শহরের এককোণে ছতলা একটি বাড়ি। বাড়ির বাসিন্দাদের জীবনের বিভিন্ন অন্ধকার দিক নিয়ে গড়ে ওঠা এক উপাখ্যান। আমাদের চারপাশে ক্যান্সারের মত ছড়িয়ে থাকা পরিচিত-অপরিচিত অপরাধের ঘটনা নিয়েই এগিয়ে গিয়েছে উপন্যাসের কাহিনী। পাপের আড়ালে কখনো ফুটে উঠেছে করুণ মনস্তত্ব, কখনো লোভ আবার কখনো হতাশার প্রতিচ্ছবি। গল্পের শুরুটা এক রুপবতী কিশোরী প্রিয়ন্তী আর তার হোমিওপ্যাথির শিশিতে ভরে রাখা জিন দিয়ে। গল্পের প্রয়োজনেই একের পর এক এসেছে কবি অদ্রি অনার্যের নেশার কথা, এক সন্দেহপ্রবণ স্বামীর অত্যাচারের কথা, এক অসম বয়স্ক দম্পতির কথা। একইভাবে এসেছে পুলিশ অফিসার আমিরুল,বেকার যুবক আজিজুল,কলেজ পড়ুয়া রাজিব। ভিন্ন ভিন্ন চরিত্র,ভিন্ন ভিন্ন জীবনধারা। আর ভাল মানুষের মুখোশের আড়ালে লুকিয়ে থাকা আদি অকৃত্রিম পাপ। গল্পের শেষেও কাহিনীর প্রয়োজনেই ফিরে এসেছে প্রিয়ন্তী আর তার শিশি। ধারাবাহিকভাবে চলতে চলতে গল্পের শেষের চমকটা বেশ ভালই লেগেছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, ছোট পরিসরের ভিন্নধর্মী উপভোগ্য উপন্যাস। হরর অথবা থ্রিলার ঘরানার না হলেও গা ছমছমে ভাবটা বজায় ছিল পুরো সময় জুড়েই।