শেষ কবে নিজের মুখোমুখি হয়েছিলেন? ব্যাচেলর জীবন নিস্তরঙ্গ যাচ্ছিলো আমার। টিউশনি করে বাড়ি ফেরা, মাঝে মধ্যে মায়ের খোঁজ নেওয়া এবং হৃদয়ের সেই চিরচেনা চিনচিনে ব্যথা। কিন্তু একদিন এই নিঃসঙ্গ, নিস্তরঙ্গ জীবনটা অকস্মাৎ ছিন্নভিন্ন হয়ে যায় যখন আমি রাস্তায় মুখোমুখি হই নিজেরই! তার পিছু নিয়ে বুঝতে পারি, শুধু চেহারাই নয়, মিলে যাচ্ছে অতীত, স্মৃতি, এমনকি হারানো, আরাধ্য কিছু বিষয়ও। ঘটনা যত গভীর হয়, ততই মুছে যেতে থাকে বাস্তব ও অবাস্তবের সীমারেখা। কিন্তু সত্য কি মুক্তি দেয়? নাকি কখনো কখনো আমরা নিজেরাই হয়ে উঠি নিজেদের সবচেয়ে বড় শত্রু?
তানজিরুল ইসলামের জন্ম লালমনিরহাটে। এসএসসি রংপুর জিলা স্কুল থেকে আর এইচএসসি ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল এন্ড কলেজ, রংপুরে। স্নাতক শেষ করেছেন বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের যন্ত্রকৌশল বিভাগ থেকে। বর্তমানে স্বনামধন্য একটি বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানে কর্মরত আছেন। শৈশব থেকেই লেখালেখির প্রতি আগ্রহ। সায়েন্স ফিকশন, ফ্যান্টাসি ও থৃলার সাহিত্যের প্রতি রয়েছে তার প্রবল ঝোঁক। ‘অনুভূতিহীন’ নামক তার একটি সাইয়েন্স ফিকশন গল্প প্রথম প্রকাশিত হয় কলেজ-ম্যাগাজিনে। এরপরে লিখেছেন বেশ কয়েকটি পাঠক-প্রিয় গল্প ও উপন্যাস, যা তাকে অন্যতম সম্ভাবনাময় লেখক হিসেবে চিহ্নিত করেছে। মার্কিন থৃলার লেখক হারলান কোবেনের ‘টেল নো ওয়ান’ তার প্রথম অনুবাদ গ্রন্থ। ‘প্রজাপতি বসে আছে মাত্রায়’ তার প্রথম মৌলিক সায়েন্স ফিকশন উপন্যাস।
অনেক দিন পর তানজিরুলের লেখা পড়লাম, আপনার মানুষ হবার সুবাদে প্রকাশিত হবার আগেই গল্প পড়ে ফেলার সৌভাগ্য হয়েছে। গতানুগতিক ক্রাইম থ্রিলার ধারার বাইরে গিয়ে মনস্তাত্ত্বিক চিন্তাধারা সাথে কিছু দ্বিধা আর রহস্য লেখনির শেষ পর্যন্ত ফুটে উঠেছে। সায়েন্স ফিকশনের বাইরে গিয়ে নতুন কোন জনরা হাতে নেয়ায় লেখককে সাধুবাদ জানাই, সেই সাথে তিনি নিত্যনতুন বিভিন্ন ধারার কাহিনি বইয়ের পাতায় তুলে ধরবেন সে আশাবাদ ব্যক্ত করি। পারসোনালি বইটি আমার বেশ ভাল লেগেছে, স্পয়লার যাতে না দি সেজন্য বিস্তারিত বলা সম্ভব হচ্ছেনা তবে এক না পাওয়া মানুষের সে বস্তু পাবার আকাঙ্ক্ষা তার জীবনে কি প্রভাব ফেলতে পারে, তাকে তার নিজ গল্পে ভিলেন বানিয়ে ফেলতে পারে, সর্বোপরি মানুষ অমানুষের যে সীমারেখা তা জ্ঞ্যানে সজ্ঞানে কখন অতিক্রম করে ফেলে তা বইটি না পড়লে ভিজুয়ালাইজ করা সম্ভব না। এরকম আরও সাইকোলজিক্যাল মিস্ট্রি পড়ার অপেক্ষায় রইলাম। লেখকের জন্য শুভকামনা।
বহুদিন পর তানজিরুল লেখালেখিতে ফিরল। ছোট কলেবরের বই। তার ব্যক্তিগত জীবনের অভিজ্ঞতার আলোকে লেখা বলেই বর্ণনা জীবন্ত মনে হয়েছে। কনসেপ্টটা দারুণ, আর এরকম প্লটের যেমন এক্সিকিউশন দরকার, ঠিক তেমনটাই করেছে। শুরুতে সায়েন্স ফিকশন মনে হলেও, আদতে সায়েন্স ফিকশন নয়।