনেক লাগে সেটা পাইকারী । তুমি খুচরা কিছু হারিয়েছো, এখন পাইকারী কিছু কর । গার্লফ্রেন্ড একটা গেছে ভাল হয়েছে এখন দশটা জোগার কর !

৭.প্রতিটা জিনিসের একটা ব্র‌ান্ড ভ্যালু থাকে । লাক্সের মোড়কে অন্য কোন সাবান ঢুকিয়ে দিলে বহু মানুষ সেটাকে লাক্স মনে করেই গায়ে মাখবে এবং জীবনেও বুঝবে না !

৮. আপনি দুঃখ পাবেন, কষ্ট পাবেন কিন্তু সেগুলো প্রকাশ করতে না পারাকে বলে ম্যাচিউরিটি ! কী আজব ব্যাপার !

৯. কেউ কারও কারণে কাউকে ছেড়ে যায় না !

১০. কম্পিটিশনের ডিবেট আর সত্যিকারের ডিবেট এক জিনিস না । মানুষের যুক্তি নিজ নিজ উৎস থেকে আসে । সেই উৎস তুমি চেঞ্জ করতে পার না ।

১১. সংসার যদি একটা সের হয় তাহলে সেখানে রাফখাতা আর ফেয়ার খাতা দুইটাই লাগে !


আরও দুই অংশ বিশেষঃ

**
-আপনি কি জানেন আমার বাবা কি করেন ?
-না
-তিনি একজন পুলিশ । পুলিশের মেয়েকে যন্ত্রণা করলে সেই ছেলেকে শায়েস্তা করা পুলিশের দায়িত্ব তিনি উল্টা কাজ করছেন । তিনি আপনাকে ধরে আনতে বলেছেন, এরেস্ট করে জেলে যাওয়ার জন্য না, আপনাকে বিয়ে করার জন্য !

**
-ভাইজান কি লাফ দিবেন ?
আমি পিছন ফিরে দেখলাম আমারই কাছাকাছি বয়েসের ছোটখাটো গড়নের একটি ছেলে । আমি বললাম
-কী বলতে চাও ?
-বললাম ভাইজান কি লাফ দিবেন ?
-লাফ দিব কেন ?
-কারন আমি লাফ দিব তাই জিজ্ঞেস করতেছি !
-তুমি কে ?
-আমি বেলাল
-লাফ দিবে কেন ?
-আত্মহত্যা কর ঠিক করেছি !
-কী আজব ব্যাপার আত্মহত্যা করবা কেন ?
-বাপে কইছে তাই করুম । বাপে ঘর থেইকা বাইর কইরা দিছে ।
-কী অকাজ করেছ যে বাবা ঘর থেকে বের করে দিয়েছে ? বুয়েটে টিকো নাই ?
-বুয়েট কি জিনিস ভাই ? আমি শেয়ার বাজারে লস খাইছি !
-ওহ আচ্ছা !
-তা আপনে লাফ দিলে বলেন ! দইজন একসাথে লাফাই ! নইলে আমি লাফ দিলে আপনি থাইকা গেলে পাবলিক মনে করবে আমারে আপনি ধাক্কা দিছেন !
-আমি লাফ দিব কেন ?
-কেন জানি মনে হইতাছে আপনিও লাফ দিতে ��সছেন !
Profile Image for Nu Jahat Jabin.
149 reviews243 followers
February 21, 2015
বইটার নামের মত বইটাকেও রাফখাতা মনে হয়েছে।
Profile Image for Ferdous Hriday.
17 reviews2 followers
March 6, 2019
প্রত্যেকটা মানুষের কিছু চাওয়া-পাওয়া থাকে।বেশিভাগ ক্ষেত্রেই মানুষ এগুলোর মুখোমুখি হতে ভয় পায়।বেশি ভাগ মানুষ এগুলাকে রাফ খাতায় ফেলে দেয় যাতে আর কখনো সামনে না আসে। অল্প কিছু মানুষ শুধু মাত্র রাফখাতার মত জীবনটাকে উপভোগ করতে শিখে।
রাফ খাতা আসলে কিসের গল্প?জীবনের অতৃপ্তি না বন্ধুত্বের। নাকি পৃথিবীটা গোল এই বিশ্বাসের।হুমায়ূন আহমদ পরবর্তী আমার ধারণা সবচেয়ে সুন্দর সাজান উপন্যাসগুলার মধ্যে এটা একটা।
Profile Image for  MD. Aiful Islam.
4 reviews2 followers
July 31, 2017
পুরাই বাংলা সিনেমার স্ক্রিপ্ট মনে হইছে।
1 review
August 8, 2020
এই বইটা যারা এখান থেকে পরেছেন তারা একটু বলবেন কি কেমন করে এখানে পড়তে হয়।
56 reviews76 followers
December 24, 2017
কোনোভাবে বোঝার উপায় নেই লিখকের প্রথম লিখা এটি।আর ছন্নছাড়া দের জন্য উপযুক্ত একটি বই।

ছোটবেলায় লিখার জন্য বেশ কয়েক ধরনের খাতা ব্যবহার করতাম।ঘটা করে সেগুলোকে C.W, H.W, রাফখাতা এসব আদিখ্যেতা নামে ডাকা হতো। এরমধ্যে রাফখাতা ছিল সবথেকে নিচের সারির।যখন যা ইচ্ছে তাই লিখে ফেলা যেত এখানে।নির্দিষ্ট কোনো ধরাবাঁধা নিয়মের নেই।এক কথায় বললে এলোমেলো লিখার স্তুপকেই রাফ খাতা বলাতাম আমরা।

লেখক এ গল্পে তেমনি একজনের চিত্র এঁকেছেন। যার জীবন রাফখাতার মতোই ছন্নছাড়া। সে যা ভাবে তার কোনোটাই সেভাবে পূরণ হয়না।প্রতি বাঁকে ঘুরে যায় ভাগ্যের মোড়।গল্পের নায়কের জীবন যে আসলেই রাফখাতা'র প্রতিচ্ছবি, তা বোঝাতে তার পাশে জুড়ে দেয়া হয়েছে বেশ কিছু আদর্শ বালক আর বালিকা।যাদের জন্মই হয় ক্লাসে ফার্স্ট হবার জন্য।আর যাদের ভিড়ে সে বড্ড বেমানান।

গল্পের মূল চরিত্র ছন্নছাড়া একজন মানুষ। ব্যার্থতা মাখা জীবন।যেন আমাদের প্রত্যহ দেখা খুব সাধারণ একটি জীবনের প্রতিবিম্ব উঠে এসেছে উপন্যাসে।

raafkhata লেখকের প্রথম উপন্যাস। কিন্তু আমার কাছে একবারের জন্যও তা মনে হয়নি।সাধারণ জীবনধারার অগোছালো চরিত্র পছন্দকারীদের অবশ্য পাঠ যোগ্য উপন্যাস।
.
.
কাহিনী-সংক্ষেপ::
গল্পটা যাকে নিয়ে তিনি হলেন 'আফজাল হোসেন তমাল'।এ নামকরনের পিছনে কাহিনী আছে।তার জন্মের পরে বেশ সময় ধরে হুমায়ূন আহমেদের 'বহুব্রীহি' নাটক জনপ্রিয়তা ধরে রাখে।নাটকে মনসুর চরিত্রে আফজাল হোসেন নামের একজনের অভিনয় ছিল অনবদ্য। অন্যদিকে বাবার নাম 'মনোয়ার হোসেন'।এদুয়ে মিলে নাম দেয়া হয়।

তমাল নামের ছেলেটির একটি রাফ খাতা ছিল।সে নাম দিয়েছিল raaf khata.। আসল বানান তো rough khata কিন্তু সে লিখেছে উল্টোটা। অবশ্য এখনকার যুগের ফেসবুক চ্যাটিং ধারীরা প্রথম টাকেই ঠিক বলে থাকবে।তবে আমি বলব পিছনের রহস্য ভিন্ন।এবং সেটিই বড় চমক।

তমালের জীবনে প্রথম প্রেম হয়েছিল 'নিশি' নামের এক মেয়ের সাথে।ছন্নছাড়াদের প্রেম যেভাবে শুরু হয় তারটাও তেমনি।দেখা নেই কথা নেই হঠাত রিকশাওয়ালাকে তরুণীর বলা 'মামা ডানে' এক বাক্য আর ডান হাত দেখেই প্রেমে পড়া সাড়া।

একসময় জানতে পারে মেয়েটি তার এলাকায় বায়োলজি প্রাইভেট পড়ে। কিন্তু তার তো এই সাবজেক্ট নেই।অথচ তাকে যেভাবে হোক কথা বলতে হবে।সেজন্য অন্য কোচিং এর নাম করে সেখানে ভর্তি হয়ে যায়।পরে তাদের পরিচয়, টুকটাক ফোনে কথা।এরমধ্যে তমাল স্বপ্ন বুনতে শুরু করে।কিন্তু নিশিকেও এ আবেগ ছুঁয়েছে কিনা সে জানেনা। সেতো আদর্শ বালিকা। লেখাপড়াই তার আসল ভুবন।সে কি নিজেকে জড়াবে এই খুচরো আবেগে!

শুধু নিশি দিয়ে শেষ নয়।তমালের বেড়ে ওঠাই আদর্শ বালকদের ভিড়ে।তার বাবা,বড় ভাই পিয়াল এবং বন্ধু রাফি এর মধ্যে অন্যতম। শুধু সেই পাড়েনি। তাই এই আদর্শবানদের ঘৃণা করা ছাড়া আর কিছুই করার নেই।একসময় এসে তমালের মেয়েও সেই আদর্শদের ভিড়ে ঢুকে পড়ে।সেকি আবার প্রেমে পড়েছিল! যদি নাই পড়ে তাহলে তার মেয়ে অর্পিতা এলো কিভাবে?

তমালের মতো মানুষেদের কোনো লক্ষ্য থাকেনা। সময়ের উপর ভর করেই তারা জীবন পাড়ি দেয়।সময় যা বলে তারা তাই করে।সময়কে পরিচালনা করার ক্ষমতা তাদের নেই।রাফির বাবা অবশ্য বলে সে অর্বাচীন। মানে ম্যাচুর না।অবশ্য তিনি এও বলেন এই অর্বাচীনরাও মাঝেমধ্যে খুব গুরুত্বপূর্ণ কাজ করে থাকে।তমাল কি সেসব করতে পেরেছিল?
আমি বলব-অকর্মারাও সৌভাগ্যবান হয়।
.
.
ব্যক্তিগত মতামত::
মনে হয় পৃথিবীর বেশিরভাগ মানুষ রাফখাতা'র জীবন পার করে।আমিও তাদের একজন।সেজন্য বইটা ভালো লাগার পরিমাণ একটু বেশি।পুরোটা অনেক মজা নিয়ে পড়েছি।তাছাড়া লেখকের লিখার বর্ণনাও খুব সাবলীল। এক বসায় শেষ করেছি পুরোটা।

একটা ব্যাপার আমার পছন্দ হয়নি।নিতান্ত ব্যক্তিগত মতামত। উপন্যাসে একজায়গায় হুমায়ূন আহমেদ 'স্যার' বলা হয়েছে।এই 'স্যার' আদিখ্যেতা আমার অপছন্দ ।যদি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর আসতো, তাহলে সম্ভবত বলা হতো না।

আর একটি বিষয় সামান্য বিরক্ত লেগেছে। ঘুরেফিরে একই কথা বারবার বলা।সামান্য ছিল,তবুও মনে হয়েছে না বললেও চলতো।

প্রচ্ছদ আরো ভালো হতে পারতো।মনে হয় গল্পের সাথে মিল রেখে আরো অনেকভালো প্রচ্ছদ বানানো যায়।
Profile Image for Syeda Banu.
99 reviews55 followers
May 16, 2019
ছোটবেলা থেকেই তমালের মনে হতো, তার আশেপাশের সব মেধাবীদের জীবন এক-একটা ফেয়ার খাতা। কোনো বাড়তি ভুল দাগ নেই, কাটাকুটি নেই। তার নিজের জীবনটা রাফখাতার মতই। ভুলেভালে ভর্তি, যা যা ভেবেছিল জীবনে তেমনটা যেন কখনোই হলো না।


স্কুল-কলেজ থেকেই তার তুলনা হয় বড় ভাই পিয়াল আর প্রিয় বন্ধু রাফির সাথে, যারা কি না বাবা-মার আদর্শ সন্তান, কখনো দ্বিতীয় হতেই জানে না। 


তমালকে তার স্কুলের শিক্ষক অংক তোলার জন্য একটা রাফখাতা বানাতে বলেছিলেন। সেই খাতার পরের দিকের পাতায় তমাল তার জীবনের গল্পগুলো লিখে রাখতো। সেই জীবনে প্রেম এলো, এলোমেলো হলো বন্ধুত্ব, কত পরিবর্তন! 


তমালের সাধারণ জীবনে এমন এক সময় এলো যখন সবাই বিশ্বাস হারালো তার উপর থেকে। কিন্তু সবাই তো জীবনের সব পরীক্ষায় প্রথম হয় না, যারা দ্বিতীয় হয় তাদের কি হবে? 


তবে কি ব্যর্থতার গ্লানি নিয়ে তমাল হারিয়ে যাবে? না কি পূর্ন করবে তার জীবনের রাফখাতা?


পাঠপ্রতিক্রিয়া: তমালের চরিত্রটার মধ্যে পাঠক নিজের জীবনের প্রতিচ্ছবি খুঁজে পাবেন। কিছু না কিছু ব্যর্থতা আমাদের সবার জীবনেই থাকে,  আমরা সবাই-ই কোনো না কোনোভাবে এক একজন তমাল।


গল্পটা যেহেতু তমালের ডায়েরি, তাই লেখক গল্পটা বলেছেনও অনেকটা ব্যক্তিগত ড���য়েরি লিখে যাওয়ার ঢঙে। হেরে যাওয়ার বোঝা সইতে না পেরে আত্মহত্যা করতে চাওয়া তরুণদের কিছু বার্তা দিতে চেয়েছেন। বাবা-ভাই-বন্ধুর সাথে সম্পর্ক আর তাদের অব্যক্ত অভিমানগুলো খুব সুন্দর করে দেখিয়েছেন। 


রাফখাতার মত লেখার কারনেই হয়তো কিছু কিছু কথা বারবার বলা হচ্ছিলো যেটা ভালো লাগে নি। রাসয়াত রহমান জিকোর লেখনী আর সুক্ষ্ম রসবোধের সঙ্গে যতটা পরিচিত তার ফেসবুকের লেখা থেকে, তাতে আমার প্রত্যাশা আরো বেশি ছিল।


গল্পে ব্যবহৃত হাস্যরসগুলো সেভাবে ভালো লাগে নি। নাটকীয়তাও বেশি ছিল। মধুরেণসমাপয়েৎ চমৎকার,  তবে পৃথিবীটা আসলে এতোটা গোল-ও না, সবার সাথে সবার শেষমেশ দেখা করিয়ে দেওয়াটা দরকার ছিল না।


বইয়ের নাম কেন ইংরেজিতে ভুল বানানে Raafkhata দেওয়া হলো সেটারও উত্তর বই পড়লেই পাঠক পেয়ে যাবেন। লেখক নিজে একজন ক্রীড়াপ্রেমী, তার প্রতিফলন গল্পেও কিছুটা ছিল। কিশোর বয়সের প্রেমের জন্য তমালের পাগলামি, ক্লাস পালানো, গোল চক্করে নামাজের পর আড্ডা যেকোনো ছেলেকে নস্টালজিক করবে।


নিজের কৈশোর থেকে তারুণ্যের বিভিন্ন মোড়ে ঘুরে আসতে চাইলে পড়ে নিতে পারেন উপন্যাসটি।


লেখকের কাছে প্রশ্ন: আফজাল হোসেনের 'বহুব্রীহি' নাটক দেখে যার নাম রাখা হলো, সেই তমাল কলেজে থাকতে 'আমার বন্ধু রাশেদ' সিনেমাটা (২০১১ তে মুক্তি পায়) দেখলে আর রাফখাতা লেখা ৩০ বছরে শেষ হলে গল্পের সময়কালটা ঠিক কি দাঁড়ালো?


বই: Raafkhata

লেখক: রাসয়াত রহমান

প্রকাশনায়: আদী প্রকাশন

প্রকাশকাল: ২০১৫

পৃষ্ঠাসংখ্যা: ১০২

মুদ্রিত মূল্য: ১৭৫ টাকা
February 10, 2019
সুন্দর বার্তা সম্বলিত একটি সহজপাঠ্য উপন্যাস। আমাদের সমাজে সকলের উপর ফার্স্ট হওয়ার যে তীব্র মানসিক চাপ সেটি লেখক তার লেখায় খুব সুন্দরভাবে তুলে এনেছেন। আবার উপন্যাসের প্রধান চরিত্রের মধ্য দিয়ে আত্মহত্যার মতো ক্রমবর্ধমান সমস্যার সমাধানও খুঁজেছেন।

তবে উপন্যাসের টাইম ফ্রেম নিয়ে লেখক আরও একটু যত্নবান পারতেন। বহুব্রীহিতে আজফাল হোসেনের অভিনয় দেখে যার নাম আফজাল হোসেন রাখা হয় সে এখন ১৩-১৪ বছরের সন্তানের বাবা কিংবা যার এত বড় একটা মেয়ে আছে সে নিজে এসএসসি পরীক্ষা দেওয়ার সময়ে ফেসবুক চালাতো এসব ব্যাপার দৃষ্টিকটু লেগেছে, পড়ার গতিতে ছন্দপতন ঘটিয়েছে।
Profile Image for Mitul Rahman Ontor.
161 reviews59 followers
March 29, 2019
সময় কাটানোর জন্যে ভালোই। সহজ, সাবলীল ভঙ্গিতে লিখা৷ এটা হয়ত লেখকের প্রথম বই ছিল, সে হিসেবে খারাপ না৷
তবে নাটকীয়তা একটু বেশিই ছিল৷ অনেক কিছু বেশ প্রেডিক্টেবল লেগেছে৷ আবার কিছু ঘটনা সিনেমাটিক হয়ে গেছে।
লেখার ক্ষেত্রে বানান ভুল তেমন চোখে পড়ি নি। তবে কিছু কথা বারবার চলে এসেছে, অর্থাৎ রিপিট করেছে৷ যা খানিকটা বিরক্তিকর ছিল।

ওভারঅল, খারাপ না৷
Profile Image for Arefin.
31 reviews1 follower
November 6, 2019
জিকো ভাইয়া এর লিখা দেখে পুরোটা শেষ করেছি,অন্য কেউ হলে শেষ করার আগ্রহ পেতাম না।অল্প কিছু লাইন আছে যেগুলা পড়ার সময় ভালো মনে হয়েছে, কিন্তু পরের দিন মনে রাখার মতো কিছু না।

গল্পের চরিত্র বেশি গৎবাঁধা মনে হয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে উন্নতি দরকার।
Displaying 1 - 13 of 13 reviews