একই এলাকায় দুটি হত্যাকাণ্ড ঘটল অল্প ক'দিনের মধ্যেই। দুটি ক্ষেত্রেই নিহত মহিলা, আর তাঁদের কপালে হত্যাকারী 'শ্রী' কথাটা লিখে দিয়ে গেছিল। দ্বিতীয় নিহত ব্যক্তি ক্ষমতাশালী পরিবারের সদস্য বলে ব্যাপারটা ওপরমহলকে নড়িয়ে দিল। এগুলো সিরিয়াল কিলিং হতে পারে— এই আশঙ্কায় গোয়েন্দা বিভাগের প্রাক্তন অফিসার সত্যব্রতকে বেসরকারিভাবে লিড নিতে বলা হল এই অনুসন্ধানে। পুলিশি প্রক্রিয়ার শক্তি ও সীমাবদ্ধতা মাথায় রেখেই যত দ্রুত সম্ভব এই হত্যাকাণ্ডের গভীরে ঢুকতে চাইলেন সত্যব্রত। কিন্তু তারই মধ্যে তিন নম্বর খুনটা হল! তারপর কী হল? হত্যাকারীকে কি চিহ্নিত করতে পারল পুলিশ? নাকি চার নম্বর শিকারটিকেও নাগালে পেয়ে গেল হত্যাকারী? অত্যন্ত টানটান ভঙ্গিতে এবং সহজ গদ্যে একটি সলিড পোলিস প্রোসিডিওরাল পেশ করেছেন লেখক। প্রতিটি চরিত্র বাস্তবানুগ। পরিবেশ ও পটভূমি জীবন্ত হয়ে উঠেছে লেখার গুণে। সর্বোপরি, অনুসন্ধানের জটিল প্রক্রিয়াটি ধাপে-ধাপে তিনি আমাদের সামনে পরিবেশন করেছেন— যার ফলে সত্যব্রতের পাশাপাশি পাঠকও বুঝতে চেয়েছেন এই খুনগুলোর আসল কারণ, আর তারই সূত্র ধরে খুঁজে নিতে চেয়েছেন হত্যাকারীকে। পরিচ্ছন্ন ও শুদ্ধভাবে মুদ্রিত বইটি পড়ার অভিজ্ঞতা আরামদায়ক ছিল। সত্যব্রতের পরবর্তী রহস্যভেদের কাহিনি পড়ার অপেক্ষায় রইলাম।