ক্রিকেট মাঠের আলোঝলমলে গ্ল্যামারের আড়ালে অন্ধকার;ক্ষমতার লড়াই আর বিশ্বাসঘাতকতার গল্প।মাঠে রান ওঠে,পর্দার আড়ালে তৈরি হয় অন্য খেলার স্কোরকার্ড।বাংলাদেশ ক্রিকেটের এক মহাতারকা খেলোয়াড়, এক অনুসন্ধানী সাংবাদিক আর বোর্ডরুমে বসে থাকা ক্রিকেটের হর্তার্কতা- এই খেলার কখনো নীরব সাক্ষী,কখনো সরব অংশীদার।কে সত্য বলছে?কে ইতিহাস সাজাচ্ছে নিজের মতো করে? বাংলাদেশ ক্রিকেটের খেলার ভেতরের খেলা,মানবিক টানাপোড়েনের শ্বাসরুদ্ধকর কাহিনী আপনাকে টেনে নিয়ে যাবে এ উপন্যাসের শেষ পৃষ্ঠা পর্যন্ত।প্রশ্ন উঠবে,আমাদের বিশুদ্ধতম আবেগ জড়িয়ে আছে যে খেলায় সেটা কি শুদ্ধ? ২০০৩ থেকে ২০২৬ পর্যন্ত বাংলাদেশের ক্রিকেটের এই আখ্যানে ক্রিকেটের বাইরেও রয়েছে অনেক চেনা গল্পের অচেনা রূপ আর অজানা গল্প আবিস্কারের বিস্ময়।
অসাধারণ বললেও কম হবে।বাংলাদেশের সবচেয়ে সেরা,বিতর্কিত,খেপাটে,ঘাড়ত্যাড়া প্লেয়ার কে নিয়ে পুরো বই।পুরো ২৩ বছরের এক জার্নি উঠে এসেছে বইটিতে।।সেই বিকেএসপির দিন থেকে শুরু করে ২০২৩ বিশ্বকাপের আগ অব্দি একটা জার্নির কথা।লেখকের কি সুন্দর লিখা,কি সুন্দর উপস্থাপনা।অজানা অনেক কিছু জানতে পারলাম।মতি নন্দীর স্পোর্টস ফিকশন পড়ে ভাবতাম আমাদের দেশে এমন একটা স্পোর্টস ফিকশন কেউ যদি লিখত!২০১৯ এর ফিক্সিং কেলেংকারি,আশরাফুলের সেই অধ্যায় থেকে শুরু করে তামিম বনাম সাকিব লড়াই।একদম ভিতরের কথা সব লিখেছেন লেখক।আহ এত সুন্দর স্পোর্টস নিয়ে বই খুব কম ই পড়েছি।একদম পয়সা উসুল বই।
শেষটা কাল্পনিক বইটা পড়তে অসম্ভব রকম মুখিয়ে ছিলাম, তার সাথে ছিলো পাল্লা দিয়ে ভয়। বড় হওয়ার সাথে সাথে সব পছন্দের তারকা মানুষ কিরকম ফিকে হয়ে যায় আজকাল, যতটুকু তাই আগলে আগলে রাখা যায় আরকি। এদিকে বইয়ের মোড়কে '৭৫' সংখ্যা আর 'রাজীব হাসান' নাম দেখে লোভ সামলানো দায়।
সাকিব আল হাসান চরিত্র টা খুবই অদ্ভুত, এটা অস্বীকার করার উপায় নেই৷ কিন্তু সেই অদ্ভুত জীবনকে যদি আরো বেশি নাটুকে করে বইয়ে লেখা হতো সেটা খুব একটা সুখপাঠ্য হতো না বলেই বোধ করি। রাজীব হাসান লিখলেন খুব সহজ ঢং এ। সাকিবের কৈশোর আবার একই সাথে বাংলাদেশ ক্রিকেটের কৈশোর বোধহয় একইসময়ে ছিলো, তখন থেকে শুরু করে গল্প আজ পর্যন্ত। বই এ নায়ক ফয়সাল হলেও দেশের ক্রিকেটের কোনো গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র বা ঘটনা আসলে বাদ পরেছে বলে মনে হয়নি। আমরা যারা টুকটাক অথবা সিরিয়াসলি গত ১৫ বছর ধরে খেলার পাতা উল্টে দেখতাম তাদের জন্যে এই বইটা ছিলো একটা কুইক ফ্ল্যাশব্যাক। বইয়ে বাকি সব চরিত্র গুলো এতো অনায়াসে এতো সহজে নিয়ে আসা হয়েছে, যেমনি আনা হয়েছে শুভাংশ বা রাজিব হাসান চরিত্রও। কারন আমরা জানি আমাদের এইযে ক্রিকেট বন্দনা অথবা ক্রিকেট নিন্দা চর্চা এর অনেকখানি জুড়ে আছে ক্রীড়া সাংবাদিকরাও। হাবিবুল বাশার সুমন থেকে হালের লিটন কুমার দাস, ক্যাপ্টেন্সির একটা অস্থিরতা আমাদের দলে সবসময়ই ছিলো, এই অস্থিরতার সবচেয়ে বড় নিয়ামকও হয়তো ছিলো গল্পের নায়কই। মূল গল্পের বারান্দায় এসেছে মানজারুল রানা, আশরাফুলরা ও। মাশরাফি, তামিম কে খুঁজে পাওয়া যাবে সহজেই, যদি আপনি ক্রিকেটের দূরতম দর্শকও হয়ে থাকেন। পরিসংখ্যান ঠিক অনেকগুলো সংখ্যা হিসেবে না ঠেসে, গল্পের ছলেও যে বলা যায় তারও প্রমান এই বই, পরিসংখ্যানের ছাত্রী হিসেবে তাই বেশ আরাম পাচ্ছিলাম পড়তে। হালের সিরিজ, অথবা পৌরানিক চরিত্রের যেই রেফারেন্স গুলো বইয়ে ব্যবহৃত হয়েছে তা ছিলো অসাধারণ, লেখকের মুন্সীয়ানা চোখে পড়ার মতো। এবারে আসি শুরুর ভয়ের গল্পে, সাকিব আল হাসান হয়তো দেশের ইতিহাসের সবচেয়ে বেশি নন্দিত তারকা (দ্বিমত থাকতে পারে, আছে), তবে সে যে সবচেয়ে বেশি সমালোচিত তারকা সে ব্যাপারে কোনো সন্দেহ নেই। জীবনের সবগুলো মোড়ে সে কি ভয়াবহ ভাবে সমালোচনার সামনাসামনি হয়েছে সে গল্প সবারই জানা। তাই এই বই আরো একখানা নতুন সমালোচনার জন্ম দেয় কিনা সে ভয় তো ছিলোই! অবশেষে ভয় কাটলো, ঘোর কাটলো না যদিও। বইটা পড়া শুরু করলে মনে হবে বাংলাদেশ ক্রিকেটের রোলার কোস্টারের একটা সীটে উঠে পড়েছেন। বইয়ের পাঠক প্রায় সবারই হয়তো বইয়ের শেষ পাতায় মনে হবে শেষটা কাল্পনিক না হলেও পারতো! আমাদের দেশের সেরা অ্যাথলেট শুধুমাত্র নন্দিতই থাকতে পারতেন!
এবারের বইমেলায় যে যৎসামান্য বই নিয়ে আলোচনা হয়েছে তার মধ্যে এ বইটা অন্যতম। তাই এ বইটা দিয়ে বইমেলার বই পড়া শুরু করলাম!
শুরুতেই ধাক্কা লাগলো যেন। মনে হচ্ছিল এ ফয়সাল যেন আমার পরিচিত কেউ! কিছুক্ষণ পরেই বুঝলাম এ ফয়সাল আসলে! তিনি আমাদের দেশের এযাবতকালের সেরা ক্রীড়া ব্যক্তিত্ব (স্পয়লার হয়ে যাবে, তাই নামটা নিলাম না)!!!
লেখক বেশ সুচারুভাবে মূল চরিত্র ফয়সালকে কেন্দ্র করে চারপাশের চরিত্রগুলো এনেছেন। সেখানে উত্থান পতন থেকে আরম্ভ করে মোটামুটি সবকিছুই যেন আছে!
বইটা বেশ আগ্রহ নিয়ে পড়লাম। লেখক কোনো ঘটনাই বাদ দেননি বলতে গেলে। কয়েকটি চরিত্র বাদ দিলে সবগুলো চরিত্রের নামের ক্ষেত্রে কোনো ছদ্মনাম ব্যবহার করা হয়নি।
বাংলাদেশের স্পোর্টসম্যানদের নিয়ে ফিকশন জনরার বই বাংলাদেশে বেশ বিরলই। সেদিক থেকে লেখক বেশ প্রশংসার দাবীদার।
বইটা পড়ে শেষ করে প্রথমেই লেখকের ইমেইল খুঁজেপেতে বের করেছি। যেহেতু আমি অসামাজিক (সোশ্যাল মিডিয়ায় নেই)। তাকে করা মেইলে ব্যক্তিগত অনুভূতি জানিয়ে চিঠিই লিখেছি। সেটা কতটা রিভিউ হলো জানি না। তাকে লেখা মেইলটাই তুলে দিলাম:
আপনাকে প্রথমেই কৃতজ্ঞতা জানানো। এই ধরণের সুস্বাদু স্পোর্টস ফিকশনের চরিত্র থেকে বের করে এনে সাকিবকে একেবারে ঘরের মানুষ ভাবতে পারানোর জন্য আপনার ধন্যবাদ প্রাপ্য। শেষ এই ধরণের লেখা পড়ে ভালো লেগেছিলো 'মাশরাফি'।
তবে আপনাকে ধন্যবাদ দেয়ার আরেকটা মূল কারন আপনি সাকিবকে সুপারস্টার থেকে সুপারহিরো বানাননি, রক্ত মাংসের সাকিবই রেখেছেন, যেই সাকিব বাস্তববাদীতার মুখোশ পড়ে অহংকারী, আত্মবিশ্বাসী (অতি?) আবার একই সাথে যেই ছেলেটার জেতার ক্ষুধা আমাদের বহু উপলক্ষ্যে মুখে হাসি এনে দিয়েছে বলে গোল্ডফিশ মেমোরির ভান করে আমরা ওর সাফল্য উদযাপন করি।
যেই প্যাথেড্রিন বা আফিমের কথা বলেছেন, আমি নিজেও সেসময় সেই নেশায় বুঁদ। ইনফ্যাক্ট আমি ছোট থেকেই এই নেশায় আসক্ত। ক্রিকেট আমার আজন্ম প্রেম। আফতাব যেদিন ৫ উইকেট নিয়েছিলেন ২০০৩ বা ০৪ এ বোধয় নিউজিল্যান্ডের সাথে। তার পরদিন স্কুলে বার্ষিক অংক পরীক্ষা। কাজেই টেলিভিশনের সামনে যেতে না পেরে খাটের নিচে কম্বল দিয়ে রেডিও মুড়ে প্রচন্ড শীতে ফ্লোরে বসে অংক করা মানুষ আমি।
শুধুমাত্র পাকিস্তানের সাথে বাংলাদেশকে সিরিজ জিততে দেখবো বলে ২০১৫ সালে বিবিসিতে ভাইভা মিস করা মানুষও আমি। ভায়রা ভাইয়ের ক্রাইমের জন্য বেঙ্গালুরু ট্র্যাজিডির পর ২ বেলা ভাত খেতে না পারা মানুষও আমি।
সেই আমি কালকে পাকিস্তান সিরিজ নিয়ে একেবারেই এক্সাইটেড না, বরং ক্যাপ্টেন মিরাজের উপর বিরক্ত, নির্বাচকদের উপর বিরক্ত, প্রেসিডেন্টের লোক দেখানো স্টান্টবাজিতে বিরক্ত, ক্রিকেটারদের মিডিওক্রিটির উপরে স্যাভেজনেস-এর বর্ম দেখে বিরক্ত ইত্যাদি নানা কিছু। যতটুক আগ্রহ ছিলো সাকিব আবার ফিরতে পারেন এই নিয়েই। এখন সেটাও নাই।
এত এত লিখে আপনার বিরক্তি তৈরি করে থাকলে খুবই দুঃখিত। শুধু মাত্র আপনি যেন আমাকে একেবারে 'এলেবেলে পাঠক' না ভাবেন তার জন্য লম্বা 'গৌরচন্দ্রিকা' দিলাম ;)
আমার কিছু প্রশ্ন আছে আপনার এই লেখার বিষয়ে। শুভাংশু ভদ্রলোক কে? ফয়সাল, শামীম, আশরাফি এঁদের তো চিনেছি। কিন্তু এই ভদ্রলোক কে? শুভাংশু ভদ্রলোকের সাথে সাকিবের সাক্ষাৎকারটা কি কাল্পনিক? কারন ফয়সালের জবানীতে যেসব কথা আপনি বলেছেন সেগুলো ব্যক্তি সাকিব আল হাসানের মুখে এবং মাথায় একদমই ছাঁচে ছাঁচে মানিয়ে যায়।
আপনার লেখা ভালো লাগার কোনো নির্দিষ্ট কারন বলতে পারবো না। তবে হুট করে যেটা মাথায় আসলো, আপনার কিছু লেখা যা আমি পড়েছি সেটা প্রচন্ড গরমের দুপুরে রান্না করা কচি ডাটার ঝোল দিয়ে গুলশা মাছের সাথে মেখে খাওয়া সাদা চালের ভাতের লোকমার মতো। ভীষণ কম্ফোর্টিং, তবে মোটেই আলগা গোছের না।
আপনার গল্প বলার ধরণ মাথায় থেকে যায় এবং বেশ কিছুদিন চরিত্র কিংবা গল্পের সাথে কাটানো যায়। অবসরে পছন্দ মতো গল্পটাকে বের করে চোখের সামনে নিয়ে এসেও সময় কাটানো যায়। এই যে প্রাসঙ্গিকতা, সাধারণ পাঠক হিসেবে আমার কাছে এটা খুব গুরুত্বপূর্ণ।
যে উত্তাল সময়ের বিশুদ্ধ উন্মাদনার গল্প আপনি বলতে চেয়েছেন আমিও ওই একই উন্মাদনার মিছিলের মানুষ বলে লেখাটা শুধু লেখা না হয়ে সময়ের গল্প হয়ে গেছে যে সময়টা আমি আপনি উভয়েই চেয়েছিলাম আরও প্রলম্বিত হোক! হলো না এই আর কি হতাশা।
আমার বন্ধু খুবই কম, খুব অল্প স্বল্প যারা আছেন তাঁদের আমি খুব ঘটা করে জানাই কোনো বই ভালো লাগলে। কাজেই আপনার বইয়ের কথাও জানিয়েছি। ক্লাসরুমে আমার কথা বার্তা খুব মনোযোগ দিয়ে শোনার 'ভান' করে বলে মাঝে মধ্যে স্টুডেন্টদেরও বই নিয়ে কথা বলি, ওদেরও বলবো আপনার বইটার কথা।
বই মেলা থেকে না হলেও রকমারী বা বাতিঘরে তো কিনতেই পারে। জীবনে হাতিঘোড়া কিছু না হোক, অন্তত সবাই ভালো বই পড়ুক!
আপনার পরবর্তী লেখার জন্য শুভকামনা রইলো। এবং আবারও 'শেষটা কাল্পনিক'-এর জন্য কৃতজ্ঞতা। আপনি যে সময়কে উপন্যাসে ধরতে চেয়েছিলেন, খুব সাধারণ একজন পাঠকের পাঠ প্রতিক্রিয়ায় তো নিশ্চয়ই বুঝতে পেরেছেন সে সময় বেশ ভালো ভাবেই ধরা পড়েছে।
বইটা শেষ করার পর মনে হচ্ছে যেন মিরপুর স্টেডিয়ামের গ্র্যান্ড স্ট্যান্ডে বসে গত দুই দশকের এক রোলারকোস্টার রাইড শেষ করলাম। বাংলাদেশের ক্রিকেটের সবচেয়ে রোমাঞ্চকর, রহস্যময় আর তথাকথিত ‘ব্যাড বয়’ ইমেজধারী এক জাদুকরকে নিয়ে এমন নিখুঁত ব্যবচ্ছেদ আগে কখনো দেখিনি। এটি কেবল কিছু শুকনো পরিসংখ্যানের সমষ্টি নয়, বরং বিকেএসপির সেই জেদি কিশোরটির মগজের ভেতর দিয়ে হাঁটার এক অনন্য সুযোগ। লেখক যেভাবে চরিত্রটিকে ফুটিয়ে তুলেছেন, তাতে কখনো তাকে মনে হয়েছে চরম অহংকারী, আবার কখনো মনে হয়েছে এ দেশের ক্রিকেটের সবচেয়ে বড় ট্র্যাজিক হিরো।
বোর্ডরুমের রাজনীতি থেকে শুরু করে ড্রেসিংরুমের সেই থমথমে পরিবেশ—সবই উঠে এসেছে রূপালি পর্দার গল্পের মতো। বিশেষ করে তামিম-সাকিবের সেই বহুল আলোচিত ‘স্নায়ুযুদ্ধ’ নিয়ে লেখক কোনো রাখঢাক না করেই যা লিখেছেন, তা স্রেফ সাহসিকতা। আমাদের শৈশবের নায়ক আশরাফুলের সেই উত্থান-পতন আর ২০১৯-এর আইসিসি নিষেধাজ্ঞার নেপথ্য কাহিনীগুলো এমনভাবে বুনেছেন যে মনে হচ্ছিল চোখের সামনে ইতিহাসটা নতুন করে সিনেমা হয়ে ধরা দিচ্ছে। মতি নন্দীর স্পোর্টস ফিকশনের যে ঘ্রাণ আমরা পেতাম, এই বইটিতে লেখক সেই আমেজটাকে এ দেশীয় প্রেক্ষাপটে প্রাণ দিয়েছেন। ২৩ বছরের এক দীর্ঘ জার্নিকে তিনি এক মুহূর্তের জন্যও ঝিমিয়ে যেতে দেননি। এটি কেবল একজন খেলোয়াড়ের জীবনী নয়, বরং দেশের ক্রিকেটের গত দুই যুগের এক নিখুঁত ‘এক্স-রে রিপোর্ট’। এক কথায় বলতে গেলে—অদম্য, নির্ভীক এবং পুরোপুরি পয়সা উসুল এক মাস্টারপিস।
This entire review has been hidden because of spoilers.
বইয়ের শেষ পাতাটা উল্টে সত্যিই কিছুক্ষণ মোহাবিষ্ট হয়ে বসে থাকতে হয়। রাজীব হাসানের ‘শেষটা কাল্পনিক’ নিছক কোনো উপন্যাস নয়, এটি যেন আমাদের মতো কোটি ক্রিকেটপাগল মানুষের আবেগের এক জীবন্ত প্রতিচ্ছবি। ২০০৩ থেকে ২০২৬ সাল—দীর্ঘ ২৩ বছরের এক অদ্ভুত মায়াজাল বুনেছেন লেখক। গল্পের কেন্দ্রে আছেন ৭৫ নম্বর জার্সি পরা এক ক্রিকেট মহাতারকা এবং একজন নাছোড়বান্দা ক্রীড়া সাংবাদিক। লেখক যেহেতু নিজেই দীর্ঘসময় ক্রীড়া সাংবাদিক হিসেবে কাজ করেছেন, তাই ড্রেসিংরুমের ভেতরের চাপা উত্তেজনা, খেলোয়াড়দের ব্যক্তিগত জীবনের মানসিক টানাপোড়েন, ইনজুরির সাথে লড়াই আর বড় কোনো ম্যাচের আগে-পরের স্নায়ুচাপ এতোটাই নিখুঁতভাবে তুলে এনেছেন যে, পড়ার সময় মনে হয় আমি নিজেই যেন স্টেডিয়ামের গ্যালারিতে বসে আছি। মাঠের ফ্লাডলাইটের আলোর বাইরেও ক্রিকেটারদের একটা অন্যরকম জীবন থাকে। সেই জীবনের হাসি-কান্না, স্বপ্ন আর ভাঙনের গল্পগুলো এই উপন্যাসে দারুণ মুন্সিয়ানায় ফুটে উঠেছে। সাংবাদিক এবং ক্রিকেটারের মধ্যকার সম্পর্ক, তাদের পেশাদারি দ্বন্দ্ব আর আবেগের যে লড়াই—তা পাঠককে এক মুহূর্তের জন্যও দম ফেলার সুযোগ দেয় না। বইটির নাম কেন ‘শেষটা কাল্পনিক’ রাখা হয়েছে, তার একটা চমৎকার এবং মন ছুঁয়ে যাওয়া উত্তর লুকিয়ে আছে একেবারে শেষ অধ্যায়ে। যারা ক্রিকেট ভালোবাসেন এবং ক্রিকেটের ভেতরের মানুষগুলোর জীবনের গল্প খুব কাছ থেকে অনুভব করতে চান, তাদের জন্য এটি একটানা পড়ে শেষ করার মতো অসাধারণ একটি বই
এই উপন্যাস পড়ার যাত্রাটা আমার কাছে অনেকটা রোলার কোস্টার রাইডের মত লেগেছে। আদতে পুরোদস্তুর উপন্যাস হলেও কোন কোন অধ্যায়ে মনে হয়েছে কোন ইনভেস্টিগেটিভ ফিচার পড়ছি। আবার কোন অধ্যায়ে মনে এটা আসলে 'জীবনী'। শুরুতেই ফয়সাল যে আসলে 'সাকিব' সেটা বুঝতে অসুবিধা হয়নি, কারণ সাকিবের ডাকনাম যে 'ফয়সাল' সেটা জানা ছিলো। এরপর ছদ্মনামে আমাদের অনেক পরিচিত চরিত্র উঠে এসেছে উপন্যাসে। প্রথমদিক থেকে তাই পুরোদস্তুর উপন্যাসের ফিলই পাচ্ছিলাম। তবে যখন থেকে আমাদের অনেকগুলো পরিচিত চরিত্র স্বনামে আবির্ভূত হলো, অনেকগুলো ন্যাশনাল ক্রাইসিসে পরিণত হওয়া ঘটনার অবতারণা ঘটলো তখন থেকে মনে হচ্ছিল কোন ইনভেস্টিগেটিভ ফিচার পড়ছি। যেমন আইএসল, বিদ্রোহী ক্রিকেটার, পাইলট, বাশার, রফিক, অলক কাপালি এসব ঘটনা ও ব্যক্তিত্বের উপস্থিতি উপন্যাসের কাল্পনিক মোহ কাটিয়ে রিয়েলিজমের দুনিয়ায় নিয়ে এসেছিলো। তবে লেখক রাজীব হাসান শেষ পর্যন্ত ব্যাপারটাকে 'বোরিং ফিচার' কিংবা 'জ্ঞানগম্ভীর জীবনী' নয়, বরং শেষ করেছেন উপন্যাসের রোমান্টিসিজমে। যারা নিয়মিত পাঠক, তাদের এই রোলার কোস্টার রাইডটা ভালোই লাগবে বলে আমার বিশ্বাস। বইটা অবশ্য পাঠ্য বলে আমি মনে করি।
Some books entertain you for a while, and some stay with you long after you’ve turned the last page. ''শেষটা কাল্পনিক'' firmly belongs to the latter. The biggest strength of the book is its “what if” factor, it makes you question alternate possibilities and replay moments in your head long after the story ends. Whether you're a cricket fan or not, the emotions, tension, and realism will keep you hooked. I loved the roller-coaster journey this book took me on!
This book is truly outstanding. The author’s writing style is very smooth and engaging, keeping the reader captivated from beginning to end. Each character in the story feels alive, and their emotions are beautifully portrayed. The central theme and message of the book are deep and thought-provoking. For those who love reading good books, this is definitely a must-read.
Really enjoyed Shesta Kalponik by Rajib Hasan! The story feels creative and emotional at the same time, and it’s super easy to get connected with the characters. The writing is simple but powerful. Overall, a great read if you like imaginative and meaningful stories