What do you think?


উল্কা
ব্রিটিশ ভারতের পুলিশ-গোয়েন্দা উমেশনাথ সিরিজ।
আগুনপাখি / ৭
খাঁচার ভিতর অচিন পাখি / ২৭
স্মরগরল / ৯১
উল্কা / ১৪৯
আগুনপাখি / ৭
খাঁচার ভিতর অচিন পাখি / ২৭
স্মরগরল / ৯১
উল্কা / ১৪৯
192 pages, Hardcover
Published January 1, 2026
Ratings & Reviews
Friends & Following
Create a free account to discover what your friends think of this book!
Community Reviews
Displaying 1 - 5 of 5 reviews
March 20, 2026
ব্রিটিশ ভারতের পুলিশ-গোয়েন্দা ইউ-মেস-নট ওরফে উমেশনাথের চারটি অনুসন্ধানের কাহিনি সংকলিত হয়েছে এই বইয়ে। একটি দীর্ঘ সময়কাল ধরে কলকাতার রাজনীতি, অর্থনীতি এবং বদলাতে থাকা সমাজের পটভূমিতে সংঘটিত বেশ ক'টি অপরাধের মুখোমুখি হয়েছেন উমেশনাথ। তারা হল~
১) আগুনপাখি: লবণ সত্যাগ্রহের সময়কার কলকাতায় বিপ্লবীদের সঙ্গে উমেশনাথের এক পরোক্ষ অথচ অত্যন্ত নিকট সাক্ষাতের এই ছোট্ট গল্পটির মধ্যে যতখানি ইতিহাস, আবেগ, আর বাস্তব মিশে রয়েছে, তা অনেক পাঠ্য বইয়েও পাওয়া যায় না। অথচ উমেশনাথের চরিত্রটিকে নির্ভুলভাবে চিনিয়ে দেয় এই আখ্যান।
২) খাঁচার ভিতর অচিন পাখি: টেগার্ট সাহেবের পুলিশ থেকে অবসর নেওয়ার একেবারে মুখেই এক বিচিত্র হত্যারহস্যের সম্মুখীন হল ইম্পিরিয়াল পুলিশ। দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য 'ডিমোটেড' উমেশনাথকেই অনুসন্ধানের দায়িত্ব দেওয়া হল। অর্থনীতি ও শ্রেণিবিদ্বেষ, রাজনীতি ও লোভ, সর্বোপরি লকড-রুম মিস্ট্রির হেঁয়ালি— এইসবের মধ্য থেকে সত্যকে উদ্ধার করতে সচেষ্ট হলেন উমেশনাথ ও তাঁর সহকর্মী গিরীশ। পারলেন কি?
৩) স্মরগরল: কুয়াশার মধ্য দিয়ে মাতাল এক সাহেবের র্যাশ ড্রাইভিং, একটা ফুলের দোকানে ডাকাতি ও বীভৎস হত্যাকাণ্ড, শহরের অন্য প্রান্তে অন্য একটি হত্যা— এই বিচ্ছিন্ন ঘটনাগুলোর পিছু নিতে গিয়ে আলাদা-আলাদা উত্তর পেতে লাগল পুলিশ। কিন্তু যেমন-তেমন একটা সমাধান চাপিয়ে মামলার নিষ্পত্তি হওয়ার ঠিক আগে, শ্বেতাঙ্গ সমাজের টানাপোড়েনের অর্থ বুঝে বিচ্ছিন্ন সূত্রগুলো জুড়ে ফেললেন উমেশনাথ। আর তারপর...
৪) উল্কা: দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শুরু হওয়ার ঠিক পরের ঘটনা। এক ধনী পরিবারে পরপর দুটি রহস্যজনক মৃত্যু হওয়ায় পরিবারের কর্তা ব্যক্তিগতভাবেই উমেশনাথের সাহায্যপ্রার্থী হলেন। এদিকে তার ঠিক আগেই উল্কাপাতে মৃত্যু হল এক ব্যবসায়ীর। আপাতভাবে বিচ্ছিন্ন দুটি ঘটনা, আর তারই সঙ্গে কলকাতায় দেখা যাওয়া কিছু পরিবর্তন উমেশনাথকে বোঝাল, এদের মধ্যে কোনো যোগসূত্র আছে। তাঁর অনুসন্ধান কি এবারও রহস্যের কুয়াশা ভেদ করে সত্যিকে আমাদের সামনে তুলে ধরতে পারল?
অসাধারণ রিসার্চ, বাস্তবানুগ চরিত্র নির্মাণ ও সংলাপ, সর্বোপরি রহস্যের অনন্যতায় এই বইয়ের প্রথম তিনটি গল্পই মুগ্ধ করেছিল। চতুর্থ কাহিনিটি পড়ে, কিছুমাত্র অতিশয়োক্তি না করেই বলি, স্বর্গত শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়ের লেখার কথা মনে পড়ে গেল। ঠিক সেইরকম শুষ্ক অথচ ব্যঞ্জনাময় ভঙ্গিতে এক জটিল রহস্য আর তার ধারক-বাহকদের ফুটিয়ে তুলেছেন লেখক। সেখানে সমকালীন সমাজের ঘাত-প্রতিঘাত আর ব্যক্তির ছোটো প্রাণ-ছোটো কথা একইরকম গুরুত্ব পেয়েছে রহস্যের ধরনটি বুঝতে ও বোঝাতে। এইভাবে "ইনার শরদিন্দু"-কে চ্যানেলাইজ করার শখ হয়তো অনেকেরই থাকে; কিন্তু গবেষণা ও লেখনীর মেলবন্ধন ঘটিতে তাঁদের অধিকাংশই সেই জায়গাটায় পৌঁছোতে পারে না। এই বইয়ের লেখক তা পেরেছেন। তাঁকে সেলাম।
বইটির মুদ্রণ, অলংকরণ, বর্ণ-সংস্থাপন শুদ্ধ এবং নয়নসুখকর।
রহস্য গল্পের অনুরাগী হলে, বিশেষত প্রোসিডিওরাল এবং বাস্তবানুগ রহস্য পড়তে ভালোবাসলে এই বইটিকে কোনোমতেই উপেক্ষা করবেন না।
১) আগুনপাখি: লবণ সত্যাগ্রহের সময়কার কলকাতায় বিপ্লবীদের সঙ্গে উমেশনাথের এক পরোক্ষ অথচ অত্যন্ত নিকট সাক্ষাতের এই ছোট্ট গল্পটির মধ্যে যতখানি ইতিহাস, আবেগ, আর বাস্তব মিশে রয়েছে, তা অনেক পাঠ্য বইয়েও পাওয়া যায় না। অথচ উমেশনাথের চরিত্রটিকে নির্ভুলভাবে চিনিয়ে দেয় এই আখ্যান।
২) খাঁচার ভিতর অচিন পাখি: টেগার্ট সাহেবের পুলিশ থেকে অবসর নেওয়ার একেবারে মুখেই এক বিচিত্র হত্যারহস্যের সম্মুখীন হল ইম্পিরিয়াল পুলিশ। দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য 'ডিমোটেড' উমেশনাথকেই অনুসন্ধানের দায়িত্ব দেওয়া হল। অর্থনীতি ও শ্রেণিবিদ্বেষ, রাজনীতি ও লোভ, সর্বোপরি লকড-রুম মিস্ট্রির হেঁয়ালি— এইসবের মধ্য থেকে সত্যকে উদ্ধার করতে সচেষ্ট হলেন উমেশনাথ ও তাঁর সহকর্মী গিরীশ। পারলেন কি?
৩) স্মরগরল: কুয়াশার মধ্য দিয়ে মাতাল এক সাহেবের র্যাশ ড্রাইভিং, একটা ফুলের দোকানে ডাকাতি ও বীভৎস হত্যাকাণ্ড, শহরের অন্য প্রান্তে অন্য একটি হত্যা— এই বিচ্ছিন্ন ঘটনাগুলোর পিছু নিতে গিয়ে আলাদা-আলাদা উত্তর পেতে লাগল পুলিশ। কিন্তু যেমন-তেমন একটা সমাধান চাপিয়ে মামলার নিষ্পত্তি হওয়ার ঠিক আগে, শ্বেতাঙ্গ সমাজের টানাপোড়েনের অর্থ বুঝে বিচ্ছিন্ন সূত্রগুলো জুড়ে ফেললেন উমেশনাথ। আর তারপর...
৪) উল্কা: দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শুরু হওয়ার ঠিক পরের ঘটনা। এক ধনী পরিবারে পরপর দুটি রহস্যজনক মৃত্যু হওয়ায় পরিবারের কর্তা ব্যক্তিগতভাবেই উমেশনাথের সাহায্যপ্রার্থী হলেন। এদিকে তার ঠিক আগেই উল্কাপাতে মৃত্যু হল এক ব্যবসায়ীর। আপাতভাবে বিচ্ছিন্ন দুটি ঘটনা, আর তারই সঙ্গে কলকাতায় দেখা যাওয়া কিছু পরিবর্তন উমেশনাথকে বোঝাল, এদের মধ্যে কোনো যোগসূত্র আছে। তাঁর অনুসন্ধান কি এবারও রহস্যের কুয়াশা ভেদ করে সত্যিকে আমাদের সামনে তুলে ধরতে পারল?
অসাধারণ রিসার্চ, বাস্তবানুগ চরিত্র নির্মাণ ও সংলাপ, সর্বোপরি রহস্যের অনন্যতায় এই বইয়ের প্রথম তিনটি গল্পই মুগ্ধ করেছিল। চতুর্থ কাহিনিটি পড়ে, কিছুমাত্র অতিশয়োক্তি না করেই বলি, স্বর্গত শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়ের লেখার কথা মনে পড়ে গেল। ঠিক সেইরকম শুষ্ক অথচ ব্যঞ্জনাময় ভঙ্গিতে এক জটিল রহস্য আর তার ধারক-বাহকদের ফুটিয়ে তুলেছেন লেখক। সেখানে সমকালীন সমাজের ঘাত-প্রতিঘাত আর ব্যক্তির ছোটো প্রাণ-ছোটো কথা একইরকম গুরুত্ব পেয়েছে রহস্যের ধরনটি বুঝতে ও বোঝাতে। এইভাবে "ইনার শরদিন্দু"-কে চ্যানেলাইজ করার শখ হয়তো অনেকেরই থাকে; কিন্তু গবেষণা ও লেখনীর মেলবন্ধন ঘটিতে তাঁদের অধিকাংশই সেই জায়গাটায় পৌঁছোতে পারে না। এই বইয়ের লেখক তা পেরেছেন। তাঁকে সেলাম।
বইটির মুদ্রণ, অলংকরণ, বর্ণ-সংস্থাপন শুদ্ধ এবং নয়নসুখকর।
রহস্য গল্পের অনুরাগী হলে, বিশেষত প্রোসিডিওরাল এবং বাস্তবানুগ রহস্য পড়তে ভালোবাসলে এই বইটিকে কোনোমতেই উপেক্ষা করবেন না।
April 5, 2026
ছড়িয়ে থাকার জন্য এবং গল্পগুলোকে পড়তে গেলে প্রচুর স্ট্রাগল ছিল বলে এই ফ্র্যাঞ্চাইজির জনপ্রিয়তা যতটা থাকা উচিত ততটা এখনও নেই। এবার বাড়বে কারন বই হয়েছে। পাঠক সহজেই পাবেন।
বর্তমান সময়ে পিরিয়ডিক গোয়েন্দা বইগুলোতে মূলত যেটা অফার করা হয়, সেটা হলো এখনকার তদন্ত পদ্ধতির সুযোগ সুবিধা বাদ দিয়ে কি করে ক্রাইম সলভ করা যায়। এর থেকে বেশি কিছু আমি অন্তত পাইনি। এই সিরিজ, এটা ছাড়াও আর দুটো জিনিস অফার করছে। এক, প্রতিষ্ঠান বিরোধিতা। বইয়ের নামটা লক্ষ্য করুন। উল্কা, অর্থাৎ সিস্টেম থেকে ছিটকে গেছে কেউ। বছর তিনেক আগে যখন প্রথম দুটো গল্প পড়েছিলাম তখনই মনে হয়েছিল উমেশের মধ্যে ডিসকমফোর্ট আছে। আর এখন থেকে আসছে দ্বিতীয় জিনিস। অর্থাৎ, দুই, চরিত্রের ইনার কনফ্লিক্ট। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে আমলাদের মধ্যে যেটা থাকে। এজন্য রিলিফ পয়েন্ট হিসেবে বহু খ্যাতনামা সাহিত্যিক আমরা দেখতে পাই যারা আমলা ছিলেন। যেমন বঙ্কিমচন্দ্র। এক্ষেত্রে বিষয়টা বোঝা সহজ। কারন উমেশ এর এমপ্লয়ার ইংরেজ। গল্পের নাম গুলোর মধ্যেও ডিস্কমফোর্ট রয়েছে। সুতরাং ত্রিমুখী প্লট পয়েন্ট।
মৃত্যু বিসর্পিল অনওয়ার্ড লেখিকার নতুন ভার্সন আমরা দেখছি। গদ্যের দিকে আলাদা নজর দেওয়া হচ্ছে। লেখাগুলো সব কিছু বাদ দিয়ে শুধু গদ্য হিসেবে দুর্দান্ত।
বর্তমান সময়ে পিরিয়ডিক গোয়েন্দা বইগুলোতে মূলত যেটা অফার করা হয়, সেটা হলো এখনকার তদন্ত পদ্ধতির সুযোগ সুবিধা বাদ দিয়ে কি করে ক্রাইম সলভ করা যায়। এর থেকে বেশি কিছু আমি অন্তত পাইনি। এই সিরিজ, এটা ছাড়াও আর দুটো জিনিস অফার করছে। এক, প্রতিষ্ঠান বিরোধিতা। বইয়ের নামটা লক্ষ্য করুন। উল্কা, অর্থাৎ সিস্টেম থেকে ছিটকে গেছে কেউ। বছর তিনেক আগে যখন প্রথম দুটো গল্প পড়েছিলাম তখনই মনে হয়েছিল উমেশের মধ্যে ডিসকমফোর্ট আছে। আর এখন থেকে আসছে দ্বিতীয় জিনিস। অর্থাৎ, দুই, চরিত্রের ইনার কনফ্লিক্ট। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে আমলাদের মধ্যে যেটা থাকে। এজন্য রিলিফ পয়েন্ট হিসেবে বহু খ্যাতনামা সাহিত্যিক আমরা দেখতে পাই যারা আমলা ছিলেন। যেমন বঙ্কিমচন্দ্র। এক্ষেত্রে বিষয়টা বোঝা সহজ। কারন উমেশ এর এমপ্লয়ার ইংরেজ। গল্পের নাম গুলোর মধ্যেও ডিস্কমফোর্ট রয়েছে। সুতরাং ত্রিমুখী প্লট পয়েন্ট।
মৃত্যু বিসর্পিল অনওয়ার্ড লেখিকার নতুন ভার্সন আমরা দেখছি। গদ্যের দিকে আলাদা নজর দেওয়া হচ্ছে। লেখাগুলো সব কিছু বাদ দিয়ে শুধু গদ্য হিসেবে দুর্দান্ত।
June 7, 2026
উপন্যাসটি মূলত দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধকালীন কলকাতার প্রেক্ষাপটে নির্মিত।উমেশনাথ এমন এক গোয়েন্দা, যিনি তাঁর বুদ্ধি বা পর্যবেক্ষণ ক্ষমতার জন্য যতটা স্মরণীয়, তার চেয়েও বেশি স্মরণীয় তাঁর সময়ের সঙ্গে জড়িয়ে থাকার জন্য।
চারটি গল্পের প্রত্যেকটির স্বাদ আলাদা। কোথাও বিপ্লবী আন্দোলনের আবহ, কোথাও শ্রেণিসংঘাত, কোথাও ঔপনিবেশিক সমাজের অন্তর্দ্বন্দ্ব, আবার কোথাও যুদ্ধকালীন অস্থিরতা— প্রতিটি রহস্য যেন তার নিজস্ব সামাজিক প্রেক্ষাপট নিয়ে হাজির হয়েছে। ফলে গল্পগুলো শুধু "খুনি কে?" প্রশ্নে আটকে থাকে না; বরং "কেন?" এবং "কীভাবে সেই সমাজে এমনটা সম্ভব হল?"— এই প্রশ্নগুলোকেও সামনে নিয়ে আসে।
বই :উল্কা (ব্রিটিশ ভারতের পুলিশ-গোয়েন্দা
উমেশনাথ সিরিজ)
লেখক : পিয়া সরকার
চারটি গল্পের প্রত্যেকটির স্বাদ আলাদা। কোথাও বিপ্লবী আন্দোলনের আবহ, কোথাও শ্রেণিসংঘাত, কোথাও ঔপনিবেশিক সমাজের অন্তর্দ্বন্দ্ব, আবার কোথাও যুদ্ধকালীন অস্থিরতা— প্রতিটি রহস্য যেন তার নিজস্ব সামাজিক প্রেক্ষাপট নিয়ে হাজির হয়েছে। ফলে গল্পগুলো শুধু "খুনি কে?" প্রশ্নে আটকে থাকে না; বরং "কেন?" এবং "কীভাবে সেই সমাজে এমনটা সম্ভব হল?"— এই প্রশ্নগুলোকেও সামনে নিয়ে আসে।
বই :উল্কা (ব্রিটিশ ভারতের পুলিশ-গোয়েন্দা
উমেশনাথ সিরিজ)
লেখক : পিয়া সরকার
August 18, 2026
আমার এই টাইমফ্রেমের গল্প পড়তে বেশ ভালো লাগে। এমনিতে পড়ে ভালো লেগেছে যদিও কোনও গল্পই ওইভাবে আহামরি লাগেনি । বইয়ে সম্ভবত ৫ টা গল্প আছে, এমনিতে টাইম পাশের জন্য খারাপ না। লাস্ট গল্প উল্কা বেশি ভালো লেগেছে ।
June 16, 2026
ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটে নির্মিত রহস্যকাহিনি বাংলা সাহিত্যে খুব বেশি দেখা যায় না, আর যেগুলি দেখা যায় সেগুলির মধ্যে গবেষণার গভীরতা ও রহস্যের আকর্ষণকে একসঙ্গে ধরে রাখা আরও দুর্লভ। পিয়া সরকারের উল্কা সেই বিরল উদাহরণগুলির একটি। বইটিতে ব্রিটিশ আমলের পুলিশ-গোয়েন্দা উমেশনাথ, যিনি সহকর্মীদের কাছে ‘ইউ-মেস-নট’ নামে পরিচিত, তাঁর চারটি তদন্ত-অভিযান স্থান পেয়েছে। প্রতিটি গল্প শুধু অপরাধ অনুসন্ধানের কাহিনি নয়, বরং সমসাময়িক কলকাতার সমাজ-বাস্তবতার এক জীবন্ত দলিল।
প্রথম গল্প ‘আগুনপাখি’ আকারে ছোট হলেও প্রভাবের দিক থেকে অত্যন্ত শক্তিশালী। লবণ সত্যাগ্রহের অস্থির সময়ে বিপ্লবী আন্দোলনের আবহ, মানুষের ব্যক্তিগত অনুভূতি এবং ইতিহাসের প্রবাহ, সবকিছু এমনভাবে মিশে গেছে যে গল্পটি শেষ হওয়ার পরেও তার রেশ দীর্ঘক্ষণ থেকে যায়। একই সঙ্গে উমেশনাথের চরিত্রের মানবিক ও পেশাদার দুই দিকই স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
‘খাঁচার ভিতর অচিন পাখি’ মূলত একটি ক্লাসিক লকড-রুম রহস্য, কিন্তু তার পরিধি কেবল অপরাধ সমাধানের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। সমাজের শ্রেণিবিভাজন, অর্থনৈতিক বৈষম্য এবং ব্যক্তিগত স্বার্থের সংঘাত গল্পটিকে অন্য মাত্রা দিয়েছে। রহস্যের জটিলতা যেমন পাঠককে টেনে রাখে, তেমনই অনুসন্ধানের প্রতিটি ধাপ বাস্তবসম্মত বলে মনে হয়।
তৃতীয় গল্প ‘স্মরগরল’ সম্ভবত সংকলনের সবচেয়ে বহুমাত্রিক আখ্যানগুলির একটি। একাধিক বিচ্ছিন্ন ঘটনা ধীরে ধীরে এক সুতোয় গাঁথা হতে থাকে এবং সেই প্রক্রিয়ায় উন্মোচিত হয় তৎকালীন ইউরোপীয় সমাজের অভ্যন্তরীণ টানাপোড়েন। লেখক এখানে রহস্যের পাশাপাশি সামাজিক পর্যবেক্ষণেরও চমৎকার পরিচয় দিয়েছেন।
সংকলনের শেষ গল্প ‘উল্কা’ আমার বিচারে এই বইয়ের শ্রেষ্ঠ আখ্যান। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সূচনাকালের কলকাতাকে পটভূমি করে নির্মিত এই কাহিনিতে পারিবারিক রহস্য, অদ্ভুত মৃত্যু এবং বৃহত্তর সামাজিক পরিবর্তনের ইঙ্গিত একসূত্রে মিলেছে। গল্পের আবহ, চরিত্রের নির্মাণ এবং রহস্যের ক্রমোন্মোচন এমন দক্ষতার সঙ্গে রচিত যে বাংলা গোয়েন্দা সাহিত্যের স্বর্ণযুগের স্মৃতি জাগিয়ে তোলে।
পিয়া সরকারের লেখার সবচেয়ে বড় শক্তি তাঁর গবেষণা। ঐতিহাসিক তথ্য কখনও গল্পের গতিকে ব্যাহত করেনি; বরং কাহিনির অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে উঠেছে।
যাঁরা বাস্তবধর্মী তদন্তভিত্তিক রহস্যকাহিনি পছন্দ করেন, বিশেষ করে ঐতিহাসিক পটভূমিতে নির্মিত গোয়েন্দা গল্পের অনুরাগী, তাঁদের জন্য উল্কা নিঃসন্দেহে একটি অত্যন্ত উপভোগ্য পাঠ।
প্রথম গল্প ‘আগুনপাখি’ আকারে ছোট হলেও প্রভাবের দিক থেকে অত্যন্ত শক্তিশালী। লবণ সত্যাগ্রহের অস্থির সময়ে বিপ্লবী আন্দোলনের আবহ, মানুষের ব্যক্তিগত অনুভূতি এবং ইতিহাসের প্রবাহ, সবকিছু এমনভাবে মিশে গেছে যে গল্পটি শেষ হওয়ার পরেও তার রেশ দীর্ঘক্ষণ থেকে যায়। একই সঙ্গে উমেশনাথের চরিত্রের মানবিক ও পেশাদার দুই দিকই স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
‘খাঁচার ভিতর অচিন পাখি’ মূলত একটি ক্লাসিক লকড-রুম রহস্য, কিন্তু তার পরিধি কেবল অপরাধ সমাধানের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। সমাজের শ্রেণিবিভাজন, অর্থনৈতিক বৈষম্য এবং ব্যক্তিগত স্বার্থের সংঘাত গল্পটিকে অন্য মাত্রা দিয়েছে। রহস্যের জটিলতা যেমন পাঠককে টেনে রাখে, তেমনই অনুসন্ধানের প্রতিটি ধাপ বাস্তবসম্মত বলে মনে হয়।
তৃতীয় গল্প ‘স্মরগরল’ সম্ভবত সংকলনের সবচেয়ে বহুমাত্রিক আখ্যানগুলির একটি। একাধিক বিচ্ছিন্ন ঘটনা ধীরে ধীরে এক সুতোয় গাঁথা হতে থাকে এবং সেই প্রক্রিয়ায় উন্মোচিত হয় তৎকালীন ইউরোপীয় সমাজের অভ্যন্তরীণ টানাপোড়েন। লেখক এখানে রহস্যের পাশাপাশি সামাজিক পর্যবেক্ষণেরও চমৎকার পরিচয় দিয়েছেন।
সংকলনের শেষ গল্প ‘উল্কা’ আমার বিচারে এই বইয়ের শ্রেষ্ঠ আখ্যান। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সূচনাকালের কলকাতাকে পটভূমি করে নির্মিত এই কাহিনিতে পারিবারিক রহস্য, অদ্ভুত মৃত্যু এবং বৃহত্তর সামাজিক পরিবর্তনের ইঙ্গিত একসূত্রে মিলেছে। গল্পের আবহ, চরিত্রের নির্মাণ এবং রহস্যের ক্রমোন্মোচন এমন দক্ষতার সঙ্গে রচিত যে বাংলা গোয়েন্দা সাহিত্যের স্বর্ণযুগের স্মৃতি জাগিয়ে তোলে।
পিয়া সরকারের লেখার সবচেয়ে বড় শক্তি তাঁর গবেষণা। ঐতিহাসিক তথ্য কখনও গল্পের গতিকে ব্যাহত করেনি; বরং কাহিনির অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে উঠেছে।
যাঁরা বাস্তবধর্মী তদন্তভিত্তিক রহস্যকাহিনি পছন্দ করেন, বিশেষ করে ঐতিহাসিক পটভূমিতে নির্মিত গোয়েন্দা গল্পের অনুরাগী, তাঁদের জন্য উল্কা নিঃসন্দেহে একটি অত্যন্ত উপভোগ্য পাঠ।
Displaying 1 - 5 of 5 reviews






