Jump to ratings and reviews
Rate this book

রুদ্র-মঙ্গল

Rate this book
Rudro-Mongol by Kazi Nazrul Islam

38 pages, Kindle Edition

First published January 1, 1927

7 people are currently reading
89 people want to read

About the author

Kazi Nazrul Islam

162 books274 followers
Kazi Nazrul Islam (Bengali: কাজী নজরুল ইসলাম) was a Bengali poet, musician and revolutionary who pioneered poetic works espousing intense spiritual rebellion against fascism and oppression. His poetry and nationalist activism earned him the popular title of Bidrohi Kobi (Rebel Poet). Accomplishing a large body of acclaimed works through his life, Nazrul is officially recognised as the national poet of Bangladesh and commemorated in India.

Ratings & Reviews

What do you think?
Rate this book

Friends & Following

Create a free account to discover what your friends think of this book!

Community Reviews

5 stars
17 (54%)
4 stars
13 (41%)
3 stars
1 (3%)
2 stars
0 (0%)
1 star
0 (0%)
Displaying 1 - 6 of 6 reviews
Profile Image for Rifat.
501 reviews328 followers
December 13, 2020

আরে আরে! নজরুল সাহেব দেখছি খুব রসিক। যে সকল ধর্ম-প্রাণ ভাইয়েরা ইহজাগতিক কাজ শেষ করে ধর্মকে বাঁচানোর জন্য কাঁদা ছোঁড়াছুঁড়িতে লেগে যায় আর শেষে রক্তারক্তির অঞ্জলি ঘটায়; তাদের নিয়ে লিখেছেন। তাদের নামটাও তো বেশ দিয়েছেন- ধর্ম মাতাল (ধর্মের স্পেশাল সুরা পান করলেই এই মাতাল হওয়া যায়)
ইসসসশ! নজরুল সাহেব আজকের এই আধুনিক ধর্ম মাতালদের কমেন্টে কমেন্টে তরবারি চালনা যদি দেখতে পারতেন! তাহলে তো এই নামকরণের জন্য নিজেই গর্ববোধ করতেন! বলতেন- উত্তম! অতি উত্তম! ¬_¬


" সম্মুখে গভীর তিমির। পথ নাই। আলো নাই। প্রলয়-সাইক্লোনের আর্তনাদ মরণ-বিভীষিকার রক্ত-সুর বাজাচ্ছে। তারই মাঝে মাকে আমার উলঙ্গ করে টেনে নিয়ে চলেছে আর চাবকাচ্ছে যে, সে দানবও নয়, দেবতাও নয়, রক্ত-মাংসের মানুষ। ধীরে ধীরে পিছনে চলেছে তেত্রিশ কোটি আঁধারের যাত্রী। তারা যতবার আলো জ্বালাতে চায়, ততবারই নিভে নিভে যায়। তাদের আর্তকণ্ঠে অসহায়ের ক্রন্দন, ‘বোধন না হতে মঙ্গলঘট ভেঙেছে –’। শুধু ক্রন্দন, শুধু হা-হুতাশ – শক্তি নাই, সাহস নাই। "
আমাদের বেশিরভাগ সাধারণ পরিবারে সেই ছোট্টবেলা থেকে শিক্ষা দেয়া হয়-
বাবা! কোনো গণ্ডগোল দেখলে সোজা বাড়ি চলে আসবি, কেউ কিছু বললে শোনার দরকার নাই,ঝামেলায় জড়ানোর দরকার নাই। শোন মা! রাস্তায় কেউ যদি বাজে কিছু বলে তার উত্তর দেয়ার দরকার নাই, বাড়ি চলে আসবি।
এই শিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে তারা রাস্তায় দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে তামাশা দেখে। খুব ভিড় হয় সেখানে! সর্বোত্তম মস্তিষ্কধারীদের ভিড় ;)

~১৩ ডিসেম্বর, ২০২০




***কলেজে থাকতে এই বইয়ের "আমার পথ" প্রবন্ধটা পাঠ্য বইতে ছিল। মেলা প্রিয় ছিল। আজকে প্রবন্ধটা পড়ে একটু নস্টালজিক হয়ে গেছিলাম।
Profile Image for Nuhash.
223 reviews6 followers
March 10, 2023
"রুদ্র-মঙ্গল"

অন্যতম সচেতনতামূলক প্রবন্ধগ্রন্থ। তার লেখার মাঝে কি যে শক্তি আর অনুপ্রেরণা রয়েছে তা প্রবন্ধ না পড়লে জানা সম্ভব নয়। সমাজকে তুলোধুনো করে প্রকাশ, ধর্মের নামে অবিচার, নিজের বাঁচানোর জন্য ধর্মের দোহাই দেওয়া কিংবা অত্যাচার নিপীড়নের বিরুদ্ধে তার কলমই যথেষ্ট প্রতিবাদ করার জন্য। জানালার ধারে যখন মুখ করে বসে ভাবী, আদ্যো কি স্বাধীনতা পেলাম? মনে হয়, আমার মতো মজলুমের ফরিয়াদে আকাশের সারা গায়ে আজ জ্বালা, বাতাসের নিঃশ্বাসে ব্যথা, মাতা বসুমতীর বুক ফেটে নির্গত হচ্ছে অগ্নিস্রাব আর ভস্মধূম।

যতদিন এই পৃথিবীতে অত্যাচার-অত্যাচার-নিপীড়নের সমাজ থাকবে, যে খানে থাকবে বৈষম্য নজরুল ইসলাম থাকবে কলম হাতে। তিনি নর-নর-নারীদের আহবান করেছেন এসো,

"মারো তোমার ত্রিশূল ছুঁড়ে, দুলাও তোমার সর্বনাশের ঝান্ডা, কে আছে ভৈরব পন্থী নর-নারী, আর হাঁকো হাঁকো

জয় ভৈরব জয় শঙ্কর
জয় জয় প্রলয়ঙ্কর।"

"আমার পথ" দ্বাদশ শ্রেণিতে তো পড়েছি। তখনই মনে হতো, স্যারদের অত্যাচারের বিরুদ্ধে ঝাপিয়ে পড়ি। এই প্রবন্ধের প্রতিটি লাইন বুকের মাঝে বসে প্রলয়নৃত্য করে। মিথ্যে বিনয় করে লাভ নেই, এর থেকে পৌরুষ অহংকারের জিনিস। এই যে নিজেকে চেনা, নিজের সত্যকে আপনার মনে করে এগিয়ে চলা সব মানুষ পারবে না। যে পারবে সে হবে মহৎ। আত্ম-আত্ম-জিজ্ঞাসার মাধ্যমে তো আসবে স্বাবলম্বিতা। "আমি আছি বলতে হবে, তা না বলে যদি বলি, মহাত্মা গান্ধী আছেন তাহলে জীবনে বাঙালি জাতি এগোবে না তিনি আঙুল দিয়ে দেখিয়েছেন।

"ক্ষুদিরামের মা" প্রবন্ধে ক্ষুদিরাম বাংলার প্রতিটি মায়ের সূর্য সন্তান রুপে তিনি উপস্থাপন করেছেন। সে যেন প্রতিটি মায়ের সদ্য প্রসূত বাচ্চার কান্নার ধ্বনি।

শেষে বলি কাজী নজরুল গুরুদেব রবীন্দ্রনাথের সাথে হিন্দু মুসলিম সম্প্রদায় নিয়ে কথা বলতে গিয়ে আবিষ্কার করেন অন্য সত্য। গুরুদেব বলেন, "দেখো, যে ন্যাজ বাইরের, তাকে কাটা যায়, কিন্তু ভিতরের ন্যাজকে কাটবে কে? এই হচ্ছে আমাদের তক্কমা লাগানো কথিত হিন্দু-মুসলমানের অবস্থা।
Profile Image for Sohan.
274 reviews75 followers
June 23, 2020
যে ন্যাজ বাইরের, তাকে কাটা যায়, কিন্তু ভেতরের ন্যাজকে কাটবে কে?
কথাটা রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের। নজরুলের সাথে হিন্দু মুসলিম দাঙ্গার প্রশঙ্গে কথাটা গুরুদেব নজরুলকে বলেন। প্রবন্ধগুলো বেশ ঝরঝরে আর কাটা কাটা। যা বলতে চান তা স্পষ্ট। কোন রকমের রাখঢাক নেই।
'ধূমকেতু' কি চায়?
'ধূমকেতু' ভারতবর্ষের পূর্ণ স্বাধীনতা চায়।
'ধূমকেতু' বারবার তরুণদের সতর্ক করে দিচ্ছেন ভ্রান্ত মেকি পথ থেকে সরে আসতে।
সবথেকে ভাল লেগেছে যে কথাটা তা হল, গান্ধী রবীন্দ্রনাথ বা অরবিন্দের 'ভক্ত' নিয়ে।
এক্কেবারে সিধে কথা, তুমি যাকে পূর্ণরূপে চেনো না, তাঁর অন্ধ ভক্ত হোয়ও না। রবীন্দ্রনাথকে চিনতে না পারলে, বুঝতে না পারলে, অন্ধ রবীন্দ্র ভক্ত হয়োনা।
প্রসঙ্গটা সে সময় যেমন ভীষণ প্রাসঙ্গিক ছিল এখনো কিন্তু এই প্রশঙ্গ টাটকা।
নজরুল সরাসরি বলছেন, তুমি রবিন্দ্রনাথকে না চিনে অন্ধ ভক্তি দেখালে, তুমি রবিন্দ্রনাথকেই অপমান করলে।
Profile Image for আদিব রাইয়ান.
12 reviews2 followers
July 29, 2021
"রুদ্র মঙ্গল" কাজী নজরুল ইসলামের অন্যতম চমৎকার একটি প্রবন্ধ গ্রন্থ। বইটি মূলত ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে রচিত। বৃটিশ শাসনামলে হিন্দু মুসলমানদের মধ্যে এক অশালীন দ্বন্দ্ব চলছিলো, যার সুবিধাভোগী ছিল বৃটিশ সরকার।

সাম্প্রদায়িক দ্বন্দ্ব ভুলে সবাইকে এক হওয়ার আহবান জানিয়ে কাজী নজরুল তখন "রুদ্র মঙ্গল" বইটি লিখেন। তিনি মূলত হিন্দু মুসলমানদের মধ্যকার দ্বন্দ্বের অবসান করে এক হয়ে বৃটিশদের বিরুদ্ধে এগিয়ে আসার আহবান জানিয়েছিলেন।
তাঁর সে চেষ্টা সফলও হয়েছিল বলা যায়। সকলে তখন নিজ মধ্যকার সাম্প্রদায়িকতা ভুলে গিয়ে বৃটিশদের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়েছিল।

নজরুলের প্রবন্ধ গ্রন্থটিতে রয়েছে - রুদ্র মঙ্গল, আমার পথ, মোহররম, বিষ-বাণী, ক্ষুদিরামের মা, 'ধুমকেতু'র পথ, মন্দির ও মসজিদ, হিন্দু -মুসলমান এর মতো চমৎকার সব প্রবন্ধ। যা বৃটিশ বিরোধী আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে হলেও জীবনের পথচলায় প্রতিটি কদমে সবার জন্য ই দরকার।

নজরুল দেখিয়েছেন কিভাবে মাথা উঁচু করে কথা বলতে হয়। কিভাবে মিথ্যের সামনে নত না হয়ে সত্যকে তুলে ধরা যায়।
প্রিয় নজরুল সর্বোপরি এটাই দেখাতে চেয়েছেন - সাম্প্রদায়িকতার মিথ্যে হাঙ্গামায় না জড়িয়ে ভেতরের সত্যটাকে উপলব্ধি করতে। দুই ধর্মের প্রতি যথাযথ সম্মান রেখে কবির চমৎকার এই গাঁথা মানুষের জীবনে যুগ যুগ ধরে প্রেরণা জোগাবে।
মেলে দেবে সত্যের চোখ, যে চোখ মানুষকে মানুষ হিসেবেই দেখে, ধর্মের চোখে নয়।

প্রিয় লাইন - যাঁকে বুঝি না, যাঁর মত বুঝতে পারি না, তাঁর মুখের সামনে মাথা উঁচু করে বলতে হবে যে আপনার মত বুঝতে পারছি নে বা আপনার এ-মত এই-এই কারণে ভুল। তাতে যিনি সত্যিকারের দেবতা, তিনি কখনোই রুষ্ট হবেন না।

সর্বোপরি- "রুদ্র মঙ্গল" বইটি প্রত্যেকের একবার হলেও পড়া উচিত বলে মনে করি।
This entire review has been hidden because of spoilers.
Profile Image for Hanif.
159 reviews6 followers
July 1, 2024
বিদ্রোহ মানে কাউকে না-মানা নয়, বিদ্রোহ মানে যেটা বুঝি না, সেটাকে মাথা উঁচু করে ‘বুঝি না’ বলা। যে-লোক তার নিজের কাজের জন্য নিজের কাছে লজ্জিত নয়, সে ক্রমেই উচ্চ হতে উচ্চতর স্তরে স্বর্গের পথে উঠে চলবেই চলবে। আর যাকে পদে পদে তার ফাঁকি আর মিথ্যার জন্য কুণ্ঠিত হয়ে চলতে হয়, সে ক্রমেই নীচের দিকে নামতে থাকে, এইটাই নরক-যন্ত্রণা। আমার বিশ্বাস, আত্মার তৃপ্তিই স্বর্গসুখ। আর আত্মপ্রবঞ্চনার পীড়াই নরক-যন্ত্রণা। ‘ধূমকেতু’র মত হচ্ছে এই যে, তোমার মন যা চায়, তাই করো।

হিন্দু-মুসলমানের দাঙ্গা, ইংরেজদের বিরুদ্ধে তীব্র বিদ্রোহ, আর সমাজে অবহেলিত এবং নির্যাতিত মানুষদের নিয়েই, ৮টি প্রবন্ধের সমন্বয়ে, নজরুলের এই 'রুদ্র-মঙ্গল'।
ক্ষুদিরামদের মা, বিষ-বাণী, আমার পথ, হিন্দু-মুসলমান অন্যতম।
Displaying 1 - 6 of 6 reviews

Can't find what you're looking for?

Get help and learn more about the design.