সবার মনে আতঙ্ক, চোখে সন্দেহ আর ভয়। গ্রাম থেকে অনেক দূরে তিনজন মানুষকে টেনে নিয়ে এসে এভাবে মেরে ফেলে রেখেছে! মানুষের কাজ? হতেই পারে না। কেউ বিশ্বাস করে না এই কাজ মানুষ করতে পারে। মৃতদের গলা মোচড়ানো ছিল। চিবিয়ে রেখে গেছে দেহ, হাত পায়ের আঙুল বলতে কিছুই নেই। পেটের ভেতর অসীম শূন্যতা, যেন ওখানে কখনোই কিছু ছিল না। গাঁয়ের মানুষ…কদিন আগেও দেখেছে, একইরকম ঘটনা। কে করেছে এই কাজ? কেউ জানে না। নাহ, ভুল। জানে একজন!
প্রকৃত রেটিং সাড়ে তিন। অন্ধকার জগতের পৈশাচিক শক্তি হাঙ, একশ বছরের ব্যবধানে অজপাড়াগাঁয়ে আর ঢাকার বুকে ঘটে চলা দুটি সমান্তরাল কাহিনি, প্রেম, যৌনতা, অর্থ, লোভ, বিভৎসতা সব মিলিয়ে টানটান কাহিনি। মাঝেমধ্যে কিছু রিপিটিটিভ অসংলগ্ন ডায়লগ না থাকলে দুর্দান্ত হত।
রিভিউটা শুরু করি প্রচ্ছদের সুনাম দিয়ে৷ চমৎকার প্রচ্ছদ। যারা হরর জনরার ভক্ত তারা প্রচ্ছদ দেখেই এই বইটা কিনতে বাধ্য হবে বলে আমার বিশ্বাস। আমি নিজেও হরর জনরার বিশাল ভক্ত। প্রচ্ছদে ভরসা রেখেই কিনেছি বইখানা। 'হাঙ' নিয়ে আমার ব্যাপক আশা ছিলো। কিন্তু যতোটা সামনে এগিয়ে গিয়েছি, ততোই আগ্রহটা কমে গেছে।
বইটার কেন্দ্রীয় চরিত্র মনিকা। মায়ের সাথে বনিবনা নেই, শুধু মা কেনো, বাবা-মায়ের পরিবারের কারো সাথেই কোনো মিল নেই। একা একা থাকে। দেখতে অপরূপা। সেই রূপের জোরেই টাকার অভাব হয় না। সে একা একটা ফ্ল্যাটে ভাড়া থাকে। ফ্ল্যাটে থাকা নিয়ে বাড়িওয়ালা সেরকম কোনো নিয়মনীতি জারি করেন না। তবে, বাড়িওয়ালা কর্তৃক নিষেধ ছিলো যেনো কোনোভাবেই ছাদে না যাওয়া হয়। নিষিদ্ধ জিনিসের প্রতি মানুষের আগ্রহ বেশি। সেই আগ্রহের জোরেই চুপিসারে একদিন মনিকা ছাদে যায়। সে ছাদে গিয়ে একটা মূর্তি পায়। এইটা সেই মূর্তি যা তাকে জুড়ে দেয় একশো বছর আগের জমিরের পরিবারের সাথে। এ এক অভিশপ্ত মূর্তি। যাতে মনিকার প্রাণনাশও হতে পারে। তারপর কি হয়? মনিকা মূর্তির অভিশাপ থেকে বাঁচতে পারবে তো? জমিরের পরিবারের সাথেই বা কি হয়েছিলো? জানতে হলে পড়ে ফেলুন 'হাঙ'।
বইয়ে ভয় তৈরি করার চেষ্টা আছে। আবহও ভালোই বানিয়েছেন মনোয়ারুল ইসলাম। কিন্তু কিছুদূর যাবার পরে সেটা আর কাজ করে না। মাঝপথে গিয়ে রীতিমতো বিরক্ত লাগা শুরু হয়েছিলো। আর শেষে এসে তো একদমই বাজে অনুভূতি।
লেখকের আইডিয়া ভালো ছিলো, কিন্তু কেনো জানি কাজে লাগাতে পারলো না। খাপছাড়া কাজ বলেই মনে হয়েছে আমার কাছে।
সবমিলিয়ে, ভালো লাগেনি। মনোয়ারুল ভাইয়ের লেখনশৈলী নিয়ে কোনো অভিযোগ নেই। চমৎকার। তবে, প্লট ভালো লাগেনি। আরো ভালো কিছু আশা করেছিলাম।
মনোয়ারুল ইসলামের গদ্যশৈলী ভালো। তবে উনার প্রথম দিককার বইগুলোর (বকুল ফুল, বিড়ালাক্ষী, নয়নতারা পড়া হয়েছিল প্রকাশের প্রায় সাথে সাথেই, পরের বইগুলো পড়া হয়নি) চেয়ে লেখার মান তুলনামূলক খারাপ হয়েছে মনে হলো। তারপরও 'হাঙ' পড়তে বেশ লাগছিল, কিন্তু পড়া শেষে মন-মেজাজ বিগড়ে গেল। মনে হলো (এখনও হচ্ছে) এতগুলো সময় আমি কেন নষ্ট করলাম!
পড়লাম মনোয়ার ভাইয়ের নতুন বই “হাঙ”। দুইটি টাইমলাইনে এগিয়ে যাওয়া এই ধরনের গল্প ইদানীং বেশ লেখা হচ্ছে, পড়াও হচ্ছে। তবে মূল বিষয় হচ্ছে এই দুই টাইমলাইনকে একই সুতায় সুন্দরভাবে গেঁথে ফেলা। সেটা খুব কম লেখকই ভালোভাবে করতে পারেন। সেই জায়গা থেকে বলতে হয়, মনোয়ার ভাই এই বইটিতে কাজটা বেশ ভালোভাবেই করেছেন।
বইটি যদি শুধুমাত্র জমিরের পরিবার কিংবা তার বংশের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকত, তাহলে হয়তো তেমন কোনো প্রশ্ন উঠত না। কিন্তু পাঠক হিসেবে আমার মনে একটা প্রশ্ন থেকেই গেছে, জমির যে জিনিসটা পেল, সেটা সে কীভাবে পেল তা বোঝা গেলেও, সেই জিনিসটার নিজের ইতিহাসটা কী? সেই জায়গাটা আমার কাছে কিছুটা ঝাপসাই রয়ে গেছে।
আমি বরাবরই বলি, আমার শহুরে গল্প ভালো লাগে এবং মডার্ন হরর আমার বেশ পছন্দের একটি জনরা। সেই দিক থেকে বলতে গেলে বইটি আমার ভালো লেগেছে। বিশেষ করে ১০০ বছর আগের সময়ের সঙ্গে বর্তমানকে যেভাবে কানেক্ট করা হয়েছে, সেটাও বেশ ভালো লেগেছে।
তবে ব্যক্তিগতভাবে এটাকে মনোয়ার ভাইয়ের ওয়ান অব দ্য বেস্ট ওয়ার্ক বলতে পারছি না। (৩/৫)
একটা দারুণ প্লটের কীভাবে অপমৃত্যু হতে পারে, তা-ই যেন চোখের সামনে দেখলাম। যেকোনো গল্পের প্লট সেই গল্পের প্রধান শক্তি। কিন্তু এর ভিত্তি যদি শক্তপোক্ত না হয়, তবে সেই দারুণ প্লট কোনো কাজেই আসে না। ধরুন আপনি একটি বাড়ি বানাবেন। তার স্ট্রাকচার, ব্লু প্রিন্ট খুবই দারুণ। কিন্তু এর ফাউন্ডেশন বা বাড়ি বানানোর মাল মশলা যদি দুই নম্বর হয় সেই বাড়ি অকালেই ভেঙে পড়তে পারে। “হাঙ” বইটি পড়ার পর আমার অনুভূতি এমনি। এত দারুণ একটি প্লটের এমন বিলো এভারেজ এক্সিকিউশন গল্পকে তার যথার্থ মূল্যায়ন করতে পারেনি।
মনোয়ারুল ইসলামের প্রায় সবগুলো লেখাই আমার পড়া হয়েছে। সে সুবাদে বলতে পারি “হাঙ” বইটি লেখকের কাজের নিচের দিকেই থাকবে। উপরে বা মধ্যম সারিতে রাখার কোনো উপায় দেখছি না। বইটি পড়ার পাঠ অভিজ্ঞতা এক কথায় বোরিং। লেখকের গতিময় লেখার কারণে পড়াটা সহজ হয়েছে। কিন্তু বইটির পিছনে লেখক যে শ্রম দিয়েছেন, যে শ্রম জাস্টিফাইড হয়নি। আমি ব্যক্তিগতভাবে কোনো আগ্রহ বোধ করিনি। এমন বই পড়তে গিয়ে আমার পড়াটা বারবার ধীর গতির হয়ে গিয়েছে।
গল্পটা মূলত দুইজনের। একদিকে জহির, অন্যদিকে মণিকা। জহির একজন কৃষক। পাট ক্ষেতে চাষাবাদ করে জীবন যাপন করে। অন্যদিকে মণিকা আধুনিক মেয়ে। যার অতি স্মার্টনেস ও পারিবারিক সমস্যার জন্য একাই থাকে। এই দুই সময়ের গল্প, দুই ভিন্ন ধরনের মানুষ কীভাবে এক গল্পে জুড়ে যেতে পারে এই ঘটনাপ্রবাহ ভীষণ ইন্টারেস্টিং লেগেছে আমার কাছে।
শুরুতে মণিকাকে নিয়ে কথা বলা যাক। মণিকা এক বড়লোক পরিবারের সন্তান। ছোটবেলায় বাবা মায়ের ছাড়াছাড়ি হয়ে গিয়েছিল, তখন থেকে সে মায়ের কাছে মানুষ। কিন্তু বিপত্তি বাঁধে বাকি এমন এক পরিস্থিতিতে দেখার পর, যা সে কিছুতেই মানতে পারে না। মায়ের সাথে থাকতে না চাওয়া মেয়েটা তখন থেকে নানু ও মামার কাছে মানুষ। একসময় নানু মারা যায়। মা মামাদের সম্পত্তি নিয়ে দ্বন্দ্ব শুরু হয়। মণিকা তখন হয়ে পড়ে একা। আবার ফিরে আসে মায়ের কাছে। কিন্তু মায়ের কাছে থাকতে ইচ্ছে করে না।
তাই বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া মেয়েটা সিদ্ধান্ত নেয় একা থাকবে। টাকা পয়সা নিয়ে সমস্যা নেই। রূপ, যৌবন তার এমন উজ্জ্বল, চাইলেই অনেক কিছু করতে পারে। কিন্তু বিপত্তি বাঁধে নতুন এই ফ্ল্যাট নিয়ে। কেমন যেন ছমছমে অনুভূতি। কিছু একটা রহস্য আছে এই বাসাতে। কেন ছাদে যাওয়া নিষেধ? ফ্রিজ থেকে মাংস কোথায় চলে যায়? এই ফ্ল্যাটে কিছু একটা আছে, এমন অনুভূতি বারবার আসে কেন? ছাদের ওই কোটরে থাকা মূর্তিটার কাহিনি কী? কেন বাড়ির মালকিন একটা সামান্য মূর্তির জন্য অজস্র টাকা সাধতে দ্বিধা করে না? মণিকা যেন এ রহস্যে জড়িয়ে গিয়েছে। কিছুটা নিজের ভুলে, বাকিটা অনিচ্ছায়।
জহির একদিন দেখে পাতক্ষেতের অদূরে সবুজ এক ঢেউ। কীসের ঢেউ এসে বুঝতে পারে না। কিন্তু এমন কিছু সে এর আগে দেখেনি। মনের মধ্যে একটু দ্বিধা, কিছুটা ভয়। আজকে আরও ক্ষেতে কাজ করতে যেতে ইচ্ছা করে না। তাও সদ্য বিবাহিত স্ত্রী আম্বিয়ার কথায় যেতে হয়। কিন্তু তবুও একটু ভয় লাগে। পানিতে নামার পর অদ্ভুত অনুভূতি হয়। কীসের জন্য কে জানে? সত্যি কি কিছু ঘটবে? না-কি পুরোটাই ওর কল্পনা?
জহিরের গ্রামের ছেলে রহমত বদলে গেল এক নিমিষেই। ভালো ছেলেটা ক্ষেত থেকে কাজ করে এলো, তারপর সেই যে পড়ল আর দাঁড়াতে পারল না। নিজের মধ্যে অদ্ভুত এক পরিবর্তন লক্ষ্য করছে ও। মনে হচ্ছে শরীরের সমস্ত হাড় উধাও হয়ে যাচ্ছে। জিহ্বা বড় হচ্ছে। নিজের শরীর হয়ে যাচ্ছে এক থকথকে মাংস পিণ্ড। খাবার হিসেবে এখন মাংস পছন্দ হয়। তাও রান্না করা না, কাঁচা মাংস। ছেলেকে নিয়ে মায়ের শঙ্কায় দিন যায়। বাঁচিয়ে রাখার চেষ্টা করে। কিন্তু এমন এক রাক্ষসকে কী করে রক্ষা করবে? গ্রামের মানুষ জানলে তো পিটিয়ে মেরে ফেলবে। ছেলেকে বাঁচাবে কীভাবে? আর এভাবে লুকিয়ে রাখলে নিজেদের জীবনও শঙ্কায় কাটবে। উপায় কী হবে? জহিরই বা কীসের প্ররোচনায় পড়েছে? পানির নিচে কালো ছায়ার মতো কী যেন একটা ভেসে বেড়ায়। জহির কি নিস্তার পাবে এর থেকে?
এই দুই সময়ের গল্পের মধ্যে যদি তুলনা করি তবে জহিরের কাহিনি বেশি গোছানো ছিল, রহস্যময় ছিল। ভালোই সাসপেন্স ক্রিয়েট করতে পেরেছে। অন্যদিকে মণিকার ঘটনাগুলো ছিল অগোছালো। মণিকার চরিত্রের ফিরিস্তি দিতে দিতেই ঘটনা এগিয়েছে। পাঠক হিসেবে একই বিষয় জানতে জানতে একসময় বিরক্তিতে পড়েছি। মনিকার প্রেম করা, ছেলেদের নাকে দড়ি দিয়ে ঘুরানো, কার সাথে শুয়ে পড়ে, কার সাথে কীভাবে চ্যাট করে, টিকটক করে এসব জেনে আমার কী লাভ ছিল?
মণিকার ব্যাকস্টোরি শক্তপোক্ত করতে গিয়ে লেখক কাহিনির দিকেই নজর দিতে পারেননি। ফলে যে গল্পের উপর ভিত্তি করে বইটা দাঁড়িয়ে থাকার কথা, তাই যেন হারিয়ে গিয়েছিল। বইয়ের তিন চতুর্থাংশ পড়ার পরও এই রহস্যের কিছুই বুঝতে পারিনি। শুধু দুই সময়ের সাসপেন্স আর পাঠকদের অন্ধকারে রাখা। বাকি এক চতুর্থাংশে কিছুটা আভাস দেওয়া হলেও আমার কাছে যথেষ্ট মনে হয়নি।
ব্যাকস্টোরি দেওয়া হয়েছে জহিরের ঘটনাতেও। কিছু বিষয় অপ্রয়োজনীয় মনে হয়েছে আমার। তারপরও এখানে গল্পের গাঁথুনি কিছুটা হলেও পোক্ত ছিল। যদিও বইয়ের শেষের দিকে এসে জানতে পারি ঘটনাটা ব্রিটিশ আমলের। কিন্তু সেই সময়টা কোনোভাবেই বইতে ফুটে ওঠেনি। হয়তো গুরুত্বপুর্ণ ছিল না। কিন্তু বই তো সমাজের আয়না, ঘটনাপ্রবাহে সেই সময়টা কিছুটা হলেও দেখানো যেত।
আমি বরাবরই এমন ব্যাকস্টোরি পছন্দ করি। এতে চরিত্রগুলোর ডেপথ ভালো বোঝা যায়। কিন্তু যদি এমন গভীরতা বোঝাতে অপ্রয়োজনীয় বিষয় চলে আসে আর মূল ঘটনাকে সংক্ষিপ্ত করে ফেলা হয়, তাহলে আসলে এত ডিটেইলিংয়ের কোনো মূল্য থাকে না। বিশেষ করে মণিকার কথা ধরা যাক। তার চরিত্রের যে ফিরিস্তি, গোসল করার যে বর্ণনা, কোন ছেলের সাথে কী চ্যাট করছে, এসবের উপর গুরুত্ব দেওয়ার দরকার ছিল না। এরচেয়ে শেষের গল্পে প্রাধান্য দেওয়ার দরকার ছিল। এমন জগাখিচুড়ি সমাপ্তি দেখে আমার একটা কথাই মনে হয়েছে, লেখক হয়তো বইটা লিখতে গিয়ে জন্য কারণে উঠে গিয়েছে। তারপর আর লিখতে মন চায় নাই। বইমেলা চলে আসছিল বলে সেই অসমাপ্ত পাণ্ডুলিপি পাঠিয়ে দিয়েছে। ব্যাস, হয়ে গেল একটা বই।
এই দিকেও লেখকের প্রতি আমার অভিযোগ আছে। লেখক তো প্রতি বছরই দুইটা করে বই লিখেন। তারপর একটা শেষ করেন না। এমন জায়গায় গল্প শেষ করেন, সেটা না হয় পুরো গল্পের ঠিকঠাক সমাপ্তি, না করা যায় অপেক্ষা। তার উপর অর্ধ সমাপ্ত বইয়ের সিক্যুয়াল না এনে পরের বছর নতুন কোনো বই আনেন। সেই কবে নয়ন তারা নামের একটা বই শেষ করেছিলেন, আজও তার সিক্যুয়াল এলো না। একটা সিরিজ শেষ করে আরেকটা লেখা ধরা যৌক্তিক হয় কি না, আমার জানা নেই। পাঠককে এভাবে অপেক্ষা করানোর কারণ কী হতে পারে? ঠিক এই কারণে এখন আর লেখকের বই পড়তে ইচ্ছা করে না। ঘটনাক্রমে বইটা হাতে না এলে পড়াও হতো না।
এই বইতে অসংখ্য প্লটহোল আছে। একে একে আলোচনা করছি। কিঞ্চিৎ স্পয়লার উঠে আসবে। তাই আগেই বলে নিচ্ছি, যারা বইটি পড়তে চান এই অংশ এড়িয়ে যাবেন।
১. প্রথমত যে মূর্তি নিয়ে এত আয়োজন, সেই মূর্তির কোনো ডিটেইল নাই। কীসের মূর্তি, এর গুরুত্ব কোথায় তার কোনো ব্যাখ্যা নাই। জহির মূর্তিটা পাওয়ার পর কীভাবে বুঝল এটা তাদের ভাগ্য ফেরাবে? সেই বিষয়ও উল্লেখ করা হয় নাই।
২. জহিরের যে পরিণতি হলো, এরপর আম্বিয়া সম্পূর্ণ একা। এই একা থাকা এই মানুষটার তারপর কী হলো? কীভাবে সেই পরিবার তিন পুরুষে এসে এর প্রতিপত্তির মালিক হলো, তার ব্যাখ্যা নাই। যেন হাওয়ায় হাওয়ায় বড়লোক হওয়া যায়।
৩. ওই মূর্তির সাথে অদ্ভুত প্রাণীটির যোগসাজশ কী, সেটাও খোলাসা করা হয়নি। সেই প্রাণীটি আসলে কী সেটাও বলা হয়নি। শুধু একটি কালো ছায়া, তার আক্রমণ করা, তারপর মানুষের বদলে যাওয়া। সেই সাসপেন্স ধরে রাখা হয়েছিল শেষের জন্য। আমি একটা বিষয় মনে করি, লেখকের ঘটনা বলার চেয়ে ঘটনা দেখানো পাঠককে আরও আকৃষ্ট করে। রহমতকে কীভাবে আক্রমণ করেছিল, সেটা যদি ব্যাকস্টোরির মতো দেখানো যেত উপভোগ্য হতো। ভয়ের একটা অনুভূতি ফুটিয়ে তোলা যেত। কিন্তু লেখক সাসপেন্স ধরে রেখেছিলেন। শেষে জহিরের মাধ্যমে আবছাভাবে দেখানোর চেষ্টা করেছিলেন।
৪. এই গল্পে ভয়ের কোনো উপাদান পাইনি। হ্যাঁ, এটা ঠিক যে, কিছু গা শিউরে ওঠা বর্ণনা ছিল। তাও সীমিত আমার মনে হয়েছে এটা অর্ধেক মণিকার চারিত্রিক সার্টিফিকেট, অর্ধেক জহিরের জীবনযাপনের বর্ণনা। তার মধ্যে কিছুটা ভয় দেখানোর চেষ্টা। অথচ বইটা সম্পর্কে জেনেছিলাম গত দুই তিন বছরের সেরা হরর। এমনই সেরা হরর যেটা আমাকে ভয় দেখাতে এভাবে ব্যর্থ হবে বুঝিনি। এরচেয়ে নাবিল মুহতাসিমের অনাহুত বেশ ভয়ের ছিল।
৫. বাংলা সিনেমার মতো টাকার ছড়াছড়ি। মামার কাছ থেকে টাকা চাইলে এক বান্ডিল টাকা দিয়ে দেয়। দিলরুবা মূর্তি পাওয়ার জন্য একবার বান্ডিল টাকা দেয়, আরেকবার চেক লিখে দেয়। পুরোনো বাংলা সিনেমায় কিছু হলেই চৌধুরী সাহেব যেমন টাকার বড়াই করে ঠিক তেমন অবস্থা ছিল!
৬. বর্তমানের সাথে অতীতের সংযোগ ভালো ছিল। তবে এই সংযোগের ক্ষেত্রে যে সিঁড়ি বিয়ে ওঠার প্রয়োজন ছিল সেটা ছিল না। মূর্তিটা কী করে এখানে এসেছে, সেটা নাহয় বোঝা গেল। কিন্তু তার সাথে সেই প্রাণীটা কীভাবে এই চার দেয়ালে এলো উল্লেখ করা হয় নাই।
৭. একটা ঘটনা ছিল এমন। মণিকা সকালে অনুভব করে যে তার বাসায় কেউ আছে, হাঁটছে। প্রচণ্ড ভয় পায় এরপর বাইরে যায়, প্রেমিককে নিয়ে বাসায় এসে দেখে সব অগোছালো। কিন্তু মণিকা তখন ভয় পায় না। আগেই ধরে নেয় এই কাজ কেয়ারটেকারের। মনে হলো লেখক আগেই যা ভেবে রেখেছিলেন, সেটাই মণিকার মধ্যে ঢুকিয়ে দিয়েছেন। অথচ পরিস্থিতির বিচারে মণিকার আতঙ্কিত হওয়া উচিত ছিল। তাছাড়া কারো অবর্তমানে বাসায় কেউ বাসায় তল্লাশি চালিয়ে গেলে সে সব অগোছালো করে রাখবে সেটা সম্ভব না। লুকিয়ে খোঁজাখুঁজি করে আবার সব ঠিক করে রাখায় যুক্তিসঙ্গত। যেন কেউ বুঝতে না পারে ঘরে কেউ ঢুকেছিল। অথচ দেখা যায় বিশেষ সেই বস্তুটি খোঁজাখুঁজি করে সব মাটিতে ফেলে রাখার মতো বালখিল্য কাজ করে রেখেছে যেন মণিকা বুঝতে পারে ঘরে কেউ এসেছিল।
৮. হুট করে মণিকার ফ্ল্যাট পুরোটা পানিতে ডুবে যায়। সব জায়গায় পানি। কিন্তু কীভাবে এ পানি এলো ব্যাখ্যা করা হয়নি। বরং মনে হয়েছে লেখক বইটা রহস্যময় ও মণিকাকে ভয় দেখানোর কারণে এই কাণ্ড ঘটিয়েছেন। যার আসলে যুক্তিসঙ্গত কোনো ব্যাখ্যা হয় না। ব্যাখ্যা থাকলেও লেখকের মুড ছিল না পাঠককে জানানোর।
এমন আরও অনেক ভুলভ্রান্তি ছিল। সবকিছু ব্যাখ্যা করলে একটা ছোটখাট বই লিখে ফেলা সম্ভব, তাই সেটা করছি না। মনোয়ারুল ইসলামের লেখা সহজ ও সাবলীল। ভাষা সুন্দর। পড়তে ভালো লাগে। কিন্তু এর সহজবোধ্য ভাষায় লিখলেও কী হবে, যদি গল্পটা মন জয় করতে না পারে। প্রচ্ছদটা সুন্দর। তবে বইয়ের নাম ও মূর্তিটির নাম কেন হাঙ সেটা বই শেষ করেও বুঝতে পারিনি।
পরিশেষে, বইটা আমাকে ভীষণ হতাশ করেছে। যে প্রত্যাশা নিয়ে বইটা ধরেছিলাম তা পূরণ করতে পারেনি। বরং বলা যায়, এরচেয়ে লেখকের আরও ভালো ভালো লেখা আছে। যেখানে ব্যাখ্যাগুলো যৌক্তিক। প্লটের প্রতি সুবিচার করা হয়েছে। হতে পারে লেখক এই বইয়ের সিক্যুয়াল লিখবেন। সেখানেই সবকিছু ব্যাখ্যা করবেন। কিন্তু এই বই পড়ে যে বিরূপ অনুভূতি হলো, সিক্যুয়াল এলে কি পড়ার আগ্রহ থাকবে? অবশ্য লেখক সিক্যুয়াল আনবেন কি না, কবে আনবেন তাও একটা রহস্য। হয়তো আগামী বছর নতুন বই দেখা যাবে। তাও অসমাপ্ত কাহিনিগুলো পূর্ণ হবে না।
শুরুটা হয়েছিলো যতটা আশা নিয়ে, শেষ হলো ততটাই হতাশা দিয়ে। এন্ডিং একেবারেই ভালো লাগলো না। লেখক যতটা সময় নিয়ে মনিকার কার্যকলাপ এবং জীবন সাজিয়েছেন, তার সিকিভাগ যদি এন্ডিং এ দিতেন তবে হয়তো বেটার কিছু হতো।
লেখকের লেখনশৈলী ভালো, ক্যারেক্টার বিল্ডআপও ভালো তবে এ বইয়ে আমার মনে হয়েছে সেটা অনুপস্থিত৷ একটা ক্যারেক্টারেই লেখক সময় দিয়েন - "মনিকা"। কিন্তু সেটাও রিপিটেটিভ এবং ক্ষেত্রবিশেষে বিরক্তিকর মনে হয়েছে। এটা শুধুমাত্র চরিত্রের " action" এর জন্য আমি বলবো না। এটা অনেকাংশেই হয়েছে execution এর জন্য।
শুরুতে যতটাই আগ্রহ নিয়ে শেষ করেছিলাম, মাঝপথে এসে সেই আগ্রহ উবে গেছে। এক পর্যায়ে জোর করে আগাচ্ছিলাম।একশ বছর পূর্বে গ্রামের অংশটুকুতে বেশ সম্ভাবনা ছিলো। সেটাও মনে হলো একরকম গোঁজামিল দিয়ে শেষ করা হয়েছে।
সবমিলিয়ে বইটার সম্ভাবনা ছিলো। একটা ভালো লভক্রফটিয়ান এবং বডি হরর হতে পারতো। কিন্তু সেটা হয়ে ওঠে নি শেষমেশ।
এই বই নিয়ে আমার প্রথম ও সবচেয়ে বড় সমস্যা হচ্ছে ভয় না পাওয়া। রাতের অন্ধকারে পড়লাম, বাসায় একা থাকাকালীন পড়লাম—এমনকি জোর করে ভয় পাওয়ার জন্য রাতে দরজা-জানালা খোলা রেখেও পড়লাম—তাও কোনো লাভ হলো না।
বইয়ের ভালো দিক হচ্ছে—শুরুটা খুবই সুন্দর হয়েছিল। একটা বাসায় একা থাকা দিয়ে গল্পটা একটা শক্ত ভিতের ওপর শুরু হয়। আবার পাটক্ষেতে কাজ করার সাথে ভৌতিক ব্যাপারটার যুগলবন্দি বেশ ভালো ছিল। পানির নিচে থাকা পাটক্ষেতে সাপের ভয় থেকে শুরু করে পানির নীচের কিছু দেখতে না পাওয়া—সব মিলিয়ে এক ধরণের ভয় এমনেই কাজ করে।
দুটো অতি সাধারণ ব্যাপার দিয়ে ভৌতিক গল্প তৈরির idea টা অসাধারণ ছিল। তাছাড়া দুটো ভিন্ন ভিন্ন গল্পকে পরে এসে এক সুতোয় গাঁথাটাও দারুণ ছিল।
তবে আমার কিছু প্রশ্ন রয়েই গেছে। মূর্তির কাজ নিয়ে যে ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে, তা সবদিক দিয়ে ঠিক মেলে না। স্বপ্নটা আসলে কে দেখাল? জমিরকে কেন রহমতের মতো করা হয়নি? জমিরের আর রহমতের পরিণতির মধ্যে পার্থক্য কী ছিল? তাহলে কি সেখানে দুটো ভিন্ন অস্তিত্ব ছিল? তারপর আসবে নারী চরিত্র - মনিকা। এমন চরিত্র আমি জীবনে দেখার সুযোগ পাইনি, আলহামদুলিল্লাহ! কিন্তু আমার ভয় পাওয়ার অনুভূতিটা এই নারী চরিত্রের প্রতি বিরক্তির কারণেই কমে গেছে। প্রথমে চরিত্রটার প্রতি সহানুভূতি থাকলেও আস্তে আস্তে তা বিরক্তির পর্যায়ে চলে যায়। সেদিক দিয়ে দেখলে এটি ভালো Character development, কিন্তু আমি আবার এমন আমূল পরিবর্তনে মনোযোগ বা পড়ার ইচ্ছা ধরে রাখতে পারি না। একটা সময় আমি পড়ার ইচ্ছা একদম হারিয়ে না ফেললেও, শুধুমাত্র বই পড়া শুরু করেছি দেখেই পড়ছিলাম। কারণ কোনো বিষয় নিয়েই আর কোন কৌতূহল অবশিষ্ট ছিল না।
Plot ভালো ছিল, যেটা প্রথমেই বললাম, কিন্ত execution টা আমার জন্য ঠিক ছিল না।
This entire review has been hidden because of spoilers.
One of the best contemporary horror stories I have read in a while.
The story of হাঙ is a classic Lovecraftian novel, set in Bangladesh. The story switches between two premises, one in the city and another set in rural Bangla.
Like any good Lovecraftian story, the anticipation of horror is what sets this apart, the protagonists fighting against something they are not sure about.
I would highly recommend this to anyone who is into the horror genre.
This entire review has been hidden because of spoilers.
খুব একটা আহামরি লাগেনি। শুরুর দিকগুলো যতটা ভালো লেগেছিল, শেষটা ঠিক ততটাই অগোছালো লেগেছে। মনে হচ্ছিল, কোনোভাবে বইটা শেষ করার ছিল। অনেকবিষয় অস্পষ্ট ছিল।
রহমতের চোখ দিন দিন ছোট হয়ে বুঁজে আসছে। চোখে দেখতে কষ্ট হয় সাথে নড়াচড়া করতেও কষ্ট হয় কারণ শরীরে মেদ জমে গিয়েছে। হাত বগলের এবং পা একে অপরের সাথে লেগে যাচ্ছে। জিভ দিন দিন লম্বা, সরু ও ভারি হয়ে যাচ্ছে এবং প্রশ্নের বিপরীতে শুধু গোৎগোৎ করে আওয়াজ করে রহমত। বুকে ভর করে চলতে হয়। তার ক্ষুদা লাগে কিন্তু এই ক্ষুদা কেবল মিটবে কাঁচা মাংসে....
জব্বরদের বাড়ি খোয়ারে কাঁচা মুরগী খেতে গিয়ে রহমত ধরা পরে যায় জব্বর ও তার বাপ-ভাইদের কাছে। ঘটনাক্রমে জব্বর দা দিয়ে রহমতের শরীর থেকে মাথা আলাদা করে ফেলে। ফিনকি দিয়ে বের হয় রক্ত। কিন্তু লাল নয়, কালো! তখন তার কাটা গলার ভেতর থেকে কুচকুচে কালো অবয়ব বের হয়ে আসে। কিছুক্ষণ গলার ধারে আটকে থাকে, তারপর......
তার ঠিক প্রায় ১০০ বছর পর ঢাকার বিজ্ঞানমনা মনিকাও রহমতের মতো হয়ে যায় বইয়ের শেষ পর্যায়ে। সেও একসময় হুবহু রহমতের মতো কিভাবে হয়ে যায়? নেপথ্যে সেই কালো অবয়ব??
মনোয়ারুল ইসলামের 'হাঙ' বইটি এই কুচকুচে কালো অবয়বকে ঘিরে। এটা কী? কীভাবেই বা আসলো গ্রামে বাস করা রহমতের শরীরে? হাঙ কি তবে এই কালো অবয়বের নাম? ২ টি ভিন্ন সময়ের প্লট নিয়ে লেখক লিখেছেন। দুইটিই একে অপরের সাথে সম্পর্কিত কিভাবে?
এক অনবদ্য অতিপ্রাকৃতি উপাখ্যান। খুবই ভালো সময় কেটেছে। থ্রিলিং ছিলো। হররের প্রতি দিন দিন আগ্রহ বাড়ছে। তানজীম রহমানের বইগুলো পড়ার প্রতি ঝোক বাড়ছে। যাইহোক ভালো ছিলো। কিন্তু 'তাহার বাড়ি অন্য কোথাও'র মতো লেখক এখানেও অপ্রাসঙ্গিক ঘটনায় প্লট বড় করেছেন কেবল। প্রচ্ছদ আর জনরায় অতিপ্রাকৃত বই হিসেবে চিহ্নিত করলেও রয়েছে অশ্লীল সব প্রেমের গল্প আর মনিকা চরিত্রের অপ্রয়োজনীয় গভীর পটভূমি। যার কোন অর্থ নেই বলে আমার মনে হয়। আমার কাছে ওগুলো কেবল বিরক্ত বাড়িয়েছে।
যাকে আপনি দেখেন না,সে আপনাকে দেখছে। তার বসবাস আপনার জগতেই..... মুখোমুখি হতে চান? সিদ্ধান্ত আপনার! 'হাঙ' একটি অতিপ্রাকৃত ঘরানার গল্প। এবারের গল্পটা অদ্ভুত এক প্রাণীকে নিয়ে। যে ধীরে ধীরে মানুষকে বশ করে নিজের আয়ত্তে নিয়ে আসে। গল্পটা দুটো টাইমলাইনকে নিয়ে ঘটতে থাকে। একটা একশো বছর আগের আর একটা ঠিক ১০০ বছর পরের। বর্তমানে কাহিনী চলতে থাকে মনিকাকে দিয়ে যে একটা বাসায় একাই থাকে। কিন্ত হঠাৎ করেই তার সাথে ঘটতে থাকে অদ্ভুত সব ঘটনা। কারণ কি? আবার অতীতে দেখা যায় জমির যে দেখতে পায় দূরের পাটক্ষেতে অদ্ভুত এক সবুজ ঢেউ যেই ঢেউ সে ছাড়া অন্য কারো চোখে পড়েনা, ভয় লাগে, জমিতে যেয়ে কাজ করতে ভয় লাগে। কিসের ভয়? পুরো বইটা অদ্ভুত এক ভয় দিয়ে শুরু আর সেই অদ্ভুত ভয়লাগা দিয়েই শেষ। তবে একটা বিষয় ক্লিয়ার হয়নি সেইটা হলো মূর্তি। মূর্তির সাথে সেই প্রাণীর কি সম্পর্ক খোলাসা হয়নি। তাছাড়া হরর বই হিসেবে ভালো ছিলো। তার লেখা অন্যান্য বইয়ের মতো এটাও ভয়েরই ছিলো। সেই অদ্ভুত প্রাণীর যে ক্ষমতা তা আসলেই ভয় পাওয়ার মতোই। যারা ভয় পেতে চান তারা পড়তে পারেন। অতীতের সাথে বর্তমানের ঘটনাটা সুন্দরভাবে মিলিয়েছে।
আর চরিত্রের কথা বলতে গেলে মনিকার অতীত জীবনই মূলত তার এই জীবন হয়েছে।
হাঙ মনোয়ারুল ইসলামের লিখা একটি অতিপ্রাকৃত গল্প। এই অতিপ্রাকৃত সত্ত্বাটি ১০০ বছরে একবার সামনে আসে, আর মানুষের উপর ভর করে বসে। গল্পের মূল চরিত্র আসলে দুটি - মনিকা আর জামির। দুটি স্টোরিলাইনে এগিয়েছে, একটা ১৯২৫ এর দিকে আরেকটা বর্তমান। ১৯২৫ সালের দিকে জামিরের ঘটনার বর্ণনা আসে, যেখানে হাঙ এর শুরুর গল্প বলা আছে। আর তাদের ই উত্তরসূরী দিলরুবার বাসার ভাড়াটিয়া হয়ে আসে মনিকা, যার সাথে সেই ১০০ বছর আগের ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটে। গল্পের ধরণ বেশ ইউনিক আর মনোয়ারুল ইসলামের লিখনশৈলী অনবদ্য। তবে প্লটে যায়গায় কিছু দুর্বলতা রয়েছে। পার্সোনালি, আমার মনে হয়েছে "হাঙ" নিয়ে আরেকটি ফোকাস করা যেত। বাকী অনেক ক্যারেক্টার ছিল যাদের আসলে স্টোরির শেষদিকে কোন কাজই ছিলনা, একদম দুইজন ব্যাক্তিনির্ভর হয়্ব গিয়েছে। হরর লাভারদের কাছে এটাকে ভাল লাগবে এটার ভয়ের যে টোন আছে তার জন্যে, আর সে সাথে মিথোলজির একটা টান থাকার ফলে। দ্বিতীয় জায়গাটা আরেকটা এক্সপ্লোর করলে দারুণ হত।
This entire review has been hidden because of spoilers.
অপ্রয়োজনীয় তথ্য দিয়ে চরিত্রগুলোর ব্যাকস্টোরি সেট করতে যে সময়টা ব্যয় করা হয়েছে, সেখানে এক পর্যায়ে মনে হয়েছে মূল গল্পের প্রাধান্যটাই কিছুটা হারিয়ে গিয়েছে। তাছাড়াও চরিত্রগুলোর সাথে সেভাবে কানেক্ট করতে পারিনি, যার কারণে তাদের জীবনে কী ঘটছে বা ঘটছে না সেটা নিয়ে খুব একটা আগ্রহ আসেনি। বইটা শেষ করাও এক পর্যায়ে কঠিন মনে হয়েছে। বইটা তেমন ছোটও না...
কিছু কিছু গল্পে শেষের দিকের ফিনিশিং আগের অনেক ঘটনাকে নতুন অর্থ দেয় এবং পুরো যাত্রাটাকে রিওয়ার্ডিং করে তোলে। কিন্তু এখানে তেমন কিছু ঘটেনি তাই শেষ পর্যন্ত হতাশা নিয়েই বইটা শেষ করলাম। হয়তো উনার লেখার ধাঁচটা আমার ব্যক্তিগত পছন্দের সাথে পুরোপুরি যায় না…
বইয়ের প্রচ্ছদ সত্যিই চমৎকার। অনেকে শুধু এই কারণেই আগ্রহ নিয়ে বইটা হাতে তুলে নিতে পারেন (যেমন আমিও নিয়েছি)। কিন্তু সব মিলিয়ে হতাশ
গল্পটা ইউনিক এবং লেখনশৈলী চমৎকার। তবে গল্পে কিছু অশ্লীল ইঙ্গিত রয়েছে। যা একেবারেই অপ্রয়োজনীয় লেগেছে। প্রাপ্তবয়স্ক না হলে এই বই পড়ার প্রস্তাব দিব না।