Humayun Ahmed (Bengali: হুমায়ূন আহমেদ; 13 November 1948 – 19 July 2012) was a Bangladeshi author, dramatist, screenwriter, playwright and filmmaker. He was the most famous and popular author, dramatist and filmmaker ever to grace the cultural world of Bangladesh since its independence in 1971. Dawn referred to him as the cultural legend of Bangladesh. Humayun started his journey to reach fame with the publication of his novel Nondito Noroke (In Blissful Hell) in 1972, which remains one of his most famous works. He wrote over 250 fiction and non-fiction books, all of which were bestsellers in Bangladesh, most of them were number one bestsellers of their respective years by a wide margin. In recognition to the works of Humayun, Times of India wrote, "Humayun was a custodian of the Bangladeshi literary culture whose contribution single-handedly shifted the capital of Bengali literature from Kolkata to Dhaka without any war or revolution." Ahmed's writing style was characterized as "Magic Realism." Sunil Gangopadhyay described him as the most popular writer in the Bengali language for a century and according to him, Ahmed was even more popular than Sarat Chandra Chattopadhyay. Ahmed's books have been the top sellers at the Ekushey Book Fair during every years of the 1990s and 2000s.
Early life: Humayun Ahmed was born in Mohongonj, Netrokona, but his village home is Kutubpur, Mymensingh, Bangladesh (then East Pakistan). His father, Faizur Rahman Ahmed, a police officer and writer, was killed by Pakistani military during the liberation war of Bangladesh in 1971, and his mother is Ayesha Foyez. Humayun's younger brother, Muhammed Zafar Iqbal, a university professor, is also a very popular author of mostly science fiction genre and Children's Literature. Another brother, Ahsan Habib, the editor of Unmad, a cartoon magazine, and one of the most famous Cartoonist in the country.
Education and Early Career: Ahmed went to schools in Sylhet, Comilla, Chittagong, Dinajpur and Bogra as his father lived in different places upon official assignment. Ahmed passed SSC exam from Bogra Zilla School in 1965. He stood second in the merit list in Rajshahi Education Board. He passed HSC exam from Dhaka College in 1967. He studied Chemistry in Dhaka University and earned BSc (Honors) and MSc with First Class distinction.
Upon graduation Ahmed joined Bangladesh Agricultural University as a lecturer. After six months he joined Dhaka University as a faculty of the Department of Chemistry. Later he attended North Dakota State University for his PhD studies. He grew his interest in Polymer Chemistry and earned his PhD in that subject. He returned to Bangladesh and resumed his teaching career in Dhaka University. In mid 1990s he left the faculty job to devote all his time to writing, playwright and film production.
Marriages and Personal Life: In 1973, Humayun Ahmed married Gultekin. They had three daughters — Nova, Sheela, Bipasha and one son — Nuhash. In 2003 Humayun divorced Gultekin and married Meher Afroj Shaon in 2005. From the second marriage he had two sons — Nishad and Ninit.
Death: In 2011 Ahmed had been diagnosed with colorectal cancer. He died on 19 July 2012 at 11.20 PM BST at Bellevue Hospital in New York City. He was buried in Nuhash Palli, his farm house.
লেখক নিজের জীবনের কিছু ঘটনার(সত্য নাকি মিথ্যে জানতে বড়ো ইচ্ছে হচ্ছে) সাথে নলিনী বাবুর সংযোগ ঘটিয়েছেন। পাঠকরা সহজেই এজন্য কানেক্ট হতে পারবে, অন্তত আমি পেরেছি। গল্পটা আরো ভালো করার অনেক যায়গা ছিলো। চমৎকার প্লট ছিলো। বিদেশী বইয়ে এরকম প্লটে অনেক সুন্দর গল্প আছে। এতো সুন্দর একটা প্লটকে বড় করতে না পারাটা অবশ্যই লেখকের ব্যার্থতা।
প্যারালাল ওয়ার্ল্ড ভিত্তিক প্লট। হুমায়ূন আহমেদ নিজেও আছেন একজন চরিত্র হিসেবে, পাশাপাশি শাওন, নুহাশ পল্লীর উপস্থিতিও আছে।
হুমায়ূন আহমেদের বৈবাহিক জীবনের ইতি ঘটেছে, ছাড়াছাড়ি হয়ে গেছে। এখন তিনি উত্তরার একটি ফ্ল্যাটে একাকী দিনযাপন করছেন। একদিন এক বয়স্ক লোক আসলেন তার সাথে দেখা করতে, তার নাম নলিনী ভট্টাচার্য। তিনি পেশায় শিক্ষক; নীলগঞ্জ গার্লস হাই স্কুলের বিএসসি টিচার; ষাট পার করেছেন। ইনি হুমায়ূন আহমেদের সাথে দেখা করতে এসেছিলেন একটি বিশেষ কারণে। হুমায়ূন আহমেদের নিষাদ বইটি পড়ে তিনি আশ্চর্য হয়েছেন কেননা বইটির মূল চরিত্রের মতো তিনিও দুইটি আলাদা জগতে বাস করেন যার একটিতে তিনি বেশ সুখী আরেকটিতে দুঃখী। একটিতে তার বাবা সামনাসামনি অতিরিক্ত মন্দ প্রকৃতির লোক আরেকটিতে সাধু সেজে বসে আছেন। দুটি জগতেই নলিনী ভট্টাচার্যের বাবা নলিনীর মাকে মেরে ফেলেন।
নিষাদ নামের বইটি নলিনী বাবু পেয়েছিলেন তার দশম শ্রেণির বিজ্ঞান শাখার ছাত্রী সুলতানার কাছ থেকে যার রোল ছিল দুই। পুনশ্চঃ এই মেয়েটি নলিনী বাবুকে কিংবা নলিনী বাবু এই মেয়েটিকে পছন্দ করতেন। এবং প্যারালাল জগতগুলোতে এই সুলতানা নলিনী বাবুর স্ত্রী হিসেবে থাকতো, নামটাই শুধু পরিবর্তিত হয়ে সীতা হয়ে যেত।
~২৭ জুলাই, ২০২১
This entire review has been hidden because of spoilers.
ছোট একটি উপন্যাস যা প্যারালাল ইউনিভার্স X একজন মানসিক রোগীকে নিয়ে লেখা। নলিনী বাবু একজন গণিত শিক্ষক। তিনি লেখকের কাছে তার জীবনের গল্প বলার সময় তিনি বলেন যে, তিনি একাধিক জগতে বাস করেন।উপন্যাসটির বিশেষত্ব হলো লেখকের নিজের উপস্থিতি এবং তার জীবনের ছোট ছোট ঘটনা। নিজের জীবনের কথা বলতে বলতে, অনেকটা মিসির আলীর মতো রহস্য উদঘাটনে নেমে পরেন লেখক। বইটি আমার কাছে ভালো লেগেছে । প্যারালাল ইউনিভার্স আরো উপন্যাস পড়তে চাইলে হুমায়ূন আহমেদের '' নিষাদ " বইটিও পড়তে পারেন।
লেখক তখন সবেমাত্র বিবাহ বিচ্ছেদ করছেন। দ্বিতীয় বিয়ে করেননি। একাকি বাসা ভাড়া নিয়ে থাকতেন উত্তরায়। সেখানেই একদিন এসে হাজির হয় এক শিক্ষক। নীলগঞ্জ গার্লস হাইস্কুলের বিএসসি শিক্ষক। নাম নলিনী ভট্টাচার্য। লেখকের জন্য ধোপখোলা বাজার থেকে ইলিশ, মিঠাপানির গলদা চিংড়ি ারর টেংরা মাছ কিনে এনেছেন। ভদ্রলোক মিসির আলী পড়ে এই মাছগুলোর কথা জানতে পেরেছেন। উদ্দেশ্য লেখককে রেধে খাওয়াবেন। তবে আরও একটি উদ্দেশ্য আছে। তার জীবনের গল্প শোনাবেন লেখককে। সমস্যাটা মিসির আলির বইতে পাওয়া সমস্যার মতই প্রায়। নলিনী বাবু একই সাথে দুইটা জগতে বাস করেন। এক জগতের সাথে আরেক জগতে সামান্য মিল থাকলেও অনেক কিছু আলাদা। গল্প শেষ হওয়ার আগেই নলিনী বাবুর প্রস্থান। লেখক বের হলেন নলিনী বাবুর খোজে।
পাঠপ্রতিক্রিয়াঃ হুমায়ূন আহমেদের জন্মদিনে শাওন ম্যাডামের বক্তৃতায় তিনি এই বইটার কথা বলেন। ওইদিনই স্যারের জন্মদিন উপলক্ষে দুইটা বই কিনি যার একটা নলিনী বাবু B.Sc. মিসির আলির গল্পের মত রহস্য থাকলেও এখানে সেটা সমাধানের জন্য মিসির আলি নেই। একই সাথে লেখকের ব্যাক্তিগত জীবনের খুটিনাটি খুচরা আলাপও আপনাকে আনন্দ দিবে। খুব আহামরি বই না। তবে সময় কাটানোর জন্য পারফেক্ট। অনেক বৈজ্ঞানিক কথাবার্তা আছে যা আমার মাথার উপর দিয়ে গেছে। ব্যাক্তিগত আলাপ-সালাপ সিরিয়াসলি না নিয়ে গল্প হিসেবে পড়লে সময়টা চমৎকার কাটবে। বইটা ২০১০ সালের ফেব্রুয়ারিতেই চারবার মুদ্রিত হয়েছে। বর্তমানে ৭ম মুদ্রন আছে বাজারে। বুছতেই পারছেন ব্যাপারটা!
এই বইটা পড়ার অভিজ্ঞতা ছিলো আমার জন্য পরম তৃপ্তির। ঐ সময়টায় মিসির আলির সব পড়া শেষ আমার, হৃদয় জুড়ে তীব্র খাঁ খাঁ অনুভূতি। এই বইটা সেই মিসির আলি পড়ার ভাইব দিয়েছিলো। মিসির আলি সিরিজের 'নিষাদ' আমার সমগ্র জীবনে পড়া সবচে প্রিয় বইগুলোর একটা। যারা ঐ বইটা ভালোবাসেন, তাদের কাছে এই বইটিও ভালো লাগবে বলে আমার বিশ্বাস।
দুই বসায় শেষ করতে হল, এক বসায় শেষ করতে পারলাম না। কারণ প্রথম বসার পরে শুয়ে পরেছিলাম। শুধু যে শুয়ে পড়েছিলাম এমনটা নয়। শুয়ে ঘুমিয়েও পড়েছিলাম। ঘুম থেকে উঠেই একটানে শেষ করে ফেললাম বইটা। ভাল লেগেছে, বেশ ভাল লেগেছে। তবে আরো ভালো হয়ত লাগতে পারতো, কোন কারণে লাগে নি। উপভোগ করেছি, নলিনী বাবুর হাতের রান্না খেতে ইচ্ছে হচ্ছে।
কেউ একজন বলেছিলো এই বইটি পড়তে। উনার নাকি পড়ে শুরুতে এগুলো সত্য মনে হলেও পরে সেই ঘোরটা কাটে।
আসলে প্যারালাল ইউনিভার্স মানুষের একটা চিন্তার মধ্যকার জগৎ। যেখানে সে বর্তমানে না পাওয়া জিনিসগুলো পায় বলে ধারণা করে। নলিনী বাবুর ক্ষেত্রেও তাই, ছাত্রীর প্রতি ভালোবাসা বা ছাত্রীর উনার প্রতি ভালোবাসা থাকা সত্ত্বেও সম্পর্কটা কিন্তু শুধু শিক্ষক এবং ছাত্রী পর্যন্তই! তাই উনি ক্রমান্বয়ে তাকে অন্য জগতে নিজের বউ হিসেবে দেখতে পাচ্ছে।
হুমায়ুন আহমেদ তার "নিষাদ" গল্পটিতে এমন একটি ব্যাপার তুলে ধরেন,যা তখনকার সময়ে বেশ আলোচনায় আসে সর্বস্তরের পাঠকদের মধ্যে��কারণ প্যারালাল ইউনিভার্স সম্পর্কে গবেষণা বা জ্ঞান আহরণ সম্ভবত এ অঞ্চলের প্রান্তিক তো বটেই,নাগরিক মানুষজনও শুরু করেন নি।আর যারাও করেছেন,���াদের সংখ্যা নগন্য হওয়ারই কথা।"নিষাদ" গল্পটি লিখার পড় বিপাকে পড়ে যান লেখক।তিনি তখন ঢাকা ইউনিভার্সিটির শহীদুল্লাহ হলে থাকেন।একদিন হঠাৎ জানা গেলো,ইন্টার পড়ুয়া এক মেয়ে খুবই অসুস্থ এবং সে দাবী করছে,সে মাল্টিপল ইউনিভার্স থেকে ঘুরে এসেছে।লেখক চিন্তায় পড়ে গেলেন।কারন মেয়েটির বাবা মা,মেয়েটির এমন অদ্ভুত কর্মকান্ডের জন্যে দায়ী করছেন লেখককে।
তার অনেকটা সময় পর হঠাৎ একদিন লেখকের বাড়িতে আগমন ঘটে নলিনী বাবু নামক এক ভদ্র বিরক্তিকর লোকের।বিরক্তিকর বলছি কারন তার আগমনটা লেখকের কাছে অত্যন্ত বিরক্তিকর ছিলো।ভদ্রলোক বেশ ভালো রান্না করতেন,আর তিনি একজন লেখকের একটি বই ই পাঠ করতেন।একাহারী ছিলেন ভদ্রলোক।কিন্তু এগুলোর কোন কিছুই স্পষ্ট করছেন না,ভদ্রলোক কেন লেখকের কাছে এসেছেন,তাই তো?
ভদ্রলোক দাবী করছেন তিনি দুটো জগতে সমানভাবে বিরাজ করছেন।একটি জগতে তিনি নীলগঞ্জ হাই স্কুলের বিএসসি শিক্ষক আর অন্যটিতে তিনি পদার্থ বিজ্ঞানে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ান।একটিকে তিনি নাম দেন দূঃখ জগৎ,অন্যটিকে নাম দেন শান্তি জগৎ।তিনি নিষাদ গল্পটি পড়েন এবং সেই বইয়ে লেখকের এমন গল্প দেখেই তিনি লেখকের সঙ্গে যোগাযোগ করেন।
নিষাদ গল্পটি হুমায়ুন আহমেদ মিসির আলির মাধ্যমে লিখলেও এই গল্পটি তিনি তার নিজের অবস্থান থেকে লিখেছেন।গল্পে তার ব্যক্তিগত জীবন সম্পর্কেও আলোচনা করা হয়েছে।ধারণা করে নেওয়া যায়,লেখকের জীবনে সত্যিই এমন কোন ঘটনা ঘটেছেন।এবং নলিনী বাবুর অস্তিত্বও হয়তো ছিল।তবে লেখককে এ বিষয়ে জিজ্ঞেস করা হলে বলা হয়,"কিছু জিনিস রহস্য থাকাই ভালো!"
হ্যা ঠিক তাই।রহস্য থাকাই ভালো।এখন সেই রহস্যটা আপনি ভেদ করতে পারেন কিনা সেটা চেষ্টা করে দেখতে হলে তো অবশ্যই বইটি পড়তে হবে।পড়ে ফেলুন তাহলে অবসর সময়ে।
রাতে একমগ চা খেয়ে কিছুতেই ঘুম আসছিল না,এইপাশ ওপাশ করে যখন বিরক্ত তখন মনে হলো, একটা উপন্যাস পড়ে ফেলি।নলিনী বাবু B.Sc.,এই উপন্যাসটি অনেক দিন ধরে পড়বো পড়বো করে পড়া হচ্ছিল না,তাই ভাবলাম পড়ে ফেলি।এই উপন্যাসের মূল আকর্ষণ হচ্ছে লেখকের উপস্থিতি। হুমায়ূন স্বয়ং এই উপন্যাসে রয়েছেন।নলিনী বাবু একদিন তার বাসায় মাছ নিয়ে দেখা করতে আসেন,বয়সে তার থেকে বড় তবুও তিনি তার পা স্পর্শ করতে চান যেটা লেখকের মোটেও পছন্দ নয়।নলিনী বাবু পেশায় একজন স্কুল শিক্ষক, যিনি হুমায়ূন আহমেদের নিষাদ বইটি পড়ে, তার সাথে সাক্ষাৎ করার অভিপ্রায় হয়,এই থেকেই ঢাকাই চলে আসেন তার একটা উদ্দেশ্য আছে তা হলো লেখককে তার নিজের গল্প শোনানোর। প্রথমে লেখক বিরক্ত হলেও পরে তার হাতের রান্না খেয়ে তৃপ্ত হয়ে তার গল্প শোনার ইচ্ছা পোষণ করেন। প্রথমে সাধারণ গল্প মনে হলে ও পরে তার একই সাথে দু জগতের বসবাস লেখককে কিছুটা বিচলিত করে।গল্প যখন চরম পর্যায়ে তখন নলিনী বাবু প্রস্থান করেন,যাওয়ার আগে একটা চিঠি রেখে যান,তাতে লেখা তিনি মানুষিক রোগী।উপন্যাসের শেষ এখানে না।বিভিন্ন জটিল সমস্যা নিয়ে প্লট এগুতে থাকে, সাথে সাথে লেখকের ব্যক্তিগত জীবনের কথাও উঠে আসে। লেখক নিজেও তার মতামত দিয়েছেন ভিন্ন-ভিন্ন জগতের অস্তিত্ব নিয়ে এবং সেগুলো ব্যাখ্যা করার চেষ্টা করছেন কোয়ান্টাম ত্বত্ত্ব আর ফিজিক্স আর সায়েন্সের মাধ্যমে। পরিশেষে বলবো বইটা পড়ে ফেলেন আর নিজের মাথা আওলা ঝাওলা করে ফেলেন।😉😉
বইটা পড়ার পর জানতে ইচ্ছা হল নলিনী বাবু নামে কেউ কি ছিলেন? হুমায়ূন আহমেদ এমন ভাবে লিখেছেন যে মনে হচ্ছে এটা সত্য ঘটনা। মিসির আলী ঘরাণার গল্প বা প্লট, যেখানে রহস্য সমাধানকারী হুমায়ূন আহমেদ নিজেই। গল্পে হুমায়ূন আহমেদ ছাড়াও পরিচিত অনেকে আছেন, তার প্রকাশকরা আছেন, শাওন আছে, শীলা আছে, ডাক্তার এজাজ আছে। স্বভাবতই আমি কনফিউজড হয়ে গেলাম। ভেবে বের করার চেষ্টা করলাম কার থেকে খোঁজ নেয়া যায়, হুমায়ূন আহমেদকে পারসোনালি চিনতো এমন কে আছে আমার পরিচিত। কয়েকজন পেলাম এবং তাদের সবাইকে ফোন দিলাম। পত্রিকার এক সিনিয়র সাংবাদিক ভাই বললেন হুমায়ূন আহমেদ এটা পাঠকদের কনফিউজড করার জন্যই লিখেছেন-এটা স্রেফ ফিকশন, কিংবা তার রিয়েলিটি অন্যদের মত না, বাস্তব আর কল্পনার জগতের পার্থক্য তার কাছে ক্ষীণ হয়ে গিয়েছিল। বাকিরাও তাই বললেন। একজন বললেন, তার আত্মজীবনী হিসেবে যা পাই তারও অনেক কিছু ফিকশন, তবে হুমায়ূন আহমেদের আত্মজীবনী ‘আপনারে আমি খুুঁজিয়া বেড়াই’ বইতে তিনি জোর দিয়ে বলেছেন-এগুলো সবই সত্য। সুতারাং ব্যাপারটা এখনো বিভ্রান্তিকর কিংবা বাস্তব আর কল্পনার জগত এক হয়ে যাওয়ার বিষয়টাও হতে পারে। হুমায়ূন-গবেষকরা এই সত্য উদ্ধার করার চেষ্টা করতে পারেন।
সে যাইহোক, ফিকশন নন-ফিকশন বিতর্ক বাদেও নলিনীবাবু বিএসসি একটা অসাধারণ বই।
৩.৫/৫ বইটি পড়াকালীন সময়ে বেশ কয়েকবার মনে হলো নলিনী বাবু নামে আসলে কেউ আছে? নাকি শুধুমাত্র একটা ফিকশনাল ক্যারেক্টার। কিন্তু গল্পে যেরূপে বাকি চরিত্রগুলোর নাম ও ব্যবহার করা হয়েছে মনে হচ্ছিলো সত্যি নলিনী বাবু নামে কেউ ছিলো। যাক গে, এবার গল্পের কথায় আসি। প্যারালাল ইউনিভার্স বলতে কি আসলে কিছু আছে? গল্পটা প্যারালাল ইউনিভার্স × একজন মানসিক রোগীকে নিয়ে লিখা। মানুষের কল্পনার মধ্যে ভিন্ন ভিন্ন জগতে ঘুরে নাকি মানুষ সত্যিকার অর্থে এক জগৎ থেকে সমান্তরাল আরেক জগতে যেতে পারে। নলিনী বাবুর শুরুর দিকে রান্নাবান্নার বর্ণনা দেখে মনে হচ্ছিলো কুটু মিয়ার মতো চরিত্র। কিন্তু নাহ,নলিনী বাবু একজন মানসিক রোগী যার ভিন্ন ভিন্ন প্যারালাল ইউনিভার্সের বেঁচে থাকে। বইটা পিডিএফ পড়ে শেষ করি। যদিও আমার পিডিএফ পড়ার জার্নি খুব একটা ভালো না। কিন্তু কীভাবে যেন এই বই একদিনে শেষ করে ফেলেছি তাও পিডিএফ পড়ে। সচরাচর ফিজিক্যাল বই এক বসায় বা একদিনে শেষ করতে পারি। তাই বলা বাহুল্য, বইটি সুন্দর ছিলো বিধায় পিডিএফেও মনোযোগ ধরে রেখেছিলো।
বইটি special. Typical হুমায়ুন আহমেদের উপন্যাসের মত নয়। এরকম মন্তব্যে একজনের সুপারিশে বইটি নিয়ে এক বসাতেই শেষ করে ফেললাম। কিন্তু কোথায় কি? আমার কাছে সেই চিরাচরিত হুমায়ুন আহমেদের আর আট দশটা গল্পের মতনই ঠেকল। "নিষাদ" উপন্যাসটির theme এর উপর উপজীব্য করে এর সাথে লেখকের নিজের জীবনের কিছু ঘটনা(!) এর মেলবন্ধনের মাধ্যমে লেখা। ব্যাস এইটকুই। আর কিছু না।
৮৮ পেইজের ছোট্ট বই। হুট করে শেষ পাতায় এসে দেখি শেষ হয়ে গেছে। হুমায়ূন আহমেদের গল্পের শেষে বরাবর যেমন মনে হয়, আরে এখানেই শেষ হয়ে গেল! আরেকটু বড় হলে খারাপ হত না। কাহিনী খারাপ না, মোটামুটি ছিল। তবে এ��� প্যারালাল ইউনিভার্স আসলেই আছে কিনা জানতে ইচ্ছা করছে। থাকলে বোধহয় খারাপ হত না।
নলিনী ভট্টাচার্য নামক একজন হিন্দু শিক্ষকের কথা যিনি একই সাথে দুটো জগতে বিচরণ করেন, একটা সুখের আরেকটা দুঃখের!কোয়ান্টাম পদার্থবি��্যা যে প্যারালাল ইউনিভার্সের কথা বলে সেটাই কিছুটা নিয়ে আসা হয়েছে এখানে যে টা পুরোপুরি বাস্তব জীবন থেকে নেয়া!
এই বইটা কেমন যেন একটু অদ্ভুত। তবে বেশ ভাল লেগেছে। নলিনী বাবুর কাহিনীটা কি আসলেই সত্যি? নাকি লেখকের বাস্তব জীবনের সাথে কল্পনার মিশেল? হুমায়ুন আহমেদের ব্যক্তিগত কিছু ঘটনাও বইতে লেখা আছে... Recommended
হুমায়ুন সাহেবের যেকোনো আত্মজীবনী আমার খুব পছন্দের। এ বইটি সম্পূর্নরূপে আত্মজীবনী না হলেও কিছুটা ছিটেফোটা আছে। সাথে নলিনী বাবুর কাহিনীও যথেষ্ট ইন্টারেস্টিং।
পরবর্তীতে ম্যাজিক মুনশি পড়ে জানলাম নলিনী বাবুর পুরো কাহিনীটিই বানানো। শুনে খারাপ লাগলো, তাই এক তারকা কমিয়ে দিলাম।
হুট করে একদিন লেখক এর বাসায় নলিনী বাবুর আগমন। আগে থেকে চিনতো না থাকে লেখক। শুধু সৌজন্যমূলক কথাবার্তা বলবার জন্য এসেছে ভেবে কিছুক্ষণ কথা বলেছিলো তার সাথে লেখক। তাতেই শুরু হয় গল্প। খুবই সাদামাটা একজন মানুষ নলিনী বাবু। লেখক এর জন্য কষ্ট করে মাছ নিয়ে এসেছে, সেই মাছ কিভাবে রাঁধতে হবে তা বুঝিয়ে দিতে চেয়েছিলেন পাচককে, কিন্তু পাচকই ছিলো না লেখক এর। তাই অনুমতি নিয়ে নলিনী বাবু নিজেই রান্না করতে বসে গেলেন। লেখক নির্দ্ধিদায় রান্নার প্রেমে পড়ে গেলেন। গল্পে এমন অনেক রান্নার উপায় এবং অনেক শ্লোক বলা আছে যা পাঠকদের পড়ে ভালো লাগতে পারে।
নলিনী বাবুর নিজের কিছু গল্প ছিলো বলার মতো। রাজপুত্রের মতো বাবা যার স্বভাব ছিলো খুবই খারাপ। এমন বাজে অভ্যাস নেই যেটা ছিলো না তার বাবার। পরকীয়া তার সবচেয়ে বড় খারাপ অভ্যাস। কিন্তু এ নিয়ে তার কোনো মাথা ব্যাথা নেই। ললিতা নাম এর এক মেয়ে নিয়ে তিনি প্রায়ই বাসায় থাকতেন। এদিকে নলিনী বাবুর মাও খুব রূপবতী ছিলেন, স্বামীকে খুব ভয় করতেন। এই অবস্থা থেকে পরিত্রান দেয়ার জন্য নলিনী বাবুর মামা তাদের কলকাতায় নিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা করেন। তার আগেই ব্যাপারটা জানতে পারে নলিনী বাবুর বাবা তার মা কে মেরে ফেলে। তারপর কঠিন ব্রাহ্মন শোক পালন করতে হয় নলিনী বাবুর। শোক পালনের শেষ দিন তিনি কাঁদতে কাঁদতে ঘুমিয়ে যান। ঘুম থেকে উঠে তিনি দেখেন সব কিছুই খুবই নরমাল। বাড়ির উঠানে তার বাবা ও মাম বসে আছে। পুকুরপাড়ে তার মা ললিতা। নলিনী বাবু বুঝতে পারছিলেন না যে, তিনি কি স্বপ্ন দেখছিলেন কিনা! এই দুনিয়ায় তার সব কিছু উলটা। তার আপন মা হয়ে গেছে এই দুনিয়ায় কাজের লোক। তবে দুই দুনিয়াতে কিছু সাদৃশ্য আছে। যেমন আসল দুনিয়াতেও তার বাবা খারাপ ছিলো, তার আপন মাকে মেরে ফেলে। আর অন্য দুনিয়াতেও তার বাবা খারাপ, ওই দুনিয়ার মাকে(ললিতা) মেরে ফেলে। দুই দুনিয়াতেই তিনি তার নিজের মা এর সন্তান। অর্থাৎ আসল দুনিয়াতে নলিনী বাবু যার সন্তান, অন্য দুনিয়াতেও সেই মার (দাসী) সন্তান। অন্য দুনিয়াতেও তার বাবা নিজের বিয়ের বাইরে কুকর্ম করে বেড়ায়। তবে মুখ মধু অন্তরে বিষ। লেখক এই ২ দুনিয়াকে আলাদা করার জন্য নাম দিয়েছে দুঃখ জগৎ (আসল), সুখ জগৎ (নকল)। সুখ জগতে নলিনী বাবু Physicist আর দুঃখ জগতে Bsc পাশ করা একজন সামান্য স্কুল শিক্ষক।
নলিনী বাবু তার গল্প শেষ না করেই বিদায় নেন রাতের আঁধারে। নিজেকে পাগল বলে একটি চিরকুটও রেখে যান লেখক এর কাছে। এর পর লেখক তাকে খুঁজে বের করতে নীলগঞ্জ পর্যন্ত যান। তার বাসায় গিয়ে খুঁজে একটি ডাইরি পান, সেখানে Physics এর জটিল সব ইকুয়েশন লেখা। লেখাগুলো যে নলিনী বাবুর তাতে সন্দেহ নেই। সামান্য Bsc শিক্ষক এর এতো কিছু জানার কথা না। তাহলে কি আসলেই আমরা কয়েকটি জগতের সাথে যুক্ত? একসাথে parallelly কয়েকটি জগতে আমরা চলছি, কোথাও আমরা সাকসেসফুল, কোথাও আমরা গর্দভ। কোথাও আমরা শক্তিশালী, কোথাও দুর্বল। আবার কোথাও আমাদের সব কিছু মিলে যাচ্ছে। এটার জন্যই কি ডেজাভু হয়? কত কিছু অজানা এখনো।
নলিনীবাবু ছিলেন মেন্টাল হাসপাতালে। করুন অবস্থায়। সেখান থেকে তাকে নুহাশ পল্লীতে এনে রাখা হয়। সেখানেই দেখভাল করা হয়। এদিকে লেখকের ব্যক্তিগত কিছু গল্পও তুলে ধরে হয় এই লেখায়। যেমন ট্যালিপ��থি, লেখক অনেকদিন ধরে একটা শ্লোক এর মানে খোঁজার চেষ্টা করছিলো। তার জন্য এক বন্ধুকে বলেও রেখেছিলো। কিন্তু একদিন হুট করে সেই শ্লোক এর মানে বুঝতে পারে লেখক, তার একটু পরেই সেই বন্ধুও ফোন করে শ্লোক এর মানে বলার জন্য। তারপর লেখক এর এটাও মনে হয় সবাই সবার সাথে যুক্ত। একবার এয়ারপোর্টে ভারী বিপদে পড়েন লেখক, সেদিন লেখক এর মা ঘুম থেকে উঠেই বলতে শুরু করে, "হুমায়ুন এর অনেক বড় বিপদ"।
নলিনীবাবু তার স্কুলের এক ছাত্রী সুলতানার প্রেমে পড়েন। মেয়েটি ছিলো মুসলমান। সেই মেয়েকে নিয়ে তিনি আলাদা এক জগৎ তৈরী করেন, যেই জগতে নলিনীবাবু ও সীতা (সুলতানা থেকে সীতা) একসাথে বাস করেন। তিনি বার বার সেই জগতে যেতে চান। সেই জগতে যেতে হলে তাকে ঘুমের ঔষুধ জাতীয় ড্রাগস নেয়া লাগে। তিনি যেই মানসিক হাসপাতালে ছিলেন, সেখানে এরকম ড্রাগস দেয়া হতো। তিনি তখন তার বর্তমান থেকে পালিয়ে তাঁর সীতার কাছে থাকতে পারেন। তাই নিজেই তিনি সেই ক্লিনিকে ভর্তি হন। লেখক বুঝতে পারেন, পুরোটাই নলিনীবাবুর কল্পনা। হয়তো সত্যি, হয়তো মিথ্যা।
This entire review has been hidden because of spoilers.