"মিথ্যে প্রধানত দু'রকম। সাদা আর কালো। নিজের সার্থসিদ্ধির জন্য কিংবা অন্যের ক্ষতি করবার জন্যই কালো মিথ্যের ব্যবহার। আর সাদা মিথ্যে নিয়ে কৌতুক হয়, কখনো কখনো পরের উপকারেও লেগে যায়। আমি সাদা, কালো, খয়েরি, বাদামি, বেগুনি ইত্যাদি সব রকম মিথ্যেতেই ওস্তাদ। তবে যাদের মনটা সাদা, তাদের সামনে কখনো কালো মিথ্যা বলি না। এইটুকু মাত্র নীতিবোধ আমার আছে।"
সেই কবে পড়েছিলাম!প্রায় কিছুই মনে ছিলো না। সুনীলের লেখার ভালো খারাপ দুটো দিকই এই লেখাটায় উপস্থিত। কিন্তু নিরুদ্দেশের দেশে কার না যেতে মন চায়! এমন একটা জায়গা তো আমারও থাকতে পারতো।
নীললোহিতের ইচ্ছা হয় সবকিছু ছেড়েছুড়ে একদিন সে চলে যাবে নিরুদ্দেশের দেশে, দিকশূন্যপুরে।
এমন ইচ্ছা শোনার পর থেকেই নীলুর প্রতি একটা আলাদা আগ্রহ জন্মে। এই আগ্রহ তৈরির মাধ্যমে পাঠকদেরকে অনিশ্চিত ভাবনায় বৃত্তবন্দী করে লেখক। কিন্তু নীলুর চরিত্রটি আমার কাছে পরিচিত ঠেকে। বাঙ্গালি কিশোরদের মনে হিমু হইতে চাওয়ার একটা সুপ্ত বাসনা আছে। সেই হিমুর সাথে সে যেই চরিত্রে মিল খুঁজে পায় তাকেই হিমু ভাবতে থাকে। আমারও তাই হয়েছে। মনে হয়েছে নীললোহিত ছদ্মনাম করে হিমু কথা বলছে তার বন্দনাদির সাথে।
নীলু একদিন দিকশূন্যপুরে চলে যায় যেখানে বর্তমান সভ্যতার বাইরে আলাদা আরেকটি সমাজ গড়ে উঠেছে। দিকশূন্যপুরে কোন হানাহানি নেই, হিংসা নেই, কোন জবাবদিহিতা নেই, নেই কোন পিছুটান। অথবা হয়ত পিছুটান আছে কিন্তু এখানের বাসিন্দারা সেটিকে আর অনুভব করতে চায় না। যারা গ্লানিমাখা জীবন ছেড়ে নিজের মত করে অন্তত বাঁচতে চেয়েছিল তাদের পিছুটান রেখে লাভ কী অত! দিকশূন্যপুরের বাসিন্দারা এখানে সুখী আছে। নীলু সেই দিকশূন্যপুরে আসে তার বন্দনাদিকে দেখতে। বন্দনাদির সহচার্য তার ভাল লাগে। তাছাড়া এখানের মানুষগুলো তার ভারী আপন হয়ে গেছে। সবাই চায় সে এখানেই থেকে যাক। তারও ইচ্ছা করে এখানে থাকতে।
নীললোহিত ছদ্মনামে সুনীল গাঙ্গুলি এমন একটি যুবক চরিত্র তৈরি করেছে যার চাকরির বয়েস চলছে কিন্তু তার চাকরি করতে চাওয়ায় এতটুকু মন নেই। নীললোহিত বর্তমানের বেকার যুবকদের মাঝে বাস করে। তার মনে কোন হতাশা নেই উল্টো সে নিজের মত করে জীবন কাটাতে চায়।