সবার মনে আতঙ্ক, চোখে সন্দেহ আর ভয়। গ্রাম থেকে অনেক দূরে তিনজন মানুষকে টেনে নিয়ে এসে এভাবে মেরে ফেলে রেখেছে! মানুষের কাজ? হতেই পারে না। কেউ বিশ্বাস করে না এই কাজ মানুষ করতে পারে। মৃতদের গলা মোচড়ানো ছিল। চিবিয়ে রেখে গেছে দেহ, হাত পায়ের আঙুল বলতে কিছুই নেই। পেটের ভেতর অসীম শূন্যতা, যেন ওখানে কখনোই কিছু ছিল না। গাঁয়ের মানুষ…কদিন আগেও দেখেছে, একইরকম ঘটনা। কে করেছে এই কাজ? কেউ জানে না। নাহ, ভুল। জানে একজন!
প্রকৃত রেটিং সাড়ে তিন। অন্ধকার জগতের পৈশাচিক শক্তি হাঙ, একশ বছরের ব্যবধানে অজপাড়াগাঁয়ে আর ঢাকার বুকে ঘটে চলা দুটি সমান্তরাল কাহিনি, প্রেম, যৌনতা, অর্থ, লোভ, বিভৎসতা সব মিলিয়ে টানটান কাহিনি। মাঝেমধ্যে কিছু রিপিটিটিভ অসংলগ্ন ডায়লগ না থাকলে দুর্দান্ত হত।
রিভিউটা শুরু করি প্রচ্ছদের সুনাম দিয়ে৷ চমৎকার প্রচ্ছদ। যারা হরর জনরার ভক্ত তারা প্রচ্ছদ দেখেই এই বইটা কিনতে বাধ্য হবে বলে আমার বিশ্বাস। আমি নিজেও হরর জনরার বিশাল ভক্ত। প্রচ্ছদে ভরসা রেখেই কিনেছি বইখানা। 'হাঙ' নিয়ে আমার ব্যাপক আশা ছিলো। কিন্তু যতোটা সামনে এগিয়ে গিয়েছি, ততোই আগ্রহটা কমে গেছে।
বইটার কেন্দ্রীয় চরিত্র মনিকা। মায়ের সাথে বনিবনা নেই, শুধু মা কেনো, বাবা-মায়ের পরিবারের কারো সাথেই কোনো মিল নেই। একা একা থাকে। দেখতে অপরূপা। সেই রূপের জোরেই টাকার অভাব হয় না। সে একা একটা ফ্ল্যাটে ভাড়া থাকে। ফ্ল্যাটে থাকা নিয়ে বাড়িওয়ালা সেরকম কোনো নিয়মনীতি জারি করেন না। তবে, বাড়িওয়ালা কর্তৃক নিষেধ ছিলো যেনো কোনোভাবেই ছাদে না যাওয়া হয়। নিষিদ্ধ জিনিসের প্রতি মানুষের আগ্রহ বেশি। সেই আগ্রহের জোরেই চুপিসারে একদিন মনিকা ছাদে যায়। সে ছাদে গিয়ে একটা মূর্তি পায়। এইটা সেই মূর্তি যা তাকে জুড়ে দেয় একশো বছর আগের জমিরের পরিবারের সাথে। এ এক অভিশপ্ত মূর্তি। যাতে মনিকার প্রাণনাশও হতে পারে। তারপর কি হয়? মনিকা মূর্তির অভিশাপ থেকে বাঁচতে পারবে তো? জমিরের পরিবারের সাথেই বা কি হয়েছিলো? জানতে হলে পড়ে ফেলুন 'হাঙ'।
বইয়ে ভয় তৈরি করার চেষ্টা আছে। আবহও ভালোই বানিয়েছেন মনোয়ারুল ইসলাম। কিন্তু কিছুদূর যাবার পরে সেটা আর কাজ করে না। মাঝপথে গিয়ে রীতিমতো বিরক্ত লাগা শুরু হয়েছিলো। আর শেষে এসে তো একদমই বাজে অনুভূতি।
লেখকের আইডিয়া ভালো ছিলো, কিন্তু কেনো জানি কাজে লাগাতে পারলো না। খাপছাড়া কাজ বলেই মনে হয়েছে আমার কাছে।
সবমিলিয়ে, ভালো লাগেনি। মনোয়ারুল ভাইয়ের লেখনশৈলী নিয়ে কোনো অভিযোগ নেই। চমৎকার। তবে, প্লট ভালো লাগেনি। আরো ভালো কিছু আশা করেছিলাম।
মনোয়ারুল ইসলামের গদ্যশৈলী ভালো। তবে উনার প্রথম দিককার বইগুলোর (বকুল ফুল, বিড়ালাক্ষী, নয়নতারা পড়া হয়েছিল প্রকাশের প্রায় সাথে সাথেই, পরের বইগুলো পড়া হয়নি) চেয়ে লেখার মান তুলনামূলক খারাপ হয়েছে মনে হলো। তারপরও 'হাঙ' পড়তে বেশ লাগছিল, কিন্তু পড়া শেষে মন-মেজাজ বিগড়ে গেল। মনে হলো (এখনও হচ্ছে) এতগুলো সময় আমি কেন নষ্ট করলাম!
পড়লাম মনোয়ার ভাইয়ের নতুন বই “হাঙ”। দুইটি টাইমলাইনে এগিয়ে যাওয়া এই ধরনের গল্প ইদানীং বেশ লেখা হচ্ছে, পড়াও হচ্ছে। তবে মূল বিষয় হচ্ছে এই দুই টাইমলাইনকে একই সুতায় সুন্দরভাবে গেঁথে ফেলা। সেটা খুব কম লেখকই ভালোভাবে করতে পারেন। সেই জায়গা থেকে বলতে হয়, মনোয়ার ভাই এই বইটিতে কাজটা বেশ ভালোভাবেই করেছেন।
বইটি যদি শুধুমাত্র জমিরের পরিবার কিংবা তার বংশের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকত, তাহলে হয়তো তেমন কোনো প্রশ্ন উঠত না। কিন্তু পাঠক হিসেবে আমার মনে একটা প্রশ্ন থেকেই গেছে, জমির যে জিনিসটা পেল, সেটা সে কীভাবে পেল তা বোঝা গেলেও, সেই জিনিসটার নিজের ইতিহাসটা কী? সেই জায়গাটা আমার কাছে কিছুটা ঝাপসাই রয়ে গেছে।
আমি বরাবরই বলি, আমার শহুরে গল্প ভালো লাগে এবং মডার্ন হরর আমার বেশ পছন্দের একটি জনরা। সেই দিক থেকে বলতে গেলে বইটি আমার ভালো লেগেছে। বিশেষ করে ১০০ বছর আগের সময়ের সঙ্গে বর্তমানকে যেভাবে কানেক্ট করা হয়েছে, সেটাও বেশ ভালো লেগেছে।
তবে ব্যক্তিগতভাবে এটাকে মনোয়ার ভাইয়ের ওয়ান অব দ্য বেস্ট ওয়ার্ক বলতে পারছি না। (৩/৫)
শুরুটা হয়েছিলো যতটা আশা নিয়ে, শেষ হলো ততটাই হতাশা দিয়ে। এন্ডিং একেবারেই ভালো লাগলো না। লেখক যতটা সময় নিয়ে মনিকার কার্যকলাপ এবং জীবন সাজিয়েছেন, তার সিকিভাগ যদি এন্ডিং এ দিতেন তবে হয়তো বেটার কিছু হতো।
লেখকের লেখনশৈলী ভালো, ক্যারেক্টার বিল্ডআপও ভালো তবে এ বইয়ে আমার মনে হয়েছে সেটা অনুপস্থিত৷ একটা ক্যারেক্টারেই লেখক সময় দিয়েন - "মনিকা"। কিন্তু সেটাও রিপিটেটিভ এবং ক্ষেত্রবিশেষে বিরক্তিকর মনে হয়েছে। এটা শুধুমাত্র চরিত্রের " action" এর জন্য আমি বলবো না। এটা অনেকাংশেই হয়েছে execution এর জন্য।
শুরুতে যতটাই আগ্রহ নিয়ে শেষ করেছিলাম, মাঝপথে এসে সেই আগ্রহ উবে গেছে। এক পর্যায়ে জোর করে আগাচ্ছিলাম।একশ বছর পূর্বে গ্রামের অংশটুকুতে বেশ সম্ভাবনা ছিলো। সেটাও মনে হলো একরকম গোঁজামিল দিয়ে শেষ করা হয়েছে।
সবমিলিয়ে বইটার সম্ভাবনা ছিলো। একটা ভালো লভক্রফটিয়ান এবং বডি হরর হতে পারতো। কিন্তু সেটা হয়ে ওঠে নি শেষমেশ।
এই বই নিয়ে আমার প্রথম ও সবচেয়ে বড় সমস্যা হচ্ছে ভয় না পাওয়া। রাতের অন্ধকারে পড়লাম, বাসায় একা থাকাকালীন পড়লাম—এমনকি জোর করে ভয় পাওয়ার জন্য রাতে দরজা-জানালা খোলা রেখেও পড়লাম—তাও কোনো লাভ হলো না।
বইয়ের ভালো দিক হচ্ছে—শুরুটা খুবই সুন্দর হয়েছিল। একটা বাসায় একা থাকা দিয়ে গল্পটা একটা শক্ত ভিতের ওপর শুরু হয়। আবার পাটক্ষেতে কাজ করার সাথে ভৌতিক ব্যাপারটার যুগলবন্দি বেশ ভালো ছিল। পানির নিচে থাকা পাটক্ষেতে সাপের ভয় থেকে শুরু করে পানির নীচের কিছু দেখতে না পাওয়া—সব মিলিয়ে এক ধরণের ভয় এমনেই কাজ করে।
দুটো অতি সাধারণ ব্যাপার দিয়ে ভৌতিক গল্প তৈরির idea টা অসাধারণ ছিল। তাছাড়া দুটো ভিন্ন ভিন্ন গল্পকে পরে এসে এক সুতোয় গাঁথাটাও দারুণ ছিল।
তবে আমার কিছু প্রশ্ন রয়েই গেছে। মূর্তির কাজ নিয়ে যে ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে, তা সবদিক দিয়ে ঠিক মেলে না। স্বপ্নটা আসলে কে দেখাল? জমিরকে কেন রহমতের মতো করা হয়নি? জমিরের আর রহমতের পরিণতির মধ্যে পার্থক্য কী ছিল? তাহলে কি সেখানে দুটো ভিন্ন অস্তিত্ব ছিল? তারপর আসবে নারী চরিত্র - মনিকা। এমন চরিত্র আমি জীবনে দেখার সুযোগ পাইনি, আলহামদুলিল্লাহ! কিন্তু আমার ভয় পাওয়ার অনুভূতিটা এই নারী চরিত্রের প্রতি বিরক্তির কারণেই কমে গেছে। প্রথমে চরিত্রটার প্রতি সহানুভূতি থাকলেও আস্তে আস্তে তা বিরক্তির পর্যায়ে চলে যায়। সেদিক দিয়ে দেখলে এটি ভালো Character development, কিন্তু আমি আবার এমন আমূল পরিবর্তনে মনোযোগ বা পড়ার ইচ্ছা ধরে রাখতে পারি না। একটা সময় আমি পড়ার ইচ্ছা একদম হারিয়ে না ফেললেও, শুধুমাত্র বই পড��া শুরু করেছি দেখেই পড়ছিলাম। কারণ কোনো বিষয় নিয়েই আর কোন কৌতূহল অবশিষ্ট ছিল না।
Plot ভালো ছিল, যেটা প্রথমেই বললাম, কিন্ত execution টা আমার জন্য ঠিক ছিল না।
This entire review has been hidden because of spoilers.
One of the best contemporary horror stories I have read in a while.
The story of হাঙ is a classic Lovecraftian novel, set in Bangladesh. The story switches between two premises, one in the city and another set in rural Bangla.
Like any good Lovecraftian story, the anticipation of horror is what sets this apart, the protagonists fighting against something they are not sure about.
I would highly recommend this to anyone who is into the horror genre.
This entire review has been hidden because of spoilers.
রহমতের চোখ দিন দিন ছোট হয়ে বুঁজে আসছে। চোখে দেখতে কষ্ট হয় সাথে নড়াচড়া করতেও কষ্ট হয় কারণ শরীরে মেদ জমে গিয়েছে। হাত বগলের এবং পা একে অপরের সাথে লেগে যাচ্ছে। জিভ দিন দিন লম্বা, সরু ও ভারি হয়ে যাচ্ছে এবং প্রশ্নের বিপরীতে শুধু গোৎগোৎ করে আওয়াজ করে রহমত। বুকে ভর করে চলতে হয়। তার ক্ষুদা লাগে কিন্তু এই ক্ষুদা কেবল মিটবে কাঁচা মাংসে....
জব্বরদের বাড়ি খোয়ারে কাঁচা মুরগী খেতে গিয়ে রহমত ধরা পরে যায় জব্বর ও তার বাপ-ভাইদের কাছে। ঘটনাক্রমে জব্বর দা দিয়ে রহমতের শরীর থেকে মাথা আলাদা করে ফেলে। ফিনকি দিয়ে বের হয় রক্ত। কিন্তু লাল নয়, কালো! তখন তার কাটা গলার ভেতর থেকে কুচকুচে কালো অবয়ব বের হয়ে আসে। কিছুক্ষণ গলার ধারে আটকে থাকে, তারপর......
তার ঠিক প্রায় ১০০ বছর পর ঢাকার বিজ্ঞানমনা মনিকাও রহমতের মতো হয়ে যায় বইয়ের শেষ পর্যায়ে। সেও একসময় হুবহু রহমতের মতো কিভাবে হয়ে যায়? নেপথ্যে সেই কালো অবয়ব??
মনোয়ারুল ইসলামের 'হাঙ' বইটি এই কুচকুচে কালো অবয়বকে ঘিরে। এটা কী? কীভাবেই বা আসলো গ্রামে বাস করা রহমতের শরীরে? হাঙ কি তবে এই কালো অবয়বের নাম? ২ টি ভিন্ন সময়ের প্লট নিয়ে লেখক লিখেছেন। দুইটিই একে অপরের সাথে সম্পর্কিত কিভাবে?
এক অনবদ্য অতিপ্রাকৃতি উপাখ্যান। খুবই ভালো সময় কেটেছে। থ্রিলিং ছিলো। হররের প্রতি দিন দিন আগ্রহ বাড়ছে। তানজীম রহমানের বইগুলো পড়ার প্রতি ঝোক বাড়ছে। যাইহোক ভালো ছিলো। কিন্তু 'তাহার বাড়ি অন্য কোথাও'র মতো লেখক এখানেও অপ্রাসঙ্গিক ঘটনায় প্লট বড় করেছেন কেবল। প্রচ্ছদ আর জনরায় অতিপ্রাকৃত বই হিসেবে চিহ্নিত করলেও রয়েছে অশ্লীল সব প্রেমের গল্প আর মনিকা চরিত্রের অপ্রয়োজনীয় গভীর পটভূমি। যার কোন অর্থ নেই বলে আমার মনে হয়। আমার কাছে ওগুলো কেবল বিরক্ত বাড়িয়েছে।
হাঙ মনোয়ারুল ইসলামের লিখা একটি অতিপ্রাকৃত গল্প। এই অতিপ্রাকৃত সত্ত্বাটি ১০০ বছরে একবার সামনে আসে, আর মানুষের উপর ভর করে বসে। গল্পের মূল চরিত্র আসলে দুটি - মনিকা আর জামির। দুটি স্টোরিলাইনে এগিয়েছে, একটা ১৯২৫ এর দিকে আরেকটা বর্তমান। ১৯২৫ সালের দিকে জামিরের ঘটনার বর্ণনা আসে, যেখানে হাঙ এর শুরুর গল্প বলা আছে। আর তাদের ই উত্তরসূরী দিলরুবার বাসার ভাড়াটিয়া হয়ে আসে মনিকা, যার সাথে সেই ১০০ বছর আগের ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটে। গল্পের ধরণ বেশ ইউনিক আর মনোয়ারুল ইসলামের লিখনশৈলী অনবদ্য। তবে প্লটে যায়গায় কিছু দুর্বলতা রয়েছে। পার্সোনালি, আমার মনে হয়েছে "হাঙ" নিয়ে আরেকটি ফোকাস করা যেত। বাকী অনেক ক্যারেক্টার ছিল যাদের আসলে স্টোরির শেষদিকে কোন কাজই ছিলনা, একদম দুইজন ব্যাক্তিনির্ভর হয়্ব গিয়েছে। হরর লাভারদের কাছে এটাকে ভাল লাগবে এটার ভয়ের যে টোন আছে তার জন্যে, আর সে সাথে মিথোলজির একটা টান থাকার ফলে। দ্বিতীয় জায়গাটা আরেকটা এক্সপ্লোর করলে দারুণ হত।
This entire review has been hidden because of spoilers.