'বহুবছর ধরে ঠাকুরের কাজে পশ্চিমবঙ্গ, আসাম, উত্তরবঙ্গ বা কাছাড় ও ত্রিপুরার গাঁয়ে-গঞ্জে ঘুরে বেড়াচ্ছি। বাবু-ভ্রমণ নয়। ট্রেনে, বাসে, ভ্যানগাড়ি, নৌকো, লঞ্চ এবং অবশ্যই মাইলের-পর-মাইল পায়ে হেঁটেও। সাদা-সরল, অনতিশিক্ষিত এবং চাষীবাসী মানুষের সঙ্গেই থাকা।...সাহিত্য-টাহিত্য এঁদের বেশিরভাগই বোঝেন না। তাতে অবশ্য সমাদরের অভাব ঘটে না।'...
গাঁ গঞ্জের পাশাপাশি তাঁর যে চেনা হল মানবজমিনও। অন্তর্দর্শী সাহিত্যিক শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়ের সুষমামণ্ডিত কলমে যেভাবে বাংলার সাধারণ মানুষের কথা উঠে এসেছে, একালের আর কোনও লেখকের কলমে বোধহয় ততখানি আসতে পারেনি।
অনায়াসে সৃষ্টি হয়েছে অসামান্য গল্পের তরঙ্গমালা, যেগুলি পড়ে স্তব্ধ হয়ে পাঠক ভাববেন, এভাবে তো ভাবিনি। অসংখ্য চরিত্রের এই মিছিলের মূল সুর একটিই-ভালোবাসা।
চিরদিনের সেরা হয়ে ওঠার প্রত্যয় নিয়ে প্রকাশিত এই সংকলনে শ্রদ্ধেয় সাহিত্যিক শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায় নিজে সাজিয়ে দিয়েছেন ১০১টি গল্প। রয়েছে দুষ্প্রাপ্য থেকে এযাবৎ অগ্রন্থিত গল্পও। নিঃসঙ্কোচে বলা যায়, তাঁর লেখকজীবনের বিবর্তনের এক মূল্যবান দলিল বৃহৎ গ্রন্থখানি।
শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায় একজন ভারতীয় বাঙালি সাহিত্যিক।
তিনি ব্রিটিশ ভারতের বেঙ্গল প্রেসিডেন্সির অন্তর্গত ময়মনসিংহে (বর্তমানে বাংলাদেশের অংশ) জন্মগ্রহণ করেন—যেখানে তাঁর জীবনের প্রথম এগারো বছর কাটে। ভারত বিভাজনের সময় তাঁর পরিবার কলকাতা চলে আসে। এই সময় রেলওয়েতে চাকুরিরত পিতার সঙ্গে তিনি অসম, পশ্চিমবঙ্গ ও বিহারের বিভিন্ন স্থানে তাঁর জীবন অতিবাহিত করেন। তিনি কোচবিহারের ভিক্টোরিয়া কলেজ থেকে মাধ্যমিক শিক্ষা সম্পন্ন করেন। পরে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেন। শীর্ষেন্দু একজন বিদ্যালয়ের শিক্ষক হিসেবে তাঁর কর্মজীবন শুরু করেন। বর্তমানে তিনি আনন্দবাজার পত্রিকা ও দেশ পত্রিকার সঙ্গে জড়িত।
তাঁর প্রথম গল্প জলতরঙ্গ শিরোনামে ১৯৫৯ খ্রিস্টাব্দে দেশ পত্রিকায় প্রকাশিত হয়। সাত বছর পরে সেই একই পত্রিকার পূজাবার্ষিকীতে তাঁর প্রথম উপন্যাস ঘুণ পোকা প্রকাশিত হয়। ছোটদের জন্য লেখা তাঁর প্রথম উপন্যাসের নাম মনোজদের অদ্ভুত বাড়ি।
৭১১ পাতার বই। প্রায় ৪ বছর আগে কিনেছিলাম কলেজ স্ট্রীট থেকে৷ ধীরে ধীরে পড়ছিলাম। উপন্যাস হলে যেমন টানা পড়া যায় ছোট গল্প পড়ার সময় টানা পড়া যায়না। একটা গল্প শেষ করে তাড়াতাড়ি অন্য গল্পে চলে গেলেই শেষ গল্পটার রেশ চলে যায়। তাই ধীরে ধীরে পড়ছিলাম৷ প্রায় চার বছর লাগলো বইটা শেষ করতে। কিছু ছোটগল্প বাদে বাকী সব গল্পই খুব ভালো। আজ বইটা শেষ করে একটু দুঃখই হচ্ছে। মাঝেমাঝে মনখারাপ হলে যে বইটা পড়তাম সেটা আর হবেনা।
শীর্ষেন্দুর সেরা ১০১ : বুক রিভিউ বিভূতিভূষণ বন্দোপাধ্যায়ের গল্পসমগ্র ১ পড়ার পড়ই ছোট গল্পের সংকলন পড়ার ভূত মাথায় ঢোকে। সেই ভালোলাগা থেকেই শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়ের সেরা ১০১ পড়তে শুরু করা। শুরু করেছিলাম গত বছরই। খুব সম্ভবত কম করে হলেও এক বছরেরও বেশী সময় লেগেছে। যার কারন হিসেবে রয়েছে, প্রথমত, ক্লাস ৯/১০ এ পড়ার সময় বিবিলোফিল ছিলাম যেটা ইন্টারমিডিয়েট শেষ করার পর আর ধরে রাখতে পারিনি। একটা গ্যাপ পড়ে যাওয়ায় সেই একটানা বই নিয়ে বসে থাকার অভ্যাসটা আস্তে আস্তে মিলিয়ে গিয়েছে। দ্বিতীয়ত, মেডিকেল কলেজে পড়ার সুবাদে ক্লাস কলেজ পড়ালেখা, ঘুম বাদ দিলে হার্ডলি দুই তিন ঘন্টা হাতে থাকে চিত্তবিনোদন এর জন্য কিন্ত সেটাও বই পড়ার অভ্যাস না থাকার কারনে মুভি দেখে, কিংবা আড্ডা দিয়ে চলে যেত। কিন্ত তার পরেও এই শত ব্যস্ততার মাঝেও পুরোনো দিনের প্রিয় অভ্যাসটিতে আবারো প্রাণসঞ্চার করার প্রয়াসে এই টুক টুক করে এক পাতা দুই পাতা পড়া। যার কারনে ৭০০+ পৃষ্ঠার এইটুকু বই পড়তে এই বিশাল কালক্ষেপণ। হ্যা, এই সময়ের মধ্যে যদিও অ্যাঞ্জেলস এন্ড ডীমনস, ভিঞ্চি'স কোড, দ্য লস্ট সিম্বল, অক্টারিনের মত মাস্টারপিসগুলো এক শ্বাসে শেষ করেছি। যা হোক, বইয়ের কথায় আসি। গঞ্জের মানুষ দিয়ে শুরু, প্রথম গল্পটা পড়েই এই মহীয়ান লেখকের কলমের শক্তি বোঝা যায়। হাস্যরসাত্নক, কিংবা তুখোড় প্রেম, রোমান্স, কিংবা বিরহ-বিচ্ছেদ, জীবনমুখী, শিশুতোষ, স্যাটায়ার কি ছিলনা! হ্যা, কিছু গল্প অবশ্যই আপ টু দ্যা মার্ক মনে হয়নি কিন্ত সে পরিমানটা অতি নগন্য। কিছু কিছু গল্পের মধ্যে এমনই ডুবে ছিলাম যে মনে হচ্ছিল যেন ঝুপ করে শেষ হয়ে গেল। গঞ্জের মানুষ, সাইকেল, পেপেসেদ্ধ, পারিজাত ও ছোটকাকা, বুদ্ধিরাম, সংবাদ ১৯৭৬, বাবা, ঘরের পথ, লুলু, কার্যকারণ, আমেরিকা, লামডিঙের আশ্চর্য লোকেরা, পরপুরুষ.......... কোনটা থেকে কোনটা ভাল সেটা ডিসাইড করা কঠিন কিন্ত এই গল্পগুলি এককথায় দূর্দান্ত। যারা এখনো পড়েননি, দয়া করে আর দেরী করবেন না।
টিভিতে হরেক রকমের চ্যানেল থাকে। কোনটায় খবর দেখায়, কোনটায় নাটক, কোনটায় খেলা কিংবা কার্টুন। কিছু কিছু চ্যানেলে অবশ্য সবই দেখায়। কিন্তু এক চ্যানেলে সব স্বাদ সবাই দিতে পারে না। একজন লেখকের গল্প তৈরীতে থাকে তাঁর মুন্সিয়ানা। নানান অঙ্গিকে তিনি তাঁর গল্প গুলোকে প্রাণ দেন। শীর্ষেন্দু মুখোপধ্যায় এ সময়ের বাংলা সাহিত্যের অন্যতম সেরা একজন লেখক। কাজের প্রয়োজনে ঘুরেছেন নানান জায়গায়। কোথাও ট্রেনে, বাসে, ভ্যানগাড়িতে কিংবা কোথাও মাইলের পর মাইল পায়ে হেঁটে। মিশেছেন সমাজের নানান কিসিমের মানুষের সাথে। গাঁয়ের চাষীবাসী মানুষেরা সাহিত্য বুঝে না, কিন্তু ওনাদের পুরো জীবনটাই একটা সাহিত্য। শীর্ষেন্দু সাহেব তাঁর লেখনীর মাধ্যমে তুলে ধরেছেন সেই গাঁও গেরামের নানান গল্প।
বলছিলাম চ্যানেল এর কথা। এই বইটাও একটা চ্যানেল। এবং এখানে সবই দেখবেন আপনি। বইয়ের পৃষ্ঠা উল্টাতে উল্টাতে কখনো চলে যাবেন উত্তরের ব্যালকনিতে। দেখা হবে পুরানো চিঠি হাতে পরিজাত ও ছোটকাকার সাথে। আমেরিকা কিংবা লামডিঙ্গের আশ্চার্য লোকেরা সাধুর ঘরের পাশে পুরোনো দেওয়ালের সাথে বসে শেষ বেলায় সুখদুঃখ এর গল্প করবে। কখনোবা মুনিয়ারা দৈত্যের বাগানের শিশুর সাথে সোনার ঘোড়ায় চড়ে খেলার ছলে চলে যাবে প্রিয় মধুবনে। গন্ডগোল কিংবা বিয়ের রাতে বৃষ্টিতে ভিজবে নিশিকান্ত। তখন আমি বলব, এই যে মশাই আমাকে দেখুন, এই আমি সেই আমি, এসেছি এই সাঝেঁর বেলায় হাওয়া বদলের চিঠি নিয়ে। পেঁপেসেদ্ধ খেতে খেতে চল খানাতল্লাস করি বনমালীর বিষয়।
বইয়ের পৃষ্ঠা উল্টাতে উল্টাতে কখনো চলে যাবেন উত্তরের ব্যালকনিতে। দেখা হবে পুরানো চিঠি হাতে পরিজাত ও ছোটকাকার সাথে। আমেরিকা কিংবা লামডিঙ্গের আশ্চার্য লোকেরা সাধুর ঘরের পাশে পুরোনো দেওয়ালের সাথে বসে শেষ বেলায় সুখদুঃখ এর গল্প করবে। কখনোবা মুনিয়ারা দৈত্যের বাগানের শিশুর সাথে সোনার ঘোড়ায় চড়ে খেলার ছলে চলে যাবে প্রিয় মধুবনে। গন্ডগোল কিংবা বিয়ের রাতে বৃষ্টিতে ভিজবে নিশিকান্ত।
Probably I had too much expectation from this collection. After finishing it I am of the opinion that around 10 stories are excellent, another 15 odd are very good .....the rest just add bulk to the book....