Jump to ratings and reviews
Rate this book

দেশভাগের গল্প

Rate this book

76 pages, Hardcover

3 people are currently reading
60 people want to read

About the author

Hasan Azizul Huq

77 books73 followers
Hasan Azizul Huq (Bengali: হাসান আজিজুল হক) is a Bangladeshi writer, reputed for his short stories. He was born on 2 February, 1939 in Jabgraam in Burdwan district of West Bengal, India. However, later his parents moved to Fultala, near the city of Khulna, Bangladesh. He was a professor in the department of philosophy in Rajshahi University.

Huq is well known for his experiments with the language and introducing modern idioms in his writings. His use of language and symbolism has earned him critical acclaim. His stories explore the psychological depths of human beings as well as portray the lives of the peasants of Bangladesh.

He has received most of the major literary awards of Bangladesh including the Bangla Academy Award in 1970.

Ratings & Reviews

What do you think?
Rate this book

Friends & Following

Create a free account to discover what your friends think of this book!

Community Reviews

5 stars
5 (29%)
4 stars
8 (47%)
3 stars
4 (23%)
2 stars
0 (0%)
1 star
0 (0%)
Displaying 1 of 1 review
Profile Image for Zuberino.
430 reviews81 followers
November 16, 2021
এই বই নিয়ে কিছু লেখার মত সঠিক জ্ঞান বুদ্ধি বিচার আমার নেই - কিন্তু তবুও কিছু তো বলা দরকার। Neural pathway জিনিসটা কিভাবে তৈরী হয়, এই বিষয়ে আমার ভীষণ কৌতুহল আছে। ইদানিং প্রায় সময়ই টার্মটা চোখে পড়ে। যেমন মানুষের অভ্যাস সৃষ্টিতে নিউরাল পাথওয়ের ভূমিকা - সম্ভবত একুশ দিন টানা কিছু একটা করলে সেটা ব্রেনের ভেতরে নতুন নেটওয়ার্কের মত সৃষ্টি করে, এবং ক্রিয়াটা পাকাপোক্ত দীর্ঘস্থায়ী অভ্যাসে পরিণত হয়ে যায়। যেন অনেক মানুষের পায়ের তলে ধীরে ধীরে রূপ নেয়া একটি মেঠো পথ।

আবার কিছু কিছু জিনিসের সাথে হয়তো একবারই সাক্ষাত হয় জীবনে, কিন্তু সেই অভিজ্ঞতা এত তীক্ষ্ণ এত তীব্র যে স্মৃতিটা থেকে যায় আজীবন। সেটা বোধ হয় আরেক ধরনের নিউরাল পাথওয়ে - পায়ে পায়ে না, বরং কোদাল দিয়ে কুপিয়ে মগজের ভেতর নতুন পথ খোঁড়া।

*

আমার জন্যে হাসান আজিজুল হকের লেখা এই দ্বিতীয় ক্যাটেগরিতে পড়ে। ভার্সিটিতে থাকতে এক বন্ধুর পরামর্শে "আত্মজা ও একটি করবী গাছ" বইটি পড়েছিলাম। দেশভাগের অভিজ্ঞতা লেখকের জীবনে ও সাহিত্যে কি ভূমিকা রেখেছে, তার টিকিটিও জানতাম না, এমনকি শিরোনামের গল্পটিও যে পরোক্ষভাবে দেশভাগকে নিয়ে, তাও বোধ হয় বুঝিনি সে সময়ে। খালি মনে আছে কয়েকটি জিনিস - শীতার্ত এক নিঝুম রাতে উত্তরবঙ্গের প্রকৃতির সুদীর্ঘ অনবদ্য বর্ণনা, অপ্রত্যাশিত শেষ দৃশ্যে সমগ্র অস্তিত্বকে প্রচন্ডভাবে ঝাঁকিয়ে দেয়া সেই বিবরণ - গরীব বুড়ো বাপ মেয়েকে তুলে দিচ্ছে খদ্দেরের কাছে, দুটো টাকার জন্যে। - "এহন তুমি কাঁদতিছ? এহন কাঁদতিছ তুমি?"

হ্যাঁচকা টানে আবার সেই স্মৃতি ফিরিয়ে আনলো হাতের বইটি। বিভিন্ন সংকলন থেকে নেয়া ছয়টি গল্প, তারমধ্যে পাঁচটিই অসামান্য মাস্টারপিস। সবগুলো গল্পই ষাটের দশকে লেখা - ৬২ থেকে ৬৯ এই সময়সীমায়। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সাহিত্যের ব্যাপারে বলা হয়ে থাকে যে দুই পক্ষের সৈনিকদের জন্যে যুদ্ধের ট্রমা এতটা ভয়াবহ ছিল, যে সেই অভিজ্ঞতা নিয়ে স্বার্থক সাহিত্য সহসা বেরোয়নি। প্রত্যক্ষদর্শীদের লেখা অন্যতম শ্রেষ্ঠ তিনটি বই - হেমিংওয়ের আ ফেয়ারওয়েল টু আর্মস, রিচার্ড অল্ডিংটনের উপন্যাস ডেথ অফ এ হিরো, এবং রবার্ট গ্রেভ্স-এর গুডবাই টু অল দ্যাট - তিনটাই বেরিয়েছিল ২৮-২৯ সালে, অর্থাৎ যুদ্ধ শেষ হবার পাক্কা এক দশক পর। ট্রমার ধাক্কা হজম করে, যুদ্ধের প্রকৃত অর্থ আত্মস্থ করে কালোত্তীর্ণ সাহিত্যে রূপান্তরের প্রক্রিয়া বোধ হয় এতটাই দীর্ঘ হয়।

দেশভাগের অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে রচিত খুশবন্ত সিং বা ভীষম সাহনির বিখ্যাত কাজগুলোও একই রকম - "ট্রেন টু পাকিস্তান" ১৯৫৬ সালে প্রকাশিত হয়, আর সাহনির "তামাস" বেরোয় পার্টিশনের ২৭ বছর পর, ১৯৭৪ সালে। মান্টো বোধ হয় ব্যতিক্রম - মদ খেয়ে অকালে মরে যাওয়ার আগেই লিখে রাখেন তার অমর ছোটগল্পগুলো, "ঠান্ডা গোশত" যেমন বেরিয়েছিল ১৯৫০ সালে।

হাসান আজিজুল হক নিতান্তই ছোট ছিলেন সাতচল্লিশে। তবে এই লেখাগুলো তার তরুণ বয়সেরই কাজ - স্মৃতি মলিন হয়ে যাবার আগে সেই সময়কে ধরে রাখার একটা প্রচেষ্টা ছিল কি? ক্রিয়েটিভ রাইটিং-এর শিক্ষকরা যেমন বলেন - Write what you know.

*

দেশভাগকে কত কাছে থেকে দেখেছিলেন লেখক, মর্মের কত গভীরে অনুভব করেছিলেন, এই গল্পগুলো থেকে তার প্রমাণ মেলে। বিভিন্ন অ্যাঙ্গেল থেকে, বিভিন্ন মানুষের চোখ দিয়ে নিরূপন করেছেন নিজের জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাকে। প্রথম গল্পটি পড়ার সময় না চাইলেও মনের পর্দায় ভাসে ঋত্বিক ঘটকের মেঘে ঢাকা তারা'র দৃশ্যগুলো - গল্পের বীণা আর সিনেমার নীতা যেন দুই সহোদরা। "দাদা আমি বাঁচবো" বলে আকুল চিৎকারটাই শুধু বাকি ছিল! আত্মজা'র কথা নতুন করে কিছু বলার নেই। কি সহজই না গল্পের প্লট। শীতের অন্ধকারে তিনটি যুবক হাঁটছে - ব্যাস এই। অথচ সেই পথচলার শেষে অপেক্ষা করছে গোপন দু:স্বপ্ন - নির্লজ্জ বেহায়া বৃটিশের ফেলে যাওয়া বৃহত্তম মানবিক বিপর্যয়ের ক্ষীণতম অনুরণন, বাংলার এক নির্জন গ্রামে।

"পরবাসী" এর পরের গল্প - বিস্ময়কর, বেদনাদায়ক, গগনচুম্বী একটি কাজ। শুরুতেই অভিনব দৃষ্টিভঙ্গি - ক্ষুধায় পিপাসায় মাটির সাথে মিশে যাচ্ছে মরণাপন্ন এক উদ্বাস্তু। ধীরে ধীরে ফ্ল্যাশব্যাকে মেলে বশিরের নাম-পরিচয়। আসন্ন রায়টের আশংকা উপেক্ষা করে গ্রামের চাচা ওয়াজদ্দি ওকে বলেছিল "তোর বাপ কটো? এ্যাঁ... কটো বাপ? মা কটো? একটো তো? দ্যাশও তেমনি একটো। বুইলি?" চাচা জানতো না যে হত্যাকান্ড শুরু হলে পরে তাকেই বলি দেয়া হবে সবার আগে। প্রাণ বাঁচাতে পালিয়ে ওপারে চলে যাবে বশির - কিন্ত এতটুকু জানে যে "আমি আর বচির নাই - বচির শ্যাষ, বচিরের হয়ে গেলচে - দ্যাশ ফ্যাশ নাই - আমি এ্যাকোন আর এক দ্যাশে জন্ম লোব।"

"মারী" গল্পটা মাঝারি মানের লেগেছে, অল্পেই শেষ হয়ে গেছে, বিশেষ কিছু ঘটার আগে (কিংবা আমি শেষটা বুঝতে পারি নাই হয়তো।) তবে পাঁচটা হিটের ভেতর একটা মিস মেনে নেয়াই যায়! বরং এই একটি গল্পের ফলে বাকিগুলো যেন আরো উজ্জ্বল হয়ে জ্বলে। "খাঁচা"? ওরে বাবা! খোদ টাইটেল থেকে শুরু করে নানান লেভেলে এই গল্পের অর্থ লুকিয়ে আছে। পরিবার সমেত দেশান্তরের পরিকল্পনা করছে হোমিওপ্যাথ অম্বুজাক্ষ, কিন্তু ঘর-বিনিময়ের সঠিক সুযোগটি আর আসে না। ওদিকে বাড়ন্ত অশথ গাছের চাপে চৌচির হয়ে যাওয়া বাড়ির দেয়ালটি যেন ভারতবর্ষেরই রূপক, বিষাদ আর পরিহাস মিশ্রিত।

অবশেষে শেষ গল্পে পরিচয় হয় বুড়ো রহিম বখশের সাথে - বর্ডার পার হওয়া এক সাধারণ বৃদ্ধের বিক্ষিপ্ত চিন্তা। অথচ কি শক্তিশালী তার জীবনসায়াহ্নের আত্মোপলব্ধি, পাঠকের ব্রেনে ছোটখাট বিস্ফোরণ ঘটিয়ে দেয় যেন।

*

প্রতিটি গল্পের অন্যতম মুখ্য চরিত্র হিসেবে আছে উত্তরবঙ্গের প্রকৃতি - হেমন্তের মাতাল বাতাস, শীতকালের ঠান্ডা নিশ্চুপ জমিন। ওই অঞ্চলের এত স্বার্থক সুচারু বিবরণ আর কোন লেখক দিতে পেরেছেন কিনা আমার জানা নেই, তবে হাসান আজিজুল হক যা করেছেন তা রীতিমত অলৌকিক! শব্দের জালে জ্বলজ্যান্ত ধরে ফেলেছেন সেই দেশ, তার মাটি আর মানুষকে।

"তারপর কুয়াশার পাতলা চাদর ছিঁড়ে হঠাৎ সূর্যের অজস্র আলো লাল হয়ে মাঠে পড়তেই দেখা যায় বিরাট মাঠে প্রায় জনারণ্য। তখন একটা শব্দ ওঠে, একটা বিশাল গম্ভীর গুঞ্জন -- মাঠের আকাশ এবং বাতাস বেষ্টন করে বাজতে থাকে। এর অন্য কোন নাম নেই, একে জীবনের গুঞ্জন বলা চলে। বেঁচে থাকার গুঞ্জন ... উষ্ণ উত্তপ্ত, চিরকালীন।"

এমন ম্যাজিকের পুনরাবৃত্তি আছে প্রতিটি গল্পে, প্রায় প্রতিটি পাতায়।

তবে লেখকের অর্জন আরো অনেক বিশাল। স্রেফ নস্টালজিয়া বলে একে ছোট করা যায় না। বিংশ শতাব্দীর দানবীয় চাকার নীচে চাপা পড়েছিল অনেক সমাজ, পৃথিবী জুড়ে অসংখ্য মানুষ। ভাগ্যের ফেরে বাংলাও রেহাই পায়নি। দ্বিখন্ডিত হয়েছিল অভাগা দেশ, গৃহহীন হয়েছিল অগুণতি লোক। সেই কষ্ট আজও বয়ে বেড়ান অনেক বৃদ্ধ-বৃদ্ধা। দেশভাগ প্রত্যক্ষ দেখেছিল, এমন শিশু আজ সত্তুরোর্ধ বুড়ো। অর্থাৎ শেষ সাক্ষীরা মরে যাবে শিগগির, তাদের সন্তান-সন্ততি নাতি-নাতকুর সকলেই একদিন মরে যাবে। সেই নিষ্ঠুর সময় আর মনে থাকবে না কারো।

কিন্তু মানুষগুলোকে একটু খুঁজলেই পেয়ে যাবেন ভবিষ্যতের উদ্যমী পাঠক। মশারীর নীচে দিন-রাত লুকিয়ে থাকা বীণার পাগল বাপ, বল্লমের ঘায়ে মাটিতে গেঁথে থাকা বশিরের সাত বছরের সন্তান। কিংবা বর্ধমানের কালো দীঘির ধারে দেবদারু গাছের নীচে বসে থাকা সেই প্রেমিক যুগল, লিপি আর কবীর, পড়ন্ত বিকেলে হেমন্তের হাওয়ায় হারিয়ে যেতো ওদের হাসির শব্দ। প্রলয় শেষে দুজনের একজনই বেঁচে ছিল শুধু....

বিস্মৃত সময়, বেদনার্ত দেশ, শেকড়-ছেঁড়া মানুষের বিপন্ন আর্তনাদ। বাংলার ভাষা আর সাহিত্য যতদিন বেঁচে থাকবে, হাসান আজিজুল হকের মানুষগুলো বেঁচে থাকবে ততদিন।
Displaying 1 of 1 review

Can't find what you're looking for?

Get help and learn more about the design.