সূত্রাপুরের ফাইভ স্টার ভাতের হোটেলের মালিকের ছেলে মাখন হয়ে উঠছে এলাকার নিরাপদ প্রেমিক, তার বোকা চোখ সেই সূত্র জানে, যা আর কেউ জানে না। রূপসা ব্রিজের হঠাৎ বাজারে তিনশো টাকা কেজি দরে বিক্রি হওয়া গলদা চিংড়ির পানসে মাথাগুলোর বিপরীতে জমে ওঠে লতিফা নানির বেমানান গোলাপবালা আর বাবুল দাঁতের মাজনওয়ালার সুর। প্রতিদিনের কোলাহলে সে সুর ছিটকে পড়ে এখানে-সেখানে। হাতে তুলে মুক্তোর মতন যত্নে রেখে দেওয়া যায়, কিংবা ওই নালার জলে ঝুপুত করে ছুড়ে ফেলে দেওয়া যায় সে সুর। টুটপাড়ার স্যাঁতস্যাঁতে লালবাড়িটার আনাচেকানাচে মনা খুঁজছে বলিরেখার ভাঁজে কুঁজো হয়ে যাওয়া অতীত। অতীত কি মায়ের মতন, খুঁজে পাওয়া এত সহজ! এমদাদ সাহেব চুড়িহাট্টার ওয়াহিদ ম্যানশনের পাশে বসে থাকে প্রতি বিকেলে, বন্দোবস্ত করে ভালোবাসা শূন্য ঘুমের। তবু স্বপ্ন জাপটে ধরে তাকে, রোদের মতন কিংবা অসুখী ঝড়ের মতন। ভাগলপুরের এক টুকরো জমিতে ডালপালা ছড়িয়ে বেঁচে থাকা আসমানী বেগমের আছে এক গোপন আয়না। বইমেলার বেস্টসেলার লেখকের আঙুল ফুঁড়ে জেগে উঠছে যে বাস্তবতা, জাদুকেও অতিক্রম করে যাচ্ছে তা। এ শহরের পেটমোটা কুয়োয় জলহীন আটকে পড়া প্রতিদিনের মানুষের মতনই তারা- খুঁজে পেলে গল্প, নইলে সব ঝাপসা। আর এদিকে গ্রিনরোডের গলি ছেড়ে, এগলি-ওগলি তারপর ঢাকা শহরজুড়ে টুকরো টুকরো ছড়িয়ে যাবে একদিন মনিকার মসলার কৌটোগুলো। এ শহরের কালো আকাশের গায়ে সে রং আর ঘ্রাণ লেপটে আছে। দেখা যায়, না?
Kizzy Tahnin is a contemporary Fiction Writer currently living in Bangladesh. Kizzy is a free spirited soul who is aware of and understands the wider world - and their place in it. She writes to create the world that no one ever seen, the characters no one ever met before.
She has written 3 books and numerous stories both published and yet to be published in national and international literary magazines. Her stories are being translated and published into English.
Publications in Bangla: 1. Der Nambari 2.Budh Grohe Chad Utheche 3.. Ache Ebong Nai 4. Iccher Manchitra
She is a development worker by profession and has been working for more than 7 years to promote and safeguard Culture and Heritage. In early 2016, The Department of Foreign Affairs and Trade of Australia selected Kizzy from Bangladesh for their documentary, named “Story of My Life“ https://www.youtube.com/watch?v=eNTok....
কিযী তাহনিনের গল্পগ্রন্থ পড়তে ভালো লাগে, তা সর্বাঙ্গসুন্দর না হলেও। এই বইতে সবচেয়ে পছন্দ হলো শেষ দুটো গল্প - পেটমোটা শহরে আর মসলার কৌটা।লেখিকার সরল গদ্যশৈলী, রসবোধ আর বহুবর্ণিল নারীচরিত্রদের বেশ আকর্ষণীয় মনে হয়। গল্প নির্বাচনে আরেকটু সচেতন হওয়া উচিত তার।
Every good recipe goes through miserable failures on the development phase, which are rejected. You gather those rejects, put them in a jar, and call that মসলার কৌটা. That's what this book is... except for 3 or 4 stories maybe. Not all works an artist make have to show up.
অন্যমনে রাস্তায় হাঁটার সময় পরিচিত বা ঘনিষ্ঠ কেউ খপ করে হাত ধরে ফেললে যেই অনুভূতিটা হয়, কিযী তাহনিনের গল্পগুলোর শুরুটা ঠিক তেমনই। একদম দেড় দুই লাইনের মাথায় বসিয়ে দিবে প্লটের মধ্যে, এক কাপ চা নিয়ে পা মুড়ে সোফায় যেমনে বসি। আর শেষ পর্যন্ত এই মনোযোগটা ধরেই রাখেন, অত ফ্লাওয়ারি প্রেজেন্টেশন ছাড়াই, কেমন যেন এক আরাম আরাম লেখা। এই বইতে নয়টা ছোটগল্প আছে। লেখার মান ভালো, পড়তে আরাম। চারটা গল্প খুবই ভালো লাগছে (নামগল্প মসলার কৌটা, আসমানী বেগমের আয়না, পেটমোটা শহরে আর কালিজিরার ঘ্রাণ)। বাকিগুলা কেন যেন একটু চ্যানেলিং হয় নাই ঠিকমতো, কি যেন নাই, টপিক মনমতো হয় নাই আর কি; তবে তার মানে এই না যে পড়তে খারাপ লাগছে। উনার চনর্কি পড়ছিলাম গত বছর। খুবই প্রিয় একটা উপন্যাস। এইটা পড়ার পর উনার আগের বইগুলো পড়বার আগ্রহ আরো বাড়লো।
অনেকদিন পর ভাললাগার মত একটা গল্পগ্রন্থ পড়লাম। আটপৌরে জীবনের সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে থাকা বিষয়ক গল্প। হতাশাবাদি গল্প বা ডিস্টোপিয়া পড়ে পড়ে হাপিয়ে উঠেছিলাম, তারপর এই গল্পগ্রন্থ যেন ফ্রেশ একটা বাতাসে দম নেবার মত বোধ হল। সব গল্পগুলোই কম-বেশি ভাললেগেছে। এর মধ্যে বেশি ভাললাগার গল্পগুলো হলঃ নিরাপদ প্রেমিক, কালিজিরার ঘ্রাণ এবং মসলার কৌটা। কিযী তাহনিনের আরো লেখা পড়ার প্রত্যাশায়, যে লেখাগুলো সহজ সরল এবং ফিল গুড টাইপের হবে।
২০২৬ রিভিউ বিষয়ঃ বই রিভিউঃ ১৫ বই : মশলার কৌটা লেখকঃ কিযী তাহনিন প্রচ্ছদঃ সৌরভ চৌধুরী জঁরাঃ ছোট গল্প সংকলন
বলুন তো গরম মশলার কৌটোতে কী কী থাকে? সব মশলার মিশ্র একটা ঘ্রাণ ভালো লাগে, তাই না? একেক মশলার একেক গুণ, আর সব মিলেই রান্নার স্বাদকে বহুগুণে বাড়িয়ে দেয়!
হরেক রকম মশলার, হরেক রকম কৌটো, ঠিক তেমনি এই বইটাতে হরেক স্বাদের গল্প। এক গল্পের নায়ক নিরাপদ নির্ভেজাল প্রেমিক, তার প্রাক্তন প্রেমিকাদের আবার সংঘ আছে, আয়োজন করে তাদের নিরাপদ প্রেমের গল্প চলে। এক থুড়থুড়ে বুড়ির গপ্পো আছে, যার কারণেই গড়ে ওঠে হঠাৎ বাজার। সেই লতিফা নানীর হাতের গোলাপ বালার প্রতি নজর সবার, কেবল বাবুল দাঁতের মাজনওয়ালা বাদে।
মরচে পড়া, স্যাঁতসেঁতে বাড়ি ভেংগে ফেলার আগে কৈশর খুঁজতে আসে এক নারী। মায়ের পুরানো ট্রাংকে কী আছে? কার কৈশরের গন্ধ আটকে রাখা ওখানে? কারো অপেক্ষা ভালোবাসা শুণ্য ঘুমের। কেউ পপ সম্রাট আজম খানের মাঝে নিজের বন্ধু আজমকে হয়তো খোঁজ করে।
অন্ধের যষ্টি মানিককে হারিয়ে ফেলে আসমানী। স্বামী তো আগেই গত, তিন সন্তান নিয়ে ধুকে ধুকে চলতে চলতে একদিন খুঁজে পায় খুব গোপন কিছু। রকি চিঠি লিখে নিজের অতীত মনে করতে চাইছে। কিন্তু অতীত মনে করা এত সহজ? ভুলে যাওয়া অধ্যায় কেনইবা মনে করতে হবে?
এক দিন লেখকের আঙ্গুল ফুলে কলা গাছের বদলে জন্ম নেয় রজনীগন্ধা কিংবা হলদে গোলাপ, এক দিক থেকে এই শরীরের পরজীবি গাছ থেকে মুক্তি চায়ছে সে, অন্যদিকে ঝরা পাতা দেখে এক রাশ মন খারাপ। সে চায় না এই গাছ মরে যাক। কিন্তু কেন?
পেটমোটা টিফিন বাটি ফেলে হারিয়ে যায় এক কর্মচারী! তাকে ছাড়া যে অফিস অচল! কে তার খোঁজ করবে, যে নিজে হারায় তাকে খুঁজে পাওয়া সম্ভব? কারণ কী সেই হারিয়ে যাবার?
মনিকার মত অনেকের জীবনে, যত্ন করে সাজানো মশলার কৌটোগুলো বার বার চুরমার হয়ে যায়! মশলার সাথে আর স্বাদে মিশে যায় কাঁচের গুড়ো। আবার যাযাবরের মত জীবন বেছে নেয়া লাগে।
ছোটগল্পের সারমর্ম আসলে দেয়া বেশ শক্ত। তাও ২-৪ কথায় গল্পগুলোর আঁচ দেয়ার চেষ্টা করলাম। প্রতিটা গল্পই আমাদের জীবনের চেনা কারো গল্প হয়তো। মশলার ঘ্রাণের মতই জীবনের সাথে মিশে যায়। প্রায় সবগুলো গল্প পড়ে মনে হবে, আরে এই তো আমার চেনা-জানা বহু বছরের পরিচিত গল্প।
কৈশোর খোঁজ করা কিংবা কিছু হারানোর ভয়ে কোন কাজ করার যে দোটানা কিংবা মশলার কৌটো না বদলে বছরের পর বছর ধরে সেই একই কৌটো সাজিয়ে রাখার গল্প। উড়ে এসে জুড়ে বসে কেউ সব বদলে দেবে? উহু হবে না। অতীত আঁকড়ে থাকার কী প্রাণান্ত প্রয়াস! কিছু ব্যাথা চঞ্চলতার আবডালে থাক না লুকানো।
সবগুলো গল্পই ভালো লেগেছে কম বেশি। ভালোবাসা শূণ্য ঘুম গল্পটা কিছুটা খাপছাড়া গোছের ছিল, আমার আবার পড়া লাগবে বুঝতে। মশলার কৌটা, কালিজিরার ঘ্রাণ, লেখকের আংগুল ফুড়ে এই গল্পগুলো বেশি ভালো লেগেছে। আসমানী বেগমের আয়না গল্পটা বেশ চেনা জানা গল্প।
কালিজিরার ঘ্রাণ গল্পটা অসমাপ্ত বলেই মনে হল, তবে কিছু গল্প বাঁধাধরা নিয়ম মেনে না চলাটায় ভালো। পেটমোটা শহরের গল্পটা ও খুব চেনা, অহরহ এই ঘটনা আমাদের সাথে, পাশে ঘটে, পচা রুটির গন্ধের মত ছড়িয়ে আছে আমাদের চারদিকে।
প্রতিটা গল্পই আমাদের দৈনন্দিন জীবনের গল্প, কেউ জানি, কেউ জানিনা, কিন্ত এই গল্পগুলো বড্ড বেশি চেনা। লেখক যেন সুন্দর করে সাজিয়ে দুই মলাটে তুলে ধরেছেন। প্রতি গল্প থেকে ভেসে আসছে ভিন্ন ভিন্ন ঘ্রাণ! ঠিক যেমন রান্নাঘরের মশলার তাক থেকে ভেসে আসে।
বইয়ের প্রচ্ছদ অসম্ভব সুন্দর। ছোটখাটো বই খানা। তবে টুকটাক মুদ্রণ প্রমাদ ছিল৷ আর ছিল স্পেস এর অযাচিত ব্যবহার। প্রতিটা গল্পেই একাধিক স্পেস ছিল, যেটা ধরা পড়ে চোখে, খুব অপরাধ এটা নয়, তবুও এই ব্যাপারটা খেয়াল রাখা দরকার ছিল।
লেখিকার লেখা প্রথম কোনো বই পড়লাম। একজনের পর��মর্শে রিস্ক নিয়ে পড়া শুরু করে শেষও হলো। রিস্ক নেওয়াটা সার্থক ছিলো।
বইয়ে টোটাল নয়টা গল্প রয়েছে। কয়েকটা গল্পের নাম অনেক সুন্দর। যেমন কালিজিরার ঘ্রাণ কিংবা ভালোবাসা শূণ্য ঘুম।
প্রতিটা গল্পই সুন্দর তবে সবথেকে সুন্দর লেগেছে মসলার কৌটা গল্পটি। লেখিকার শব্দচয়ন বেশ ইন্টারেস্টিং। পড়তে কেমন জানি আরাম আরাম লাগে। কিছু গল্প সাধারণ আবার কিছু গল্প অসাধারণ।
সবমিলিয়ে চমৎকার বই।
📌আরেকটা কথা বলতে ভুলে গিয়েছিলাম। উনার প্রতিটা গল্পের নারী'রা ব্যাপকভাবে গল্পে রাজ করেছে। প্রতিটা নারী চরিত্রই এত স্ট্রং ছিলো👑
জানি না কার কেমন লাগবে, কিন্তু আমার সব গল্প ভালো না লাগলেও বেশ কিছু গল্প খুবই ভালো লেগেছে। লাস্ট যে গল্পটা “মশলার কৌটো” নামে, গল্পটা পড়ে মনে এমন শূন্যতা কাজ করল-জীবন কত volatile! আমরা এক জায়গায় থিতু হতে চাই, কোনো এক জিনিস আঁকড়ে ধরে টিকে থাকতে চাই, কিন্তু পারি আর কই। লেখিকার লেখার ধরণ খুব সুন্দর, লেখার ফ্লো সুন্দর, বাক্য গঠন সুন্দর, কিন্তু গল্প পছন্দে আরেকটু ফোকাস করলে বোধহয় ভালো হয়।