দেব্রীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায় (English: Debiprasad Chattopadhyaya) ভারতের কলকাতায় ১৯১৮ সালে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ছিলেন ভারতের একজন প্রখ্যাত মার্ক্সবাদী দার্শনিক। তিনি প্রাচীন ভারতের দর্শনের বস্তুবাদকে উদ্ঘাটন করেছেন। তাঁর লেখাগুলো একাধারে দর্শন ও বিজ্ঞানের সমন্বয়। এছাড়াও তিনি প্রাচীন ভারতের বিজ্ঞানের ইতিহাস ও বিজ্ঞানের পদ্ধতি সম্পর্কেও গবেষণা করেছেন। তিনি ১৯৯৩ সালে কলকাতায় মৃত্যুবরণ করেন।
ভারতে বস্তুবাদ প্রসঙ্গে - দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায় এর লোকায়ত বা চার্বাক দর্শন এবং প্রাচীন ভারতে বস্তুবাদের ঐতিহ্য নিয়ে লেখা। এটি মূলত ছয়টি অধ্যায়ে বিভক্ত ১. চার্বাক / লোকায়ত ২. প্রত্যক্ষই প্রমাণশ্রেষ্ঠ ৩. দেহ আত্মা ৪. স্বভাববাদ ৫. বিজ্ঞান ও বস্তুবাদ ৬. দর্শন ও রাজনীতি
প্রথম চারটি অধ্যায় চার্বাক ও লোকায়ত মূলত একই দর্শন এবং এটির প্রাচীনকালে ভালই জনপ্রিয়তা ছিল সেই বিষয়ে বিভিন্ন দার্শনিক আলোচনা। যেমন চার্বাক গোষ্ঠীর প্রত্যক্ষই প্রমাণশ্রেষ্ঠ মতবাদ যা স্বর্গ , মর্ত্য ও পরলোক বিষয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছিল। কিংবা দেহ এর বাইরে আত্মার উপস্থিতি সম্পর্কে মতবাদ। এগুলি বইটির সিংহভাগ অধিকার করে আছে , যা ভারতীয় দর্শনের সম্পর্কে উৎসাহ আছে যাদের তাদের ভালো লাগবে । আমার এর পরের আলোচনা গুলি বেশি ভালো লেগেছে ।
পঞ্চম অধ্যায় সংক্ষিপ্ত আলোচনা বিজ্ঞান ও দার্শনিক মতবাদের সম্পর্ক নিয়ে। এখানে ব্যাখ্যা করা হয়েছে কেন বস্তুবাদ যেখানে 'প্রত্যক্ষই প্রমাণশ্রেষ্ঠ' বিজ্ঞানের প্রসারের জন্য সহায়ক এবং এর বিপরীত মায়াবাদ যেখানে যুক্তির কোনো স্থান নেই, বৈজ্ঞনিক মতামত চাপা দিতে চায়। এই অংশটি বর্তমান ভারতের খুবই জরুরী সমস্যার ওপর আলোকপাত করেছে । ষষ্ঠ অধ্যায়টি আরো সংক্ষিপ্ত কিন্তু সবথেকে আকর্ষক এই বইটির। এটি জাতিভেদ প্রথা , বর্ণাশ্রম প্রভৃতি ভারতীয় সমাজের নানা ব্যাধির সঙ্গে উচ্চ মার্গের দার্শনিক মতবাদের সম্পর্ক তুলে ধরেছে । এখান থেকেই জানা যায় মায়াবাদ কিভাবে এগুলির সমর্থনে যুক্তি তুলে ধরে শাসকগোষ্ঠীর প্রিয় হয়ে উঠেছিল আর এই প্রথাগুলির প্রতিবাদ করায় লোকায়ত গোষ্ঠীকে সমাজ থেকে নির্বাসিত ও তাদের মতামত সম্বলিত পুঁথি পোড়ানোর ডাক দেয়া হয়েছিল। এভাবেই বোঝা যায় রাজনীতি কিভাবে দর্শনের সাথে সম্পৃক্ত। এই আলোচনা আরো বিস্তারিত হলে ভালো লাগতো।