জাগ্রত বাংলাদেশ,
প্রথম প্রকাশঃ জুলাই ১৯৭১,
৪র্থ প্রকাশঃ ১৯৮৩, মূল্যঃ বারো টাকা (নিউজপ্রিন্ট)
এই বইটিকে ধরা হয় 'স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম গ্রন্থ'। জুলাই'৭১ থেকে জুলাই'২৪, গুনে গুনে মাঝের এই ৫৩ টা বছর পরে জাগ্রত বাংলাদেশ ১.০ থেকে ইতিহাসের নাগরদোলায় চড়ে আজ আমরা এসে দাঁড়িয়েছি জাগ্রত বাংলাদেশ ২.০ এ। আগস্ট'২৪ এর পরে সবার প্রথম যেই বইটা পড়া শুরু করেছিলাম, সেটি এই বই। হিসাব মেলানোর জন্য যে, ৫৩ বছর আগেকার 'জাগ্রত বাংলাদেশ' আর আজকের 'জাগ্রত বাংলাদেশ' এর মধ্যে ফ্লেভার কতটুকু বদলিয়েছে আর আমরাই বা কতটুকু বদলালাম?
বইটির চারটি অংশঃ সূচনা, সিকি শতাব্দীরও কম সময়ে, সংস্কৃতির জীয়ন কাঠি, মুক্তিসংগ্রামের বর্ণমালা। পাপড়ি চারটা, কিন্তু ফুল একটা। এর মধ্যে শেষ দুইটি পাপড়ি সম্পর্কে আলাদাভাবে বলা উচিত, কারণ এই দুইটার রঙ একটু আলাদা।
'সংস্কৃতির জীয়ন কাঠি' প্রবন্ধে ছফা প্রথিতযশা সাহিত্যিকদেরকে 'সাহিত্যিক' নয় বরং 'ব্যক্তি-সাহিত্যিক' হিসেবে ইতিহাসের কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়েছেন, পাশাপাশি তৎকালীন সময়কে চশমার ফ্রেম বানিয়ে যুক্তিবাদী লেন্সে ব্যবচ্ছেদ করেছেন নাতিদীর্ঘ 'পূর্ব-পাকিস্তানি' বাংলা সাহিত্যকে। আর 'মুক্তিসংগ্রামের বর্ণমালা' প্রবন্ধ পড়ে মনে হচ্ছিল যেন ইতিহাসের বইয়ের পাতার মার্জিনে কোনো অভিজ্ঞ সমরবিদের নকশার আঁকিবুকি দেখছি; মনে হয়নি যে কোনো আটাশ বছরের আবেগী লেখকের উৎসাহের ফাঁকা বুলি পড়ছি। তরুণ ছফার এই সামরিক প্রজ্ঞার জীবন্ত স্বাক্ষী হচ্ছে ৭১ এর যুদ্ধের বাকিটুকু সময়। ছফার এরকম দুর্লভ রূপ আর কোথাও পেয়েছি বলে মনে পড়ে না।
পুরনো সংস্করণের বই সংগ্রহের শখ এর কারণে বইটার এই ৪০ বছর পুরনো কপিটি আমার লাইব্রেরিতে রয়েছে। পুরনো কাঁথার মত সুন্দর প্রচ্ছদ, টাইপ রাইটার ফন্ট।
যেই হিসাব মেলাতে চেয়ে এই বইটি শেলফ থেকে নামিয়ে হাতে নিয়েছিলাম, সত্যি বলতে সেই হিসাবটা আমার কাছে না মিললেই বরং খুশি হতাম। আরো ৫৩ বছর পরেও যদি হয়, আমার বিশ্বাস, জাগ্রত বাংলাদেশের পরবর্তী সংস্করণের সময়ে শেলফ থেকে নামিয়ে পড়লেও বইটি সমানভাবে প্রাসংগিক থাকবে, পুরনো আলোয় নতুন পথ চেনাবে...।
জাগ্রত বাংলাদেশ, তুমি ভালো থেকো।