শহরে এসেছে এক নৃশংস আততায়ী। কোনো সূত্র ছাড়াই নির্মমভাবে সে মানুষ শিকার করে, ছিন্নভিন্ন লাশগুলো দেখে আঁতকে উঠছে দেশবাসী। কেসটি সমাধান করতে না পারার ব্যর্থতার দায়ে হোমিসাইডের ইন্সপেক্টর নীলিমাকে অন্য এক কেসে সরিয়ে দেয়া হলো। ঢাকার অলি-গলিতে রাতের আঁধারে বেড়েছে কিশোর গ্যাঙের উৎপাত। বেপরোয়া এই চক্র মানুষকে মেরে ফেলতেও দ্বিধাবোধ করে না। এদের কৌশলে, ফাঁদ পেতে ধরতে হবে। শুরুতে কেসটা সাধারন মনে হলেও আসলে তা নয়। ওদিকে থেমে নেই সেই আততায়ী, লাশের সংখ্যা বেড়েই চলেছে। কী করবে নীলিমা? সহকারী রায়হানকে নিয়ে সে পরিকল্পনা সাজালো, এক কিশোরও ভাগ্যক্রমে জড়িয়ে গেল এসবের সাথে। হামজা নামের সেই কিশোরকে অপহরণ করা হলো। নীলিমা আর রায়হান কি তাকে বাঁচাতে পারবে? শিকার আর শিকারির সংজ্ঞা কীভাবে বদলায়? সাইকো কিলারের গল্প অনেক পড়েছেন হয়তো, কিন্তু একজন সাইকোর কিলার হয়ে ওঠার গল্প এটি। বাপ্পী খানের উপন্যাস “জোনাক” পাঠকদের কাছে সমাজের চিরচেনা অন্ধকার দিকগুলোকে নতুনভাবে তুলে ধরবে।
বইটা অনেক আগে পড়া, খেয়াল ও ছিলনা এটা নিয়ে লিখিনি।🤦♂️ বাপ্পী খান ভাই আসলেই এত ভালো লিখেন যখন এইরকম হালকা ধাঁচের কিছু লিখেন তখন মনে হয় উনার এর থেকে কত দারুণ লেখা আগে পড়েছি। এই বইটাও আমার কাছে ভালো লেগেছে, একদম এক বসায় শেষ করার মতো একটা বই।
মানুষ যখন একই কথা বারবার শুনতে থাকে তখন নিজের অজান্তেই মনে গেঁথে যায়। শৈশবে যদি এই চারা রোপন করা হয় তাহলে তো সময়ের সাথে তা আরও বিকটাকার ধারণ করে। একবার চিন্তা করুন তো কথাটা ভয়ংকর কিছু কিন্তু ব্যক্তি সেটা বুঝতেই পারছে না! এমন পরিস্থিতি কখন হতে পারে? মানসিক দুর্বলতা নাকি বিশৃঙ্খল পরিবেশ?
বসিলা ব্রিজের নিচে পাওয়া যায় এক প্রাণহীন দেহ। কিন্তু দেহের অবস্থা দেখে চমকে ওঠে সবাই। প্রচন্ড হিংস্রতার সাথে যেন আত্মাকে শরীর থেকে আলাদা করা হয়েছে! এতো রাগ, ঘৃণা, হিংস্রতা মানুষের মধ্যে কীভাবে থাকতে পারে? তদন্তের দায়িত্ব পড়ে হোমিসাইড ইন্সপেক্টর নীলিমার কাঁধে। কিছু বুঝে ওঠার আগেই একের পর এক ছিন্নভিন্ন লাশ পাওয়া যেতে থাকে। একজন নাকি কোনো দল আছে এসবের পিছে? ভিক্টিমদের ব্যাকগ্রাউন্ড অনুসন্ধান করে অবাক হয় নীলিমা। প্রত্যেকেই নিপাট ভদ্রলোক। তাহলে কেন কেউ তাদের হত্যা করছে? খুনগুলো কারণ কী?
এক কেসেই যখন হাবুডুবু খাচ্ছে পুরা ডিপার্টমেন্ট সেসময়ে আসে আরও এক কেস। পুরো শহরে ছড়িয়ে পড়েছে একদল কিশোর। যারা অতিষ্ঠ করে তুলেছে শহরবাসীকে। কিশোর গ্যাংকে নিয়ন্ত্রণ করছে কে? এমন সময় জেলের মধ্যে ঘটে এক রহস্যময় হত্যাকান্ড। কোনো যোগসূত্র নেই তো? হঠাৎ অপহরণ হলো এক কিশোর। অপহরণকারী পিছে ধাওয়া করতে যেয়ে পড়লো এক মহা ফ্যাসাদে। যেমনটা ভেবেছিল তার থেকেও ভয়ংকর কিছু অপেক্ষা করছে সামনে!
বইটা শেষ করার পর সমাপ্তির ঘটনাটা মাথায় ঘুরছিল। জোনাক ঘিরে আছে! ইংরেজির একটা প্রবাদ, "Villain are not born, they are made"- এর সাথে পুরোপুরি মিলে যায় বইয়ের প্লট। বহুদিন পর এমন একটা বই পড়লাম যেখানে প্রোটাগনিস্টের থেকেও বেশি ফোকাস এন্টাগোনিস্ট পেয়েছে। এন্টাগোনিস্টের প্রতি মায়াও লাগে। তবে পড়ার সময় সবচেয়ে বেশি রাগ লেগেছে যাদের কারণে এন্টাগোনিস্ট তৈরি হয়।
❝পরকালে সুখের জীবন লাভের জন্য দুনিয়াতে পরীক্ষা দিতে হইবো। কষ্টের পরীক্ষা। ভালা মানুষেরা দুনিয়াতে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত যত কষ্ট পাইবো, আখিরাতে তারা তত বেশি সুখের জীবন লাভ করবো। মনে রাখবেন, দুনিয়ায় দম ফুরানোর আগে যত কষ্ট, ততই আখিরাতে সম্মান আর সুখ।❞
উপরের প্যারাটা পড়ে সম্ভবত ভাবছেন ধর্মের কোনো কথা বলছি কিনা। বইয়ের ভিক্টিমদের সাথে একটা গভীর যোগসূত্র আছে। তবে এই প্যারা উল্লেখ করার কারণ ভিন্ন। ভার্সিটি লাইফে হলে থাকার সময় আমাদের রুমের কয়েক রুম পড়েই একজন হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়ে। তবে সবচেয়ে বেশি অবাক হয়েছিলাম অসুস্থতার কারণ শুনে। জীবনে সবকিছু কেন ঠিকঠাক চলছে এই চিন্তায় অসুস্থ হয়ে পড়েছিল! কোথায় বলে শুনেছে খুব খারাপ কিছু হওয়ার আগে সবকিছু ভালো হয়। ভবিষ্যৎ খারাপের ভয়েই সে কাবু হয়ে গেছিল। বইয়ের এই অংশ অতীতের সেসময়ের ঘটনা মনে করিয়ে দিয়েছে।
ছোট বই তবুও ঘটনাগুলো ধীরগতিতেই এগিয়েছে। একদিকে বর্তমানের ঘটনা অন্যদিকে অতীত স্মৃতিচারণা একসাথেই চলতে থাকে। খুব বেশি কাহিনি নেই আসলে। মাঝামাঝি যেতেই বুঝে গেছিলাম এন্টাগোনিস্ট কে হতে পারে। যাইহোক, বইয়ে তেমন জটিল মারপ্যাঁচ বা টুইস্ট নেই। লেখকের অন্যান্য বইয়ের তুলনায় "জোনাক" সাদামাটায় বলা চলে। লেখনশৈলী নিয়ে নতুন করে কিছু বলার নেই। সাবলীল। আরও রহস্য থাকবে আশা করেছিলাম। বেশি আশা করার জন্যই হতাশার পরিমাণ বেড়ে গেছে।
বইয়ের নাম: জোনাক লেখক: বাপ্পী খান জনরা: সাইকোলজিক্যাল থ্রিলার প্রকাশনী: বাতিঘর প্রকাশনী প্রকাশকাল: ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ প্রচ্ছদ শিল্পী: বাপ্পী খান পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১২০ মুদ্রিত মূল্য: ২৪০/-
বাপ্পী ভাইয়ের থেকে এইটা একদমই অপ্রত্যাশিত। তার অন্ধকার সিরিজের একজন পাগলা ফ্যান বলতে গেলে আমি। বুনো সিরিজেরও। কিন্তু এইটা একদম গতানুগতিক। গল্পে কোন নতুনত্ব নেই। গভীরতা বলতেও কিছু নেই। অভিমান করেই এক তারা দিলুম।
পড়লাম বাপ্পি খানের নতুন বই ‘জোনাক’ কিন্তু সত্যি বলতে, কী পড়লাম আমি?
এমন একটা বই, যার প্রতিটা বর্ণ আমি মনোযোগ দিয়ে পড়েছি। কারণ বইটা ঠিক সেভাবেই লেখা পড়তে বসলে অন্য কিছু মাথায়ই আসে না। বইটা পড়তে যে সময়টা দিয়েছি, সেই সময়টায় যেন আমি পুরোপুরি গল্পের ভেতরেই ডুবে ছিলাম।
আমি বই পড়ার সময় ছোটখাটো অনেক বিষয়েও খেয়াল করি কারণ আমার পারফেক্ট বই পড়তে ভালো লাগে। শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত কিছু জায়গায় আমার মনে প্রশ্ন জেগেছে ঠিকই কিন্তু ভালো লাগার বিষয় হলো লেখক প্রায় সব প্রশ্নেরই উত্তর দিয়েছেন।
একটা সময় মনে হয়েছিল, লেখক হয়তো শেষে কোনো অদ্ভুত বা অযৌক্তিক কিছু দেখাবেন যা বইটার উপর বিরক্তি তৈরি করতে পারে। কিন্তু না তিনি গল্পের মোড় ঘুরিয়েছেন ঠিকই তবে তিনি সেটি করেছেন খুবই যৌক্তিকভাবে।
লেখকের আরেকটা দিক আমার চোখে পড়েছে, পশুপাখির প্রতি তার ভালোবাসা। গল্পের ভেতর দিয়ে এই অনুভূতিটা স্পষ্টভাবে প্রকাশ পেয়েছে যা সত্যিই ইতিবাচক লেগেছে।
তবে ব্যক্তিগতভাবে আমার মনে হয়েছে, শেষে যেভাবে গল্পের মোড় ঘুরেছে সেখানে যারা খুন হয়েছেন তাদের নিয়ে একটু বর্ণনা থাকলে ভালো হতো। একদমই যেন কিছু নেই সে বিষয়ে। সেগুলো থাকলে গল্পটা আরও পরিষ্কারভাবে বোঝা যেত। যদিও প্রশ্ন থাকে, তাহলে কি শেষটা আগে ধরে ফেলার সম্ভাবনা তৈরি হতো? আমার মনে হয় না। লেখক চাইলে এমনভাবেও লিখতে পারতেন যাতে পাঠক শেষ মুহূর্তে ধাক্কা খায়।
তবুও হয়তো লেখকের মনে হয়েছে অপ্রয়োজনীয় কিছু না রাখাই ভালো।
সব মিলিয়ে এটি একদম ছোট একটি উপন্যাস, এক বসাতেই পড়ে শেষ করলাম। লেখক কোথাও অযথা বাড়িয়ে লেখেননি, নেই কোনো অযৌক্তিক ঘটনা। আধুনিক সামাজিক প্রেক্ষাপটের একটি গল্প। সময়টা সত্যিই ভালো কেটেছে।
এবার গল্পটা নিয়ে একটু কথা বলি, বাচ্চাদের সুন্দর ভবিষ্যৎ দিন। প্রতিটা বাচ্চার ভবিষ্যৎ সুন্দর করার চেষ্টা করুন। এটাই।
বই: জোনাক লেখক: বাপ্পী খান জনরা: সাইকোলজিক্যাল/ক্রাইম থ্রিলার প্রচ্ছদ: বাপ্পী খান পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১২০ প্রথম প্রকাশ: ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ প্রকাশক: বাতিঘর প্রকাশনী মুদ্রিত মূল্য: ২৪০ টাকা
⭐ পার্সোনাল রেটিং: ৫.০/৫.০
ঢাকা শহরের বিভিন্ন স্থানে ঘটে চলেছে একের পর এক খু*ন। খু*নের নৃশংসতার ধরণ দেখে সেগুলো কোনো সিরিয়াল কিলারের কাজ বুঝা গেলেও মিলছে না কোনো সূত্র। মৃ*ত ব্যক্তিদের একে অপরের সাথে নেই কোনো সম্পর্কও। যখন কেসের কোনো কূলকিনারা পাওয়া যাচ্ছিল না, ঠিক তখনই এই তদন্তের দায়িত্বে থাকা হোমিসাইড ইন্সপেক্টর নীলিমাকে অকস্মাৎ বদলি করে দেওয়া হয় সম্প্রতি গণহারে সংঘটিত কিশোর অপরাধগুলোর সমাধান খুঁজতে। তার সহকারী হয় রায়হান। ঘটনাচক্রে তাদের সাথে এক কিশোরের সাক্ষাৎ ঘটে, সে কেসের কিছু ক্লু দিলেও একসময় তাকেই অপহরণ করা হয়। কি ঘটেছিলো সেই কিশোর, হামজার সাথে?
অন্যদিকে ছোট থেকে মায়ের সাথে নির্যাতন হওয়ার বর্ণনা দেওয়া রতনই বা কে ছিলো? একের পর এক ঘটে চলে সেই নৃশংস সিরিয়াল কিলিংগুলোর সাথে কি এই কিশোর অপরাধ গ্যাং কোনোভাবে যুক্ত? নীলিমা কি পারবে শেষ পর্যন্ত হোমিসাইডের কেসটা সমাধান করতে? এই সব প্রশ্নের উত্তর জানতে পড়বে হবে বাপ্পী খানের নতুন বই “জোনাক”।
ব্যক্তিগত অভিমত: “জোনাক” বইটা দিয়ে বাপ্পী খান ভাইয়ের লেখা প্রথমবারের মতো পড়ার সুযোগ হলো। বইয়ের নাম দেখে প্রথমেই পাঠকের মনে যে প্রশ্নটা আসবে তা হলো গল্পের নামে জোনাক বা জোনাকি পোকা কি কোনোভাবে সম্পর্কযুক্ত? না, সরাসরি জোনাকি পোকার কোনো সম্পর্ক নেই এই গল্পের সাথে, তবে গল্পের প্লট ও দৃশ্যায়নের ক্ষেত্রে জোনাকের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।
বইটা শুরুর দিকে ক্রাইম থ্রিলার বলে মনে হলেও পড়ার একটা পর্যায়ে গিয়ে আমি কনফিউজড হয়ে গিয়েছিলাম যে এটা কি আসলে ক্রাইম থ্রিলার নাকি সাইকোলজিক্যাল থ্রিলার! তবে দুটোর কম্বিনেশন বললেও বোধহয় ভুল হবে না।
“জোনাক” বইয়ে লেখক তার সুনিপুণ লেখনশৈলীর মাধ্যমে আমাদের অতিপরিচিত ঢাকা শহরের একটি বাস্তব প্রতিচ্ছবি তুলে ধরেছেন। এখানে দিনের বেলায় যেসকল ছোট ছোট শিশু-কিশোরদের আমরা খেলার মাঠে মেতে থাকতে দেখি, রাতের অন্ধকার নামার সাথে সাথেই পেটের তাগিদে যে তারা কতটা বর্বর ও ভয়াবহ অপরাধী হয়ে উঠতে পারে— তারই কিছু প্রাণবন্ত দৃশ্য লেখক তার গল্পে ফুটিয়ে তুলেছেন। এছাড়াও এক ধরণের বিকৃত মানসিকতার অপরাধীর কারণে কিছু নির্দোষ মানুষ কতটা পৈশাচিক মৃ*ত্যুর মুখোমুখি হয়, তারও একটি গা হিম করা বর্ণনা পাঠক এই বইটিতে পাবেন।
বইয়ের যেই দিকটি আমার সবথেকে বেশি ভালো লেগেছে তা হলো হামজা-র চরিত্রটি। কিভাবে নিম্নবিত্ত পরিবারের নিষ্পাপ শিশুরা প্রতিনিয়ত পারিবারিক নির্যাতনেরা প্রত্যক্ষদর্শী ও ভুক্তভোগী হওয়ার কারণে তাদের মনের সরলতা মুছে গিয়ে সেখানে গড়ে উঠে এক ভয়াবহ অপরাধী সত্ত্বা, তার বাস্তব এক উদাহরণ হলো হামজা। শুধু ঢাকা শহরই নয়, গোটা বিশ্বজুড়ে যে এক ভয়াবহ ডিস্টোপিয়ান সমাজব্যবস্থা গড়ে উঠেছে, তার শিকার এই হামজা-র মতো কিছু নিষ্পাপ ও নিরপরাধ শিশু, যাদের শৈশবের সজীবতা হারিয়ে যায় শহরের যান্ত্রিকতার রোষানলে আর পরিণত হয় মুখোশধারী ক্রিমিনালে।
গল্পের পরবর্তী কাহিনী কি হতে চলেছে, সেই সম্পর্কে যদিও কিছুটা পূর্বানুমান করতে পেরেছিলাম, তবে শেষের এন্ডিংটা আমার কাছে অসাধারণ লেগেছে। পুরো কাহিনীটাকে বাস্তব একটা রূপ দেওয়ার জন্যে এইরকম একটা এন্ডিংয়েরই হয়তো দরকার ছিলো, যেখানে লেখক পুরোপুরি সফল হয়েছেন।
প্রচ্ছদ: বইয়ের প্রচ্ছদ করেছেন লেখক স্বয়ং। এটিকে মূল গল্পের ক্লাইমেক্সের একটা খন্ডচিত্র বলা যেতে পারে।
একটা মানুষ এমনি এমনি কখনো খুনি হয় না, পিছনে থাকে বড় কোনো কারণ বা অন্ধকার অতীত যার প্রভাবে সে খুনি হয়ে যায়। বিনা সংকোচে মানুষ খুন করতে থাকে। "জোনাক" ঠিক তেমনি এক খুন আর খুনির গল্প। ঢকা শহরে হুট করেই কিছু মানুষ খুব নৃশংস ভাবে খুন হতে থাকে। শুরুতে সবাই সিরিয়াল কিলার ভাবলেও পরে বুঝতে পারে এটা সিরিয়াল কিলারের কাজ না। কারণ খুন করা ব্যাক্তিদের কারও সাথে কোনো যোগসাজশ নেই। হোমিসাইডের অগিসার নীলিমার উপর দায়িত্ব পড়ে এই খুনিকে বের করতে কিন্ত সে ব্যর্থ হওয়ায় তাকে আরেকটা কেসে দায়িত্ব দেয়া হয় যেখানে কিশোর গ্যাং জড়িত। শুরু হয় আরেক কেস, আরেক শত্রু ধরার রহস্য। নীলিমা কি পারবে এই কেস সলভ করতে? আর শহরে যে খুন হচ্ছে তাকেই বা ধরতে পারবে কি না? এক বইয়ে দুই রহস্য বলা যায়। বেশিরভাগ গল্পে দেখা যায় খুনী খুন করে খারাপ লোকদের কিন্ত এই গল্পে পুরোটাই উল্টো কিন্ত কেন? লেখক খুব সুন্দরভাবে কাহিনী বুনেছে। প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত টানা পড়ে গেছি। শেষের চমকটা আগে থেকে ধরতে পারিনি, ভাবিইনি এমন কিছু হবে। কিশোর গ্যাংয়ের বিষয়ে অনেক কিছু ফুটে উঠেছে। দ্রুত গতীর এক থ্রিলার বই এটা। যারা থ্রিলার বই পছন্দ করে তাদের জন্য এই বই। ছোট্ট হলেও ঝাঝ আছে। সবশেষে পরিবেশের উপরই একটা শিশুর মানসিক পরিবর্তনে সাহায্য করে। বই: জোনাক লেখক: বাপ্পী খান প্রকাশনী: বাতিঘর প্রকাশনী
বাপ্পি খানের লেখা আমার আগে পড়া হয়েছে। ভদ্রলোক বেশ ভালোই লেখেন। বিশেষ করে তার হরর আমার কাছে বেশ সিনেম্যাটিক মনে হয়েছে। এই বইয়েরও লেখার মান ভালো। সহজ, সাবলীল। পড়তে বেশি বেগ পেতে হয় না। সহজেই গল্পের ভেতর প্রবেশ করা যায়। একদিকে তদন্ত চলছে অপরদিকে খুনীর গল্পও শুনছি। পাশাপাশি দুইটাই এগোতে থাকে। কিন্তু আমার যেটা ভালো লাগেনি তা হলো। আহামরি কোনো নতুনত্ব নেই। সেই ওল্ডস্কুল থ্রিলার। একের পর এক খুব হচ্ছে। কেনো হচ্ছে? পসিবল দুই একটা রিজন আমাদের মাথায় যেটা আসবে ঐটাই কারণ। খুব বেশি থ্রিলড হবার সুযোগ পাইনি আমি আসলে। খুনির প্রতি এক প্রকার সিম্প্যাথি আমাদের আসার কথাই ছিল। লেখকও সেটাই চেয়েছেন কিন্তু পরিচিত কন্সেপ্ট বিধায় সেটা আসেনি আমার। কিশোর গ্যাংয়ের একটা বিষয়কে এখানে তুলে ধরা হয়েছে কিন্তু পড়লে বোঝা যায় বেশ সারফেস লেভেলের আলাপ সেখানে। খুব বেশি গভীরে যেয়ে এই ম্যাটার টা এখানে তুলে ধরা হয়নি। শেষ অধ্যায়টা সুন্দর। ভেবে ভালো লেগেছে। আপাতত এই।