ড্যান ও'হারা। ছোট্ট ছেলে। বয়স মাত্র ছ'বছর। সব হারিয়ে, অসুস্থ বাবার সঙ্গে পশ্চিমে যাচ্ছিল ও। কিন্তু মাঝপথে ওর দাদু আক্রমণ করলেন ওদের। খুন করলেন ড্যানের বাবাকে, আর ড্যানকে নিয়ে ছেড়ে দিলেন মরুভূমিতে। নিঃস্ব অসহায় ড্যান তবু মরল না, বাঁচার অদম্য তাগিদ আর পিতৃহত্যার প্রতিশোধস্পৃহা জাগিয়ে তুলল ওকে। ড্যান ও'হারা এখন পুরোদস্তুর যুবক। জীবনে প্রতিষ্ঠিত হবার লক্ষ্যে এগিয়ে যাচ্ছে দৃপ্তপায়ে। কিন্তু ওর শত্রুরাও বসে নেই চুপ করে। টোপ ফেলে ওকে মরুভূমিতে নিয়ে গেল হত্যা করার জন্য। ও কি পারবে বাঁচতে?
রওশন জামিল বাবার কাছ থেকে পেয়েছেন লেখালেখির করার অনুপ্রেরণা। জীবনে প্রথম লেখা ক্লাস ফাইভে। স্কুল ম্যাগাজিনে। এর পর দীর্ঘ বিরতি দিয়ে আবার শুরু পত্রিকায় রিপোর্ট/ফিচার লেখার মধ্যদিয়ে, যখন তিনি মাস্টার্সে পড়েন। লেখালেখির পাশাপাশি তার আরো একটা পেশা আছে সেটা হলো সাংবাদিকতা। স্ত্রী গৃহিণী, দুই সন্তানের জনক তিনি। বড় ছেলে ও ছোট মেয়ে নিয়ে তার পরিবার।
সেবা প্রকাশনীতে তার প্রথম বই বই প্রকাশিত হয় কাজীদার সাথে যৌথ ভাবে ১৯৮৫ সালের জুন মাসে দাগী আসামী-১ দিয়ে। পরবর্তিতে দুইটি কিশোর ক্লাসিক হাকলবেরি ফিন প্রকাশিত হয় ফেব্রয়ারী ১৯৮৬ এবং দ্বিতীয়টি দি ওল্ড ম্যান অ্যান্ড দ্য সী নভেম্বর ১৯৮৭তে প্রকাশিত হয়। এছাড়া শিশু ক্লাসিক পিটারপ্যান-ও তিনি লিখেন ১৯৮৯ সালে।
তিনি ছিলেন ওয়েস্টার্ন সিরিজে একজন সফল লেখক। প্রথম ওয়েস্টার্ন বই "ফেরা" প্রকাশিত হয় ১৯৮৬ সালে। ওসমান পরিবার এবং সাবাডিয়া নামের সাথে আমরা সবাই কম বেশি পরিচিত। সেবা প্রকাশনীতে তার একক ভাবে ৩৫টিরও বেশি ওয়েস্টার্ন বই বের হয়।
১৯৯৪ সাল পর্যন্ত নিয়মিত লিখলেও সে বছর আমেরিকায় প্রবাসী হলে বিরতিতে চলে যান তিনি। তবে সাবাডিয়ার ফেরা, না-ফেরা বই এর মধ্য দিয়ে তিনি আবার লেখায় ফিরেন ২৪ বছর পর ২০১৮ সালে। আর এর আগে ২০১২ সালের ঈদসংখ্যা ইত্তেফাকে ওসমান পরিবারকে ফিরিয়ে আনেন "সেই ওরিন ওসমান" নামে একটি উপন্যাসিকার মাধ্যমে।
ছোট্ট ড্যান ও হারা অসুস্থ বাবার সাথে ফিরছিল নানার কাছে। যে নানা ড্যানকে দৌহিত্র হিসেবে পরিচয় দিতে কুণ্ঠিত হন। কেননা ড্যানের বাবা ছিল দরিদ্র নাবিক আর ড্যানের মা ক্যালিফোর্নিয়ার ধনাঢ্য ডনের কন্যা। কন্যার 'ভুল'কে মানতে পারেননি ডন। তাই বাবাকে পালিয়ে যেতে হয়েছিল।
পথেই নিজের নানার লোকেদের হাতে নিহত হলো ড্যানের পিতা। তাকে মরুভূমিতে ফেলে গেল মরার জন্য। ড্যান কিন্তু বেঁচে রইল। আরও বেঁচে রইল যারা ড্যানকে মারতে চায় তারা।
কিশোরবেলায় ওয়েস্টার্ন পড়লে হয়তো অনুভূতি ভিন্নরকম হতো। এখনকার মতো নীরস ও গঁৎবাঁধা লাগত না।
ড্যান ও'হারা। গল্পের কেন্দ্রীয় চরিত্র। মা মারা যাওয়ার পর, তার বাবা যখন দেখতে পারেন তার অবস্থাও সঙ্গিন, ছেলেকে দেখার কেউ নেই, তখন ছেলের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে পশ্চিমের পথে রওনা দেয়, ড্যানকে তার নানার হাতে তুলে দিতে। যেখান থেকে কিনা পালিয়ে এসেছিল ড্যানের নানার ভয়ে। শেষ পর্যন্ত আর পৌছানো হয় নাই ওদের, পথেই ড্যানের নানা খুন করে তার বাবাকে ড্যানের চোখের সামনেই। ড্যানকে মরুভূমিতে ছেড়ে দিয়ে যায় মৃত্যুর জন্য। কিন্তু বাবা এবং ইন্ডিয়ানদের কাছে থেকে শেখা জ্ঞানের কারনে মরে না ড্যান। বেঁচে যায় সে। প্রতিজ্ঞা করে এর প্রতিশোধ সে নিবেই। তার বিপদে অপ্রত্যাশিত ভাবে এগিয়ে আসে অনেক বন্ধু, কেউ তার পরিচিত কেউ তার সম্পূর্ন অপরিচিত। বড় হতে থাকে ড্যান।
সে কি পারবে তার পিতৃ হত্যার প্রতিশোধ নিতে? নাকি সেও বেঘরে প্রান হারাবে?
পাঠপ্রতিক্রিয়াঃ অনেক দিন পর খুব ভাল মানের একটা ওয়েস্টার্ন পড়লাম। শেষ এত ভাল ওয়েস্টার্ন মনে হয় পড়েছিলাম কাজী মাহবুবের "ভাগ্যচক্র" (যদিও সেটা আরো বেশী ভাল)। এটায় দেখানো হয় বাচ্চা (৬ বছর) থেকে ড্যান কি ভাবে আস্তে আস্তে পরিনত যুবকে পরিনত হয়। ২৫০ পেজের বই কোন রুপ বিরক্তি ছাড়াই এক টানে শেষ করে ফেললাম আজ। রেটিং ৪.৫/৫ দিব। মাঝে মাঝে একটু ছন্দ পতনের কারনে। রওশন জামিলের সাবাডিয়া সিরিজ বাদে এটা তার সেরা লেখা বলে মনে করি আমি।
লুই আমুরের "lonesome god" নামক বিশাল বইয়ের অনুকরণে লিখা। সবকিছুই বেশ ভালো লাগছে কিন্তু কিছু শব্দ চয়ন খুব উদ্ভট লাগছে। বিশাল বইকে কাটছাঁট করতে গিয়ে অনেকখানেই কাহিনী খেই হারিয়ে ফেলেছিল। এটা না হলে অনায়াসে ৪.৫* দেওয়া যেত।
ওয়েস্টার্ন পড়া হয় না বেশ অনেকদিন। বিধাতা টু রিড লিস্টে ছিল আগ থেকেই।সেবার ডিসকাউন্ট সেলে প্রথম পর্ব বাগালেও দ্বিতীয় পর্ব বাগানো হয়ে না ওঠায় পড়াটা পিচিয়ে গেছিলো।সেদিন পুরনো বইয়ের দোকান থেকে বইটা সংগ্রহ করার পর আর কালবিলম্ব না করে পড়া শুরু করলাম।গল্পের নায়ক ড্যান ও'হারা। সে কাউকে ভয় করে না। বাবা ডগলাস ও'হারা স্প্যানিশ ডন রোমেরোর মেয়েকে ভাগিয়ে বিয়ে করে। বংশমর্যাদা রক্ষার জন্য পশ্চিমের এই "চৌধুরী সাহেব(!)" খুনিদের লেলিয়ে দেন মেয়ে ও মেয়ের জামাইয়ের পিছনে।ইন্ধন যোগায় রোমেরোর সম্পত্তি প্রত্যাশী ডন ফেদেরিকো।ডগ্লাস ও তার স্ত্রীকে আপন করে নেয় মরুভূমি।কিন্তু সুখ কপালে সয় না।বাব-মাকে হারিয়ে একাই বড় হতে থাকা ড্যান।সাথে আছে আটফুটি দানব টাহকুইতস আর কাউইয়া ইন্ডিয়ানরা।কিশোর ড্যানের দিকে মমতার হাত বাড়িয়ে দেন ক্যালিফোর্নিয়ার অভিজাত মহিলা ডায়ানা।কিন্ত ড্যানকে হত্যার জন্য খুঁজছে রোমেরো,ফেদেরিকো,ভিটেলো,র্যাড,চ্যাপ সহ নাম না জানা অনেক শত্রু।সৌভাগ্যবশত বন্ধুরও অভাব নেই ড্যানের।আর ঝড়ের মতই আসে প্রেম- অ্যানাবেল।তারপর আরো বিস্তর কাহিনি,অতকিছু বলতে পারবো না,পড়ে নেন... :P অসাধারণ বললেও কম বলা হয়।রওশন জামিলের শক্তিশালী লেখনীতে ভিন্ন মাত্রা লাভ করেছে বইটি।পশ্চিমের অপার সৌন্দর্যের এমন প্রাঞ্জল বর্ণনা ইদানীংকার বইগুলোতে পাওয়া যায় না।কাহিনিটাও বহুমাত্রিক।খটকার জায়গা ছিল কেবল একটাই,আমাদের নায়ক ড্যান ও'হারা বাংলা সিনেমার নায়কের মত সাইকেল চালাতে চালাতে(অ্যাকচুয়ালি ঘোড়া দাবড়াতে দাবড়াতে) কিভাবে ১১ বছর বয়সী থেকে একদম যুবায় পরিণত হয়ে গেল তাই বোধগম্য হয় নাই।যাকগে,লজিক ফজিক বাদ। অ্যাকশন,রোমান্স,রোমাঞ্চ,ফিলোসফিতে ভরা বইখানা একখানা কমপ্লিট প্যাকেজ।আর লাস্টের এন্ডিং খানা কি বলব!পুরাই তোফা হয়েছে। :)