বাংলাদেশে ভাল মানের এস্পিওনাজ থ্রিলার খুবই কম। তাদের মধ্যেও যে ক'টি কাজ উল্লেখযোগ্য সেখানে অন্যতম উজ্জ্বল তারকা হল জাবেদ রাসিন এবং তাকরীম ফুয়াদের মিলিত প্রচেষ্টার ফলাফল 'সার্কেল' ট্রিলজি। এদেশের প্রেক্ষাপটে লেখা, এদেশের মাটিতে ঘটা, এদেশিয় চরিত্রদের নিয়ে এমন রুদ্ধশ্বাস স্পাই থ্রিলার খুব একটা নেই।
১ম বইটি মূলত চরিত্র চিত্রায়ন এবং প্লট ডেভেলপমেন্টের পিছনে বেশি সময় নিয়েছে বিধায় এখানে ঘটনার ঘনঘটা অপেক্ষাকৃত কম (তাও যা আছে মন্দ নয়), ব্যাকস্টোরিতেই ব্যয় হয়েছে অনেকখানি অংশ কিন্তু পরের দু'টি বই 'সার্কেল' এবং 'ডগমা' এর কাহিনী মেলে ধরতে এটি অগ্রগণ্য ভূমিকা রেখেছে।
প্রশংসা তো করলাম এবার দোষগুলোও উল্লেখ করি। কাহিনীকে সুন্দরভাবে ফুটিয়ে তুলতে গেলে বইয়ের ভাষা প্রাঞ্জল হওয়া বাঞ্চনীয়। কিন্তু এ বইয়ের ভাষা মারাত্নক রসকষহীন, বেশ কিছু জায়গায় বাহুল্য দোষে দুষ্ট। বই থেকে কয়েকটি লাইন তুলে দিচ্ছি (কোন স্পয়লার নয়, বইটি পড়লেই বুঝতে পারবেন) -
"এক প্রভাবশালী লোকের ছেলেকে কিডন্যাপ করে বান্দরবানে নিয়ে যাওয়া হয়। লোকটি প্রভাবশালী হওয়ায় সেনাবাহিনীকে তলব করা হয় ছেলেটিকে উদ্ধারের জন্য। ওই মিশনে আটজন সৈন্যসহ আমিনকে পাঠানো হয় ছেলেটিকে উদ্ধারের জন্য।"
মাত্র তিনটি বাক্যে 'প্রভাবশালী' এবং 'ছেলেটিকে উদ্ধারের জন্য' - এ দু'টি কথা এতবার কেন! এতে রচনার শিল্পগুণ নষ্ট হয়েছে। এভাবেও তো লেখা যেতে পারত -
"একজন প্রভাবশালী লোকের ছেলেকে কিডন্যাপ করে বান্দরবানে নিয়ে যাওয়া হয়। সাধারন হিসেবে, ছেলেটিকে উদ্ধারের দায়িত্ব পড়ার কথা র্যাব এবং পুলিশবাহিনীর হাতে। কিন্তু বান্দরবানের মত দুর্গম এলাকা এবং বিশেষত, ছেলেটির বাবা প্রভাবশালী হওয়াতে উদ্ধারকার্যের ভার পড়ে সেনাবাহিনীর উপর। ওই মিশনে যে আটজন দক্ষ সৈনিক অংশ নিয়েছিলেন, কর্নেল আমিন ছিলেন তাদের একজন। তখন অবশ্য তিনি কর্নেল ছিলেন না, ছিলেন একজন সাধারন ক্যাপ্টেন।"
একজন সাধারন পাঠক হিসেবে আমি যদি এটুকু লিখতে পারি তাহলে তো লেখক সাহেবের আরও একশগুণ পারার কথা৷ তার সাহিত্যজ্ঞান নিঃসন্দেহে আমার চেয়ে অনেক ভাল। কিন্তু বইয়ের পুরোটা জুড়েই এমন কাঠখোট্টা ভাষার ছড়াছড়ি। এ হিসেবে ডা: তৌফির হাসান উর রকিব সাহেবের প্রশংসা করি, তাঁর লেখায় তিনি উপমা এবং প্রতিশব্দ ব্যবহার করতে কখনো কার্পন্য করেন না, এতে তাঁর সাহিত্যের ভাষা জোরালো হয়, পড়ার সময় দৃশ্যপট চোখের সামনে ভেসে ওঠে, পাঠকের মনে সুখানুভূতি হয়।
যাহোক, নেগেটিভিটি ছাপিয়ে পজিটিভিটির দিকেই মনোনিবেশ করি, পার্সোনাল রেটিং ৩/৫