What do you think?


হৈমন্তী
IF YOU RATE THIS PLEASE DON'T RATE A CHARACTER INSTEAD BY MISTAKE. TAGORE DOESN'T IDOLIZE THE ONE HE DECONSTRUCTS TO SHOCK US! Taught at college level across India, this gem of a short story originally written in Bengali in 1914, lays bare the heart of matrimonial relations in a significant part of nineteenth and twentieth century as well as an uncertain proportion of twenty-first century India. This piece from Tagore will give you more insight into traditional Indian concepts of arrange marriage and joint family than can be attained by merely spending a lifetime in India. If you stay till the end, make sure to compare the final paragraph of the story with the first three and you will see why for the vulture of metaphor it is an endless circle of feeding where beginning follows the end …
Kindle ASIN: B00874NTB8
Kindle ASIN: B00874NTB8
Unknown Binding
First published May 28, 2012
About the author
Rabindranath Tagore
2,740 books4,397 followersAwarded the Nobel Prize in Literature in 1913 "because of his profoundly sensitive, fresh and beautiful verse, by which, with consummate skill, he has made his poetic thought, expressed in his own English words, a part of the literature of the West."
Tagore modernised Bengali art by spurning rigid classical forms and resisting linguistic strictures. His novels, stories, songs, dance-dramas, and essays spoke to topics political and personal. Gitanjali (Song Offerings), Gora (Fair-Faced), and Ghare-Baire (The Home and the World) are his best-known works, and his verse, short stories, and novels were acclaimed—or panned—for their lyricism, colloquialism, naturalism, and unnatural contemplation. His compositions were chosen by two nations as national anthems: India's Jana Gana Mana and Bangladesh's Amar Shonar Bangla.
The complete works of Rabindranath Tagore (রবীন্দ্র রচনাবলী) in the original Bengali are now available at these third-party websites:
http://www.tagoreweb.in/
http://www.rabindra-rachanabali.nltr....
Tagore modernised Bengali art by spurning rigid classical forms and resisting linguistic strictures. His novels, stories, songs, dance-dramas, and essays spoke to topics political and personal. Gitanjali (Song Offerings), Gora (Fair-Faced), and Ghare-Baire (The Home and the World) are his best-known works, and his verse, short stories, and novels were acclaimed—or panned—for their lyricism, colloquialism, naturalism, and unnatural contemplation. His compositions were chosen by two nations as national anthems: India's Jana Gana Mana and Bangladesh's Amar Shonar Bangla.
The complete works of Rabindranath Tagore (রবীন্দ্র রচনাবলী) in the original Bengali are now available at these third-party websites:
http://www.tagoreweb.in/
http://www.rabindra-rachanabali.nltr....
Ratings & Reviews
Friends & Following
Create a free account to discover what your friends think of this book!
Community Reviews
Displaying 1 - 30 of 36 reviews
February 21, 2018
বাংলা ছোটগল্প রচনার পথিকৃৎ শিল্পী রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। হৈমন্তী তার এক অনুপম সৃষ্টি। ১১৯টি গল্প লিখে তিনি বাংলা ছোটগল্পের জনকতুল্য শিল্পীর মর্যাদা পান । কখনো প্রেম-ভালোবাসা, কখনো সামাজিক নিগড়, কখনো সমাজের মানুষগুলোর সম্পর্ক-বৈচিত্র্য, কখনো প্রকৃতির সঙ্গে মানব মনের অন্তরঙ্গ সম্পর্ক, কখনোবা অতিপ্রাকৃত বিষয়বস্তু ইত্যাদির সরস বর্ণনায় গল্পকে ফুটিয়ে তোলেন তিনি। হৈমন্তী গল্পে তিনি সমকালীন সমাজ জীবনের এমন কিছু চিত্র, মানুষের সম্পর্কজালের মধ্যে বহমান এমন কিছু বিচ্যুতি সাংকেতিক বাকবৈদগ্ধ্যে তুলে ধরেন যে ভাবলে অবাক হতে হয়, এতো সহজভাবে কী করে তিনি পারেন এমন সূক্ষ্মভাবে জীবনের জটিল-কূটিল রূপকে তুলে ধরতে! কতোটা সহজে তিনি হৈমন্তী চরিত্রকে বাস্তব সম্মত করে উপস্থাপন করেন। তার আশপাশের মানুষগুলোর মুখোশ তিনি উন্মোচন করেন। কিছু বাক্য বিন্যাসে একটা সমাজের পুরো চেহারা তিনি এঁকে ফেলেন। অথচ এজন্য তিনি কোনো উপন্যাসের আশ্রয় গ্রহণ করেন নি।
শিক্ষিত পিতার একমাত্র কন্যা হৈমন্তী। সে মাতৃহীন। হিমালয়ের পাদদেশে পিতার উদারচিত্ত মেজাজ, মনন ও স্নেহস্পর্শে মানুষ সে। মিথ্যে বলা, প্রতারণা, অন্যায়কে প্রশ্রয় দেয়া- এসব সে শেখে নি। অন্যের মধ্যেও সে এসব খোঁজে না, দেখতে পায় না। তাই শ্বশুর বাড়িতে বাস্তব জীবনের ঘূর্ণাবর্তে পড়ে সে যেনো পিষ্ট হচ্ছিলো, নিষ্পেষিত হচ্ছিলো। গল্পের সূচনা তাকে নিয়ে, শেষও তাকে দিয়ে। তার বিয়ে, বিয়ের জন্য তাড়া, তার আইবুড়ো বয়স, ভাবী বউয়ের কল্পনায় হবু বরের ভেতরে তীব্র রতিবোধ, তার হবু শ্বশুরের মোটা অংকের যৌতুক প্রত্যাশা ইত্যাদি কোনোকিছুই কল্পনা করতে পারে নি সে। অথচ বিয়ের আগে থেকেই শ্বশুরবাড়িতে এগুলো কেমন যেনো লতিয়ে ডালপালা বিস্তার করে তার জন্য অপেক্ষা করে। হৈমন্তী তা ঘূর্ণাক্ষরেও জানতো না।
এই গল্পে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর সংক্ষিপ্ত পরিসরে কিছু শব্দ, পদ ও বাক্যযোজনায় ব্যক্তি ও সমাজ চরিত্রের যে সমস্ত অর্থপূর্ণ ইঙ্গিত দিয়ে একটি পরিপূর্ণ সমাজ চিত্র এঁকেছিলেন,তার তুলনা হয় না। এটাই ছোটগল্প। এরই নাম হৈমন্তী।
শিক্ষিত পিতার একমাত্র কন্যা হৈমন্তী। সে মাতৃহীন। হিমালয়ের পাদদেশে পিতার উদারচিত্ত মেজাজ, মনন ও স্নেহস্পর্শে মানুষ সে। মিথ্যে বলা, প্রতারণা, অন্যায়কে প্রশ্রয় দেয়া- এসব সে শেখে নি। অন্যের মধ্যেও সে এসব খোঁজে না, দেখতে পায় না। তাই শ্বশুর বাড়িতে বাস্তব জীবনের ঘূর্ণাবর্তে পড়ে সে যেনো পিষ্ট হচ্ছিলো, নিষ্পেষিত হচ্ছিলো। গল্পের সূচনা তাকে নিয়ে, শেষও তাকে দিয়ে। তার বিয়ে, বিয়ের জন্য তাড়া, তার আইবুড়ো বয়স, ভাবী বউয়ের কল্পনায় হবু বরের ভেতরে তীব্র রতিবোধ, তার হবু শ্বশুরের মোটা অংকের যৌতুক প্রত্যাশা ইত্যাদি কোনোকিছুই কল্পনা করতে পারে নি সে। অথচ বিয়ের আগে থেকেই শ্বশুরবাড়িতে এগুলো কেমন যেনো লতিয়ে ডালপালা বিস্তার করে তার জন্য অপেক্ষা করে। হৈমন্তী তা ঘূর্ণাক্ষরেও জানতো না।
এই গল্পে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর সংক্ষিপ্ত পরিসরে কিছু শব্দ, পদ ও বাক্যযোজনায় ব্যক্তি ও সমাজ চরিত্রের যে সমস্ত অর্থপূর্ণ ইঙ্গিত দিয়ে একটি পরিপূর্ণ সমাজ চিত্র এঁকেছিলেন,তার তুলনা হয় না। এটাই ছোটগল্প। এরই নাম হৈমন্তী।
January 2, 2017
"আমার মনে একটা ভাবনা ছিল যে , লেখাপড়া-জানা বড়ো মেয়ে , কী জানি কেমন করিয়া তাহার মন পাইতে হইবে । কিন্তু, অতি অল্পদিনেই দেখিলাম , মনের রাস্তার সঙ্গে বইয়ের দোকানের রাস্তার কোনো জায়গায় কোনো কাটাকাটি নাই । "
প্রথম পড়েছিলাম পাঠ্য হিসেবে আজ পড়লাম পাঠক হিসেবে। কলেজে থাকতে অপুর উপর খুব রাগ হয়েছিল। কিন্তু আজকে মনে হল আমরা এই ২০১৭ সালে এসেও কি সে যেমন প্রতিবাদ করতে পারেনি আমরা কি পারি ? পারি না। আমাদের সীমানা ফেসবুকের নীল দেয়াল গিয়েই থমকে যায়।
"বাড়িতে এখন সকলে বলিতে আরম্ভ করিল, “ এইবার অপুর মাথা খাওয়া হইল। বি.এ. ডিগ্রি শিকায় তোলা রহিল। ছেলেরই বা দোষ কী। ”
সে তো বটেই । দোষ সমস্তই হৈমর। তাহার দোষ যে তাহার বয়স সতেরো ; তাহার দোষ যে আমি তাহাকে ভালোবাসি ; তাহার দোষ যে বিধাতার এই বিধি , তাই আমার হৃদয়ের রন্ধ্রে রন্ধ্রে সমস্ত আকাশ আজ বাঁশি বাজাইতেছে।" কথাটা কি আজও শোনা যায় না।
সেটা উনবিংশ শতাব্দী হোক আর বিংশ দোষ সবসময় ছিল হৈমদের।
প্রথম পড়েছিলাম পাঠ্য হিসেবে আজ পড়লাম পাঠক হিসেবে। কলেজে থাকতে অপুর উপর খুব রাগ হয়েছিল। কিন্তু আজকে মনে হল আমরা এই ২০১৭ সালে এসেও কি সে যেমন প্রতিবাদ করতে পারেনি আমরা কি পারি ? পারি না। আমাদের সীমানা ফেসবুকের নীল দেয়াল গিয়েই থমকে যায়।
"বাড়িতে এখন সকলে বলিতে আরম্ভ করিল, “ এইবার অপুর মাথা খাওয়া হইল। বি.এ. ডিগ্রি শিকায় তোলা রহিল। ছেলেরই বা দোষ কী। ”
সে তো বটেই । দোষ সমস্তই হৈমর। তাহার দোষ যে তাহার বয়স সতেরো ; তাহার দোষ যে আমি তাহাকে ভালোবাসি ; তাহার দোষ যে বিধাতার এই বিধি , তাই আমার হৃদয়ের রন্ধ্রে রন্ধ্রে সমস্ত আকাশ আজ বাঁশি বাজাইতেছে।" কথাটা কি আজও শোনা যায় না।
সেটা উনবিংশ শতাব্দী হোক আর বিংশ দোষ সবসময় ছিল হৈমদের।
June 27, 2025
ছোটবেলায় পাঠ্যবইতে পড়ার সময়েও হোক আর ২০২৫ এ এসে অডিওবুক হিসেবেই হোক.. হৈমন্তী চির-যৈবনা... গল্পটি এখনো ঠিক একই রকম বুকে বিঁধে ... হৈমন্তী - বিলাসী - কাজলা দিদি - পার্বতী(পারু) এরা বাঙালির কাছে অমর...
August 8, 2018
অধিকার ছাড়িয়া দিয়া অধিকার রাখিতে যাইবার মতো এমন বিড়ম্বনা আর নাই।
January 7, 2016
আমি পাইলাম, আমি ইহাকে পাইলাম। কাহাকে পাইলাম? এ যে দুর্লভ, এ যে মানবী, ইহার রহস্যের কি অন্ত আছে!
May 25, 2018
নারী দুঃখ কবি গুরু যে ভাবে লিখেছেন পড়তে পড়তে চোখে অশ্রুধারা চালু হয়ে যায়।
March 12, 2021
“ যাহা দিলাম তাহা উজাড় করিয়াই দিলাম । এখন ফিরিয়া তাকাইতে গেলে দুঃখ পাইতে হইবে । অধিকার ছাড়িয়া দিয়া অধিকার রাখিতে যাইবার মতো এমন বিড়ম্বনা আর নাই।”
May 18, 2021
কেউ বাংলা ছোটগল্প লিখতে চাইলে তার জন্য প্রেসক্রিপশন -
রবীন্দ্রনাথ তিনবেলা!
রবীন্দ্রনাথ তিনবেলা!
February 14, 2018
প্রথম যখন পড়েছিলাম, শুধুই পরীক্ষা পাসের জন্য।
August 9, 2020
গল্পটি ভাইয়ার পাঠ্য ছিলো। আম্মু পড়ে শুনিয়েছিলো। তখন থেকেই কাহিনী কানে লেগে যায়নি অবশ্য। বড় হয়ে পড়ার পরে মর্ম উপলব্ধি করতে পেরেছিলাম।
March 18, 2025
❝আমি কিন্তু বিবাহসভাতেই বুঝিয়াছিলাম, দানের মন্ত্রে স্ত্রীকে যেটুকু পাওয়া যায় তাহাতে সংসার চলে,কিন্তু পনেরো-আনা বাকি থাকিয়া যায়। আমার সন্দেহ হয়, অধিকাংশ লোকে স্ত্রীকে বিবাহমাত্র করে, পায় না এবং জানেও না যে পায় নাই ;তাহাদের স্ত্রীর কাছেও আমৃত্যুকাল এ খবর ধরা পড়ে না। কিন্তু, সে যে আমার সাধনার ধন ছিল; সে আমার সম্পত্তি নয়, সে আমার সম্পদ।❞
কবিগুরুর ভাষায় বলতে চাই, 'শেষ হয়ে হইল না শেষ'।
কবিগুরুর ভাষায় বলতে চাই, 'শেষ হয়ে হইল না শেষ'।
February 1, 2019
হৈমন্তির একটা ভাই থাকলে মন্দ হতো না, সে দূর পরবাসে থাকে আর চিঠিতে কুশলাদি বিনিময় করে। বিনিময় শুধু কুশলাদিই হয়, হয়তো মাঝে মাঝে সুখ-দুখও। কিন্তু তা হতে পরিত্রান পাবার উপায় যে ভাইটির জানা নেই।
January 18, 2022
কি সুন্দর সমাজব্যবস্থা, ভাবতেই অবাক লাগে!
পুত্র বধূ নিয়ে,
কয়েকশো বছর আগের সমাজব্যবস্থাটি, এই সভ্য যুগেও অনেক জায়গায় দেখা যায়।
পুত্র বধূ নিয়ে,
কয়েকশো বছর আগের সমাজব্যবস্থাটি, এই সভ্য যুগেও অনেক জায়গায় দেখা যায়।
April 18, 2025
এটা স্কুলের পাঠ্যক্রমের অংশ। এড়ানোর কোন উপায় ছিলনা। কিন্তু গল্পটা বিষন্নতার। এখন অবশ্য দিনকাল উল্টায় গিয়েছে। স্কুলের ম্যাডাম খুব আবেগ দিয়ে পড়ালেও আমাদের ছোট্ট কিন্তু শয়তান মনে কোন দাগ কেটে যায়নি। এখন পড়ে কষ্টই লাগল।
February 12, 2022
কিন্তু , সে যে আমার সাধনার ধন ছিল ; সে আমার সম্পত্তি নয় , সে আমার সম্পদ (!!!)
January 13, 2021
'মানুষ পণ করে পণ ভাঙিয়া ফেলিয়া হাফ ছাড়িয়া বাঁচিবার জন্য, অতএব কথা না দেয়াই উত্তম।'
বিয়ের সময় বিদায় নেয়ার আগে হৈমন্তীকে বলা তার পিতার শেষ উক্তি এটি।
অনেকেই বলে রবীন্দ্রণাথ ঠাকুরের লেখা পড়তে গেলে ধৈর্য্য ধরে রাখা কঠিন, আমি এর সাথে সম্পূর্ণ দ্বিমত প্রকাশ করি। রবী ঠাকুর সাধু ভাষায় লিখলেও তার লেখা গুলো অত্যন্ত সাবলীল ভাষায় রচিত, বাংলা সাহিত্যে একারণেই তিনি উজ্জ্বল হতে উজ্জ্বলতর হয়ে আছেন।
সতের বছর বয়েসি মেয়ে হৈমন্তীর বিয়ে হয় বছর বিশেকের এক ছেলের সাথে, ছেলেটিই এই গল্পের গল্পকথক। বিয়ের সময় বরপক্ষ জানতো যে কন্যার বাবা একটা রাজ্যের রাজার মন্ত্রী, তাই বরের বাবা বিয়ে দেয় এই উদ্দেশ্যে যে শ্বশুড়মশাই অবসর নিলে তার মেয়ের জামাতা তার স্থলাভিষিক্ত হবে। কিন্তু পরে সত্য প্রকাশিত হয়, জানা যায় কন্যার বাবা নিছকই একজন হেডমাস্টার, তবে গুণবান ব্যক্তি। কিন্তু গুণের চেয়ে তার পদের বিবেচনায় তিনি হয়ে যান বর পক্ষের কাছে ব্রাত্য! একমাত্র বর ছাড়া হৈমন্তীকে কেউই ভালোবাসতো না। মানসিক অত্যাচার চলতো তার প্রতি, তার বাবা দেখা করতে আসলে তাকে নানা উপায়ে অপমান করা হয়। শেষমেষ হৈমন্তী মারা যায়।
গল্পটি পড়লে যে কেউই হৈমন্তীর প্রেমে পড়তে বাধ্য! তা হতে পারে রবী ঠাকুরের অসাধারণ বর্ণনশৈলীর কারণে বা গল্পের কাহিনীর জন্যে!
বিয়ের সময় বিদায় নেয়ার আগে হৈমন্তীকে বলা তার পিতার শেষ উক্তি এটি।
অনেকেই বলে রবীন্দ্রণাথ ঠাকুরের লেখা পড়তে গেলে ধৈর্য্য ধরে রাখা কঠিন, আমি এর সাথে সম্পূর্ণ দ্বিমত প্রকাশ করি। রবী ঠাকুর সাধু ভাষায় লিখলেও তার লেখা গুলো অত্যন্ত সাবলীল ভাষায় রচিত, বাংলা সাহিত্যে একারণেই তিনি উজ্জ্বল হতে উজ্জ্বলতর হয়ে আছেন।
সতের বছর বয়েসি মেয়ে হৈমন্তীর বিয়ে হয় বছর বিশেকের এক ছেলের সাথে, ছেলেটিই এই গল্পের গল্পকথক। বিয়ের সময় বরপক্ষ জানতো যে কন্যার বাবা একটা রাজ্যের রাজার মন্ত্রী, তাই বরের বাবা বিয়ে দেয় এই উদ্দেশ্যে যে শ্বশুড়মশাই অবসর নিলে তার মেয়ের জামাতা তার স্থলাভিষিক্ত হবে। কিন্তু পরে সত্য প্রকাশিত হয়, জানা যায় কন্যার বাবা নিছকই একজন হেডমাস্টার, তবে গুণবান ব্যক্তি। কিন্তু গুণের চেয়ে তার পদের বিবেচনায় তিনি হয়ে যান বর পক্ষের কাছে ব্রাত্য! একমাত্র বর ছাড়া হৈমন্তীকে কেউই ভালোবাসতো না। মানসিক অত্যাচার চলতো তার প্রতি, তার বাবা দেখা করতে আসলে তাকে নানা উপায়ে অপমান করা হয়। শেষমেষ হৈমন্তী মারা যায়।
গল্পটি পড়লে যে কেউই হৈমন্তীর প্রেমে পড়তে বাধ্য! তা হতে পারে রবী ঠাকুরের অসাধারণ বর্ণনশৈলীর কারণে বা গল্পের কাহিনীর জন্যে!
June 19, 2021
Rating: 5 out of 5.
আমার বন্ধুরা যখন ইন্টারমিডিয়েটে পড়ে তখন হৈমন্তী গল্পের নাম শুনেছি। আমি পড়েছি মেরিন ইন্সটিটিউটে তাই সে সময় হৈমন্তী পড়া হয় নি৷ দীর্ঘসময় অতিবাহিত হলো বই পড়ার প্রতি ঝোক বাড়লো এবং নতুন করে 'হৈমন্তী' গল্পের খোজ পেলাম....
যথারীতি পড়া হলো। ছোট গল্পের যে এতটা ভাবগাম্ভীর্য থাকতে পারে হৈমন্তী না পড়লে হয়তো বুঝাই হতো না।
দুঃখজনক হলেও সত্য যে- আজকে একবিংশ শতাব্দীতে এসেও অনেক হৈমন্তী রয়েছে এই বাংলায় যাদের জীবন অনেকটা হৈমন্তীর জীবনের অনুরূপ।
আমার বন্ধুরা যখন ইন্টারমিডিয়েটে পড়ে তখন হৈমন্তী গল্পের নাম শুনেছি। আমি পড়েছি মেরিন ইন্সটিটিউটে তাই সে সময় হৈমন্তী পড়া হয় নি৷ দীর্ঘসময় অতিবাহিত হলো বই পড়ার প্রতি ঝোক বাড়লো এবং নতুন করে 'হৈমন্তী' গল্পের খোজ পেলাম....
যথারীতি পড়া হলো। ছোট গল্পের যে এতটা ভাবগাম্ভীর্য থাকতে পারে হৈমন্তী না পড়লে হয়তো বুঝাই হতো না।
দুঃখজনক হলেও সত্য যে- আজকে একবিংশ শতাব্দীতে এসেও অনেক হৈমন্তী রয়েছে এই বাংলায় যাদের জীবন অনেকটা হৈমন্তীর জীবনের অনুরূপ।
July 27, 2020
যুগে যুগে হৈমন্তী থাকবে, অপু থাকবে, হৈমন্তীর বাবা থাকবে, অপু মা-বাবা থাকবে। হৈমন্তী যে আমাদের মনে কী পরিমাণ দাগ কেটে আছে তা কেবল আমরা যারা পরিক্ষা পাসের চিন্তা না করে মনের খোড়াকে বাংলা পড়ি তারা জানি।
May 24, 2021
'মানুষ পণ করে পণ ভাঙিয়া ফেলিয়া হাফ ছাড়িয়া বাঁচিবার জন্য, অতএব কথা না দেয়াই উত্তম।
-আমি পাইলাম, আমি ইহাকে পাইলাম। কাহাকে পাইলাম? এ যে দুর্লভ, এ যে মানবী, ইহার রহস্যের কি অন্ত আছে!
-সে আমার সম্পত্তি নয়,সে আমার সম্পদ।
-আমি পাইলাম, আমি ইহাকে পাইলাম। কাহাকে পাইলাম? এ যে দুর্লভ, এ যে মানবী, ইহার রহস্যের কি অন্ত আছে!
-সে আমার সম্পত্তি নয়,সে আমার সম্পদ।
October 11, 2018
ইহজগতে না হোক পরজগতে চিরশান্তিতে ঘুমোক সকল হৈমন্তীরা ।
November 26, 2018
This is the book made me read again all the books I've read by Ravindranath Tagore. I read this book again and again, I don't know why.
October 12, 2024
"ইহার পরে হৈমর মুখে তাহার চিরদিনের সেই স্নিগ্ধ হাসিটুকু আর একদিনের জন্যও দেখি নাই।"
January 22, 2024
হৈমন্তী, যে কিনা তার স্বামীর কাছে শিশিরের মতনই সুন্দর। মেয়েটির বয়স সতেরো। সেসময়ের সমাজব্যবস্থায় রীতিমতো মেয়েটির সবচেয়ে বড় দোষ ছিল তার বয়স। বুড়িয়ে গিয়েছে কিনা! কিন্তু মেয়েটির বাবা যৌতুক প্রদানের মাধ্যমে সে দোষ খানিকটা হলেও কাটাতে পেরেছেন। কিন্তু এভাবে কতদিন? লক্ষ্মীর ভান্ডার কি সবসময় সমানতালে পূর্ণ থাকে? থাকে না! আর ঠিক তখনই মেয়েটির জীবনে নেমে আসে এক ভয়ানক দুর্ভোগ।
ছবিতে সাদামাটা, সহজসরল মেয়েটিকে প্রথম দেখেই প্রেমে পড়ে যায় অপু। মেয়েটিকে বিয়ে করার জন্য দিনকে দিন নিজের বয়সও বাড়িয়ে ফেলছিল সে। কিন্তু বিয়ের পরিবর্তে সময়কাল কেবলই পিছিয়ে পড়ছিল, আর ছেলে মেয়ে উভয়েরই বয়স বাড়ছিল একটু একটু করে। হৈমন্তী অপুর চেয়ে মাত্র দুইবছরেরই ছোট। এ সমস্যাটা হৈমন্তীর শ্বশুরের চোখে সবচেয়ে বড় আকারে ধরা দিতে পারতো। কিন্তু যৌতুকের পয়সা মেয়েটির বয়সও যেন একলাফে কয়েকবছর কমিয়ে দিয়েছে।
বিয়ের বেশ অনেকদিন হৈমন্তীর যত্নে কোনোরকম ত্রুটি রইলো না। ছেলের বিয়ের পর থেকে অপুর বাবা বেশ অনেকগুলো ভুল ধারণা নিয়ে বসে ছিলেন। মাতৃহীনা হৈমন্তী বাবার একমাত্র মেয়ে হওয়ার সুবাদে তিনি ভেবেছিলেন হৈমন্তীর বাবা গৌরীশংকর লক্ষ্মীর ভান্ডার একদম উপুর করে দিবেন। গৌরীশংকর হিমালয়ের পাদদেশে রাজার রাজ্যে শিক্ষকতার চাকরি করেন। কিন্তু অপুর বাবা ধরেই নিয়েছিলেন গৌরীশংকর কম করে হলেও মন্ত্রী তো হবেনই! সুতরাং গৌরীশংকরের অবর্তমানে অপুরাই মন্ত্রীত্বের হাল ধরতে সক্ষম হবে। কিন্তু যখন জানতে পারলেন গৌরীশংকর সামান্য একজন শিক্ষক এবং সে এমুহূর্তে মেয়ের শ্বশুরবাড়িতে টাকা পাঠাতে অক্ষম, ঠিক সেই মুহূর্ত থেকেই হৈমন্তীর জীবনে এক কালো ছায়া নেমে এলো। ঘৃণ্য সমাজের ঘৃণ্য এক বর্বরতার শিকার হয়ে হৈমন্তীর জীবনটাও ওলটপালট হয়ে গেলো। তাকে প্রচন্ড ভালোবাসা তার সেই স্বামীও সেসময় বাবা-মায়ের অবাধ্য হতে পারেনি। কি করে পারবে? সে যে বাবা-মায়ের অত্যন্ত বাধ্যগত সন্তান!
ছোট একটা গল্প। সেখানে প্রধান চরিত্রে আছে হৈমন্তী। শিশিরের মতো কোমল-নিষ্পাপ এই মেয়েটি মিথ্যে সহ্য করতে পারে না, প্রতারণা মানতে পারে না, অন্যায়ের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে পিছপা হয় না। এই অল্প সময়েই মেয়েটা যেন জীবন্ত হয়ে উঠেছে। লেখক তার কলমের আঁচড়ে তৎকালীন সমাজের এক চলমান চিত্র তুলে ধরেছেন কাগজের পাঁতায়। কোথাও এতটুকু কোনো খাদ নেই।
যৌতুক প্রথা, তার ঘৃণ্য রূপ আমাদের সমাজের রন্ধ্রে রন্ধ্রে বইছে। সেইসাথে বয়ে চলেছে মেয়েদের জীবন। একটা মেয়ের বয়স বেশি হওয়া মানেই তার জীবনর অন্তিম পর্ব চলে আসা। এরপর মেয়েটি বাঁচে, কিন্তু বাঁচার মতো আর বাঁচতে পারে কখনোই। ছোটগল্প বোধহয় এমনই হয়। কয়েক পৃষ্ঠার গল্পে একটা গোটা উপন্যাস উঠে আসে। আর শেষ করার পর কেমন একটা হাহাকার কাজ করে মনে। কি হলো? এরপর কি হলো? ভাবতে ভাবতেই অস্থির লাগে। ‘দেনাপাওনা’ বইয়ের নিরুর মতোই হৈমন্তীও একটা দীর্ঘশ্বাস হয়েই রয়ে যাবে পাঠকের মনে। যে দীর্ঘশ্বাস হ্রাস করার জন্য কেউ কোনোকালে এগিয়ে আসেনি, আর আসবেও। সকলে দূর থেকে আক্ষেপ করেই মজা পায়।
এই বইয়ের কয়েকটা উক্তি আমার মন ছুঁয়ে গেছে। যদিও ফেসবুকের সুবাদে উক্তিগুলোর সাথে আগে থেকেই পরিচিত হয়ে গিয়েছিলাম। তবুও গল্পটা পড়তে গিয়ে যেন নতুন করে উপলব্ধি করতে পারলাম সবটা!
১. মানুষ পণ করে পণ ভাঙিয়া ফেলিয়া হাঁফ ছাড়িবার জন্য, অতএব কথা না-দেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ।
২. যাহা দিলাম তাহা উজাড় করিয়াই দিলাম। এখন ফিরিয়া তাকাইতে গেলে দুঃখ পাইতে হইবে। অধিকার ছাড়িয়া দিয়া অধিকার রাখিতে যাইবার মতো এমন বিড়ম্বনা আর নাই।
৩. অধিকাংক লোকে স্ত্রীকে বিবাহমাত্র করে, পায় না, এবং জানেও না যে পায় নাই; তাহাদের স্ত্রীর কাছেও আমৃ'ত্যুকাল এ খবর ধরা পড়ে না।
৪. সে আমার সম্পত্তি নয়, সে আমার সম্পদ।
বই- হৈমন্তী
লেখক- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
ছদ্মনাম- ভানুসিংহ
জনরা- ছোটগল্প
ছবিতে সাদামাটা, সহজসরল মেয়েটিকে প্রথম দেখেই প্রেমে পড়ে যায় অপু। মেয়েটিকে বিয়ে করার জন্য দিনকে দিন নিজের বয়সও বাড়িয়ে ফেলছিল সে। কিন্তু বিয়ের পরিবর্তে সময়কাল কেবলই পিছিয়ে পড়ছিল, আর ছেলে মেয়ে উভয়েরই বয়স বাড়ছিল একটু একটু করে। হৈমন্তী অপুর চেয়ে মাত্র দুইবছরেরই ছোট। এ সমস্যাটা হৈমন্তীর শ্বশুরের চোখে সবচেয়ে বড় আকারে ধরা দিতে পারতো। কিন্তু যৌতুকের পয়সা মেয়েটির বয়সও যেন একলাফে কয়েকবছর কমিয়ে দিয়েছে।
বিয়ের বেশ অনেকদিন হৈমন্তীর যত্নে কোনোরকম ত্রুটি রইলো না। ছেলের বিয়ের পর থেকে অপুর বাবা বেশ অনেকগুলো ভুল ধারণা নিয়ে বসে ছিলেন। মাতৃহীনা হৈমন্তী বাবার একমাত্র মেয়ে হওয়ার সুবাদে তিনি ভেবেছিলেন হৈমন্তীর বাবা গৌরীশংকর লক্ষ্মীর ভান্ডার একদম উপুর করে দিবেন। গৌরীশংকর হিমালয়ের পাদদেশে রাজার রাজ্যে শিক্ষকতার চাকরি করেন। কিন্তু অপুর বাবা ধরেই নিয়েছিলেন গৌরীশংকর কম করে হলেও মন্ত্রী তো হবেনই! সুতরাং গৌরীশংকরের অবর্তমানে অপুরাই মন্ত্রীত্বের হাল ধরতে সক্ষম হবে। কিন্তু যখন জানতে পারলেন গৌরীশংকর সামান্য একজন শিক্ষক এবং সে এমুহূর্তে মেয়ের শ্বশুরবাড়িতে টাকা পাঠাতে অক্ষম, ঠিক সেই মুহূর্ত থেকেই হৈমন্তীর জীবনে এক কালো ছায়া নেমে এলো। ঘৃণ্য সমাজের ঘৃণ্য এক বর্বরতার শিকার হয়ে হৈমন্তীর জীবনটাও ওলটপালট হয়ে গেলো। তাকে প্রচন্ড ভালোবাসা তার সেই স্বামীও সেসময় বাবা-মায়ের অবাধ্য হতে পারেনি। কি করে পারবে? সে যে বাবা-মায়ের অত্যন্ত বাধ্যগত সন্তান!
ছোট একটা গল্প। সেখানে প্রধান চরিত্রে আছে হৈমন্তী। শিশিরের মতো কোমল-নিষ্পাপ এই মেয়েটি মিথ্যে সহ্য করতে পারে না, প্রতারণা মানতে পারে না, অন্যায়ের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে পিছপা হয় না। এই অল্প সময়েই মেয়েটা যেন জীবন্ত হয়ে উঠেছে। লেখক তার কলমের আঁচড়ে তৎকালীন সমাজের এক চলমান চিত্র তুলে ধরেছেন কাগজের পাঁতায়। কোথাও এতটুকু কোনো খাদ নেই।
যৌতুক প্রথা, তার ঘৃণ্য রূপ আমাদের সমাজের রন্ধ্রে রন্ধ্রে বইছে। সেইসাথে বয়ে চলেছে মেয়েদের জীবন। একটা মেয়ের বয়স বেশি হওয়া মানেই তার জীবনর অন্তিম পর্ব চলে আসা। এরপর মেয়েটি বাঁচে, কিন্তু বাঁচার মতো আর বাঁচতে পারে কখনোই। ছোটগল্প বোধহয় এমনই হয়। কয়েক পৃষ্ঠার গল্পে একটা গোটা উপন্যাস উঠে আসে। আর শেষ করার পর কেমন একটা হাহাকার কাজ করে মনে। কি হলো? এরপর কি হলো? ভাবতে ভাবতেই অস্থির লাগে। ‘দেনাপাওনা’ বইয়ের নিরুর মতোই হৈমন্তীও একটা দীর্ঘশ্বাস হয়েই রয়ে যাবে পাঠকের মনে। যে দীর্ঘশ্বাস হ্রাস করার জন্য কেউ কোনোকালে এগিয়ে আসেনি, আর আসবেও। সকলে দূর থেকে আক্ষেপ করেই মজা পায়।
এই বইয়ের কয়েকটা উক্তি আমার মন ছুঁয়ে গেছে। যদিও ফেসবুকের সুবাদে উক্তিগুলোর সাথে আগে থেকেই পরিচিত হয়ে গিয়েছিলাম। তবুও গল্পটা পড়তে গিয়ে যেন নতুন করে উপলব্ধি করতে পারলাম সবটা!
১. মানুষ পণ করে পণ ভাঙিয়া ফেলিয়া হাঁফ ছাড়িবার জন্য, অতএব কথা না-দেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ।
২. যাহা দিলাম তাহা উজাড় করিয়াই দিলাম। এখন ফিরিয়া তাকাইতে গেলে দুঃখ পাইতে হইবে। অধিকার ছাড়িয়া দিয়া অধিকার রাখিতে যাইবার মতো এমন বিড়ম্বনা আর নাই।
৩. অধিকাংক লোকে স্ত্রীকে বিবাহমাত্র করে, পায় না, এবং জানেও না যে পায় নাই; তাহাদের স্ত্রীর কাছেও আমৃ'ত্যুকাল এ খবর ধরা পড়ে না।
৪. সে আমার সম্পত্তি নয়, সে আমার সম্পদ।
বই- হৈমন্তী
লেখক- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
ছদ্মনাম- ভানুসিংহ
জনরা- ছোটগল্প
April 18, 2026
#bookreview
বই: হৈমন্তী
লেখক: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
জনরা: ছোটগল্প
⭐ পার্সোনাল রেটিং: ৫.০/৫.০
কিছু কিছু গল্প থাকে না, যেগুলো পড়ে শেষ করার অনেকদিন পরেও মনে একটা ভালো লাগার রেশ থেকে যায়, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের “হৈমন্তী” গল্পটিও ঠিক তেমনই একটা ছোটগল্প।
এই গল্পের গল্পকথক হলেন স্বয়ং গল্পের নায়ক। তার জবানিতে লেখক বর্ণনা করেছেন বাংলা সাহিত্যের এক কালজয়ী চরিত্র ‘হৈমন্তী'-কে। কাহিনীর সূত্রপাত ঘটে গল্পকথক ও হৈমন্তীর বিবাহের মধ্যে দিয়ে। রাজকর্মচারী গৌরীশংকরের একমাত্র আদরের কন্যা হৈমন্তী। অল্পবয়সে মাতৃবিয়োগ ঘটায় তার বিবাহ সম্পন্ন হতে খানিকটা বিলম্ব হওয়ায় আত্মীয়-স্বজনের লোকনিন্দার শেষ থাকে না। কিন্তু সকলের ধারণা ছিলো যেহেতু কন্যার পিতা রাজকর্মচারী, তার পরে তার সকল বিষয়-সম্পত্তির মালিকানা পাবে তার মেয়েজামাই, তাই তারা নতুন বউকে মাথায় তুলে রাখার নিছক ছলনা করে। কিন্তু যখন সকলের এই ভ্রান্ত ধারণায় চির ধরে, তখন তৎকালীন সমাজের অভিজাত শ্রেণীর বিষেশত ছেলের পরিবারের নেহাতই ভালো মানুষ সেজে থাকার মুখোশ খসে পড়তে খুব একটা সময় লাগে না।
পাঠ-প্রতিক্রিয়া:
“হৈমন্তী” গল্পে লেখক তৎকালীন সমাজব্যবস্থার এক প্রাণবন্ত ও আবেগঘন দৃশ্যপট পাঠকের সামনে তুলে ধরেছেন। তখনকার সমাজের পণপ্রথা, বাল্যবিবাহ ও বহুবিবাহের কিছু খন্ডচিত্র পাঠক গল্পে খুঁজে পাবেন। গল্পের মূল চরিত্র ‘হৈমন্তী’-র প্রখর আত্মসম্মানবোধ, পিতৃস্নেহ ও শ্বশুরবাড়ির লোকজনের প্রতি দায়িত্ববোধ সত্যি মুগ্ধ করার মতো। তার উন্নত রুচিবোধ সেই সময়ের পরিপ্রেক্ষিতে সত্যিই বিরল। গল্পকথক উচ্চশিক্ষিত হয়েও যে শেষ পর্যন্ত পরিবারের মতের কাছে আত্মসমর্পণ করেছে, সেটি তৎকালীন কিংবা বর্তমান সময়ের সাথে খুব বেশি অসামঞ্জস্য বলে আমার মনে হয়নি বরং লেখক এই চরিত্রটির মাধ্যমে কিছু পুরুষ মানুষের দৃঢ় মনোবলের অভাব ফুটিয়ে তুলেছেন, যারা ন্যায়-বিচার প্রতিষ্ঠা করতে চায় ঠিকই কিন্তু শেষ পর্যন্ত সমাজে ও পরিবারে নিজের অবস্থান হারিয়ে ফেলার ভয়ে হার মেনে নিতে বাধ্য হয়। যারা ক্লাসিক পড়তে ভালোবাসেন, তারা চোখ বন্ধ করে নিশ্চিতে গল্পটি পড়ে ফেলতে পারেন, খারাপ লাগবে না আশা করি।
✍🏻 অর্পিতা চৌধুরী
বই: হৈমন্তী
লেখক: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
জনরা: ছোটগল্প
⭐ পার্সোনাল রেটিং: ৫.০/৫.০
কিছু কিছু গল্প থাকে না, যেগুলো পড়ে শেষ করার অনেকদিন পরেও মনে একটা ভালো লাগার রেশ থেকে যায়, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের “হৈমন্তী” গল্পটিও ঠিক তেমনই একটা ছোটগল্প।
এই গল্পের গল্পকথক হলেন স্বয়ং গল্পের নায়ক। তার জবানিতে লেখক বর্ণনা করেছেন বাংলা সাহিত্যের এক কালজয়ী চরিত্র ‘হৈমন্তী'-কে। কাহিনীর সূত্রপাত ঘটে গল্পকথক ও হৈমন্তীর বিবাহের মধ্যে দিয়ে। রাজকর্মচারী গৌরীশংকরের একমাত্র আদরের কন্যা হৈমন্তী। অল্পবয়সে মাতৃবিয়োগ ঘটায় তার বিবাহ সম্পন্ন হতে খানিকটা বিলম্ব হওয়ায় আত্মীয়-স্বজনের লোকনিন্দার শেষ থাকে না। কিন্তু সকলের ধারণা ছিলো যেহেতু কন্যার পিতা রাজকর্মচারী, তার পরে তার সকল বিষয়-সম্পত্তির মালিকানা পাবে তার মেয়েজামাই, তাই তারা নতুন বউকে মাথায় তুলে রাখার নিছক ছলনা করে। কিন্তু যখন সকলের এই ভ্রান্ত ধারণায় চির ধরে, তখন তৎকালীন সমাজের অভিজাত শ্রেণীর বিষেশত ছেলের পরিবারের নেহাতই ভালো মানুষ সেজে থাকার মুখোশ খসে পড়তে খুব একটা সময় লাগে না।
পাঠ-প্রতিক্রিয়া:
“হৈমন্তী” গল্পে লেখক তৎকালীন সমাজব্যবস্থার এক প্রাণবন্ত ও আবেগঘন দৃশ্যপট পাঠকের সামনে তুলে ধরেছেন। তখনকার সমাজের পণপ্রথা, বাল্যবিবাহ ও বহুবিবাহের কিছু খন্ডচিত্র পাঠক গল্পে খুঁজে পাবেন। গল্পের মূল চরিত্র ‘হৈমন্তী’-র প্রখর আত্মসম্মানবোধ, পিতৃস্নেহ ও শ্বশুরবাড়ির লোকজনের প্রতি দায়িত্ববোধ সত্যি মুগ্ধ করার মতো। তার উন্নত রুচিবোধ সেই সময়ের পরিপ্রেক্ষিতে সত্যিই বিরল। গল্পকথক উচ্চশিক্ষিত হয়েও যে শেষ পর্যন্ত পরিবারের মতের কাছে আত্মসমর্পণ করেছে, সেটি তৎকালীন কিংবা বর্তমান সময়ের সাথে খুব বেশি অসামঞ্জস্য বলে আমার মনে হয়নি বরং লেখক এই চরিত্রটির মাধ্যমে কিছু পুরুষ মানুষের দৃঢ় মনোবলের অভাব ফুটিয়ে তুলেছেন, যারা ন্যায়-বিচার প্রতিষ্ঠা করতে চায় ঠিকই কিন্তু শেষ পর্যন্ত সমাজে ও পরিবারে নিজের অবস্থান হারিয়ে ফেলার ভয়ে হার মেনে নিতে বাধ্য হয়। যারা ক্লাসিক পড়তে ভালোবাসেন, তারা চোখ বন্ধ করে নিশ্চিতে গল্পটি পড়ে ফেলতে পারেন, খারাপ লাগবে না আশা করি।
✍🏻 অর্পিতা চৌধুরী
September 6, 2023
❝অধিকার ছাড়িয়া দিয়া অধিকার রাখিতে যাইবার মতো এমন বিড়ম্বনা আর নাই...!❞
❝হৈমন্তি❞ ঘুণে ধরা সমাজের লোকদেখানো সভ্যতার দৃশ্য।
সেকালের শিক্ষিত অপুর মত একালেও শিক্ষিত অপুর অস্তিত্ব আছে।সে যুগের বিকৃত অনুশীলন কাল থেকে কালে বিস্তৃত ।
আমাদের সমাজে এমন পুরুষ আছে , যারা নিজের স্ত্রীকে সম্পত্তি মনে না করে, সম্পদ মনে করে। কিন্তু নিজের স্বার্থে সেই সম্পদ কে বিসর্জন দিতে পিছুপা হন না।
❝হৈমন্তি❞ ঘুণে ধরা সমাজের লোকদেখানো সভ্যতার দৃশ্য।
সেকালের শিক্ষিত অপুর মত একালেও শিক্ষিত অপুর অস্তিত্ব আছে।সে যুগের বিকৃত অনুশীলন কাল থেকে কালে বিস্তৃত ।
আমাদের সমাজে এমন পুরুষ আছে , যারা নিজের স্ত্রীকে সম্পত্তি মনে না করে, সম্পদ মনে করে। কিন্তু নিজের স্বার্থে সেই সম্পদ কে বিসর্জন দিতে পিছুপা হন না।
July 1, 2025
মেয়েদের জীবন যে কত চড়াই উৎরাই এর মাঝে পার করতে হয় তার একটি অন্যতম উদাহরণ হলো হৈমন্তি। সংসার জীবনে মহিলাদের বিসর্জনের কথা আমরা একবিংশ শতাব্দীতে এসেও স্মীকার করতে পারলাম না। সব কিছুর উন্নতি হলো কিন্তু নারীকে ছোট করে দেখার দৃস্টিভংগি আজও একই রয়ে গেল। কবে আমরা নারী কে একটা বস্তু হিসেবে না দেখে একজন মানুষের নজরে দেখবো? এই প্রশ্নের উওর হয়তো কেউ কখনই দিতে পারবে না।
June 26, 2025
এটা রবীন্দ্রনাথের কালজয়ী/কালোত্তীর্ণ গল্প। নারীচরিত্র-প্রধান গল্প হলেও গল্পটা মূলত পুরুষমানুষদের জন্য। নারীকে জানবার, বুঝবারও যে প্রয়োজন আছে তা এই গল্পখানা ষষ্ঠ শ্রেণীর পাঠ্যবইতে অন্তর্ভুক্তির মাধ্যমে অনেক পূর্বেই আমাদের শিখিয়েছিলো৷ তারজন্য রবী ঠাকুরের প্রতি অসীম কৃতজ্ঞতা।
Displaying 1 - 30 of 36 reviews





























