বাংলাদেশের এক বিজ্ঞানী প্রফেসর টাবুল আবিষ্কার করে ফেলেন এমন একটা যন্ত্র যা আবহাওয়াকে পরিবর্তন করে দিতে পারে। মরুভূমিতে তুষারপতি ঘটাতে পারে, খরতাপিত এলাকায় বৃষ্টি ঝরিয়ে দিতে পারে। উদ্ভাবক প্রফেসর টাবুল যন্ত্রটার নাম দেন ওয়েদার মেকার'। যন্ত্রটা নিয়ে প্রফেসর টাবুল আমেরিকার এক বৈজ্ঞানিক সম্মেলনে যান। সঙ্গে আছেন তার বয়স্ক পড়শি অসীমবাবু আর অসীমবাবুর কুকুর। অসীমবাবু এক মজার মানুষ। কথায় কথায় দম ফাটিয়ে হাসাতে পারেন। আমেরিকায় পৌছানাের পরেই ঘটতে থাকে শ্বাসরুদ্ধকর সব ঘটনা। চুরি হয়ে যায় ওয়েদার মেকার'। কে চুরি করলাে যন্ত্রটা? খুঁজে পাওয়া যাবে কি সেই অমূল্য যন্ত্রটা বিদেশ-বিভুইয়ে? সায়েন্স ফিকশন আর গােয়েন্দা কাহিনীর অপূর্ব মিশেল।
আলোচিত ও সমালোচিত ব্লগার ও অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট পিনাকী ভট্টাচার্য এবার সায়েন্স ফিকশন ও গোয়েন্দা কাহিনীর অপূর্ব মিশেলে একটা বই লিখেছেন। নাম ওয়েদার মেকার। যদিও তার আগেকার লিখার বিষয় দর্শন ও রাজনীতি হলেও এবার একটু আলাদা বিষয়ে বই লিখার জন্য প্রথমেই তাকে ধন্যবাদ দিতে চাই।
এর আগে উনার "মুক্তিযুদ্ধের বয়ানে ইসলাম" এবং "মার্কিন ডকুমেন্টে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ ৭১" পড়ার সৌভাগ্য আমার হয়েছিল। বই দুইটি বেশ আলোচনা ও সমালোচনার জন্ম দেয়। এবারের বইটি একদম এসবের বাইরে নিয়ে লিখা তাই শুরু থেকেই বেশ আগ্রহ পাচ্ছিলাম।
প্লটঃ বাংলাদেশের একজন বিজ্ঞানী টাবুল অদ্ভুত একটা যন্ত্র আবিষ্কার করে ফেললেন। যা দিয়ে আবহাওয়াকে পরিবর্তন করে ফেলা যায়। বর্তমানে বিজ্ঞানীরা যেখানে আবহাওয়া সমস্যা নিয়ে দিনের পর দিন কাজ করে চললেও তেমন কোনো পথ খুঁজে পাচ্ছেন না। সেখানে প্রফেসর টাবুলের এই অদ্ভুত আবিষ্কার বৈজ্ঞানিক সম্মেলনে বেশ সাড়া জাগায়।
কারণ যে যন্ত্র মরুভূমিতে তুষারপাত, খরতাপিত এলাকায় বৃষ্টি ঝরিয়ে দিতে সক্ষম সে যন্ত্রের প্রয়োজনীয়তা সবাই অনুধাবন করতে পারে। যন্ত্রটার জন্য প্রফেসর টাবুল আমেরিকায় একটা বৈজ্ঞানিক সম্মেলনে ডাক পায়। সঙ্গে নিয়ে চলেন তার ওয়েদার মেকার যন্ত্র ও প্রতিবেশী আসীমবাবু এবং তার প্রিয় কুকুরকে। কিন্তু আমেরিকাতে পৌছানোর পর চুরি হয়ে যায় তার ওয়েদার মেকার যন্ত্রটা। আর সেই যন্ত্রের চুরির পিছু ছুটতে গিয়ে শুরু হয়ে যায় শ্বাসরুদ্ধকর সব ঘটনা।
পাঠপ্রতিক্রিয়াঃ খুব ছোট্ট পরিসরে লেখক খুব সহজসরল ভাষায় লিখাটি শেষ করেছেন। যার ফলে খুব দ্রুত পড়ে শেষ করে ফেলেছি। প্লট খুব দুর্বল। এর আগেও এ ধরনের অনেক লিখাই পড়া হয়েছে। সেইজন্য লেখকের উপর একটু অভিমান করাই যায়। উনার মতো লেখকের কাছে ইউনিক একটা প্লটের আশা করেছিলাম। আসীমবাবু কাজকর্ম গুলো বেশ মজাদার ছিল। কিছু স্থানে উনার(আসীমবাবুর) সংলাপ গুলো একটু নিচু মানের।
গল্পের চরিত্র গুলো খুব সাদামাটা। কল্পনা করতে মজা পাইনি। জগদীশ বোসের চিঠিটা আমার প্রথম পড়া। চিঠিতে উনার মানুষিক গঠনের যে নমুনা পেয়েছি তা ভাবতে ভালো লেগেছে। সবশেষে উনার এই লেখাটাকে আমি শিশুদের জন্য পারফেক্ট বলবো( ভাষা ও গল্প খুব সহজসরল হওয়াতে)। আর লেখকের জন্য অবশ্যই শুভকামনা নতুন কিছু শুরু করাতে। উনার থেকে সামনেও আশাকরি দুর্দান্ত কিছু সাইন্স ফিকশন পাবো এই আশা রাখতেই পারি। আর বইয়ের ভেতরের পৃষ্ঠার মান, বাঁধাই বেশ উন্নত। চমৎকার প্রচ্ছদ, প্রথম দেখাতে ফেলুদা আর জটায়ুর কথা মনে করিয়ে দেয়।
খুব ভারিক্কি চালে চলা পিনাকি কি সহজবোধ্য বই লিখতে পারবে না? এক্টু রিফ্রেশমেন্টের জন্য? সেটার উত্তরই এই বই। থ্রিলার টাইপের ছোট এই বইটি পরে বেশ আনন্দ পেয়েছি৷ ধন্যবাদ দাদাকে