Jump to ratings and reviews
Rate this book

ছায়া অবলম্বনে

Rate this book
একজন শয়তানপূজারী সমাজের ধ্বংস ডেকে আনার উদ্দেশ্যে নিষিদ্ধ মন্ত্রপাঠ করে। মন্ত্রে সাড়া দেয় রহস্যময় এক শক্তি।

এক প্রভাবশালী সংগঠন ছায়ার মতো সবকিছু নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে। নতুন রহস্যের মুখে তারা বিহ্বল হয়।

শহরজুড়ে অনেকে একই স্বপ্ন দেখে। তাদের বাড়িতে দেখা দেয় কিছু মানুষ, যারা মানুষ নয়।

বইয়ের পাতা উলটালে কালো জাদু, রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র আর চাপা উৎকণ্ঠার জগতে প্রবেশ করার প্রবল সম্ভাবনা। যথাসম্ভব বিবেচনা শেষে সিদ্ধান্ত নেওয়ার অনুরোধ রইল।

128 pages, Hardcover

First published March 8, 2026

Loading...
Loading...

About the author

তানজীম রহমান

35 books780 followers

Ratings & Reviews

What do you think?
Rate this book

Friends & Following

Create a free account to discover what your friends think of this book!

Community Reviews

5 stars
3 (4%)
4 stars
11 (17%)
3 stars
25 (40%)
2 stars
17 (27%)
1 star
6 (9%)
Displaying 1 - 29 of 29 reviews
Profile Image for Wasee.
Author 60 books826 followers
Read
March 10, 2026
"মানুষের আসলে শুধু একটাই অনুভূতি আছে। যন্ত্রণা। অন্য যেসবকে আমরা অনুভূতি মনে করি সেগুলো যন্ত্রণার বিভিন্ন রূপ। আনন্দ মানে কিছুক্ষণের জন্য যন্ত্রণা সরে যাওয়া। বিষাদ মানে এমন কারণে যন্ত্রণা পাওয়া যেটার ব্যাপারে কিছু করার নেই। ভালোবাসা হচ্ছে দুজন মানুষের মধ্যে যন্ত্রণা বন্টন সংক্রান্ত চুক্তি। দুঃখ হচ্ছে আকস্মিক বড়ো ধাক্কার মতো যন্ত্রণা। যন্ত্রণা থেকে মুক্তি চাইলে অনুভূতি থেকে মুক্তি পেতে হবে।"

হরর, ফিলসফিকাল, মেটাফোরিকাল, পলিটিক্যাল/সোশ্যাল স্যাটায়ার। কখনো মূল গল্পের ছায়ায় সহঅবস্থান করে নির্মম বাস্তবতা, আবার কখনো বাস্তবতার ছায়া ফুড়ে বেরিয়ে আসে ফিকশন। বাস্তবতা নাকি বানোয়াট গল্প- কে কার ছায়া অবলম্বনে এগিয়ে চলে; সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে খু্ঁজতে ঘনিয়ে আসে পরিণতি।

কালো জাদু, শয়তানের পূজা, রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র; বিষয়বস্তু যথেষ্ট আগ্রহোদ্দীপক। তানজীম রহমানের আরো একটি এক্সপেরিমেন্টাল নভেলা। নিছক ভয়ের উপন্যাস হিসেবে পড়লে অনেক কিছুই দৃষ্টির অগোচরে কিংবা ছায়ার আড়ালে হারিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা আছে।
Profile Image for Ahmed Aziz.
414 reviews71 followers
March 19, 2026
শেষের দিকে এসে ধাক্কা দেওয়ার মত কনসেপ্ট। সাথে তানজিম রহমানের দুর্দান্ত উইট, এআই জেনারেটেড ইলাস্ট্রেশনগুলোও ভালো। দেশের শেষ কয়বছরের পলিটিকাল ঘটনাগুলোর ছায়াও স্পষ্ট দেখা যায়। প্লটে ছোটোখাটো কিছু ঝামেলা বাদ দিলে একটানে পড়ার মতো দুর্দান্ত বই।
Profile Image for Momo.
8 reviews2 followers
April 10, 2026
তানজীম রহমানের পড়া প্রথম উপন্যাস আর্কন। তখন থেকেই তিনি আমার প্রিয় লেখক। তাঁর লেখা ভালো লাগে মূলত দুই কারণে—
১. ঝরঝরে লেখনী
২. এক্সপেরিমেন্টাল কাজ

লেখকের সব এক্সপেরিমেন্ট যে ভালো লাগে, তা নয়; কিন্তু তিনি যে নতুন কিছু শুরু করেন, এটাই গুরুত্বপূর্ণ।

“ছায়া অবলম্বনে” বইটি হরর জনরার হবে ভেবেছিলাম। কিন্তু না, এটি ভৌতিক কোনো গল্প নয়। বলা যেতে পারে, এটি সামাজিক/রাজনৈতিক স্যাটায়ার, মেটাফোরিক্যাল, কিছুটা ফিলোসফিক্যাল; এবং একটি বিশেষ ধর্মকে প্রতীকীভাবে ব্যবহার করা হয়েছে।

সামাজিক/রাজনৈতিক স্যাটায়ার, মেটাফোরিক্যাল ও ফিলোসফিক্যাল—এই কম্বিনেশনটি বেশ ভালো লেগেছে। তবে প্রতীকীভাবে ধর্মকে যেভাবে দেখানো হয়েছে, তা একদমই ভালো লাগেনি। তিনি প্রতীকীভাবে ধর্মের মাধ্যমে যে চমক দিতে চেয়েছেন, সেটি আরও খারাপ লেগেছে।

তিনি আমার খুবই প্রিয় লেখক। ব্যক্তিগতভাবে তাঁকে চিনি না, কিন্তু সোশ্যাল মিডিয়া বা তাঁর লেখার মাধ্যমে সহজেই বোঝা যায়, তাঁর পড়াশোনার পরিধি ব্যাপক। কিন্তু একটি বিশেষ ধর্মকে প্রতীকীভাবে যেভাবে তিনি উপস্থাপন করেছেন, তাতে প্রিয় লেখককে অনুরোধ করব—সে ধর্ম নিয়ে আপনি আরও একটু পড়াশোনা করুন। এই একটি কারণেই পুরো গল্পটি, বিশেষ করে সমাপ্তি, কেমন যেন অপরিপক্ক মনে হয়েছে।

আরও একটি ব্যাপার উল্লেখ না করে পারছি না। একটি বিষয়ে কিছুটা খটকা আছে। অবশ্য আমি জানি না, বিষয়টি এই মুহূর্তে সার্বজনীন কিনা।
প্রথমে এই বিষয়টি নজরে আসে লতিফুল ইসলাম শিবলীর “অন্তিম” উপন্যাসে। তিনি অন্তিম বইয়ের ১৩৮ নম্বর পৃষ্ঠায় গল্পের প্রয়োজনে একটি ধারণা দিয়েছেন যে, “শয়তান খারাপ নয়; সে ঈশ্বরের দাসত্ব থেকে মুক্তি দেওয়ার জন্য মানুষকে পৃথিবীতে এনেছে।”

অনুরূপভাবে, লেখক তানজীম রহমান এই বইয়ের ৩৭ নম্বর পৃষ্ঠায় ধারণা দিয়েছেন—“স্রষ্টা আমাদের প্রভু (শয়তান)কে অপমান করেছিলেন। মানুষের সামনে মাথা নত করতে বলেছিলেন। প্রভু শয়তান তার অসীম সাহস ও দূরদৃষ্টির কারণে সেই আদেশ অমান্য করেছিলেন…...।”

মূল কথা একই—শয়তান দাসত্ব মেনে নেয়নি, এবং এর মাধ্যমে জিন ও মানুষকে স্রষ্টার দাসত্ব থেকে মুক্তি দিয়েছে। দুই লেখকের ধারণা একই রকম, হয়তো উপস্থাপনা ভিন্ন। আমার প্রশ্ন—বিষয়টি কি কোনো সার্বজনীন ব্যাখ্যা বা মিথে পরিণত হয়েছে, নাকি কাকতালীয়ভাবে দুই লেখকের ধারণা মিলে গেছে?

এক্ষেত্রে প্রিয় লেখক তানজীম রহমানের কাছে আশা করব, এক্সপেরিমেন্টাল কাজগুলোতে আরও নতুনত্ব আনবেন।

পরিশেষে এটুকু বলতে চাই, প্রতীকীভাবে ধর্মকে ব্যবহার না করলে বইটি বেশ ভালো লাগত। কিন্তু এই একটি কারণে বইটি আমার কাছে ভালো লাগেনি—বরং খারাপ লেগেছে। অপরিপক্ক মনে হয়েছে।
Profile Image for Wasim Mahmud.
371 reviews30 followers
April 8, 2026
"মানুষের আসলে একটাই অনুভূতি আছে। যন্ত্রণা। অন্য যেসব কে আমরা অনুভূতি মনে করি সেগুলো যন্ত্রণার বিভিন্ন রূপ। আনন্দ মানে কিছুক্ষণের জন্য যন্ত্রণা সরে যাওয়া। বিষাদ মানে এমন কারণে যন্ত্রণা পাওয়া যেটার ব্যাপারে কিছু করার নেই। ভালোবাসা হচ্ছে দুজন মানুষের মধ্যে যন্ত্রণা বন্টন সংক্রান্ত চুক্তি। দুঃখ হচ্ছে আকস্মিক বড় ধাক্কার মতো যন্ত্রণা।

যন্ত্রণা থেকে মুক্তি চাইলে অনুভূতি থেকে মুক্তি পেতে হবে।"

পৃষ্ঠা ৫৬

তানজিম রহমানের মৌলিক ভয়ের উপন্যাস 'ছায়া অবলম্বনে'র প্রচ্ছদ শুধুমাত্র চমৎকার হয়েছে বললে অর্ধসত্যকথন হয়। কারণ তানজীমীয় নিরীক্ষাধর্মী উপন্যাসটির আলো-আঁধারীময় পথ ধরে এগুতে গেলে চট করে সেই প্রচ্ছদের কথা-ই স্মৃতিতে বারবার ভেসে ওঠে।

ছায়া অবলম্বনে। কীসের ছায়া, কার ছায়া? আমার মনে হয়েছে বিকল্প এক বিশ্বের ছায়া নিয়েই গল্প বলেছেন লেখক। তবে একথাও ঠিক সেই ছায়া আমাদের মূল বিশ্বের।

অল্টারনেটিভ সেই ওয়ার্ল্ডের অনেক ঘটমান বর্তমানের সাথে আমাদের সমসাময়িক বাংলাদেশের প্রাসঙ্গিকতা যেকোন পাঠক খুঁজে পাবেন।

স্যাটানের উপাসক একজনের বড় মাপের কালোজাদু ব্লান্ডারের কারণে ঢাকা শহরের উপর নেমে আসতে যাচ্ছে এক মহাবিপদ। সেই বোকামি ধামাচাপা দিয়ে সমাধানের উদ্দেশে আমাদের উত্তম পুরুষে বর্ণনা কারী সরনাপন্ন হয়েছেন ইভিল এক সংগঠনের। হয়তো সেই সংগঠনকে কখনো কখনো ছায়া হিসেবে দেখা দিতে পারে পাঠকের মনে।

বিকল্পবিশ্বে কালোজাদু, জিন সাধনা, পূরাণ ও ধর্মগ্রন্থের সেই রহস্যময় স্যাটানের পূজা করেন অনেকেই। শয়তানপূজারিদের চরিত্রের অনেক তীব্র থেকে তীব্রতর বৈশিষ্ট্যের ঝলক পাঠক মনে কি আলোড়ন তুলতে পারে? নাকি সেগুলির দূর্বল ছায়া হয়ে আমরা নিজেরাই বেঁচে আছি?

পুরো নভেলজুড়ে তানজীমের ভয়ের মোড়কে দর্শন কিংবা দর্শনের মোড়কে ভয় অথবা উভয়ের পাশাপাশি হাত ধরে হাঁটার ব্যাপারটা স্বতঃস্ফূর্তভাবে এসেছে। কিছু কিছু জায়গায় আছে কথার ফাঁকের কথা যা আমরা এখন ভারিক্কি সাবটেক্সট নামে ডাকি আজকাল।

দর্শনে লেখকের স্বভাবসুলভ দখল ও আগ্রহের জায়গা হ‌ওয়ায় বেশ কিছু সারবত্তা সম্পন্ন আলাপচারিতা গল্পকথনের অস্বস্তি এবং নারকীয়তার ঘটনাপ্রবাহের মাঝেও রিডারের খুঁজে পেতে বেগ পেতে হবে না।

"ক্ষমতা একটা পেশা। যাদের কাছে ক্ষমতা গুরুত্বপূর্ণ তারা এই পেশায় উন্নতির সাধনায় জীবন কাটায়। প্রকৌশল ভবনে চাষা বা রিকশাওয়ালা বা ব্যবসায়ীর প্রয়োজন নেই। প্রকৌশলী প্রয়োজন। সভ্যতার আদি থেকে এখন পর্যন্ত জনগণের বসবাস সেই ক্ষমতার দালানের বাইরে।‌ সেই কাঠামোতে জনগণ ঢুকতে পারে না। ঢুকতে না দেওয়ার সময়বিশেষে তারা রাগ করে। রাগ করে কাঠামো চূর্ণ করে। ধ্বংসাকর্ম শেষ হলে জনগণ সরে যায়। নতুন দালান তৈরি হয়। জনগণ বাইরে রয়ে যায়।"

পৃষ্ঠা ৮৭

এখন প্রশ্ন উঠতে পারে, উঠবেই, হরর মৌলিক হিসেবে উপন্যাসটি কেমন?

'ছায়া অবলম্বনে'র ভৌতিক পরিবেশে হাত ধরাধরি করে হেঁটে গেছে ধর্ম, পূরাণ, দর্শন, সাহিত্য। তানজীম রহমান খুব সম্ভবত স্টোরিটেলিং এর সময় পরিষ্কার ভাষায় কথা বলতে চেয়েছেন। পেরেছেন‌ও। ভাষায় অতি গহনা পরানো ম্যানিপুলেটেড কায়দা যেমন চোখে লাগে, ঠিক তেমন‌ই বেশি সহজ ভাষায় লিখতে গিয়ে গদ্যভাষার ফ্ল্যাট হয়ে যাওয়াটাও ঠিক যুৎস‌ই লাগে না আমার কাছে।

উপন্যাসে ইন্ট্যারেস্টিং কিছু চরিত্রের দেখা পাবেন পাঠক। ভয়ের আখ্যানে এক ধরনের চাপা অস্বস্তি সৃষ্টি করা, গা গুলানো বর্ণনা দেয়া এসব ক্ষেত্রে লেখকের কল্পনাশক্তি ভালো। একটা টেনশন শুরু থেকে প্রায় শেষ পর্যন্ত লেখক জিইয়ে রাখতে পেরেছেন। সেই টেনশনের অবসান পছন্দ হয়েছে আমার।

ঋদ্ধ প্রকাশ এই বছর কি সম্পাদনায় মনযোগ কম দিয়েছে? পৃষ্ঠা ১০৫ এ এক‌ই প্যারা দু'বার চলে এসেছে। তাছাড়া ভাবগম্ভীর বিভিন্ন ইলাস্ট্রেশনের মাঝে শেষের দিকে একটা কার্টুনিশ কাজ ঠিক মিললো না।

লেখকের প্রতি শুভেচ্ছা র‌ইলো।

ব‌ই রিভিউ

নাম : ছায়া অবলম্বনে
লেখক : তানজীম রহমান
প্রচ্ছদ : নসিব পঞ্চম জিহাদী
প্রুফ রিডিং : সালেহ আহমেদ মুবিন
প্রথম প্রকাশ : ফেব্রুয়ারি ২০২৬
প্রকাশক : ঋদ্ধ প্রকাশ
জনরা : হরর
রিভিউয়ার : ওয়াসিম হাসান মাহমুদ
Profile Image for Faria Zebin.
54 reviews2 followers
June 6, 2026
বইয়ের কিছু কথা ভালো লেগেছে। কিছু দিক স্যাটারিকাল ছিলো।

শামসুর অংশের বর্ণনা বেশ gruesome. আস্থার অংশের বর্ণনা ভালো কিন্তু আমি বুঝতে পারিনি এ অংশের সাথে গল্পের কানেকশন

রাহেলা এবং সিএনজি চালিকার অংশটা শেষদিকে জুলাই অভ্যুত্থানের কথা মনে করিয়ে দেয়।

যৌন নিপীড়কদের ফুলের মালা দিয়ে বরণ করাটা বেশ ভালো স্যাটায়ার।

বইয়ে বেশ কিছু মেটাফোর ইউজ করা হয়েছে। এছাড়া কাহিনি ওভারঅল আমার ভালো লাগেনি। নিরীক্ষাধর্মী লেখা এজন্য হয়তো লেখনশৈলী একটু ভিন্ন। ব্যক্তিগতভাবে আমার পছন্দ হয়নি। মনোযোগ দ্রুত সরে যায়। এন্ডিং মোটামুটি ভালোই
Profile Image for The Brown  Storyteller.
14 reviews17 followers
Read
March 18, 2026
“সভ্যতার আদি থেকে এখন পর্যন্ত জনগণের বসবাস ক্ষমতার দালানের বাইরে। সেই কাঠামোতে জনগণ ঢুকতে পারে না। ঢুকতে না দেওয়ায় সময়বিশেষ তারা রাগ করে। রাগ করে কাঠামো চূর্ণ করে। ধ্বংসকর্ম শেষ হলে জনগণ সরে যায়। নতুন দালান তৈরি হয়। জনগণ বাইরে রয়ে যায়।”

চব্বিশের পর থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত ঘটে যাওয়া সকল ঘটনা পর্যবেক্ষণ করলে ঠিক এই কথাগুলোর গুরুত্ব অনুভব করতে পারবেন। আশ্চর্যের ব্যাপার হচ্ছে যে বইটা নিয়ে আজকে আলোচনা করব তার বিষয়বস্তু সম্পূর্ণ ভিন্ন। তবে রূপক অর্থে অনেক কিছুই সেখানে তুলে ধরা হয়েছে। কথা বলছি তানজিম রহমানের লেখা, ঋদ্ধ প্রকাশ থেকে প্রকাশিত “ছায়া অবলম্বনে” বইটা নিয়ে।

গল্পটা অল্প অল্প বর্ণনা করা হয়েছে উত্তম পুরুষ দ্বারা। নাম ইফতেখার, শয়তান পূজারি। বাবার আদেশ মতে এক নিষিদ্ধ মন্ত্র পাঠ করে রহস্যময় কোনও শক্তিকে ডেকে আনে। পরিণতি ভয়াবহ হয়, নাড়া লেগে যায় পূজারীদের সংঘটনের ভিত পর্যন্তও। মাঝে মাঝে উত্তম পুরুষ বাদ দিয়ে গল্পটা বর্ণনা করা হয়েছে তৃতীয় আরেক ব্যক্তির দৃষ্টিকোণ থেকে।

প্রথমেই যেটা স্বীকার করতে হবে সেটা হচ্ছে এই গল্পটা সরাসরি ভয়ের কোনও গল্প নয়। এতে বিভৎসতা আছে, শিহরণ আছে, হয়তো সামান্য ভয়ও আছে। তবে একেবারে নিখাদ ভূত প্রেতের গল্প না এটা। খাটি ভয়ের গল্প ভেবে পড়তে গেলে হতাশ হবেন বইকি। তবে সব ছাড়িয়ে গল্পটার ভিতর একটা অন্য ধরনের দার্শনিকতা আছে। রূপক, দর্শন, রাজনীতি আর আতঙ্ক মিলে মিশে এমন একটা দ্রবণ বানানো হয়েছে যেটা সবাই পছন্দ করবে না।

গল্পের চরিত্রায়ন নিয়ে অনেক ধোঁয়াশা করা হয়েছে। ১২৮ পৃষ্ঠার গল্পে বহু চরিত্রের সমাবেশ হলেও কোনও চরিত্রকেই পুরোপুরি প্রাধান্য দেওয়া হয়নি। “আমি” চরিত্রের উদ্দেশ্য খানিকটা অনুমান করা গেছে সত্যি, কিন্তু ডাহা মিথ্যেবাদী রকমের মনে হয়েছে তাকে! এটাই বোধহয় রহস্য। আরেকটা ব্যাপার না বললেই নয়, এই গল্পের কিছু কিছু নাম বড়ই অদ্ভুত। জাহাজি, হাযার, ইয়াখাফ, হারিসুন এরকম নাম। এর পিছনেও নিশ্চয় কারণ আছে।

গল্পের পরিবেশটাও বেশ প্যাঁচালো। সরাসরি কোনও বিশেষ স্থান এতে গুরুত্ব পায়নি। মোটা দাগে ঢাকা শহরের গল্প বলা যেতে পারে। তবে লেখনী বেশ অদ্ভুত। উদাহরণ দেই, ধরেন কেউ আপনার দিকে অদ্ভুতভাবে তাকিয়েছে। আপনি কিভাবে বর্ণনা করবেন? “সে আমার দিকে অদ্ভুতভাবে তাকালো” বা “তাকাচ্ছে”, বা “তাকিয়েছে”। কিন্তু গল্পের বর্ণনা এরকম, “সে আমার দিকে অদ্ভুতভাবে তাকায়”। “আমি অপমানিত হলাম” না বলে বলা হচ্ছে “আমি অপমানিত হই”, “সে আমাকে থাপ্পড় দিল” না বলে বলা হয়েছে, “সে আমাকে থাপ্পড় দেয়”। এই ন্যারেশনের ধরনটাই বেশ অদ্ভুত লেগেছে আমার কাছে। কেমন যেন একটা ফরমাল ভাব অনুভূত হচ্ছিল। আবার পুরো গল্পজুড়ে এভাবে বর্ণনা করায় একটা অস্বস্তিকর ভাবও বজায় ছিল। লেখক কি ইচ্ছে করেই এই অস্বস্তির ভাব আনতে চেয়েছেন?

গল্পের প্লট খুবই সাধারণ, বেশিরভাগ অংশটাই বইয়ের ফ্ল্যাপে দিয়ে দেওয়া হয়েছে। গল্পের শেষে একটা ১৮০৽ টুইস্ট আছে। তবে গল্পটার ভালো দিক সেই টুইস্ট নয়। বরং গল্পের একমাত্র ভালো দিক হচ্ছে হরর আর ফিলোসফির সংমিশ্রণ। র চায়ে লেবু চিপে দিলে যেমন রংটা হালকা হয়ে যায়, তেমনই হররের সাথে ফিলোসফি মিলে গিয়ে ভয়ের পরিমাণ কমে গেছে। তবে ব্যাপারটা খারাপ লাগে নি কিন্তু। বরং একটু ভিন্ন ঘরানার গল্প তৈরি হয়েছে এতে। এককথায়, গল্পটা ভয়ের না, গল্পটা কিম্ভূতকিমাকার।

বইয়ে সংযুক্ত ইলাস্ট্রেশনগুলো গল্পের কিছু কিছু অংশ কল্পনা করতে সাহায্য করেছে। গল্পটায় কিছু ঘটনার বর্ণনা যদি আপনি একটু ধীর গতিতে কল্পনা করতে করতে পড়েন তাহলে শিউরে উঠবেন। তারপর ছবিগুলি দেখলে বুঝবেন ছবিতে বিভৎসতার ভাবটা কমানো হয়েছে। AI আবার বেশি বিভৎসতা ফুটিয়ে তুলতে পারে না। বইটার প্রচ্ছদ একেবারে মিনিমালিস্ট, তবে খেয়াল করলে বুঝবেন এতে উল্টো ক্রস আর ক্রসের ভিতর একটা চোখ রয়েছে। এই উল্টো ক্রস হচ্ছে অ্যান্টিক্রাইস্ট বা দাজ্জালের প্রতীক। আর একটা চোখ কিসের প্রতীক? ওই একই জিনিসের। সে হিসেবে নসীব পঞ্চম জিহাদী বেশ ভালো কাজ করেছেন, গল্পের বিষয়বস্তুর সাথে মিল আছে। বইটার সম্পাদনা নিয়ে অভিযোগ নেই। আমি গুণে গুণে মাত্র তিনটা ভুল পেয়েছি। সুতরাং চলনসই। গল্পের নামটা নিয়ে বেশ চিন্তা ভাবনা করলাম। “ছায়া অবলম্বনে” নাম দেওয়ার পিছনে বেশ কিছু কারণ থাকতে পারে। তবে গল্পটা পড়ে সরাসরি বুঝতে পারিনি। হয় গল্পটা খুব shallow হয়েছে অথবা খুব deep হয়েছে। কোনটা যে হয়েছে তা ধরা কঠিন।

শেষ করব গল্পের একটা উক্তি দিয়ে,
“সমস্যারা বিনয়ী হয়। আগে থেকে নিজেদের জাহির করতে পছন্দ করে না। কাজ শুরু হলে তারপর একে একে দেখা যায়।”
Profile Image for Zakaria Minhaz.
280 reviews28 followers
April 30, 2026
#Book_Mortem 272

ছায়া অবলম্বনে

এই গল্পে একটা ধর্ম রয়েছে। শয়তানের উপাসকদের ধর্ম। সেই ধর্মের এক পূজারি মন্ত্র পাঠ করে দাজ্জালকে ডেকে আনতে গিয়ে একটু গড়বড় করে ফেলে। যে অতিপ্রাকৃতিক সত্ত্বা নেমে আসে সে যে আসলে কে তা নিশ্চিত না হলেও, এটুকু নিশ্চিত হওয়া যায় ঢাকা শহরের ওপর নেমে আসছে মহাবিপর্যয়।

যা কিছু ভালো লেগেছে

বইটা ছোট, রিভিউতেও তাই ভালো মন্দ লাগার ব্যাপারগুলো নিয়ে আলোচনা করছি। প্রথমত ভালো লেগেছে হররের সাথে ফিলোসফির মিশ্রণটা। বইটাকে মোটাদাগে হররের মধ্যে ঠিক ফেলা যাবে না। তবে লেখকের আগের এক্সপেরিমেন্টাল কাজগুলোর মতো এটাতেও হররের পাশাপাশি দেশের পলিটিক্যাল কিছু ব্যাপার স্যাপার এবং নিজস্ব ফিলোসফির যে ইমপ্লিমেন্ট ছিল তা পড়তে ভালো লেগেছে। রাস্তায় হাঁটতে বের হয়ে হুট করে বহুদিন পর পরিচিত একজনের সাথে দেখা হলে স্বল্প সময়ে কয়েক বছরের গ্যাপ পুষিয়ে নেওয়ার মতো যে আড্ডা হয়, বইয়ের গল্পটা অনেকটা সেরকম। মানে একটা জায়গা থেকে শুরু হয়ে খুব দ্রুতই কিছু ঘটনাবলীর মাধ্যমে সমাপ্তিতে পৌঁছে যায়।
   এসব ঘটনাবলীর মধ্যে খুবই উদ্ভট কিছু সিকুয়েন্স আছে। যেমন শামসু নামের চরিত্রের একটা বর্ণনা। আমার লাইফে এমন বিদঘুটে কিছু সহসা পড়েছি বলে মনে পড়ে না। লেখকের কল্পনাশক্তির তারিফ করতে হয়। এই বইটির কথা আমার যখনই মনে পড়বে, ওই সিকুয়েন্সটার কথা সাথে সাথে মাথায় চলে আসবে। খুব খুব ডিস্টার্বিং একটা সিকুয়েন্স, কিন্তু আমার বেশ ভালো লেগেছে। কাছাকাছি আরেকটা সিকুয়েন্স আছে আস্থা ত্রিপুরার সাথে এক বুড়ির। ওইটা আরেকটা চমৎকার অংশ বইয়ের। এছাড়া নারী নিপীড়কদেরকে ফুলের মালা দিয়ে বরণ করার বাস্তব ঘটনাকে সার্কাস্টিকলি গল্পে নিয়ে আসার ব্যাপারটা ভাল্লাগছে। জনগন কীভাবে ক্ষমতার দালানের বাইরে থেকে যায় কিংবা মানুষের স্রেফ একটাই অনুভূতি (যন্ত্রণা), যাকে ঘিরে বাকিসব অনুভূতির আনাগোনা হয়; এই ধরণের ফিলোসফিক্যাল অংশগুলো অসম্ভব ভালো লেগেছে। বইয়ের শেষের টুইস্টটাও বেশ ভালো। আল্লাহ কখন কার ডাকে সাড়া দেবেন তা একমাত্র আল্লাহই ঠিক করেন। পাপের সাগরে নিমজ্জিত শুধু ঢাকাবাসী না, গোটা দেশবাসীর এমন পরিণতি মাঝেমধ্যে আমি নিজেও কল্পনা করি।

যা কিছু ভালো লাগেনি

আমার মতো স্রেফ থ্রিলার পড়ুয়াদের এক্সপেরিমেন্টাল লেখা ভালো লাগে। ভিন্ন কিছুর স্বাদ পাওয়া যায়। তানজীম রহমান নিঃসন্দেহে অসম্ভব প্রতিভাবান একজন লেখক। উনার এক্সপেরিমেন্টাল কাজ হিসেবে অনামিকা চুপ বেশ ভালো লেগেছিল। এরপর বৃষ্টির দিন ভাড়া বেশি বইটা আগেরটার চেয়ে একটু কম ভালো লেগেছে। তবে এই বইতে এসে সেই ভালো লাগার পরিমাণ আরও কমে গেছে। আমি মনে করি সবকিছুর একটা ফাইন লাইন থাকা উচিত। এখানে লেখকের লিখনশৈলী সেই ফাইন লাইনের মধ্যে থাকতে পারেনি। লিখনশৈলী এত বিদঘুটে, ফেসবুক পোস্ট টাইপ যে সেটা কোনোভাবেই ভালো লাগাতে পারলাম না। উইয়ার্ড গল্পের সাথে উইয়ার্ড গদ্যশৈলী হিসেবে ধরলেও তাই পাস মার্ক দেওয়া যাচ্ছে না। বিশেষ করে ফার্স্ট পার্সন ন্যারেটিভের অংশগুলো। এক্সপেরিমেন্ট তাই একটা সীমার মধ্যেই রাখলে ভালো হতো বলে মনে করি।
   আর গল্পের ক্ষেত্রে বললে বলতে হয়, কোনো চরিত্রেরই কোনো আগামাথা নাই। ১২৬ পেইজের ছোট্ট নভেলা হলেও চরিত্রের ব্যাকস্টোরি নিয়ে অনেক কিছু করা যেতে পারে, এমন প্রমাণ আমরা আগেও দেখেছি। কিন্তু এই গল্পে চরিত্ররা স্রেফ আসে যায়। মনে হয় যেন গল্প এগিয়ে নেওয়ার জন্য অমুক তমুককে ধরে আনা হচ্ছে। খন্ড খন্ড কিছু সিকুয়েন্স এনে পরিস্থিতির বর্ণনা দিয়েছেন। ব্যস চরিত্রদের ভূমিকা ওখানেই শেষ। যদিও এন্ডিংটা দিয়ে বোঝানো হয় ওই চরিত্রদের ভেতরে ভালো কিছু ছিল। তবুও পাঠক হিসেবে আমার কয়েকটা চরিত্র নিয়ে আরও বেশি জানার আগ্রহটা অপূর্ণই থেকে গেছে।

ব্যক্তিগত রেটিং: ০৬/১০ (বইটা শেষ করে আমি বেশ দ্বিধায় পড়ে গেছিলাম। এটা কী আমার ভালো লাগল নাকি খারাপ? সেই দ্বিধা আজ তিন দিন পর রিভিউ লিখতে গিয়েও কাটেনি। তাই মাঝামাঝি অবস্থান নিলাম। লিখনশৈলীটা যদি আরেকটু সুন্দর হতো, চরিত্রদের যদি আরেকটু ব্যপ্তি থাকত, তাহলে হয়তো বইটা আরেকটু বেশি ভালো লাগত। তবে এক বসায় শেষ করার মতো ছোট বই হওয়ায়, আমি মনে করি বইটা একবার পড়ে দেখা যেতেই পারে)

লেখকের কাছে চাওয়া

যেকোনো নতুন কিছু প্রথম প্রথম বেশ ভালো লাগে। আস্তে আস্তে একই রকম জিনিস পড়তে পড়তে সেই ভালো লাগাটা ফিকে হয়ে আসে। তানজীম রহমানের একজন ভক্ত হিসেবে উনার কাছে আমার চাওয়া, উনি সময় নিয়ে বড় পরিসরে কিছু একটা লিখুন। আর্কনের মতো দূর্দান্ত কিছু।

🎲 লেখক: তানজীম রহমান
🎲 প্রচ্ছদ: নসিব পঞ্চম জিহাদী
🎲 প্রকাশনী: ঋদ্ধ প্রকাশ
🎲 পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১২৬
🎲 মূদ্রিত মূল্য: ৩০০ টাকা
Profile Image for Heisenberg.
169 reviews8 followers
March 22, 2026
আমার মনে হয়েছে, এই বইটা আরও ডিটেইল্ড এবং আরও বড় করে লেখা উচিত ছিলো।
ব্যাকস্টোরি এর অভাব বোধ করেছি অনেক।


৩.৫০ তারা...
Profile Image for musarboijatra  .
310 reviews440 followers
March 18, 2026
একটা দল, বিপুল সংখ্যক মানুষ যার আদর্শের অন্ধ অনুসারী। একটা দল, তারা তাদের কোড-কে ধর্মজ্ঞানে মানে। দলটা যৌন নিপীড়ককে গলায় ফুল চড়িয়ে বরণ করে, নিজের সিলেবাসের বাইরের বইকে করে নিষিদ্ধ। আশপাশে এই দলটাকে খুঁজে পান?

"
ক্ষমতাহীনদের মনে বিভিন্ন ভ্রান্ত বিশ্বাস সৃষ্টি করার মাধ্যমে ক্ষমতাশালীরা ক্ষমতা ধরে রাখে। তেমন এক বিশ্বাস হচ্ছে জনগণ যেন মনে করে তাদের ক্ষমতা আছে। ক্ষমতার সঙ্গে জনগণের কোনো সম্পর্ক নেই।
ক্ষমতা একটা পেশা। যাদের কাছে ক্ষমতা গুরুত্বপূর্ণ তারা এই পেশায় উন্নতির সাধনায় জীবন কাটায়। প্রকৌশল ভবনে চাষা বা রিকশাওয়ালা বা ব্যবসায়ীর প্রয়োজন নেই। প্রকৌশলী প্রয়োজন। সভ্যতার আদি থেকে এখন পর্যন্ত জনগণের বসবাস তাই ক্ষমতার দালানের বাইরে। সেই কাঠামোতে জনগণ ঢুকতে পারে না। ঢুকতে না দেওয়ায় সময়বিশেষে তারা রাগ করে। রাগ করে কাঠামো চূর্ণ করে। ধ্বংসকর্ম শেষ হলে জনগণ সরে যায়। নতুন দালান তৈরি হয়। জনগণ বাইরে রয়ে যায়।

"

তানজীম রহমান 'ছায়া অবলম্বনে' যে মেটাফরিকাল পলিটিকাল গল্প বলেছেন, তার সাথে আপনি গত কয়েক বছরের উপদ্রবমূলক রাজনৈতিক ঘটনাবলীর মিল পাবেন। অনেক ক্ষেত্রে বাস্তবতার ছায়ায় গল্প, না গল্পের ছায়ায় বাস্তবতা—এই দ্বন্দ্বে পড়তে হবে কারণ বাস্তব ঘটনার মেটাফোর ছাপিয়ে গল্প কখনো কখনো জীবনপ্রাপ্ত হয়েছে। 'গল্পের' থিওলজি কল্পিত, তবে শেষ পর্যায়ে গিয়ে কোনো কারণে বাস্তব ধর্মচিন্তার উপস্থিতি চলে আসে, যেমনটা তাঁর এক-বই-আগের-বই অনামিকা চুপ-এর ক্ষেত্রেও ঘটেছে। এই অনামিকা চুপ, বৃষ্টির দিন ভাড়া বেশি, এরপর ছায়া অবলম্বনে—লেখকের শেষদিকের বইগুলো কোনোভাবে একই ধরণের। উপভোগ করছি বলতে পারছি না। সেদিক থেকে আমার পড়া লেখকের শেষ ভালো বই হবে মহাশূণ্যতায়।

এবারের বইয়ে বেশিকিছু নেই। পড়ে ফেলুন। পড়ে ফেললেই শেষ।

"
মানুষের আসলে শুধু একটাই অনুভূতি আছে। যন্ত্রণা। অন্য যেসবকে আমরা অনুভূতি মনে করি সেগুলো যন্ত্রণার বিভিন্ন রূপ। আনন্দ মানে কিছুক্ষণের জন্য যন্ত্রণা সরে যাওয়া। বিষাদ মানে এমন কারণে যন্ত্রণা পাওয়া যেটার ব্যাপারে কিছু করার নেই। ভালোবাসা হচ্ছে দুজন মানুষের মধ্যে যন্ত্রণা বন্টন সংক্রান্ত চুক্তি। দুঃখ হচ্ছে আকস্মিক বড়ো ধাক্কার মতো যন্ত্রণা। যন্ত্রণা থেকে মুক্তি চাইলে অনুভূতি থেকে মুক্তি পেতে হবে।

"
Profile Image for Akash.
459 reviews194 followers
April 5, 2026
এক্সপেরিমেন্টাল লেখা হিসেবে মোটামুটি ভালো। গল্পে তানজীম রহমানের নিজস্ব ফিলোজফি আর বাস্তবতার প্রয়োগ খুবই আগ্রহ জাগানিয়া। তবে প্লট হিসেবে দুর্বল। আমার টাইপ না আরকি। পেজ টার্নার তাই রিডিং ব্লকে ওয়ান টাইম রিড হিসেবে পড়া যায়।

২.৫*
Profile Image for নাহিয়্যান.
52 reviews4 followers
March 17, 2026
মেটাফরিক্যাল, ফিলোসফিক্যাল, পলিটিক্যাল। তিন জনরার সাথে হরর এর কম্বিনেশন হলো "ছায়া অবলম্বনে"। নিছক হরর ভেবে পড়তে বসলে হয়ত আশাহত হতে হবে। আর্কন এবং অক্টারিনে যে স্ট্রাকচার দেখা গিয়েছিল তার সম্পুর্ন আলাদা স্ট্রাকচারা দেখা গিয়েছে এখানে। তো ছায়া অবলম্বনে পড়ার সময় আগের বইয়ের রেফারেন্স নিয়ে ভাবলে খানিকটা বিরক্তবোধ আসতে পারে। যতটুকু মনে হয়েছে তানজীম ভাইয়ের এক্সপেরিমেন্টাল লেখা এটি।

গত কয়েকবছরে দেশে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা ঘটে গিয়েছে। সেগুলোকে রূপকার্থে গল্পের সাথে বেশ ভালোভাবে ব্লেন্ড করেছেন লেখক।

গল্পের পেসিং ছিল বেশ ভালো। লিখনশৈলী নিয়ে আলাদা করে কিছু বলার নেই। ১২৮ পেজ এর বই শেষ করতে ২/২.৫ ঘন্টা সময় লেগেছে।

বেশি কিছু বলার নেই আর। ভালো থাকবেন সবাই। বইয়ের সাথে ভালো সময় কাটুক।

বই : ছায়া অবলম্বনে
লেখক : তানজীম রহমান
প্রকাশনা : ঋদ্ধ
প্রচ্ছদ : নসীব পঞ্চম জিহাদী
Profile Image for Nusrat Onnesha.
83 reviews
April 27, 2026
জীবন দর্শন সংক্রান্ত ২–৩ টা কথা ছাড়া কিছুই ভালো লাগেনি
Profile Image for Sakib A. Jami.
390 reviews52 followers
June 27, 2026
তানজীম রহমানের লেখা আমার ভালো লাগে তার নিরীক্ষাধর্মী কাজের জন্যই। একই সাথে লেখকের লেখায় সাবলীল ভাব থাকে। পড়তে আরাম লাগে। লেখনশৈলী আর উপস্থাপনার কারণে সাধারণ মানের গল্পও অসাধারণ হয়ে ওঠে।

কিন্তু লেখকের সর্বশেষ প্রকাশিত “ছায়া অবলম্বনে” বইটা আমাকে দুইদিক দিয়েই হতাশ করেছে। পরীক্ষামূলক এই বইটির আগামাথা কিছুই ঠিকঠাক বুঝে উঠতে পারিনি। তেমন করে এত কাঁচা লেখনশৈলী সহজভাবে পড়তে পারিনি। মনে হচ্ছিল নতুন কোনো লেখকের লেখা পড়ছি। লেখক কি নিজের লেখনশৈলী নিয়েও পরীক্ষামূলক কিছু করতে চেয়েছিলেন?

এই বইয়ের মূল ভিত্তি ধর্ম। এখানে যে ধর্মের কথা বলা হয়েছে, তার অনুসারীরা শয়তানের পূজারী। শয়তানকে প্রভু মেনে তাদের ধর্ম পরিচালিত হয়। দাজ্জালকে ওরা মানে প্রভুপুত্র। ইসলাম ধর্মের পুরো বিপরীত। আর এই বাংলাদেশে তাদের কর্ম পরিচালিত হয় বড় সাহেব দ্বারা। দেশের বড় বড় অবস্থানে শয়তানের পূজারীরা আছে।

আমাদের এই গল্পের যে প্রধান চরিত্র, পারিবারিক সূত্রে এই ধর্মের অনুসারী। কিছুদিন আগে বাবা মারা গেছে। যাওয়ার আগে গোপন এক কথা জানিয়ে যায়। বড় সাহেবের সাথে তার বিরোধ ছিল। এমন এক কাজ সে করতে চেয়েছিল, যার প্রধান বাঁধা হয়ে উঠেছিল বড় সাহেব। এই কাজ এখন ছেলেকে করতে হবে। করতে পারলে অসীম ক্ষমতা।

ক্ষমতার লোভ কে না করে? তাই ইফতেখার সেই গোপন কাগজ বের করে কাজে লেগে পড়ে। কিছু একটা ভুল হয়েছে। যে ভয়ংকর শক্তিকে নামাতে চেয়েছিল সে, তার পরিবর্তে হয়তো অন্য কিছু নেমেছে এই পৃথিবীর বুকে। কিংবা তার ভাবনার চেয়েও বিশাল কিছু। এ থেকে মুক্তি পেতে হবে। তার সে ক্ষমতা নেই। তাই স্মরণাপন্ন হতে হয় বড় সাহেবের। আর অনুমতি ব্যতীত এমন এক কান্ড ঘটানোর জন্য তার শাস্তির নির্দেশ দেওয়া হয়। এর শাস্তি মৃত্যুদণ্ড।

ওদিকে ঢাকার রাস্তায় আচমকা কুয়াশার চাদরে ঢেকে গিয়েছে। বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। জায়গায় জায়গায় দেখা যাচ্ছে কালো আলখাল্লাধারী কিছু অবয়বকে। কেউ কেউ স্বপ্ন দেখছে। জীবনের লক্ষ্য খুঁজে পেয়েছে। ঢাকার অদূরে খোলা এক মাঠে জমায়েত হতে হবে। সেখানেই মিলবে মুক্তি। কিন্তু তাদের বাঁধা দেওয়ার জন্যও আছে অনেকে। সব মিলিয়ে যখন এক হযবরল অবস্থা, তখন সেই অবস্থা তাতিয়ে দিয়ে বড় সাহেবের ডেরায় চালানো হয় মব। এতসবের ভিড়ে কোন ঘটনা সত্য, কার শক্তি বেশি; তারই প্রমাণ হবে।

“ছায়া অবলম্বনে” বইটির ঘটনাপ্রবাহের মতো গল্পের অবস্থাও হযবরল। ছোট একটি বই। গল্পের গতি এতই দ্রুত ছিল, মাঝে মাঝে এক কাহিনির গতি ধরতে ধরতে নতুন কাহিনির আগমন। ফলে যেটা হয়েছে, দ্রুত গতির কারণে বইটি তরতরিয়ে এগিয়ে গেলেও কাহিনির সাথে যুক্ত হতে পারিনি। পাঠকের সাথে বইয়ের যে সংযোগ, তার অনুপস্থিতি ছিল বলে মনে হয়েছে।

যে লেখকের বইয়ের গল্প যেমনই হোক, লেখা দিয়ে বাজিমাত করতেন; তার ভাষাশৈলীর এমন দুর্বলতা হতাশ করেছে। পড়ে আরাম পাইনি। অনেকটা রিডিংয়ের মতো পড়েছি। উত্তম পুরুষ ও নাম পুরুষের বর্ণনাও বেশ প্যারা দিয়েছে। এমন হতো না, যদি লেখকের লেখায় তৃপ্তিবোধ করতাম। যেহেতু গল্পটা আকৃষ্ট করতে পারেনি, তাই ঘটনাপ্রবাহে ডুবে থাকার আগ্রহ ব্যাহত হয়েছে।

এখানে যদিও বলা হয়েছে বইটি ভয়ের উপন্যাস, কিন্তু আমার কাছে কোনো ভয়ের উপাদানই ঠিকঠাক লাগেনি। বরং ভয়ের আড়ালে লেখক হয়তো সমাজ ও রাষ্ট্রের অভ্যন্তরে গড়ে ওঠা অসঙ্গতি, রাজনীতি, সমাজনীতি, ধর্মের ক্ষেত্রে স্যাটায়ারের আশ্রয় নিয়েছেন। আরেকটা গুরুত্বপুর্ণ বিষয় মনে হয়েছে, লেখক নিজস্ব দর্শন উপস্থাপনের জন্য এই বইটিকে ব্যবহার করেছেন। এমনিতেই ছোট বই, তার উপর কিছু জায়গায় অপ্রয়োজনীয় দর্শন ঠিকঠাক শোভা পায়নি। অনেকক্ষেত্রে লেখকের দর্শনের সাথে আমার দ্বিমত আছে।

ছোট এই বইটিতে অপ্রয়োজনীয় নিজস্ব দর্শন উপস্থাপনে গুরুত্ব দিলেও, কিছু ক্ষেত্রে লেখক বইয়ের প্রতি অবিচার করেছেন। লেখক বেশ তাড়াহুড়ো করেছেন ঘটনাপ্রবাহ বর্ণনায়। কিছু বর্ণনা সংক্ষিপ্ত। যেখানে আরও ব্যাখ্যার প্রয়োজন হয়তো ছিল। কিংবা আরেকটু সময় নিয়ে কাহিনি বাড়াতে পারলে গল্পের মূল ভিত্তি আরও পোক্ত হতো। কিন্তু কেন জানি লেখক সে চেষ্টা করেননি। হালকার উপর ঝাপসা দিয়েও গল্প শেষ করতে চেয়েছেন।

এমনকি চরিত্রগুলোকেও ঠিকঠাক বিল্ডআপ করা হয়নি। ছোট এই বইয়ে হুটহাট অনেক চরিত্র এসেছে। যাদের কিছুটা প্রয়োজন ছিল। অল্প সময়েই তাদের প্রয়োজন ফুরিয়েছে। কিন্তু মূল চরিত্র যেমন ইফতেখার, জাহাজী, বড় সাহেব, হাযা; এসব চরিত্রের প্রতি লেখক অবিচার করেছেন। কেউই ঠিকঠাক তেমন ফুটে ওঠেনি। ফলে কোনো চরিত্র যে মনের মধ্যে থাকবে তার সুযোগ ছিল না। চরিত্রগুলো ভালো হোক বা খারাপ, বই শেষের পর যদি এদের নিয়ে ভাবনা না আসে তাহলে এটা লেখকের ব্যর্থতা। আমার ক্ষেত্রে এই বইটা শেষ করে স্বস্তিই পেয়েছি। এমন হযবরল ঘটনার বই পড়তে সময় লাগলে বেশ প্যারা লাগত।

তবে লেখকের কল্পনার তারিফ করতে হয়। কিছুক্ষেত্রে বর্ণনা দারুণ ছিল। বিশেষ করে শামসুর বর্ণনায় এক ধরনের শিরশিরানি অনুভূতি হয়েছিল। তেমন অনুভূত হয়েছিল আরেকটা বৃদ্ধার বর্ণনায়। লেখক এখানে ইসলাম ধর্মের ব্যবহার করেছেন। সে নিয়ে আমার সমস্যা নেই। গল্পের প্রয়োজনে আসতেই পারে। তবে লেখক এখানে ধর্ম নিয়ে বেশকিছু সাংঘর্ষিক, স্পর্শকাতর বিষয়ের উল্লেখ করেছেন। হ্যাঁ, এটা বলা যায় যে গল্পের প্রয়োজনে বিষয়গুলো এসেছে। কিন্তু ব্যক্তিগতভাবে আমার বিষয়টা ভালো লাগেনি। কিছু বিষয়ে লেখকের কল্পনার তারিফ করা যায় অবশ্য। শেষের ঘটনাও চলনসই কিন্তু দ্রুত গতির এই বই আর কাহিনির এক পরিস্থিতি থেকে আরেক পরিস্থিতিতে ছুটে চলার কারণে সব মিলিয়ে বই পড়ার অভিজ্ঞতা তেমন একটা সুখকর না।

বইয়ের লাল রংয়ের প্রচ্ছদটা ভালো লেগেছে। ঋদ্ধ প্রকাশের প্রোডাকশন কোয়ালিটিও দারুণ। সম্পাদনাও বেশ ভালো হয়েছে।

তানজীম রহমান আমার পছন্দের একজন লেখক। তিনি যে নিরীক্ষাধর্মী কাজ করেন, আমার ভালো লাগে। তবে সবকিছুরই সীমা পরিসীমা আছে। এমন নিরীক্ষাধর্মী কাজ করতে গিয়ে যদি গল্প বা চরিত্রের উপর অবিচার করা হয়, তাহলে মেনে নেওয়া যায় না। যে সাবলীল ভাষাশৈলীর কারণে লেখকের লেখা পড়ে তৃপ্তি পাওয়া যায়, তার এমন পরিবর্তন বোধগম্য হলো না। লেখকের তার নিজস্বতায় সীমাবদ্ধ থাকা আবশ্যক। গল্পের সীমাবদ্ধতায় না, নিজের লেখনশৈলীর সীমানায় থাকা উচিত ছিল।

▪️বই : ছায়া অবলম্বনে
▪️লেখক : তানজীম রহমান
▪️প্রকাশনী : ঋদ্ধ প্রকাশ
▪️ব্যক্তিগত রেটিং : ২.৫/৫
Profile Image for Shaon Arafat.
105 reviews6 followers
March 26, 2026
এ কথা অনস্বীকার্য যে, তানজীম রহমান একজন অত্যন্ত প্রতিভাবান লেখক। এবং লেখা নিয়ে উনার প্রতিনিয়ত করা নীরিক্ষাগুলো আমি সবসময়ই এপ্রিশিয়েট করি।
তবে এই বইটা ভালো লাগেনি। না গল্প, না গল্প বলার ভঙ্গি - চেষ্টা করেও কিছু ভালো লাগাতে পারিনি। কেবল ভালো লেগেছে মেটাফরিক্যাল কিছু ঘটনা, যদিও ঘটনাগুলোর উপস্থাপনের পদ্ধতি ভালো লাগেনি।
Profile Image for Quazi Sanjid.
142 reviews3 followers
May 2, 2026
রেটিং ৩/৫


মোটামুটি ছিলো। এত বেশি আহামরি কিডনি লক করে দেয়ার মতো স্টোরি না। উপন্যাসের বর্ণনা বেশির ভাগ উত্তম পুরুষেই চলেছে।
লিখায় তেমন জটিলতা নেই।
মাঝে মাঝে কিছু দার্শনিক কথা বার্তাও রয়েছে।
অভারঅল চলনসই৷
মন ছুয়ে দেয়ার মতো উপন্যাসও না।
Profile Image for Farhana Sufi.
515 reviews
June 12, 2026
গল্পের নামকরণ অত কার্যকর মনে হয়নি, কাহিনি ভালো হয়েছে। এটা "বাস্তবিক" ভয়ের গল্প, সাথে সুন্দর সারকাজম আছে।
নারী নির্যাতকদের প্রতিরক্ষার কমিটি, তাদেরকে ফুল দিয়ে বরণ করে আনা, এগুলো বাংলাদেশের কোন সাম্প্রতিক বা পুরানো ঘটনার সাথে একদম সংযুক্ত না! কিন্তু এযুগের লেখকের হাত দিয়ে বের হওয়া পপুলার বইয়ের পাঠকের মাথায় সেই সারকাজম অনুরণন সৃষ্টি করে কিনা দেখার বিষয়, প্রশংসাযোগ্য লেখকের প্রয়াস। এ বই থেকে বেশ কিছু কথাবার্তা কোট করার মতো, একটা টুকে রাখি -

"ক্ষমতা একটা পেশা। যাদের কাছে ক্ষমতা গুরুত্বপূর্ণ তারা এই পেশায় উন্নতির সাধনায় জীবন কাটায়। প্রকৌশল ভবনে চাষা বা রিকশাওয়ালা বা ব্যবসায়ীর প্রয়োজন নেই। প্রকৌশলী প্রয়োজন। সভ্যতার আদি থেকে এখন পর্যন্ত জনগণের বসবাস তাই ক্ষমতার দালানের বাইরে। সেই কাঠামোতে জনগণ ঢুকতে পারে না। ঢুকতে না দেওয়ায় সময়বিশেষে তারা রাগ করে। রাগ করে কাঠামো চূর্ণ করে। ধ্বংসকর্ম শেষ হলে জনগণ সরে যায়। নতুন দালান তৈরি হয়। জনগণ বাইরে রয়ে যায়।"

** আচ্ছা, ভুলে গেছিলাম, ঋদ্ধ প্রকাশের প্রকাশনায় এই বইয়ের পাতায় পাতায় AI তৈরি ছবি, অসম্ভব বিরক্তিকর। একজন শিল্পী যদি সময় নিয়ে খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে ঐ ছবি তৈরি করতেন তাহলে ভালো লাগতো, এইসব AI ছ্যাবলামি ফেসবুক, Book সবখানেই বিরক্তিকর। প্রকাশনায় ১/৫।
Profile Image for শুভাগত দীপ.
329 reviews47 followers
April 30, 2026
ঢাকা শহর জুড়ে গড়ে উঠেছে এক অদ্ভুত কমিউনিটি। এই কমিউনিটির সদস্যরা শয়তানের উপাসনা করে। তাদের কাছে প্রভু শয়তানের প্রতি নির্ভেজাল আনুগত্যই সবকিছু। এই কমিউনিটির যে প্রধান, তাকে সবাই ডাকে বড় সাহেব নামে। বড় সাহেব আর তার পুত্র হাযারের মধ্যে আবার প্রচণ্ড শত্রুতা। ঠিক যেমন আব্রাহামিক ধর্মগ্রন্থগুলোর মতো, যেখানে ঈশ্বর আর শয়তানের মধ্যেকার আবহমান কাল ধরে চলে আসা শত্রুতা তেমন। বড় সাহেবের প্রধান সহকারীর নাম জাহাজী। ইদানীং বড় সাহেবের কাজকর্ম জাহাজীর একদম পছন্দ হচ্ছে না। পুত্র হাযারের সাথে শত্রুতা ভুলে তাকে নিয়ে কি যেন ঘোঁট পাকাচ্ছে বড় সাহেব। আর এসবের শুরুটা হয়েছিলো আরেক শয়তান উপাসক ইখতিয়ারের মাধ্যমে। 


ইখতিয়ারের বাবাও ছিলেন শয়তান উপাসক। মৃত্যুর সময় ছেলের জন্য কিছু মন্ত্রসংবলিত কাগজপত্র রেখে যান। ইখতিয়ার সেই মন্ত্রগুলো পড়ে এক অদ্ভুত রিচুয়াল পালন করে শয়তানের পুত্র দাজ্জালকে এই পৃথিবীতে আহবান করে। আর ঠিক তারপর থেকেই আশেপাশের সবকিছু বদলে যেতে থাকে। যে অপার্থিব সত্ত্বাকে ইখতিয়ার ডেকে এনেছে, তাকেই প্রচণ্ড ভয় পেতে শুরু করে সে। আর এসবের মাঝেই ঢাকার বুকে ঘটতে থাকে একের পর এক ব্যাখ্যার অতীত কিছু ঘটনা। পেশায় ডাক্তার সজীব হায়দার আর তার স্ত্রী সায়মা তাদের একমাত্র ছেলে সৌরভকে নিয়ে অদ্ভুত এক বিপদে পড়ে। তাদের বাড়ির সামনে হঠাৎ করেই ছয়জন মানুষকে দেখা যায়, আসলে যারা মানুষ না। এমনটা শহরের আরো অনেকের সাথেই ঘটে।


আস্থা ত্রিপুরা ঘুমের মাঝে একটা স্বপ্ন দেখে। যেখানে সে একটা বিস্তীর্ণ সবুজ মাঠ ধরে দৌড়াচ্ছে। আস্থার সাথে সেই মাঠে দৌড়াচ্ছে আরো কিছু মানুষ। ঘুম থেকে উঠেই এক ভয়ঙ্কর জিনিস দেখতে পায় মেয়েটা। এক বৃদ্ধা আস্থাকে অনুরোধ করে তাকে খুন করার জন্য। অপার্থিব সব ব্যাপারস্যাপার যেন একসাথে মিলে ঝাঁপিয়ে পড়ে আস্থার ওপর। এদিকে শামসুর ওপর ভর করা প্রাচীন এক জ্বিন ইখতিয়ারের ঘরে কি যেন একটা খুঁজে পেলো। মাথার ওপর মৃত্যুদণ্ড নিয়ে জাহাজীর সাথে দৌড়ে বেড়াতে লাগলো ইখতিয়ার। ঢাকা শহর ধীরে ধীরে ঢেকে যেতে শুরু করলো অদ্ভুত এক কুয়াশায়, যেটার জন্ম এই পৃথিবীতে না।


একটা অজানা অপার্থিব সত্ত্বাকে আহবানের মাধ্যমে শুরু হওয়া এই গল্পের আরেক চরিত্র রাহেলা আলবাহিথ। প্রচণ্ড অনুসন্ধিৎসু স্বভাবের এই মধ্যবয়স্ক মহিলা কি জীবনের প্রকৃত রহস্য জানতে পেরেছিলো। নিজের মনের মধ্যে উদয় হওয়া প্রশ্নগুলোর উত্তর কি পেয়েছিলো সে? ইখতিয়ারের ফ্ল্যাটের ওই ঘরের দরজার ওপাশে থাকা সত্ত্বার কথা অনুযায়ী আর বেশি সময় নেই। কি হবে এরপর? 


'ছায়া অবলম্বনে' এই সময়ের অন্যতম প্রমিসিং লেখক তানজীম রহমানের আরো একটা এক্সপেরিমেন্টাল কাজ। এই উপন্যাসে তিনি হররকে মেটাফোরিক্যালি ব্যবহার করে সমসাময়িক সামাজিক ও রাজনৈতিক অনেক বিষয় বেশ দারুণভাবে পাঠকের সামনে তুলে ধরেছেন। তানজীম রহমানের হরর উপন্যাসগুলো যারা পড়েছেন তারা জানেন, ভয়ের আবহ তৈরিতে তাঁর কোন জুড়ি নেই। 'ছায়া অবলম্বনে' উপন্যাসেও বেশ কিছু সিকোয়েন্স আছে যেখানে তিনি বেশ ভয়ের আবহ সৃষ্টি করেছেন। এই সিকোয়েন্সগুলো পড়ার সময় এগুলোকে সাধারণ হরর বলে মনে হয়নি। বরং মনে হয়েছে সুপারন্যাচারাল আর সাইকোলজিক্যাল হররের ব্লেন্ডে লেখা কিছু পড়ছি। তবে তানজীম রহমানের উপন্যাস হিসেবে যতোটা আশা নিয়ে 'ছায়া অবলম্বনে' পড়া শুরু করেছিলাম, সেই আশার পুরোটা পূরণ হয়নি। এটার লেখক তানজীম রহমান বলেই বারবার মনে হয়েছে উপন্যাসটা আরো কিছুটা ভালো হতে পারতো।


কলেবরে বেশ ছোট একটা উপন্যাস 'ছায়া অবলম্বনে'। এই ছোট কলেবরের মধ্যে তানজীম রহমান স্যাটানিজম, সুপারন্যাচারাল হরর, নোংরা রাজনীতি আর কিছু ছোটখাটো অ্যাকশন সিকোয়েন্সকে একসাথে দেখাতে গিয়ে কোনটাই যেন ঠিক পূর্ণতা পায়নি। অপূর্ণতাটুকু ভালোভাবেই চোখে পড়েছে। এই ব্যাপারগুলো আরো খানিকটা বিকশিত আকারে দেখতে পারলে ভালো হতো। তাতে অবশ্য উপন্যাসটা কলেবরে আরেকটু বাড়তো। তবে 'ছায়া অবলম্বনে' উপন্যাসে তানজীম রহমানের গভীর দার্শনিক আলাপগুলো বেশ উপভোগ করেছি। সেই সাথে স্যাটায়ারের ভঙ্গিতে তুলে ধরা বেশ কিছু সিকোয়েন্স মাঝেমাঝে হাসিয়েছে আমাকে। দুটো উদাহরণ দেই। লেখক তাঁর এই উপন্যাসে যন্ত্রণা, জীবন আর মৃত্যু নিয়ে তাঁর যে দর্শন তুলে ধরেছেন, সেটার সাথে একাত্ম বোধ করেছি আমি৷ আবার মজার ছলে একজন যৌন নিপীড়ককে গলায় ফুলের মালা দিয়ে জেল থেকে মুক্ত করে আনার সিকোয়েন্সটা আমাকে বেশ হাসিয়েছে। এমন একটা ঘটনা গতো বছর নিউজ আর সোশাল মিডিয়ার কল্যাণে আমরা সবাই দেখেছি।


'ছায়া অবলম্বনে' উপন্যাসটাকে পুরোদস্তুর ভয়ের উপন্যাস ভাবলে ভুল হবে। নামের মর্যাদা রাখতে এই উপন্যাসটা আসলেই বেশ কিছু বাস্তব ঘটনার ছায়া অবলম্বনেই লিখেছেন তানজীম রহমান। তবে ভয়ের সিকোয়েন্সগুলোর প্রায় প্রত্যেকটাই আমার কাছে বেশ উপভোগ্য লেগেছে। বিশেষ করে শামসু নামক চরিত্রটার ওপর জ্বিনের পজেশনের জায়গাটা পড়ে সত্যিই বেশ ভয় ভয় লেগেছে আমার। ঢাকা শহরজুড়ে মানুষের মতো দেখতে কিন্তু মানুষ না যে সত্ত্বাগুলোর বর্ণনা আছে এই উপন্যাসে সেগুলোও বেশ ক্রিপি লেগেছে। 'ছায়া অবলম্বনে'-এর প্লট সবদিক দিয়েই বেশ ইউনিক, এই ব্যাপারটা অস্বীকার করার কোন উপায় নেই। এই ধরণের এক্সপেরিমেন্টাল কাজ লেখক তানজীম রহমান আগেও করেছেন। ভবিষ্যতেও করবেন বলে আশা করি। কারণ দর্শন, ভয় আর স্যাটায়ারকে বেশ চমৎকারভাবে পাঠকের সামনে প্রেজেন্ট করার দক্ষতা আছে তাঁর। আর এই কারণেই এমন ইউনিক প্লটের লেখা আমাদের সমসাময়িক সাহিত্যে আরো দরকার বলে মনে হয় আমার।


এই উপন্যাসের ফাইনাল টুইস্ট আর শেষটা বেশ পোয়েটিক লেগেছে আমার কাছে। দারুণ একটা মেসেজ আছে শেষে। 'ছায়া অবলম্বনে' ঋদ্ধ নভেলা ম্যাডনেস প্রোজেক্টের দ্বিতীয় প্রেজেন্টেশন। ঋদ্ধ প্রকাশ এই প্রোজেক্টটা চলমান রাখুক। ছোটখাটো দুই-একটা ভুল বাদ দিলে বইটার সম্পাদনা বেশ ভালো হয়েছে। ভালো লেগেছে এটার প্রচ্ছদ, ইউনিক এন্ড পেপার আর বইয়ের ভেতরের ইলাস্ট্রেশনগুলো। চাইলে পড়ে দেখতে পারেন 'ছায়া অবলম্বনে'। তবে আমি সাজেস্ট করবো নিজের এক্সপেকটেশন একটু কমিয়ে পড়া শুরু করার জন্য। সবার পাঠ শুভ হোক।


ব্যক্তিগত রেটিং: ৩.৫/৫


বই: ছায়া অবলম্বনে 

লেখক: তানজীম রহমান 

প্রকাশক: ঋদ্ধ প্রকাশ 

প্রকাশকাল: ফেব্রুয়ারি, ২০২৬

ঘরানা: হরর থ্রিলার

প্রচ্ছদ: নসিব পঞ্চম জিহাদী 

পৃষ্ঠা: ১২৬

মুদ্রিত মূল্য: ৩০০ টাকা

ফরম্যাট: হার্ডকভার 


(৩০ এপ্রিল, ২০২৬, রাত ৯ টা ১৭ মিনিট; নাটোর)
Profile Image for Mueed Mahtab.
416 reviews
March 29, 2026
ছায়া অবলম্বনে, তানজীম রহমান। Short review...

লেখকের অবয়ব শেষ করতে পারিনি, সম্ভবত ৮৮-৯০ পৃষ্ঠার দিকে গিয়ে আর এগোইনি এরপর বৃষ্টির দিনে ভাড়া বেশি আর ‘ছায়া অবলম্বনে’ উপভোগ করতে পেরেছি বলতে পারছি না।

পুরো বইটা মনোযোগ দিয়ে পড়া হয়নি, অনেকটাই জাস্ট রিডিংয়ের মতো এগিয়ে গেছি। তবে কিছু জায়গায় রিসেন্ট সিচুয়েশন স্যাটায়ার চোখে পড়েছে। সব মিলিয়ে বইটা যেন একটু দৌড়াদৌড়ির মতো লেগেছে। তবে শেষের টুইস্টে এসে মনে হয়েছে যদি একটু মনোযোগ দিয়ে পড়তাম তাহলে হয়তো একটু ভালো লাগতো।
Profile Image for তিথি.
35 reviews20 followers
March 14, 2026
ডার্ক ফ্যান্টাসি কোনো দিন ই আমার জনরা না। কিন্তু ঐ ফ্ল্যাপ পড়ে কেন জানি মনে হলো, আচ্ছা দেখি ই না। শয়তান পূজারী এক কাল্টের কাহিনী দিয়ে শুরু হলেও পড়তে পড়তে হঠাৎ মনে হলো সবটাই রূপক। আমাদের আশেপাশে থাকা মানুষের সাথে, কাহিনির সাথে মিল পাওয়া যাবে নৈতিকতার প্রশ্নে। দেখতে দেখতে গা সওয়া অন্যায় গুলো যে আসলেই অন্যায়, প্রকাশ্যে শয়তানের পুজা না করেও সমাজের অনেকেই চিন্তায় ও কর্মে অনুসারী। নৃশংসতার বর্ণনা এত সুচারুভাবে ভাবে দেওয়া যে আমি একটু স্কিপ করেই পড়তে চেয়েছিলাম।

শেষের টুইস্ট টা ধর্মীয় দৃষ্টিতে যুক্তি তর্কের ফাঁদে পড়ে কি না, এত কিছু নিয়ে ভাবতে ইচ্ছে করছিলো না। তবে আমি পুরোটা ই বেশ এনজয় করেছি।
Profile Image for Ashkin Ayub.
465 reviews233 followers
April 21, 2026



যা কিছু অন্ধকার, আমরা সেটাকে গল্প বানাই; যা কিছু বোঝা যায় না তাকে অলৌকিক বলি; আর যা কিছু আমাদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়, সেটাকে সাহিত্যের নামে স্বীকার করে নিই। এই পুরনো অভ্যাস নিয়েই অনেকদিন পর হাতে নিলাম তানজীম রহমানের ছায়া অবলম্বনে। যেখানে ভয়টা গল্পের চেয়ে বেশি, কিন্তু গল্পটা সবসময় ভয়ের সমান শক্তিশালী হয়ে উঠতে পারে না।

আমাদের এই শহরের ভেতরে আরেকটা শহর আছে। ট্রাই-স্টেটের কফিশপে বসে আইসড আমেরিকানোতে চুমুক দিতে দিতে এই কথাটা আমরা প্রায়ই শুনি। কিন্তু এই বই এসে বলে, শহরের ভেতরে শহর না - শহরের ভেতরে নজরদারি আছে। এমন এক অদৃশ্য বাস্তবতা, যা বর্তমানের সমান্তরালে চলে, কিন্তু অনেক বেশি সূক্ষ্ম, অনেক বেশি নির্দয়।

এখানে তুমি ঘুমাও, কিন্তু স্বপ্নটা তোমার না; তুমি হাঁটো, কিন্তু রাস্তার মোড়ে দাঁড়ানো মানুষটা মানুষ না; তুমি ভাবো তুমি একা, কিন্তু কেউ একজন আগেই তোমার ভাবনাটা লিখে রেখেছে। ডেভিড হিউমের মতে, ধারণা হলো মনের ভেতর আমাদের অভিজ্ঞতার অস্পষ্ট বা দুর্বল রূপ। এইসব ধারণা আমাদেরকে ভয় পাইয়ে দেয় না শুধু, বরং একধরনের অদ্ভুত মুগ্ধতায় বেঁধে ফেলে, কারণ আমরা ভয় পেতে ভালোবাসি, বিশেষ করে সেই ভয়, যা আমাদের দায়মুক্তি দেয়, যেখানে আমরা নিজেদের অসহায়তাকে ফিলোসফি’র কপচানো বলে চালিয়ে দিতে পারি।

আমরা এমন একটা অদ্ভুত সময়ে বাস করি, যেখানে সিসিটিভির নিচে দাঁড়িয়ে ফ্রিডম অব স্পিচের কথা বলি, সরকারি ডাটাবেজের গুরুত্বপূর্ণ ডাটা লিকড হলে নির্বিকারভাবে বলি ‘এতে কি আসে যায়?’ স্টেট-ডিপস্টেটের খেলায় আমাদের রাইটস নিয়ে কোনো বাস্তব উদ্বেগ না থাকলেও, সোশ্যাল মিডিয়ার প্রোপাগন্ডা দেখে আমরা চমকে উঠি, আতঙ্কিত হই, আর সেই অস্বস্তিকেই আমরা লিটারেচারের ভেতরে খুঁজতে যাই।

এই বই ঠিক সেই চমকের ওপর দাঁড়িয়ে আছে। প্রিয় তানজীম রহমান প্রচলিত অর্থে গল্প বলেন না, বরং একটা দীর্ঘ টেনশন তৈরি করেন, এমন এক ছায়া ফেলে দেন আমাদের ওপর, যার উৎস খুঁজতে গিয়ে আমরা বুঝতে পারি যে ছায়ার চেয়ে অন্ধকারটাই বেশি সংগঠিত, বেশি সচেতন। অক্যাল্ট, মনস্তত্ত্ব, ষড়যন্ত্র, দর্শন - একসাথে ধারণ করতে গিয়ে মাঝে মাঝে নিজের ভারে নুয়ে পড়ে, ফলে ছায়াটা বড় হতে থাকে, কিন্তু যার ছায়া সে মানুষটা ক্রমশ অস্পষ্ট হয়ে যায়, চরিত্রগুলো ধারণার ভেতরে গিলে যায়।

আমরা এমন একটা সময়ে বাস করি, যেখানে সত্যি আর গল্পের পার্থক্য খুব পাতলা।

আর ছায়া অবলম্বনে, সেই পাতলা জায়গাটাতেই দাঁড়িয়ে আমাদের চোখে আঙুল দিয়ে বাস্তবতা শেখাতে চায়, আমাদের বিশ্বাসকে প্রশ্ন করতে বাধ্য করে, কিন্তু শেষ পর্যন্ত প্রশ্নটা থেকেই যায়। এই বই কি সত্যিই আমাদের ভেতরে কোনো স্থায়ী অস্বস্তি তৈরি করতে পারে? নাকি বইটা বন্ধ করে আবার সেই একই আলোয় হাঁটতে থাকি, যেখানে ছায়া আছে, কিন্তু আমরা আর তাকাই না।

description
Profile Image for Md Rijvi.
40 reviews1 follower
April 3, 2026
বইটা পড়ার সময় বেশ কয়েকবার মনে হইছে, একটা ফিক্কা মারি। কিন্তু কার উপর ছুড়ে মারবো সেটা আর বের করতে না পারায় মারতে পারিনাই, তার উপর নিজের টাকায় কেনা বই!

বইয়ের আজাইরা কাহিনির রিভিউ দেওয়ারও রুচি আসতেছেনা। অনেকে হয়তো বলতে পারেন লেখক মেটাফরিকালি অনেক কিছু বুঝাইছেন হ্যানত্যান। মেটাফরিকালি বুঝাইলেও এমন অখাদ্য কাহিনি, তার উপর লেখার এমন ধরণ পড়ার মুড এর বারোটা বাজাইতে যথেষ্ট। বইটা পড়তে যে কতটা কষ্ট হইছে বলে বুঝানো যাবেনা। লেখার স্টাইলটাই বিরক্তিকর। মেজাজ গরম করার জন্য এক দুই পেজ পড়া যথেষ্ট যে কারো জন্য।
আর শেষে একটা ধর্মীয় ব্যাপার টেনে কাহিনি মিলাইছে এজইফ খুব বড়সড় সাহিত্য তৈরি হয়ে গেছে।লল।

ঋদ্ধ প্রকাশ কে অনুরোধ এতো সুন্দর প্রোডাকশনে সামনে ভালো কোন কিছু ছাপায়েন।
Profile Image for  Sultan Ahmed .
14 reviews
June 18, 2026
ড্যাম, এট্টুক বইতে কতকিছু ঢুকাইছে এন্ড সো সফিসটিক্যালি! হ্যাটস অফ টু রাইটার। রাইটিং স্টাইল নিয়ে অনেকে অনেককিছু বললেও আমার মনে হইছে ন্যারেশনের সাথে পারফেক্টলি ব্লেন্ড করছে। আবেগহীন সব চরিত্রদের ঘটনাবলী রসকষহীন, বাহুল্যবর্জিত ভাষায় বর্ননা করাটাই যুক্তিযুক্ত।
আমি সেসব রেয়ার ব্রিডারদের একজন হউএ গেলাম যাদের জাহিদ হোসেনের "দুধ চা খেয়ে গু* করে দিব" এবং তানজিম রহমানের "ছায়া অবলম্বনে" ভাল্লাগছে 🤦‍♂️
Profile Image for Redwan Orittro.
445 reviews58 followers
April 3, 2026
Blurb of the book indicated that it's a book on Antichrist and Satanists.

It turned out to be a satire of some of the event of recent times in Bangladesh and a revelation that I was not expecting at all.

An experimental read and I'm biased towards the horror genre so I'll give it a 3 ⭐ rating
Profile Image for Noyon.
59 reviews8 followers
April 7, 2026
পইড়া কোনো মজা পাইলাম না। বিরক্ত হচ্ছিলাম কিসব লেখা জাস্ট
শয়তান পুজারি দাজ্জাল বের করে ফেলতেছে। তারপর নিজস্ব কতগুলো ফিলোসফি ঢুকাই রাখছে।
Profile Image for Sajol Ahmed.
64 reviews2 followers
April 27, 2026
শেষের টুইস্টটা ছাড়া আর কিছুই ভালো লাগেনি।
Profile Image for Sondhyashoshii.
38 reviews6 followers
April 30, 2026
একটা তারা শুধু সমাপ্তিটার জন্য। অপ্রত্যাশিত।
Profile Image for Anindo Adhikary.
58 reviews
June 26, 2026
প্লট ভাল, কিন্তু এত এত চরিত্রের ভিড়ে আর অতিরিক্ত দার্শনিকতার কচকচানিতে নভেলার গতি নষ্ট হয়ে গেছে। ফিনিশিং টাও খাপছাড়া লেগেছে।
Profile Image for Farhan Dioxide.
16 reviews
September 4, 2026
ইখতিয়ার পারিবারিক ভাবে শয়তান পূজারী। পিতার রেখে যাওয়া এক মন্ত্র জপ করে ইবলিস কে ডাকে এবং একে কেন্দ্র করে বাড়তে থাকে ঘটনার জটিলতা। এই গল্প শুধু ইখতিয়ারকে নিয়ে নয় বরং গল্পে আছে এক শয়তান পূজারী সংস্থা এবং আরো কয়েকটি চরিত্র যাদের প্রত্যেকের জীবনের মাধ্যমে কিছু বার্তা দেওয়ার চেষ্টা করেছেন লেখক।

লেখক বইটিতে কিছু জায়গা গোর দৃশ্য রেখেছেন তবে আমি আরো বেশি কিছু আশা করেছিলাম। হরর বই হিসেবে সেরকম থ্রিলিং কিছু পাইনি। গল্পের কন্সেপ্ট ভালো তবে কাহিনিতে আরো একটু বিশৃঙ্খলা থাকলে মন্দ হতো না। লেখক বইয়ের শেষটায় বড় একটা এন্ডিং আর টুইস্ট দেওয়ার চেষ্টা করেছেন, সত্যি বলতে টুইস্ট কিছুটা অপ্রত্যাশিত ছিল।

তানজীম রহমানের লেখা আমার সব সময়ই ভালো লাগে। কিন্তু অনামিকা চুপ বইটির পরের বইগুলোতে ঠিক কেন জানি না তার লেখায় আগের কিছু বৈশিষ্ট্য অনুপস্থিত। যদি লেখকের সিগনেচার লিখন শৈলীর কথা বলি বইয়ের প্রথম দুই অধ্যায় একদম সাদামাটা লেগেছে, পরের অধ্যায় গুলোতে কিছুটা ফিরে এলেও এই ভাইব আবার ধীরে ধীরে হারিয়ে যায়। যে একটা কারণে তানজীম রহমানের নতুন বইয়ের জন্য অপেক্ষা করে বসে থাকি সেই জিনিসটার অনুপস্থিতি হতাশ করেছে।

ব্যক্তিগত একটা মতামত: বইয়ে ব্যবহৃত এআই ছবি গুলো বিরক্তিকর লেগেছে। মূল গল্প থেকে কিছুটা মিসলিডিং ও ছিল।

ছায়া অবলম্বনে
লেখক: তানজীম রহমান
প্রকাশনী: ঋদ্ধ প্রকাশ
Displaying 1 - 29 of 29 reviews