অল্প কিছুদিনের মধ্যে গ্রামের অন্ধকারেও বিদ্যুৎ হানা দিলো। কানধরা বালকের মতো খাম্বাগুলো একটার পর একটা দাঁড়িয়ে পড়লো গাছের পাশে। রোদে তারা হাসে না, বাতাসে তারা দোলে না, অবিচল দাঁড়িয়ে থেকে শাস্তিভোগ করছে শুধু। পাখিরা এইসব খাম্বাগুলোকেও অবহেলা করে না, ওড়াওড়ি থেকে ক্ষণিক অবসর নিয়ে এখানে বসে পৃথিবীটাকে দেখে, নিজেদের মধ্যে আলোচনা সভা বসায়, খোশগল্প করে, অথবা দুটি পাখি গা ঘেঁষাঘেষি করে প্রেম করে, অভিমান ভাঙ্গে। সন্ধ্যায় অন্ধকারের পেট ফেঁড়ে আলো ফুটে উঠে গ্রামে, রাতের পাখিরা তখন বিভ্রান্ত হয়, পানকৌড়িটা ঘন ঘন পথ হারায়। গ্রামের প্রায় কেউই বিদ্যুৎ থেকে বঞ্চিত হল না, শুধু আমিই অন্ধকার পুষে বিদ্যুৎহীন রইলাম। গ্রামবাসীর কাছে আমার বাড়িটা আগের চেয়েও বেশি রহস্যময় এবং আরো বেশি ভয়ঙ্কর হয়ে উঠলো। ঘরে ঘরে আলো পৌঁছালেও মানুষের মনের গহীনে যে অন্ধকার ঘাপটি মেরে পড়ে আছে, একশো ওয়াটের বাল্বও সেই অন্ধকারের নাগাল পেল না।
এত মায়াবী একটা কাহিনি।রিডার্স ব্লকে ছিলাম অনেক দিন।একটানে পড়ে ফেললাম বইটা।মাঝে মাঝে বিষন্নতা গ্রাস করেছিলো বইটা পড়তে গিয়ে।তবে সেই বিষন্নতায় ছিলো আনন্দের হাতছানি। আহারে।কত মায়া ছড়িয়ে আছে বইটার অক্ষরে অক্ষরে।
গল্পের শুরুটা হয়েছে একটা খুনের মধ্য দিয়ে। ঠিক খুন না, একটি খুনের স্বীকারোক্তি। এই ঢাকা শহরে অনেক পাগল কিসিমের মানুষ আছে। নেশা করে টাল হয়ে থাকা মানুষেরও অভাব নেই। এমন অজস্র মানুষ পুলিশদের বিরক্ত করার জন্য থানায় গিয়ে অনেক গল্প ফাঁদে। এই মধ্যরাতের গভীরে এসে কেউ যখন বলে, বড় অফিসারের সাথে কথা বলতে চায়। সে একটা খুন করেছে! তবে কে-ই বা বিশ্বাস করবে?
এই গল্পটা বুঝতে গেলে আমাদের ফিরে যেতে হবে কয়েক দশক পিছনে। তখন ঢাকার আরমানিটোলায় বসবাস করত এক পরিবার। বাবা, মা ও সন্তানকে নিয়ে তাদের সংসার। বাবার পূর্বপুরুষ অনেক বেশি ব্যক্তিত্ব সম্পন্ন। অতীতে যাদের জমিদারি ছিল, বর্তমানে তাদের কিছু না থাকলেও সেই আভিজাত্য ঠিকই থাকে। যদিও বাইরে দিয়ে তা দেখা যায় না। কিন্তু মনের এই আভিজাত্য তার চারিপাশে একটা দেয়াল তুলে দেয়। যা খুব সহজে ভাঙা যায় না। নিজের আত্মসম্মান বিসর্জন দিয়ে কারো মুখাপেক্ষী হওয়া যায় না। স্কুলে শিক্ষকের চাকরি যার অবলম্বন।
একদিন বাবার হাত ধরে ছেলেটা স্কুলে ভর্তি হলেও তার সেই যাত্রা সুখকর হয়নি। নিশ্চুপ, শান্ত হাসান নামের ছেলেটা তাই স্কুলে শারীরিক ও মানসিক অত্যাচারের শিকার। শিশু মন এখান থেকেই বদলে যায়। সঙ্গী খুঁজে বেড়ায়। অবশ্য তার জন্য নতুন সঙ্গী খোঁজার অবকাশ এসেছে। মা অন্তঃসত্ত্বা। তার একজন সঙ্গী হয়তো আসবে। কিন্তু সবকিছু বদলে যায় এক দুর্ঘটনায়। একদিন মাকে নিয়ে বাবা হাসপাতালে চলে যায়। ফিরে আসে একা। কিছুদিন পর মা-ও আসে। কিন্তু তার আর সঙ্গী পাওয়া হয় না। মা-ও যেন কেমন হারিয়ে গিয়েছে। মাকে সুস্থ করতে গিয়ে ঢাকার এই ভিটেমাটি বিক্রি করে দিতে হয়। তার ভাগ্যের এক গতিপথেই কি না! গ্রামের এক জমিদার বাড়িতে আশ্রয় হয় তাদের। কিন্তু সেখানে জন জনজীবন থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে ওদের তিনজনের পরিবার জীবন কাটাতে থাকে।
সেই ছেলেটার জীবনের গল্পটা নিয়েই ওবায়েদ হকের “ডাকনাম ভুলে গেছি” উপন্যাসের শুরু থেকে শেষ। লেখকের সবচেয়ে দীর্ঘায়িত বই। ওবায়েদ হকের লেখা সবচেয়ে কোন দিকটি ভালো লাগে জানেন? তার উপমার ব্যবহার। তার লেখনশৈলীতে এক ধরনের ছন্দ আছে। আর উপমায় ভর করে প্রতিটি শব্দে, বাক্যে তিনি যেভাবে গল্প বলেন; অদ্ভুত এক ঘোরের মধ্যে চলে যেতে হয়। পড়তে ভালো লাগে। এক ধরনের তৃপ্তি কাজ করে।
ঠিক যেখানে জমিদারবাড়ির গল্প বলেছেন লেখক, সেখানে কুসংস্কার আর ভয়ভীতি থাকবে না; তা তো হতেই পারে না। প্রাচীন এক জমিদারের ফুর্তির সাক্ষী ও এক গরীব দুঃখী নারীর হাহাকারের নিদর্শন হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে এ জমিদারবাড়ি। মাঝে মাঝেই এক অশরীরী অবয়ব দেখা যায়। কেউ ভিড়ে না এই বাড়িতে। কেউ মিশে না এই বাড়ির কারো সাথে। এখানে তিন মানুষের একাকীত্ব প্রকট হয়ে ওঠে। তারচেয়েও প্রকট হয়ে ওঠে সেই আদিম ভয়। কাকে যেন দেখা যায় বাইরে, জমিদারবাড়ির সীমানায় থাকা জঙ্গলে?
এভাবেই একদিন মায়ের মৃতদেহ খুঁজে পায় ছেলেটা। তারপর বদলে যায় সবকিছু। বদলে যায় পারিবারিক বন্ধন। পরিবারের দৃঢ়তার সুতো সবসময় মায়ের হাতেই থাকে। কিন্তু যখন মা না থাকে সবকিছু এলোমেলো হতে শুরু করে। আর মায়ের এই প্রয়াণ সহ্য করতে না পেরে বাবাও যখন নিজের পথ খুঁজে নেয়, তখন হাসান একা হয়ে যায়। এই একাকীত্ব দুর করতে সে নিজের একটা জগৎ তৈরি করে নেয়। নিজেই কৃষক হয়ে ওঠে। গাছের সাথে সখ্যতা গড়ে ওঠে। বনের প্রাণীরা হয় তার আপনজন।
হাসানের প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা নেই। বাবার প্রচুর বই পড়ার অভ্যাসকে নিজের করে নিয়ে সেখান থেকেই শিখে সবকিছু। কিন্তু বই পড়ে কি আর ব্যবহারিক জ্ঞান লাভ করা যায়? কারো সাথে না মিশতে মিশতে অসামাজিক হয়ে যাওয়া কেউ মুখচোরা, নিষ্প্রাণ হয়ে ওঠে। এমন জীবনে ইখলাক হোসেনের মতো কেউ আসে। নতুন করে আলোর পথ দেখায়। কিন্তু একদিন প্রকৃতির বিচার বা রূঢ় বাস্তবতার কারণেই হয়তোবা হারিয়ে যায়। আমাদের জীবন তো এমনই! এই জীবনে মানুষের আসা যাওয়া লেগেই থাকে। কেউ ক্ষণিকের জন্য, কেউ সময়টা আরেকটু দীর্ঘায়িত করে।
এই গল্পের মোড় নেয় অন্যভাবে। হাসান একাকীত্বকে এমনভাবে বরণ করে নিয়েছে, তার স্বভাবে কিছুটা বন্য ভাব পরিলক্ষিত হয়। কারো সাথে মিশতে পারে না। নারী সত্তার সানিধ্য তো কখনোই পায়নি। তার মধ্যে একদিন তার জমিদারবাড়িতে আচমকা একটি মেয়ের আবির্ভাব হয়। হয়তো সেই মেয়ে, যার অবয়ব এই বাড়িকে ভৌতিক রূপ দিয়েছে। নাকি বাস্তব কেউ? অনেক কিছু জানা যায় মেয়েটা সম্পর্কে। সীমান্ত পার হয়ে যার যাওয়ার ইচ্ছে পাশের দেশে। কিন্তু সেই সুযোগ আর হলো না। প্রেমের আবেগ ভেসে নতুন প্রাণ নিজের মধ্যে বহন করে যে বিপদের পথে পা বাড়িয়েছে, হাসান তার জন্য যেন আশীর্বাদ হয়ে ধরা দিয়েছে। নাহলে এমন একজন মেয়েকে একা পেলে নরপিশাচরা যে আরও হিংস্র হয়ে ওঠে।
আমি লেখককে সাধুবাদ দিবো দুইটা কারণে। প্রথমত, লেখকের বর্ণনা যেখানে দুর্দান্ত পাঠ অভিজ্ঞতা দিয়েছে। লেখকের লেখা একটা বিষয় লক্ষণীয়। তিনি সূক্ষ্ম বিষয়ের বর্ণনার দিকে বেশ গুরুত্ব দেন। ফলে পড়াটা প্রাণবন্ত হয়ে। প্রাকৃতিক বর্ণনায় লেখক অপ্রতিরোধ্য। গাছগাছালি, এর প্রাণীগুলো, তাদের আচরণ, অনুভূতিও লেখক ফুটিয়ে তুলেন দারুণভাবে। বন, জঙ্গল, প্রকৃতির মাঝে হারিয়ে যাওয়ার একটা পরিবেশ লেখক যেভাবে সৃষ্টি করেন, আমার কাছে বেশ উপভোগ্য মনে হয়।
দ্বিতীয়ত, লেখক তার চরিত্রদের এখানে দারুণভাবে উপস্থাপন করেছেন। খুব বেশি চরিত্র এখানে ছিল না। হাসান এই উপন্যাসের প্রধান চরিত্র। তাকে জীবনে শুরু থেকে লেখক তুলে এনেছেন, একটা জীবন এখানে উন্মুক্ত হয়েছে। এর বাইরে হীরা নামের চরিত্রকেও লেখক বেশ ভালোমতো ফুটিয়ে তুলেছেন। এর বাইরে বেশকিছু ছোটখাট চরিত্র ছিল, যারা অল্প সময়ের জন্য এলেও বেশ ভালো ভূমিকা রেখেছে। একটি চরিত্রও ফেলনা বা অযথা না। এই বিষয়গুলো একটি বইয়ের গুণাগুণ বাড়িয়ে দেয়।
এই বইটা একটা শিক্ষার উপকরণ হিসেবে ধরে নেওয়া যায়। গল্পের মধ্য দিয়ে লেখক দেখিয়েছেন সমাজকে, উপহাস করেছেন এর অসঙ্গতিগুলোকে। শিক্ষা ব্যবস্থার যে করুণ অবস্থা, তার দিকে লেখকের তীক্ষ্ণ দৃষ্টি ছিল। স্কুলে নতুন সহপাঠীকে বুলি করা, মজা ওড়ানোর মতো ঘটনা কিন্তু মাঝে মাঝেই মনের মধ্যে বিরূপ প্রভাব ফেলে। পাঠ্যবই কিংবা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পড়াশোনার চেয়ে প্রকৃতির কাছে মানুষের শিক্ষাটা বেশি। মানুষ শিখেও বেশি এই পরিবেশে। বরং প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা মানুষের জ্ঞানকে সীমিত করে তোলে। আমাদের সমাজে পাঠ্য বইয়ের বাইরে অন্য বই পড়াকে রীতিমতো ক্রাইম মনে করা হয়। অভিভাবকদের ভাবনা, এতে উন্নতি হয় না। অথচ লেখক দেখাতে চেয়েছেন এই বাইরের বই পড়া একটি মানুষকে কতটা জ্ঞানী করে তোলে। শিক্ষ��ত হওয়ার চেয়ে জ্ঞানী হওয়া উত্তম। তাছাড়া কোনো কাজ ছোটো নয়। মানুষের নিজ হাতে নিজের ভবিষ্যৎ গড়তে হয়। অন্যের মুখাপেক্ষী হয়ে জীবন হয়তো চলে যায়, কিন্তু প্রকৃত স্বাদ কি পাওয়া যায়?
একজন কৃষককে এই সমাজ অবজ্ঞার চোখে দেখে। মূর্খ, অশিক্ষিত ব��ে মনে করে। অথচ লেখকের এই লেখাতে আমরা এমন এক কৃষক দেখতে পাই, কৃষক মাত্রই অশিক্ষিত বা মূর্খ না। বরং শিক্ষিত মানুষের জ্ঞান ও প্রজ্ঞা কাজে লাগাতে পারলে ভালো কিছু সম্ভব। আমাদের প্রত্যেকের মধ্যে কৃষকসত্তা চুপটি করে থাকে। যদিও অতিরিক্ত ভালোবাসা বা প্রত্যাশা এক সময় ঝড়ের কবলে পড়ে মুখ থুবড়ে পড়ে। সেখান থেকে আবারও উঠে দাঁড়ানোর চেষ্টাটাই জীবনের লড়াই। তখন হয়তো সেই ভালোবাসাটা থাকে না।
এই উপন্যাসের এক পর্যায়ে ঘটনাপ্রবাহ একঘেয়েমি মনে হতে পারে। তারপর থেকে গল্পের পরিবর্তন হয় হীরার আগমনে। একজন নারী মানুষের জীবনের অনেক কিছুই পরিবর্তন করে। যে মানুষটা একাকীত্ব ছাড়া কিছুই চিনত না, ধীরে ধীরে সে হয়ে ওঠে সহমর্মী। মানুষের প্রতি অনুভূতিশীল। হীরার গল্পটা অনেক দিক দিয়েই একাধিক অনুভূতি দিয়ে গিয়েছে। যেই মানুষটা সেই ছোটবেলায় বাবার হাত ধরে ঢাকা ছেড়েছিল, একজন মেয়ের জন্য সেই ঢাকাতেই যাওয়া!
আর সকল একঘেয়েমি দূর করে ঢাকার গল্পটা একাধিক রং ছড়িয়েছে। ক্ষণে ক্ষণে পরিবর্তন হয়েছে দৃশ্যের। যে খুনের গল্প দিয়ে উপন্যাসের শুরু, তার তার মূল উপজীব্য এখানে। যদিও এখানে লেখক পাঠকের ভাবনা নিয়ে খেলেছেন। একেকবার একেক রোমাঞ্চ উপস্থিত হয়েছে। স্থির হয়ে কিছু ভাবনা করার অবকাশ ছিল না। আর এভাবে শেষের দিকে যে অনুভূতি দিয়ে গল্পের হয়েছে, তার কোনো তুলনা হয় না।
পাঠক অনেক কিছু ভেবে নিতে পারেন। লেখকদের মধ্যে পাঠকের মনস্তত্ত্ব নিয়ে খেলা করার এক অদ্ভুত অভ্যাস আছে। আর কিছু হলেই কোনো চরিত্র মেরে ফেলতে চাওয়ার কারণ আমি ঠিক বুঝি না। কিছু মিলন না হওয়ার কারণে এ গল্প অনেক সময় মন খারাপের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। হাসানের সাথে তার বাবার শেষ দেখা হওয়ার বাসনা ছিল। কিন্তু….
যদিও এই গল্পের অনেকটা জুড়ে হাসানের বাবার ভূমিকা আছে। না থেকেও তিনি তার দর্শনকে ছড়িয়ে দিতে পেরেছেন। বাবার আদর্শে তার বই পড়ার অভ্যাস আমার কাছে অমূল্য মনে হয়েছে। আমাদের অভিভাবকরা আমাদের হাতে বই তুলে দিতে চান না। কিন্তু প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা বাদ দিয়ে যে বাবা অসীম জ্ঞানের ভান্ডার ছেলের হাতে তুলে দিতে তার নিশ্চুপ হয়ে থাকার পরও প্রভাবকে অস্বীকার করার উপায় নেই।
ওবায়েদ হকের “ডাকনাম ভুলে গেছি” বইটা লেখকের সবচেয়ে বড় বই। তিনি লিখেছেনও দারুণ। কিছুটা মন খারাপের গল্প, বিষন্নতায় মোড়ানো অভিব্যক্তি বর্ণনাগুলোকে মনের মধ্যে গেঁথে যায়। এমন ভাষাশৈলী, বর্ণনার কারুকার্য, শব্দচয়নের মাধুর্য যেকোনো মাঝারি মানের বইকেও দারুণ করে তোলে। যদিও “ডাকনাম ভুলে গেছি” কিছুতেই মাঝারি মানের নয়। তার চেয়েও বেশি কিছু।
পরিশেষে, আমাদের এই জীবনে আমাদের প্রতিনিয়ত অভিনয় করতে হয়। এভাবে অভিনয় করতে করতে নিজেদের অস্তিত্ব কখনও হারিয়ে যায়। আমরা ভুলে যাই নিজেদের। হয়তো তখন অন্যের কাছে যে পরিচয়ে পরিচিত হই, নিজেদের ডাকনামটাই তখন বিলীন হয়ে যায় কোনো ইতিহাসের অভ্যন্তরে।
কোনো একটা বই পরিপূর্ণ তৃপ্তি নিয়ে শেষ করার মত আনন্দ খুব কমই আছে আমার কাছে। বহুদিন পরে আবার সেই আনন্দের অনুভূতি হলো ওবায়েদ হকের "ডাকনাম ভুলে গেছি" পড়ে।
বইটা মূলত প্রেমেরই উপন্যাস, কিন্তু প্রগাঢ় জীবনবোধের সুতো জড়িয়ে আছে পুরোটা জুড়েই৷ এ ধরনের উপন্যাস আজকাল বোধহয় খুব একটা লেখা হয় না। নিবিড় প্রকৃতির সাথে একাকী মানুষের এমন মায়ায় জড়ানো মিথস্ক্রিয়ার দেখা আমি পেয়েছি বিভূতিভূষণের উপন্যাস গুলোতে।
লেখক ওবায়েদ হকের বেশ কিছু লেখা আমি আগেও পড়েছি, ভালো লেগেছে প্রতিটাই। কিন্তু এটা তার আগের সব কিছুকেই ছাড়িয়ে গেছে। ভাষায়, বর্ণনায়, উপমায়, কাহিনির বিন্যাসে... একটা নিখাঁদ বাংলা উপন্যাস।
সাহিত্যের কলাকৌশলে মধ্যে Personification এর প্রতি লেখকের খুব দুর্বলতা আছে। প্রায় প্রতিটা লাইনেই এটার এমন এমন সব ব্যাবহার করেছেন, মুগ্ধতা নিয়ে দুই তিনবার একই লাইন পড়া হয়েছে। আগের উপন্যাসের তুলনায় আয়তনেও বেশ বড়, প্রায় ৩০০ পৃষ্ঠার। ফলে তাড়াহুড়ো করে শেষের তাড়া ছিল না।