What do you think?


আলো অন্ধকারে যাই
“স্থানীয় যে পুকুরটাতে রায়হান নেমেছিল, সেই পুকুরে প্রতিবছরই কারো না কারো প্রাণ যায়। পুকুরের নরম মাটির তলায় নাকি শিকল থাকে, সেই শিকল এসে পেঁচিয়ে নিয়ে চলে যায় মাটির তলে। এই ভয়েই রায়হান কখনও সাঁতার শেখেনি। সেই রায়হান সেদিন দুপুরে হুট করে পানিতে নামল আর আচমকাই নিজেকে আবিষ্কার করল বুক সমান পানিতে। ঝাপটাঝাপটি করে নিজের বিপদ বাড়িয়ে তুলছিল, পা পিছলে যাচ্ছিল বারবার। মনে হচ্ছিল এই বুঝি পুকুরের তলদেশ থেকে কোন এক লম্বা শিকল এসে টেনে নিয়ে দূর কোনো অন্ধকার তলদেশে।”
একটা মৃত্যুই কী বদলে দিয়েছিল রায়হানের জীবনের গতিপথ? এরপর কী রায়হান কখনও আলোর দেখা পেয়েছিল? নাকি অন্ধকারই হয়েছিল তার গন্তব্য?
ইশরাতের সাথে সম্পর্কে কেন এই বাঁকবদল?
‘আলো-অন্ধকারে যাই’ আমাদের এখনকার গল্প, যাপিত জীবনের গল্প যেখানে আমরা ঠিক কোথায় যাই, হয়তো নিজেরাই জানি না…
একটা মৃত্যুই কী বদলে দিয়েছিল রায়হানের জীবনের গতিপথ? এরপর কী রায়হান কখনও আলোর দেখা পেয়েছিল? নাকি অন্ধকারই হয়েছিল তার গন্তব্য?
ইশরাতের সাথে সম্পর্কে কেন এই বাঁকবদল?
‘আলো-অন্ধকারে যাই’ আমাদের এখনকার গল্প, যাপিত জীবনের গল্প যেখানে আমরা ঠিক কোথায় যাই, হয়তো নিজেরাই জানি না…
96 pages, Hardcover
First published March 8, 2026
About the author
Shariful Hasan
44 books1,042 followersShariful Hasan hails from Mymensingh, Bangladesh. He has spent his childhood by the banks of Brahmaputra river. He completed his Masters in Sociology from University of Dhaka and is currently working in a renowned private organization.
Shariful's first novel was published on 2012 titled Sambhala. With two other books, this captivating fantasy trilogy has received widespread acclimation both within and beyond the borders of Bangladesh. The Sambhala Trilogy was translated in English and published from India.
Although his inception consisted of fantasy and thriller, he has later worked on a variety of other genres. These works have been received fondly by the Bangladeshi reader community. Lot of his works have also been published from different publications in West Bengal.
Award- Kali O Kalam Puroshkar 2016 for 'অদ্ভুতুড়ে বইঘর'
Shariful's first novel was published on 2012 titled Sambhala. With two other books, this captivating fantasy trilogy has received widespread acclimation both within and beyond the borders of Bangladesh. The Sambhala Trilogy was translated in English and published from India.
Although his inception consisted of fantasy and thriller, he has later worked on a variety of other genres. These works have been received fondly by the Bangladeshi reader community. Lot of his works have also been published from different publications in West Bengal.
Award- Kali O Kalam Puroshkar 2016 for 'অদ্ভুতুড়ে বইঘর'
Ratings & Reviews
Friends & Following
Create a free account to discover what your friends think of this book!
Community Reviews
Displaying 1 - 24 of 24 reviews
Read
March 10, 2026আলো অন্ধকারে যাই উপন্যাসের মূল চরিত্র রায়হানকে একজন ব্যর্থ (অচল, অপদার্থ) মানুষ বলা যেতে পারে। জীবনে চলার পথে সে বারবার হোঁচট খায়। পথ চলতে গিয়ে পিছলে পড়া মানুষ নতুন করে উঠে দাঁড়ানোর চেষ্টা করে, তবে রায়হানের মাঝে তেমন কোনো প্রবৃত্তি লক্ষ্য করা যায় না। শৈশবে আরেকটা প্রাণের বিনিময়ে নতুন করে ফিরে পাওয়া জীবন নিয়েও তার ভেতর তেমন কোনো আগ্রহ৷ নেই। জীবন সম্পর্কে এমন উদাসীন মানুষ হয়তো চারপাশে হরহামেশাই ঘুরে বেড়ায়, কেউ তাদেরকে আলাদাভাবে লক্ষ্য করে না।
'আলো অন্ধকারে যাই' নামটা আক্ষরিক অর্থেই রায়হানের জীবনের গতিপথ কিংবা সম্পর্কের পালাবদলের দিক নির্দেশ করে। এমন নিরাসক্ত, ব্যর্থ একজন মানুষের জীবনে জড়িয়ে থাকা মানুষগুলো সঙ্গত কারণেই দুর্ভোগের শিকার হয়। এই গল্পের ক্ষেত্রে, রায়হানের স্ত্রী ইশরাত ঠিক তেমনই একটি চরিত্র; যার জন্য পাঠক আফসোস করে, সিদ্ধান্তহীনতার দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে যায় বারবার।
উপন্যাসিকার ছোট্ট পরিসরে রায়হানের মতো একটা চরিত্রকে দাড় করানো কঠিন কাজ, তবু বলা যায়, বেশ সফলভাবেই কাজটি সম্পন্ন হয়েছে। বিষণ্ণ এই উপাখ্যান শেষ দুই-তিন পৃষ্ঠায় এসে যে পরিণতির দিকে মোড় নেয়, তাতে করে আরেকটা নতুন প্রশ্নের উদয় হয়, 'আলো থেকে অন্ধকারে হারিয়ে যাওয়া এমন একজন মানুষ কি আবারো আলোকিত জগতে বিচরণের ক্ষমতা/যোগ্যতা রাখে? নাকি দ্বিতীয় সুযোগের পর আবারো ধেয়ে যায় অবশ্যম্ভাবী পরিণতির দিকে?'
'আলো অন্ধকারে যাই' নামটা আক্ষরিক অর্থেই রায়হানের জীবনের গতিপথ কিংবা সম্পর্কের পালাবদলের দিক নির্দেশ করে। এমন নিরাসক্ত, ব্যর্থ একজন মানুষের জীবনে জড়িয়ে থাকা মানুষগুলো সঙ্গত কারণেই দুর্ভোগের শিকার হয়। এই গল্পের ক্ষেত্রে, রায়হানের স্ত্রী ইশরাত ঠিক তেমনই একটি চরিত্র; যার জন্য পাঠক আফসোস করে, সিদ্ধান্তহীনতার দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে যায় বারবার।
উপন্যাসিকার ছোট্ট পরিসরে রায়হানের মতো একটা চরিত্রকে দাড় করানো কঠিন কাজ, তবু বলা যায়, বেশ সফলভাবেই কাজটি সম্পন্ন হয়েছে। বিষণ্ণ এই উপাখ্যান শেষ দুই-তিন পৃষ্ঠায় এসে যে পরিণতির দিকে মোড় নেয়, তাতে করে আরেকটা নতুন প্রশ্নের উদয় হয়, 'আলো থেকে অন্ধকারে হারিয়ে যাওয়া এমন একজন মানুষ কি আবারো আলোকিত জগতে বিচরণের ক্ষমতা/যোগ্যতা রাখে? নাকি দ্বিতীয় সুযোগের পর আবারো ধেয়ে যায় অবশ্যম্ভাবী পরিণতির দিকে?'
March 17, 2026
লেখকের নাম লেখা না থাকলেও যদি বোঝা যায় সেটা তার লেখা, আমার কাছে সেখানেই লেখকের স্বার্থকতা। গত বছরের আশ্চর্যময়ী, তুমি'র পর আবারও পাঠকদের আবেগ নিয়ে রীতিমতো ছেলেখেলা করতে ফিরলেন শরীফুল হাসান। আলো অন্ধকারে যাই৷ দু'টো বইয়ের কলেবরে বেজায় তফাত, কিন্তু ইমোশনাল ইমপ্যাক্ট একই৷ একটা পর্যায়ে গিয়ে আপনার মনে হতেই পারে, মূল চরিত্রের গালে কষে এক চড় লাগাতে পারলে মন্দ হতো না। আবার পরমুহূর্তেই হয়তো তার জন্যে খারাপ লাগবে। এই ধরণের গল্প- ধরণ বলতে বোঝাচ্ছি, প্যাটার্ন বা গল্পের ফরম্যাট(আদৌ যদি সেরকম কিছু থেকে থাকে)-বাংলা সাহিত্যের পাঠক-পাঠিকারা পড়েছেন আগে। আমার মতে এরকম গল্পগুলো বাংলা সাহিত্যে অনন্য, অন্যান্য দেশের সাহিত্যে সচরাচর দেখা যায় না৷ জীবন যদি লম্বা একটা সিনেমা হয়, তাহলে সেই সিনেমার একদম মাঝ থেকে কিছু অংশে হঠাৎ কেটে নিয়ে দেখালে যেমন লাগবে, সেরকম। চরিত্রগুলোর জীবনে আগেও অনেক গল্প ছিল, পরেও থাকবে৷ কিন্তু আমরা তাদের সঙ্গী হই সীমিত সময়ের জন্যে। আমার কাছে ব্যক্তিগতভাবে এই ধরণের গল্প ভাল লাগবে। শরীফ ভাই এখানে যা করতে চেয়েছেন, পেরেছেন।
March 17, 2026
ফার্স্ট রিড:
আলো অন্ধকারে যাই, শরীফুল হাসান। আলোচনা।
ব্যর্থতার গল্পগুলো পড়তে পড়তে মনে হয় এগুলো যেন আমার নিজের গল্প।
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর-এর অপরিচিতা থেকে শুরু করে শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়-এর দেবদাস, ব্যর্থতা, অপূর্ণতা আর না-পাওয়ার গল্প আমাদের সাহিত্যে বারবার ফিরে এসেছে। এরপর হুমায়ূন আহমেদ থেকে শুরু করে সাদাত হোসাইন, সময়ের সাথে সাথে এই ধারাটা আরও সমৃদ্ধ হয়েছে।
এত পড়ি, তবু কেন এই গল্পগুলো আমাদের এত টানে? কারণ হয়তো এখানে আমরা নিজেদের খুঁজে পাই। আমাদের লেখকদের মধ্যে এক ধরনের দাপট আছে এই জনরায়, যেটা হরর বা থ্রিলারের ক্ষেত্রে তেমন জোরালোভাবে দেখা যায় না।
এই জায়গাতেই শরীফুল হাসান আলাদা করে নজরে পড়েন। তিনি সময়ের সাথে তাল মিলিয়ে লিখে চলেন। অনেক লেখক যেখানে গল্পকে অতীতে আটকে রাখেন, তিনি সেখানে বর্তমানকে ধরেন, আপডেটেড থাকেন। বাংলাসাহিত্যে এমন লেখক হয়তো আছেন, কিন্তু বাংলাদেশের বই ইন্ডাস্ট্রিতে এভাবে ধারাবাহিকভাবে সময়কে ধারণ করতে খুব বেশি দেখা যায় না।
গল্পটি রায়হান নামের এক মানুষের, যার জীবনজুড়ে যেন শুধুই ব্যর্থতা। কিন্তু পড়তে পড়তে প্রশ্ন জাগে এটা কি সত্যিই রায়হানের গল্প, নাকি আমার নিজের? ব্যর্থতার গল্পগুলো এমনই, যতক্ষণ ব্যর্থতা থাকে, ততক্ষণ আমরা নিজেদের খুঁজে পাই। এই বই পড়তেও ঠিক তেমনই লেগেছে, মনে হয়েছে আমি নিজের গল্পই পড়ছি কিংবা হয়তো ভবিষ্যতের কোনো সংস্করণকে।
কিন্তু একদম শেষে গিয়ে হঠাৎ করেই নিজেকে হারিয়ে ফেললাম। তখনই বুঝলাম, না, গল্পটা আসলে রায়হানেরই ছিল।
এমন বই হাতে পেলে ইচ্ছে করে কাউকে ধরিয়ে দিয়ে বলি—“পড়ো, দেখো আমার সাথে মিল খুঁজে পাও কিনা, এই গল্পটা কি আমাদের গল্প?"
পছন্দের লেখকের বইমেলার বই। তাই ৫ এ ৫ পাবে এই বইটা। (১৭ মার্চ ২০২৬, রাত ১০:২৪)
সেকেন্ড রিড:
একটা বই আমার কয়েকবার পড়া হয়। হয়তো চারবছর আগে পড়েছিলাম কিংবা একবছর, দুবছর আগে পড়া কোনো বই। কিন্তু একটা বই মাত্র সাতান্ন দিন আগে পড়া হয়েছে ওটা আবার পড়েছি এমন কখনো হয়নি। লেখকের প্রতিটা বই-ই বলতে গেলে আমি দুবারের বেশি পড়েছি, কারণ, ভালো লাগে। 'আশ্চর্যময়ী, তোমাকে' বইটা পড়ে শেষ করেছি কালকে, বিষন্ন করে তুলেছিলো বইটা। গতবছর বইমেলার বই পড়লাম ঠিক একবছর পর কিন্তু ওই বই নিয়ে কিছু লিখিনি। আবার পড়লাম, "আলো অন্ধকারে যাই"।
লেখকের "এক নক্ষত্রের নিচে" আমি আমার অলটাইল ফেভারিট বই হিসেবে রাখবো তারপর "আলো অন্ধকারে যাই" আমি ব্যর্থতার গল্প ভালোবাসি, সেগুলো নিজের মনে করতে ভালোবাসি।
এই বইটা নিয়ে বিস্তারিত লিখেছি মেলার সময়েই তাই এখন আবার লিখছি না। বইটার সাথে স্থান, বাবার সাথে সর্ম্পক এসবকিছু আমার সাথে মিলে, বাকিটা ভবিষ্যতে মিলতে পারে। গল্পের রায়হান আলো অন্ধকারে যায়, আমি শুধু অন্ধকারে যাই। এই আরকি। (১৩ মে ২০২৬, ভোর ৪:২৪)
আলো অন্ধকারে যাই, শরীফুল হাসান। আলোচনা।
ব্যর্থতার গল্পগুলো পড়তে পড়তে মনে হয় এগুলো যেন আমার নিজের গল্প।
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর-এর অপরিচিতা থেকে শুরু করে শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়-এর দেবদাস, ব্যর্থতা, অপূর্ণতা আর না-পাওয়ার গল্প আমাদের সাহিত্যে বারবার ফিরে এসেছে। এরপর হুমায়ূন আহমেদ থেকে শুরু করে সাদাত হোসাইন, সময়ের সাথে সাথে এই ধারাটা আরও সমৃদ্ধ হয়েছে।
এত পড়ি, তবু কেন এই গল্পগুলো আমাদের এত টানে? কারণ হয়তো এখানে আমরা নিজেদের খুঁজে পাই। আমাদের লেখকদের মধ্যে এক ধরনের দাপট আছে এই জনরায়, যেটা হরর বা থ্রিলারের ক্ষেত্রে তেমন জোরালোভাবে দেখা যায় না।
এই জায়গাতেই শরীফুল হাসান আলাদা করে নজরে পড়েন। তিনি সময়ের সাথে তাল মিলিয়ে লিখে চলেন। অনেক লেখক যেখানে গল্পকে অতীতে আটকে রাখেন, তিনি সেখানে বর্তমানকে ধরেন, আপডেটেড থাকেন। বাংলাসাহিত্যে এমন লেখক হয়তো আছেন, কিন্তু বাংলাদেশের বই ইন্ডাস্ট্রিতে এভাবে ধারাবাহিকভাবে সময়কে ধারণ করতে খুব বেশি দেখা যায় না।
গল্পটি রায়হান নামের এক মানুষের, যার জীবনজুড়ে যেন শুধুই ব্যর্থতা। কিন্তু পড়তে পড়তে প্রশ্ন জাগে এটা কি সত্যিই রায়হানের গল্প, নাকি আমার নিজের? ব্যর্থতার গল্পগুলো এমনই, যতক্ষণ ব্যর্থতা থাকে, ততক্ষণ আমরা নিজেদের খুঁজে পাই। এই বই পড়তেও ঠিক তেমনই লেগেছে, মনে হয়েছে আমি নিজের গল্পই পড়ছি কিংবা হয়তো ভবিষ্যতের কোনো সংস্করণকে।
কিন্তু একদম শেষে গিয়ে হঠাৎ করেই নিজেকে হারিয়ে ফেললাম। তখনই বুঝলাম, না, গল্পটা আসলে রায়হানেরই ছিল।
এমন বই হাতে পেলে ইচ্ছে করে কাউকে ধরিয়ে দিয়ে বলি—“পড়ো, দেখো আমার সাথে মিল খুঁজে পাও কিনা, এই গল্পটা কি আমাদের গল্প?"
পছন্দের লেখকের বইমেলার বই। তাই ৫ এ ৫ পাবে এই বইটা। (১৭ মার্চ ২০২৬, রাত ১০:২৪)
সেকেন্ড রিড:
একটা বই আমার কয়েকবার পড়া হয়। হয়তো চারবছর আগে পড়েছিলাম কিংবা একবছর, দুবছর আগে পড়া কোনো বই। কিন্তু একটা বই মাত্র সাতান্ন দিন আগে পড়া হয়েছে ওটা আবার পড়েছি এমন কখনো হয়নি। লেখকের প্রতিটা বই-ই বলতে গেলে আমি দুবারের বেশি পড়েছি, কারণ, ভালো লাগে। 'আশ্চর্যময়ী, তোমাকে' বইটা পড়ে শেষ করেছি কালকে, বিষন্ন করে তুলেছিলো বইটা। গতবছর বইমেলার বই পড়লাম ঠিক একবছর পর কিন্তু ওই বই নিয়ে কিছু লিখিনি। আবার পড়লাম, "আলো অন্ধকারে যাই"।
লেখকের "এক নক্ষত্রের নিচে" আমি আমার অলটাইল ফেভারিট বই হিসেবে রাখবো তারপর "আলো অন্ধকারে যাই" আমি ব্যর্থতার গল্প ভালোবাসি, সেগুলো নিজের মনে করতে ভালোবাসি।
এই বইটা নিয়ে বিস্তারিত লিখেছি মেলার সময়েই তাই এখন আবার লিখছি না। বইটার সাথে স্থান, বাবার সাথে সর্ম্পক এসবকিছু আমার সাথে মিলে, বাকিটা ভবিষ্যতে মিলতে পারে। গল্পের রায়হান আলো অন্ধকারে যায়, আমি শুধু অন্ধকারে যাই। এই আরকি। (১৩ মে ২০২৬, ভোর ৪:২৪)
April 25, 2026
"আলো-অন্ধকারে যাই" মূলত আলো আঁধারের মধ্যে একজন মানুষের বেঁচে থাকার গল্প। যার জীবনে আলো কম, অন্ধকার বেশী। তবে এর কারণটাও সে নিজেই। জীবন নিয়ে খুব উদাসীন সেই মানুষটা রায়হান। যে সবসময় ব্যর্থ, সফল হওয়ার চেষ্টা সে করে না। তবুও সে আফসোস করে, সফলতা চায়। জীবনে ধাপে ধাপে ব্যর্থ হওয়া রায়হান সফল হতে পেরেছে আদৌ কোনোদিন?
রায়হান কেন্দ্রীয় চরিত্র হলেও গল্পের প্রাণ ইশরাত। আগাগোড়া মায়াময় চরিত্র। রায়হানের ছন্দপতনের পুরোটা সময় জুড়ে রয়েছে ইশরাত। সংসারকে ভালোবাসে সে, ভালোবাসে রায়হানকে এমনকি তার উদাসীনতাকেও। কিন্তু কতদিন?
রায়হানের বাবা খালেক সাহেব, সন্তানের প্রতি প্রচন্ড অভিমান কিংবা অভিযোগ তার৷ তবুও তিনি বাবা তো! সন্তানের উচ্ছন্নে যাওয়া মানতে পারেন না, আবার তার প্রতি অনীহার কারণটাও ভুলতে পারেন না। তারপরও রায়হানকে তিনি একদমই ভালোবাসেন না?
রায়হানের সেই নাম না পাওয়া সম্পর্কের নারীটি। তার সাথে রায়হানের সম্পর্কটার নাম রায়হান না দিলেও পাঠক দিবে কি?
এমন অনেকগুলো প্রশ্নের উত্তর পাওয়া যাবে বইটিতে। লেখক শরীফুল হাসানের লেখা নিয়ে নতুন করে কিছু বলার নেই। পাঠককে শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত ধরে রাখার চমৎকার গুণ তার আছে।
এই বইটার প্লট সাধারণ, আমাদের পরিচিত। তবুও তার লেখনশৈলী বইটিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। রায়হান আমাদের পরিচিত, খুব পরিচিত কিংবা আমরা নিজেরাই হয়ত রায়হান৷ কিন্তু....
এটা আমাদের নয়, রায়হানের ই গল্প। কেন?
এটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন।
রায়হান কেন্দ্রীয় চরিত্র হলেও গল্পের প্রাণ ইশরাত। আগাগোড়া মায়াময় চরিত্র। রায়হানের ছন্দপতনের পুরোটা সময় জুড়ে রয়েছে ইশরাত। সংসারকে ভালোবাসে সে, ভালোবাসে রায়হানকে এমনকি তার উদাসীনতাকেও। কিন্তু কতদিন?
রায়হানের বাবা খালেক সাহেব, সন্তানের প্রতি প্রচন্ড অভিমান কিংবা অভিযোগ তার৷ তবুও তিনি বাবা তো! সন্তানের উচ্ছন্নে যাওয়া মানতে পারেন না, আবার তার প্রতি অনীহার কারণটাও ভুলতে পারেন না। তারপরও রায়হানকে তিনি একদমই ভালোবাসেন না?
রায়হানের সেই নাম না পাওয়া সম্পর্কের নারীটি। তার সাথে রায়হানের সম্পর্কটার নাম রায়হান না দিলেও পাঠক দিবে কি?
এমন অনেকগুলো প্রশ্নের উত্তর পাওয়া যাবে বইটিতে। লেখক শরীফুল হাসানের লেখা নিয়ে নতুন করে কিছু বলার নেই। পাঠককে শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত ধরে রাখার চমৎকার গুণ তার আছে।
এই বইটার প্লট সাধারণ, আমাদের পরিচিত। তবুও তার লেখনশৈলী বইটিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। রায়হান আমাদের পরিচিত, খুব পরিচিত কিংবা আমরা নিজেরাই হয়ত রায়হান৷ কিন্তু....
এটা আমাদের নয়, রায়হানের ই গল্প। কেন?
এটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন।
March 20, 2026
আগামীকাল ঈদুল ফিতর। এজন্য আজ চাঁদ রাত উপলক্ষে চারপাশে পটকা, বাজী, ছেলেপেলেদের চিল্লাপল্লা চলছে হরদমে। এরই মাঝে রিভিউ বা নিজের অনুভূতি লিখতে বসলাম কাঁটা হাতে।
বর্তমান সময়ের জনপ্রিয় লেখকদের তালিকা করতে বলা হলে, সেখানে শরিফুল হাসানের নাম থাকবেই থাকবে। এই মানুষটা অসম্ভব রকমের নিষ্টুর। তার গল্পের নির্দিষ্ট একটা প্যাটার্ন আছে। সে খুব যত্ন নিয়ে গোটা উপন্যাসটা সাজিয়ে যান, ক্যারেক্টারের সহিত পাঠকের মাঝে এক কানেকশন বিল্ড করান। এরপর যখনই পাঠক গল্পের প্রোটাগনিস্টের সাথে নিজের স্বভাব-চরিত্রে মিল খুজে পেয়ে, সেই ক্যারেক্টারের সহিত রিলেট করা শুরু করতে যায়, ওমনি দূম করে সেই ক্যারেক্টারকে মেরে ফেলে, এক অট্টহাসিতে মেতে উঠেন, লেখক মহাদয়।
তার লেখা পড়তে গেলে, শেষ পাতায় গিয়ে বিষন্নতার সহিত কোলাকুলি করতে হবেই হবে... এটা জেনেও, প্রতি বইমেলায় অধীর আগ্রহে থাকি, প্রিয় লেখকের বইয়ের জন্য। জীবন কি আইরনিক তাই না?
আলো অন্ধকারে যাই বেশ ছোটখাটো সাইজের একটা বই। সর্বশেষ লেখকের ছোটখাটো যেই বইটা পড়েছিলাম সেটা ছিল “রেড পয়জন”। ওটা আমাকে খুব একটা স্যাটিসফাইড করতে পারে নাই তাই এটা নিয়ে একটু দ্বন্দে ছিলাম। তবে... ট্রাই করে দেখা তো মাস্ট ছিলই। খুলনায় এবার বইমেলা হচ্ছে না যেটা আমার জন্য খুব আফসোসের বিষয়। প্রতিদিন ফেসবুকে, ঢাকার বইমেলার ছবি ভিডিও দেখে আফসোস করি। জেদ ধরে বসে ছেলাম বই’ই কিনব না। কিন্তু এরমধ্যে সাদ ভাই হুট করে আমায় বই গিপ্ট করে বসেন। বই হাতে আসার পর দেখি শরিফুল হাসান ভাইয়ের অটোগ্রাফ ও রয়েছে। আমায় আর পায় কে। ওই দিনই পড়তে বসে যাই। এরপর... আলো আধাঁরি সব মিলে বইটা শেষ করি।
সববারের মতনই, এবারো লেখক যেই ক্যারেক্টার কে নিয়ে গল্প ফাধতে বসেছেন, সে যেন কিছু কিছু ক্ষেত্রে আমাদেরই রিপ্রেজেন্ট করে। সে মোটেও কোন আইডল ক্যারেক্টার না। আইডল ক্যারেক্টারের ধারে কাছেও সে নাই। জীবন নিয়ে চরম হতাশ, কর্মজীবন, ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে ফ্রাস্টেটেড এক ক্যারেক্টার আমাদের রায়হান। সে কেমন জানি..সে নিজেকে নিজেই যেন চেনে না, জানে না। সে দুনিয়ায় কেন আছে, কি তার উদ্দেশ্য, এ নিয়ে বিন্দু মাএ তার কোন মাথা ব্যাথা নাই। জীবন তো চলছেই...চলতে থাকুক... সে তার বৈবাহিক জীবন নিয়ে চরম উদাশীন। যার ভিক্টিম তার স্ত্রী ইশরাত। পরিবারের বিরুদ্ধে গিয়ে ভালোবেসে সে বিয়ে করে রায়হানকে। কিন্তু বিয়ের আগের রায়হান আর বিয়ের পরের রায়হানের মাঝে তফাৎ যেন আকাশ পাতাল। তার নিজের স্ত্রীর প্রতি কোন খেয়ালই নাই। সে রোবটের ন্যায় জীবন চালিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। ইশরাত দীর্ঘ দিন ধৈয্য ধরে ধরে অবশেষে যখন দেওয়ালে পিঠ ঠেকে যায় তখন সে রায়হানকে ছেড়ে ফিরে যায় নিজের বাবা মায়ের কাছে। আর এরপর থেকে শুরু হয়...রায়হানের জীবনের ডাউনফল। ইসরাত যেন তাকে এতদিন আলোর মাঝে রেখেছিল আর যেই ওর ছায়া সরে গেল জীবনে নেমে এল এক আধাঁর রাত।
যতই পৃষ্টার পর পৃষ্টা পড়ে যাচ্ছিলাম, নিজের ভিতর থেকে এক চাপা রাগ, ক্ষোভ, হতাশা জন্মাছিলো রায়হানের জন্য।
রায়হানের সাথে আমি ব্যক্তিগত ভাবে যে বিষয়টায় রিলেট করতে পারি সেটা হল.. আমরা সময় থাকতে থাকতে পশের মানুষদের ঠিকঠাক ট্রিট করতে পারি না। তাদোর প্রাপ্য এপ্রিসিয়েশনটা দিতে ব্যর্থ হই। আর যখন তারা জীবন থেকে হারিয়ে যায় তখন রিয়েলিজেশন আসে...ওই মানুষটা আসলে আমাদের জীবনে কতটা গুরুত্বপূর্ণ ছিলো। কিন্তু আফসোস, খুব দেরি হয়ে গেছে এটা বুঝে উঠতে উঠতে। যে যায়...সে শুধু গল্প উপন্যাসেই ফিরে আসে, বাস্তব জীবনে না। সব যাত্রায় ফিরতি পথ থাকে না।
গল্পের শুরুটা আর শেষটা আমাকে বেশি অনূভব করিয়েছে। মাঝের পথটায় আমি চুপচাপ সব শুধু ঘটতে দেখেছি। সেখানে কেমনস জানি আমার ইমশোনাল এট্যাচমেন্টটা দুর্বল হয়ে পড়েছিলো। তবে শেষটায় এসে লেখক যে নাটকীয়তার আবির্ভাব করিয়েছেন, আমি বাকরুদ্ধ হয়ে ছিলাম।
তবে, আমি ঠিক খুশি হতে পারি নাই। লেখক তার ট্রাডিশন ভেঙেছেন ঠিকেই কিন্তু আমার মনে হল হ্যাপি এন্ডিংটা জ্বোর করে দেওয়া, এটা না দিলেই বরং ভাল হত। কিছু মানুষ তাদের কৃতকর্মের হিসাব দুনিয়ায় বসে পেয়ে যাওয়া উচিত। এরা ডিজার্ভ করে সাফার করা। এটাই এদের নসিব। এদের হাতে ভাল কিছু শোভা পায় না। তবুও লেখক হয়ত ভেবেছেন, অনেক হইল পাঠক মন নিয়ে লুডু খেলঅ, এবার না হয় সবাইকে খুশি করে এক গর্দভকে বাচিঁয়ে দি।
দুঃখিত শরিফুল হাসান ভাই, আমি খুশি হতে পারলাম না।
বর্তমান সময়ের জনপ্রিয় লেখকদের তালিকা করতে বলা হলে, সেখানে শরিফুল হাসানের নাম থাকবেই থাকবে। এই মানুষটা অসম্ভব রকমের নিষ্টুর। তার গল্পের নির্দিষ্ট একটা প্যাটার্ন আছে। সে খুব যত্ন নিয়ে গোটা উপন্যাসটা সাজিয়ে যান, ক্যারেক্টারের সহিত পাঠকের মাঝে এক কানেকশন বিল্ড করান। এরপর যখনই পাঠক গল্পের প্রোটাগনিস্টের সাথে নিজের স্বভাব-চরিত্রে মিল খুজে পেয়ে, সেই ক্যারেক্টারের সহিত রিলেট করা শুরু করতে যায়, ওমনি দূম করে সেই ক্যারেক্টারকে মেরে ফেলে, এক অট্টহাসিতে মেতে উঠেন, লেখক মহাদয়।
তার লেখা পড়তে গেলে, শেষ পাতায় গিয়ে বিষন্নতার সহিত কোলাকুলি করতে হবেই হবে... এটা জেনেও, প্রতি বইমেলায় অধীর আগ্রহে থাকি, প্রিয় লেখকের বইয়ের জন্য। জীবন কি আইরনিক তাই না?
আলো অন্ধকারে যাই বেশ ছোটখাটো সাইজের একটা বই। সর্বশেষ লেখকের ছোটখাটো যেই বইটা পড়েছিলাম সেটা ছিল “রেড পয়জন”। ওটা আমাকে খুব একটা স্যাটিসফাইড করতে পারে নাই তাই এটা নিয়ে একটু দ্বন্দে ছিলাম। তবে... ট্রাই করে দেখা তো মাস্ট ছিলই। খুলনায় এবার বইমেলা হচ্ছে না যেটা আমার জন্য খুব আফসোসের বিষয়। প্রতিদিন ফেসবুকে, ঢাকার বইমেলার ছবি ভিডিও দেখে আফসোস করি। জেদ ধরে বসে ছেলাম বই’ই কিনব না। কিন্তু এরমধ্যে সাদ ভাই হুট করে আমায় বই গিপ্ট করে বসেন। বই হাতে আসার পর দেখি শরিফুল হাসান ভাইয়ের অটোগ্রাফ ও রয়েছে। আমায় আর পায় কে। ওই দিনই পড়তে বসে যাই। এরপর... আলো আধাঁরি সব মিলে বইটা শেষ করি।
সববারের মতনই, এবারো লেখক যেই ক্যারেক্টার কে নিয়ে গল্প ফাধতে বসেছেন, সে যেন কিছু কিছু ক্ষেত্রে আমাদেরই রিপ্রেজেন্ট করে। সে মোটেও কোন আইডল ক্যারেক্টার না। আইডল ক্যারেক্টারের ধারে কাছেও সে নাই। জীবন নিয়ে চরম হতাশ, কর্মজীবন, ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে ফ্রাস্টেটেড এক ক্যারেক্টার আমাদের রায়হান। সে কেমন জানি..সে নিজেকে নিজেই যেন চেনে না, জানে না। সে দুনিয়ায় কেন আছে, কি তার উদ্দেশ্য, এ নিয়ে বিন্দু মাএ তার কোন মাথা ব্যাথা নাই। জীবন তো চলছেই...চলতে থাকুক... সে তার বৈবাহিক জীবন নিয়ে চরম উদাশীন। যার ভিক্টিম তার স্ত্রী ইশরাত। পরিবারের বিরুদ্ধে গিয়ে ভালোবেসে সে বিয়ে করে রায়হানকে। কিন্তু বিয়ের আগের রায়হান আর বিয়ের পরের রায়হানের মাঝে তফাৎ যেন আকাশ পাতাল। তার নিজের স্ত্রীর প্রতি কোন খেয়ালই নাই। সে রোবটের ন্যায় জীবন চালিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। ইশরাত দীর্ঘ দিন ধৈয্য ধরে ধরে অবশেষে যখন দেওয়ালে পিঠ ঠেকে যায় তখন সে রায়হানকে ছেড়ে ফিরে যায় নিজের বাবা মায়ের কাছে। আর এরপর থেকে শুরু হয়...রায়হানের জীবনের ডাউনফল। ইসরাত যেন তাকে এতদিন আলোর মাঝে রেখেছিল আর যেই ওর ছায়া সরে গেল জীবনে নেমে এল এক আধাঁর রাত।
যতই পৃষ্টার পর পৃষ্টা পড়ে যাচ্ছিলাম, নিজের ভিতর থেকে এক চাপা রাগ, ক্ষোভ, হতাশা জন্মাছিলো রায়হানের জন্য।
রায়হানের সাথে আমি ব্যক্তিগত ভাবে যে বিষয়টায় রিলেট করতে পারি সেটা হল.. আমরা সময় থাকতে থাকতে পশের মানুষদের ঠিকঠাক ট্রিট করতে পারি না। তাদোর প্রাপ্য এপ্রিসিয়েশনটা দিতে ব্যর্থ হই। আর যখন তারা জীবন থেকে হারিয়ে যায় তখন রিয়েলিজেশন আসে...ওই মানুষটা আসলে আমাদের জীবনে কতটা গুরুত্বপূর্ণ ছিলো। কিন্তু আফসোস, খুব দেরি হয়ে গেছে এটা বুঝে উঠতে উঠতে। যে যায়...সে শুধু গল্প উপন্যাসেই ফিরে আসে, বাস্তব জীবনে না। সব যাত্রায় ফিরতি পথ থাকে না।
গল্পের শুরুটা আর শেষটা আমাকে বেশি অনূভব করিয়েছে। মাঝের পথটায় আমি চুপচাপ সব শুধু ঘটতে দেখেছি। সেখানে কেমনস জানি আমার ইমশোনাল এট্যাচমেন্টটা দুর্বল হয়ে পড়েছিলো। তবে শেষটায় এসে লেখক যে নাটকীয়তার আবির্ভাব করিয়েছেন, আমি বাকরুদ্ধ হয়ে ছিলাম।
তবে, আমি ঠিক খুশি হতে পারি নাই। লেখক তার ট্রাডিশন ভেঙেছেন ঠিকেই কিন্তু আমার মনে হল হ্যাপি এন্ডিংটা জ্বোর করে দেওয়া, এটা না দিলেই বরং ভাল হত। কিছু মানুষ তাদের কৃতকর্মের হিসাব দুনিয়ায় বসে পেয়ে যাওয়া উচিত। এরা ডিজার্ভ করে সাফার করা। এটাই এদের নসিব। এদের হাতে ভাল কিছু শোভা পায় না। তবুও লেখক হয়ত ভেবেছেন, অনেক হইল পাঠক মন নিয়ে লুডু খেলঅ, এবার না হয় সবাইকে খুশি করে এক গর্দভকে বাচিঁয়ে দি।
দুঃখিত শরিফুল হাসান ভাই, আমি খুশি হতে পারলাম না।
April 28, 2026
বর্তমান সময়ের টপ ১০ লেখকের নামের তালিকা তৈরি করলে “শরীফুল হাসান”র নাম অটোমেটিক চলে আসবে।
দূর্ভাগ্যবশত আমার উনার লেখা এতোদিন পড়া হয়নি।
একবসায় শেষ দিলাম , ছোট্ট একটা বই। একজন ব্যর্থ পুরুষ , ব্যর্থ স্বামী , ব্যর্থ সন্তানকে কেন্দ্র করেই কাহিনি এগিয়েছে। এক্সপেক্টেশন শূন্য থাকায় হয়তো বেশি ভালো লেগেছে। তবে মনে হলো যে শেষটা লেখক পাঠক ডিমান্ডিং হিসেবেই এরকম করেছে , না করলেই বেশি ভালো লাগতো।
দূর্ভাগ্যবশত আমার উনার লেখা এতোদিন পড়া হয়নি।
একবসায় শেষ দিলাম , ছোট্ট একটা বই। একজন ব্যর্থ পুরুষ , ব্যর্থ স্বামী , ব্যর্থ সন্তানকে কেন্দ্র করেই কাহিনি এগিয়েছে। এক্সপেক্টেশন শূন্য থাকায় হয়তো বেশি ভালো লেগেছে। তবে মনে হলো যে শেষটা লেখক পাঠক ডিমান্ডিং হিসেবেই এরকম করেছে , না করলেই বেশি ভালো লাগতো।
April 16, 2026
২০২৬ রিভিউ
বিষয়ঃ বই
রিভিউঃ ১৬
বই : আলো অন্ধকারে যাই
লেখকঃ শরীফুল হাসান
প্রচ্ছদঃ আসাদুজ্জামান সোহেল
জঁরাঃ সমসাময়িক
আলো-অন্ধকারে যাই—মাথার ভিতরে
স্বপ্ন নয়, কোন্ এক বোধ কাজ করে;
স্বপ্ন নয়—শান্তি নয়—ভালোবাসা নয়,
হৃদয়ের মাঝে এক বোধ জন্ম লয়;
আমি তারে পারি না এড়াতে,
সে আমার হাত রাখে হাতে,
সব কাজ তুচ্ছ হয়—পণ্ড মনে হয়,
সব চিন্তা—প্রার্থনার সকল সময়
শূন্য মনে হয়,
শূন্য মনে হয়।
ঠিক একই রকম পরিস্থিতিতে আছে রায়হান। ছোটবেলার একটা ঘটনার পরে তার জীবন বদলে গিয়েছিল কিংবা অন্য কোন কারণ সেটা না হয় তোলা থাক।
প্রায় এক যুগের সংসার জীবন। কোন সন্তান নেই রায়হান-ইশরাত দম্পতির। নির্লিপ্ত সম্পর্কের কারণ তবে এটাই? বার বার মিসক্যারেজের শিকার হওয়া ইশরাত এখন সংসারে ঠিক পড়ে থাকা ফার্নিচারের মতই। ধূলো জমে জমে পুরু আস্তরণ পড়েছে। ইশরাত হয়তো চায় রায়হান মুছে দিক সেই ধূলোর পরত।
দীর্ঘদিন একই অফিসে ঘানি টেনে চলেছে রায়হান। একদিন হুট করে চাকরীও চলে যায় তার। এদিকে বহুকাল ধরে অন্য নারীর সংগ খোঁজ করে রায়হান। না শারীরিক চাহিদা না, না আছে ভালোবাসা, যেন কথা শোনা বা বলার একটা মানুষ।
রায়হানের বাবা, আপন বলতে এই ছেলে আর ছেলের বউ। যদিও কোন এক কারণে ছেলে সহ্য করতে পারেনা, ছেলেকে নিয়ে অত মাথা ব্যথাও নেই। শুধু ফার্নিচারের মত পড়ে থাকা ইশরাতকে স্নেহ আর মায়া দিয়ে বেঁধে রাখে।
ধৈর্যের বাঁধ ও একদিন ভাংগে, ভাংতে হয়। ইশরাত নিজের অস্থাবর নিয়ে একদিন মায়ের কাছে ফিরে আসে। মা-বাবার বিরুদ্ধে গিয়ে সে এই বিয়ে করেছিল। হয়তো তাদের হা-হুতাশেই আজ রায়হানের এ দশা।
রায়হানের জীবনে যেমন এক নারী আছে, ইশরাতের জীবনেও একজনের আগমনি বার্তা শোনা যায়। এ যেন সূর্যাস্ত হয়ে নতুন সূর্য ওঠার মতই।
বাবার মৃত্যু, ইশরাতের বাড়ি ছাড়ার পর, সেই পছন্দের নারীর সাথে ঘটা একটা ঘটনা, চাকরী চলে যাওয়া, এক লোকের মারফত প্রফিডেন্ট ফান্ডের সব টাকা স্ক্যাম হওয়া। সব কিছু মিলে রায়হানের জীবনের আলো মিলিয়ে গেল যেন। অন্ধকার তাকে হাতছানি দিচ্ছে।
আবার অন্যদিকে ইশরাত যেন ধীরে ধীরে আলো খুঁজে পাচ্ছে। আলোর পথে হাটবে ইশরাত এবার তবে?
অন্ধকার থেকে ফেরার পথ আছে কী?
শরীফুল হাসানের লেখা সব বইয়ে মূল চরিত্রগুলোর মধ্যে যেন একটা গভীরতা থাকে। এমন কি পার্শ্বচরিত্র হলেও তার জীবনবোধ যেন পাঠককে নাড়া দেয়। তেমন করেই এই বইয়ের প্রতিটা চরিত্র আপনাকে কিছু হলেও ভাবাবে। সে হোক ঠগ কিংবা নিতান্ত ভালো মানুষ!
ইশরাতের আত্মমর্যাদা জেগে ওঠা যেমন অপরাধ না! আবার রায়হানের এই নির্লিপ্ত আচরণের কারণ হয়তো আছে। হয়তো কোন এক কালের অপরাধবোধ!
কাউকে অন্ধ বিশ্বাস করা যে ভুল সেটাও লেখক মনে করিয়ে দিয়েছেন। আলো আর আধারের মাঝেই আমাদের বাস। আলো থেকে অন্ধকারে কেউ যেতে পারলে, অন্ধকার থেকে ফেরার পথ থাকবে না? দিন শেষে ডুবে যাওয়া সূর্য তো কাল আবার জ্বলে উঠবেই।
বইয়ের যে ঘটনা, তা অহরহ আমাদের চারপাশে ঘটছে। হয়তো নিজেদের জীবনেও কম বেশি, ছায়া আছে! তবুও আলো অন্ধকারে যাই, আবার অন্ধকারকে আলো আলোকিত করে দেয়। সামান্য একটু মানিয়ে নেয়া কিংবা সামান্য বোধ কাজ করলেই সব কিছু ঠিক হতে পারে। কিন্তু ছাড় ক'জন দেয়? সব ক্ষেত্রে ছাড় দেয়া উচিত না সম্ভব?
বেশ রিফ্রেশিং একটা গল্প, চেনা জানা গল্প হলেও লেখকের কলমে চরিত্রগুলো জীবন্ত হয়ে ধরা দিয়েছে পাঠকের কাছে। এক বসায় পড়ে ফেলুন, কথা দিচ্ছি সময় আর টাকা কোনটায় বিফলে যাবে না!
বিষয়ঃ বই
রিভিউঃ ১৬
বই : আলো অন্ধকারে যাই
লেখকঃ শরীফুল হাসান
প্রচ্ছদঃ আসাদুজ্জামান সোহেল
জঁরাঃ সমসাময়িক
আলো-অন্ধকারে যাই—মাথার ভিতরে
স্বপ্ন নয়, কোন্ এক বোধ কাজ করে;
স্বপ্ন নয়—শান্তি নয়—ভালোবাসা নয়,
হৃদয়ের মাঝে এক বোধ জন্ম লয়;
আমি তারে পারি না এড়াতে,
সে আমার হাত রাখে হাতে,
সব কাজ তুচ্ছ হয়—পণ্ড মনে হয়,
সব চিন্তা—প্রার্থনার সকল সময়
শূন্য মনে হয়,
শূন্য মনে হয়।
ঠিক একই রকম পরিস্থিতিতে আছে রায়হান। ছোটবেলার একটা ঘটনার পরে তার জীবন বদলে গিয়েছিল কিংবা অন্য কোন কারণ সেটা না হয় তোলা থাক।
প্রায় এক যুগের সংসার জীবন। কোন সন্তান নেই রায়হান-ইশরাত দম্পতির। নির্লিপ্ত সম্পর্কের কারণ তবে এটাই? বার বার মিসক্যারেজের শিকার হওয়া ইশরাত এখন সংসারে ঠিক পড়ে থাকা ফার্নিচারের মতই। ধূলো জমে জমে পুরু আস্তরণ পড়েছে। ইশরাত হয়তো চায় রায়হান মুছে দিক সেই ধূলোর পরত।
দীর্ঘদিন একই অফিসে ঘানি টেনে চলেছে রায়হান। একদিন হুট করে চাকরীও চলে যায় তার। এদিকে বহুকাল ধরে অন্য নারীর সংগ খোঁজ করে রায়হান। না শারীরিক চাহিদা না, না আছে ভালোবাসা, যেন কথা শোনা বা বলার একটা মানুষ।
রায়হানের বাবা, আপন বলতে এই ছেলে আর ছেলের বউ। যদিও কোন এক কারণে ছেলে সহ্য করতে পারেনা, ছেলেকে নিয়ে অত মাথা ব্যথাও নেই। শুধু ফার্নিচারের মত পড়ে থাকা ইশরাতকে স্নেহ আর মায়া দিয়ে বেঁধে রাখে।
ধৈর্যের বাঁধ ও একদিন ভাংগে, ভাংতে হয়। ইশরাত নিজের অস্থাবর নিয়ে একদিন মায়ের কাছে ফিরে আসে। মা-বাবার বিরুদ্ধে গিয়ে সে এই বিয়ে করেছিল। হয়তো তাদের হা-হুতাশেই আজ রায়হানের এ দশা।
রায়হানের জীবনে যেমন এক নারী আছে, ইশরাতের জীবনেও একজনের আগমনি বার্তা শোনা যায়। এ যেন সূর্যাস্ত হয়ে নতুন সূর্য ওঠার মতই।
বাবার মৃত্যু, ইশরাতের বাড়ি ছাড়ার পর, সেই পছন্দের নারীর সাথে ঘটা একটা ঘটনা, চাকরী চলে যাওয়া, এক লোকের মারফত প্রফিডেন্ট ফান্ডের সব টাকা স্ক্যাম হওয়া। সব কিছু মিলে রায়হানের জীবনের আলো মিলিয়ে গেল যেন। অন্ধকার তাকে হাতছানি দিচ্ছে।
আবার অন্যদিকে ইশরাত যেন ধীরে ধীরে আলো খুঁজে পাচ্ছে। আলোর পথে হাটবে ইশরাত এবার তবে?
অন্ধকার থেকে ফেরার পথ আছে কী?
শরীফুল হাসানের লেখা সব বইয়ে মূল চরিত্রগুলোর মধ্যে যেন একটা গভীরতা থাকে। এমন কি পার্শ্বচরিত্র হলেও তার জীবনবোধ যেন পাঠককে নাড়া দেয়। তেমন করেই এই বইয়ের প্রতিটা চরিত্র আপনাকে কিছু হলেও ভাবাবে। সে হোক ঠগ কিংবা নিতান্ত ভালো মানুষ!
ইশরাতের আত্মমর্যাদা জেগে ওঠা যেমন অপরাধ না! আবার রায়হানের এই নির্লিপ্ত আচরণের কারণ হয়তো আছে। হয়তো কোন এক কালের অপরাধবোধ!
কাউকে অন্ধ বিশ্বাস করা যে ভুল সেটাও লেখক মনে করিয়ে দিয়েছেন। আলো আর আধারের মাঝেই আমাদের বাস। আলো থেকে অন্ধকারে কেউ যেতে পারলে, অন্ধকার থেকে ফেরার পথ থাকবে না? দিন শেষে ডুবে যাওয়া সূর্য তো কাল আবার জ্বলে উঠবেই।
বইয়ের যে ঘটনা, তা অহরহ আমাদের চারপাশে ঘটছে। হয়তো নিজেদের জীবনেও কম বেশি, ছায়া আছে! তবুও আলো অন্ধকারে যাই, আবার অন্ধকারকে আলো আলোকিত করে দেয়। সামান্য একটু মানিয়ে নেয়া কিংবা সামান্য বোধ কাজ করলেই সব কিছু ঠিক হতে পারে। কিন্তু ছাড় ক'জন দেয়? সব ক্ষেত্রে ছাড় দেয়া উচিত না সম্ভব?
বেশ রিফ্রেশিং একটা গল্প, চেনা জানা গল্প হলেও লেখকের কলমে চরিত্রগুলো জীবন্ত হয়ে ধরা দিয়েছে পাঠকের কাছে। এক বসায় পড়ে ফেলুন, কথা দিচ্ছি সময় আর টাকা কোনটায় বিফলে যাবে না!
May 23, 2026
জীবনের প্রতিটি পদক্ষেপে ব্যর্থ রায়হানকে ভালোবাসার সময় ইশরাতের তো এতকিছু মনে হয়নি যে কেন সে রায়হানকে ভালোবাসে। বাবা মায়ের বড় সন্তান হিসেবে সে এক প্রকার পরিবারের অবাধ্য হয়ে রায়হানকে বিয়ে করেছিল। শুরুর দিকে ভালোবাসা যেমন ছিলো এখন বিয়ের এত বছর পর এসে সেই ভালোবাসা কোথায় যেন হারিয়ে গেছে। এখন ইশরাতের মনে হয় রায়হান যেন তাকে ঠিক আগের মতো গুরুত্বপূর্ণ মনে করে না নিজের জীবনে।
ইশরাত যেন একটা সাধারণ অভ্যাসের মতো হয়ে গেছে রায়হানের কাছে। যাই হয়ে যাক ইশরাত আর কোথায় যাবে ভাবখানা এমন। ইশরাত সব বোঝে। ভেতরে ভেতরে আজকাল দুমড়ে মুচড়ে শেষ হয়ে যায়। রায়হানের মনে কী আছে আজকাল ইশরাতের বড্ড জানতে ইচ্ছে করে। এমন ভাবলেশহীন মানুষও কী সংসারে আছে! রায়হানের নিজের বাবা পর্যন্ত ছেলের ভবিষ্যত নিয়ে সন্দিহান। এই যে এত বছর হয়ে গেল তাদের একটা সন্তান নেই। রায়হান কখনো কী সেটা নিয়ে কোনো উপায় ভেবেছে? আজকাল বড় ক্লান্ত হয়ে গেছে ইশরাত এই সম্পর্ক টানতে টানতে।
"যদি এই মুঠো ভরা শিউলী ফুল
যদি এই খুলে রাখা কানের দুল
লক্ষীটি একবার ঘাড় নেড়ে
সম্মতি দাও আমি যাই ছেড়ে"
আর রায়হান? জীবনের স্রোতে ভেসে চলা এক কলমি লতায় পরিনত হয়েছে সে। যার জীবনে শুধু ব্যর্থতাই পরিলক্ষিত হয় বেশি। সে নিজেকে মনে করে একজন ব্যর্থ মানুষ। না সংসার জীবনে শান্তি পায় না অফিসের কোনো উন্নতি আছে। আগে অবশ্য খুব মনোযোগ দিয়ে কাজ করতো অফিসে। কিন্তু আজকাল কাজ করার ইচ্ছাটাই কমে গেছে। জীবন নিয়ে চিন্তা ভাবনার অবকাশ ফুরিয়ে গেছে। এখন যেন শুধু কোনোমতে বেঁচে থাকা। কোনো কিছুতেই আগ্ৰহ নেই রায়হানের। এমনকি বাড়ি ফিরে ইশরাতের সাথেও খুব একটা কথা বলতে ভালো লাগে না তার।
রায়হানের আবার একজন এমন কেউ আছে যাকে ঠিক সে ভালোবাসে না। আবার ছেড়ে দিতেও মন চায় না। যার কাছে গেলে মনটা অজান্তেই ভালো হয়ে যায় রায়হানের। মনের সব কথা সেই নারীর কাছে খুলে বলতে পারে। রায়হান সে কথা বোধহয় ইশরাতকেও বলেনি। জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলায় বোধহয় রায়হান নিজেই নিজেকে জড়িয়ে ফেলেছে।
"তুমি চিনলে না এখনো আমায়,
আজো চিঠি ভেজে চোখের নোনায়,
আমার তো বুক জুড়ে বা রুদের কণা শুধু,
অভিমান থাকবে কোথায়?"
শেষমেষ রায়হান ও ইশরাতের জীবন কোন দিকে মোড় নেবে সেটাই বোধহয় সময় বলে দেবে।
----------------পাঠ প্রতিক্রিয়া--------------
লেখক শরীফুল হাসানের লেখনীতে আমি ওনার বর্ণনা শৈলী ভীষণ পছন্দ করি। যেকোনো জনরাতেই আমি এটা দেখেছি পারিপার্শ্বিক অবস্থার বর্ণনা লেখক খুব সুন্দরভাবে দেন। "আলো-অন্ধকারে যাই" বইটিতে ছোট ছোট বর্ণনাগুলো বেশ ভালো লেগেছে বিশেষ করে রায়হানের মনস্তাত্ত্বিক অবস্থা এবং তাকে ঘিরে থাকা চরিত্রদের প্রতি রায়হানের মনোভাব।
খুব ছোট একটা বই। গল্পটাও সাদামাটা হয়তো অনেকেই পড়ে বলবেন আরে এটা তো কমন প্লট। কিন্তু তবুও আমি বলবো একটা চেনা গল্পে নতুনত্ব দান করতে পারাটা লেখকের দক্ষতার পরিচয় দেয়। বইটা পড়তে পড়তে আমার গল্পটাকে খুব বাস্তব জীবনের ঘটনা বলে মনে হচ্ছিলো। লেখক যেভাবে মানুষের ভেতরকার মনস্তাত্ত্বিক টানাপোড়েন তুলে ধরেছেন তাতে উপলব্ধি করা যায় যে জীবনের এক পর্যায়ে মানুষ ভুল করে অনেক সিদ্ধান্ত নেয়। মনে হয় এমন সিদ্ধান্ত না নিলেই হতো! কিন্তু এভাবে ঠিক ভুলের বিচার করার দায়িত্ব কেবল সময়ের। সময়ের সাথেই মানুষ বুঝতে পারে তার সিদ্ধান্ত ভুল ছিল কি না।
রায়হানের মনকে ইশরাত কতটুকু বুঝতে পেরেছিল নাকি আরো বোঝা উচিত ছিলো সেই তর্কে যাবো না। তবে ইশরাতকে এখানে লেখক যেভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন তাতে মনে হয়েছে একদম নরমাল জীবনের পাশের বাসার মেয়েটি। যে হয়তো নীরবে সহ্য করে যাচ্ছে একা একা প্রিয় মানুষের অবহেলা। রায়হান ইশরাতকে বোধহয় চিনতে পেরেছিল ঘাত প্রতিঘাতের পরে। যে মানুষটি ভালোবেসে একদিন সবকিছু ছেড়েছুড়ে চলে এসেছিল তাকে রায়হান আদতে কী অবহেলা ছাড়া কিছু দিতে পেরেছে!
সবাইকে কাঠগড়ায় দাঁড় করানো যাবে কিন্তু একটা সম্পর্কে ফাটল ধরলে সেটা সারিয়ে তুলতে দুজনকেই চেষ্টা করতে হবে এটাও লেখক একটা মেসেজের মাধ্যমে কোথাও না কোথাও ঠিক বলেছেন। পুরোটা জুড়ে আমি বোর ফিল করিনি একদমই। তবে এত ছোট বই বলেই বোধহয় কিছু জায়গায় বর্ণনা একটু কমে শেষ করতে হয়েছে।
শরীফুল ভাইয়ের লেখার সাথে পরিচয় হাসবেন্ডের থেকে। আমার হাসবেন্ড প্রায়শই চিন্তিত হয় বইয়ের কোন চরিত্র আবার ম*রে যায়! কিন্তু এই বইয়ে কী হবে শেষটা সেটা আমি বলছি না। আপনারা পড়ে বলবেন শেষটা এর থেকে অন্যরকম হলে ঠিক হতো কী না।
🚘বইয়ের নাম : "আলো-অন্ধকারে যাই"
🚘লেখক : শরীফুল হাসান
ইশরাত যেন একটা সাধারণ অভ্যাসের মতো হয়ে গেছে রায়হানের কাছে। যাই হয়ে যাক ইশরাত আর কোথায় যাবে ভাবখানা এমন। ইশরাত সব বোঝে। ভেতরে ভেতরে আজকাল দুমড়ে মুচড়ে শেষ হয়ে যায়। রায়হানের মনে কী আছে আজকাল ইশরাতের বড্ড জানতে ইচ্ছে করে। এমন ভাবলেশহীন মানুষও কী সংসারে আছে! রায়হানের নিজের বাবা পর্যন্ত ছেলের ভবিষ্যত নিয়ে সন্দিহান। এই যে এত বছর হয়ে গেল তাদের একটা সন্তান নেই। রায়হান কখনো কী সেটা নিয়ে কোনো উপায় ভেবেছে? আজকাল বড় ক্লান্ত হয়ে গেছে ইশরাত এই সম্পর্ক টানতে টানতে।
"যদি এই মুঠো ভরা শিউলী ফুল
যদি এই খুলে রাখা কানের দুল
লক্ষীটি একবার ঘাড় নেড়ে
সম্মতি দাও আমি যাই ছেড়ে"
আর রায়হান? জীবনের স্রোতে ভেসে চলা এক কলমি লতায় পরিনত হয়েছে সে। যার জীবনে শুধু ব্যর্থতাই পরিলক্ষিত হয় বেশি। সে নিজেকে মনে করে একজন ব্যর্থ মানুষ। না সংসার জীবনে শান্তি পায় না অফিসের কোনো উন্নতি আছে। আগে অবশ্য খুব মনোযোগ দিয়ে কাজ করতো অফিসে। কিন্তু আজকাল কাজ করার ইচ্ছাটাই কমে গেছে। জীবন নিয়ে চিন্তা ভাবনার অবকাশ ফুরিয়ে গেছে। এখন যেন শুধু কোনোমতে বেঁচে থাকা। কোনো কিছুতেই আগ্ৰহ নেই রায়হানের। এমনকি বাড়ি ফিরে ইশরাতের সাথেও খুব একটা কথা বলতে ভালো লাগে না তার।
রায়হানের আবার একজন এমন কেউ আছে যাকে ঠিক সে ভালোবাসে না। আবার ছেড়ে দিতেও মন চায় না। যার কাছে গেলে মনটা অজান্তেই ভালো হয়ে যায় রায়হানের। মনের সব কথা সেই নারীর কাছে খুলে বলতে পারে। রায়হান সে কথা বোধহয় ইশরাতকেও বলেনি। জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলায় বোধহয় রায়হান নিজেই নিজেকে জড়িয়ে ফেলেছে।
"তুমি চিনলে না এখনো আমায়,
আজো চিঠি ভেজে চোখের নোনায়,
আমার তো বুক জুড়ে বা রুদের কণা শুধু,
অভিমান থাকবে কোথায়?"
শেষমেষ রায়হান ও ইশরাতের জীবন কোন দিকে মোড় নেবে সেটাই বোধহয় সময় বলে দেবে।
----------------পাঠ প্রতিক্রিয়া--------------
লেখক শরীফুল হাসানের লেখনীতে আমি ওনার বর্ণনা শৈলী ভীষণ পছন্দ করি। যেকোনো জনরাতেই আমি এটা দেখেছি পারিপার্শ্বিক অবস্থার বর্ণনা লেখক খুব সুন্দরভাবে দেন। "আলো-অন্ধকারে যাই" বইটিতে ছোট ছোট বর্ণনাগুলো বেশ ভালো লেগেছে বিশেষ করে রায়হানের মনস্তাত্ত্বিক অবস্থা এবং তাকে ঘিরে থাকা চরিত্রদের প্রতি রায়হানের মনোভাব।
খুব ছোট একটা বই। গল্পটাও সাদামাটা হয়তো অনেকেই পড়ে বলবেন আরে এটা তো কমন প্লট। কিন্তু তবুও আমি বলবো একটা চেনা গল্পে নতুনত্ব দান করতে পারাটা লেখকের দক্ষতার পরিচয় দেয়। বইটা পড়তে পড়তে আমার গল্পটাকে খুব বাস্তব জীবনের ঘটনা বলে মনে হচ্ছিলো। লেখক যেভাবে মানুষের ভেতরকার মনস্তাত্ত্বিক টানাপোড়েন তুলে ধরেছেন তাতে উপলব্ধি করা যায় যে জীবনের এক পর্যায়ে মানুষ ভুল করে অনেক সিদ্ধান্ত নেয়। মনে হয় এমন সিদ্ধান্ত না নিলেই হতো! কিন্তু এভাবে ঠিক ভুলের বিচার করার দায়িত্ব কেবল সময়ের। সময়ের সাথেই মানুষ বুঝতে পারে তার সিদ্ধান্ত ভুল ছিল কি না।
রায়হানের মনকে ইশরাত কতটুকু বুঝতে পেরেছিল নাকি আরো বোঝা উচিত ছিলো সেই তর্কে যাবো না। তবে ইশরাতকে এখানে লেখক যেভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন তাতে মনে হয়েছে একদম নরমাল জীবনের পাশের বাসার মেয়েটি। যে হয়তো নীরবে সহ্য করে যাচ্ছে একা একা প্রিয় মানুষের অবহেলা। রায়হান ইশরাতকে বোধহয় চিনতে পেরেছিল ঘাত প্রতিঘাতের পরে। যে মানুষটি ভালোবেসে একদিন সবকিছু ছেড়েছুড়ে চলে এসেছিল তাকে রায়হান আদতে কী অবহেলা ছাড়া কিছু দিতে পেরেছে!
সবাইকে কাঠগড়ায় দাঁড় করানো যাবে কিন্তু একটা সম্পর্কে ফাটল ধরলে সেটা সারিয়ে তুলতে দুজনকেই চেষ্টা করতে হবে এটাও লেখক একটা মেসেজের মাধ্যমে কোথাও না কোথাও ঠিক বলেছেন। পুরোটা জুড়ে আমি বোর ফিল করিনি একদমই। তবে এত ছোট বই বলেই বোধহয় কিছু জায়গায় বর্ণনা একটু কমে শেষ করতে হয়েছে।
শরীফুল ভাইয়ের লেখার সাথে পরিচয় হাসবেন্ডের থেকে। আমার হাসবেন্ড প্রায়শই চিন্তিত হয় বইয়ের কোন চরিত্র আবার ম*রে যায়! কিন্তু এই বইয়ে কী হবে শেষটা সেটা আমি বলছি না। আপনারা পড়ে বলবেন শেষটা এর থেকে অন্যরকম হলে ঠিক হতো কী না।
🚘বইয়ের নাম : "আলো-অন্ধকারে যাই"
🚘লেখক : শরীফুল হাসান
June 18, 2026
আলো অন্ধকারে যাই
----------------
শরীফুল হাসানের লেখার সবচেয়ে বড় শক্তি হলো তাঁর সাবলীল বর্ণনা। কোথাও অপ্রয়োজনীয় জটিলতা নেই, আবার সরলতার আড়ালেও গল্পের গভীরতা হারিয়ে যায়নি। বইটি পড়তে পড়তে বারবার মনে হয়েছে, লেখক খুব সহজ ভাষায় পাঠককে গল্পের ভেতরে টেনে নেওয়ার অসাধারণ ক্ষমতা রাখেন।
উপন্যাসটির আরেকটি উল্লেখযোগ্য দিক হলো এর লেখনশৈলী। অনেক জায়গায় হুমায়ূন আহমেদের লেখার ছায়া অনুভব করেছি—বিশেষ করে সংলাপ, চরিত্রের স্বাভাবিকতা এবং দৈনন্দিন জীবনের ছোট ছোট পর্যবেক্ষণে। তবে সেটি অনুকরণ নয়; বরং সেই পরিচিত আবহের মধ্যেও শরীফুল হাসান নিজের স্বতন্ত্রতা বজায় রেখেছেন।
গল্পের গতি, চরিত্র নির্মাণ এবং বর্ণনার সাবলীলতা আমাকে শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত ধরে রেখেছে যা এই উপন্যাসের সবচেয়ে বড় অর্জন —এটি পাঠককে গল্পের অংশ করে ফেলে।
বরাবরের মতোই শরীফুল হাসান আবারও প্রমাণ করেছেন কেন তিনি সমকালীন বাংলা সাহিত্যের জনপ্রিয় লেখকদের একজন। যারা সহজপাঠ্য অথচ আকর্ষণীয় গল্প খুঁজছেন, তাদের জন্য বইটি নিঃসন্দেহে একটি চমৎকার পছন্দ।
রেটিং: ৯/১০ 😁😁
----------------
শরীফুল হাসানের লেখার সবচেয়ে বড় শক্তি হলো তাঁর সাবলীল বর্ণনা। কোথাও অপ্রয়োজনীয় জটিলতা নেই, আবার সরলতার আড়ালেও গল্পের গভীরতা হারিয়ে যায়নি। বইটি পড়তে পড়তে বারবার মনে হয়েছে, লেখক খুব সহজ ভাষায় পাঠককে গল্পের ভেতরে টেনে নেওয়ার অসাধারণ ক্ষমতা রাখেন।
উপন্যাসটির আরেকটি উল্লেখযোগ্য দিক হলো এর লেখনশৈলী। অনেক জায়গায় হুমায়ূন আহমেদের লেখার ছায়া অনুভব করেছি—বিশেষ করে সংলাপ, চরিত্রের স্বাভাবিকতা এবং দৈনন্দিন জীবনের ছোট ছোট পর্যবেক্ষণে। তবে সেটি অনুকরণ নয়; বরং সেই পরিচিত আবহের মধ্যেও শরীফুল হাসান নিজের স্বতন্ত্রতা বজায় রেখেছেন।
গল্পের গতি, চরিত্র নির্মাণ এবং বর্ণনার সাবলীলতা আমাকে শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত ধরে রেখেছে যা এই উপন্যাসের সবচেয়ে বড় অর্জন —এটি পাঠককে গল্পের অংশ করে ফেলে।
বরাবরের মতোই শরীফুল হাসান আবারও প্রমাণ করেছেন কেন তিনি সমকালীন বাংলা সাহিত্যের জনপ্রিয় লেখকদের একজন। যারা সহজপাঠ্য অথচ আকর্ষণীয় গল্প খুঁজছেন, তাদের জন্য বইটি নিঃসন্দেহে একটি চমৎকার পছন্দ।
রেটিং: ৯/১০ 😁😁
March 10, 2026
আমাদের জীবন বহমান নদীর মতো। একূল, অকূলে ভেসে বেড়ানোই যার কাজ। কখনও মাঝ নদীতে উদ্দেশ্যহীনভাবে ভেসে থাকে জীবনের এক রূপ। আর এই রূপের ব্যর্থতার শেষ নেই। জীবনের প্রতিটি পদক্ষেপে কেউ ব্যর্থ হয় আজীবন। পারিবারিক জীবন কিংবা কর্মজীবনে, একজন ব্যর্থ স্বামী, বাবা বা ভাই অথবা কর্মজীবী হিসেবে ব্যর্থতার পাল্লা এতটা ভারী, এই ক্ষুদ্র জীবনে আর সেই ভার বহন করতে পারে না।
রায়হানের জীবনটা ঠিক এমনই। তার জীবনে ব্যর্থতার শেষ নেই। ছোট থেকে এই বার্ধক্যের সীমায় এসেও তার ব্যর্থতার লিস্ট যদি করা হয়, তাহলে এর সংখ্যাটা হবে বহু। হয়তো এই কারণে নির্লিপ্ত এক জীবন পার করছে সে। যেখানে স্ত্রী ইশরাতের সাথেও এক ধরনের দুরত্ব বাড়ছে তার। হয়তো জীবনের প্রতি তেমন কোনো আগ্রহ অবশিষ্ট নেই।
এমন এক স্বামীর সাথে কীভাবে আজীবন কাটানো যায়? বারো বছর দীর্ঘ সময়ে সন্তানের অভাব হয়তো সম্পর্কের এই সুতোকে আলগা করে ফেলেছে। তীব্র ভালোবাসার যে অনুরণন ছিল, তা এখন অনুপস্থিত। ইশরাতের মনে রায়হানের জন্য এখনো ভালোবাসা আছে। আছে আবেগের ছিটেফোঁটা। কিন্তু রায়হানের মনে সেই ভালোবাসা সম্ভবত অনেক আগেই মরে গিয়েছে। নাহলে কেন অন্য নারীর সঙ্গ খুঁজবে? কেন ইশরাত ফোন না দিলে সে ফোন দেয় না?
খুব অভিমান হয় ইশরাতের। এই সম্পর্ক টেনে নেওয়ার কোনো কারণ দেখে না। সব পিছুটান ফেলে তাই চলে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। কিন্তু তার কারণ বুঝতে পারে না রায়হান। তারও তীব্র রাগ, ক্ষোভ বা অভিমান ইশরাতকে খুঁজতে বাঁধা দেয়। যাকে তার বাবাও প্রবল ঘৃণা করে, তার স্ত্রী না থাকলেই বা কী! একার এই জীবনে চাকরিটা যখন হারিয়ে ফেলে তখন আর কোনো পিছুটান থাকে না।
আলো ও অন্ধকারের জীবন। যেখানে ঘুরপাক খায় একাধিক জীবন। নতুন স্বপ্ন বা দিনের শুরু যে সম্ভাবনা উঁকি দেয়, সেখানেও অতীত পিছন ছাড়ে না। ভালোবাসা বোধহয় এমনই, যেখানে সকল যুক্তি ও মনোবল হার মানে। কিন্তু রায়হান ও ইশরাতের যে বন্ধন আলগা হয়ে গিয়েছে, তার জোড়া লাগানোর উপায় কী?
লেখক শরীফুল হাসান পাঠকের একটা অভ্যাস খারাপ করে দিয়েছেন। তার বিশাল কলেবরের বইগুলোর অসাধারণত্বের কাছে ফিকে হয়ে যায় এমন সংক্ষিপ্ত কলেবরের বই। “আলো-অন্ধকারে যাই” উপন্যাসিকাটি আহামরি কোনো গল্প না। খুব সাধারণ এই গল্পটি আমাদের জীবনের কথা বলে। হয়তো সমাজে থাকা কিছু বন্ধনহীন বন্ধনকে তুলে আনে। মানুষের মনের অলিগলিতে থাকা তীব্র হতাশা, অভিমান, না বলা কথাগুলোর বয়ান দেয়। জীবন একটা সময়ে এসে এমন পরিস্থিতিতে এসে হয়তো পৌঁছে, আমরা দেখি না। জানি না। কিন্তু লেখক যেহেতু কলম তুলে নেন, জানানোর দায়িত্ব তারই।
তবে “আলো-অন্ধকারে যাই” বইটি আমার কাছে ভিন্ন কারণে ভালো লেগেছে। মানুষের জীবনের উত্থান পতন এখানে যেমন গুরুত্ব পেয়েছে, তেমন করে তীব্র ভালোবাসা এখানে লেখক দেখিয়েছেন ভিন্নভাবে। মানুষের রাগ, অভিমান, নির্লিপ্ততা, না বলা কথাগুলো যে এভাবেও প্রকাশ করা যায়! সবকিছু ছাপিয়ে ভালোবাসাটা হয়ে উঠে গুরুত্বপুর্ণ।
জীবনের এক পর্যায়ে মানুষ ভুল করে অনেক সিদ্ধান্ত নেয়। মনে হয় এমন সিদ্ধান্ত না নিতেই হতো! কিন্তু এভাবে ঠিক ভুলের বিচার করার দায়িত্ব কেবল সময়ের। সময়ের সাথেই মানুষ বুঝতে পারে তার সিদ্ধান্ত ভুল ছিল কি না। মানুষের মনস্তত্ত্ব যেভাবে কাজ করে, তাও যেন লেখক প্রকাশ করেছেন সাবলীলভাবে। এই যেমন, আমরা বিপরীতে থাকা মানুষের মনে কী চলছে তা বোঝার চেষ্টা না করে নিজের মতো করে আন্দাজ করে নিই। ফলে একটা দূরত্ব তৈরি হয়। যেখানে একটু কথা বলে সবকিছুর সমাধানের উপায় খুঁজে বের করা সম্ভব, সেখানে অভিমান ও রাগ যেন সবকিছু শেষ করে দেওয়ার ছুতো খুঁজে।
শরীফুল হাসানের লেখায় যে বিষয়টি আমার ভালো লাগে, তা হলো লেখকের বর্ণনা। আর চরিত্রগুলোকে যেভাবে তিনি নির্দিষ্ট আকার দেন। তাদের মনস্তত্ত্ব, স্বভাব, চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য এখানে ফুটে ওঠে। বইটিতে খুব বেশি চরিত্র নেই। তারপরও যে কয়টা আছে, তাদেরকে আপনি খুব ভালো মতোই অনুধাবন করতে পারবেন। ভাসাভাসা চরিত্র, কেবল আনার জন্যই আনা, এমন কাজ লেখক করেন খুব কম। প্রতিটি চরিত্রই কোনো না কোনোভাবে গল্পে ভূমিকা রাখে। এরপর প্রয়োজন ফুরিয়ে গেলে হারিয়ে যায়।
আর বর্ণনার দিক দিয়ে লেখক দুর্দান্ত। ছোটছোট বাক্যে প্রকৃতি বা অবস্থার বর্ণনা গল্পকে স্পষ্ট করে। একটা ইন্টারেস্টিং বিষয় আপনারা লেখকের লেখায় পাবেন। ধরুন এক অধ্যায়ে লেখক একটা ঘটনার কথা বললেন, কিন্তু এর ব্যাখ্যা দিলেন না। আপনার মনে হতে পারে গল্পের প্রয়োজনে হয়তো নিয়ে এসেছেন। এর বেশি কিছু না। কিন্তু লেখকের মাথায় এই ঘটনাক্রম। এবং সময় করে পরবর্তীতে ঠিকই তার ব্যাখ্যা তিনি দিতে উদ্যোগী হোন।
একটা উদাহরণ দিলে পরিষ্কার হবে। এই যেমন, রায়হান ও ইশরাতের সন্তান হয় না এই বিষয় তো লেখক শুরুতেই খোলসা করেছেন। আপনি বা আমি, একটা সহজ কারণ ভেবে নিবো। সাধারণত যে কারণ আমাদের কাছে খুবই স্বাভাবিক। কিন্তু দুইজনের সন্তান না হওয়ার কারণ লেখক যেভাবে দিয়েছেন, তা আমার বেশ মনে ধরেছে। আরেকটা বিষয় বলা যায়। রায়হানকে তার বাবা অপছন্দ করে। এই বিষয় আপনি ধরে নিতে পারেন, রায়হান ব্যর্থ। স্ত্রীর সাথে নির্লিপ্ত সম্পর্ক। কোনো কিছুতেই সে নিজের প্রতি সুবিচার করতে পারেনি। স্বভাবতই বাবার কাছে এই কারণে ছেলে অপছন্দের হতেই পারে। কিন্তু এর কারণ বেশ ইন্টারেস্টিং। আমার ভালো লেগেছে। এসব ছোট ছোট অপ্রত্যাশিত কারণ বা ব্যাখ্যা লেখকের লেখায় থাকে বলেই পড়ার আগ্রহ থাকে। কোনো কিছুই আগে ভেবে নেওয়া যায় না।
শরীফুল হাসানের লেখায় সাথে যারা পরিচিত, তারা জানেন যে লেখকের লেখায় বড় কোনো চরিত্রের ইতি ঘটবেই। এই চিন্তা মাথায় নিয়েই বই পড়তে হয়। এখানেও লেখক শেষের দৃশ্যে সেই মঞ্চ প্রস্তুত করেছেন। কিন্তু লেখক কী তার ঐতিহ্য ধরে রাখবে কি না, আপনাকে জানতে হবে বইটা পড়ার পর।
বইয়ের শেষটা আমার ভালো লেগেছে। ছোট বই হলেও অনেক ঘটনাবহুল উপন্যাস। মেদহীন, ঝরঝরে। সাবলীল লেখাতে বাহুল্য কম। কেবল যতটুকু প্রয়োজন। আর মানুষের মনস্তত্ত্বের টানাপোড়েন এখানে বেশ দৃশ্যমান হয়ে উঠেছে। যদিও খুব দুর্দান্ত বই বলা যায় না, তারপরও আমাদের এই যাপিত জীবনের গল্পে যেন বাস্তবতার ছোঁয়া রয়েছে। এখানে ভালোবাসার পাশাপাশি, একাধিক অনুভূতি মিশে থাকে; যার চক্রে মানুষ বরাবরই ঘুরপাক খায়।
পরিশেষে, বর্তমান সময়ে বিবাহ বিচ্ছেদ প্রকট আকার ধারণ করেছে। একটু মনের মিল না হলেই আলাদা হয়ে যাওয়া যেন স্বাভাবিক ঘটনা। কিছু ক্ষেত্রে হয়তো এর যথাযথ কারণ থাকে। কিন্তু অনেক ক্ষেত্রে ইগো, মানিয়ে না নিতে চাওয়া, নিজেদের জেদে অটল থাকার কারণে সত্যিকারের ভালোবাসার অপমৃত্যু ঘটে। সঙ্গীর সাথে সবকিছু ভাগাভাগি করা কিংবা সময় মতো আলোচনা করলে হয়তো কিছু সম্পর্কগুলো টিকে গেলেও যেতে পারে। কিন্তু….একটা সময় ধৈর্যচ্যুতি ঘটলে তখন মানুষের ভালোবাসাও হার মানে।
▪️বই : আলো-অন্ধকারে যাই
▪️লেখক : শরীফুল হাসান
▪️ব্যক্তিগত রেটিং : ৪.২/৫
রায়হানের জীবনটা ঠিক এমনই। তার জীবনে ব্যর্থতার শেষ নেই। ছোট থেকে এই বার্ধক্যের সীমায় এসেও তার ব্যর্থতার লিস্ট যদি করা হয়, তাহলে এর সংখ্যাটা হবে বহু। হয়তো এই কারণে নির্লিপ্ত এক জীবন পার করছে সে। যেখানে স্ত্রী ইশরাতের সাথেও এক ধরনের দুরত্ব বাড়ছে তার। হয়তো জীবনের প্রতি তেমন কোনো আগ্রহ অবশিষ্ট নেই।
এমন এক স্বামীর সাথে কীভাবে আজীবন কাটানো যায়? বারো বছর দীর্ঘ সময়ে সন্তানের অভাব হয়তো সম্পর্কের এই সুতোকে আলগা করে ফেলেছে। তীব্র ভালোবাসার যে অনুরণন ছিল, তা এখন অনুপস্থিত। ইশরাতের মনে রায়হানের জন্য এখনো ভালোবাসা আছে। আছে আবেগের ছিটেফোঁটা। কিন্তু রায়হানের মনে সেই ভালোবাসা সম্ভবত অনেক আগেই মরে গিয়েছে। নাহলে কেন অন্য নারীর সঙ্গ খুঁজবে? কেন ইশরাত ফোন না দিলে সে ফোন দেয় না?
খুব অভিমান হয় ইশরাতের। এই সম্পর্ক টেনে নেওয়ার কোনো কারণ দেখে না। সব পিছুটান ফেলে তাই চলে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। কিন্তু তার কারণ বুঝতে পারে না রায়হান। তারও তীব্র রাগ, ক্ষোভ বা অভিমান ইশরাতকে খুঁজতে বাঁধা দেয়। যাকে তার বাবাও প্রবল ঘৃণা করে, তার স্ত্রী না থাকলেই বা কী! একার এই জীবনে চাকরিটা যখন হারিয়ে ফেলে তখন আর কোনো পিছুটান থাকে না।
আলো ও অন্ধকারের জীবন। যেখানে ঘুরপাক খায় একাধিক জীবন। নতুন স্বপ্ন বা দিনের শুরু যে সম্ভাবনা উঁকি দেয়, সেখানেও অতীত পিছন ছাড়ে না। ভালোবাসা বোধহয় এমনই, যেখানে সকল যুক্তি ও মনোবল হার মানে। কিন্তু রায়হান ও ইশরাতের যে বন্ধন আলগা হয়ে গিয়েছে, তার জোড়া লাগানোর উপায় কী?
লেখক শরীফুল হাসান পাঠকের একটা অভ্যাস খারাপ করে দিয়েছেন। তার বিশাল কলেবরের বইগুলোর অসাধারণত্বের কাছে ফিকে হয়ে যায় এমন সংক্ষিপ্ত কলেবরের বই। “আলো-অন্ধকারে যাই” উপন্যাসিকাটি আহামরি কোনো গল্প না। খুব সাধারণ এই গল্পটি আমাদের জীবনের কথা বলে। হয়তো সমাজে থাকা কিছু বন্ধনহীন বন্ধনকে তুলে আনে। মানুষের মনের অলিগলিতে থাকা তীব্র হতাশা, অভিমান, না বলা কথাগুলোর বয়ান দেয়। জীবন একটা সময়ে এসে এমন পরিস্থিতিতে এসে হয়তো পৌঁছে, আমরা দেখি না। জানি না। কিন্তু লেখক যেহেতু কলম তুলে নেন, জানানোর দায়িত্ব তারই।
তবে “আলো-অন্ধকারে যাই” বইটি আমার কাছে ভিন্ন কারণে ভালো লেগেছে। মানুষের জীবনের উত্থান পতন এখানে যেমন গুরুত্ব পেয়েছে, তেমন করে তীব্র ভালোবাসা এখানে লেখক দেখিয়েছেন ভিন্নভাবে। মানুষের রাগ, অভিমান, নির্লিপ্ততা, না বলা কথাগুলো যে এভাবেও প্রকাশ করা যায়! সবকিছু ছাপিয়ে ভালোবাসাটা হয়ে উঠে গুরুত্বপুর্ণ।
জীবনের এক পর্যায়ে মানুষ ভুল করে অনেক সিদ্ধান্ত নেয়। মনে হয় এমন সিদ্ধান্ত না নিতেই হতো! কিন্তু এভাবে ঠিক ভুলের বিচার করার দায়িত্ব কেবল সময়ের। সময়ের সাথেই মানুষ বুঝতে পারে তার সিদ্ধান্ত ভুল ছিল কি না। মানুষের মনস্তত্ত্ব যেভাবে কাজ করে, তাও যেন লেখক প্রকাশ করেছেন সাবলীলভাবে। এই যেমন, আমরা বিপরীতে থাকা মানুষের মনে কী চলছে তা বোঝার চেষ্টা না করে নিজের মতো করে আন্দাজ করে নিই। ফলে একটা দূরত্ব তৈরি হয়। যেখানে একটু কথা বলে সবকিছুর সমাধানের উপায় খুঁজে বের করা সম্ভব, সেখানে অভিমান ও রাগ যেন সবকিছু শেষ করে দেওয়ার ছুতো খুঁজে।
শরীফুল হাসানের লেখায় যে বিষয়টি আমার ভালো লাগে, তা হলো লেখকের বর্ণনা। আর চরিত্রগুলোকে যেভাবে তিনি নির্দিষ্ট আকার দেন। তাদের মনস্তত্ত্ব, স্বভাব, চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য এখানে ফুটে ওঠে। বইটিতে খুব বেশি চরিত্র নেই। তারপরও যে কয়টা আছে, তাদেরকে আপনি খুব ভালো মতোই অনুধাবন করতে পারবেন। ভাসাভাসা চরিত্র, কেবল আনার জন্যই আনা, এমন কাজ লেখক করেন খুব কম। প্রতিটি চরিত্রই কোনো না কোনোভাবে গল্পে ভূমিকা রাখে। এরপর প্রয়োজন ফুরিয়ে গেলে হারিয়ে যায়।
আর বর্ণনার দিক দিয়ে লেখক দুর্দান্ত। ছোটছোট বাক্যে প্রকৃতি বা অবস্থার বর্ণনা গল্পকে স্পষ্ট করে। একটা ইন্টারেস্টিং বিষয় আপনারা লেখকের লেখায় পাবেন। ধরুন এক অধ্যায়ে লেখক একটা ঘটনার কথা বললেন, কিন্তু এর ব্যাখ্যা দিলেন না। আপনার মনে হতে পারে গল্পের প্রয়োজনে হয়তো নিয়ে এসেছেন। এর বেশি কিছু না। কিন্তু লেখকের মাথায় এই ঘটনাক্রম। এবং সময় করে পরবর্তীতে ঠিকই তার ব্যাখ্যা তিনি দিতে উদ্যোগী হোন।
একটা উদাহরণ দিলে পরিষ্কার হবে। এই যেমন, রায়হান ও ইশরাতের সন্তান হয় না এই বিষয় তো লেখক শুরুতেই খোলসা করেছেন। আপনি বা আমি, একটা সহজ কারণ ভেবে নিবো। সাধারণত যে কারণ আমাদের কাছে খুবই স্বাভাবিক। কিন্তু দুইজনের সন্তান না হওয়ার কারণ লেখক যেভাবে দিয়েছেন, তা আমার বেশ মনে ধরেছে। আরেকটা বিষয় বলা যায়। রায়হানকে তার বাবা অপছন্দ করে। এই বিষয় আপনি ধরে নিতে পারেন, রায়হান ব্যর্থ। স্ত্রীর সাথে নির্লিপ্ত সম্পর্ক। কোনো কিছুতেই সে নিজের প্রতি সুবিচার করতে পারেনি। স্বভাবতই বাবার কাছে এই কারণে ছেলে অপছন্দের হতেই পারে। কিন্তু এর কারণ বেশ ইন্টারেস্টিং। আমার ভালো লেগেছে। এসব ছোট ছোট অপ্রত্যাশিত কারণ বা ব্যাখ্যা লেখকের লেখায় থাকে বলেই পড়ার আগ্রহ থাকে। কোনো কিছুই আগে ভেবে নেওয়া যায় না।
শরীফুল হাসানের লেখায় সাথে যারা পরিচিত, তারা জানেন যে লেখকের লেখায় বড় কোনো চরিত্রের ইতি ঘটবেই। এই চিন্তা মাথায় নিয়েই বই পড়তে হয়। এখানেও লেখক শেষের দৃশ্যে সেই মঞ্চ প্রস্তুত করেছেন। কিন্তু লেখক কী তার ঐতিহ্য ধরে রাখবে কি না, আপনাকে জানতে হবে বইটা পড়ার পর।
বইয়ের শেষটা আমার ভালো লেগেছে। ছোট বই হলেও অনেক ঘটনাবহুল উপন্যাস। মেদহীন, ঝরঝরে। সাবলীল লেখাতে বাহুল্য কম। কেবল যতটুকু প্রয়োজন। আর মানুষের মনস্তত্ত্বের টানাপোড়েন এখানে বেশ দৃশ্যমান হয়ে উঠেছে। যদিও খুব দুর্দান্ত বই বলা যায় না, তারপরও আমাদের এই যাপিত জীবনের গল্পে যেন বাস্তবতার ছোঁয়া রয়েছে। এখানে ভালোবাসার পাশাপাশি, একাধিক অনুভূতি মিশে থাকে; যার চক্রে মানুষ বরাবরই ঘুরপাক খায়।
পরিশেষে, বর্তমান সময়ে বিবাহ বিচ্ছেদ প্রকট আকার ধারণ করেছে। একটু মনের মিল না হলেই আলাদা হয়ে যাওয়া যেন স্বাভাবিক ঘটনা। কিছু ক্ষেত্রে হয়তো এর যথাযথ কারণ থাকে। কিন্তু অনেক ক্ষেত্রে ইগো, মানিয়ে না নিতে চাওয়া, নিজেদের জেদে অটল থাকার কারণে সত্যিকারের ভালোবাসার অপমৃত্যু ঘটে। সঙ্গীর সাথে সবকিছু ভাগাভাগি করা কিংবা সময় মতো আলোচনা করলে হয়তো কিছু সম্পর্কগুলো টিকে গেলেও যেতে পারে। কিন্তু….একটা সময় ধৈর্যচ্যুতি ঘটলে তখন মানুষের ভালোবাসাও হার মানে।
▪️বই : আলো-অন্ধকারে যাই
▪️লেখক : শরীফুল হাসান
▪️ব্যক্তিগত রেটিং : ৪.২/৫
July 29, 2026
কেমন লাগবে যদি দেখেন আপনার স্বামী বা প্রিয় মানুষ আপনার ব্যাপারে অত্যন্ত উদাসীন , নিস্পৃহ?
এমনি এক উদাসীন রায়হানের কথা বলেছেন শরিফুল হাসান তার আলো অন্ধকারে যাই উপন্যাসিকায়। চলুন রায়হান সম্পর্কে আরেকটু জানি।
শরিফুল হাসানের আলো অন্ধকারে যাই উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র রায়হানকে সহজেই একজন ব্যর্থ, অচল কিংবা দিশাহীন মানুষ হিসেবে ভাবা যায়। জীবনের প্রতিটি মোড়ে সে হোঁচট খায়, কিন্তু সেই পতন থেকে উঠে দাঁড়ানোর তাগিদ তার ভেতরে খুব একটা দেখা যায় না। শৈশবে ভাইয়ের প্রাণের বিনিময়ে ফিরে পাওয়া জীবনও তাকে নতুন করে বাঁচার অনুপ্রেরণা দিতে পারেনি। জীবন সম্পর্কে এমন গভীর উদাসীনতা আমাদের সমাজে খুব অচেনা নয় এমন মানুষ আশপাশেই থাকে, কিন্তু খুব কমই তাদের আমরা খেয়াল করে থাকি।
উদাসীনতার বিপরীতে বেশিরভাগ সময়ই কাজ করে ব্যর্থতা। রায়হানের ভাইয়ের মৃত্যুর পর বাবার ভালোবাসা কমে যাওয়া, স্বাভাবিক নিয়মে বারবার বাবা হতে ব্যর্থ হওয়া, অক্লান্ত পরিশ্রম করা সত্ত্বেও কর্মস্থলে যোগ্য মর্যাদা না পাওয়া এসব কিছুই রায়হানকে জীবনবিমুখ ও ব্যর্থ মানুষ হতে সাহায্য করে।
উপন্যাসের নাম আলো অন্ধকারে যাই যেন রায়হানের জীবনযাত্রা, মানসিক টানাপোড়েন এবং সম্পর্কগুলোর ক্রমাগত বদলে যাওয়ার প্রতীক। তার নিষ্ক্রিয়তা ও সিদ্ধান্তহীনতার প্রভাব কেবল তার নিজের জীবনেই সীমাবদ্ধ থাকে না, তার কাছের মানুষগুলোকেও এর মূল্য দিতে হয়। বিশেষ করে তার স্ত্রী ইশরাত ও পিতা আব্দুল খালেক।
এত স্বল্প পরিসরে রায়হানের মতো জটিল এক চরিত্রকে বিশ্বাসযোগ্য করে তোলা সহজ নয়। তবু লেখক সেই চ্যালেঞ্জ বেশ দক্ষতার সঙ্গে সামলানোর চেষ্টা করেছেন। বিষণ্ণ আবহে এগিয়ে চলা এই উপন্যাসিকা শেষ কয়েকটি পৃষ্ঠায় এসে এমন এক মোড় নেয়, যা পাঠকের মনে নতুন করে প্রশ্ন জাগায় -
‘’অন্ধকারে হারিয়ে যাওয়া একজন মানুষ কি সত্যিই আবার আলোর পথে ফিরতে পারে? নাকি দ্বিতীয়বার সুযোগ পেলেও শেষ পর্যন্ত তাকে একই অনিবার্য পরিণতির দিকেই এগিয়ে যেতে হয়?’’
এমনি এক উদাসীন রায়হানের কথা বলেছেন শরিফুল হাসান তার আলো অন্ধকারে যাই উপন্যাসিকায়। চলুন রায়হান সম্পর্কে আরেকটু জানি।
শরিফুল হাসানের আলো অন্ধকারে যাই উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র রায়হানকে সহজেই একজন ব্যর্থ, অচল কিংবা দিশাহীন মানুষ হিসেবে ভাবা যায়। জীবনের প্রতিটি মোড়ে সে হোঁচট খায়, কিন্তু সেই পতন থেকে উঠে দাঁড়ানোর তাগিদ তার ভেতরে খুব একটা দেখা যায় না। শৈশবে ভাইয়ের প্রাণের বিনিময়ে ফিরে পাওয়া জীবনও তাকে নতুন করে বাঁচার অনুপ্রেরণা দিতে পারেনি। জীবন সম্পর্কে এমন গভীর উদাসীনতা আমাদের সমাজে খুব অচেনা নয় এমন মানুষ আশপাশেই থাকে, কিন্তু খুব কমই তাদের আমরা খেয়াল করে থাকি।
উদাসীনতার বিপরীতে বেশিরভাগ সময়ই কাজ করে ব্যর্থতা। রায়হানের ভাইয়ের মৃত্যুর পর বাবার ভালোবাসা কমে যাওয়া, স্বাভাবিক নিয়মে বারবার বাবা হতে ব্যর্থ হওয়া, অক্লান্ত পরিশ্রম করা সত্ত্বেও কর্মস্থলে যোগ্য মর্যাদা না পাওয়া এসব কিছুই রায়হানকে জীবনবিমুখ ও ব্যর্থ মানুষ হতে সাহায্য করে।
উপন্যাসের নাম আলো অন্ধকারে যাই যেন রায়হানের জীবনযাত্রা, মানসিক টানাপোড়েন এবং সম্পর্কগুলোর ক্রমাগত বদলে যাওয়ার প্রতীক। তার নিষ্ক্রিয়তা ও সিদ্ধান্তহীনতার প্রভাব কেবল তার নিজের জীবনেই সীমাবদ্ধ থাকে না, তার কাছের মানুষগুলোকেও এর মূল্য দিতে হয়। বিশেষ করে তার স্ত্রী ইশরাত ও পিতা আব্দুল খালেক।
এত স্বল্প পরিসরে রায়হানের মতো জটিল এক চরিত্রকে বিশ্বাসযোগ্য করে তোলা সহজ নয়। তবু লেখক সেই চ্যালেঞ্জ বেশ দক্ষতার সঙ্গে সামলানোর চেষ্টা করেছেন। বিষণ্ণ আবহে এগিয়ে চলা এই উপন্যাসিকা শেষ কয়েকটি পৃষ্ঠায় এসে এমন এক মোড় নেয়, যা পাঠকের মনে নতুন করে প্রশ্ন জাগায় -
‘’অন্ধকারে হারিয়ে যাওয়া একজন মানুষ কি সত্যিই আবার আলোর পথে ফিরতে পারে? নাকি দ্বিতীয়বার সুযোগ পেলেও শেষ পর্যন্ত তাকে একই অনিবার্য পরিণতির দিকেই এগিয়ে যেতে হয়?’’
April 5, 2026
#পাঠপ্রতিক্রিয়া
লেখক শরীফুল হাসান ভাই এর লেখনীর এক অনন্য শক্তি এখানেই~ অল্প কথায় গভীরতার বিস্তার। রায়হান চরিত্রটি কখনো ক্ষোভের, কখনো ঘৃণার জন্ম দেয়, আবার একই সঙ্গে অদ্ভুত এক মায়ায় আবদ্ধ করে ফেলে পাঠককে...
আক্ষরিক অর্থেই “আলো অন্ধকারে যাই”—রায়হানের জীবনের দোলাচল, তার সম্পর্কের ভাঙাগড়া আর অনিশ্চিত পথচলার এক গভীর প্রতিচ্ছবি। এক নিরাসক্ত, ব্যর্থতার ভারে নুয়ে পড়া মানুষের জীবনে যারা জড়িয়ে পড়ে, তারা যেন অদৃশ্যভাবে বহন করে তার দুর্ভাগ্যের অংশও। এই গল্পে রায়হানের স্ত্রী ইসরাত যেন ঠিক তেমনই এক চরিত্র~ যার জন্য পাঠকের মনে জন্ম নেয় নিঃশব্দ আফসোস, আর বারবার দাঁড়িয়ে যেতে হয় সিদ্ধান্তহীনতার প্রান্তসীমায়।
স্বল্প পরিসরের এই উপন্যাসিকায় রায়হানের মতো জটিল চরিত্রকে গড়ে তোলা নিঃসন্দেহে অতিব কঠিন একটা ব্যাপার, তবে লেখক শরীফুল হাসান ভাই তা সম্পন্ন করেছেন আশ্চর্য দক্ষতায়। বিষণ্নতার মৃদু স্রোতে ভেসে চলা এই উপাখ্যান শেষের কয়েকটি পৃষ্ঠায় এসে এমন এক বাঁকে পৌঁছায়, যেখানে জন্ম নেয় নতুন ধাঁচে গুটিকয়েক অন্তর্লীন জিজ্ঞাসা~
আলো থেকে অন্ধকারে হারিয়ে যাওয়া মানুষ কি আবার আলোয় ফিরতে পারে? নাকি দ্বিতীয় সুযোগও তাকে টেনে নিয়ে যায় সেই একই অনিবার্য পরিণতির দিকে?
মুদ্দা কথা, “আলো অন্ধকারে যাই” যেন জীবনের এক নির্মোহ আয়না! যেখানে ভেসে ওঠে মানুষের ভাঙাগড়া, অনিশ্চয়তার নির্মম প্রতিফলন এর এক অসামঞ্জস্য আলোকচিত্র...
লেখক শরীফুল হাসান ভাই এর লেখনীর এক অনন্য শক্তি এখানেই~ অল্প কথায় গভীরতার বিস্তার। রায়হান চরিত্রটি কখনো ক্ষোভের, কখনো ঘৃণার জন্ম দেয়, আবার একই সঙ্গে অদ্ভুত এক মায়ায় আবদ্ধ করে ফেলে পাঠককে...
আক্ষরিক অর্থেই “আলো অন্ধকারে যাই”—রায়হানের জীবনের দোলাচল, তার সম্পর্কের ভাঙাগড়া আর অনিশ্চিত পথচলার এক গভীর প্রতিচ্ছবি। এক নিরাসক্ত, ব্যর্থতার ভারে নুয়ে পড়া মানুষের জীবনে যারা জড়িয়ে পড়ে, তারা যেন অদৃশ্যভাবে বহন করে তার দুর্ভাগ্যের অংশও। এই গল্পে রায়হানের স্ত্রী ইসরাত যেন ঠিক তেমনই এক চরিত্র~ যার জন্য পাঠকের মনে জন্ম নেয় নিঃশব্দ আফসোস, আর বারবার দাঁড়িয়ে যেতে হয় সিদ্ধান্তহীনতার প্রান্তসীমায়।
স্বল্প পরিসরের এই উপন্যাসিকায় রায়হানের মতো জটিল চরিত্রকে গড়ে তোলা নিঃসন্দেহে অতিব কঠিন একটা ব্যাপার, তবে লেখক শরীফুল হাসান ভাই তা সম্পন্ন করেছেন আশ্চর্য দক্ষতায়। বিষণ্নতার মৃদু স্রোতে ভেসে চলা এই উপাখ্যান শেষের কয়েকটি পৃষ্ঠায় এসে এমন এক বাঁকে পৌঁছায়, যেখানে জন্ম নেয় নতুন ধাঁচে গুটিকয়েক অন্তর্লীন জিজ্ঞাসা~
আলো থেকে অন্ধকারে হারিয়ে যাওয়া মানুষ কি আবার আলোয় ফিরতে পারে? নাকি দ্বিতীয় সুযোগও তাকে টেনে নিয়ে যায় সেই একই অনিবার্য পরিণতির দিকে?
মুদ্দা কথা, “আলো অন্ধকারে যাই” যেন জীবনের এক নির্মোহ আয়না! যেখানে ভেসে ওঠে মানুষের ভাঙাগড়া, অনিশ্চয়তার নির্মম প্রতিফলন এর এক অসামঞ্জস্য আলোকচিত্র...
April 24, 2026
#বই_রিভিউ
আমার খুবই পছন্দের একজন লেখক ' শরিফুল হাসান"। প্রতি বইমেলায় উনার বইয়ের অপেক্ষায় থাকি। এবার বের হওয়া নতুন বই পড়লাম। খুবই সুন্দর ছিলো। যদিও ছোট বই।
ভালোবাসার মানুষ ভালোবাসলেও অনুভব করা যায় আবার না বাসলেও অনুভব করা যায়।
গল্পটা রায়হান আর ইশরাত এর। তাদের সুখের সংসার কিন্ত হুট করেই দুজনের কি যেন হয়ে যায়। কেমন যেন এলোমেলো হয়ে যায়। কি সেই কারণ?
সামাদের সমাজে হাকিমুদ্দিন এর মতো অনেক মানুষ আছে যাদের কাজই অন্যের ক্ষতি করা। যার শিকার হতে হয় রায়হান দের মতো ছেলেদের। নিয়াজের মতো জীবনসঙ্গী সবাই চায় কিন্ত ভালোবাসা সবার আগে। যার প্রতি ভালোবাসা নেই তার সাথে কিভাবে থাকা যাবে।
সবশেষে প্রাপ্তি - অপ্রাপ্তি মিলিয়েই আমাদের জীবন। সুন্দর আর বাস্তব এর কিছু চিত্র এই গল্পে ফুটে উঠেছে, সাথে সম্পর্কের টানাপোড়েন। ছোট বই তাই বেশি কিছু বলতে চাচ্ছি না। তবে পড়ার পর দারুণ লাগবে।
বই: আলো অন্ধকারে যাই
লেখক: শরীফুল হাসান
প্রকাশনী: অন্যধারা
মূল্য : ২০০ টাকা
আমার খুবই পছন্দের একজন লেখক ' শরিফুল হাসান"। প্রতি বইমেলায় উনার বইয়ের অপেক্ষায় থাকি। এবার বের হওয়া নতুন বই পড়লাম। খুবই সুন্দর ছিলো। যদিও ছোট বই।
ভালোবাসার মানুষ ভালোবাসলেও অনুভব করা যায় আবার না বাসলেও অনুভব করা যায়।
গল্পটা রায়হান আর ইশরাত এর। তাদের সুখের সংসার কিন্ত হুট করেই দুজনের কি যেন হয়ে যায়। কেমন যেন এলোমেলো হয়ে যায়। কি সেই কারণ?
সামাদের সমাজে হাকিমুদ্দিন এর মতো অনেক মানুষ আছে যাদের কাজই অন্যের ক্ষতি করা। যার শিকার হতে হয় রায়হান দের মতো ছেলেদের। নিয়াজের মতো জীবনসঙ্গী সবাই চায় কিন্ত ভালোবাসা সবার আগে। যার প্রতি ভালোবাসা নেই তার সাথে কিভাবে থাকা যাবে।
সবশেষে প্রাপ্তি - অপ্রাপ্তি মিলিয়েই আমাদের জীবন। সুন্দর আর বাস্তব এর কিছু চিত্র এই গল্পে ফুটে উঠেছে, সাথে সম্পর্কের টানাপোড়েন। ছোট বই তাই বেশি কিছু বলতে চাচ্ছি না। তবে পড়ার পর দারুণ লাগবে।
বই: আলো অন্ধকারে যাই
লেখক: শরীফুল হাসান
প্রকাশনী: অন্যধারা
মূল্য : ২০০ টাকা
Read
July 29, 2026রাফার ব্যপারটা সামনে আসার সাথে সাথেই বইটা থেকে মন উঠে গেসিল। মূল চরিত্র এমন সফট পরকিয়ায় জড়িত থাকলে ঐ চরিত্রের সুখ দুঃখ আমারে তেমন টানে না আর। তাও ছোটো বই দেখে শেষ করলাম। মাঝে রায়হান লোকটার মানস্মান নিয়ে টেনশনে পড়ে গেসিলাম। হাহা, রাফার ব্যপারটা ফাঁস হলে ইশরাতের ভালোবাসাও গায়েব হইয়া যাইগো...ভালো হইতো...
This entire review has been hidden because of spoilers.
July 19, 2026
[রেটিং: ৪.৫/৫]
শরীফুল হাসানের বই আর সুন্দর হবে না এটা কি হয়!
কক্ষনো না
একজন ব্যার্থ মানুষের গল্প কত্ত সুন্দর করে বর্ণনা করলেন উনি।
যতদিন যাচ্ছে শরীফুল হাসানের লেখনি ততই উন্নতি শিখরে উঠছে।
শরীফুল হাসানের বই আর সুন্দর হবে না এটা কি হয়!
কক্ষনো না
একজন ব্যার্থ মানুষের গল্প কত্ত সুন্দর করে বর্ণনা করলেন উনি।
যতদিন যাচ্ছে শরীফুল হাসানের লেখনি ততই উন্নতি শিখরে উঠছে।
May 1, 2026
আলো আর অন্ধকারের মাঝখানে একটা যায়গা আছে। তাকে গ্রে এরিয়া বলে।
March 11, 2026
অল্প লেখায় যে এতোটা গভীরতা আনা সম্ভব সেটা সম্ভবত শরীফুল হাসানের লেখাতেই সম্ভব।
মূল চরিত্রের উপর রাগ চলে আসে, ঘৃণাও। আবার মায়াও জন্মায়। ভাগ্যের উপর নির্ভর করে থাকলে কী হতে পারে তার চমৎকার উদাহরণ হচ্ছে 'আলো-অন্ধকারে যাই'।
মূল চরিত্রের উপর রাগ চলে আসে, ঘৃণাও। আবার মায়াও জন্মায়। ভাগ্যের উপর নির্ভর করে থাকলে কী হতে পারে তার চমৎকার উদাহরণ হচ্ছে 'আলো-অন্ধকারে যাই'।
April 3, 2026
বইটা শুরু করার পরেই কেমন একটা হুমায়ূন আহমেদ টাইপ ভাইব পাচ্ছিলাম।
ছোট বই।ভালোই।
ছোট বই।ভালোই।
July 10, 2026
এক বছর আগে পড়লে হয়তো গল্পটা অতটা ভালো লাগতো না। কিন্তু এখন পড়ার রুচি বদলেছে, নতুন জীবনে পা রেখেছি; তাই এই গল্পের অনেক কথা আর ঘটনা নিজের সাথে মেলাতে পারছি। মানুষ আসলে সেই গল্পটাই পছন্দ করে, যা সে নিজের জীবনের সাথে মেলাতে পারে।
কেন জানি মনে হচ্ছিল—ঝগড়াটা আমারই, কথাগুলোও আমারই। আসলে এভাবেই দুটো মানুষ দুই দিক থেকে, একজন আরেকজনের অগোচরে চেষ্টা চালিয়ে যায়। অথচ কারো চেষ্টা কেউ জানতে পারে না!
গল্পে রাফা চরিত্রটা আমাকে কিছুটা বিরক্ত করলেও, বাকি পুরো গল্পটা আমি দারুণ উপভোগ করেছি।
কেন জানি মনে হচ্ছিল—ঝগড়াটা আমারই, কথাগুলোও আমারই। আসলে এভাবেই দুটো মানুষ দুই দিক থেকে, একজন আরেকজনের অগোচরে চেষ্টা চালিয়ে যায়। অথচ কারো চেষ্টা কেউ জানতে পারে না!
গল্পে রাফা চরিত্রটা আমাকে কিছুটা বিরক্ত করলেও, বাকি পুরো গল্পটা আমি দারুণ উপভোগ করেছি।
April 5, 2026
📖 বই: আলো-অন্ধকারে যাই
✍️ লেখক: শরীফুল হাসান
“আলো-অন্ধকারে যাই” মূলত এমন এক মানুষের গল্প, যার জীবনকে সহজভাবে ব্যাখ্যা করা যায় না—না পুরোপুরি ব্যর্থ, না পুরোপুরি সফল। রায়হান নামের চরিত্রটি যেন জীবনের মাঝপথে কোথাও থেমে থাকা এক মানুষ, যে সামনে এগোনোর ইচ্ছা বা শক্তি—দুটোরই অভাবে ধীরে ধীরে নিজের ভেতরেই হারিয়ে যায়।
এই উপন্যাসের সবচেয়ে শক্তিশালী দিক হলো এর বাস্তবতা। এখানে বড় কোনো নাটকীয়তা নেই, নেই অতিরঞ্জিত ঘটনা। বরং খুব পরিচিত কিছু অনুভূতি—অভিমান, দূরত্ব, না বলা কথা, সম্পর্কের ক্লান্তি—এসবই ধীরে ধীরে গল্পটাকে গড়ে তোলে। বিশেষ করে রায়হান ও ইশরাতের সম্পর্কটা এমনভাবে ফুটে উঠেছে, যা পড়তে পড়তে অনেকের নিজের জীবনের প্রতিচ্ছবি মনে হতে পারে।
লেখক খুব সূক্ষ্মভাবে দেখিয়েছেন, কিভাবে একজন মানুষের ভেতরের শূন্যতা তার চারপাশের মানুষদের ওপরও প্রভাব ফেলে। রায়হানের নির্লিপ্ততা শুধু তার নিজের জীবনকেই নয়, ইশরাতের মতো একজন মানুষকেও ধীরে ধীরে ভেঙে দেয়। অথচ এই ভাঙনটা হঠাৎ করে আসে না—এটা তৈরি হয় সময়ের সাথে, ছোট ছোট অবহেলা আর অমীমাংসিত অনুভূতির স্তূপ জমে।
গল্পের গতি ধীর হলেও একঘেয়ে নয়। বরং এই ধীর গতিই চরিত্রগুলোর মানসিক অবস্থাকে বুঝতে সাহায্য করে। লেখকের ভাষা সহজ, কিন্তু গভীর; অল্প কথায় অনেক কিছু বলে ফেলতে পারেন তিনি। ছোট পরিসরের গল্প হওয়া সত্ত্বেও এর ভেতরে জীবনের নানা স্তর স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
সবচেয়ে বেশি ভাবায় গল্পের শেষ অংশ। সেখানে এসে মনে হয়, মানুষের জীবনে কি সত্যিই নতুন করে শুরু করার সুযোগ থাকে? নাকি কিছু সিদ্ধান্ত আর কিছু অভ্যাস আমাদের এমন জায়গায় নিয়ে যায়, যেখান থেকে ফিরে আসা আর সম্ভব হয় না?
সব মিলিয়ে, “আলো-অন্ধকারে যাই” কোনো বড় বা জটিল গল্প নয়—বরং খুব সাধারণ জীবনের এক অসাধারণ উপস্থাপন। যারা সম্পর্ক, একাকিত্ব আর মানুষের ভেতরের নীরব ভাঙন নিয়ে লেখা পড়তে পছন্দ করেন, তাদের জন্য এই বইটি বেশ চিন্তার খোরাক জোগাবে।
✍️ লেখক: শরীফুল হাসান
“আলো-অন্ধকারে যাই” মূলত এমন এক মানুষের গল্প, যার জীবনকে সহজভাবে ব্যাখ্যা করা যায় না—না পুরোপুরি ব্যর্থ, না পুরোপুরি সফল। রায়হান নামের চরিত্রটি যেন জীবনের মাঝপথে কোথাও থেমে থাকা এক মানুষ, যে সামনে এগোনোর ইচ্ছা বা শক্তি—দুটোরই অভাবে ধীরে ধীরে নিজের ভেতরেই হারিয়ে যায়।
এই উপন্যাসের সবচেয়ে শক্তিশালী দিক হলো এর বাস্তবতা। এখানে বড় কোনো নাটকীয়তা নেই, নেই অতিরঞ্জিত ঘটনা। বরং খুব পরিচিত কিছু অনুভূতি—অভিমান, দূরত্ব, না বলা কথা, সম্পর্কের ক্লান্তি—এসবই ধীরে ধীরে গল্পটাকে গড়ে তোলে। বিশেষ করে রায়হান ও ইশরাতের সম্পর্কটা এমনভাবে ফুটে উঠেছে, যা পড়তে পড়তে অনেকের নিজের জীবনের প্রতিচ্ছবি মনে হতে পারে।
লেখক খুব সূক্ষ্মভাবে দেখিয়েছেন, কিভাবে একজন মানুষের ভেতরের শূন্যতা তার চারপাশের মানুষদের ওপরও প্রভাব ফেলে। রায়হানের নির্লিপ্ততা শুধু তার নিজের জীবনকেই নয়, ইশরাতের মতো একজন মানুষকেও ধীরে ধীরে ভেঙে দেয়। অথচ এই ভাঙনটা হঠাৎ করে আসে না—এটা তৈরি হয় সময়ের সাথে, ছোট ছোট অবহেলা আর অমীমাংসিত অনুভূতির স্তূপ জমে।
গল্পের গতি ধীর হলেও একঘেয়ে নয়। বরং এই ধীর গতিই চরিত্রগুলোর মানসিক অবস্থাকে বুঝতে সাহায্য করে। লেখকের ভাষা সহজ, কিন্তু গভীর; অল্প কথায় অনেক কিছু বলে ফেলতে পারেন তিনি। ছোট পরিসরের গল্প হওয়া সত্ত্বেও এর ভেতরে জীবনের নানা স্তর স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
সবচেয়ে বেশি ভাবায় গল্পের শেষ অংশ। সেখানে এসে মনে হয়, মানুষের জীবনে কি সত্যিই নতুন করে শুরু করার সুযোগ থাকে? নাকি কিছু সিদ্ধান্ত আর কিছু অভ্যাস আমাদের এমন জায়গায় নিয়ে যায়, যেখান থেকে ফিরে আসা আর সম্ভব হয় না?
সব মিলিয়ে, “আলো-অন্ধকারে যাই” কোনো বড় বা জটিল গল্প নয়—বরং খুব সাধারণ জীবনের এক অসাধারণ উপস্থাপন। যারা সম্পর্ক, একাকিত্ব আর মানুষের ভেতরের নীরব ভাঙন নিয়ে লেখা পড়তে পছন্দ করেন, তাদের জন্য এই বইটি বেশ চিন্তার খোরাক জোগাবে।
August 24, 2026
আলোয় থাকার চেষ্টায় সারাজীবন পার হয়ে গেছে। কিন্তু জীবনে আলো আসেনি। অন্ধকারই তাকে ডেকেছে বারবার। সেই ডাকে সাড়া দেয়ার সময় হয়েছে।
গল্পের মূল চরিত্র রায়হান—যে বেশ ছন্নছাড়া, বেপরোয়া স্বভাবের। যার কোনকিছুতেই কোনও যায় আসে না, তার কোনও বিষয়েই কোনও ইচ্ছে কিংবা উচ্ছ্বাস নেই। তাকে নিয়ে খুবই বিরক্ত তার বাবা আব্দুল খালেক, তিনি সেই কবে রায়হানকে বলেছিলেন “তুই জীবনে কিছু হবি না, কিচ্ছু না, আর রায়হান কথাতাকে মনে-প্রাণে ধারণ করে আছে। সে জীবনে কিছু হয়নি।
অন্যদিকে আরেকটি চরিত্র ইশরাত, সম্পর্কে রায়হানের স্ত্রী।
বাবা-মায়ের কথা উপেক্ষা করে ভালোবেসে বিয়ে করেছিল রায়হানকে। তবে ইশরাত লক্ষ করছে ইদানিং রায়হানের মধ্যে বিস্তর পরিবর্তন এসেছে। কেন এই পরিবর্তন? বাচ্চা হারানোর শোক নাকি অন্যকিছু যা ইশরাতের সহ্য করার উর্ধ্বে?
এর মধ্যেই আবার রায়হানের চাকরি চলে যায়, একদিকে বাবা অন্যদিকে ইশরাত, কি করবে রায়হান? জীবনের লড়াই কি শেষ পর্যন্ত চালিয়ে যেতে পারবে, নাকি তীরে এসে তরি ডুববে?
ইশরাতই বা শেষ পর্যন্ত কী সিদ্ধান্ত নেবে তাদের এই ছন্নছাড়া দাম্পত্য জীবনের??
গল্পে আরও বেশ কিছু চরিত্র রয়েছে যার মধ্যে একজন, নিয়াজ কামাল, সম্পর্কে ইশরাতের খালাতো ভাই। যিনি ইশরাতের জীবনে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন, সেটি কি হতে পারে?
এই আবহেই গল্পটি এগোতে থাকে।
বেশ ছোট একটি গল্প, এক বসাতেই শেষ করার মতো। বইটি পড়া শেষ করেছি তবে চরিত্রগুলোর জন্য একধরনের মায়া তৈরি হয়েছে। গল্পটি ছোট একটি পরিবারের, ভালোবাসার, সমাজের কিংবা মায়ায় জড়ানো কিছু মানুষের।
লেখকের লেখনশৈলী বরাবররের মতোই ঝরঝরে এবং গোছানো। উনার প্রতিটি বই-ই পাঠককে প্রথম থেকে শেষ অব্দি ধরে রাখার সক্ষমতা রাখে।
পরিশেষে, একটা মানুষের সব লাগবে কেন? অপূর্ণতা থাকুক না। জীবনের সার্থকতা হয়তো অপূর্ণতাতে। কিছু কিছু সুন্দর মুহূর্ত তো আর টাকা দিয়ে কেনা যায় না।
তাই নাহ!
বই : আলো অন্ধকারে যাই
লেখক :শরীফুল হাসান
গল্পের মূল চরিত্র রায়হান—যে বেশ ছন্নছাড়া, বেপরোয়া স্বভাবের। যার কোনকিছুতেই কোনও যায় আসে না, তার কোনও বিষয়েই কোনও ইচ্ছে কিংবা উচ্ছ্বাস নেই। তাকে নিয়ে খুবই বিরক্ত তার বাবা আব্দুল খালেক, তিনি সেই কবে রায়হানকে বলেছিলেন “তুই জীবনে কিছু হবি না, কিচ্ছু না, আর রায়হান কথাতাকে মনে-প্রাণে ধারণ করে আছে। সে জীবনে কিছু হয়নি।
অন্যদিকে আরেকটি চরিত্র ইশরাত, সম্পর্কে রায়হানের স্ত্রী।
বাবা-মায়ের কথা উপেক্ষা করে ভালোবেসে বিয়ে করেছিল রায়হানকে। তবে ইশরাত লক্ষ করছে ইদানিং রায়হানের মধ্যে বিস্তর পরিবর্তন এসেছে। কেন এই পরিবর্তন? বাচ্চা হারানোর শোক নাকি অন্যকিছু যা ইশরাতের সহ্য করার উর্ধ্বে?
এর মধ্যেই আবার রায়হানের চাকরি চলে যায়, একদিকে বাবা অন্যদিকে ইশরাত, কি করবে রায়হান? জীবনের লড়াই কি শেষ পর্যন্ত চালিয়ে যেতে পারবে, নাকি তীরে এসে তরি ডুববে?
ইশরাতই বা শেষ পর্যন্ত কী সিদ্ধান্ত নেবে তাদের এই ছন্নছাড়া দাম্পত্য জীবনের??
গল্পে আরও বেশ কিছু চরিত্র রয়েছে যার মধ্যে একজন, নিয়াজ কামাল, সম্পর্কে ইশরাতের খালাতো ভাই। যিনি ইশরাতের জীবনে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন, সেটি কি হতে পারে?
এই আবহেই গল্পটি এগোতে থাকে।
বেশ ছোট একটি গল্প, এক বসাতেই শেষ করার মতো। বইটি পড়া শেষ করেছি তবে চরিত্রগুলোর জন্য একধরনের মায়া তৈরি হয়েছে। গল্পটি ছোট একটি পরিবারের, ভালোবাসার, সমাজের কিংবা মায়ায় জড়ানো কিছু মানুষের।
লেখকের লেখনশৈলী বরাবররের মতোই ঝরঝরে এবং গোছানো। উনার প্রতিটি বই-ই পাঠককে প্রথম থেকে শেষ অব্দি ধরে রাখার সক্ষমতা রাখে।
পরিশেষে, একটা মানুষের সব লাগবে কেন? অপূর্ণতা থাকুক না। জীবনের সার্থকতা হয়তো অপূর্ণতাতে। কিছু কিছু সুন্দর মুহূর্ত তো আর টাকা দিয়ে কেনা যায় না।
তাই নাহ!
বই : আলো অন্ধকারে যাই
লেখক :শরীফুল হাসান
September 17, 2026
‘আলো অন্ধকারে যাই’ উপন্যাসের মূল চরিত্র রায়হান একজন চরম ব্যর্থ ও অচল মানুষ। জীবনে বারবার হোঁচট খেলেও ঘুরে দাঁড়ানোর কোনো ইচ্ছা তার মধ্যে দেখা যায় না। শৈশবে অন্য একটি প্রাণের বিনিময়ে জীবন পেয়েও সে জীবনের প্রতি পুরোপুরি উদাসীন। চারপাশে এমন নিরাসক্ত মানুষ হয়তো অহরহই দেখা যায়, যাদের কেউ আলাদা করে খেয়াল করে না।
উপন্যাসের নামটি আক্ষরিক অর্থেই রায়হানের পথচলা ও সম্পর্কের ভাঙা-গড়াকে নির্দেশ করে। এমন একজন বিষণ্ণ ও অকর্মণ্য মানুষের কারণে তার স্ত্রী ইশরাতকে প্রতিনিয়ত দুর্ভোগ পোহাতে হয়। ইশরাতের এই টানাপোড়েন দেখে পাঠকের মনে কেবল আফসোসই জন্মায়।
ছোট্ট পরিসরে হলেও রায়হানের মতো একটি জটিল চরিত্রকে লেখক বেশ সফলভাবেই ফুটিয়ে তুলেছেন। গল্পের শেষ দৃশ্যে এসে একটি নতুন প্রশ্ন জাগে, আলো থেকে অন্ধকারে তলিয়ে যাওয়া কোনো মানুষ কি আবার আলোতে ফেরার যোগ্যতা রাখে? নাকি সুযোগ পেলে সে আবারও ধ্বংসের দিকেই ধেয়ে যায়?
উপন্যাসের নামটি আক্ষরিক অর্থেই রায়হানের পথচলা ও সম্পর্কের ভাঙা-গড়াকে নির্দেশ করে। এমন একজন বিষণ্ণ ও অকর্মণ্য মানুষের কারণে তার স্ত্রী ইশরাতকে প্রতিনিয়ত দুর্ভোগ পোহাতে হয়। ইশরাতের এই টানাপোড়েন দেখে পাঠকের মনে কেবল আফসোসই জন্মায়।
ছোট্ট পরিসরে হলেও রায়হানের মতো একটি জটিল চরিত্রকে লেখক বেশ সফলভাবেই ফুটিয়ে তুলেছেন। গল্পের শেষ দৃশ্যে এসে একটি নতুন প্রশ্ন জাগে, আলো থেকে অন্ধকারে তলিয়ে যাওয়া কোনো মানুষ কি আবার আলোতে ফেরার যোগ্যতা রাখে? নাকি সুযোগ পেলে সে আবারও ধ্বংসের দিকেই ধেয়ে যায়?
March 17, 2026
ভালো লেগেছে। ছোটো সুন্দর একটা উপন্যাস। রেকমেন্ডেড।
August 11, 2026
পড়ে বুকের ভেতর একটা মোচড় অনুভূত হল
Displaying 1 - 24 of 24 reviews






















