দেব্রীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায় (English: Debiprasad Chattopadhyaya) ভারতের কলকাতায় ১৯১৮ সালে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ছিলেন ভারতের একজন প্রখ্যাত মার্ক্সবাদী দার্শনিক। তিনি প্রাচীন ভারতের দর্শনের বস্তুবাদকে উদ্ঘাটন করেছেন। তাঁর লেখাগুলো একাধারে দর্শন ও বিজ্ঞানের সমন্বয়। এছাড়াও তিনি প্রাচীন ভারতের বিজ্ঞানের ইতিহাস ও বিজ্ঞানের পদ্ধতি সম্পর্কেও গবেষণা করেছেন। তিনি ১৯৯৩ সালে কলকাতায় মৃত্যুবরণ করেন।
ভারতের ইতিহাসের সাথে সাথে ভারতীয় দর্শন সম্পর্কে পড়ার ইচ্ছা ছিল অনেক দিনের। 'দর্শন' বলতে কি বোঝায়, সেটা জানারও আগে থেকে। ভারতীয় দর্শন এক বহু বিস্তৃত বিষয়। জানা সহজ নয়। এ সম্পর্কে পড়তে গেলে প্রথমে সংক্ষিপ্ত কিন্তু মূলগত আলোচনা পড়া দরকার। এই বইটা ঠিক সেরকম।
পড়তে গিয়ে দেখলাম, শুধু দর্শন না, ইতিহাসেরও এক চমৎকার পাঠ এই বই। সিন্ধু সভ্যতা সম্পর্কে অল্পের মধ্যে চমৎকার আলোচনা। এরপর বেদ ব্যাখ্যার মধ্যে দিয়ে এগিয়ে চলে ভারতীয় দর্শনের বিশ্লেষন। খুব ধীরে ধীরে সহজ থেকে কঠিন বিষয়ের দিকে গেছেন লেখক। করেছেন চমৎকার বিশ্লেষণ। ভারতীয় দর্শন, দার্শনিক, বেদ, উপনিষদ, বৌদ্ধ মত, সবকিছু নিয়েই আলোচনা আছে।
দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়ের 'যে গল্পের শেষ নেই' পড়ে যে মুগ্ধতা ছিল, তা আরও বাড়লো এই বই পড়ে। সহজ করে জটিল বিষয় বোঝাতে দক্ষ তিনি। তবু বলতে হয়, দেড় মাস সময় নিয়ে পড়া এই বইয়ের ৬০% এর বেশি বুঝেছি বললে মিথ্যা বলা হবে, কেননা দর্শন কোন সহজ বিষয় নয়। তবে, জানতে চাইলে, আগ্রহ থাকলে এই বইটা চমৎকার।
আরেকটা জিনিস বলে রাখি, ভারতীয় দর্শন কেউ পড়তে চাইলে, আগে ভারতের ইতিহাসটা পড়ে নিতে হবে। নইলে ১০%-এর বেশি বুঝবেন না