জন্ম ২২শে ডিসেম্বর। সাইফাই ও ফ্যান্টাসি প্রিয়। বিভিন্ন গল্প সংকলন ও পত্রিকায় লেখালেখি ছাড়াও সম্পাদনা করেছেন কিছু সংকলন ও ম্যাগাজিন। শখের বশে টুকটাক অনুবাদ করে থাকেন। সেই সাথে একজন প্রকাশক, প্রফেশনাল প্রুফরিডার, এডিটর এবং বুককভার ডিজাইনার। প্রকাশিত বইসমূহ : পলাতক (২০১৮), এক পাতার গল্প (২০২৩), বিয়ে থা (২০২৪) প্রকাশিতব্য বইসমূহ: শবশিঙা: জিঘাংসা, সংক্রমণ ১.০
Sazal Chowdhury is a Bangladeshi author, editor, and translator with a keen interest in science fiction and fantasy. He began writing for literary magazines and anthologies, later expanding into editing curated collections and periodicals. His creative work often blends imagination with a sharp sense of narrative structure, while his translations bring lesser-known voices into new linguistic landscapes.
Alongside writing, Sazal is a publisher, professional proofreader, literature editor, and book cover designer.
Published Works: Palatak (Sci-fi, 2018), Ek Patar Golpo (Micro fiction, 2023), Biye Tha (Meta Fiction, 2024)
একেবারে শুরু থেকে আসি কেমন? বইয়ের প্রচ্ছদটা সুন্দর। উৎসর্গ করা হয়েছে '৫২ এর ভাষা আন্দোলনে নিহত অহিউল্লাহকে। উৎসর্গের কথা এই জন্যই বিশেষভাবে বলা, কারণ এখানে যা লেখা হয়েছে, যেভাবে লেখা হয়েছে, সেটা অসাধারণ। আর ভূমিকা। ওখানে লেখা হয়েছে, ভূমিকা পড়ছেন? তার মানে ধরে নেয়া যায়, আপনি একজন পাঠক, যিনি শুরু থেকেই শুরু করেন। ভূমিকার পরের লাইনগুলো পড়ুন কিংবা নাই পড়ুন, বইটা হাতে নেওয়ার জন্য একটা ধন্যবাদ আপনার অবশ্য প্রাপ্য। কি অসাধারণ, তাই না?
একুশজন লেখকের একুশটা গল্প। নতুন লেখক। হয়তো প্রথম ছাপা হওয়া বই। আমার ভালো লেগেছে। অসমাপ্ত মৃন্ময়ীর গল্পটা পড়ে আমার খারাপ লেগেছে এর হ্যাপি এন্ডিং না হওয়ার জন্য। এমন না যে আমি হ্যাপি এন্ডিং এর কাঙাল। আমার আপু গল্পেও হ্যাপি এন্ডিং নেই। কিন্তু এটার কথা আলাদা। আসলে মায়া জাগ্রত হওয়ার পর যখন দেখি জঘন্য মন খারাপ হওয়া এন্ডিং তখন যা খারাপ লাগে!
ধাওয়া এবং অনুভব। দুটো সাই-ফাই। সবচেয়ে দুর্বল এ-দুটোকেই লেগেছে আমার। খুব বেশি ভালো হয়নি। স্ট্রাকচার খুব বেশি পরিচিত এবং নতুনত্ব নেই।
রোমান্টিক গল্প একজন মায়াবতী, আসবে বলে... , একটি ভালবাসা অতঃপর... , আছে অথবা নেই। এগুলো নিয়ে আমার মন্তব্য হচ্ছে, ভালোই তো লাগে 3:) এগুলোর মধ্য আছে অথবা নেই, একটি ভালবাসা অতঃপর... গল্পদুটোয় সাইকোলজিক্যাল ব্যাপার আছে। ভালো লেগছে। তবে একটু ভালবাসা অতঃপর... খুব তাড়াহুড়োয় শেষ হয়েছে বলে মনে হচ্ছে। রোদসীর ব্যপারটা আরেকটু থাকলেই ভালো লাগতো।
সিরিয়াল কিলিং টাইপের গল্প পৃম্ফী। ধরো, দুই ভাই, একভাই আরেক ভাইকে মোবাইলে খেলতে দিচ্ছে না বলে তাকে মেরে ফেলে মোবাইল নিয়ে নিল। যত ইচ্ছে খেলল, বড় ভাই তাকে আর কিছুই বলতে পারছে না। কি রোহমর্ষক!
একটি হাসপাতাল। এর পাশে রয়েছে ডাস্টবিন, ডাস্টবিনের আশেপাশে বাস কুকুরের। কুকুরের খাদ্য মানুষ। হুঁ মানুষ। ভ্রুণ, সেটা দুই/তিন মাস হতে পারে, সেটা সাত/আট মাসেরও হতে পারে। একজন ডাক্তার, উনি এবং তার স্ত্রী আব্বু, আম্মু হতে যাচ্ছে। স্বপ্নের কুকুররূপী ভ্রুণগুলো কি বাস্তবে সফল হতে পারবে? মমতা গল্পটা ভালো।
ব্লু বার্ড ডাউন এবং কিশোর যোদ্ধা। মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক গল্প। একটি জঙ্গী বিমান। কোড নেইম ব্লু বার্ড ওয়ান সিক্সটি সিক্স। এই সেই বিমান যে বিমানে করে মতিউর রহমান যোগ দিতে চেয়েছিলেন মুক্তিযুদ্ধে। গল্পটা সবারই জানা। অস্তিত্বে আমার দেশ মুভিটা দেখেলেও জানা হয়ে যায়। কিন্তু কথা হচ্ছে, বর্ণনার ভঙ্গি ভালো। আর কিশোর যোদ্ধা গল্পটা খুব বেশি টানেনি :(
পিপীলিকার পাখা। ভালো আবার ভালো না। মেইল করে প্রতারণা করা একটু খুব বেশি বড় Companyকে! তাও আবার জেনুইন আইডি থেকে! ওহ নো, বেশি বাচ্চামী হয়ে গেল তো!
গাছঘর কিংবা এক হারানো বন্ধুর গল্প। এই গল্পটা পড়ে আমার শৈশবের বন্ধুদের কথা মনে করতে ইচ্ছে করলো। কিন্তু না, মনে করতে পারলাম না। সেই নার্সারি থেকে ক্লাস থ্রি, একটা ছেলে-মেয়ের কথাও আমার স্মৃতিতে নেই :O গল্পটা এক বন্ধুকে নিয়ে। ভালো। লেখক আমার roommate। অবশ্য নামেই roommate আরকি। শহুরে মানুষ। গ্রাম ভালো লাগে না, তাই হলেও থাকে না। দুর্জয়ের আগে যেসব গল্প পড়েছি তার চেয়ে এটাকেই আমি এগিয়ে রাখবো। BTW, এককালে আমিও ড্রইং শিখতাম :D খুব মজার ছিল সেটা। ইচ্ছেমতো আঁকতাম। গল্পটার মত এত কড়া ছিল না। দুইটা মাত্র rank ছিল। প্রথম আর দ্বিতীয়। ১০০ পেলে ১ম, আর ৯৫ পেলে দ্বিতীয়। সবাই পেত চকলেট :D
পরাবাস্তব গল্পটা পড়ার পর আমার অনুভূতি হচ্ছে, মেডিকেলের স্টুডেন্টের মেডিকেল জ্ঞান নেই! বন্ধুর সাইকোলজিক্যাল সমস্যা আছে, সেটা নিয়ে হাসাহাসি। তাহলে সাধারণ মানুষের কি অবস্থা একবার চিন্তা করে দেখ!
একটি বলপয়েন্ট এবং কয়েকটি অপূর্ণ বৃত্ত। গল্পটার প্রথম চ্যাপ্টারের সাথে বাকীগুলোর কোন সম্পর্ক পেলাম না। রেজাল্ট খারাপ করা নিয়ে যারা বকুনি দেয়, তাদের পিটানো উচিৎ।
রহস্যময় গল্প অন্তনীল। শেষ প্যারাটার জন্য লেখককে ধন্যবাদ। ওটাই রহস্য :) অদ্ভুতুড়ে ছায়ালোক গল্পটাও রহস্যের। তবে এটা খুব বেশি ভালো না। প্ল্যান গল্পটাও একই ঘরনার। তবে এটার মধ্যে তো রহস্য তেমন নেই। বোঝা যায়, শেষমেশ কি হবে।
বোকামী গল্পটার সমস্যা হচ্ছে, এখানে রহস্যের খুব দ্রুত সমাধান হয়ে গেল। সন্দেহ করা হল নওরিন, সোলায়মান আর আসলামকে। কিন্তু আসলামকে কিছু জিজ্ঞেস করার আগেই রহস্যের সমাধান। তাহলে আসলামকে রাখার কি দরকার ছিল। বা কিছু ভুজুং-ভাজুং লিখে দিলে সমস্যা কি ছিল?
ভূমিকা এবং উৎসর্গ দেখেই বোঝা যায় এটা ভালোভাবেই সম্পাদিত। সম্পাদক হয়তো লেখকদেরই কেউ। তো তাঁর নামটা দিলে সমস্যা কি ছিল?
এই অটোগ্রাফটা পেয়ে আমার খুব ভালো লাগছে। দুর্জয়, ভালো লেখক হয়ে উঠো :)
ফেসবুক গ্রুপ 'গল্প লেখা প্রতিযোগিতা' এর তত্ত্বাবধায়নে বিসর্গ গল্প সংকলনটি প্রকাশিত হয়। মোট ২১ জন লেখকের ২১ টি গল্প আছে এতে। সবগুলো গল্প নিয়ে সংক্ষেপে আমার অভিমতটা জানানোর চেষ্টা করছি।
আমার আপু - আরজে কুবের মাঝি : ভাই-বোনের খুনসুটির মধ্য দিয়ে কাহিনী ভালোই এগিয়ে যাচ্ছিল। তবে শেষ বেদনাদায়ক। উপস্থাপনা ভাল ছিল।
ব্লু বার্ড ডাউন - মোহাম্মদ তুষার : একজন বীরশ্রেষ্ঠকে নিয়ে লেখার ধৃষ্টতা দেখিয়েছেন, এজন্য লেখক অবশ্যই প্রশংসার দাবিদার। গল্পটা ভালই ছিল।
পিপীলিকার পাখা - সিহাব তানিম : থিমটা আনকমন ছিল কিন্তু লেখার স্টাইলটা বিরক্তিকর। পাঠকের মনোযোগ ধরে রাখার মত সাবলীল শব্দচয়নের অভাব ছিল লেখাটায়।
কিশোর যোদ্ধা- রাফায়েত রহমান রাতুল : থিম এবং বর্ণনাভঙ্গি দুটোই ভাল ছিল। পড়তে খুব একটা খারাপ লাগে নি।
অন্তলীন - মাদিহা মৌ : থিমটা ভাল, তবে লেখিকাকে তার লেখনীর উপর আরো কাজ করতে হবে। লেখায় রহস্যভাব ধরে রাখার প্রচেষ্টা খুব একটা নাই।
প্র-বাঁশ : মোঃ সাজিদুল ইসলাম : শব্দচয়ন চমৎকার। রম্যগল্প হিসেবে পারফেক্ট। সুখপাঠ্য।
মমতা - ফারজানা ঊর্মি : অ্যাবরশন নিয়ে অনেক গল্প লেখা হলেও এই গল্পের থিমটা ব্যতিক্রম ছিল। ভাষাশৈলী অসাধারণ। সুখপাঠ্য।
বোকামি - ইমরান বিন ইউসুফ : মার্ডার স্টোরি, কাহিনীর টুইস্ট আহামরি কিছু নয়। তবে লেখার হাত ভাল। থিমটা নিয়ে আরেকটু গবেষণা করলে ভাল হত।
একজন মায়াবতী - মোঃ খালিদ রহমান : কিউট একটা রোমান্টিক গল্প। চঞ্চল এক মায়াবতীর গল্প। সুখপাঠ্য।
গাছঘর কিংবা এক হারানো বন্ধুর গল্প - দুর্জয় বৈদ্য : থিমটা ভালোই ছিল। তবে উপস্থাপনা বিরক্তিকর। চমৎকার একটা গল্প হতে পারত, কিন্তু হয়নি।
পৃম্ফী - রাফি আদনান : স্টার্টিং টা হিমুর মত হলেও গল্পটা ভাল ছিল। থিমটা ভয়ংকর। উপস্থাপনাও যথেষ্ট ভাল।
একটি ভালবাসা অতঃপর - নাছরিন জাহান রীতু : রোমান্টিক গল্প এক জিনিস, ন্যাকামি অন্য জিনিস। বাজে ছিল গল্পটা।
আছে অথবা নেই - আজিজুল গাফফার মিসবাহ : ইদানীং সব রোমান্টিক গল্পে গল্পে শেষে একজনকে মেরে ফেলা কিংবা সব স্কিৎজোফ্রেনিয়ার উপর ��িয়ে চালিয়ে দেয়ার একটা ট্রেন্ট বের হয়েছে। এটাও সেরকম, গতানুগতিক রোমান্টিক গল্প। তবে ভাষাটা স্ট্যান্ডার্ড।
প্লান - জাকির হোসেন : কাহিনীটা যথেষ্ট স্ট্রং, কিন্তু লেখক সেটাকে পর্যাপ্ত মাল-মসলা দিয়ে সঠিকভাবে উপস্থাপন করতে পারেন নি। এটা অবশ্যই লেখকের ব্যর্থতা।
একটি বলপয়েন্ট এবং কয়েকটি অপূর্ণ বৃত্ত - হাদিসুর হাদি : থিমটা খুব একটা ভাল লাগে নাই তবে উপস্থাপনা চমৎকার ছিল।
অনুভব - সালমান রহমান (পিয়াল) : বারমুডা ট্রায়াঙ্গল কে একটি ভিন্ন এঙ্গেল থেকে ব্যাখ্যা করা হয়েছে। থিমটা যথেষ্ট ভাল। পড়েও মজা পেয়েছি।
অদ্ভুতুড়ে ছায়ালোক - কাওসার পারভীন : বিরক্তিকর একটা গল্প। থিমটা বাজে, উপস্থাপনাও খুব একটা ভাল না।
আসবে বলে - সুমাইয়া শারমিন : গল্পের সবচেয়ে পজেটিভ দিক হল এর ধারাবর্ণনা। উপস্থাপনাটা চমৎকার লেগেছে আমার কাছে। রোমান্টিক গল্প হলেও থিমটা ভাল ছিল।
ধাওয়া - সজল চৌধুরী : চমৎকার একটি সাই-ফাই। উপস্থাপনা খুব একটা ভাল না, কিন্তু চলে। সব মিলিয়ে পড়তে একেবারে খারাপ লাগেনি।
পরাবাস্তব - জাহিন গালিব (আপেক্ষিক) : সত্য ঘটনা অবলম্বনে লেখা, তাই থিম নিয়ে কিছু বলছি না। তবে উপস্থাপনা খুব একটা ভাল হয় নি।