গল্পটা হাজার বছর আগের কোনো এক সন্ধ্যার। পৃথিবীতে ঝেঁকে অন্ধকার নেমে এলে, কেউ যেন পরম মমতায় জ্বালিয়ে দিলো ঘরের কুপিবাতিটি। সেই সন্ধ্যায় শুধু ঘরের কোণের কুপিবাতিই জ্বলল না, এক চপল কিশোরের মনের কোণেও টিমটিম করে জ্বলে উঠেছিল একটুকরো জিজ্ঞাসা।
সেই জিজ্ঞাসার উত্তর পেতে সেই চপল কিশোরকে হাঁটতে হয়েছিল যুগের পর যুগ। দিন-রাত একাকার করে, পথের পর পথ, প্রান্তরের পর প্রান্তর তাকে পাড়ি দিতে হয়েছিল একাকী। শরীরে নেমেছিল অবসাদ, গা জুড়ে নেমেছিল পথের ক্লান্তি। কিন্তু সেই একটুকরো জিজ্ঞাসার অবদমিত আহ্বান তাকে কোথাও থামতে দিলো না।
ধু-ধু মরুভূমির পথ, ধুলোয় আচ্ছন্ন শহর, কখনো-বা নিষ্প্রভ নক্ষত্রের মিটিমিটি আলোতে খুঁজে বেড়াতে হয়েছিল সেই জিজ্ঞাসার সন্ধান। কালের ধুলো অতিক্রম হয়, বয়েসি বটের শেকড়ে নেমে আসে জীর্ণতার চিহ্ন। কিন্তু সেই পথিকের পথ যেন ফুরোতে চাইল না আর।
তারপর, শতাব্দী পার হলো। দুনিয়া থেকে হারিয়ে গেল সভ্যতার পর সভ্যতা, শহরের পর শহর। কোনো কোনো দিকে গড়ে উঠল নতুন নগর, নতুন জীবনের অধ্যায়। কিন্তু পৃথিবীরই এক প্রান্তরে, জীর্ণ শরীর নিয়ে হেঁটে যাচ্ছিল এক শতাব্দী প্রাচীন পথিক—এক পরমের সন্ধানে। এই উপাখ্যান সেই পথিকের জীবনকে ঘিরে। শেষ পর্যন্ত জিজ্ঞাসার সেই উত্তর কি মিলেছিল? পথিক কি পৌঁছাতে পেরেছিল তার আরাধ্য জীবনের সমাপ্তিতে?
টান টান উত্তেজনার এই ঐতিহাসিক উপাখ্যানে পাঠক নিজেই খুঁজে নিক সেই উত্তর…
আরিফ আজাদ একজন জীবন্ত আলোকবর্তিকা - লেখক আরিফ আজাদকে বর্ণনা করতে গিয়ে একথাই বলেছেন ডঃ শামসুল আরেফিন। গার্ডিয়ান প্রকাশনী আরিফ আজাদের পরিচয় দিতে গিয়ে লিখেছে, “তিনি বিশ্বাস নিয়ে লেখেন, অবিশ্বাসের আয়না চূর্ণবিচুর্ণ করেন।” আরিফ আজাদ এর বই মানেই একুশে বইমেলায় বেস্ট সেলার, এতটাই জনপ্রিয় এ লেখক। সাম্প্রতিককালে বাংলাদেশের সাহিত্য অঙ্গনে সবচেয়ে আলোড়ন তোলা লেখকদের একজন আরিফ আজাদ।
১৯৯০ সালের ৭ই জানুয়ারি চট্টগ্রামে জন্ম নেয়া এ লেখক মাধ্যমিক শিক্ষাজীবন শেষ করে চট্টগ্রাম জিলা স্কুলে। একটি সরকারি কলেজে উচ্চ মাধ্যমিক পাস করে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন এবং সেখানে উচ্চশিক্ষা সম্পন্ন করেন।
লেখালেখির ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই আরিফ আজাদ এর বই সমূহ পাঠক মহলে ব্যাপক সাড়া ফেলে। তার প্রথম বই ‘প্যারাডক্সিক্যাল সাজিদ’ ২০১৭ সালের একুশে বইমেলায় প্রকাশ পায়। বইটির কেন্দ্রীয় চরিত্র সাজিদ বিভিন্ন কথোপকথনের মধ্যে তার নাস্তিক বন্ধুর অবিশ্বাসকে বিজ্ঞানসম্মত নানা যুক্তিতর্কের মাধ্যমে খণ্ডন করে। আর এসব কথোপকথনের মধ্য দিয়েই বইটিতে অবিশ্বাসীদের অনেক যুক্তি খণ্ডন করেছেন লেখক। বইটি প্রকাশের পরপরই তুমুল জনপ্রিয়তা পায়। এটি ইংরেজি ও অসমীয়া ভাষায় অনূদিতও হয়েছে। ২০১৯ সালের একুশে বইমেলায় ‘প্যারাডক্সিক্যাল সাজিদ - ২’ প্রকাশিত হয়ে এবং এটিও বেস্টসেলারে পরিণত হয়। সাজিদ সিরিজ ছাড়াও আরিফ আজাদ এর বই সমগ্রতে আছে ‘আরজ আলী সমীপে’ এবং ‘সত্যকথন’ (সহলেখক) এর মতো তুমুল জনপ্রিয় বই।
যখন থেকে মোহাম্মাদ (সা:) এর স্টোরি শুরু হইসে তখন থেকে গল্প ইন্ট্রেস্টিং হইসে এর আগে মাহবার ব্যাক স্টোরি পার্টটা অনেক স্লো গেছে,,জোর করে পরসি এক কথায়। কিন্তু এখন আমি সালমান ফারসির পরবর্তী জীবন নিয়ে আগ্রহী হইসি,,,ইসলাম ধর্ম পাওয়ার পর তার জীবন কিরকম গেছে এই রিলেটেড বই কারো জানা থাকলে, প্লিজ রেকোমেন্ড
পিতামহের পর এই বইটা সেই একই আবেগী অনুভূতি এনে দিল। রমযান মাসে এমন একটা লেখা ই যেন খুঁজছিলাম। সবচেয়ে মজার ব্যাপার দেড়শ পৃষ্ঠার কাছাকাছি যেয়ে অনুমান করতে পারি লেখাটা কাকে নিয়ে এবং শেষে গিয়ে অনুমান সঠিক বলে প্রমাণিত।কাহিনির মাঝে একজন ব্যক্তির পদার্পণ বইটা শেষ করার আগ্রহ আরও বাড়িয়ে দেয়।
সত্যকে খুঁজতে কেউ এত টা ত্যাগ স্বীকার করতে পারে এই সময়ে এসে যেন বিশ্বাস ই হতে চায় না।
“আজি হতে হাজার বছর আগে” — লেখক আরিফ আজাদ-এর এক অনন্য সৃষ্টি, যা পাঠককে সময়ের স্রোত পেরিয়ে নিয়ে যায় এক গভীর সত্য অনুসন্ধানের যাত্রায়। জাঁই পল্লির এক কিশোর, সত্যের খোঁজে শত বছরের পথ অতিক্রম করে এসে থামে বনু কুরাইযার প্রান্তে—এই যাত্রা শুধু স্থান বদলের নয়, বরং আত্মার জাগরণের এক অনুপম গল্প। এই গল্পে যে বালকটির কথা বলা হয়েছে, সেই বালকই পরবর্তীতে মহান সাহাবী সালমান ফারসি (রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু) — যা পুরো কাহিনিকে আরও গভীর তাৎপর্যময় করে তোলে। লেখক তার নিপুণ শব্দচয়ন ও গভীর অনুভূতির মাধ্যমে প্রতিটি অধ্যায়ে পাঠককে এমনভাবে আবদ্ধ করে রাখেন, যেন গল্পটি চোখের সামনে জীবন্ত হয়ে ওঠে। জীবনে বহুবার সাহাবী সালমান ফারসি (রাঃ)-এর নাম শুনেছি, কিন্তু তার জীবনের গল্প এতটা গভীরতা ও আবেগে কখনো অনুভব করা হয়নি। এই বইটি শুধু একটি গল্প নয়—এটি সত্যের প্রতি এক অদম্য ভালোবাসা, ত্যাগ আর আত্মঅন্বেষণের এক অনুপ্রেরণামূলক দলিল।
শুরুতেই লেখক লিখেছেন, “... প্রত্যেকটা লাইন পাঠককে টেনে নিয়ে যাবে পরের লাইনে, প্রত্যেকটা পাতা বাধ্য করবে পরের পাতা উল্টাতে, ইন শা আল্লাহ।” আমিও এটাকে চ্যালেঞ্জ হিসেবেই নিয়েছিলাম যে, শুরু করেই দেখি আসলেই এমন হয় কি না। আর প্রথমদিনেই পুরোটা পড়ে শেষ করে ফেললাম।
সত্যিই, স্বীকার করতেই হয় - “উপন্যাসটির পাতায় পাতায় আছে চমক আর সাসপেন্স।”
শিশুর মতো কাঁদতে কাঁদতে হেঁটে যাচ্ছে এক শতবর্ষী বৃদ্ধ। তার চোখের অশ্রুফোঁটা ঝরে ঝরে পড়ছে মরুভূমির বালিতে। আর পেছনে, বাতাসের ধুলোর সাথে যেন হুড়মুড় করে জেগে উঠে স্মৃতিদের দল। পারস্য থেকে মদিনা– এক শতবর্ষী পথিকের সুদীর্ঘ পথ হেঁটে আসার উপাখ্যান জমা হয়ে থাকে পৃথিবীর বুকে।